“নীল অপরাজিতা, সাদা মেঘ ও কিছু কৃষ্ণচূড়া হারিয়ে খোঁজা”

প্রিয় ঐন্দ্রিলা,

আজ পৃথিবীর সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঠিকানা থেকে লিখছি জানি, তাই পড়ার অনুরোধে অযথা কুণ্ঠা-অস্বস্তির মাঝে তোমায় ফেলবো না আর। অনেক তো করেছি, কতো কতোবার প্রচণ্ড যন্ত্রণায় কাঁদিয়েছি হিসেব কষতে বসে আতংকিত হয়ে যাই আজ! নাহ, তবু আমি ক্ষমা চাইবো না!! অবশ্য এ অহংকার নয়, সামান্যতা! ক্ষমা তো সেখানেই পাওয়া যায়-চাওয়া যায়, যেখানে বাঁধন এর একটা সুতো থাকে। তোমার আমার মাঝের সে চিরন্তন বাঁধন তো আমিই কেটে দিয়েছি! কতো নিষ্ঠুর আর নৃশংস ছিল বিষয়টা তা শব্দে প্রকাশ করার অক্ষমতা বোধ করছি প্রিয়তমা। ক্ষমা চাইবার যোগ্য আমি নই জানি



প্রিয় ঐন্দ্রিলা,

আজ পৃথিবীর সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঠিকানা থেকে লিখছি জানি, তাই পড়ার অনুরোধে অযথা কুণ্ঠা-অস্বস্তির মাঝে তোমায় ফেলবো না আর। অনেক তো করেছি, কতো কতোবার প্রচণ্ড যন্ত্রণায় কাঁদিয়েছি হিসেব কষতে বসে আতংকিত হয়ে যাই আজ! নাহ, তবু আমি ক্ষমা চাইবো না!! অবশ্য এ অহংকার নয়, সামান্যতা! ক্ষমা তো সেখানেই পাওয়া যায়-চাওয়া যায়, যেখানে বাঁধন এর একটা সুতো থাকে। তোমার আমার মাঝের সে চিরন্তন বাঁধন তো আমিই কেটে দিয়েছি! কতো নিষ্ঠুর আর নৃশংস ছিল বিষয়টা তা শব্দে প্রকাশ করার অক্ষমতা বোধ করছি প্রিয়তমা। ক্ষমা চাইবার যোগ্য আমি নই জানি, তাই ক্ষমা চাইবোও না, ভয় হয় যদি ক্ষমা করে দাও? যদি আবার হৃদয় অগ্নির ধ্বংসাবশেষে চাও হতে ধ্বংস? কি করে ফেরাবো আমি? তোমার সমান ভালোবাসা আমি বাসতে পারি নি প্রিয়, এ আমার নির্লজ্জ ব্যর্থতা বৈ কিছু নয়! শুধু নিজেকে নিয়ে থাকা, নিজের মতো করে তোমায় চাওয়াই সবকিছু ছিল যেন! অথচ যখন তুমি বদলাতে বলেছে সামান্যও, বলেছ একটু তোমার মতো হতে, করতে, এড়িয়ে গিয়েছি শত অজুহাতে! বলেছি, নিজের মতো থাকতে চাই, একা থাকতে চাই! কারো খবরদারি সহ্য করিনি, তোমারও না। কষ্ট হয়েছে কি তোমার? হয়ে থাকবে!! কিন্তু সে সব দেখার সময় কোথায় ছিল বল!? আমি তো জীবন নামক কারাগারে আবদ্ধ এক পথিক, অনবরত পায়চারী করি আর ভাবি নিজেকে নিয়ে, তাহলে তুমি কোথায়? এর উত্তর জানা নেই আমার। তবে তুমি রয়েছ, তখনও ছিল, বুঝতে পারিনি, আনমনে একটু ভালোলাগা হয়ে, মেঘলা বিকেলের বৃষ্টিকণা হয়ে, হৃদয়ের স্পন্দন হয়ে… শুধু বোঝার অবকাশ হয় নি আমার। আজ তুমি কতো দূরে অথচ আজও রয়েছ, এ কথা নিশ্চিত করে বলতে পারি! প্রতিটা নিঃশ্বাসে, জীবন্ত থাকার প্রতিটা মুহূর্তে জেনেছি, অনুধাবন করেছি, নিজের থেকেও বেশী নিজের কিছু যদি জীবনে থেকে থাকে সে হচ্ছ তুমি! হারিয়ে গেলাম দূরে কোথাও কিন্তু আরও বেশী গভীরে যেন হারিয়েছ এ বুকের মাঝে।
তুমি ছিলে, তুমি রয়েছ, তুমিই থাকবে, ঠিক যেখানে ছিলে! মস্তিষ্কের অন্তরীন ভালোলাগা থেকে স্পন্দনের প্রতিনিয়ততায়। থাকবে নীল আকাশে এক পলক দৃষ্টিপাত হয়ে, উড়ে আসা কাশঁফুলের একটু শুভ্রতা হয়ে। আজও বৃষ্টি হলে একসাথে ভেজার বড়ো ইচ্ছে হয়, জানতে ইচ্ছে হয় কেমন আছো… কিন্তু কি এসে যায় বলো? ঝর্নার জলধারা তো কষ্টের পাহাড় গলাতে সমর্থ নয়, তাই চোখের জলে আর ভুলে যাবার বৃথা প্রয়াস করি না। আমাকে নিয়ে ভেবো না প্রিয়তমা, বোধহয় যন্ত্রণার সাথে বসবাস শিখে ফেলছি দিনদিন…

তোমার চুলের সুবাস, কাজলের বিষণ্ণতা বা হাঁসির মিষ্টতাও হয়ত ভুলে যাবো… একদিন তো মৃত্যু হবেই! তোমায় পাবো না, তাই মৃত্যুকে আপন করে পাবার উদ্গ্র বাসনায় নিঃশ্বাসের অলীক মায়াজালের বুননটা থেমে নেই।

৯ thoughts on ““নীল অপরাজিতা, সাদা মেঘ ও কিছু কৃষ্ণচূড়া হারিয়ে খোঁজা”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *