সাঁতার না জেনেও পানিতে ঝাঁপ দেয়ার কাহিনী!

সন ২০১৯।

অফিসটা একটা ফ্যামিলির মত ছিল। ৪টা বছর কেটে গেছে। চাকরী টা ছেড়ে দিলাম! ভালই ছিল সেটা কিন্তু মাত্র ২লাখ টাকার সেলারি দিয়ে এ যুগে কিচ্ছু হয় নাহ। ১মাস আগেই বলে রেখেছিলাম রফিক সাহেবকে। যদিও বস সেলারি বাড়িয়ে দিবে বলেছিল।

গত মাসেই একটা চিঠি পেয়েছিলাম, ভাবতেছি এবার ওকে আর পিচ্ছি বাবুটাকে নিয়ে বাইরে চলে যাবো। সামনের সপ্তাহেই ফ্লাইট, সব কিছু রেডি! আজ সবার কাছ থেকে বিদাই নিয়ে বস এর সাথে দুপুরের খাবার খেলাম। খেতে খেতে হঠাৎ নষ্টালজিক হয়ে গেল মনটা। ৪বছর আগের একটা ঘটনা মনে পরে গেল যেটার রহস্য এযাবৎ উধঘাটন করতে পারি নাই।


সন ২০১৯।

অফিসটা একটা ফ্যামিলির মত ছিল। ৪টা বছর কেটে গেছে। চাকরী টা ছেড়ে দিলাম! ভালই ছিল সেটা কিন্তু মাত্র ২লাখ টাকার সেলারি দিয়ে এ যুগে কিচ্ছু হয় নাহ। ১মাস আগেই বলে রেখেছিলাম রফিক সাহেবকে। যদিও বস সেলারি বাড়িয়ে দিবে বলেছিল।

গত মাসেই একটা চিঠি পেয়েছিলাম, ভাবতেছি এবার ওকে আর পিচ্ছি বাবুটাকে নিয়ে বাইরে চলে যাবো। সামনের সপ্তাহেই ফ্লাইট, সব কিছু রেডি! আজ সবার কাছ থেকে বিদাই নিয়ে বস এর সাথে দুপুরের খাবার খেলাম। খেতে খেতে হঠাৎ নষ্টালজিক হয়ে গেল মনটা। ৪বছর আগের একটা ঘটনা মনে পরে গেল যেটার রহস্য এযাবৎ উধঘাটন করতে পারি নাই।

আমার জীবনের ৫ম ইন্টারভিউটা দিয়েছিলাম ওর সাথেই। আমি জানতাম ওর চাকরী টা হয়ে যাবে, এটাও ভেবেছিলাম আমার চাকরী তো কোন দিনও হবে নাহ! আমার আগে সিরিয়াল ছিল ওর। ইন্টারভিউ রুমে ঢুকলো আর ঠিক ২৫মিনিট পর মুখটা ভার করে বেরিয়ে এলো! ওকে একবার জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে? ও বলল, ওকে নাকি ইন্টারভিউ বোর্ডের কেউ ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কিত কোন তথ্যই জিজ্ঞেস করে নি বরং অপমান করে বলছে, ” ওই মিয়া সারা জীবন এত কি পড়ছো?? এত পড়া কি মানুষ পড়ে! তুমি তো মিয়া রোবট…ব্লা ব্লা ব্লা!!” বলে রাখা ভাল, আমাদের আই পি ই ৪র্থ ব্যাচে টপ করেছিল নিপু। যে কিনা ৪বছরের ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে শুধু মাত্র ২ টা বিষয় ছাড়া বাকি সকল বিষয়ে জিপিএ ৫ পেয়েছিল। ওর গড় সিজিপিএ এসেছিল ৩.৯৭ বিস্ময়কর একটা রেজাল্ট! যেটা সব ভাল স্টুডেন্টদের স্বপ্ন। আমি যখন ইন্টারভিউ দিতে রুমে ঢুকছিলাম তখন আমাকে দেখে ওরা হাসাহাসি করতেছিল। সিজিপিএ নিয়ে উল্টা পাল্টা কথা বলতেছিল। অহেতুক অপমান করলো। বলে কিনা আমার নাকি দারোয়ান এর চাকরী পাবারই যোগ্যতা নাই! শুনে খুব বাজে লাগতেছিল। কিন্তু কিছু বলি নাই শুধু একটা কারনে আর সেটা হল, আমাকে কখনও কেউই পড়ালেখা নিয়ে বকা দেয় নাই। তাই শুনতে খারাপ লাগলেও আরেক দিক থেকে ভালই লাগছিলো। ফিলিং লাইক রিয়েল হোম!

ঠিক ৭দিন পর একটা চিঠি আসলো। আমি খুব নিশ্চিত ছিলাম যে চাকরী টা আমি জিবনেও পাবো নাহ। খামটা খুলে চিঠিটা পড়লাম, আমার চাকরী হয়ে গেছে! চলতি মাসের ২৯ তারিখে ওরা আমাকে জইন করতে বলেছে। চাকরীতে যোগ দেবার অনেক দিন পর জানতে পারলাম নিপুর নাকি চাকরীটা হয় নাই! ক্যানো হয় নাই, এই রহস্যটা নিয়েই কাটিয়ে দিয়েছি ৪টা বছর। শুনেছি নিপু নাকি এখন দেশেই আছে। নিশ্চয়ই ভাল কোথাও আছে। রহস্যটা ভাংগাতেই খেতে খেতে বসকে ব্যাপারটা খুলে বললাম। রফিক সাহেব অট্টহাসি হেসে বললেন ”তোমাকে নেওয়া হয়েছিল এই কারনে যে, তুমি নিজেও জানটা পড়াশুনা করে কখনও ভাল ইঞ্জিনিয়ার হতে পারবা নাহ। সাঁতার না জেনেও তুমি পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলা। কাজেই তোমার মত কাউকেই আমাদের দরকার ছিল যে রিস্ক নিতে জানে।”

৩ thoughts on “সাঁতার না জেনেও পানিতে ঝাঁপ দেয়ার কাহিনী!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *