শৈশব ও কৈশোর:অতীত ও বর্তমান

কেনো জানি নস্টালজিক হয়ে যাচ্ছি।ছোটবেলার কথা মনে পড়ছে।মনে হচ্ছে এই তো সেদিন রংপুর থেকে ঢাকা এলাম।যদিও এর মধ্যে নয় দশ বছর হয়ে গেছে।আমার জন্ম হয়েছিল বাসাবো কদমতলায়।সেখান থেকে বনানী।বনানী থেকে একেবারে রংপুর।রংপুরের কথা এখনও ভুলতে পারি নি।ছুটির দিন পেলেই চলে যেতাম রামসাগর।অসাধারণ সুন্দর সুন্দর পার্ক ছিল রংপুরে।বাবা মা আর আমি মিলে ঘুরে বেড়াতাম।প্রাচীন কালের রাজবাড়ি ছিল একটা।দেখলেই ভয় পেতাম।এমন সময় একদিন বাবার ট্রান্সফারের অর্ডার হল।আনন্দ মালটিমিডিয়া স্কুলে পড়তাম আমি।যেদিন স্কুলের শেষদিন ছিল স্যার ম্যাডাম থেকে শুরু করে সব বন্ধু কেঁদে দিয়েছিল।ঢাকা এসে ভাড়া নিলাম বাসাবোতে।নতুন বাসায় বন্ধু হতে সময় লাগল না।আমার চেয়ে সবাই তিন চার বছরের বড় ছিল।জিম সেজান সিয়াম চিত্রা জীবন এদের কথা এখনও ভুলি নি এবং ভুলবও না।মনে পড়ে ১৬ ডিসেম্বরের আগের রাত্রে সবাই কষ্ট করে ছাদ পতাকা দিয়ে সাজানো।কিংবা ঈদের আগের দিন তারাবাজি নিয়ে মজা করা।কোনবার তো তারবাজি দিয়ে আগুনই ধরিয়ে ফেলেছিলাম।পূজার দিন সবাই মিলে মেলা দেখতে যাওয়া।তখন তো আর এখনের মত ঘরে ঘরে আইপিএস ছিল না।কারেন্ট গেলেই সবাই ছাদে চলে আসতাম।কোনোদিন লুকোচুরি কোনোদিন দাবা আবার কোনোদিন বা টর্চলাইটের আলোতে ফুটাবল খেলতাম॥আমাদের কাছে ধর্ম প্রাধান্য পায় নি আমাদের কাছে বয়স প্রাধান্য পায় নি,কয়েকটি শিশু কিশোর মন শুধু এক হয়ে গিয়েছিল।বৃষ্টি পড়লে আমরা ব্যস্ত হয়ে পড়তাম ছাদের পানি সরানো নিয়ে কেননা খেলা শুরু করতে হবে।সাতচারা ফুটবল ক্রিকেট দাবা বোমবাস্টিং কোনো খেলাই বাদ দেই নি॥
এখন সবাই আধুনিক।এখন বৃষ্টি পড়লে মাঠের কাদা নয় বরং ভাবা হয় কি স্ট্যাটাস দিবে তা নিয়ে।সাতচারা তো এখনো অনেক ছেলে নামই শুনে নাই।এর আগে ঈদ বা পূজায় যে আনন্দ থাকত এখন কী আর ফেসবুকে ঈদ মোবারক স্ট্যাটাস দিলে সেই আনন্দ পাওয়া যায়?মনে পড়ে ছোটবেলায় কত ঘুড়ি উড়াতাম আর ঘুড়ির কতগুলে প্যাঁচ জানতাম॥আর সুতায় মাঞ্জা দিতে গিয়ে হাত কেটে গেলে এক অদ্ভুত তৃপ্তিতে মুখে হাসি ফুটে উঠত।এখন তো কেউ ঘুড়িই ওড়ায় না।এত সুন্দর শৈশব এখন টিভির সিরিয়াল কার্টুন কিংবা মোস্ট ওয়ান্টেড ২ বা ব্ল্যাক ওপস দিতে পারবে না॥এখন তো কেউ প্রতিবেশীদের খবরও রাখে না॥আর আমার কাছে তারা ছিল ভাই বোনের চাইতেও বেশি॥
এ সমস্যার প্রতিকার মনে হয় সম্ভব না॥নেই কোনো খেলার মাঠ নেই পিতা মাতার দায়িত্ববোধ॥কী করব আমরা?

৭ thoughts on “শৈশব ও কৈশোর:অতীত ও বর্তমান

  1. নস্তালজিক করে দিলেন । আমার
    নস্তালজিক করে দিলেন । আমার ছেলেবেলায় এর সব খেলাই আমারা খেলেছি । একসাথে দল বেঁধে । বৃষ্টি এলে কার সাধ্য ছিল আমারে আটকায় । আর এখন ভিজতে ইচ্ছে হয় তবে সাথে ভয় থাকে সর্দি বাধিয়ে ফেলার …

    1. এখনকার বাবা মা মনে করেন আকাশ
      এখনকার বাবা মা মনে করেন আকাশ থেকে বৃষ্টি না যেন এসিড পড়ছে॥অথচ আমাদের ছোটবেলায় পারলে মা ও আমার সাথে ভিজতেন

  2. আগে যখন আমাকে ভাবতে হত এতগুলো
    আগে যখন আমাকে ভাবতে হত এতগুলো খেলার মাঠের মধ্যে কোনটা ভাল হবে আর এখন সবাইকে ভাবতে হয় খেলার মাঠ পাব তো!

  3. একটা জিনিস জানার খুব আগ্রহ
    একটা জিনিস জানার খুব আগ্রহ আছে আমার। আমরা যেমন আমাদের দুরন্ত শৈশব নিয়ে গর্ব করি, নস্টালজিক হই; এখনকার শিশুরাও কি একসময় এরকম গর্ব করবে তাদের এই শৈশব নিয়ে? অর্থাৎ সবার কাছেই তার নিজ নিজ শৈশব রঙিন?

    1. আতিক ভাই ,
      আমার মনে হয় রঙ্গিন

      আতিক ভাই ,
      আমার মনে হয় রঙ্গিন হওয়ার জন্য রং, তুলি ও ক্যানভাস লাগে । আমরা যে ক্যানভাসে আঁকা ছবি থেকে এসেছি । সেটা ওদের কাছে রুপকথার মতো মনে হবে একসময় । তবে এটাও ঠিক ওরা ওদের গণ্ডিবদ্ধ শৈশবের ছবিকেই ওদের মতো করেই স্মরণীয় করে রাখবে এবং তুলে রাখবে বুক পকেটে । যে কখনো সমুদ্র দেখে নাই, সমুদ্র’ র বিশালতা তার কাছে কোন অর্থ নিয়ে হাজির হয়না ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *