জীবনের গল্প

“তাকে প্রথম দেখি স্কুলের টেস্ট পরীক্ষার সময়। প্রথম দেখাতেই প্রেম বলে কিছু একটা যে আছে তা আমি বিশ্বাস করতাম কিন্তু এটাকে কি তাই বলা যাবে কিনা তা জানি না। মনে হয় বলা যাবে। তারপর এক বন্ধুর মাধ্যমে তার ফোননাম্বারটা পেলাম। কখন কল দিতাম না। মাঝে মাঝে দুয়েকটা খালি মেসেজ পাথাতাম।তবে একদিন আসলে বুঝতে পারলাম মেয়েটিকে আমি ভালবাসতে শুরু করেছি কিন্তু সত্যি কথা বলতে কি ভালবাসা ব্যাপারটা কি আমি জানি না। তারপর আরেকটি নাম্বার থেকে সাহসের সাথে তাকে কল করলাম। এত সুন্দর কণ্ঠ আমি কোথাও শুনি নাই। তো তার সাথে কথা হতো প্রায় রাতেই। অনেক কথা হতো। অবশ্য কখনই আমার ভালবাসার কথাটি বলা হয় নাই। একরাতের কথা, সে আমাকে বলছে,”আচ্ছা তুমি নীলকে চিনো?” আমি বল্লাম,”কেন চিনবো না, ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।” মেয়েটি বলল,” ওর কি কারো সাথে সম্পর্ক আছে?” আমি বললাম,” নাহ, ওর এই টাইপ কোন ব্যাপারে নেই। খুব ভালো ছেলে।” তারপর সে নীলের নাম্বার চায়, আমি দেই। ও আচ্ছা, মেয়েটির নাম তো বলাই হল না। ওর নাম ছিল লাবণ্য। সেদিনের পর থেকে ওর সাথে আমার সম্পরকটা বেশ ভালো হতে লাগলো। অনেকটা ফ্রেন্ডশীপের মতো। নীল এসব ব্যাপারে কিছু জানত না। শুধু জানত যে আমাদের কথা হয়। কিন্তু আমি যে ওকে পছন্দ করি তা জানত না। না জানাটাই স্বাভাবিক। আমি এমনেতেই অনেক অন্তর্মুখী ছেলের মত।সহজে কাউকে কিছু বলতাম না। তবে একদিন লাবণ্যর সাথে কথা বলতে বলতে বুঝতে পারলাম ও নীলকে মারাত্মক ভাবে পছন্দ করে এবং ও সাহায্য চাইলো আমার কাছে যাতে আমি নীলকে রাজি করাই। আমি সেদিন থেকে বুঝে গিয়েছিলাম ও আমার হবে না। আমি ভালো বন্ধুর ন্যায় নীলকে একসময় রাজি করালাম। ততদিনে আমরা কলেজের শেষ পর্যায়ে এসে পরেছি। সামনে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা। তারপর লাবণ্যর সাথে আর যোগাযোগ ছিল না। নীল স্কলারশীপ নিয়ে বিদেশে চলে যায়, শুনেছিলাম লাবণ্যও নাকি ওর সাথে ছিল। আমি আমার মতো করে থাকতে শুরু করি। কোনদিন কবিতা লিখতাম না,সেই আমি কবিতাও লেখা শুরু করি।
সেদিন জানতে পেলাম নীল আর লাবণ্যর বিয়ে। আমাকে ইনভাইট করা হইছে।”
.
.
.
.
.
.
.
-এই নীল, দেখোতো কে এসেছে?
-যাচ্ছি।
-কে এসেছে?
-লাবণ্য, ডাকপিয়ন।
-ডাকপিয়ন?
-হম।

ডাকপিয়ন বলে,” স্যার আপনি কি নীল মজুমদার?”
-জী।
-এই নিন আপনার চিঠি আর এই ডাইরীটা।
-ধন্যবাদ।

টাকা দিয়ে ডাকপিয়নকে বিদায় করলাম।
.
.
.
.
.
.
.
স্পর্শ ডাইরীটি রেখে দেয় বিছানার পাশে। নাহ তার বাবাকে দোষ দেবার কিছু নেই। আতিক চাচা কেন বলে নাই তখন?
বাবার উদ্দেশে সে বলে,”বাবা তুমি অপরাধী নও। আমরা কেউই দোষী নই। সব এই জীবনের খেলা। আমরা একেকটি খেলার অভিনেতা।ভালো থেকো,যেখানেই আছো।”

৬ thoughts on “জীবনের গল্প

  1. প্রথমদিকে ভালোই লাগছিল কিন্তু
    প্রথমদিকে ভালোই লাগছিল কিন্তু ২য় অংশে এসে খেই হারা খেই হারা মনে হয়েছে!

  2. নীল – লাবণ্য ‘র বিয়ে পর্যন্ত
    নীল – লাবণ্য ‘র বিয়ে পর্যন্ত লেখার সুর – তাল – লয় ঠিক ছিল । তারপর কেমন যেন ক্লিশে হয়ে গেল । মানে বুঝলাম না । বিষয়টা একটু বলবেন ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *