বিসিএস কোটা এবং যৌক্তিক-অযৌক্তিক কিছু কথা।

বিষয়টা এমন যে আপনি যদি স্লোগান দিয়ে থাকেন ”মুক্তিযোদ্ধার গালে গালে, জুতা মারো তালে তালে” তাইলে অবশ্যই ”ফকিন্নির পুত” গালিটা আপনার জন্যই বরাদ্দ ছিল। কাজেই অযথা ”ফকিন্নির পুত” কথা টারে ইস্যু বানায়ে ভাল সাজতে চায়েন নাহ। সরকারী নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা সিস্টেম বাতিল করার জন্য আন্দোলন করবেন বুঝলাম ভাল কথা। কিন্তু পুরো ব্যাপারটা যত্ন সহকারে ভাবা উচিৎ।


বিষয়টা এমন যে আপনি যদি স্লোগান দিয়ে থাকেন ”মুক্তিযোদ্ধার গালে গালে, জুতা মারো তালে তালে” তাইলে অবশ্যই ”ফকিন্নির পুত” গালিটা আপনার জন্যই বরাদ্দ ছিল। কাজেই অযথা ”ফকিন্নির পুত” কথা টারে ইস্যু বানায়ে ভাল সাজতে চায়েন নাহ। সরকারী নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা সিস্টেম বাতিল করার জন্য আন্দোলন করবেন বুঝলাম ভাল কথা। কিন্তু পুরো ব্যাপারটা যত্ন সহকারে ভাবা উচিৎ।

আমার পার্সোনাল পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে বলতে চাই ”কোটা বাতিলের আন্দোলন” অযৌক্তিক। তার পরেও মাঝখানে অনেক কথা থেকে যায়। আর সে কথা গুলোই বলতে চাই কারণ, কোটা সিস্টেম যদি পুরোপুরি বাতিল না করে এটাকে নিয়ন্ত্রন করা যেতে পারে। এই যেমন, শতকরা ১৫ থেকে ২০% এ নামিয়ে আনা যায়। সেক্ষেত্রে অবশ্যই যারা কোটায় আপ্লাই করছেন তাদের পারিবারিক আর্থ সামাজিক অবস্থার তদারকি করার দরকার আছে বলে মনে করি। সেই সাথে যারা একদমই নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে এসেছেন তাদের প্রাধান্য দেওয়া উচিৎ। আমি আবার উপজাতি কোটার হাল্কা বিরোধিতা করি তবে সেটা নিয়ে কিছু বলে যুক্তিতর্কে যেতে চাই নাহ।

সব থেকে মজার ব্যাপার হল মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিষয়টা পুরাই আইওয়াশ। আসল মুক্তিযোদ্ধারা যারা দু’বেলা ভাত খেতে পারে নাহ তাদের চেয়ে সার্টিফিকেট বহনকারী মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষমতা কাজে কলমে অনেক বেশি। যারা দেশ স্বাধীনের নামে যুদ্ধ করলো আর আমার দেশের নোংরা মনের রাজনিতিবিধরা উনাদের উপযুক্ত মূল্য দানের উদ্দেশেই এই কোটা সিস্টেম চালু করেছে বলে মনে করেন?? একবারও কি ভেবে দেখেছেন আমার দেশ এর ১৬ কোটি জনগণের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের সংখ্যা নগণ্য কিন্তু এই ৩০% সিট গুলো পূরণ হচ্ছে কিভাবে? – এতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বিদ্যমান। আবার আজকাল বিভিন্ন রাজনৈতিক কারনে কোটা পাওয়াও মুশকিল। কোটা পেতে হলে আপনাকে সরকারী দলের মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হতে হবে। কারণ দেশের মুক্তিযোদ্ধারাও ভাগ হয়ে গেছে দুটি দলেঃ মুক্তিযোদ্ধালীগ এবং মুক্তিযোদ্ধা দল। আসল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে এই দুই গ্রুপের মতের কোন মিল খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

প্রতিবন্ধী কোটা সম্পর্কে কিছু বলার কোন অধিকার আমি রাখি নাহ কারণ এটা তাদের হক। এটা থাকা যুক্তি সংগত বলে মনে করি।

সবার স্বপ্ন বি সি এস কারণ সম্মান মূর্খও চায়। আই বি এ থেকে পাস করে যদি বি সি এস না হয় মানুষ অন্য লাইন খুঁজে নেয়। তাহলে যারা সারা দিন না খেয়ে পড়তেছে ওদের কোন মূল্য নেই। কেউ চান্স পাবে ৮০ তে আবার কেউ চান্স পাবে ৫০ এ। এটা মেনে নেওয়া যায় নাহ। মেধার কি সঠিক যাচাই হচ্ছে?

৫৬% কোটা বাদ দিয়ে যতটুকু মেধাবী বেঁচে যায় তারা হয়ে যায় দলীয়করণ অথবা আমলাতন্ত্রের শিকার।
এখানেই শেষ নাহ। প্রশ্নপত্র ফাঁস, মৌখিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতির মত আরও কতিপয় অফ টপিক না হয় বাদই দিলাম!

তাই বলে আপনি যদি কোটা বাতিলের আন্দোলনের নামে গাড়িঘোড়া ভাংচুর, জ্বালাও পোড়াও করতে আর দেমাগ দেখানোর জন্য চারুকলার সামনের ভাস্কর্য পোড়ানোর জন্য রাস্তায় নামেন! তাইলে আমগো আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মুখে আঙ্গুল দিয়া টিভির পর্দার সামনে বইসা মজা না নিয়ে অ্যাকশনে যাওয়াও যুক্তিসংগত!!!

৮ thoughts on “বিসিএস কোটা এবং যৌক্তিক-অযৌক্তিক কিছু কথা।

  1. এই বিষয়ে প্রচুর ভাল ভাল
    এই বিষয়ে প্রচুর ভাল ভাল আলোচনা ইতোমধ্যে হয়ে গেছে । আপনার মতামত জানলাম । আপনাকে ধন্যবাদ !
    আমি নিজে কোটা বাতিলের বিপক্ষে সরব । এই নিয়ে ব্যাপক তর্ক – বিতর্ক করেছি আমরা । তবে অধিকাংশ মানুষের মতো আমিও কোটার সংস্কারের পক্ষে । কোরান – বাইবেলের মতো কোটাকে অপরিবর্তনীয় বানিয়ে রাখলে চলবে না । সময়ের সাথে সাথে একে প্রয়োজনে নবায়ন করে নিতে হবে । অযৌক্তিক কোন কিছুকেই মেনে নেবো না ।

    যারা আন্দোলনের নামে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করেছে ওদের কে তীব্র ধিক্কার জানাই । যারা এর নেপথ্যে থেকে অশুভ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষে কাজ করেছে তাদের মুখোশ খুলে গেছে । গণ – জাগরণ মঞ্চের নাম কারা মেধা চত্বর বানাতে চেয়েছে, কেন চেয়েছে – সে আমরা জানি ।

  2. কোটা পদ্ধতি বাতিল করেন ভাল
    কোটা পদ্ধতি বাতিল করেন ভাল কথা।
    যেখানে কোটা বাতিলের জন্য আন্দোলন করছেন, সেই কর্মকমিশন, সেই প্রজাতন্ত্র কাদের হাত ধরে তৈরি হয়েছে তাদের ভুলে যান কেন?

    সবচেয়ে বড় কথা, বাশের কেল্লা থেকে যত বড় আর যত যৌক্তিক আন্দোলনই করা হোক না কেন, একজন সুস্থ লোক এতে যোগ দিতে পারে না।

  3. কোটা বাতিলের কোন প্রয়োজন দেখি
    কোটা বাতিলের কোন প্রয়োজন দেখি না ।তবে সংস্কার করা যায় ।

    [মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিষয়টা পুরাই আইওয়াশ। আসল মুক্তিযোদ্ধারা যারা দু’বেলা ভাত খেতে পারে নাহ তাদের চেয়ে সার্টিফিকেট বহনকারী মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষমতা কাজে কলমে অনেক বেশি।]

    এই লাইনগুলো ভাল লেগেছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *