হামিদের টেইলরিং


হামিদ একজন দর্জি। দেশের সেরা দর্জি। পল্টনে তাঁর বিশাল দোকান। দোকানের নাম পারমানেন্ট টেইলরিং। দোকানের পিছনে থাকার ঘর। সেখানেই রাতদিন পরে থাকে সে। গুণগুণ করে গান গায় আর কাপড় কাটে।

হামিদের অতীত খুব বিচিত্র। তিন বছর আগের কথা, তাঁর প্রণয় ছিল এক মেয়ের সাথে। মেয়ের নাম রূপা। সে আদর করে ডাকতো রূপবতী রূপা। অতি আদরের জিনিস কখনো থাকে না। কিন্ত তাই বলে রূপবতী রূপাকে যখন হামিদ তাঁর বাল্যবন্ধুর সাথে এক বিছানায় আবিষ্কার করে, তাঁর জ্ঞানবুদ্ধি লোপ পেতে দেরী লাগে না।



হামিদ একজন দর্জি। দেশের সেরা দর্জি। পল্টনে তাঁর বিশাল দোকান। দোকানের নাম পারমানেন্ট টেইলরিং। দোকানের পিছনে থাকার ঘর। সেখানেই রাতদিন পরে থাকে সে। গুণগুণ করে গান গায় আর কাপড় কাটে।

হামিদের অতীত খুব বিচিত্র। তিন বছর আগের কথা, তাঁর প্রণয় ছিল এক মেয়ের সাথে। মেয়ের নাম রূপা। সে আদর করে ডাকতো রূপবতী রূপা। অতি আদরের জিনিস কখনো থাকে না। কিন্ত তাই বলে রূপবতী রূপাকে যখন হামিদ তাঁর বাল্যবন্ধুর সাথে এক বিছানায় আবিষ্কার করে, তাঁর জ্ঞানবুদ্ধি লোপ পেতে দেরী লাগে না।

পরদিন রূপা দর্জির দোকানে যাবার পথে হামিদ দাঁড়ায়। ঠিক দোকানের পাশ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। পাশে এক পরিত্যক্ত বিল্ডিঙে নিয়ে চুমু খাবার ছলে তাঁর দুহাত পেছনে ঠেলে দেয়। এরপর একহাতে কোমরে গুঁজে রাখা ছোরা বের করে সোজা চালিয়ে দেয় রূপার গলায়। রক্ত দেখে উল্লাসে ফেটে পড়ে হামিদ, “হা হা হা হা”।

দর্জির দোকানে ঢুকে চুরি করে একটা কাচি। পরিত্যক্ত দালানে ফিরে এসে কাটতে থাকে রূপার শরীরের বিভিন্ন অংশ। প্রথমে কাটে তাঁর চুল। এরপর কানদুটো। আস্তে আস্তে তাঁর আঙ্গুল, স্তনবোটা কিছুই বাদ যায় না। অনেক কষ্ট হয়েছিল। কিন্ত কাজ শেষে নিজের কাজে নিজেই চমৎকৃত হয় হামিদ। রূপবতী রূপার সব রূপ আজ সে গায়েব করে দিয়েছে।

গাড়ি করে লাশটা গাজীপুরের জঙ্গলে পুঁতে এসে তাঁর রুমে ট্রফি করে সাজিয়ে রাখে সে রূপার অঙ্গগুলো। সেগুলো দেখতে দেখতে আস্তে আস্তে জন্ম নেয় তাঁর তীব্র বিষাদ, আর জঘণ্য এক চিন্তা।

এরপরের কাহিনী সীমিত। মাঝে মাঝেই গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত সে দর্জির দোকানের পাশে। যেই মেয়েই আসতো, ক্লোরোফরম দিয়ে তাকে বেহুশ করে খুন করত সে। এরপর চলত তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাটার সেই বীভৎস খেলা।

কিন্ত বিধি-বাম, লাশ পুততে গিয়েই একদিন ধরা পরে হামিদ। জঙ্গলের বিভিন্ন জায়গা খুঁড়ে পঁচিশটি লাশ পায় পুলিশ। কিন্ত ভাগ্য আবার সহায় হয়, তাকে “মানসিক বিকারগ্রস্থ” আখ্যা দিয়ে ফাঁসি মওকুফ করে দেয় আদালত। সেই থেকে মানসিক ডাক্তারখানায়। অনেক ডাক্তারের হাত ঘুরে চৈতি নামে একজন ইন্টারনির হাতে এসে পড়ে সে। সেই ইন্টারনি তাঁর হাতে তুলে দেন কাপড় আর কাচি।

শেষ ছমাস হামিদ কাপড় আর কাচিতে যাদু দেখিয়েছে। নিপুণ হাতে সে জামা-কাপড়, স্যুট-প্যান্ট বানায়। হসপিটাল থেকে ছেড়ে দিলেও তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে চৈতি। মানসিক রোগমুক্ত সারটিফিকেট দিলেও মাসে তিনবার এসে দেখে যায় তাকে। আজ সে আসবে আবার। আজই শেষ দিন।
– কেমন আছেন হামিদ?
গুণগুণ গান ছেড়ে দিয়ে চমকে তাকায় হামিদ, চৈতি এসেছে।
– ভালো আপা, বসুন, বসুন।
তাকে বসিয়ে তাঁর দিকে একটা জামা এগিয়ে দেয়। অসাধারণ নিখুত জামা। হামিদের নিজ হাতে বানানো।
– থ্যাঙ্কস।
– থ্যাঙ্কস দেবেন না। আপনার জন্যে আমি নতুন জীবন পেয়েছি। আপনার সাথেই সারাজীবন কাটাতে চাই।
বজ্রাহতের মত তাঁর দিকে তাকায় চৈতি-
– আ-আমি একজনকে ভালোবাসি। তাঁর নাম মৃদুল।

বজ্রাহত হয় হামিদও। কিছুই বলে না। শুধু কাচিটা তুলে নেয়, বরাবর গলায় বসিয়ে দেয় চৈতির। এরপর পেছনের রুমে নিয়ে গিয়ে কাটতে থাকে তাঁর চুল, কান…

আজকাল হামিদের দোকানে মানুষের আনাগোনা আরও বাড়ছে। ছেলেদের পোশাক বড় ভালো বানায় সে। কিন্ত মেয়েদের দেখা যায় না। অনেকে আবার বলে মেয়েদের যেতে দেখা যায় এই দোকানে। তবে যে মেয়েরা যায় তারা কখন বের হয় কেউ জানে না।
আসলে যে মেয়েরা তাঁর দোকানে ঢোকে, তারা আর ফিরে আসে না। আসে না। তাই দোকানের দিকে তাকালে শুধু হামিদকে দেখা যায় গুণগুণ করে গান গাইতে গাইতে কাপড় কাটছে।

৩১ thoughts on “হামিদের টেইলরিং

  1. এই পোস্ট এর ছবিটি অতি সত্বর
    এই পোস্ট এর ছবিটি অতি সত্বর সরিয়ে ফেলার জন্য ইষ্টিশন মাস্টার কে অনুরোধ জানাচ্ছি । আর এর একাউন্ত ব্যান করার জোর দাবী জানাচ্ছি । একটা লিমিট থাকা উচিৎ । কোত্থেকে যে আসে এইসব সাইকো !!!

    1. ধন্যবাদ নিষিদ্ধ বচন ভাইকে
      ধন্যবাদ নিষিদ্ধ বচন ভাইকে ছবিটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য ।
      আর আমার উপরের কমেন্টটা এডিট করার অপশন বুঝতে পারছিনা বলে সম্পাদনা করা গেলনা । 😀 :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা:

  2. অদ্ভুত এবং আজগুবি একটা
    অদ্ভুত এবং আজগুবি একটা গল্প।তবে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত রহস্যঘেরা হওয়ায় পড়তে মন্দ লাগেনি ।

  3. এটা কিছুই হয় নাই । আরও সময়
    এটা কিছুই হয় নাই । আরও সময় দিয়া লেখেন । গল্পের প্লট টা ভাল ছিল । ইংলিশ গল্প অনুবাদ না করলেই হয় । :পার্টি:

    1. ভাই গল্প অনুবাদ করি নাই। তবে
      ভাই গল্প অনুবাদ করি নাই। তবে স্বীকার করব লেখার সময় মাথায় সোয়েনি দা টড এর কথা ছিল। যদি এরপর পারফিউম বা ডেক্সটারের সাথে মিল পান। তবুও কিছু কমু না। কারণ এগুলা সিরিয়াল কিলারদের নিয়াই লেখা। বাট তাঁর বাদে আর কিছু না। দয়া কইরা কপি পেস্ট মারসি এই টাইপ কথা আর কইয়েন না। মিসা কথা ভালো লাগে না।
      😀 😀 😀

  4. The Texas Chainsaw Massacre
    The Texas Chainsaw Massacre (2003)— এই মুভিটার কথা মনে পড়ে গেল! ওইটা কিন্তু রিয়াল এক সাইকো সিরিয়াল কিলারের বাস্তব জীবন কাহিনীর চলচ্চিত্র। এমন হরর কাহিনী সিনেমায় কাটতি বেশী। এইটা কি কোন মুভির গল্প অবলম্বনে লিখা?
    যা হোক… হরর- ভাইয়োলেন্স টাইপ সিনেমার গল্প ভাবলেই জমজমাটই লাগছে!
    আমাদের দেশে এমন চলচ্চিত্র বানানোর কেউ থাকলে তার কাছে পাঠানোর পরামর্শ দিতাম… 😉

    1. এইটা মুভির অবলম্বনে না। মাথায়
      এইটা মুভির অবলম্বনে না। মাথায় কোনটার কথা ছিল উপরে বলসি তারেক ভাই। আর টেক্সাস ম্যাসাকার দেখা হয় নাই। দেখার ইচ্ছা কিছুটা আছে। আসলে ব্যক্তিগত ভাবে আমি সাইকো মুভি অপছন্দ করি। তবে পড়তে ভালোই লাগে। এইটা আমার নিজের লেখা প্রথম সাইকো গল্প।
      😀 😀

      1. তারেক না লিংকন… আর পুরা নাম
        তারেক না লিংকন... আর পুরা নাম তারিক লিংকন
        :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :দেখুমনা: :দেখুমনা: :দেখুমনা: :দেখুমনা: :দেখুমনা:

  5. বেটা মনে হয় মদখোর আছিলো তায়
    বেটা মনে হয় মদখোর আছিলো তায় যেদিন মদ খেতে পারতোনা সেইদিন বলে মাইয়া মানষের জীবন নিয়ে খেলতো ।। একটা গান আছে না ভাই

    পিয়েঙ্গা নেহি তো সালে ভেজা হোগা সায়কো রে

    পোলাটা আসলেই সেই কিসিমের …… 😀

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *