মর্ডান বিলাসী (ইষৎ পরিবর্তিত)

(শ্রদ্ধেয় শ্রী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নিকট ক্ষমা প্রার্থনাপূর্বক)

পাকা দুই ক্রোশ পথ বাইকে করিয়া স্কুলে বিদ্যা অর্জন করিতে যাই। আমি একা নই দশ-বারোজন। যাহাদেরই বাটী পল্লীগ্রামে তাহাদের ছেলেদের শতকরা বিশজনকে এমনি করিয়া বিদ্যা লাভ করিতে হয়। ইহাতে লাভের অংক শেষ পর্যন্ত একেবারে শূন্য না বা পড়িলেও, যাহা পড়ে, তাহাতে দেখা যায় যে, স্কুল পাশ করিবার পর ইহাদের অধিকাংশই বাপের পয়সা ফুরাইয়া শহরে গিয়া প্রাইভেট ভার্সিটিতে ভর্তি হইতে পারে। এবং উহার সহিত গ্রামের ধুলির রাস্তায় বাইক চালাইতে চালাইতে মেয়েছেলেদের যথেচ্ছ অঙ্গভঙ্গির সহিত ইভটিজিংও করিতে পারে। স্কুলে যাইবার পথে আরও তো দু’তিনখানা গ্রাম পার হইতে হয়। কার বাড়ির মেয়ে কতটুকু বড় হইয়াছে, কার বাড়িতে নতুন বউ আসিয়াছে, কোন মেয়ে দেখিতে কতটুকু সুন্দরী, কার প্রোফাইল পিকচার কতটুকু সুন্দর, কোন মেয়েকে ফেইসবুকে পোক মারিলে পোক ব্যাক মারিবে,



(শ্রদ্ধেয় শ্রী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নিকট ক্ষমা প্রার্থনাপূর্বক)

পাকা দুই ক্রোশ পথ বাইকে করিয়া স্কুলে বিদ্যা অর্জন করিতে যাই। আমি একা নই দশ-বারোজন। যাহাদেরই বাটী পল্লীগ্রামে তাহাদের ছেলেদের শতকরা বিশজনকে এমনি করিয়া বিদ্যা লাভ করিতে হয়। ইহাতে লাভের অংক শেষ পর্যন্ত একেবারে শূন্য না বা পড়িলেও, যাহা পড়ে, তাহাতে দেখা যায় যে, স্কুল পাশ করিবার পর ইহাদের অধিকাংশই বাপের পয়সা ফুরাইয়া শহরে গিয়া প্রাইভেট ভার্সিটিতে ভর্তি হইতে পারে। এবং উহার সহিত গ্রামের ধুলির রাস্তায় বাইক চালাইতে চালাইতে মেয়েছেলেদের যথেচ্ছ অঙ্গভঙ্গির সহিত ইভটিজিংও করিতে পারে। স্কুলে যাইবার পথে আরও তো দু’তিনখানা গ্রাম পার হইতে হয়। কার বাড়ির মেয়ে কতটুকু বড় হইয়াছে, কার বাড়িতে নতুন বউ আসিয়াছে, কোন মেয়ে দেখিতে কতটুকু সুন্দরী, কার প্রোফাইল পিকচার কতটুকু সুন্দর, কোন মেয়েকে ফেইসবুকে পোক মারিলে পোক ব্যাক মারিবে, কোন মেয়ের নাম্বারে অনবরত মিসড কল মারিলে ধরা পড়িবার সম্ভাবনা অল্প, এই সব খবর লইতেই সময় যায়, কিন্তু আসলে যা বিদ্যা- বাংলাদেশের রাজধানী উত্তর ঢাকা না দক্ষিণ ঢাকা এবং সাইবেরিয়ার খনির মধ্যে রূপা মেলে, না সোনা মেলে- এসকল দরকারি তথ্য অবগত হইবার ফুরসতই মেলে না।।

কাজেই একজামিনের সময় বাপের নাম জানিতে চাহিলে বলি অনেকজন তো রহিয়াছেন কাকে ছাড়িয়া কাকে বলিব, আর জন্মসাল চাহিলে লিখিয়া দিয়া আসি ১৯৪৭ সালে হইবার কথা কিন্তু হইয়াছে ১৯৭১ সালে। যখন মাস্টারমশায় একজামিনের খাতা দেখাইবার সময় এইসব পড়িয়া উচ্চস্বরে হাঁসাহাঁসি করেন তখন মুখ ভার করিয়া বাড়ি ফিরিয়া আসিয়া কখনো বা দল বাঁধিয়া মতলব করি, মাস্টারকে ঠ্যাঙানো উচিত, কখনো বা ঠিক করি, অমন বিশ্রী স্কুল ছাড়িয়া দেওয়াই কর্তব্য।।

আমাদের গ্রামের একটি ছেলের সঙ্গে মাঝে মাঝেই দেখা স্কুলের পথে দেখা হইত। তাহার নাম ছিল মৃত্যুঞ্জয়। আমাদের চেয়ে বয়সে সে অনেক বড়। থার্ড ক্লাসে পড়িত। কবে সে যে প্রথম থার্ড ক্লাসে উঠিয়াছিল, এ খবর আমরা কেহই জানিতাম না- সম্ভবত তাহা প্রত্মতাত্ত্বিকের গবেষণার বিষয়- আমরা কিন্তু তাহার থার্ড ক্লাসটাই চিরদিন দেখিয়া আসিয়াছি।।

তাহাকে আমরা আদু ভাই বলিয়া ডাকিতাম। তাহার বাপ-মা, ভাই-বোন কেহই ছিল না, ছিল শুধু গ্রামের এক প্রান্তে একটা প্রকান্ড বেগুনের ক্ষেত। আর তার পাশে একটা প্রকান্ড পোড়োবাড়ি, আর ছিল এক জ্ঞাতি খুড়া। খুড়ার কাজ ছিল ভাইপোর নামে নানাবিধ দুর্নাম রটনা করা- সে ফেন্সিডিল খায়, সে ব্লগে লেখালেখি করে, এমনি আরও কত কি! খুড়ার আরেকটা কাজ ছিল, বলিয়া বেড়ানো, ঐ বেগুন ক্ষেতের অর্ধেকের মালিক সে। পুনশ্চঃ সেই সময় বেগুনের দাম অনেক বেশি ছিল। মৃত্যুঞ্জয়কে প্রতি কিলো ৮০ টাকা করিয়াও বিক্রয় করিতে দেখিয়াছি।।

মৃত্যুঞ্জয় নিজে রাঁধিয়া খাইত এবং ক্ষেতের বেগুন বিক্রি করিয়া ভালো পয়সা কড়িও কামাইত। বেগুন বিক্রির টাকা দিয়া সে একবার মাইক্রোসফটের অর্ধেক মালিকানা কিনিয়া লইবার চেষ্টা করিয়াছিল। কিন্তু তাহা আর হয় নাই। মৃত্যুঞ্জয় অবশ্য যথেষ্ট দানশীল ছিল। কতদিন যে আমাকে ধরিয়া নিয়া মোড়ের দোকানের চা-বিড়ি খাওয়াইছে তাহার ইয়ত্তা নাই।।

অনেক দিন মৃত্যুঞ্জয়ের দেখা নাই। একদিন শোনা গেল সে মর-মর। আর একদিন শোনা গেল, ফেইসবুকের মাধ্যমে পরিচিত মালোপাড়ার এক বুড়া মালো তাহার চিকিৎসা করিয়া এবং তাহার মেয়ে বিলাসী সেবা করিয়া মৃত্যুঞ্জয়কে যমের মুখ হইতে এ যাত্রা ফিরাইয়া আনিয়াছে। এখানে একটা কথা বলিয়া রাখি, বিলাসী কিছুকাল আমার সহিত ফেইক আইডি দিয়া চ্যাটিং করিয়াছে, যাহা আমি পরে জানিতে পারিয়াছি।।

অনেক দিন তাহার চা-বিড়ির সদ্ব্যয় করিয়াছি- মনটা কেমন করিতে লাগিল, একদিন সন্ধ্যার অন্ধকারে লুকাইয়া তাহাকে দেখিতে গেলাম। তাহার পোড়োবাড়ির দরজা খটখট করিবা মাত্র বিলাসী দরজা খুলিল।
আমি বলিলাম, “হাই।”
বিলাসী বলিল, “হ্যালো।”
মৃত্যুঞ্জয় খাটে শুইয়া ছিল। আমার কন্ঠ শুনিয়া চিনিতে পারিয়া বলিল, “কে, ন্যাড়া?”
বলিলাম, “হু।”
মৃত্যুঞ্জয় বলিল, “বসো।”
এরপর মৃত্যুঞ্জয় তাহার রোগের হিস্ট্রি শুনাইতে আরম্ভ করিল। আমি অতশত বুঝিলাম না। কেবল হা-হু করিতে থাকিলাম। যতটুকু বুঝিলাম তাহা হইল, তাহার যক্ষ্মা হইয়াছে। কিন্তু ‘যক্ষ্মা হইলে রক্ষা নাই, এই কথার ভিত্তি নাই,’ তাহা প্রমাণ করিয়া বিলাসী তাহাকে সুস্থ করিয়া তুলিয়াছে। বিলাসী যোগ করিল, “টিভিতে রিয়াজ ভাইয়ের যক্ষ্মার এডটা দেখার পরই আমি নতুন উদ্যমে কাজ চালাই এবং সফল হই। থ্যাংকস রিয়াজ ভাই।” আমি কিছু না বুঝিয়া হা করিয়া রহিলাম।।

ফিরিবার সময় বিলাসী একটি চাইনিজ মোবাইল সেটের টর্চ লাইট জ্বালাইয়া লইয়া আমার সাথে আসিল। ক্ষেতের ধারে আসিয়া বলিল, “রাস্তা পর্যন্ত তোমায় রেখে আসব কি?”
মেয়ে মানুষ জিজ্ঞাসা করে, রেখে আসব কি! সুতরাং মনে যতই তাহার একলা সান্নিধ্য পাইবার কামনা ও পূর্বের চ্যাটিং হিস্ট্রি চলিতে থাকুক, প্রত্যুত্তরে শুধু একটা ‘না’ বলিয়াই অগ্রসর হইয়া গেলাম।।

প্রায় দুইমাস মৃত্যুঞ্জয়ের খবর লই নাই। যাঁহারা পল্লীগ্রাম দেখেন নাই, তাঁহারা জানিবেন না এখানে নেটের অবস্থা কিরূপ। নেটওয়ার্ক খুবই দূর্লভ।।

এমনি সময়ে হঠাৎ একদিন কানে গেল, মৃত্যুঞ্জয়ের বুড়া খুড়া মৃত্যুঞ্জয়ের মালো মেয়ে বিলাসীকে বিবাহ করা নিয়া সবকিছু তোলপাড় করিয়া ফেলিতেছেন। তিনি গ্রামের লোকজনকে নিয়া ইভেন্ট খুলিলেন, ‘বিলাসীকে গ্রামছাড়া করা হওক।’ দলে দলে লোক সেইটাতে গোয়িং দিতে লাগিল। আমিও দিলাম।।

শেষমেশ দশ-বারোজন লোক লইয়া মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়ীতে পৌছাইলাম। বিলাসী সিরিয়াল দেখিতেছিল। অকস্মাৎ এতগুলি লোক দেখিয়া সিরিয়াল থুইয়া মেক-আপ করিতে লাগিল, ভাবিল, সিনেমার লোকজন, তাহাকে নায়িকা বানাইবে। মৃত্যুঞ্জয়কে ঘরের মধ্যে শুইয়া থাকিতে দেখিয়া খুড়া দরজার শিকলটা টানিয়া দিলেন। তারপর প্রত্যহ সংসদ দেখিয়া যে সব গালিগালাজ আয়ত্ত করিয়াছিলেন তার প্রত্যেকটা বিলাসীর প্রতি নিক্ষেপ করিতে লাগিলেন।
বিলাসী শুধু বলিল, “হোয়াট দ্যা *#@!”
খুড়া বলিলেন, তবে রে! ইত্যাদি ইত্যাদি এবং সঙ্গে সঙ্গেই আমরা সকলে মিলিয়া বিলাসীর ঘাড়ে পড়িলাম। কেহ ধরিল চুলের মুঠি, কেহ ধরিল কান, কেহ ধরিল হাত- দুটো। যখন তাহাকে গ্রামের বাহিরে রাখিয়া আসিবার জন্য হিঁচড়াইয়া লইয়া চলিলাম, তখন মিনতি করিয়া বলিতে লাগিল, “গাইজ, আমার মেক-আপ বক্স, ল্যাপটপ আর মডেমটাও নিয়ে যেতে দাও। আমি ছাড়া ওগুলো ইউজ করবে কে?” মৃত্যুঞ্জয় রুদ্ধ ঘরের মধ্যে পাগলের মত মাথা কুটিতে লাগিল।।

বৎসর খানেক গত হইয়াছে। মানুষের গালাগালি সহ্য করিতে না পারিয়া সবেমাত্র ছাগুগিরিতে ইস্তফা দিয়া নতুন আইডি খুলিয়াছি। একদিন দুপুরবেলা বাইক নিয়া মালোপাড়ার একটা মেয়ের সহিত ডেটিং-এ যাওয়ার পথে মৃত্যুঞ্জয়কে দেখিলাম। সে এখন মস্ত বড় ফেইসবুক সেলিব্রিটি। পঞ্চাশ হাজারের উপরে তাহার ফলোয়ার। তাহার গুরু স্বয়ং আরিফ আর হোসেন ভাই। বিলাসীকেও দেখিলাম। সেও সেলিব্রিটি। তাহার ফলোয়ার সংখ্যাও নেহাৎ কম নহে। তাহার “এত্তগুলা পঁচা” স্ট্যাটাসে হাজার খানেক লাইক পড়ে।।

আমার বহুদিনের শখ ফেইসবুকে সেলিব্রিটি হইব। মৃত্যুঞ্জয়কে ধরিলাম। বলিলাম আইডি প্রমোট করিয়া দিতে। সে প্রমোট করিয়া দিল। তখন হইতে আমার স্ট্যাটাসেও লাইকের সংখ্যা বাড়িতে লাগিল। সবাই বলাবলি করিতে লাগিল, হ্যাঁ, ন্যাড়া একজন গুণী লোক বটে। ছাগুগিরিতে বহুৎ গালি খাইয়া এখন বড় ধরণের সেলিব্রিটি হইয়া গিয়াছে। অহঙ্কারে আমার মাটিতে পা না পড়িবার উপক্রম হইল। এমন সব হাস্যকর স্ট্যাটাস দেওয়া আরম্ভ করিয়াছিলাম যাহা মনে হইলে এখনো হাঁসি পায়।।

মৃত্যুঞ্জয় আর বিলাসী মাঝে মাঝেই আমাকে সাবধান করিত এত অহংকার না করিবার জন্য। স্ট্যাটাস খুবই খারাপ জিনিস। যে কোন সময় খাইয়া দিতে পারে।।

যখনই কোন ইম্পোর্টেন্ট বিষয় নিয়া মৃত্যুঞ্জয়ের স্ট্যাটাস দেওয়ার সময় হইত বিলাসী তখন মানা করিত। বলিত- আজ শনিবার, আজ মঙ্গলবার; এমনি কত কি! আর আমি চাহিতাম মৃত্যুঞ্জয় যেন স্ট্যাটাস দেয়। বস্তুত ইহার মাঝে মজা ব্যাতিত ভয় যে কোথায় ছিল, তাহা আমাদের মনেই স্থান পাইত না। কিন্তু এই পাপের দন্ড আমাকে একদিন ভালো করিয়াই দিতে হইল।।

সেদিন একটা ইম্পোর্টেন্ট ঘটনা ঘটিল। মৃত্যুঞ্জয় আর আমি দুইজনই স্ট্যাটাস দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হইলাম। বিলাসী বরাবরই সঙ্গে থাকিত, আজও সঙ্গে ছিল। স্ট্যাটাস টাইপ করিবার সময় বিলাসী বলিয়া উঠিল, “আজ আমার একটা স্ট্যাটাস দেখছি না। কোথায় গেল?”
মৃত্যুঞ্জয় কিছু বলিল না। শুধু হাঁসিল।
আমি বলিলাম, “দেখ। হয়ত কোনভাবে রিমুভ হয়ে গেলো কিনা।”

মৃত্যুঞ্জয়ের স্ট্যাটাস দেওয়া শেষ। শ’পাঁচেক লাইকও চলিয়া আসিল। হঠাৎ করিয়া স্ট্যাটাসখানা গায়েব হইয়া গেল। আমরা অবাক হইয়া গেলাম। মৃত্যুঞ্জয়ের স্ট্যাটাস গায়েব! মৃত্যুঞ্জয় বলিয়া উঠিল, “ওইত্তেরী!” বহু কসরত করিয়াও মৃত্যুঞ্জয় তাহার স্ট্যাটাস ফিরাইতে পারিল না। ফেইসবুকের অন্যান্য সেলিব্রিটিদের খবর দেওয়া হইল। উনারা আসিয়া চেষ্টা করিলেন। কিন্তু স্ট্যাটাস ফিরিল না। দেখিতে দেখিতে মৃত্যুঞ্জয়ের অন্যান্য স্ট্যাটাসও গায়েব হইতে লাগিল। মৃত্যুঞ্জয় শোকে পাগলপ্রায়। আরিফ আর হোসেন ভাইয়ের নিকট হইতে দীক্ষা লইবার পরও তাহার স্ট্যাটাস গায়েব! কিন্তু মিনিট পনের-কুড়ি পরেই যখন মৃত্যুঞ্জয়ের আইডিখানা ডিজ্যাবল হইয়া গেল তখন মৃত্যুঞ্জয় মূর্ছা গেল। আমিও বুঝিলাম, সেলিব্রিটির দোহাই বুঝি বা আর খাটে না।।

মৃত্যুঞ্জয় নামক আইডিখানা তাহার নামের প্রতি অবিচার করিয়া ফেইসবুকের দুনিয়া হইতে চিরতরে মুছিয়া গেল। মৃত্যুঞ্জয় তখনও মূর্ছিত। বিলাসী হতবাক।।

যাক, তাহাদের দুঃক্ষের কাহিনী আর বাড়াইব না। জুকারবার্গ তো আইডি ডি-একটিভেট করার পন্থা রাখিয়াছিলেন। উহা দ্বারাই বিলাসী নিজের আইডিখানাও ডি-একটিভেট করিয়া দিল। ফেইসবুক হইতে মুছিয়া গেল মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর নাম।।

বিলাসীর আইডি ডি-একটিভেট করাটা অনেকের কাছে পরিহাসের বিষয় হইল। কিন্তু আমি আসল কথাটা জানতে পারিয়াছিলাম। শেষমেশ সেলিব্রিটি হইবার স্বপ্ন জলাঞ্জলি দিয়া আমিও আমার আইডিখানা ডি-একটিভেট করিয়া দিলাম।।

শেষ খবর পাওয়া মাত্র, মৃত্যুঞ্জয় এবং বিলাসী নতুন আইডি খুলিয়াছে এবং লুতুপুতু টাইপ স্ট্যাটাস পোস্ট করা আরম্ভ করিয়াছে। তাহার এখন হিন্দী ছবি আর সিরিয়াল দেখিয়া ঐটা নিয়া আলোচনা করে। ইহাতে আখেরে বিলাসীরই লাভ হইয়াছে। বুড়া খুড়া বেগুন ক্ষেত দখল করিয়া ঝামেলায় পড়িয়াছেন। বেগুনের দাম কমিয়া গিয়াছে। উনি লাভ করিতে পারিতেছেন না। কিছুদিন ধরিয়া আমিও আমার নতুন আইডিখানা দিয়া হিন্দী ছবির গান পোস্টাইতেছি।।

১৯ thoughts on “মর্ডান বিলাসী (ইষৎ পরিবর্তিত)

    1. শেষের দিকে আমি নিজেই খেই
      শেষের দিকে আমি নিজেই খেই হারিয়ে ফেলেছি।। ট্র্যাজিক এন্ডিং দিতে চাই নি।। তাই বিষয়টাকে অন্যদিকে ঘুরাবার চেষ্টা করেছি।।
      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।।

      1. বিংশ শতকের ২০/৩০ এর দশকের
        বিংশ শতকের ২০/৩০ এর দশকের লেখা একবিংশ শতাব্দীর প্রাযুক্তিক বিপ্লবের ভিয়েন দিয়ে মুড়িয়ে দিয়েছেন । মজা না লেগে যাবে কোই ?শেষ ভালো যার সব ভালো তার, কথাটা আপনার ক্ষেত্রে আংশিক সত্য । ৭৫ ভাগই ঠিক ঠাক ছিল 😀

  1. রিমিক্স গল্প। এবং রিমিক্স
    রিমিক্স গল্প। এবং রিমিক্স অধিকাংশ সময় আসলের ধারে কাছেও যেতে পারে না।
    বিনোদন মূলক পোস্ট।

  2. মডার্ন !!! বিলাসীও মডার্ন
    মডার্ন !!! বিলাসীও মডার্ন ভার্সনে!!

    পুরোনোকে স্বর্ণালী হয়েই থাকতে দিন।নতুন করে লিখুন নতুন কিছু।

    তবে ইহা বিনোদনি বটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *