কুরআন ও হাদিস কি মাদ্রাসা হুজুরদের ধর্ষক হয়ে ওঠার কারণ?

পত্রিকা খুললেই খুবই সাধারণ একটি  খবর: মাদ্রাসার ছাত্র/শিক্ষক দ্বারা সহপাঠী/ছাত্র-ছাত্রী বা মহিলা ধর্ষিত। এখন এটা একেবারে মুরি-মুড়কির মতন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। প্রশ্ন জাগে যে এত ‘সুন্দর’ ধর্মীয় পরিবেশে, এতো কঠোর যৌনতা-হীন পরিবেশে থেকেও কেন তারা ধর্ষণ করে? ইসলামই একমাত্র ধর্ম যেখানে কঠোরভাবে নারীদেরকে পাবলিক স্পেইস থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। একটি ইসলামী সমাজে আপনি আপনার মাহরাম বাদে কোন নারীর দেখা পাবেন না। ইসলামে আইনবহির্ভুত যৌনসম্পর্কের শাস্তি ভয়াবহ। আপাতদৃষ্টিতে এবং মুসলিমদের দাবী অনুসারেও এত পবিত্রতা ও সংযমের ধর্ম আর একোটিও নেই। কিন্তু ধর্ষণ চলছেই। কোন শাস্তির ভয়, সংযমের তাড়না ওনাদের থামাতে পারছে না। মাদ্রাসার বিবাহিত শিক্ষকরাও ধর্ষণে জড়িত। তাদেরতো যৌনসংগমের ব্যবস্থা আছে। তবে কেন অনেক মাদ্রাসা পড়ুয়ারা ধর্ষক হয়ে ওঠে? 

মিশরের যৌনদাসী বাজার (১৯১০); অংকনঃ সুইস শিল্পী অটো পিলনি। বহু বছর তিনি মিশরের বেদুইনদের মাঝে কাটিয়েছিলেন। ছবিতে শিল্পী প্রতিটি চরিত্রের এক্সপ্রেশন খুব সফলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। খদ্দেরদের নির্মোহ দৃষ্টি, যেন সামান্য একটা পন্য খরিদ করছে। বিক্রেতাদের তোষামুদে ভঙ্গি, মনে হয় যেন গবাদিপশু বিক্রি করছে। বস্ত্র পরিহিতা দাসীর মুখে অসহায় ভাব, অন্যদিকে চরমভাবে অপমানিত বিবস্ত্র দাসীর চোখে-মুখে একই সাথে আতংক ও ঘৃণা। 

এটা বুঝতে হলে আমাদেরকে একটু ইসলামী লিটারেচার- কুরআন, হাদিস ও সিরাতের দিকে তাকাতে হবে। দেখতে হবে ইতিহাসে যেই নবী, সাহাবী, তাবে-তাবেই, সালাফ, যাদেরকে অনুকরণীয় মানব হিশেবে উপস্থাপন করা হয় তাঁদের যৌন-জীবন কেমন ছিলো। দেখা যায় এইসব অনুকরণীয় পুরুষদের অবাধ যৌন-স্বাধীনতা ছিলো। স্বয়ং নবীর ছিলো ১২ জন স্ত্রী ও অন্তত দুইজন যৌন-দাসী। প্রতিটি সাহাবীর একাধিক স্ত্রী ও অসংখ্য যৌন-দাসী ছিল। নবী যদিও নিজে বাদে অন্য কাউকে চারের অধিক বিয়ে করতে দেননি, কিন্তু  প্রায়ই সাহাবীরা বর্তমান স্ত্রী তালাক দিয়ে নতুন স্ত্রী গ্রহণ করতেন। এটাতে কোন বাধা ছিলো না। একসাথে চারের বেশী না রাখলেই হলো। তবে ওনারা সর্বোচ্চ যৌন-স্বাধীনতার স্বাদ পেতেন দাসপ্রথা থেকে। বাজারে গিয়ে গরু-ছাগলের মত যৌন-দাসী কিনে আনতে পারতেন। বাড়িতে এনে ভোগ করে আবার পরের দিন বেঁচে দিতে পারতেন। কেবল খেয়াল রাখতে হতো যে দাসী প্রেগনেন্ট না হয়ে পরে। এই উদ্দেশ্যে আযল (গর্ভের বাইরে বীর্যপাত) করার সম্মতি মুহম্মদই দিয়েছিলেন।

তবে ওনারা যৌন-দাসীর সবচেয়ে বড় যোগান পেতেন জিহাদ থেকে। বানু কুরাইজার বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ের পরে রীতিমতো সাহাবীদের মাঝে যৌন-দাসী নিয়ে কাড়াকাড়ি পরে যায়। এসময় মুহম্মদ নিজেও সুন্দরী রাইহানাকে দাসী হিসেবে করায়ত্ত করেন। যুদ্ধের মাধ্যমে দাসী সংগ্রহের রীতি ইসলামী খেলাফতের চূড়ান্ত পতনের সময় পর্যন্ত অব্যাহত ছিলো। মুসলিমরা কখনোই যৌন-দাসী রাখাকে খারাপ মনে করতেন না।  

প্রাক আধুনিককালের মুসলিমদের এমন যৌনাচার আসলে গোপন কোন বিষয় নয়। তবে সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষেরা এগুলো জানে না এবং জানার তাঁদের তাদের দরকারও নেই। কারণ বর্তমানে দাসপ্রথা ও অবাধ জিহাদের চল আর না থাকায় পুরো ব্যাপারটিই এখন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে। সবাই এখন মোটামুটি একবিয়ের মনোগেমাস রিলেশনশিপে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে। এটাই এখন সোশাল নর্ম। তবে সমাজের একটা বড় অংশ মাদ্রাসা পড়ুয়া এবং তাঁরা এসব অনুকরণীয় বুজুর্গ ব্যক্তিদের অবাধ যৌনাচারের ইতিহাস জানে। তাঁরা দেখে তাঁদের পূর্বসূরিরা ইচ্ছামত বহুগামিতা করেছে। ঘরে অসংখ্য দাসী রেখেছে। ইচ্ছে হলে একজনকে বেঁচে দিয়ে আরেকজনকে কিনে নিয়ে এসেছে। এমন যৌন-জীবন তখন এই মাদ্রাসা পড়ুয়ারাও আশা করে। কিন্তু এখন সেই জিহাদও নেই, দাসবাজারও নেই, ইচ্ছেমত বিয়ে-তালাকও নেই। ফলে এই মাদ্রাসা পড়ুয়াদের মনে হতাশা দেখা দেয়। তাঁরা চিন্তা করে তাঁদের পূর্বসূরিদের আল্লাহ খেলাধুলা, নাচগান বা অন্যান্য নিরীহ আনন্দ হারাম করে দিলেও অবাধ বহুগামিতার পথ উন্মুক্ত রেখেছিলেন। অথচ বর্তমান প্রজন্মের জন্য বহুগামিতার পথও প্রায় বন্ধ। এটা নিশ্চিত জুলুম। ফলে মাদ্রাসা পড়ুয়ারা মনে মনে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে এবং যত্রতত্র ধর্ষণের মাধ্যমে নিজেদের বঞ্চিত মনকে শান্ত করে। এটা নিয়ে অবশ্যই সাইকিয়াট্রিস্টদের গবেষণা করা উচিত। গবেষণার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে মাদ্রাসার সিলেবাস থেকে কুরআন, হাদিস ও সিরাতের যৌন-দাসী সম্পর্কিত বিষয়গুলো বাদ দেয়া বা সংশোধন করা দরকার। নইলে মাদ্রাসায় ধর্ষণের মিছিল বাড়তেই থাকবে।

১ thought on “কুরআন ও হাদিস কি মাদ্রাসা হুজুরদের ধর্ষক হয়ে ওঠার কারণ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *