হিজড়া কোটা সুবিধা আদায়

সেদিনের সকালটা স্বাভাবিক সকালের মতই একটা রোদ্র স্নাত সকাল ছিলো, ছিল না রোদদ্রের প্রতাপ এর বাড়াবাড়ি,সকালের নাস্তা সময় মত খাওয়ার জন্য মার জোরাজোরি কিংবা অফিস এর বাস ধরার জন্য হুরাহুরি।সব কিছুর মধ্যেই একটা ঢিলেমি ভাব ছিলো।কারণ সেদিনের দিনটা সাপ্তাহিক ৫দিনের কাজের মধ্যে ছিল না,ছিলো অবসরের দিন,শনিবার।আমাদের ৬ ভাই বোনের বিশাল একান্নবর্তী পরিবারের একমাত্র মুরব্বীর (আমার বড় ভাই র ৬মাসের বেবি )নানা বাড়ি যাওয়ার দিন।সকাল বেলায় ভাবি গোছগাছ শুরু করে দিলেন।মুরব্বির কাথা ,খেলনা ,ফিডার ,জামা কাপড় ,প্যামপার,ইত্যাদি সব গোছাতে গোছাতে কখন যে বেলা গড়িয়ে গেলো বুঝতেই পারিনি।বেলা তখন আনুমানিক ৪ টা কি সাড়ে ৪ টা,সময় টা বিকেল ও না আবার ভর দুপুর ও বলা যাবে না,বিকেল ছুই ছুই কিংবা পড়ন্ত দুপুরের এমনি এক সময়ে আমরা সবাই দুপুরের পেটপূজা সেরে সবে ভাবি কে বিদায় দিয়ে বিছানায় গা টা এলিয়া দিয়েছি।এমন সময় শুনতে পেলাম নিচে কলাপসিবল গেট ধরে কে বা করা যেন চিত্কার চেচামেচি করছে।বলে রাখা ভালো আমাদের বাসাটা রাস্তার ধারে হওয়ার কারণে বারান্দা দিয়ে মোটামোটি সব কিছুই দেখা যায়। বাসায় তখন আমি মা আর আমার এক বোন,আমরা তিন জনা বারান্দায় যেয়ে যা দেখলাম তাতে বুঝলাম এই জীবনে যে সুমিষ্ট স্বাদ অপূর্ণ ছিল তা পূরণ হতে চলেছে ……….
দেখলাম অতীকায় হস্তী (প্রায় ছয় ফুট লম্বা ) অনিন্দ্য চার সুন্দরী কলাপসিবল গেট ধরে টানাটানি করছে আর আমাদের বৃদ্ধ তেলাপোকা আকৃতির দারওয়ান কে অশ্রাব্য ভাষায় বলছে ……..
ওই বুইরা দারওয়ান তর হাড্ডিতো এমনেই পাইক্কা গেছে,গেট টা শুধু খোল,তোর ওই পাকনা হাড্ডিতে কত তেজ আছে আজকে দেইক্কা লমু ……………………
বুইরার ঘরে বুইরা,ফেলফেলাআইয়া কি দেহছ …….
সুন্দরী মায়া মানুষ দেখলে এখনো তোর পাপড়ি পরে না,শালার বুইরা তরে আর কষ্ট কইরা গেট খুলতে হইব না ,আজকে গেট ভাঙ্গাই হালামু ……….
সুন্দরীরা আর একটু হলে গেট ভেঙ্গেই ফেলতো এমন এক মুহর্তে আমাদের বুড়ো দারওয়ান তার আসন্ন বিপদ বুঝতে পেরে কলাপসিবল দরজা খুলে ভো দৌড় দেয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে অতিকায় হস্তিদের একজন ওর হাত ধরে ফেললো …..
কোথায় যাও সোনার বুইরা আমার,
আমি এইখানে থাকতে তুমি পালাও কই …….
বুড়ার কন্ঠ স্বর আমরা তেমন কিছু শুনতে না পেলেও মাঝে মাঝে শুনতে পেলাম …..
আমি কি করমু ,আমি হেনে চাকরি করি ,আমারে ছাইরা দেন ……
শালার বুইরা তরে ধরছি কি ছারনের লইগ্গা …..
লুঙ্গি খোল ,আবার কথা কছ ,লুঙ্গি খুইলা কান ধইরা উঠবস কর …..
উপর থেকে পষ্ট দেখতে পেলাম দারওয়ান বেচারী ওর চিমচিমা পা দিয়া উঠবস করেই যাছে …..
এরই ফাকে এদেরই একজন দলনেতা গোছের কাও কে বলতে শুনলাম ,ওই চল উপরে চল,
হেনে এত সময় নষ্ট করার টাইম নাই।
পাঠক ঘটনার সবে শুরু ,বাস্তব কাহিনীর নায়িকারা এবার আমাদের দরজায় করা নাড়ছে …….
একই ঘটনার পুনরাবৃতি ……
শুধু দারওয়ানের জায়গায় আমরা আর কলাপসিবল গেট এর জায়গায় আমাদের সেগুন গাছের কাঠের দরজা।এবারও যথারীতি পালোয়ানেরা দরজা প্রায় ভেঙ্গেই ফেলছিলো এমন সময় দারওয়ানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন আমার সহজ সরল দুর্বল শীর্ণকায় মা।দরজা খোলা মাত্র হুরহুড়িয়ে ওরা বাসায় ঢুকে পড়লো। এদেরই একজন নেতা গোছের আমার কাছে এগিয়া এসে বললো …..
শোন বইন তুমিও বইন আমিও বইন …….
তোমাগো বাসায় যে একটা বাচ্চা আছে হেরে লয়া আহ,আমরা একটু আদর সোহাগ করমু ……
বাচ্চা তো বাসায় নাই …
নাই মানে ,বারান্দায় তাইলে কাথা আইলো কোথা থিকা ,হাওয়াই হাওয়াই উইরা উইরা …..
যাও বইনে ,কথা বাড়াও না ,বাচ্চা লয়া আহ ….
থাক তোমাগো আর কষ্ট করতে হইব না ,আমি খুইজ্জা লয়া আইতাছি …..
এরই মধ্যে সারা বাড়ি ওরা তন্ন তন্ন করে ডিবি পুলিশের মতো সার্চ করলো, কিন্তু কথাও আমাদের মুরব্বি কে খুঁজে না পেয়ে
হতাস কন্ঠে বললো ……বইনেরা বাচ্চা কোথায় লুকাইছ ?
বললামতো বাচ্চা বাসায় নাই ,ওর নানা বাড়ি গিয়েছে ……..
কোথায় যেন বলতে শুনেছি ঝামেলা যখন আসে তখন গাট বেধেই আসে ….
এবার এই চার জন আমাদের সদর দরজায় সারিবদ্ধ ভাবে বসে পড়ল আর নেতা গোছের জন হুকুম করলো …….
যাও বইনে ঘরে চাইল ডাইল আর আলু থাকলে লয়া আহ গা ……
ভাবলাম এখন বুঝি এই উটকো ঝামেলা থেকে মুক্তি আসন্ন তাই দেরী না করে রান্না ঘরে যতো চাল ডাল,আলু আছে সব এনে দিলাম ……
কথায় আছে যে যায় লংকায় সেই হয় রাবন।
প্রকৃতি গত ভাবে এরা বিশেষ বৈশিষ্ঠের কারণে মানুষ ক যে কত ভাবে নাজেহাল করে তার সবচে বড় উদাহরণ আমি নিজেই।
দলনেতা গোছের একজন এবার ঘোসনা দিলো ৩০,০০০ টাকা না দিলে তারা এখানেই বসে থাকবে।
সিম্পেথি যা ছিলো ওদের জন্য এবার সেটা ক্রোধে পরিনত হলো।
পষ্ট ভাষায় আমিও জানিয়ে দিলাম,এর পর পুলিশ ডাকতে বাধ্য হব।
তাতে যেন ওরা দিগুন মজা পেয়ে গেলো,একজন আর একজন কে গুতা দিয়ে বলছে ,ওই শুনছস বইনে তরে পুলিশের ভয় দেহায় …..হি হি হি হি হি
বিরক্তে যখন গা রি রি করছিল ঠিক তখনি আমার মা কথা থেকে যেন ৫০০০টাকা ওদের হাতে তুলে দিতে চাইলো।
টাকা নেয়া তো দুরে থাক এমনি অশ্রাব্য ভাসায় গালি গালাজ করতে লাগলো যেগুলো লিখে প্রকাশ করা যাবে না ,যদিবা যায় ও আমি লিখবো না কারণ আর যাই হোক নিজে কে চটি লেখক হিসেবে প্রকাশ করার বিন্দু পরিমান খায়েশ আমার নেই।
যাই হোক ঘটনা চলতে থাকলো রাত্রি ৮টা পর্যন্ত এবং শেষ পর্যন্ত সেটা ২০,০০০টাকায় দফা রফা হযেছিল।
সেইদিনের পর থেকে হিজরা দের প্রতি একটা বিছরি বিরক্তি আমার মধ্যে কাজ করে।
মানছি তারা খুবই অসহায় তারপরও এটাও মনে হয় …….পেশী শক্তির বলে হোক কিংবা বিশেষ লিঙ্গের বলে হোক যেভাবে ওরা মানুষকে হেস্ত নেস্ত করে চাদা আদায় করছে ঠিক সেভাবেই দলবদ্ধ হয়ে সরকারের কাছ থেকে তারা বিশেষ সুবিধা আদায় করে নিতে পারে।হতে পারে সেটা শিক্ষা কিংবা চাকুরীর ক্ষেত্রে।যেমনটা আদায় করছে উন্নত বিশ্বের মানুষ …….
জানি না সেদিন কতো দূরে তবুও আশা করছি সেই দিন হয়তো আর বেশি দুরে নয় যেইদিন সরকার হিজরাদের জন্য বিশেষ কোটার ঘোসনা দিবে ……

৩৩ thoughts on “হিজড়া কোটা সুবিধা আদায়

  1. পেশী শক্তির বলে হোক কিংবা

    পেশী শক্তির বলে হোক কিংবা বিশেষ লিঙ্গের বলে হোক যেভাবে ওরা মানুষকে হেস্ত নেস্ত করে চাদা আদায় করছে ঠিক সেভাবেই দলবদ্ধ হয়ে সরকারের কাছ থেকে তারা বিশেষ সুবিধা আদায় করে নিতে পারে।

    সরকারের কাছ থেকে কোটা সুবিধা আদায়ের চেয়ে চাঁদা আদায়কেই উত্তম পন্থা বলে বিবেচিত হয় বলেই মনে হয়। এছাড়া প্রচুর ভুয়া হিজড়া আছে, যাদের কারনে প্রকৃত হিজরারা মানুষের কাছে বিরক্তির কারন হিসেবে বিবেচিত হয়। হিজরাগিরিও এখন একটা ব্যবসা। :মাথাঠুকি:

  2. চাদা আদায় করে জীবন ধারণ কোনো
    চাদা আদায় করে জীবন ধারণ কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।এই ধারণা টা যেমন বদলাতে হবে তেমনি স্বাভাবিক মানুষের মতো জীবন ধারনেও এদের কে উতসাহী করতে হবে।তার চেও বড় কথা ওদের নিয়ে কেউ ভাবে না।ওদের নিয়ে ভাবনা উদ্রেক করার জন্য কলকাঠিটা নারানো ও প্রয়োজন.

    1. সাধারণ মানুষের মতো জীবন ধারণ
      সাধারণ মানুষের মতো জীবন ধারণ করতে চাইলেই কি ওরা তা পারে ? এই সমাজ ওদের সেই চোখে দেখে ?

      1. সাধারণ মানুস যাতে ওদের সাধারণ
        সাধারণ মানুস যাতে ওদের সাধারণ ভাবে গ্রহণ করতে পারে এবং এই সমাজ যাতে ওদের কে আট দশ জন সাভাবিক মানুসের মত দেখে সেজন্য ওদের যেমন ট্রাডিশনাল জীবনযাপন থেকে বেরিয়ে আসতে হবে ,তেমনি আমাদেরকেও ওদের জন্য বেরিয়ে আসার পথ টা খুলে দিতে হবে।উন্নীয়নশীল,উন্নত প্রায় সব দেশেই ওদের কে বিশেষ সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়,তাহলে আমরা কেন পারছি না ওদের কে সাধারণ সুবিধাটা ও দিতে .

  3. ওরা খুবই বেপরোয়া ।আমি একবার
    ওরা খুবই বেপরোয়া ।আমি একবার এদের খপ্পরে পড়েছিলাম! বাপরে বাপ!কোন রকম মান নিয়ে ফিরেছি।

    মানবতার খাতিরে আমার অবস্থান সবসময়ই হিজড়াদের পক্ষে ছিল এবং এখন ও আছে।কিন্তু ঐ দিনের পর থেকে একটা বিষয়ে কিছুটা দ্বিধান্বিত আছি এই ভেবে যে, যাদের কাছে মানবতার কোন দাম কিংবা লেশমাত্র চিহ্ন নেই তাদের প্রতি মানবতা দেখানো আসলেই কতটা প্রযোজ্য হতে পারে?

    1. আপনার মন্তব্য টা আমার মনের
      আপনার মন্তব্য টা আমার মনের কথারই সামিল মাত্র।সেই অভিজ্ঞতার পর থেকে ওদের প্রতি আমার বিরক্তি টা এখন চরমে উঠেছে, বাকি জীবনেও সেটা কাটিয়ে উঠতে পারব কিনা জানি না।সবচে আশ্চর্যের বিষয় এরা বয়স্ক মানুষ কেও ছাড় দেয় না এদের নাজেহাল থেকে।

    1. ….এ পর্যন্ত যতো জনার হিজড়া
      ….এ পর্যন্ত যতো জনার হিজড়া অভিজ্ঞতা হযেছে তাদের কারোরই অভিজ্ঞতা সুখকর নয়।সুতরাং এই পরিসংখ্যান থেকে আমরা এই সারমর্মে আসতে পারি -পারিপার্শ্বিক অবস্থানের কারণে হোক কিংবা বাস্তবতার কঠিন যাতা কলে পরে হোক ,ওরা এমনি।

    2. ….এ পর্যন্ত যতো জনার হিজড়া
      ….এ পর্যন্ত যতো জনার হিজড়া অভিজ্ঞতা হযেছে তাদের কারোরই অভিজ্ঞতা সুখকর নয়।সুতরাং এই পরিসংখ্যান থেকে আমরা এই সারমর্মে আসতে পারি -পারিপার্শ্বিক অবস্থানের কারণে হোক কিংবা বাস্তবতার কঠিন যাতা কলে পরে হোক ,ওরা এমনি।

    3. ….এ পর্যন্ত যতো জনার হিজড়া
      ….এ পর্যন্ত যতো জনার হিজড়া অভিজ্ঞতা হযেছে তাদের কারোরই অভিজ্ঞতা সুখকর নয়।সুতরাং এই পরিসংখ্যান থেকে আমরা এই সারমর্মে আসতে পারি -পারিপার্শ্বিক অবস্থানের কারণে হোক কিংবা বাস্তবতার কঠিন যাতা কলে পরে হোক ,ওরা এমনি।

    1. ভেবেছিলাম কিছু গোপন কথা গোপনই
      ভেবেছিলাম কিছু গোপন কথা গোপনই রেখে দিব,সেটা প্রকাশ করব না।এখন মনে হছে শ্লীল হোক কিংবা অশ্লীল হোক সত্যি টা পাঠক কে জানানো জরুরি।টাকার অঙ্ক টা যখন ১০,০০০ ছিল,আর আমরা যখন এই বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে গিয়াছিলাম ঠিক তখনি ওরা একের পর এক কাপড় খুলতে শুরু করে দিয়েছিল।জেনে রাখুন বিশেষ অঙ্গের তখন চলছিল বিশেষ প্রদশনী ,আর এই বিশেষ প্রদশনীর দর্শক শুধু আমরা কজনা ছিলাম না , রাস্তায় বহু দর্শক ও জমা হওয়া গিয়েছিল।জানেন কিনা জানি না,বাঙ্গালীরা মনে হয় টিকেট ছাড়া যে কোনো ধরনের ছবি হাত ছাড়া করতে চায় না।এ ধরনের পরিস্থিতিতে আপনি হলে কি করতেন জানি না ,তবে আমি আর আমার পরিবারের মানসম্মানের চেেয় ২০০০০ টাকা খুবই নগন্য.

  4. টাকার অঙ্কটার জন্য কেমন যেন
    টাকার অঙ্কটার জন্য কেমন যেন খাপ ছড়া লাগছে!
    আমি ও পড়েছিলাম বিপদে।
    এদের মতই বেদে সাপুরে রা রাস্তা আটকিয়ে টাকা আদায় করে

    1. দুরন্ত জয় vaia,উপরের মন্তব্য
      দুরন্ত জয় vaia,উপরের মন্তব্য টা পড়ার পরেও যদি খাপছাড়া লাগে তবে উত্তরার ৬ ন সেক্টরের,১২ নং রোডের শুটিং বাড়িতে গিয়া জিগেস করে আসতে পারেন।কারণ ভুক্ত ভুগি উনারাও ছিলেন।আমাদের বাড়িতে আক্রমনের ৩ কি ৪ দিন পর ওখানেও ওরা ওদের বিশেষ কীর্তি দেখিয়েছিল।।

      1. ও স্থান ভেদে ডিমান্ড বেশি
        ও স্থান ভেদে ডিমান্ড বেশি

        ওরা ওদের বিশেষ কীর্তি দেখিয়েছিল।।

        :হাহাপগে: :দেখুমনা: :দেখুমনা: =))

  5. বিকাল ৪ টা থেকে রাত ৮ টা তার
    বিকাল ৪ টা থেকে রাত ৮ টা তার মানে ৪ ঘণ্টা । সম্ভবত এই সময়ের মধ্যে ঢাকা থেকে মালয়েশিয়া চলে যাওয়া যায় । যাহোক আমার মূল কথা হল, তুমি যেমন বললে পুলিশে ফোন দেবে, সেটা করলে না কেন ? এই সময়ের মধ্যে তোমার আত্মীয় স্বজন দের মাধ্যমে সহযোগিতা নিতে পারতে । আমার বোধগম্য হচ্ছে না যে ৪ ঘণ্টা ধরে নেগসিয়েসন !!!

    হিজড়া সম্প্রদায় কে সামাজিক ভাবে এলিয়েন দেখার দৃষ্টিতে দেখা হয় । আমাদের মানে মানুষের সমাজে বসবাস করেও তারা সমাজের বাইরে । একঘরে । যেন শিখণ্ডী হয়ে জন্মানো তাদের পাপ । কেউ এদের সাথে দুটো কথা বলেনা, ভালো ব্যবহার করেনা । এদের না আছে শিক্ষা না আছে সুস্থ সংস্কৃতির সামান্যতম পাঠ । শিক্ষা – সংস্কৃতির দরোজা ওদের জন্য বন্ধ । আর শিক্ষা, যাদের দু বেলা অন্ন সংস্থান করতে করতে দিন চলে যায় তাদের শিক্ষা, স্বাভাবিক জীবন !

    তোমাকে ও তোমার পরিবার কে যে বিড়ম্বনা এবং ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে সেটি মাথায় রেখেই বলছি একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে পুরো হিজড়া সম্প্রদায় কে বিচার করা ঠিক হবে না ।

  6. রাহাত ভাই,পুলিশদের সাথে এদের
    রাহাত ভাই,পুলিশদের সাথে এদের লেনদেন এর কথা সবাই জানে …..পুরা উত্তরা বাসীদের মধ্যে যাদেরই এই ধরনের অভিজ্ঞতা হযেছে তারা কেউ ই ফোন করে পুলিশ এর সাহায্য পায় নাই।আমরা কি জানতাম নাকি আমাদের সাথে ওরা এতক্ষণ ধরে এমন আচরণ করবে।আর উত্তরা ঢাকার আর এক প্রান্ত চাইলেই কেউ দৌড় মেরে আসতে পারত না।আমরা আমার ভাই কে ফ করেছিলাম শেষ পর্যন্ত ও আসতে পারে নি।তার চেও বড় কথা কি জানেন মানুস যখন বিপদে পরে মানুসের হিতাহিত গেন অর্ধেক লোপ পায়।বিপদ যখন শেষ হয় তখন মনে হয় এটা করা উচিত ছিল ,ওটা করলে ভালো হত ইত্যাদি।
    হিজরা ঘটনা এখন কোনো বিছিন্ন ঘটনা নয়,উত্তরাতে এমন কোনো ফ্লাট নেই যাদের এই অভিজ্ঞতার সৌভাগ্য হয়নি।আপনি যে সমসার কথা বললেন সেগুলুর জন্য ওদের সঙ্গবদ্ধ হওয়া উচিত যেমন টা হচ্ছে ওরা চাদাবাজির জন্য,কিন্তু ওরা সেটা করছে না।

      1. ধন্যবাদ রাহাত ভাই,ছবিটা আমার
        ধন্যবাদ রাহাত ভাই,ছবিটা আমার অনেক আগেই দেখা ছিলো।ছবিটাতে একটা বিষয় উঠে এসেছে মাত্র।সার্বিক বিষয় গুলু এড়িয়ে গেছে।

  7. আসলে অত্যন্ত বাস্তব একটা
    আসলে অত্যন্ত বাস্তব একটা চিত্র তুলে ধরেছেন। শেষের প্রস্তাবনাটাও ভালো লেগেছে… তবে কি- দায়িত্বটাও যে আমাদেরকেই নিতে হবে!
    আমার জানামতে- আফ্রিকায় এখনও কিছু নরখেকো জনগোষ্ঠি আছে! তারা কিন্তু নিজ থেকেই একদিন সভ্য হবে- এমন আশা করা বোকামী। বাস্তবতা হলো- আফ্রিকান সরকার তাদেরকে ধীরে ধীরে সভ্য করার চেষ্টা চালাচ্ছে…

    ২/৩ দিন আগে টিভিতে একটা টক শো দেখলাম- সেখানে একজন হিজড়া প্রতিনিধি, একজন মানবধিকার কর্মী ও একজন সমাজ সেবক উপস্থিত ছিলেন। তাদের আলোচনায় উঠে আসলো- এখনও নাকি অনেক হিজড়াই পড়ালেখা করে চাকরি করছে! তবে তাদের পারসেন্টেজ ১% এরও নিচে! কিন্তু উপযুক্ত পরিবেশ পেলে এই পার্সেন্টেজ হয়তো অনেক বাড়ানো সম্ভব… আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলেই পারি আগামী প্রজন্মতে অন্তত ৭০/৮০ পার্সেন্ট হিজড়াকে স্বাভাবিক জীবন যাপন করার সুযোগ করে দিতে।

    কাজেই চ্যালেঞ্জটা আমাদেরই! আমরা আর কিছু করতে না পারি- অন্তত আমাদের পরিচিত গন্ডীর মধ্যে কোন হিজড়া সন্তান জন্ম গ্রহণ করলে আমরা তার পরিবার-আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীকে বোঝানোর চেষ্টা করতে পারি যে এই শিশুটিরও স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠতে দেয়া দরকার।
    এক সময় শারীরিক বা বুদ্ধি প্রতিবন্দিরাও সমাজে অবহেলিত ছিল। এই আমরাই সেই সমাজকে পরিবর্তন করেছি! এখন অনেক বুদ্ধি/শারীরিক প্রতিবন্দিরাই স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছে…
    আমরা চাইলে সম্পূর্ণ সুস্থ বুদ্ধি এবং (প্রায়) স্বাভাবিক শরীরের অধিকারী এই সম্প্রদায়টিকেও সেই সুযোগ দিতে পারি… শুধু একটু আন্তরিক ইচ্ছা আর সহযোগীতা পেলেই কিন্তু সম্ভব!

    1. চমৎকার বলেছেন সফিক এহসান
      চমৎকার বলেছেন সফিক এহসান !!!
      ধন্যবাদ আপনাকে … এদের কে বাদ দিয়ে ব্যাল্যান্স সমাজ কীভাবে আশা করতে পারি আমরা ।

    2. ধন্যবাদ সফিক এহসান ভাই,আপনার
      ধন্যবাদ সফিক এহসান ভাই,আপনার সাথে সহমত পোষণ করছি।নোমান রবিন কিংবা রাহাত ভাইদের মত চলচ্চিত্রের সাথে যারা জড়িত তারা যদি এই বিষয় গুলুর দিকে একটু বেশি মনোযোগ দেয় তাহলে অর্ধেক কাজ এগিয়ে যাবে।এক্ষেত্রে সরকার কিংবা সংশ্লিষ্ট বেক্তিদের কাছ থেকে সুবিধা আদায়ের বাকি কাজটা ওদের কেই সন্ঘবদ্য হয়ে করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *