ও ঝরা পাতা , তোমার সাথে আমার রাত পোহানোর কথা গো


অতি চাপা স্বভাবের মানুষ আলমগীর। কাউকে মুখফুটে কিছুই বলতে চায় না। যা ঘটে তা সবসময় তাঁর মনের ভেতরে থাকে। একারণে এখন পর্যন্ত “প্রেম” নামে কোন জিনিস জীবনে আসেনি তাঁর। তাই পরিবারের লোকজন সিদ্ধান্ত নিল, এবার দেখেশুনে তাকে ফরজ কাজ করিয়ে দিতে হবে।



অতি চাপা স্বভাবের মানুষ আলমগীর। কাউকে মুখফুটে কিছুই বলতে চায় না। যা ঘটে তা সবসময় তাঁর মনের ভেতরে থাকে। একারণে এখন পর্যন্ত “প্রেম” নামে কোন জিনিস জীবনে আসেনি তাঁর। তাই পরিবারের লোকজন সিদ্ধান্ত নিল, এবার দেখেশুনে তাকে ফরজ কাজ করিয়ে দিতে হবে।

অতি ধুমধামের সাথে মেয়ে দেখা হল। মেয়ের নাম চুমকি। গ্রামের মেয়ে। ঢাকায় এসেছে পড়াশুনা করতে। আলমগীরের সামনে যখন আনা হল, জুবুথুবু হয়ে বসেছিল। দেখে লাজুক আলমগীর নিজে…ই লজ্জা পেয়ে যায়। মেয়ে তো কোন কথাই বলে না। দুজনকে এক কামরায় রাখা হল, কেউ কথা বলে না। মেয়েটা আলমগীরের দিকে তাকালো পর্যন্ত না।

কিছুক্ষণ পর আলমগীর তাঁর ঘটক ফুপাকে বলতে শুনলেন,
” জামান সাহেব, মেয়েকে আমাদের খুব পছন্দ হয়েছে। আজ রাতেই কাবিন করে ফেলি, আসেন।”

দু’ঘন্টা পর আলমগীর আবিষ্কার করল, সে বিবাহিত। তাঁর ঘরে ফুলের বিছানায় একটা লাল বেনারসি শাড়ি পরা পুতুল বসে আছে। আলমগীর সেই পুতুলের পাশে গিয়ে বসে। ইতস্তত করতে থাকে।

হঠাৎ আলমগীর শোনে মৃদু হাসির শব্দ। হাসিতে যেন কিছু কাঁচের চুড়ি ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ছে। বিস্ময়ে আলমগীর তাকায় সেই পুতুলের দিকে। ঘোমটা সরিয়ে চুমকী তাকে দেখছে। আহা ! কি সুন্দর চোখ। টলটলে নদীর মতন। কৃষ্ণগঙ্গার জল যেন আলমগীরের বুকে ঢেউ হয়ে ধাক্কা দেয়।

– আপনি আলমগীর?
– জ্বী।
– আমার স্বামী?
– জ্বী।
– সিগারেট খান?
– জ্বী খাই।
– ম্যাচটা দেন।

হতবিহ্বল আলমগীর প্যান্টের পকেট থেকে লাইটার বের করে এগিয়ে দেয়। চুমকী শাড়ির খুট থেকে একটা সিগারেট বের করে ধরায়। একটা টান দেয়ামাত্র কাশতে থাকে, “খুক খুক খুক”। হাসতে হাসতে সিগারেট এগিয়ে দেয় আলমগীরকে। সেই কাঁচের চুড়ি ভাঙ্গা হাসি।

সিগারেটে টান দেয় আলমগীর। শেষ করার সাথে সাথে আবিষ্কার করে তাঁর ঠোঁটে আরেকটা ঠোটের স্পর্শ। এরপর দুটি শরীরের মিলনে কিভাবে যে রাত কেটে গেল, সে জানে না।

সকালে উঠে যে দৃশ্য আবিষ্কার করে আলমগীর, তা অনভিপ্রেত নিঃসন্দেহে। তাঁর চোখের সামনে ফ্যানের খুটি থেকে ঝুলছে চুমকি। লাল বেনারসি শাড়িটা তাঁর গলায়। আলমগীরের পাশে একটা চিঠিঃ
“আমি একজনকে ভালোবাসতাম। আপনি খুব ভালো মানুষ। আপনাকে দুঃখ দিয়ে যাচ্ছি, আমি মরেও শান্তি পাব না। এক রাত কাটিয়ে বুঝলাম, দেহের মিলনে রাত কাটানো যায়, মনের মিলন না হলে ঘর করা যায় না। আমাকে মাপ করে দিয়েন।”

চুমকীকে তাঁর নিজ বাড়ির পাশে কবর দেয় আলমগীর। কবর দেয়া পর্যন্ত একটি কথাও বলে না আলমগীর। শুধু কবর দেয়ার পর তাঁর উপর একটা গোলাপ গাছের চারা লাগিয়ে যায়। প্রতিদিন তাতে পানি দেয়, আর বিড়বিড় করে কি যেন বলে। প্রতিবছর চুমকীর মারা যাবার দিন, চুমকীর ভালোবাসার মানুষ মিলন আসে। তাঁর সাথে অনেকক্ষণ বসে গল্প করে মুখচোরা আলমগীর।
শেষবার মিলন জিজ্ঞেস করেছিল,
” ভাই, মৃত মানুষকে মনে করে আর কত কষ্ট পাবেন?”
আলমগীর জবাব দিয়েছিল,
” ভাই, তাঁর জীবনে আমি হয়তো প্রেম ছিলাম না, কিন্ত আমার জীবনের প্রথম আর শেষ, একমাত্র প্রেম ছিল সে, সে আমার চুমকী।”

২০ thoughts on “ও ঝরা পাতা , তোমার সাথে আমার রাত পোহানোর কথা গো

  1. দুর্দান্ত !!!
    চিনচিনে ব্যাথা

    দুর্দান্ত !!!
    চিনচিনে ব্যাথা হচ্ছে বুকে ।

    দেহের মিলনে রাত কাটানো যায়, মনের মিলন না হলে ঘর করা যায় না।

    —– কী চরম সত্য উচ্চারণ !

    তাঁর জীবনে আমি হয়তো প্রেম ছিলাম না, কিন্ত আমার জীবনের প্রথম আর শেষ, একমাত্র প্রেম ছিল সে, সে আমার চুমকী।”

    —- আলমগীরের অবিনশ্বর প্রেম অমর হয়ে থাক । খুব ভালো গল্প লিখেছেন ভাই ।

  2. ছোট্ট, সুন্দর, পরিমিত লেখা।
    ছোট্ট, সুন্দর, পরিমিত লেখা। এর চেয়ে বড় হলে ভালো লাগাটা থাকতো না। তবে আত্নহত্যার ঘটনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। ধাক্কা মত খেয়েছি, প্রায় পড়েই যাচ্ছিলাম। গল্পের নামটাও খুব সুন্দর হয়েছে। ভালো থাকুন।

  3. অনবদ্য… একটা সরল গল্পের
    অনবদ্য… একটা সরল গল্পের চমকপ্রদ উপস্থাপন…
    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: আপনি যে কেনইবা রাশি লিখতে বসেন আমি ভেবে মিলাতে পারি না! আমি আসলে আমার খুব নিকট এক আত্মীয়কে এই জ্যোতিষদের খপ্পরে পরে প্রায় নিঃস্ব হতে দেখেছি… তাই আপনার এমন অপবৈজ্ঞানিক জ্যোতিষ চর্চার তীব্র নিন্দা করি, আর যখন আপনার আপনার আদর্শিক বিশ্বাস বা অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারি তখন খুবই শঙ্কিত আর ভীতবোধ করি… কিছু মনে করবেন না!! ভাল থাকবেন…
    আপনার গল্পের হাতই চমৎকার, হাত দেখার গল্প নয়!!!

    1. হুম ভাল বলেছেন
      তবে রাশিফল

      হুম ভাল বলেছেন
      তবে রাশিফল গুলো যে লিখে লেখক হিসেবে কিন্তু সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলে তা বলতেই হবে

    2. আপনার গল্পের হাতই চমৎকার, হাত

      আপনার গল্পের হাতই চমৎকার, হাত দেখার গল্প নয়!!!

      —- এইটাও বলছেন দুর্দান্ত !!! :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *