ওদের অধিকারটা একটু বেশিই হওয়া উচিত্‍

লেখাটা পড়ে অনেকেই আমাকে নারীবাদি বলতে পরেন। কিন্তু আমার মনে হয় তাই হওয়া উচিত্‍

অনেক দিন ধরে ভাবছি নারী পুরুষের অধিকারের ব্যপারে কিছু লিখব। কিন্তু কি দিয়ে শুরু করব বুঝতে পারছিলাম না ।

কিন্তু গত কাল যখন ক্লাশে প্রবেশ করলাম প্রিয় সহপাঠি আনেক কথার ফাকে একটা প্রশ্ন করে বসল,
আচ্ছা, নারী পুরুষের অধিকার ব্যপারটা আপনার কাছে কেমন মনে হয়?



লেখাটা পড়ে অনেকেই আমাকে নারীবাদি বলতে পরেন। কিন্তু আমার মনে হয় তাই হওয়া উচিত্‍

অনেক দিন ধরে ভাবছি নারী পুরুষের অধিকারের ব্যপারে কিছু লিখব। কিন্তু কি দিয়ে শুরু করব বুঝতে পারছিলাম না ।

কিন্তু গত কাল যখন ক্লাশে প্রবেশ করলাম প্রিয় সহপাঠি আনেক কথার ফাকে একটা প্রশ্ন করে বসল,
আচ্ছা, নারী পুরুষের অধিকার ব্যপারটা আপনার কাছে কেমন মনে হয়?

: মানে?
:- মানে সম অধিকারের ব্যপারটা!
: ওঁ।
আসলে আধিকারের ব্যপারটা আসে দায়িত্বের পরে। আগে দায়িত্ব পালন কর তার পর আধিকার।
:- আপনার মতামত কী?
: আমি মনে করি প্রকৃতি নারীকে এবং পুরুষকে কোন দিক থেকেই সমান করে তৈরি করে নাই।
:- 🙁
: 😀
তবে সার্বিক ভাবে এরা সমান। শারিরীক ও বুদ্ধিমত্তার পার্থক্য আর আরো বিভিন্ন আনুসঙ্গিক বিচার বিশ্লষণের পর আমি এই সিদ্ধান্তে অন্তত পৌঁছাতে পেরেছি প্রকৃতি নারী এবং পুরুষের ব্যপারে কোন দ্বি রূপ আচরন করে নাই।
যোগ, বিয়েগ, গুণ, ভাগ, ইন্টিগ্রেশন আর ডিফারেনসিয়েশন করে দেখলাম নারী পুরুষ প্রকৃতিতে সমান।

টাইম শেষ হয়ে যায় শিক্ষক ক্লাশে প্রবেশ করেন। আমি হাপ ছেড়ে বাঁচলাম। কারন আমি আমার আবেগ আর আমার মনের কথা কখনই আরেক জনের কাছে ঠিক ঠাক প্রকাশ করেতে পারি না। আমি হয়ত বলতে চেয়েছি একটা আর সে বুঝল আরেকটা। তখন হয়ত তার নিকট আমার ব্যক্তিত্যের উপর প্রশ্নবেধক চিহ্ন তৈরি হয়ে থাকত।

এমনিতেই আবার যখন ক্লাশে প্রবেশ করলাম সে আমাকে বলল আপনাকে এমন বিমর্ষ দেখাচ্ছে কেন? কারো সাথে ঝগড়া করেছেন না কী? এখন উল্টা পাল্টা না বলাই ভাল।

আজ যখন ক্লাশে গেলাম দেখি সে নাই 🙂
ভাবলাম ঐ প্রশ্নের উত্তয় আর দিতে হল না 😀
কিছুক্ষণ পর সেও ক্লাশে ঢুকল।
হয়ত ওর আর উত্তর দিতে হলনা। কিন্তু উক্ত রমণী এতটাই কিউরিয়াস যে অজ সেই একই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি।
তবে আজ আমি উত্তর দেওয়ার জন্য ছিলাম যথেষ্ট প্রস্তুত। বাড়ির কাজ পুরা করে গিয়েছিলাম তো ?

আজকের কথা বলার ধরনটা ছিল অনেকটা এমনঃ

:- ভাইয়া কালকে সময়ের জন্য উত্তরটা জানা হল না।
: :O কোনটা? (ভাব লইলাম)
:- ওই যে, প্রকৃতি গঠন গত ভাবে নারী পুরুষকে সমান করে তৈরি করেছে?
:ওঁ।
আসলে, অধিকারের ব্যপারটা আসে দায়িত্বের পরে। তুই এইটা চিন্তা কর যে তোর প্রতি বেশি যত্নবান, নিঃশন্দেহে তোর উপর তার অধিকার টাও বেশি হবে।?
:- :O ভ্রু কুচকাল
: মনে কর তোর আজকের এই পর্যন্ত আসার পেছনে সবচেয়ে বেশি অবধান তোর মায়ের, বাবার, বড় ভাইয়ের আথবা অন্য করোর।?
তাহলে সে যেই হোক তার অধিকার তোর উপর বেশি থাকবে? (কথা বলার স্টাইলটা ছিল এমন. যে আমি তাকে প্রশ্ন করছি)
ও কিন্তু চুপ ছিল।
আবার আমি বলতে শুরু করলামঃ
আসলে হয়েছে কি? ইতিহাস বলে এই বর্তমান সভ্যতার ভিক্তি প্রস্তর স্থাপিত হয়েছে নারীদের হাতে। ফলে আজকের এই সভ্যতা যত বড়ই হোক নারীর অবধান না থাকলে আমরা এই পর্যন্ত আসতে পারতাম না।
পুরুষদের হাতে যদি এ সভ্যতার ফাউণ্ডেশন হইত তাহলে অনেক আগেই সভ্যতার অবকাঠামো ভেঙ্গে যেত।
ফলে এই দিক দিয়ে এই আধুনিক সমাজ নারীজাতীর প্রতি ঋণী। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য হলেও নারীর অধিকার বেশি হওয়া উচিত্‍। ৫০-৫০ না হয়ে ৬০-৪০ হলেও আমি অখুশি হব না। তাদের অধিক সুযোগ সুবিধা দেওয়া উচিত্‍ বলে আমি মনে করি।
:- তাহলে স্বেচ্চাচারীতা আর পুরুষদের উপর আবার না নির্যাতন নেমে না আসে!
: বুদ্ধি বিত্তিক বিকাশটা পুরুষের তুলনায় নারীদের বেশি। আর তাই নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি মানবিক।
আর তাই অন্তত এই ভয়টা আমার নেই।

ওর চেহারায় একটা প্রশ্ন দেখলাম?
আমি আবার বলতে শুরু করলামঃ
বিবর্তনের প্রথম থেকেই পুরুষ দের কাজ কার্বার ছিল শিকার আর পশুর সাথে। আর তাই তাদের মধ্যে এখনো সেই পশুত্বটা রেয়েই গেছে। আর নারীর কাজ ছিল সন্তান উত্‍পাদন আর তা লালন পালন করা। মাতৃস্নেহে যে নারী সভ্যতাকে গড়ে তুলেছে, সে অন্তত আর যাই করুক না কেন অত্যাচারী হতে পারে না।

আমার মনে হয় আমার উত্তরে সে খুশি হয়েছে।

এর পর সালমা (ওর নাম সালমা, আমার ক্লাশের ফার্স্ট গার্ল, অত্যন্ত মেধাবী, ক্লাশে নম্বরের দিক দিয়েও এক নম্বর) বললঃ আসলে ভাইয়া আমাকে ব্যপারটা এর আগে কেউ এভাবে বলে নাই। তবে আমি আমার বাবার সম্পত্তির চার ভাগের এক ভাগ নিয়েই খুশি।
(এতক্ষণ এই মাইয়ারে কি কইলাম আর এর আউট পুট কী? বৃথা সবই বৃথা 🙁 )
আমি বললামঃ চার ভাগের এক ভাগ কেন? বর্তমান আইনও তো ভাইয়ের অর্ধেক তাই না?
:- আসলে কি বাবার সম্পদের উপর আমার লোভ নাই। হয়ত আমি সেই সম্পত্তি আমি আনবও না! তবে বাবাকে বলেছি আমার সম্পদের দরকার নাই তবে তোমার বাড়ি থেকে আমাকে বঞ্চিত করোনা।
: (কি কয় এইডা?)
:- মাঠের জমিতে মেয়েরা পাওনা হয় আর ছেলেরা পাওনা হয় বাড়িও মাঠে। ছুটি কাটাতে যখন বাড়ি যাব তখন যেন ভাইয়ের ঘরে উঠতে না হয় সেই জন্য বাড়ির দরকার। বাড়িতে আমাকে জায়গা দিলে সেখানে একটা ঘর তুলব! আমার নিজের বলে অন্তত একটা কিছু হল।

পাদটিকাঃ হাজার বছরের সংস্কার আমাদেরকে এমন নিচু মন মানুষিকতায় তৈরি করেছে যে, যার যার প্রাপ্য সম্মানটি দিতেও কার্পণ্য করি।

১২ thoughts on “ওদের অধিকারটা একটু বেশিই হওয়া উচিত্‍

  1. উপস্থাপনায় নতুনত্ব আছে। পড়ে
    উপস্থাপনায় নতুনত্ব আছে। পড়ে বেশ মজাও পেলাম, অনেক কিছু নতুন ভাবে চিন্তা করার খোরাক যোগাল। তবে এতো সুন্দর একটা লেখায় বেশ কিছু বানান ভুল আছে, সম্ভবত তাড়াহুড়ার কারনে। এইদিকে একটু যত্নবান হবেন আশা করি।

    1. বানান ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে
      বানান ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। বারবার সাইন আউট হয়ে যাচ্ছিল, আবার টইপ করেছি বাসে বসে, বেশ কয়েকবার আপলোড করার পরও লেখাটা পোষ্ট হচ্ছিল না।
      অনেক দিন পরে ব্লগে লিখলাম বারবার মনে হচ্ছিল বেশকিছু দিন পরে আসার কারনে হয়তবা আমার লেখা পোষ্ট হচ্ছেনা।

      আর তারা তো ছিলই। বাসটা ছিল গাবতলীর ৭ নম্বর বাস। আর সময়টা হচ্ছে ভর দুপুর। ক্লাশ শেষে ক্লান্তিও ছিল। সব মিলিয়ে বানান ভুলের জন্য দুঃখীত

  2. গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়ে
    গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছিলেন । লেখাটা আমার কাছে গোছালো মনে হয়নি । নারী – পুরুষের পার্থক্য অবশ্যই আছে তবে সেটা প্রাকৃতিক । মানে শারীরিক গঠনগত ও সন্তান ধারনের ক্ষেত্রে ( যদিও শুনেছি পুরুষ ও নাকি কোথাও কোথাও সন্তান ধারণ করেছেন, যেহেতু এটি ব্যতিক্রম তাই উদাহরণ হিসেবে আসছে না )

    জেন্ডার আলোচনায় নারী -পুরুষের দুই ধরণের লৈঙ্গিক পার্থক্য ‘র কথা আমরা জানতে পারি । যথা –
    ১। প্রাকৃতিক লিঙ্গ
    ২। সামাজিক লিঙ্গ
    আমাদের ভাঁওতাবাজ পিতৃতান্ত্রিক সমাজ নারী – পুরুষের প্রাকৃতিক পার্থক্য’র সাথে তার নিজের সৃষ্ট পার্থক্য বেশ কৌশলে ঢুকিয়ে দিয়েছে । একেই লৈঙ্গিক রাজনীতি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় । সারা পৃথিবীতে এই রাজনীতি দারুণ সমারোহে মঞ্চস্থ হচ্ছে । এজন্য আমাদের দেশের দুই প্রধান শীর্ষ নেত্রী নারী হওয়া সত্ত্বেও এবং ক্ষমতার চূড়ায় অবস্থান করেও আসলে পুরুষের এই রাজনীতির পুনরুৎপাদন করে যাচ্ছে । সেবা দাসি পরিণত হয়েছে তারা । তারা নারী হয়েও নারী’ কে দেখে পুরুষের চোখে । নারীর চোখে বিশ্বকে তারা দেখতে পায়না । আর তাই, খালেদা জিয়া যখন শফির মতো লোকদের চূড়ান্ত রকমের নারী বিদ্বেষী কথা বার্তায় রা করেনা । তখন তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই ।

    আপনাকে ধন্যবাদ । এর উপরে আর লেখা লেখি হওয়া দরকার । আরও আলোচনা করা দরকার । আজ এটুকু ।

    1. আপনাকে ধন্যবাদ!
      আলোচনার

      আপনাকে ধন্যবাদ!
      আলোচনার ট্রপিকটা আরো দীর্ঘ্য হয়ে যেত। ক্লাশের ফাঁকে ফাকে আলোচনা বুঝতেই পারছেন।

      আর আপনি যে ট্রপিকটা ধরেছেন ঐটা আমাদের কথাবার্তায় আসে নাই। আমার ইচ্ছে থাকলেও ওর প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটাই ছিল আমার মূখ্য উদ্যেশ্য। ফলে এই সমস্ত বিষয় সাবধানে এরিয়েছি। আর সার্বিক বিবেচনার যে কথাটা বলেছি তার মধ্যে আপনার আলোচনার ব্যপার গুলোও চলে আসে। কিন্তু আমাদের কথো পোকথন টাই যে এখান মুল বিষয় ছিল।
      পরে আরেক দিন এসব বিষয়ে আলোচনা করা যাবে

  3. লিখাটা অগোছালো হলেও খুব
    লিখাটা অগোছালো হলেও খুব গুরুত্বপুর্ন একটি বিষয় তুলে ধরেছেন ।বেশির প্রয়োজন নেই, সমানাধিকারটা প্রতিষ্টা পেলেই খুশি ।

    কবির ভাষায়…
    এ বিশ্বের যা কিছু সৃষ্টি
    চির কল্যানকর,
    অর্ধেক তার করিয়াছে নারী
    অর্ধেক তার নর ।

    1. লেখাটা অগোছালো থাকাটা আমার
      লেখাটা অগোছালো থাকাটা আমার কাছে একবার মনে হয়েছিল এডিট করে গুছিয়ে নেই কিন্তু, দু’জন ব্যক্তি আবায় যারা বাস্তব জীবনেই গোছালোনা তাদের কথা বার্তায় তার ছাপ কিছুটা থাকেই পারে।
      এই পোষ্টের প্রত্যেকটি বাক্য এক একটি বাস্তব সময়কে ব্যাখ্যা করে। আর প্রকৃতি মনেহয় বিশৃংখলাকেই পছন্দ করে। তাই এডিট করে তার শৃংখলা ফেরাবার চেষ্টা করি নাই।
      ধন্যবাদ!

      1. মাজেদুল হাসান,
        ” প্রকৃতি

        মাজেদুল হাসান,
        ” প্রকৃতি বিশৃংখলাকেই পছন্দ করে ” । আমি এতদিন জেনে এসেছি প্রকৃতি অপার বৈচিত্র্য’র জননী । আপনার ধারনাটা জানতে মন চাইছে :ভাবতেছি:

        1. রাহাত
          রাহাত মুস্তাফিজ,

          তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র অন্তত তাই নির্দেশ করে। আর প্রকৃতির সৌন্দর্যের কথা বলছেন?

          বনোলতার সৌন্দর্য কিন্তু সব সময়ই উদ্যান লতার চেয়ে বেশি। আর সেই সৌন্দর্যের রহস্য কিন্তু তার বিশৃংখলা

  4. হাজার বছরের সংস্কার আমাদেরকে

    হাজার বছরের সংস্কার আমাদেরকে এমন নিচু মন মানুষিকতায় তৈরি করেছে যে, যার যার প্রাপ্য সম্মানটি দিতেও কার্পণ্য করি।

    — চরম বলেছেন!!
    এই বিষয়ে আরও পোস্ট দরকার। কেউ কি নেই?
    রাহাত ভাই, আতিক ভাইয়ের কাছে দাবী থাকবে আপনারা কিছু কন্ট্রিবিউট করুণ।
    পোস্টকর্তার নবঢঙ্গে প্রবন্ধ লিখার স্টাইলটা চরম লেগেছে!
    মাজেদ ভাই :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন:

  5. পার্থক্য আর বৈষম্য এক বিষয়
    পার্থক্য আর বৈষম্য এক বিষয় না। নেচার নারী পুরুষে পার্থক্য করেছে। এই পার্থক্য বাহ্যিক ও অচরনগত। নারী পুরুষে পার্থক্যকে অনেকে বৈষম্য মনে করে। এরাই তেতুল ও কলা প্রজন্মের পুরুষ। অনেকে বুজতে না পারায় ভুল করে। বৈষম্য সমাজ তৈরি করে। সোজা ভাষায় পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। এই তন্ত্র এমন ব্যবস্হাপনা তৈরি করে যেখানে অবকাঠামোও পুরুষের চোখে বিশ্ব দেখে। হাসিনা খালেদার প্রকাশ ভঙ্গিকে কেউ নারীর প্রকাশ ভঙ্গি ভাবলে ভুল করবেন। এরা নারী হলেও তন্ত্র এদের মন্ত্রে রেখেছ।
    পার্থক্যের অবসান চাইনা, বৈষম্যের অবসান চাইইই

  6. ঠিকই বলেছেন। অনেক উচ্চশিক্ষিত
    ঠিকই বলেছেন। অনেক উচ্চশিক্ষিত নারীর মুখ থেকেও এমন কথা শুনা যায়। বাবার সম্পত্তি নিতে লজ্জা বোধ করে। অথচ তাদের এই লজ্জা এক অর্থে নারীত্বের প্রতি লজ্জা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *