ক্রিয়েটিভ ধান্ধাবাজি

প্রবাসী বন্ধু যুবরাজের সৌজন্যেই বছর খানেক আগে একটা অবিশ্বাস্য কাহিনী জানলাম, এক চাইনিজ ব্যাবসায়ী দুবাইর একটা ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে পন্য কিনে বিল বাবদ একটা বেশ বড় অঙ্কের চেক দেয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সপ্তাহের শেষ দিনের শেষ সময়ের লেনদেন হওয়ায় তাৎক্ষনিক ভাবে চেকটা ব্যাঙ্কে জমা দেওয়া সম্ভব হয় নাই চেক গ্রহিতার পক্ষে …..

পরের সপ্তাহে চেকটা ব্যাঙ্কে জমা দিতে গিয়ে তারা পুরাই কুতুব !! চেকের সিগনেচার ত বটেই সেই সাথে এমাউন্ট সহ যা কিছু লিখা ছিল , সব কিছু “তিব্বত ভ্যানিশিং ক্রিমে”র সাহায্য ছাড়াই সমূলে ভ্যানিশ, একবারে ফকফকা !!!

প্রবাসী বন্ধু যুবরাজের সৌজন্যেই বছর খানেক আগে একটা অবিশ্বাস্য কাহিনী জানলাম, এক চাইনিজ ব্যাবসায়ী দুবাইর একটা ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে পন্য কিনে বিল বাবদ একটা বেশ বড় অঙ্কের চেক দেয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সপ্তাহের শেষ দিনের শেষ সময়ের লেনদেন হওয়ায় তাৎক্ষনিক ভাবে চেকটা ব্যাঙ্কে জমা দেওয়া সম্ভব হয় নাই চেক গ্রহিতার পক্ষে …..

পরের সপ্তাহে চেকটা ব্যাঙ্কে জমা দিতে গিয়ে তারা পুরাই কুতুব !! চেকের সিগনেচার ত বটেই সেই সাথে এমাউন্ট সহ যা কিছু লিখা ছিল , সব কিছু “তিব্বত ভ্যানিশিং ক্রিমে”র সাহায্য ছাড়াই সমূলে ভ্যানিশ, একবারে ফকফকা !!!

আসলে কলমটার বিশেষত্বই ছিল এমন যে, সে কলম দিয়ে কিছু লিখা হলে তা একটু পরেই মুছে যায় ! আর এই কলমের মারফত্‌ উন্মোচিত হলো ধান্ধাবাজির এক নতুন দিগন্ত ….!!

সাধে কি আর এদেশে দুর্দান্ত বাটপারিমুলক বুদ্ধিবৃত্তিকে “চীনা বুদ্ধি” হিসাবে ব্যাপক ভাবে আখ্যায়িত করা হয় !!

একটু আগে একটা পত্রিকায় আরেক অনন্যসাধারণ সৃজনশীল ধান্ধাবাজির অভিনব কাহিনী পড়ে কেবল মুগ্ধই নয় রীতিমত আবেগাপ্লুত হলাম ->
“এক অভিনব ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে । নগ্ন শরীর দেখিয়ে ছিনতাই করল এক নারী ও তাঁর বয় ফ্রেন্ড ।সুইমিংপুলে এক নারী তার নগ্ন শরীর দেখিয়ে এক লোকের মনোযোগ আকর্ষণ করে, অন্যদিকে ঐ নারীর সহযোগী পুরুষ তখন অমনোযোগী লোকের বাড়ি থেকে অস্ত্র, গহনা এমনকি বাড়ির মালিকের ঔষধ সহ দামী জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয়।ঘটনাটি ঘটে যুক্তরাষ্ট্রের টেনিসির ক্রসভাইলে ।

ঐ ছিনতাই জুটি ৫৪ বছর এক বয়স্ক লোকের বাড়িতে গিয়ে গত শনিবারের গ্রীষ্মের দুপুরে তার ঠাণ্ডা পানির সুইমিং পুলে গোসল করার আবদার জানায়। আর এর পর পরই ৩০ বছর বয়সী ঐ নারী নগ্ন হয়ে সুইমিংপুলে নেমে পড়ে। এরপর সঙ্গের লোকটি সিগারেট আনার নাম করে সরে পড়ে। বাড়ির ঐ মালিক যখন পুলের পাশে এক চেয়ারে বসে প্রায় ২০ মিনিট ধরে ঐ নারীকে দেখতে থাকে, সেই ফাকে সঙ্গী পুরুষ বাড়িতে ছিনতাই করে। পুলিশ রিপোর্ট অনুযায়ী মালিকের অস্ত্র, গহনা, ঔষধ, মালামাল সহ নগদ অর্থ খোয়া গেছে “” !!!!

চরম সৃস্টিশীল এই বাটপার কাপল “ধাপ্পাবাজি” ব্যাপারটাকে কে প্রায় শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন , তেনাদের শ্রদ্ধা…. তারা আরো নিত্য নতুন কৌশল উদ্ভাবন করে ধান্ধাবাজির ইতিহাস কে আরো সমৃদ্ধ কর্বেন, সেটাই আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা…..

তবে আমাদের খাটি বঙ্গীয় ধান্ধাবাজরা ও কম না, তারা ও বিশ্বমানের বাটপার ! একটু ভুল বললাম বোধয় বরং বলা উচিত- বিশ্বমানের বাটপাররা এই বিষয়ে আরো উন্নত এবং উচ্চতর শিক্ষা গ্রহনের জন্য টুডে/ টুমরো আমাদের দ্বারস্থ হবে … যাই হোক, বহু কাল আগের এক চিটিংবাজির ঘটনা আমার আজীবন মনে থাকবে, ১৯৯১ সালের ঘটনা, তখন আমার বয়স ৯/১০, থাকি চট্টগ্রামের এক সরকারি কলোনীতে … …
ভয়াল ২৯শে এপ্রিলের ঘটনা তখন একেবারে দগদগে…… বৃহত্তর চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার সেই ঘুর্নীঝড়ে মাটির সাথে মিশে যায়……….. সরকারী হিসাবে প্রায় ১ লাখ লোক মারা যায় সে ঝড়ে, আর বেসরকারী হিসাবের কথা নাইবা বললাম ! যাই হোক, সেই ঝড়ের ৩/৪ মাস পর হঠাৎ একদিন রাত ২টা বা আড়াইটার দিকে কয়েকজনের কোরাস “ভুমিকম্প আইয়ের ভূমিকম্প” ! আওয়াজের সাথে সাথে কলোনীর সব মানুষ-জন “পুরাই বিদিক” হয়ে পিলপিল করে নিচ্বে নেমে আসতে থাকে …… সে এক আতঙ্কময় পরিস্থিতি , আতঙ্কের চোটে পাবলিকের মনেই ছিল না যে ভুমিকম্প কখনোই পুর্বাভাস দিয়ে আসে না !! কথায় আছে না, ঘর পোড়া গরু সিদুরে মেঘ দেখলেই আতঙ্কিত হয়ে যায়”, ২৯শে এপ্রিলের পর চট্টলাবাসীর ও সেই একই অবস্থা !!

যাই হোক, আধঘন্টা পর্যন্ত ভুমিকম্পের কোন “আলামত” না পেয়ে সব পাবলিক আস্তে ধীরে বাসায় ফিরতে শুরু করল …… একটু পরই অবশ্য সবাই বুঝতে শুরু করলো শেষ রাতের এই “ভুমিকম্প ভুমকম্প” চিৎকারের ফজিলত !!

পাবলিক যখন আতঙ্কিত হয়ে দরজায় তালা-তুলা না মেরে দিকবিদিক শুন্য হয়ে বাসা থেকে বেরুলো, তারপরই শুরু হলো ভুমিকম্প পার্টির “খালি মাঠে গোলে”র মত “খালি ঘরে গণ-চৌর্যবৃত্তি” !!!

সো, গাইজ & বেবজ ইটস কল্ড ক্রিয়েটিভ ধান্ধাবাজী !! এন্ড উই আর দ্য মার্কেট লিডার ইন দিস সেগমেন্ট !!

পুনশ্চঃ আমাদের দুর্ভাগ্য, তখন যদি আমাদের প্রানপ্রিয় স্বরাস্ট্র মন্ত্রী সাহারা খাতুন থাকতেন, তাইলে হয়ত এভাবে চুরি চামারি হত না ! পাবলিক ঘর থেকে বের হবার আগেই হয়ত তিনি সবাইকে তার “তালা বিষয়ক” সেই কিংবদন্তীসম মহা মুল্যবান উপদেশখানি আরামসে বিলি বন্টন করতে পারতেন-

“ঘর থেকে বের হবার আগে তালা মেরে বের হবেন” !!

তাতে পাবলিক ও পুরোপুরি এলার্ট থাকত আর এতটা প্রানহানীও ঘটত না , মন্ত্রীর আদেশ বলে কথা ! তেনাদের আদেশ সব সময়ই শিরোধার্য ……

১৪ thoughts on “ক্রিয়েটিভ ধান্ধাবাজি

  1. বাটপারির উপর একটা
    বাটপারির উপর একটা ইউনিভার্সিটি খুলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাবলিককে ফেলোশিপ অফার করা যাইতে পারে। ইনকাম খারাপ হবে না। :ভেংচি:

    1. হাহাহা গ্রেট আইডিয়া আতিক ভাই,
      হাহাহা গ্রেট আইডিয়া আতিক ভাই, দেশের জন্য এইটা ব্যাপক সম্ভাবনাময় একটা খাত, এই “ধাপ্পাবাজি শিক্ষা খাত” থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করা সম্ভব … :ভেংচি:

  2. ক্রিয়েটিভ ধান্ধাবাজি সম্পর্কে
    ক্রিয়েটিভ ধান্ধাবাজি সম্পর্কে জানলাম – কিন্তু এইটা কর্মে প্রয়োগ ঘটাতে পারবোনা বলে আফসোস হচ্ছে 😀

    1. কিছু কিছু আফসোস বাস্তবে পরিনত
      কিছু কিছু আফসোস বাস্তবে পরিনত না করে চিরকালৈ মনের মধ্যে লালন করা উত্তম ……ফিলিং সক্রেটিস :ভেংচি:

  3. প্রথমটা শুনে আমি তো একেবারে
    প্রথমটা শুনে আমি তো একেবারে টাশকিত!ভয়ে আছি, দুনিয়াটা না ধান্ধাবাজ হয়ে যায়!
    ….. ফিলিং …. গোলাম মাওলা রনি ।

  4. শেষে এসে বিষয়টি হালের ফ্যাশন
    শেষে এসে বিষয়টি হালের ফ্যাশন হয়ে গেলো। দলীয় মতাদর্শে করে থাকলে কিছু বলার নাই কিন্তু ফান করে বললে বলব এই ফান কাউকে শোধরাবেনা, প্রতিবিপ্লবের হাতকে শক্তিশালি করবে

    1. মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ভাই
      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ভাই ….. নাহ, এখানে কোন রাজনৈতিক মতাদর্শ খোজার মত জটিল কিছু নাই, “পুনশ্চ “টা লিখার সময় অবশ্য আমি ও ভাবতেছিলাম যে , এটা লিখব কিনা ….. পরে ভাবলাম, তালা চাবির ব্যাপারটার সাথে যেহেতু সাহারা খাতুনের ঐতিহাসিক “বাণী” টা সামঞ্জস্য পুর্ন, তাই এটা দিলে অপ্রাসঙ্গিক হবে না হয়ত …. আর এই ডায়ালগটা যদি মখা আলমগির বা লুতফজ্জামান বাবর পয়দা করতেন তাইলে আমি সাহারা খাতুনের বদলে তাদের নামৈ লিখতাম , এখানে রাজনৈতিক কোন মতাদর্শ খুজতে যাওয়ার কিছু নাই ভাই ….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *