সাংস্কৃতিক চর্চায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়; সমস্যা ও সম্ভাবনা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রতিষ্ঠিত প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়।প্রতিষ্ঠার পর নানা চড়াই উতরাই পার করে কোনরকমে টিকে আছে আজ পর্যন্ত।একেতো ভৌগলিক অবস্থানগত সমস্যা অন্যদিকে শিক্ষা ব্যবস্থার অসামঞ্জস্যতা এই দুয়ে মিলে বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম দুঃখী বিশ্ববিদ্যালয় এটি।অবকাঠামো গত দিকে অনেকের থেকে এগিয়ে থাকলেও নেই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।প্রশাসনিক পর্যায়ে স্থানীয়করন,রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাত,আবাসন-পরিবহন সমস্যা,শিক্ষকদের উদাসীনতা,সাংস্কৃতিক চর্চায় অসহযোগীতা সহ নানাবিধ সমস্যা আজ এই ক্যাম্পাসের নিত্তসঙ্গী।অসম সাংস্কৃতিক চর্চার ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে চিরায়ত বাংলা সংস্কৃতি।অবকাঠামোগত উন্নয়নকে কঙ্কাল আর সুস্থ সংস্কৃতিকে আত্মা হিসাবে বিবেচনা করলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মননবিহীন অস্থিমজ্জা আর কঙ্কালসার ক্যাম্পাস।৮টা-২টার ক্লাস পরীক্ষা,সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন গুলোকে পৃষ্ঠোপষকতা না করা,টিএসসিসি’র অব্যবস্থাপনা,প্রসাশনিক ভূগান্তি সব কিছু মিলিয়ে সাংস্কৃতিক চর্চা করা এখানে নিজের পায়ে কুড়াল মারার মত।অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এখানকার আবহাওয়া একটু ভিন্ন হওয়ার কারনে প্রতিনিয়তই সাংস্কৃতিক কর্মীদের নানাবিধ সমস্যার সম্মূখীন হতে হয়।

চারিদিকে যে দ্বিদলীয়-মেরূকরনের রাজনৈতিক অপচর্চা চলছে তা আজ আমাদের শিল্প-সংস্কৃতিকেও গ্রাস করে ফেলেছে।অন্য সব বিষয়ের মত হাজার বছরের সংস্কৃতিকেও আজ লেজুড়বৃত্তির পন্থা হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।এখন টাকা দিলে ভাল লেখিয়ে পাওয়া যায়,ভাল কলামিস্ট পাওয়া যায়,ভাল আর্টিস্ট পাওয়া যায়,ভাল কবি পাওয়া যায়,ভাল চলচ্চিত্রকার পাওয়া যায়…… কি পাওয়া যায় না? দেশকে ভালবেসে দেশের চিরায়ত সংস্কৃতিকে লালন করে ভিনদেশি সংস্কৃতির ওপর শ্রদ্ধারেখে যে সাংস্কৃতিক চর্চা,তা এখন কেবলই কল্পনা।এত সীমাবদ্ধতার মাঝেও যারা একটু-আধটু চেষ্টা করছে তাদেরকও বাড়িয়ে দেওয়া হয় অসহযোগীতার প্রসস্তহস্ত।অঙ্কুরে বিনষ্ট করে দেওয়া হয় তাদের ইচ্ছাকে,আবেগকে।যারই সুযোগে অপসংস্কৃতি আজ বিস্তৃত হতে হতে মহীরূহের আকার ধারন করেছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল খুবই সীমিত। গুটিকয়েক ছাত্রছাত্রীর অক্লান্ত পরিশ্রমে শত বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে চলছে চর্চা।যেখানে মেরূকরনের চাইতে বেশি হয় মেরূ বিকশিত করন,সমঝোতা করে টিকিয়ে রাখা হয় উন্মাদ চেতনা,সংস্কৃতিকে দেখা হয় চতুর্থ বিষয় হিসাবে সেখানে সাংস্কৃতিক চর্চা চালিয়ে যাওয়া দুরূহই বটে।ক্লাস-পরীক্ষার টানাপোড়ন থাকা সত্তেও তারা যেভাবে তাদের কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে তা হয়তো অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হবে।নিজেদের প্রচেষ্টায় অনুষ্ঠান অয়োজন থেকে শুরু করে সাংগঠনিক সকল কাজই তাদেরকে করতে হয় নূন্যতম প্রশাসনিক অসহযোগিতার মধ্য দিয়ে।প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের বাইরে থাকায় এবং ক্যাম্পাসের সময়সূচি অসম হওয়ার কারনে সব চাইতে যে সমস্যা হয় সেটা হল সার্বিক যোগাযোগ রাখা।নতুন শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ,পাঠচক্র,অনুষ্ঠানের আয়োজন,প্রকাশনা সব কিছুর জন্য দরকার ক্লাস-পরীক্ষার বাইরে একটা নির্দিষ্ট সময় যা কিনা এখনে একেবারেই পাওয়া যায় না।পাওয়া না পাওয়ার মধ্য দিয়েও টিকে আছে সংগঠন গুলো যা সত্যিই এক যুদ্ধ।

সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি এবং সুষ্ঠু চর্চা বিহীন কোন জাতির পক্ষেই কাঙ্খিত লক্ষে পৌছানো সম্ভব না।সম্ভব না জাতির বিবেক গঠন করা।প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতি আমাদেরকে শুধুই চাকরির উপযোগী করে তুলছে(তাও পারছে না),পক্ষান্তরে সাংস্কৃতিক বিকাশে বা চর্চায় এর কোন ভূমিকাই নাই।সুতরাং সহ-শিক্ষা হিসাবেই আমাদেরকে সাংস্কৃতিক চর্চা চালিয়ে যেতে হয়।মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ,নান্দনিক উৎকর্ষ সাধন,মানবতার চিরমুক্তির সহায়ক যে সংস্কৃতি তা কেবল চতুর্থ হিসাবেই থেকে যাচ্ছে আমাদের কাছে।এমনকি সমাজের অনেক বিজ্ঞব্যক্তিরাও আড়ালে রেখে যাচ্ছেন এই বিষয়টাকে।জাতিগত ভাবে আমরা মিশ্র মতাদর্শের হলেও এক জায়গায় আমাদের মিল,আর তা হল ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার।সংস্কৃতিকে এখন অনেকেই নিজেদের আয়ের উৎস বানিয়ে ফেলেছেন।ব্যক্তিস্বার্থ উন্নয়নের মাধ্যম হচ্ছে আমাদের ঐতিহ্য,শিল্প,সংস্কৃতি।আর এই ব্যক্তিস্বার্থের পেছনে আবার থাকছে সাম্রাজ্যবাদীদের মুহূর্মুহূ প্রলোভোন।যা আমাদের সংস্কৃতিকে আগামী প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার জন্য হুমকি স্বরুপ।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে শত বাধা বিপত্তিকে উপেক্ষা করে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা বা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া সংগঠন গুলোর মধ্যে অন্যতম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ,সতীর্থ সাহিত্য গোষ্ঠী,সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন,উদীচি শিল্পী গোষ্ঠী। এছাড়া আরও কিছু সংগঠন আছে যাদের নেই কোন চেতনা,লক্ষ্য,উদ্দেশ্য এবং সঠিক চর্চা।এরা নিজেদেরকে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সহযাত্রী মনে করলেও আদতে তারা একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীরই সেবা করে যাচ্ছে।আবার জেলা সমিতির নামেও রয়েছে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর অসুস্থ এই সেবাপ্রীতি।তাদের যারপরান চেষ্টাই থাকে আসুস্থ সাংস্কৃতিক সংগঠনের নামে নিজেদেরকে সংখ্যায় ভারী করে তোলা।আর বিশ্ববিদ্যালয় পড়তে আসা অবুঝ নবীনদেরকে সুকৌশলে করা হয় চেতনাভ্রষ্ট।যা বর্তমান সময়ের জন্য সত্যিই দুঃখজনক।

ইবির সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রবীন সহযাত্রী “সতীর্থ সাহিত্য গোষ্ঠী”।সতীর্থের জন্ম ২০০৮ সালের ১৮ই নভেম্বর হলেও আজও সে প্রানবন্ত এবং উদ্দিপ্ত।কিছু সাহিত্যপ্রেমী শিক্ষার্থী এবং কয়েকজন সাহিত্যানুরাগী শিক্ষকের স্বতঃস্ফূর্ত প্রয়াসে গড়ে ওঠে এই সংগঠন।২০১০ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত প্রতি বছরই তারা বাঙলার কাগজ,বাঙলা ভাষার কাগজ হিসাবে বের করে “সতীর্থ”।
যেখানে দেশি প্রবাসি গুনি লেখকদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্যপ্রেমী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও লেখালেখি করে।“সতীর্থ”এর পরিচিতি শুধুমাত্র ইবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই।বাংলাদেশের প্রায় সব খানেই এবং কলকাতায়ও তাদের সুপরিচিতি বিদ্যমান।সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম “ছোটকাগজ” আন্দোলনে তাদের ভুমিকা অনস্বীকার্য।বাৎসরিক প্রকাশনা,অর্ধবাৎসরিক প্রকাশনা, নিয়মিত পাঠচক্র,লেখালেখি,পঠন-পাঠন ইত্যাদির পাশপাশি ইবির সাংকৃতিক আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তদের প্রচেষ্টা থেমে নেই।সাহিত্য সংগঠন হিসাবে তাদের যা পাওয়ার কথা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে তার খুব নগন্য অংশই তারা পেয়েছে।সাহিত্য ছাড়া যেমন সংস্কৃতি টিকে থাকে না তেমনি ইবির সাংস্কৃতিক আন্দোলনে সতীর্থ অপরিহার্য।প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর মেরুকরনের এই সময়ে ইবির সাংস্কৃতিক আন্দোলন আগামীতেও পাশে চায় সতীর্থকে।সাথে সাথে প্রশাসনও সার্বিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সতীর্থকে সর্বত সহযোগীতার মাধ্যমে ইবির সাংস্কৃতিক চর্চাকে বেগবান করবে এই শুভকামনাও রাখি।

২০১০সালের ৪ঠা এপ্রিল যাত্রা শুরু করে “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ”। ৬০এর দশকের চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলকে বুকে ধারন করে মুষ্টমেয় কিছু তরুন এবং কয়েকজন শিক্ষকের মাধ্যমে শুরু হয় তাদের পথচলা।এই চলচ্চিত্র সংসদের মাধ্যমেই ইবির সাথে পরিচয় ঘটে প্রথিতযশা চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ,নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু এবং সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মিশুক মুনিরের।পাঠচক্র,প্রদর্শনীর আয়োজন এবং চলচ্চিত্র নিয়ে পঠন-পাঠন সব দিকেই সমান অংশগ্রহন থাকলেও বর্তমানে তাদের কার্যক্রম মোটামুটি স্তিমিত হয়ে আছে।এর কারন হিসাবে প্রথমে যে বিষয়টা আসে তা হল চলচ্চিত্র সংসদ কর্মীদের গাফিলতি,প্রশাসনিক পৃষ্ঠোপষোকতার অভাব,ক্যাম্পাসের উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতি,শিক্ষকদের উদাসিনতা ইত্যাদি।সংসদ কর্মীদের অনেকের সদিচ্ছা থাকলেও উপযুক্ত আবহাওয়া না থাকার কারনে ইবিচস তাদের কর্মকান্ড এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছে না।যে বিষয়টি সবচাইতে পীড়াদায়ক তা হল ইবিচস আজও একটা প্রকাশনা বের করতে পারেনি উপযুক্ত পৃষ্ঠোপষোকতার অভাবে।ক্যাম্পাসের একটি অডিটোরিয়াম রয়েছে যা ১২৫০ আসন বিশিষ্ট।এই ধরনের অডিটোরিয়াম মনে হয় বাংলাদেশের খুব কম সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে।কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতির জন্য তা এখন অব্যবহার্যই হয়ে আছে।চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের মত অন্যতম একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের জন্য ইবি খুবই উপযুক্ত স্থান।প্রশাসন,শিক্ষকবৃন্দ, সংসদ কর্মীরা সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা থাকলে এই চলচ্চিত্র সংসদকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আন্দোলনের অন্যতম অগ্রনী করে তোলা সম্ভব।

২০১২ সালের শুরুর দিকে “সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন” এবং “উদীচি শিল্পী গোষ্ঠী” পথচলা শুরু করলেও কিছু দিনের মধ্যে তা থেমে যায়।লোকবলের অভাব,সুষ্ঠু পরিকল্পনা,প্রশাসনিক অবহেলা ইত্যাদির কারনে তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল।সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন বাংলাদেশের সুস্থ সাংস্কৃতিক বিকাশে অনন্য অবদান রেখে চলেছে।কিন্তু সার্বিক পৃষ্ঠোপষোকতার অভাবে ইবিতে অঙ্কুরে বিনষ্ট হয়ে যেতে হল তাকে।অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রবীনতম এবং উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের নাম উদীচি।সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পাশাপাশি মৌলবাদ,উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠস্বর এই সংগঠন।সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা আবারও তাদেরকে স্বমহিমায় ফিরিয়ে আনতে পারে এই ক্যাম্পাসে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক চর্চা বা আন্দোলন যাই বলি এগিয়ে চলছে মুষ্টিমেয় কিছু শিল্পানুরাগী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সীমাহীন আগ্রহে।যেখানে প্রচলিত স্রোতে গা ভাসিয়ে দেওয়ার কথা সেখানে তারা পারিপার্শিক প্রতিকূলতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে এগিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে।অনেকে আবার একে প্লাটফর্ম বানিয়ে উঠে গেছে সময়ের উড়োজাহাজে।একটি বিশ্ববিদ্যালয় হল রাষ্ট্রের মিনিয়েচার।সুতরাং রাষ্ট্র অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ই পারে এসকল সমস্যা সমাধানে অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে।নিন্মোক্ত আলোচনায় এরকমই কিছু বিষয় তুলে ধরা হলঃ

*ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র(টিএসসিসি) সব বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকে না কিন্তু আমরা পেয়েছি,আবার একই সাথে অকার্যকর করেও রেখেছি।ক্লাস পরীক্ষার স্থান টিএসসিসি হতে পারে না।এখানে ছাত্র-শিক্ষক সবার এক স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহনে বিকশিত হয় সংস্কৃতি।আমরা চাইব প্রশাসনিক দুর্বলতার অযুহাত না দেখিয়ে অবিলম্বে সাংস্কৃতিক চর্চার পূন্যভূমি টিএসসিসি’কে স্বীয়আঙ্গিকে এবং গঠনমূলকভাবে ফিরিয়ে আনা হবে।

*আবাসন সমস্যার কারনে অনেক সংগঠন তাদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারে না।একদিকে হল দখলের প্রতিক্রিয়াশীল পায়তার অন্যদিকে জরাজ্বীর্ণ পরিবহন ব্যবস্থা।আশু সমাধানে না গেলে হারিয়ে যাবে নবীন-প্রবীন সাংস্কৃতিক কর্মীদের উৎসাহ।

*বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হলেন পথপ্রদর্শক এবং শ্রদ্ধাস্পদেষু।সাংস্কৃতিক বিকাশের ক্ষেত্রে তারা হলেন প্রমটরের মত।শিক্ষার্থীদেরকে সাংস্কৃতিক চর্চায় উদ্ভুদ্ধ করা,তাদেরকে নিয়ে মুক্ত আলোচনার আয়োজন করা,যে কোন গঠনমূলক অনুষ্ঠান আয়োজনে পৃষ্ঠোপষোকতার পাশাপাশি সাধ্যমত সাহায্য সহযোগিতা করা।সর্বো্পরি একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্বকে শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত থাকবেন তারা।

*টিএসসিসি’র প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে চাঙ্গা করা অতীব জরুরী।চলমান সংগঠন গুলোর মধ্য থেকে চেতনা,লক্ষ্য,উদ্দেশ্য ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তিকরে বাছাই করা এবং নিবন্ধিত করা।অহেতুক অযুহাত না দেখিয়ে সংগঠন গুলোকে নিজস্ব রুম বরাদ্দ দেওয়া।যাতে করে তারা কাজের অনুপ্রেরনা পাবে।নতুন নতুন সংগঠন তৈরীতে শিক্ষার্থীদের উদ্ভুদ্দ করে নানামুখী অনুষ্ঠান আয়োজনে মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করতে পারে টিএসসিসি।

*শিল্পানুরাগী-সাংস্কৃতিমনা শিক্ষক,টিএসসিসি কর্তৃপক্ষ এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি দের সমন্বয়ে “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতি ঐক্য পরিষদ” গঠন করা যেতে পারে।এর ফলে সকল সংগঠনের মধ্যে সাংস্কৃতিক ভ্রাতৃত্ব গরে উঠবে এবং তাদের জন্য কাজ করাও সহজ হয়ে যাবে।

*সাংস্কৃতিক চর্চার প্রান সাংস্কৃতিক কর্মী।প্রচলিত জোয়ারে না ভেসে যারা প্রতিবোধ তৈরী করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।সাংগঠনিক বিকাশের সাথে সাথে ব্যক্তিগত ভাবেও বিকশিত হতে হবে।“আমিত্ব”কে বিসর্জন দিয়ে সমাজ,দেশ তথা সমগ্র বিশ্বের মানবতার কল্যানে এগিয়ে আসতে হবে।এখনই সময় শেখার,নেওয়ার।আভ্যন্তরীন মতবিরোধ,ব্যক্তিগত ক্রোধ,পরস্পর সাংঘর্ষিক আচারন ইত্যাদি হতে নিজেদেরকে সরিয়ে ফেলতে হবে।সাংস্কৃতিক কর্মীকে দেখে যেন পার্শ্ববর্তী সবাই আকৃষ্ট হয় সেই চেষ্টাই করতে হবে।একথা মাথায় রাখতে হবে যে এই সময়টাতে যে যেমন আদর্শ,চেতনা,লক্ষ্য,উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করবে জীবনের পরবর্তী সময় গুলো তার সে ভাবে কাটবে।

পরিশেষে বলব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন,শিক্ষক,শিক্ষার্থী সবায় মিলিত অংশগ্রহনে ব্যর্থতার জরাজীর্ণ ধ্বংসস্তুপ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।রাজনৈতিক মেরুকরন,মৌলবাদী অপশক্তির কুঠারাঘাত,অপসংস্কৃতির ভাইরাস থেকে বেরিয়ে এসে চিরায়ত বাংলা সংস্কৃতিকে আগামী প্রজন্মের উপযোগী করে তুলতে হবে।
আমরা আশা রাখি আগামী প্রজন্মের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বিকৃত মানসিকতা চর্চার স্থান না হয়ে সাংস্কৃতিক চর্চার পীঠস্থানে পরিনত হবে।
আগামী প্রজন্মের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হল দখলের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশীয় সাংস্কৃতিক বিকাশে অংশ নেবে।
আগামী প্রজন্মের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা,সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বাধা না হয়ে স্বাধীনতা,সার্বোভৌমত্বকে সমুন্নত রেখে শিক্ষা-সাংস্কৃতির কৃতিসন্তানদের জন্ম দিবে।
বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে উড়াবে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বিজয় নিশান।

লেখক
সাংস্কৃতিক কর্মী
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়,কুষ্টিয়া।

৭ thoughts on “সাংস্কৃতিক চর্চায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়; সমস্যা ও সম্ভাবনা

  1. আপনার লম্বা লেখাটি মনোযোগ
    আপনার লম্বা লেখাটি মনোযোগ দিয়েই পড়লাম । এই লেখাটাই আরও কম শব্দে লিখে শেষ করতে পারতেন । পুনরাবৃত্তি হয়েছে বেশ । যাইহোক, ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে খুব কম জানি । আসলে এটি যে একটি পাবলিক ভার্সিটি এই তথ্য’ই মাত্র আমরা জানি । কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হল জাতীয় স্বার্থে বা ভার্সিটির সাধারণ স্টুডেন্ট ‘দের কমন দাবী দাওয়া সংক্রান্ত আন্দোলনের কথাও তো তেমন শুনিনি যেখানে সফল হয়েছিলো গণদাবী । কখনো এই ভার্সিটি গর্জে উঠেছিলো বলে শুনিনি ।

    আমাকে বলবেন, ভার্সিটির নাম পরিবর্তনের জন্য আপনারা কোন আন্দোলন করেছিলেন কি না ? আপনি যেহেতু সাংস্কৃতিক কর্মী আশা করি ওই নামে আপনি সন্তুষ্ট না ।

    পরিশেষে বলবো, সংস্কৃতির ভাঙ্গা সেতু দিয়ে চলবেন । আবহমান বাঙালি সংস্কৃতির মজবুত ব্রিজ তৈরি করতে হবে । এই কাজে আপনারা সফল হবেন এবং আগামী প্রজন্ম সেই সফলতা ধরে রাখবে এই প্রত্যাশা করি ।

    1. অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।ব্যর্থতার
      অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।ব্যর্থতার সকল দায় আমাদের।আমরা কিছুই করতে পারছি না।আমাদের জন্য শুভকামনা রাখবেন যেন চলে আসার আগে “আগামী” রেখে আসতে পারি।

    1. ধন্যবাদ এখানকার অবস্থা একটু
      ধন্যবাদ এখানকার অবস্থা একটু অন্য রকম।চাইলে এসে দেখে যেতে পারেন। আমন্ত্রন রইলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *