আসলেই কি নারীবাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি?

বেশ কিছুদিন আগে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস পড়েছিলাম। বর্তমান সময়ে সেলিব্রিটি হবার কৌশলগুলো নিয়ে স্ট্যাটাসটা দেয়া ছিল। ওখানে একটা কৌশল ছিল ‘নারীবাদ নিয়ে লেখা’। সেদিন খুব একটা গুরুত্ব না দিলেও ইদানিং কথাটা নিয়ে কিছুটা সন্দেহ হচ্ছে। ভার্চুয়াল জগতে নারীবাদীদের অভাব নেই। কিছুদিন পর পর ব্লগে নারীবাদ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়। মুক্তমনাদের আসরে যে নারীবাদী না হয়ে জায়গা করা যাবেনা সেটা যারা বুঝতে পারে তারাই নারীবাদ নিয়ে লেখালিখি শুরু করে দেয়। তার নারীবাদ নিয়ে আদৌ কোন জ্ঞান থাক বা না থাক, সে নারীর স্বাধ্নতায় বিশ্বাসী হোক বা না হোক- তিনি স্বঘোষিত নারীবাদী। এত শত নারীবাদীদের ভিড়ে আসলে ক’জন সত্যিকার নারীবাদ করেন তা নিয়েই আমার সন্দেহ। যদি নারীবাদীর সংখ্যা এতই হয় তবে বাস্তবে এদের নারীবাদ কোথায় থাকে? বাস্তবে নারীর প্রতি এই বৈষম্য কেন?
যাই হোক মূল কথায় আসি। যারা প্রকৃত অর্থেই নারীবাদ করেন বা করতে চান বা এর পক্ষে, আমার মনে হয় তাদের প্রথমেই নারীর অগ্রগায়নের কাঠামোটি দেখে নেওয়া উচিত। রোগ জেনে তবেই না রোগের চিকিতসা। ইদানিং সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটা চোখে পড়বে সেটা হল নারীবাদের স্বপক্ষে থাকার মূলমন্ত্র হিসেবে ধর্মকে আঘাত করার প্রবনতা। নারী স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলতে হবে তো ধর্মশাস্ত্রগুলো খুলে ধর এবং দেখাও সেখানে নারীকে কিভাবে অবমাননা করা হয়েছে। ধর্ম নারীকে যে তার প্রাপ্য সম্মান দেয়নি বা নারীর অবমাননাকে প্রভাবিত করেছে এটা তো পুরনো কথা। বহু বছর ধরে নারীবাদীরা এই কথা বলে এসেছে। একই কথা বছর বছর নতুন সুরে বলার কারণ আমি দেখিনা। যারা নারী অগ্রগায়নের এই কাঠামোতে নজর দেন তাদের প্রথমে চোখটি যেয়ে পড়ে ধর্ম নামক ক্ষতটিতে। সবাই ঝাপিয়ে পরে এই ক্ষত সারতে। নারী অগ্রগায়নের পুরো কাঠামোটার দিকে একবার তাকান। এর পরতে পরতে যে হাজারো ক্ষত তার দিকে একটু নজর দিন। সব ডাক্তার মিলে এক ক্ষতের পিছনে ছুটলে রোগীর আর ক্ষতগুলোর শুশ্রুষা করবে কে? নাকি আপনারা এমনই ডাক্তার যে কোন একজন এই ক্ষত দেখিয়ে দিয়ে গেছেন তাই এই ক্ষতই আপনাদের চোখে পড়ে বাকিগুলো যে তিমির সে তিমিরেই রয়ে যায়।
নারীবাদ করতে হলে নারী কি প্রত্যাশা করে, নারী কেন এগিয়ে আসতে সাহস করছে না, নারীর মনন জানতে হবে। একবার চিন্তা করে দেখুন তো ধর্মগুলো নারীকে উন্নত অবস্থান না দিতে পারলেও কেন নারী এখনো ধর্মকে আকড়ে ধরে আছে? তাহলে নারী কি তার স্বাধীনতা চায় না? নাকি পুরুষতন্ত্রের এই ষড়যন্ত্র নারী ধরতে পারে না? কারণ কি? মানুষ কখনো কখনো সর্বশান্ত হয়ে পথে বসে যায় তবু সে আশা ছাড়ে না। এই বিশ্বাস রাখে কোন একভাবে তার অবস্থা ফিরবে। এই ধারনা থেকে সে অলৌকিক কিছুর অপেক্ষা করা শুরু করে। যদিও জানে অলৌকিক কিছু সহজে ঘটবে না। এই অলৌকিকতা থেকেই কিন্তু ধর্মের আবর্তন। বিজ্ঞান যত এগিয়েছে অলৌকিকের উপর বিশ্বাস মানুষের তত কমেছে। ধীরে ধীরে ধর্মের প্রতিও। কিন্তু সর্বহারা মানুষদের এই জ্ঞান না থাকায় তারা পথে বসে অভিযোগের সুর টেনে স্রষ্টাকে এখনো স্মরণ করছে। নারী-পুরুষ তাই এই ধর্মকে আকড়ে ধরে থাকে। এখন কথা যদি অলৌকিকতার আড়ালে থাকা ধর্ম মুক্তি দিতে পারবে না জেনেই থাকে তবে সর্বহারা মা কেন একে ধরে বসে আছে? এর কারণ পুরুষতন্ত্রের বেড়িজালে আমরা এমনভাবে বাঁধা যে সেখানে আপনি আমি যদি নারীমুক্তির মাইলফলক দেখাইও তবু এই নিশ্চয়তা দিতে পারব না যে ধর্মের বেড়া ছিড়ে আসলে তাকে আমরা আশ্রয় দিব, সেই মাকে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হবেনা বা বোনকে রাস্তায় টুকরো টুকরো হয়ে পড়ে থাকতে হবে না। জন কয়েক নারী শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার ফলে এ সাহস নিতে পারলেও অধিকাংশই পারেনা। সুতরাং আমাদের ইদানিংকালের লিখনিগুলো কেবল সেই জন কয়েক নারীর জন্যই হয় পুরো নারী সমাজের জন্য হয় না। এর ফলে পরে যেটা দেখা যায়; সমাজের এক অংশের নারী উন্নত অবস্থান পেল আরেক অংশ আরো নিকৃষ্ট হয়ে গেল। বিভেদ আরও বেড়ে গেল। তার উপর আমরা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের এক বিরাট ষড়যন্ত্রের কথা জানি, নারীতে নারীতে ইর্ষার সৃষ্টি। এই বিভেদ নারীসমাজে ইর্ষার পরিমাণ আরো বাড়িয়ে দেয়। যার কারণে এখনো আমাদের সমাজে দেখা যায় অগ্রগামী নারীর নিন্দা পুরুষের চেয়ে নারীই বেশি করছে। নারীই বেশি পুরুষতান্ত্রিক। যেখানে নারীর অগ্রগামিতার জন্য ঐক্য প্রয়োজন সেখানে উলটো ফারাক তৈরি হল। হিতে বিপরীত হয়ে গেল না? যারা নারীবাদ করেন তারা একটু ভেবে দেখবেন আমাদের এধরনের মতবাদ নারী সমাজের কতটা উপকার করল। আর যারা পুরুষতন্ত্রের আনুগত্য করেন তারা যদি এধরনের লেখা নারীর মাঝে বিভেদ তৈরি করবে এই উপলক্ষে লিখেন তবে আপনারা সফল। আপনারা চালিয়ে যান কেননা এখনো নারী এই ষড়যন্ত্র ধরতে পারেনি।
ধর্ম যে নারীকে মুক্তি দিতে পারছে না এটা ধ্রুব সত্য। একই সাথে এও সত্য ধর্মের সাথে প্রতিনিয়ত যে সংঘর্ষ তৈরি করা হচ্ছে তাও নারীকে মুক্তির পথে এগিয়ে নিতে পাচ্ছে না। সুতরাং আমাদের ব্যতিক্রমী পথ দেখা উচিত বলেই আমার ধারনা। নারীমুক্তির পথে প্রতিবন্ধকতার অভাব নেই। শুধু শুধু ধর্মের প্রতিবন্ধকতা দেখে অন্যগুলোর প্রতি অন্ধ থাকার কারণ নেই। আপনাদের চোখের সামনে প্রতিমন্তব্য হিসেবে বলা হয় শারীরিকভাবে নারী দূর্বল। প্রাকৃতিকভাবে নারী দূর্বল হয়ে তৈরি হয়েছে সমাজের সবখানে এই বিশ্বাস। ফ্রয়েড যেভাবে বৈজ্ঞানিকভাবে নারীকে নিকৃষ্ট প্রমাণ করেছিল আধুনিক পুরুষতন্ত্রের অনুসারীরা প্রাকৃতিকভাবে তা প্রমাণে ব্যস্ত। এই ভ্রান্ত ধারনার বিপরীতে আপনাদের যুক্তি কোথায়? আপনারা কেন এদিকে নজর দেন না? যেখানে একজন মায়ের শরীরের প্রসবকালীন ব্যাথার শক্তিকে একক বলা হয়, যেখানে নারীর গড় আয়ুষ্কাল পুরুষের চেয়ে বেশি সেখানে কিনা বলা হয় ‘শারীরিকভাবে’ নারী দুর্বল! দুর্বলতার সঙ্গা কি? কায়িক শ্রম দিয়ে সবলতা দূর্বলতা মাপা হয় কি? তবে বলে রাখা ভাল। men and women are equal but not the same. নারী পুরুষের সর্বোচ্চ কায়িক শ্রম খরচের ক্ষেত্র ভিন্ন ভিন্ন। এখানে আমি নারীবাদীদের বলি, আমি যে খুব ভাল যুক্তি দিতে পারিনি তা আমি জানি। আপনারা দয়া করে এদিকে তাকিয়ে শক্তিশালী কিছু যুক্তি দিবেন। নারীকে অবমাননার ক্ষেত্রে এই ধারনাও কিন্তু পুরুষতন্ত্রের জন্য ধর্মের মতই সহায়ক।
নারীর শ্রমের মুল্যায়ন পুরুষের চেয়ে কম। কি গৃহিনী হিসেবে কি কর্মী হিসেবে- নারীর শ্রমের মূল্য সাধারণত সমান হয় না। নারীবাদীরা তাহলে এক্ষেত্রে প্রতিবাদ করেন না কেন? হ্যা, অনেকেই বলবেন এর বিপক্ষে তারা বলেছেন। এবং এটাই সত্য যে তারা বলেছে। কিন্তু ঘটনা হল বলা পর্যন্তই শেষ। ধর্মের মত প্রতিনিয়ত এই ক্ষত নিয়ে কিন্তু খোঁচাখুঁচি হয় না। আপনারা এই ক্ষত সারাতে নারীর কাজের বাণিজ্যিক আবেদন বাড়ানোর কথাও ভাবেন না।
যে নারীশিক্ষাকে প্রণাম জানিয়ে দেবালয়ে নিয়ে পুঁথি পাঠ করেন তার দিকে একবার লক্ষ্য করেছেন কি? কেন কিশোর কিশোরীর জন্য গত বছর পর্যন্ত পৃথক শিক্ষার প্রচলন ছিল, কেন কিশোরীকে গার্হস্থ শিক্ষার নামে গৃহিনীর জ্ঞান আর কিশোরকে কৃষি শিক্ষার দোহাই দিয়ে ঘরের বাইরের জ্ঞান দেওয়া হত প্রশ্ন কি তুলেছিলেন? নাকি আপনাদের কাছে এ খুব তুচ্ছ বিষয় ছিল? শিক্ষা নামে ‘নারীশিক্ষা’ নারীকে আসলে যে পুরুষের উত্তম সঙ্গী, উন্নত গৃহিনী হবার শিক্ষা দিচ্ছে প্রতি পদে পদে তার বিপরীতে আপনাদের কোন প্রতিবাদ সহজে চোখে পড়ে না।
একটা বিষয় স্পষ্টত বলে রাখি, নারীবাদ কোন বিশেষ নারী গোত্রের জন্য না। এটা সম্পূর্ণ নারী সমাজের জন্য। একাংশ এর সুফল পাবে অন্য অংশ নির্যাতিত হবে এটা নারীবাদ কখনোই মেনে নেয় না। নারীবাদী অনেকের মধ্যে কেবল রোকেয়া অনুসরণীয় হয়েছেন কারণ তার নারীবাদের সুফল সম্পূর্ণ নারীসমাজ ভোগ করেছে। রোকেয়া যত না মাইলফলক দেখিয়েছিল তার চেয়ে অনেক বেশি বাস্তব বুঝেছিল। মাইলফলক আর অসাধারন নারীর উদাহরণ অসাধারণের জন্যই সাধারণের জন্য যে তা গলধঃকরণ সম্পূর্ণ সম্ভব না তা রোকেয়া বুঝেছিল। যার ফলে তার নীতিতেই সমাজের পরিবর্তন এসেছিল।
ধর্মকে কটাক্ষকারী উগ্রদের জন্য বলছি-ধরুন, আপনি কাউকে তার খারাপ দিকগুলো জানাবেন। এখন আপনি যদি একরাশ খারাপ গালি দিয়ে আপনার কথা শুরু করেন; তো সে কথা যতই ঠিক হোক, যতই ভাল হোক সে মেনে নিবে না। আপনার প্রতি তার বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব প্রথম থেকেই তৈরি হবে। বিপরীতে আপনি যদি সংযত থেকে বলেন তাহলে সে মেনে নিতে পারুক না পারুক অন্তত আপনার প্রতি বিদ্বেষ্পূর্ণ মনোভাব তার থাকবে না। আর কারো বিশ্বাস নিয়ে এই ঠিক বেঠিক ব্যাপারগুলো যেহেতু আরো বেশি স্পর্শকাতর সেহেতু তীক্ষ্ণ অস্ত্র দিয়ে আঘাত না করাই ভাল। নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে আপনাদের মতবাদগুলোকে উস্কানিমূলক মনে হয়। মোটেও সমাজের ভ্রান্ত ধারনা দূর করার উদ্দেশ্যে নেমেছেন বলে মনে হয় না। আপনি কোন কথা বলছেন তা যতই সত্য হোক সমাজকে যদি সেটার পক্ষে না আনতে পারেন তবে আপনার সত্য বলার উদ্দেশ্য কি সফল হল? সমাজের তো তাতে কোন পরিবর্তন হল না। আপনার উদ্দেশ্য যদি সমাজ পরিবর্তন না হয়ে কোন এক প্রজন্মের কাছে সত্যবাদী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয় তাহলে আপনি সফল। কারণ ব্যক্তিগতভাবে তাতে আপনার প্রসার বাড়বেই।
[ শেষ কথায় কিছু ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ টানছি। আমার এই পোস্ট অনেকের কাছেই সুবিধাবাদি পোস্ট মনে হতে আরে। আস্তিকরা ধর্ম নারীর অবমাননায় সহায়ক হয়েছে বলায় আমাকে নাস্তিক বলতে পারেন, আবার নাস্তিকরা ধর্ম নিয়ে এই খোঁচাখুঁচি বন্ধ করার উদ্দেশ্যে বলায় আস্তিকের খাতায় নাম তুলে দিতে পারেন। আমি জানি না কেন, প্রত্যেকে এ জাতীয় পোস্ট পড়ে আস্তিক নাস্তিক বিচারে নামেন। আপনারা পোস্টকর্তার কথা কতটুকু যৌক্তিক বা অযৌক্তিক তা নিয়ে যত না কথা বলেন তার ব্যক্তিগত দর্শন কতটা আপনাদের পক্ষে বা বিপক্ষে তা নিয়ে তর্কে নেমে যান। ধর্ম সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত দর্শন জানিয়ে রাখি। আমি স্ট্যান্টনের মতবাদে বিশ্বাসী। ধর্মের যা কিছু ভাল গ্রহন করব, খারাপটা থেকে বিরত থাকব। এখন পুরোপুরি ধর্মকে নাখোচ করতে না পারায় বা পুরোদস্তুর বিশ্বাসী না হওয়ায় কেউ আমাকে সুবিধাবাদি বললে আমার তা মেনে নিতে সমস্যা নেই। আমি ধর্মকে মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের তালিকায় রেখে দেই। কারো বিশ্বাসে আঘাত করাকে আমি অনধিকার মনে করি। তবে হ্যা, এই বিশ্বাস যখন ব্যক্তিগত না থেকে সামাজিক বা মৌলবাদী হয়ে যায় তখন সে নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়। কিন্তু তা দৈনন্দিন খোঁচাখুঁচির পর্যায়ে যাওয়াকেও আমি সমর্থন করি না। আমার ধারনা আপনাদের কাছে ভুল মনে হলে সেই ধারনা যুক্তি দিয়ে ভাঙ্গিয়ে দিবেন। আমি আপনাদের যৌক্তিক ধারনা মেনে নেব। ]

৬১ thoughts on “আসলেই কি নারীবাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি?

    1. আপনি যৌক্তিক ব্যাখ্যা দেন।
      আপনি যৌক্তিক ব্যাখ্যা দেন। আমি গ্যাজানো বন্ধ করে দিব। আপনার মন্তব্যগুলো দেখলে আমার একটা কথাই মনে পড়ে

      খালি কলসি বাজে বেশি

  1. একেবারে মুলে আঘাত করেছেন
    একেবারে মুলে আঘাত করেছেন ।আজকাল আমরা সবাই হয়ে গেছি নারীবাদী!মানবতাবাদী!সত্যবাদী!চেতনাবাদী! আরো কত কি ।কিন্তু এই সবকিছু হবার মুলে যে জিনিসটি কাজ করে তা আপনার পোস্টের একটি লাইনই প্রমান করে… [ইদানিং সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটা চোখে পড়বে সেটা হল নারীবাদের স্বপক্ষে থাকার মূলমন্ত্র হিসেবে ধর্মকে আঘাত করার প্রবনতা।]

    ধন্যবাদ আপনাকে ।

  2. জানি আপনার এই লেখাও আবারও সেই
    জানি আপনার এই লেখাও আবারও সেই আস্তিক নাস্তিক তর্কে গিয়ে শেষ হবে। আপনি আপনার লেখায় বেশ কিছু পয়েন্ট তুলে ধরেছেন যার সাথে আমার মতের দারুন মিল খুঁজে পেলাম। আমরা বেশীর ভাগই থিয়োরি কপচানোতে অধিক পারঙ্গম, কিন্তু থিয়োরি যদি বাস্তবে ফলদায়ক না হয় তাহলে সেই থিয়োরি কপচানো অসার।

  3. নারীবাদ শব্দটা নিয়ে আমার একটু
    নারীবাদ শব্দটা নিয়ে আমার একটু কনফিউশান আছে। নারীবাদী শব্দটাকে মানুষ দুই ভাগ করে ফেলেছে। এক অংশ ধর্মে নারী অধিকার প্রমানে ব্যস্ত আরেকদল ধর্মে নারী অবমাননা প্রমানে সচেষ্ট। কিন্তু নারীরা যে বৃত্তে সে বৃত্তেই থেকে গেছে। অনেক নারী তাদের অধিকারের কথাই বুঝেনা। অনেকে আছে পুরুষের চাইতে বেশি অধিকারের কথা শুনলেই ভয়ে অজু করে নেই। গ্রামে এইটা সবচেয়ে বেশি। তাই নারীবাদ বর্তমানে শহুরে হয়ে গেছে। যেন শহরের নারীরাই একমাত্র বঞ্চিত। কিন্তু আমরা দেখতে পাই নারী বৈষম্যের শিকার বেশি গ্রামে। আর সেখানে নারীরা নিজেই অধিকার নিয়ে উদাসীন। তাই হয়তো বেগম রোকেয়া বলেছেন “নারীদের অবনতির জন্য নারী নিজেই দায়ী।”

    যাই হোক আপনার পোস্ট পড়ে ভাল লাগলো। আমার চিন্তার সাথে অনেকাংশে মিল খুঁজে পেলাম। ধন্যবাদ।

    1. ধন্যবাদ। কিছু মনে করবেন না।
      ধন্যবাদ। কিছু মনে করবেন না। আপনার যৌক্তিক ব্যাখ্যার প্রতিব্যাখ্যা করতে পারছিনা। তবে আপনার সাথেও সহমত।

  4. মাশিয়াত খান আপনি তো দেখি
    মাশিয়াত খান আপনি তো দেখি ইস্টিশন ব্লগের ফ্রোরেন্স নাইটেঙ্গেল, হাতে নিয়ে আলোক বর্তিকা!! আপনি যে বিশাল প্রবন্ধের সূচনা করলেন, আপনার কি মনে হয়, এমন ভাবনা শুধু আপনিই ভাবেন? না আপনার মতো করে ভাবনার মানুষই পৃথীবিতে এদেশে বেশি। যাদের উদ্যশ্যে করে আমি লিখেছিলাম, ধর্ম ধর্ম জাবর কাটি, সানি লিওনের তলা ঘাঁটি।
    আপনি বলতে পারেব কেউ যদি ধর্ম পালন করে সানি লিওনকে নিয়ে দিন্রাত পার করে তাতে তো কোনো সমস্যা নাই, আসলেই নাই ততক্ষন, যতক্ষন না অন্যের দিকে সে আঙ্গুল তোলে।
    শুধু নারীবাদকে কেন টানছেন, সমাজের আরো অনেক কিছু নিয়ে বোলতে গেলেই ধর্মকে টানতে হয়। খারিজ করতে হয়। আপনি নিজেও খারিজ করেছেন। তবে আপনি আবার সন্ধিরও পক্ষে। আমি তো আপনাকে নিয়ে যথেষ্ট কনফিউজড। পুরো লেখা পড়ে কুল কিনারা পাচ্ছি না কোন পয়েন্টে আপনাকে উত্তর দেবো। তালিয়া পাবার জন্য খোচান তাইলে বাজাই গেলাম তালিয়া।

    1. আমি আসলে বুঝতে পারলাম না মিতু
      আমি আসলে বুঝতে পারলাম না মিতু আপু আপনি কতটা বুঝতে পেরেছেন আমার কথা। শুধু আমি না ভেবে যদি অনেকেই ভাবে তাহলে তাদের মতবাদ্গুলো তুলে ধরেন দেখি একবার। আমি তো তাদের সংখ্যা অনেক পাইনি। পেলেও তাদের মতবাদ পাইনি। নারীবাদ করি তাই নারীবাদকে টানছি। আমি যে বিষয় নিয়ে কথা বলতে এসেছি সে বিষয় নিয়ে না বলে কেন অন্য কোন কোন বিষয়ে ধর্মকে টানা উচিত তা বলব? আমি কি ধর্মবিদ্বেষে নেমেছি? আমি কেন সন্ধির পক্ষে তা কি এখনো আপনি বুঝতে পারেননি? এ নিয়ে তো আপনেকে অনেক কিছুই বললাম। আপনি তার বিপক্ষে খুব শক্ত যুক্তি দেননি যার জন্য আমি মেনে নিব সন্ধি করা উচিত না। কুল কিনারা না পেলে কিছু বলার নেই। জোর করে তো আর কুল ধরাতে পারব না।

  5. মিতু আপু লেখাটা পড়ে আমিও
    মিতু আপু লেখাটা পড়ে আমিও কনফিউজড ই ছিলাম।এই পোস্ট আরেকবার পড়ে দেখেন,আজাইরা অংশ গুলা বাদ দিয়ে মূল যেটা বলতে চেয়েছে,জিনিসটা কিন্তু সত্য।যে পরিমাণে নাস্তিকতাকে নারীবাদে ব্যবহার হচ্ছে তাতে ব্যাপারটা এমন হচ্ছে নারীবাদই নাস্তিকতা।এতে কিন্তু আগানোর বদলে আমরা বেশি পিচাচ্ছি
    যেটা নারীবাদ প্রতিষ্ঠায় কোন ফল
    রাখছে না

    1. আপনার সাথে একমত হতে পারলাম
      আপনার সাথে একমত হতে পারলাম না। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দ পুরুষতান্ত্রিকতা, ধর্ম নয়। তবে আমাদের মতো পশ্চাৎপদ সমাজে পুরুষতান্ত্রিকতার চেয়েও ধর্মটা গুরুত্বপুর্ন হয়ে ওঠে। কারন এখানে নারীর নিস্পেষন শোষন বেশিরভাগই ধর্ম কেন্দ্রীক। কোনটা ধর্মে সরাসরি আছে, কোনোটা ধর্মকে ব্যাবহার করে একদল ব্যাবসায়ি ফায়দা লুটছে।
      নারীর অধিকার বাস্তবায়নে নারীনীতি বাস্তবায়নে ধর্মই বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। সোচ্চার হয়েছে জামাত শিবিরসহ ধর্মের ধ্বজাধারীরা। কিন্তু এটাও তো বাস্তবতা সম্পত্তির ভাগাভাগিতে ইসলাম সরাসরি নারীকে বঞ্চিত করেছে। কোরান লেখকদের মনেই হয়নি নারী মানুষ, পিতা মাতার সম্পত্তিতে তারও সমান অধিকার রয়েছে।

        1. ভাগ্যিস ব্লগের কথা বলেন নাই।
          ভাগ্যিস ব্লগের কথা বলেন নাই। আপনারারে এতো কথা বললাম সব বাদ দিয়ে একটা অসাড় প্রশ্ন রাখলেন আমার কাছে!
          আর আপনারে কে কইলো আমি নারীবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চাই? নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা আর নারীবাদের মধ্যে পার্থক্য আছে যেটা এই বিষয়ে স্বল্প সম্পন্ন্রা বুঝতে পারে না। যেমন এই পোষ্টের লেখকের বেলায় ঘটেছে

          1. আপনি কি ধরেই নিয়েছিলেন আপনি
            আপনি কি ধরেই নিয়েছিলেন আপনি কোন যুক্তিসংগত কথা বললেও আমি তার পেচগি লাগব?সরি টু সে ,সেই স্বভাব আমার নেই।আপনার আগের কমেন্টের ওই কথাটা ছাড়া প্রতিবাদ করার কিছু নেই।আর আমি নারীবাদী আপনাকে বলিনি।লেখক এই পোস্টে যাদের কথা বলেছে তাদেরকে মিন করেছি।আপনি মনে হয় ধরেই নিয়েছেন,আমাদের ফ্লোরেন্স নাইটেঙ্গেল আপনাকে মিন করেই এই লেখাটা লিখেছে

          2. আমাকে বলেননি। প্রশ্নটা কি
            আমাকে বলেননি। প্রশ্নটা কি করেছেন, কিভাবে করেছেন দেখে নিন-

            কোরআন লেখকদের ভুল ধরে কি আপনি নারীবাদ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন?

            আপনি লিখেছেন ‘পারবেন’ এরপর কেমতে বুজতাম আমাকে বলেননি, অন্যকে বলেছেন

          3. তো আপনি নারীবাদের পক্ষে নন
            তো আপনি নারীবাদের পক্ষে নন মিতু আপু? একটা বাজে প্রশ্ন করি। সেদিন যে বললাম নারীবাদী হিসেবে আপনাকে সম্মান করি। আপনি কেন আমার ভুল ভাঙ্গাননি যে আপনি নারীবাদ করেন না? নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা হোক আর নারীবাদ হোক। প্রশ্ন হল আপনারা ঐ অধিকার প্রতিষ্ঠায় যে পথ বেছে নিয়েছেন তা কতটা যৌক্তিক।

          4. আপনার এই প্রশ্নের উত্তর আমার
            আপনার এই প্রশ্নের উত্তর আমার আগের পোষ্টেই দিয়েছি। আপনিই বারবার ধান ভানতে শীবের গীত গাইছেন। পেচান তবে সেইটা যেন ল্যাদানির পর্যায়ে চলে না যায়। নাম দেখে তো মনে হচ্ছে নারী। তাছাড়া ছাগুও না। শুধু শুধু আপনেরে আক্রমন করতে চাই না।
            তবে এইটার উত্তর দিয়ে যান-

            আপনারা ঐ অধিকার প্রতিষ্ঠায় যে পথ বেছে নিয়েছেন তা কতটা যৌক্তিক।

            আপনার এই কথায় আপনি কোন পথ বুঝিয়েছেন?

          5. আপনাকেও আমি তার উত্তর দিয়েছি।
            আপনাকেও আমি তার উত্তর দিয়েছি। অযৌক্তিক উত্তর হলে আপনি তার বিপক্ষে বলতেন। আপনি শুধু শুধু প্রসঙ্গের বাইরের উত্তপ্ত মন্তব্য দিয়ে কি প্রমাণ করেন আমি বুঝি নয়া। আপনারা প্রতিনিয়ত ধর্মকে আঘাতের যে প্তহ বেছে নিয়েছেন তার কথা বলেছি। বারবার একবিষয় নিয়ে কথা বলে তিক্ততা বাড়াচ্ছেন না কি? আর এর ফলত কি হচ্ছে তা তো পোস্টেই বলেছি।

  6. বেশ কিছুদিন আগে ফেসবুকে একটা

    বেশ কিছুদিন আগে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস পড়েছিলাম। বর্তমান সময়ে সেলিব্রিটি হবার কৌশলগুলো নিয়ে স্ট্যাটাসটা দেয়া ছিল। ওখানে একটা কৌশল ছিল ‘নারীবাদ নিয়ে লেখা’। সেদিন খুব একটা গুরুত্ব না দিলেও ইদানিং কথাটা নিয়ে কিছুটা সন্দেহ হচ্ছে

    আফা আপনারও দেখি অনেক শখ! তা সেই তো পুরোনো কৌশল ব্যাবহার করলেন। আপনার মনের বাসনা পুরন কত্তে নারীবাদ শব্দটা বার বার লিখে ফ্যানা তোলেন কোনো সমস্যা নাই, কিন্তু তার আগে এইরম একখান শিরোনাম আর সুচনা সঙ্গীত ঝাড়ার কি দরকার ছিল!
    বুজি বুজি বুজি, ছোটবেলায় আমরাও খাইছি এক নম্বর সুজি

    1. মিতু আপু, আমি তো আর আধুনিক
      মিতু আপু, আমি তো আর আধুনিক হয়ে নারীবাদ ব্যবহারর করে নাস্তিকতার চর্চায় নামিনি তাই আমি নারীবাদ প্রতিষ্ঠার কথা ভাবি। এ দৃষ্টিভঙ্গি পুরান লাগলে কি আর কইতাম?? সুচনা সঙ্গীত বুঝি আপনারে খুব আঘাত দিল?

      1. আমি নাস্তিক। এ ব্যাপারে কোনো
        আমি নাস্তিক। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই। আপনাদের মতো বরাহ এবং বিষ্ঠা উভয় জায়গায় থাকার কোনো ইচ্ছা আমার নেই। আর আমি যতটা না নারীবাদি তার চেয়েও বেশি নাস্তিক।
        আর সূচনা সঙ্গীত নিয়ে কি কইতাম, আমি বহু আগেত্তেই সিলিব্রিটি আফা। আপনি লাইনে নয়া না এই বাসনা বহু জনের মনেই আছে

        1. সেলিব্রিটি হবার বাসনা থাকলে
          সেলিব্রিটি হবার বাসনা থাকলে আপনাদের মত সমসাময়িক সব নিয়ে সাথে নাস্তিকের খাতায় নাম লিখিয়ে মাঠে বসতাম। আমি একটা বিষয় নিয়ে আছি। আর আপনি নাস্তিক তাতে সমস্যা না। সমস্যা যখন সবকিছুতে নাস্তিকতা টানেন। এই পোস্টেও আপনি বলছেন কেন নাস্তিকতার অন্যদিক তুলে ধরছিনা। দুঃখিত আফা আপনার লগে মিলল না।

  7. আপনি যা লিখেছেন তার সঙ্গে
    আপনি যা লিখেছেন তার সঙ্গে মোটামুটি আমি একমত। কিন্তু আপনার উপস্থাপন ভঙ্গিটা খুবই বাজে হয়েছে। নারীমুক্তির পক্ষে যারা ইতিবাচকভাবে চিন্তা করে, উপস্থাপনার এই আঙ্গিকের কারণেই তারা লেখাটা সহজভাবে নিতে পারবে না বলে মনে হচ্ছে।

    আপনি যা লিখেছেন, আমার মতো করে বলি-
    আমাদের সমাজে নারীবাদ নতুন একটা মতবাদ। এখনো নিজেদের নারীবাদি দাবি করে কোনো রাজনৈতিক বা কার্যকর কোনো সামাজিক সংগঠনও গড়ে ওঠেনি। তা সত্ত্বেও নারীবাদ শব্দটির আনাগোনা দেখেই পুরুষতন্ত্র আতঙ্কিত। তারা নারীবাদ বিষয়ে অপপ্রচার, ভুল তথ্য ছড়িয়ে যাচ্ছেন গভীর মনযোগের সঙ্গে। অনেক নারীও এই প্রোপাগান্ডায় অংশ নেন। পুরুষতন্ত্র নারীর নারীসুলভত্বকে কেন্দ্রে রেখে যেই সামাজিক সহাবস্থানের মহাত্ম্য প্রচার করে, তাতে বুঁদ হয়ে থাকা নারীরাই এই ভূমিকায় নামে।
    নারীবাদের স্বপক্ষে যারা কথা বলে, তারা অনেকেই নারীবাদ প্রশ্নে আলোচনা করতে গিয়ে ধর্মকে টেনে আনে। অথচ নারীবাদ প্রশ্নের সঙ্গে ধর্মকে জুড়ে দিয়ে নারী অধিকারকে পিছিয়ে রাখার কৌশলটা পুরুষতন্ত্রের। কোনো কিছুকে ঘায়েল করতে চাইলেই রক্ষণশীলরা ধর্মকে ঢাল করে তার ওপর আক্রমণ চালায়। নারীবাদ প্রতিষ্ঠার আলাপ করতে এসে প্রথমেই ধর্মকে টেনে আনাটা বোকামি। প্রথমে কথা বলা উচিত, নারীর অর্থনৈতিক মুক্তির প্রশ্নে। এটা চিহ্নিত করা দরকার, সেখানে কেন সে পিছিয়ে। ধর্ম ব্যবহার করে পুরুষতন্ত্র নারীকে পিছিয়ে রাখতে চাইছে কিনা সেই প্রশ্নটারও উত্তর খোঁজা দরকার। তবে সেটা প্রথমেই না। আমার জানা মতে, সব ধর্মেরই অসংখ্য অনুচ্ছেদ আছে নারীকে অসন্মান জানিয়ে, তাকে বন্দি করে রাখার লক্ষ্যে। এ নিয়ে বাংলাতেই বিস্তর লেখালেখি আছে। ফোকাসটা কিছুতেই ধর্মের দিকে নেয়াটা আন্দোলনের জন্য উপকারী হবে না।

    আপনি কিছু প্রশ্ন রেখেছেন, নারীবাদিরা কেন এই করে না, ওই করে না। যা বলেছেন তার অধিকাংশই নারীবাদিরা দুনিয়াজোড়া করছে। পুরুষতান্ত্রিক জ্ঞানচর্চ্চার আধিপত্য, সব শ্রেণীর নারীর মুক্তির উপায়- এ সব নিয়েই কাজ হচ্ছে। নারী কেন ধর্ম ছাড়ে না, নারী কেন নারীকে গালি দেয়, ঈর্ষা করে- এসব প্রশ্নের উত্তর নারীরা এখনো জানে না। কিন্তু নারীবাদিরা ভাল করেই জানে পুরুষতান্ত্রিক শিক্ষা কাঠামো, অসচেতনতা এবং স্বনির্ভর না হতে পারাটাই নারীদের এই পরিণতির কারণ।

    বুঝতে পারছি, অনলাইনে নারীবাদি তৎপরতায় আপনি বিরক্ত। লেখার শুরুতেই অনেক নারীবাদি দেখছেন বলে জানিয়েছেন। সংখ্যাটা এত বড় যে, সমাজ কেন নারীবাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে না সেই প্রশ্নও তুলেছেন। শিরোনামেও আপনার একই চিন্তা।
    প্রশ্নটা হচ্ছে, কোথায় পেলেন এত নারিবাদি? অনলাইনে? আমাদের অনলাইনে কত মানুষের আনাগোনা? রাজনৈতিক ক্ষমতার মঞ্চে এর প্রভাব কতটুকু? নারীর স্বাধীনতা নিশ্চয়ই রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত? আর অফলাইনে নারীবাদি কত? বছরে দুই একটা দিবস ছাড়া তো নারীবাদের তেমন কোনো কথা শুনি না। বরং সমাজে আশে পাশে যেদিকেই তাকাই শফীদেরই দেখি। সবখানে তো তাদের কণ্ঠই প্রতিধ্বনিত হয়।

    নারীবাদ বা নাস্তিকতা আমাদের এখানে নিপীড়িত শ্রেণীর মুক্তির লড়াইয়ের অংশ। দীর্ঘকাল যারা নিপীড়নের যাঁতাকলে পিষ্ঠ হয় তাদের সংগ্রামে আক্রমণাত্মক মনোভাব থাকে। এটা কোনো ক্রিয়া না। অন্য শ্রেণী কর্তৃক চালানো নির্যাতনের প্রতিক্রিয়ায় এ ব্যাপারটা ঘটে। এটা থাকাটা অনেক ক্ষেত্রে জরুরীও বটে।

    নারীবাদ নিয়ে এই লেখায় আপনার যা ইতিবাচক চিন্তা তা নস্যাৎ হয়ে গেছে সেই একই যুক্তিতে যা আপনি নিজেই দিয়েছেন-

    ধরুন, আপনি কাউকে তার খারাপ দিকগুলো জানাবেন। এখন আপনি যদি একরাশ খারাপ গালি দিয়ে আপনার কথা শুরু করেন; তো সে কথা যতই ঠিক হোক, যতই ভাল হোক সে মেনে নিবে না।

    আক্রমণ না করে যদি গঠনমূলক সমালোচনার পথে এগুতেন তাহলে হয়তো লেখাটা কাউকে না কাউকে ভাবাতে পারতো।

    1. আপনার লেখার তৃতীয়ও অংশের সাথে
      আপনার লেখার তৃতীয়ও অংশের সাথে আমি একমত। ঐ অংশ খুব সুন্দরভাবে কোন খোঁচা ছাড়া আমার কথা তুলে ধরেছে। এখানে আমি আমার উপস্থাপনের ত্রুটি মেনে নিচ্ছি।
      দ্বিতীয় অংশ নিয়ে প্রথম প্রশ্ন বাংলাদেশে নারীবাদের কোন সংস্থা নেই? মহিলা পরিষদ,bangladesh women’s federation, women’s right organization- এগুলো কেমন সংস্থা? নাকি আপনিও মিতু আপুর মত সীমা টানছেন নারীবাদ আর নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা নিয়ে? এই অংশে যে প্রোপোগান্ডার কথা বললেন তার কথা আমি ওভাবে তুলে ধরিনি আমার পোস্টে। আমি ঐ ধারনা আনিনি ক্কারণ তাতে আরো বিষদ্ভাবে লিখতে হবে। তবু বাড়তি হিসেবে ভাল বলেছেন।
      চতুর্থ অংশ- আপনি বলেছেন সারা দুনিয়ার নারীবাদীরা তাই করছে। প্রকৃত নারীবাদীরা তা করছে তা নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু এখানে আমি নারীবাদের নামে যে অপপ্রচার চলছে তার কথা বলেছি। নারীবাদ প্রতিষ্ঠায় যেভাবে ধর্মকে আঘাত করছে প্রতিনিয়ত তার পাল্টা কেন এ বিষয়গুলোতে নজর দিচ্ছে না তাই কিন্তু বলা। নারীবাদীরা ভাল করেই জানে পুরুষতন্ত্রের শিক্ষা ব্যবস্থার কথা। কিন্তু আমার প্রশ্ন কেন তবে সেদিক তুলে ধরে লেখনি বেশি আসে না? আর নারীবাদীরা জানে না কেন নারীতে নারীতে ইর্ষা? আমি আমার পোস্টে যে কারণ বললাম তা আপনি মেনে নিতে পারেননি বলে কি এই বললেন? না মেনে নিতে পারলে জানিয়ে রাখি নারীবাদীরা জানে এই ইর্ষার কারণ্ পুরুষতান্ত্রিক ষড়যন্ত্র।
      পঞ্চম অংশে, আপনি যে প্রশ্নও তুললেন অনলাই না অফলাইন তাতে আমি একটু হোচট খেলাম। আমি তো প্রথমেই ভার্চুয়াল দুনিয়ার কথা জানিয়েছি। বাস্তবে এমন দেখা যায় না কেন সেই প্রশ্নও তুলেছি? তাহলে তো অনলাইন অফলাইন বুঝতে সমস্যা থাকার কথা না।
      আপনার লেখার এক অংশে আপনি নারীবাদ আর নাস্তিকতার একটা মিল দেখালেন। তার কিছু প্রয়োজন আছে সেটাও বললেন। আমি কি বলেছিলাম পড়েছিলাম। এক ক্ষত নিয়ে পরে থাকতে না। এই ক্ষত নিয়ে অনেক কথা হল। অনেক ক্ষেত্রে যেটা প্রয়োজন সেটা সব ক্ষেত্রে টেনে আনাটা কি ঠিক?
      আপনার লেখা অবশ্যই ভাল। আমার লেখায় যে আক্রমণ ছিল তা আপনার লেখায় নেই এবং আমি আমার লেখায় আমার আক্রমণের ত্রুটি মেনে নিলাম। কিন্তু আপনার আর আমার লেখার একটা গাঠনিক পার্থক্য হল আপনি পুরোদস্তুর প্রবন্ধ পাঠ করলেন যেখানে উদাহরণের ঘাটতি ছিল। আমি কিছু বাস্তবতা তুলে ধরেছিলাম। কেন কি হচ্ছে বলেছিলাম। আপনার লেখায় সেটা পেলাম না।
      আপনাকে অনেক ধন্যবাদ পোস্টটির সুন্দর বিশ্লেষন দেওয়ায়

      1. আপনি না বুঝে অধিকাংশ কথা
        আপনি না বুঝে অধিকাংশ কথা লিখছেন বলে মনে হচ্ছে। নারীবাদ আর নারী সংগঠন কি এক জিনিস? যাদের নাম বলেছেন এরা কেউ নারীবাদি সংগঠন না, নারী অধিকারের পক্ষে এরা কথা বলে।

        ‘আর নারীবাদীরা জানে না কেন নারীতে নারীতে ইর্ষা?’ এই কথাটা জিজ্ঞেস করছেন কেন? আমার কথা আপনি বুঝতে পারেননি এখানেও। এই বাক্যটা আবার পড়েন,
        ‘নারী কেন নারীকে গালি দেয়, ঈর্ষা করে- এসব প্রশ্নের উত্তর নারীরা এখনো জানে না। কিন্তু নারীবাদিরা ভাল করেই জানে…’

        অনলাইন অফলাইন নিয়েও অনেক বললেন। কিন্তু এটা বলতে পারলেন না, অনলাইনের শক্তির ভূমিকা রাজনৈতিক মঞ্চে আছে কিনা!

        নারীবাদ আর নাস্তিকতার মিল দেখলেন আমার লেখায়? এখানে এসে স্পষ্ট হলো, আমার কথা বোঝার মতো অবস্থায় আপনি নাই। থাকলে এত কথা খরচ করতেন না। যারা নাস্তিক বা যারা নারীবাদি, এরা সমাজের মূল স্রোতের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কারণে যুগ যুগ ধরে এদের ওপর নানা মাত্রার নির্যাতন চলে আসছে। অনেক নারীবাদির ওপর অনেক অপবাদ দেয়া হয়েছে। নাস্তিকরা জীবন দিচ্ছে আস্তিকদের হাতে। সুতরাং তারা, মানে এই নিপীড়িতরা যখন কথা বলবে সেখানে যে দ্রোহটা দেখবেন সেটা আরোপিত না, ওই দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা নির্যাতনেরই প্রতিক্রিয়া। এটা হবেই।

        আপনি ধর্মের পক্ষে দাঁড়িয়ে নারীবাদকে পরামর্শ দিচ্ছেন, এটা দেখে হাসি পাচ্ছে। নারীবাদ কি জানুন। এরপর প্রয়োজন বোধ করলে আরেকটু জানুন, ইসলামি নারীবাদ সম্পর্কে। তারপর দেখেন আপনার কোনটা দরকার। যদি এগুলোতে না হয় তাহলে স্বনামেই একটা মতবাদ চালু করে দিন। তবে যাই করেন প্রথমে বিদ্যমান সামাজিক জ্ঞানের সঙ্গে পরিচিত হন। নারীবাদ কেমন হলে ভালো হবে, এটা আপনার ধারণা বা আকাঙ্খার জায়গা। কিন্তু এ দিয়ে নারীবাদ কি তা ঠিক হয় না। নারীবাদের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা আছে, তাদের কর্মপরিধিও সুনির্দিষ্ট। এর বাইরে গেলে সেটা অন্য নামে নতুন কিছু হতে পারে, ভালো বা খারাপ যাই হোক, সেটা কিন্তু নারীবাদ হবে না।

        শুরা উন্নত কিনা সে বিতর্ক ভিন্ন। কিন্তু পানি কখনোই শুরা না।

        1. আনিস রায়হান আপনার মন্তব্য পড়ে
          আনিস রায়হান আপনার মন্তব্য পড়ে এবার মনে হচ্ছে আমাকে নারীবাদ নতুন করে শিকতে হবে।
          প্রথমত আপনি যে সংস্থাগুলোর কথা বললেন তারা নারী অধিকারের পক্ষে কথা বলছে- এটা কি নারীবাদের অংশ নয়? এর প্রতিউত্তরে আপনি যদি বলেন নারীবাদি সংস্থা নয় তবে আমি বলি আপনি যে নারীবাদি সংস্থার কথা বলছেন তার একটা উদাহরণ টানুন। তারপর আমি পরিস্কার করি।
          দ্বিতীয় স্থানে ভুল করেছি। দুঃখিত।
          তৃতীয় অংশ- আমি এই অংশে একটা কথাই বলব আপনি যাদেরকে নারীবাদের খাতায় টেনেছেন তাদের তালিকা থেকে খুব সম্ভবত রোকেয়ার নাম বাদ চলে গেছে, মেরিকেও মনে হয় কোথাও ফেলে এসেছেন। একটা বিষয় স্পষ্ট করি। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট দিয়েই। আপনি তসলিমার লেখা পড়েছেন এবং রোকেয়ার? দু’টো লেখার গুণগত পার্থক্য কি ধরতে পেরেছিলেন? তার চেয়ে বেশি দেখার প্রয়োজন লেখার ফল? কার লেখনি দ্বারা বেশি উপকৃত হয়েছিল নারীসমাজ। তসলিমা নাসরিন শুধু ধর্ম আর পুরুষের মানসিকতাকেই আঘাত করেছিলেন। রোকেয়া পুরো পরিস্থিতিকে। রোকেয়া সময়ের প্রয়োজনে যেখানে সন্ধি প্রয়োজন সেখানে তাই করেছিলেন। বাইরের দিকে তাকিয়ে যদি মেরিকেই বলি। মেরির লেখা অভিজাত সম্প্রদায়কে পর্যন্ত আঘাত করেছিল। শুধু তো ধর্ম ছিল না। স্রোতের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় কি শুধু নাস্তিক আর নারীবাদিরা? স্রোতের বিরুদ্ধে না দাঁড়ানোর কথা কি আমার পোস্টে কোথাও ছিল? আমি স্রোতের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর বিপক্ষে বলিনি। স্পষ্ট বলেছিলাম শুধুমাত্র ধর্মকে নিয়ে পরে থাকতে না।
          আমি ধর্মের পক্ষে দাঁড়ায়নি। আমি বলেছিলাম শুধু ধর্মকে আঘাত না করে সবগুলো বিষয়কে আঘাত করতে। ধর্মকে ইদানিংকালে এতটাই আঘাত করা হয়েছে যে নারীবাদ ধর্মবিদ্বেষীবাদে পরিণত হয়েছে। নারীবাদের মূল লেখকদের মত সব বিষয় নিয়ে লেখা হোক। একটা বিষয়ই কেন? তিক্ততা বাড়ছে এতে।
          অনলাইনের শক্তির ভূমিকা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অতি অল্প/ কিন্তু কথা তো সেখানে না। কথা হল, সচেতনতা যখন অনলাইনের তখন সেটাই বা কেন ফলপ্রসু হবে না?
          আর শেষ মন্তব্য। নারীবাদ নিয়ে আমাকে জানতে বললেন । ধন্যবাদ। না হয় আরও জানলাম। কিন্তু আপনাকে বলে রাখি আপনি নারীবাদের তালিকা দেখে একটু মিলিয়ে নিয়েন সমাজ পরিবর্তনে কারা ভুমিকা রেখেছিল এবং কিভাবে। যারা কেবল বুল ফুটিয়েছে তাদের নয়। দু’দলের কর্ম আর লেখনি দেখলেই পরিস্কার হবে সমাজ পরিবর্তনে স্রোতের বিরুদ্ধে চোখ বন্ধ করে দাঁড়ালে হয় না, দাঁড়াতে হয় দূরদর্শিতা দিয়ে নয়ত স্রোতে তলিয়ে যেতে হয় স্রোতকে রুখে দেওয়া যায় না।
          আর ইসলামী নারীবাদ নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না। কেননা আমি তা সমর্থনই করি না। আর আমি ইসলামের কথা না টানতেই আপনি কেন ইসলাম টানলেন বুঝলাম না।
          এরপরও আপনি আমাকে যদি বলেন আমি আপনার লেখা বুঝতে পারিনি তাহলে আসলেই দুঃখিত।

    2. আনিস রায়হান খুব সুন্দর করে
      আনিস রায়হান খুব সুন্দর করে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এরপরেও কোন প্রশ্ন থাকার কথা না । :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  8. মাশিয়াত ভাই প্রথমেই আপনার
    মাশিয়াত ভাই প্রথমেই আপনার হুজুগবাদ বা ফ্যাশন কন্ট্রোভারসি নিয়ে কিছু বলতে চাই। দেখেন নারিবাদীদের হুজুগে বা আঁতেল অথবা লোক দেখানো তকমা লাগিয়ে দেয়া তাহলেই তাদের উদ্দেশ্য হাসিল হয়। কারণ আমি দূরগ্রামে গিয়ে যদি তেঁতুল গাছে ভুতে ধরা নিয়ে সঠিক ব্যাখ্যা দেয় আর স্থানীয় লোকজন বা যারা এই ভুতে ধরা তত্ত্ব নিয়ে পেট চালায় তারা আমার সর্বাত্মক বিরোধিতা করবে, অর্থাৎ অবধারিতভাবেই ওঝা শ্রেণী থাকবে এর প্রধান বিরোধী আর এমন সব কন্ট্রোভারসি ক্রিয়েট করবে। তাই বলি কি নারীবাদ কোন ফ্যাশন নয় আমরা যারা নারীর অধিকার নিয়ে কথা বলি বা লিখালিখি করি তারা জনপ্রিয়তার জন্যে বা আলাদা হওয়ার জন্যে করি না আমরা হাজার বছরের ভুতে ধরার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে চাই। আর আসলেই যদি কেউ লোক দেখানো নারীবাদী হয় তাতেও সমস্যা নাই কারণ ভুতে ধরার বৈজ্ঞানিক ধারনার পক্ষেই সে দাঁড়াচ্ছে না বুঝে হলেও, খারাপ কি। বুঝে খারাপ কাজ করা থেকে না বুঝে ভাল কাজ করাই বরং ভাল।
    কারো সাথে গা ভাসানোর আগে ভেবে দেখা উচিৎ সে আমার বন্ধু নাকি সে আমায় মানুষই ভাবে না। যারা আপনাকে শোষণ করার জন্যে সুচিন্তিত নীলনকশা করল হাজার বছর ধরে তাদের সাথে সমঝোতা? এইটা খুব আত্মসম্মনাবোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে নিজের মাথার প্রতি অবিচার হয়ে গেল… বিস্তারিতঃ এইখানে

    1. তারিক ভাই আপনি নিশ্চই আতিক
      তারিক ভাই আপনি নিশ্চই আতিক ভাইয়ের মন্তব্য পড়েছেন। আমি কিন্তু বাস্তবতা তুলে ধরেছি। আপনি গতবার আমাকে মৌলানা বললেন যদিও আমি ধর্মকে সমর্থন করিনি। এবার আপনি সমঝোতার প্রশ্নও তুললেন। আমি এখানে বলেছিলাম এক ক্ষত নিয়ে পরে না থাকতে। এতে যে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে সেটাও দেখিয়েছি। আপনারা সেটা মানতে পারছেন না। আমার কথায় এইটাই বারবার তুলেছি নারীর অধিকার দিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ধর্মকে যে আঘাত করা হচ্ছে তা হিতে বিপরীত হচ্ছে এবং আমাদের এর ব্যতিক্রম কি করার। না বুঝে আপষ করা ভাল বললেন সেটা বুঝলাম। কিন্তু না জেনে কেউ যদি শুধু ‘অক্সিজেন নাই’ এই কথা বলে বৈজ্ঞানিক চর্চা করে তাহলে ব্যাপার কেমন হবে? এই কথাটাও সত্য কিন্তু শুধু এই কথা দিয়ে ঐ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রমান করলে যে তা গ্রহনীয় হবে না সেটা বাস্তব। আমি সেরকম একটাই কথা তুলে ধরতে চেয়েছি। তাছাড়া এমন না তো যে এই বিষয় নিয়ে লেখালিখি হয়নি। একই বিষয় যা কোন পরিবর্তন আনতে পারছে না তা নিয়ে প্রেক্ষাপট তিক্ত না করার কথা আমি উল্লেখ করেছিলাম

      1. আমার কথায় এইটাই বারবার তুলেছি

        আমার কথায় এইটাই বারবার তুলেছি নারীর অধিকার দিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ধর্মকে যে আঘাত করা হচ্ছে তা হিতে বিপরীত হচ্ছে

        — এইটাই আপনার মূল কথা তো?
        দেখুন! আমি একটা রোগের চিকিৎসা করতে গেলে আগে ডাঃ আমাকে কি করতে বলবে? অতি অবশ্যই আগে রোগ নির্ধারণ করবে? আপনি এই ব্যাপারে অন্যভাবে উপস্থাপন করেছিলেন! যাহোক, ডাঃ টেস্ট মেস্ট করে দায়ী জীবাণু শনাক্ত করবে। ওকে তারপর তার নিধনে চিকিৎসা করবে!! এইবার আসেন নারী অবমুল্যানের মূল কারণ কি শনাক্ত করি। সন্দেহাতীতভাবে মূল কারণ হচ্ছে পুরুষতান্ত্রিকতা… নাকি এইখানে আপনার দ্বিমত আছে? গোটা দুনিয়ার তাবৎ গবেষণা তাই বলে যে নারীর আজকের এই দশার জন্যে পুরুষতন্ত্র দায়ী… এইবার আরেকটু গভীরে জান।। পুরুষতন্ত্রের মূল হাতিয়ার বা মূল অস্ত্রই হচ্ছে ধর্ম! এতে কোন সন্দেহ আছে? থাকলে বলেন ব্যাখ্যা করব… কেবল এবং কেবল মাত্র এই কারনেই নারীবাদীদের আন্দোলন থেকে বা লিখনি থেকে মূল আঘাতটা গিয়ে পরবে ধর্মগুলোর উপর প্রত্যাশিত এবং অবধারিত ভাবেই। আমাদের রোকেয়াতেও তাই… আবার সিমন দ্যা বেভোয়ারের বেলায়ও তাই।।
        ধন্যবাদ; :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: এই বিষয়ে এর থেকে সহজ করে বলার ক্ষমতা আমার নাই!!

        1. তারিক ভাই, ধর্মকে আঘাত করতে
          তারিক ভাই, ধর্মকে আঘাত করতে হয় সেটা আমিও জানি। কিন্তু কথা হয়েছে প্রতিনিয়ত কি করতে হয়? আপনি যে বোভোয়ার বা রোকেয়ার কথা তুললেন তাদের লেখনি দিয়ে উদাহরণ দেই। লেখনিতে যে ধর্মকে আঘাত করা হয়নি তা তো না কিন্তু প্রত্যেকটা লেখাই কি ধর্মকে আঘাত করে ছিল? রোকেয়া তো শব্দ ব্যবহার নিয়েও প্রতিবাদ করেছিল। বোভোয়ার সঙ্গমের ক্ষেত্রেও তুলে ধরেছিল। তাদের লেখায় অন্য বিষয়গুলো ছিল। শুধু ধর্মই প্রতিপাদ্য ছিল না। আমার বিষয়টা এখনো আপনাদের কাছে পরিস্কার কিনা আমি জানি না। আপনি ইদানিংকালের লেখাগুলো দেখুন। নারীবাদ নিয়ে প্রবন্ধগুলোতে অন্যান্য বিষয় কতটুকু ওঠে আর ধর্ম কতটুকু ওঠে! আপনার লেখার সমর্থন কিন্তু ঐ কারণেই ছিল। শুধুই ধর্মকে আঘাত না করে অন্যান্য বিষয় তুলেছিলেন। আর আমি এখন এড়িয়ে চলার কথাও এই ক্কারণে বলেছিলাম কারণ ধর্মকে আঘাত করে পোস্টের সংখ্যা এত বেশি যে নারীবাদই যে ধর্মবিদ্বেষের অংশ নয় সেটা পরিস্কার করতে ধর্মকে আঘাত না করে এখন অন্যান্য বিষয়ে নজর দেওয়া দরকার।

          1. দেখেন আপনি বারবার মূলে ডুকতে
            দেখেন আপনি বারবার মূলে ডুকতে গিয়ে ঠিক আগ মুহূর্তে বের হয়ে যান।।
            একটা উদাহরণ দিয়ে বলছিঃ টাইফয়েড হলে শরীরে অনেক উপসর্গই দেখা দেয় এখন আমরা উপসর্গের চিকিৎসা করব নাকি রোগের? নারীঅবমূল্যায়নের মূল জিবানু বা ভাইরাসই হচ্ছে ঐ পুরুষতান্ত্রিক হাইড্রোজেন বোমাটি (সকল অতিকায় সমরাস্ত্র…); এই বোমা যতদিন মানব সমাজে থাকবে ততদিনই আমাদের মানবতা হুমকির মুখে থাকবে… যুদ্ধান্দেহি মনভাব (পুরুষতান্ত্রিকতা…) আর মানবতা বিধ্বংসী অস্ত্র (পুরুষতান্ত্রিকতার মূল হাতিয়ার ধর্ম…) এই দুয়ের মুক্তি ছাড়া আপনি যুদ্ধবিধ্বস্ত কোন দেশ পুনর্গঠনের উদ্যোগ তাই বেহুদা বা অর্থহীন মনে হবে; এর অর্থ এই না আমরা ইরাক-আফগানিস্থান পুনর্গঠন করব না…

          2. তারিক ভাই আপনি একের পর এক
            তারিক ভাই আপনি একের পর এক চিকিৎসা বিদ্যার উদাহরণ দিয়ে যাচ্ছেন, তাই চিকিৎসা বিদ্যার লোক হিসেবে একটা উদাহরণ অন্তত না দিলে মান ইজ্জৎ ফালুদা হয়ে যাচ্ছে।
            ফোঁড়া হওয়ার কারন কি সবাই কমবেশী জানেন। জীবাণুর সংক্রমনে শরীরের কোন অংশে যে বিশেষ রিয়াকশন হয় সেটাই ফোঁড়া। ফোঁড়ার চিকিৎসায় এন্টিবায়োটিক অপরিহার্য্য। এন্টিবায়োটিকই মূলত জীবাণু ধ্বংস করবে। আমরা প্রায়ই দেখি গ্রাম্য চিকিৎসকদের কিছু না বুঝেই এন্টিবায়োটিক ব্যবহারে একটা বড় ফোঁড়া জটিল দিকে টার্ন নেয়। বড় ফোঁড়া হলে সাধারণত ভেতরে অনেকখানি পুঁজ জমে। এন্টিবায়োটিক দেওয়ার আগে ঐ ফোঁড়ার দেয়াল ভেঙে দিয়ে পুঁজ বের করলে যেটা হয় ফোঁড়ার দেয়াল ও পুঁজ জমে শক্ত পাথরের মতো হয়ে যায়, তাকে আমরা বলি এন্টিবায়োমা। এতে ফোঁড়ার দেয়াল শক্ত হয়ে ফোঁড়াটা শক্ত টিউমারের মতো হয়ে যায়। না পারা যায় তখন কেটে পুঁজ বের করে দেওয়া, আবার এন্টিবায়োটিকও তখন আর পুরাপুরি কাজ করেনা। অথচ এন্টিবায়োটিক দেওয়ার আগে সিম্পলি দেয়ালটা ভেঙে পুঁজ বের করে দিলে আর এই সমস্যা হয়না। মাশিয়াত খান বোধ হয় আমাদের দেয়াল ভাঙার কথাটাই মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন। অন্য কিছু না। আশা করি বুঝবেন কি বলতে চেয়েছি। এন্টিবায়োটিক দিয়ে জীবাণু মারেন সমস্যা নাই, কিন্তু তার আগে ফোঁড়ার ওয়াল কেটে পুঁজ বের করে দিতে ভুলবেন না।

          3. তারিক ভাই, আমি স্পষ্টত
            তারিক ভাই, আমি স্পষ্টত জানিয়েছি এই মূলে আঘাত করা হয়েছে। কিন্তু লেবু বেশি চিপলে তিতা হয়ে যায় যেমন এখন ঘটনাটা তেমন হচ্ছে। এই অস্ত্রকে নিধন করতে হবে তাতে তো দ্বিমত নাই। কথা হচ্ছে কেন এই অস্ত্র একাধারে? এই অস্ত্র বারবার করে আঘাতে অবস্থা কি হচ্ছে তা আমি পোস্টেই বলেছি। আপনি বা আপনারা না মানলে তো কিছু বলার নেই।

  9. আপনার লাইন বুঝছি। ইসলামিক
    আপনার লাইন বুঝছি। ইসলামিক নারীবাদ বলে একটা মতবাদ আছে। এদেশে ফরহাদ মঝারের বউ মানবাধিকার কর্মী ফরিদা আখতাররা চর্চা করে। এই বিষয়ে তার বিষদ কিছু লেখা আছে। আমি একবার তার ইন্টারভিউ করেছিলাম। তার কথা গুলো আপনার সাথে বেশ মিলে যায়। সেই ফরিদা আখতার যে কিনা ধর্ম রক্ষার্থে হেফাজতের ১৩ দফার পক্ষে ব্যাপক প্রচারনা চালিয়েছিল।

    1. ফরিদা আখতাররা নারী বাদী?
      ফরিদা আখতাররা নারী বাদী? তেলাপোকাও পাখি…
      ফারহাদ মাঝাহার ও আদর্শবাদী!! মাইরালা আমারে মাইরালা!!
      চমৎকার বলেছেন; :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: সাক্ষাৎকারের লিঙ্ক দিয়েন।।

    2. আপনি এই ট্যাগ দিলে আমি আর কি
      আপনি এই ট্যাগ দিলে আমি আর কি কইতাম? তাছাড়া ঐ ইন্টারভিউ তো আমি নেই নাই তাই জানি না। দিয়েন… দেখে নিব…

  10. আপনার লেখা পুরোপুরি বুঝতে
    আপনার লেখা পুরোপুরি বুঝতে পারি নি। আসলে আপনি কি বুঝাতে চেয়েছেন বিষয়টা পরিষ্কার না। লেখার শেষে আস্তিকতা নাস্তিকতা প্রসঙ্গ কেন টানলেন সেটাও বুঝলাম না।

    1. এই প্রসঙ্গ টানতে হয়েছিল কেননা
      এই প্রসঙ্গ টানতে হয়েছিল কেননা এই পোস্ট লেখার আগেও এ সম্পর্কে কিছু মন্তব্য প্রতি মন্তব্য দেওয়া হয়েছিল যেগুলোতে আমার অবস্থান সুবিধাবাদী হিসেবে চিহ্নিত ছিল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *