বড় দুঃসময়

অতন্দ্রিলা!
ধ্রুপদী সন্ধ্যার আলোর মত তুমি এসেছিলে
আমার তখন ঘুটঘুটে বিচ্ছিরি অন্ধকার
বিশাল এক ফারাক ছিলো দু’জনার
টেক্কার বিবির মত, তোমায় যখন কাছে টেনে নিলাম
উল্টে-পাল্টে দেখতে লাগলাম
কি এক উদ্ভুত ক্ষমতা তোমার ।
চুর্ণ-বিচুর্ণ করে বিভক্ত করো অণু-পরমাণুতে
মেপে দেখতে চাও কত কুলম্ব ব্যাথা নিয়ে
বেচে আছি এই আমি ।



অতন্দ্রিলা!
ধ্রুপদী সন্ধ্যার আলোর মত তুমি এসেছিলে
আমার তখন ঘুটঘুটে বিচ্ছিরি অন্ধকার
বিশাল এক ফারাক ছিলো দু’জনার
টেক্কার বিবির মত, তোমায় যখন কাছে টেনে নিলাম
উল্টে-পাল্টে দেখতে লাগলাম
কি এক উদ্ভুত ক্ষমতা তোমার ।
চুর্ণ-বিচুর্ণ করে বিভক্ত করো অণু-পরমাণুতে
মেপে দেখতে চাও কত কুলম্ব ব্যাথা নিয়ে
বেচে আছি এই আমি ।
যতবারই গোপনাঙ্গে হাত রেখেছো
মনে হইনি দেহটাই মুখ্য ।
তুমি কেবল দেখতে চেয়েছো-
কতটুকু উষ্ণতায় একটি বেদনার হিমালয় গলে
একশো নদি হতে পারে ।
প্রসারিত উলংগ পিঠে যখন চুমু খেতে
মনে পড়ে যেত সৎ মায়ের আঘাতে
প্রতিষ্ঠিত অসামঞ্জস্য কিছু চিহ্নের কথা ।
খুব আশ্চর্য হয়ে তুমি দেখতে আর বলতে
কত মহাকাল ধরে এই গলিপথ বেয়ে
ছুটে গেছে মহাভারতের সামন্তবাদীরা ।
বড় দুঃসময় তখন-
ধার করা রিচ-ম্যানের শার্ট পড়ে ডেটিং-এ যেতাম
ফিরে এসে বন্ধুর চক্ষুবর্ণ দেখে মনে হতো
ওটা একটা কারবালার প্রান্তর ।
বন্ধু আমার ভালো ছিলো ।
শার্টে লেগে থাকা লিপিষ্টিকের দাগ
সে নিজেই তুলতো ।
বন্ধু আমার সুখেই আছে ।
বড় দুঃসময় তখন-
যখন তোমায় শেষবারের মত কাদতে দেখেছি
চোখ থেকে গাল বেয়ে যে অশ্রু পড়েছিলো
আমি তা অকালেই শুকিয়ে যেতে দেখেছি ।
তোমাকে ফেরাতে পারিনি ।
বড় দুঃসময় তখন-
মাসে আট হাজার টাকায় এনজিও-তে খাটি
বিসিএস ক্যাডার মঞ্জুরের হাত থেকে
তোমাকে বাচাবার কোন ক্ষমতাই আমার ছিলোনা ।
বড় দুঃসময় তখন-
শুনেছি, তুমি এখন আগের মতই হাসো
চুলের খোপাটা আগের ছেয়ে ঘন হয়।
তোমার কোলে নবজাতক খেলা করে
নতুন করে স্বপ্ন বাধো তুমি ।
বড় দুঃসময় এখন-
বৃদ্ধ বিধবা সৎমা’র চিকিতসার জন্য
প্রতিদিন অভারটাইম খাটতে হয় ।

১১ thoughts on “বড় দুঃসময়

  1. কি বলব ক্যামনে লিখেন
    কি বলব ক্যামনে লিখেন ভাই?
    অনেক অনেক অনেক ভাল লাগছে :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  2. শেষ’টা ম্যাড়মেড়ে হলেও অসাধারণ
    শেষ’টা ম্যাড়মেড়ে হলেও অসাধারণ একটা কবিতা লিখে ফেলেছেন ।
    খুব ভাল লাগলো । রুপক ও চিত্রকল্প দুর্দান্ত ! কিন্তু দু’ একটা অনুযোগ করছি …

    যতবারই গোপনাঙ্গে হাত রেখেছো
    মনে হইনি দেহটাই মুখ্য ।

    —- এখানে কি গোপনাঙ্গ ছাড়া আর কোন শব্দ বা রুপক ব্যবহার করা যেত না । এই জায়গাটা খুব বেশি শারীরিক হয়ে গেছে নান্দনিকতা’ কে ছাড়িয়ে । পুরো কবিতার মেজাজের সাথে বেমানান মনে হয়েছে ।
    — দু’ একটা বানান ভুল করেছেন । যেমন – চুর্ণ-বিচুর্ণ (চূর্ণ – বিচূর্ণ), ব্যাথা (ব্যথা), বেচে ( বেঁচে), হইনি ( হয়নি), নদি ( আমাদের চোখ নদী দেখতেই পছন্দ করে), কাদতে (কাঁদতে, আপনি যেটা লিখেছেন ওটা মাটি অর্থে ব্যবহার করা হয়), বাচাবার ছেয়ে(বাঁচাবার চেয়ে), বাধো ( বাঁধো ), অভারটাইম ( ওভারটাইম )
    —- কিছু পছন্দের পংতি …

    টেক্কার বিবির মত, তোমায় যখন কাছে টেনে নিলাম
    উল্টে-পাল্টে দেখতে লাগলাম
    কি এক উদ্ভুত ক্ষমতা তোমার ।
    চুর্ণ-বিচুর্ণ করে বিভক্ত করো অণু-পরমাণুতে
    মেপে দেখতে চাও কত কুলম্ব ব্যাথা নিয়ে
    বেচে আছি এই আমি ।

    ,

    বড় দুঃসময় তখন-
    ধার করা রিচ-ম্যানের শার্ট পড়ে ডেটিং-এ যেতাম
    ফিরে এসে বন্ধুর চক্ষুবর্ণ দেখে মনে হতো
    ওটা একটা কারবালার প্রান্তর ।

    ,

    বড় দুঃসময় তখন-
    মাসে আট হাজার টাকায় এনজিও-তে খাটি
    বিসিএস ক্যাডার মঞ্জুরের হাত থেকে
    তোমাকে বাচাবার কোন ক্ষমতাই আমার ছিলোনা ।

    ,

    শুনেছি, তুমি এখন আগের মতই হাসো
    চুলের খোপাটা আগের ছেয়ে ঘন হয়।
    তোমার কোলে নবজাতক খেলা করে
    নতুন করে স্বপ্ন বাধো তুমি ।

    1. কবিতা বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন
      কবিতা বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে আপনার তুলনা হয় না মুস্তাফিজ ভাই…
      আমার কাছে যথেষ্ট ভালই লেগেছে! লিখতে থাকুন @ হিমেল হাসান :থাম্বসআপ:

    2. অসঙ্খ্য ধন্যবাদ আপনাকে ।
      অসঙ্খ্য ধন্যবাদ আপনাকে । এভাবে যত্ন করে কেউ কখনো মন্তব্য করেনি । বানানের প্রতি আমার যে দুর্বলাতা তার দায়ভার আমারি । আশা করি আপনাদের (স্পেসালী আপনার) সহযোগিতা পেলে এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারবো । আপনার ফেবু আইডিটা দিলে ভালো হতো – রাহাত ভাই

      1. হিমেল, ভাই কেন যে আপনারা এতো
        হিমেল, ভাই কেন যে আপনারা এতো শরম দেন :দেখুমনা: আপনার কবিতাটি বেশ ভাল লেগে গেল, তাই ভাবলাম এমন একটি কবিতায় এতোগুলো বানান ভুল থাকা উচিৎ না । তাই ।
        আপনি কিন্তু এখনো সম্পাদনা করেননি । ভাই তাহলে কিন্তু আমার সময় দেওয়া বৃথা হয়ে যাবে ।
        আমার আইডি ঃ https://www.facebook.com/brommoputro

        1. আমি আসলে ব্লগে নতুন তাই খুব
          আমি আসলে ব্লগে নতুন তাই খুব একটা এখনো বুঝে উঠতে পারছিনা । ভাই কিছু মনে না করলে আমারে একটা বন্ধু অনুরোধ পাঠান প্লিজ
          https://www.facebook.com/constantlhimel.hasan

  3. আমার ভাবতে একটু অবাকই লাগে এই
    আমার ভাবতে একটু অবাকই লাগে এই ছেলেটাই মাত্র কয়েকটা দিন আগে শিবির রূপী জানোয়ারদের দা-চাপাতির কোপ খেয়ে মৃত্যুর সাথে লড়ে ফিরে এসেছে! অথচ অতন্ত সাবলীল ভাষায় লিখে যাচ্ছে মনের কথাগুলো। ভালো লাগল। বানানের দিকে একটু খেয়াল রেখো। ভালো থাকো সবসময় বিপ্লবী।

  4. দাদা আপনাদের জন্যি হয়তো বেচে
    দাদা আপনাদের জন্যি হয়তো বেচে আছি । আপনাদের ভালোবাসা আমাকে উজ্জিবিত করে । আশা করি এভাবেই আপনারা আমাদের বেচে থাকার আশা জোগাবেন । ভালোলাগা রইলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *