উত্তরাধিকার # ৮ম পর্ব

ধীরে ধীরে চোখ মেলল রুমন। ঘরটা অন্ধকার হয়ে আছে। বেশ কিছুক্ষণ লাগলো বুঝতে কোথায় আছে। সবকিছু মনে পড়া মাত্রই লাফ দিয়ে উঠে বসল সে বিছানায়। আরে, এখানে সে কখন আসল? সিলিঙের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারল এই রুমেই ঘুমিয়েছিল। তাহলে এতক্ষণ যেসব জায়গায় ছিল সেগুলো কি কল্পনা, নাকি স্বপ্ন?

শরীর ঘামে ভিজে গেছে। বিছানা থেকে নেমে দরজা খুলে বেলকনিতে এসে দাঁড়াল রুমন। চাঁদের আলোর তীব্রতায় চোখদুটো প্রথমেই বন্ধ হয়ে গেল। আশ্চর্য, পূর্ণিমা তো আগামীকাল। আজ তাহলে এত আলো কেন চারদিকে? সুপারমুনের রাত নাকি আজ?


ধীরে ধীরে চোখ মেলল রুমন। ঘরটা অন্ধকার হয়ে আছে। বেশ কিছুক্ষণ লাগলো বুঝতে কোথায় আছে। সবকিছু মনে পড়া মাত্রই লাফ দিয়ে উঠে বসল সে বিছানায়। আরে, এখানে সে কখন আসল? সিলিঙের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারল এই রুমেই ঘুমিয়েছিল। তাহলে এতক্ষণ যেসব জায়গায় ছিল সেগুলো কি কল্পনা, নাকি স্বপ্ন?

শরীর ঘামে ভিজে গেছে। বিছানা থেকে নেমে দরজা খুলে বেলকনিতে এসে দাঁড়াল রুমন। চাঁদের আলোর তীব্রতায় চোখদুটো প্রথমেই বন্ধ হয়ে গেল। আশ্চর্য, পূর্ণিমা তো আগামীকাল। আজ তাহলে এত আলো কেন চারদিকে? সুপারমুনের রাত নাকি আজ?

জমিদারবাড়ির প্রাঙ্গন চাঁদের আলোয় ভেসে যাচ্ছে। চাঁদটা মনে হচ্ছে লাফ দিয়ে অনেকখানি নেমে এসেছে। এজন্যই হয়ত আলোর বন্যা চারদিকে। জ্যোৎস্নাপ্লাবিত বেলকনিতে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ আগে দেখা স্বপ্নটার কথা ভাবল রুমন। কি জীবন্ত প্রতিটা ঘটনা আর চরিত্র। যা দেখেছে আর শুনেছে সেগুলো কি আদৌ ঘটেছিল নাকি জমিদারবাড়ি নিয়ে তাঁর বিক্ষিপ্ত মনের এলোমেলো ভাবনার চিত্রায়ন কে জানে। ভাবতে ভাবতেই পকেটে হাত দিয়েই স্থির হয়ে গেল রুমন। স্পষ্ট মনে আছে পকেটে কিছুই ছিল না ঘুমানোর সময়। তাহলে শক্ত শক্ত কি ঠেকছে হাতে। জিনিসটা পকেট থেকে বের করে চোখের সামনে নিয়ে আসা মাত্রই আতঙ্কের একটা তীব্র প্রবাহ তাঁর শরীর বেয়ে নেমে গেল। কিছুক্ষণের জন্য মাথায় কিছুই কাজ করল না। আশ্চর্য, এই তুলিটা তো সে অ্যাংলো ইন্ডিয়ান মহিলার রুম থেকে নিয়েছিল। এটা তাঁর পকেটে কিভাবে আসল?

*****
নুসরাত কিছুই চিন্তা করতে পারছে না। সে কেবল এতটুকুই জানে যে এই জমিদারবাড়ি থেকে তাঁকে পালাতে হবে যে কোন মূল্যে। এখানে থাকলে তাঁকে কেউ রক্ষা করতে পারবে না। এই অ্যাংলো ইন্ডিয়ান মহিলা কে, কেন তাঁকে সাহায্য করছে আর কিভাবেই বা তাঁকে এই বাড়ি থেকে পালাতে সাহায্য করবে কিছুই সে জানে না। শুধু জানে যে তাঁকে পালাতেই হবে।

তিনতলা থেকে দ্রুতবেগে নিচে নামছিল নুসরাত। নিচতলার সিঁড়িতে আসতেই কারও সাথে ধাক্কা লাগলো তাঁর। চিৎকার করতে যেতেই কেউ তাঁর মুখ চেপে ধরল।

“চুপ, আমি রুমন। কোন শব্দ করবে না। তোমাকেই খুঁজছিলাম। এখুনি আমাদের পালাতে হবে।“

স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল নুসরাত। মনে মনে রুমনকেই আশা করছিল সে। অবাক হয়ে খেয়াল রুমন তাঁকে তুমি করে বলছে কিন্তু তাঁর খারাপ লাগছে না। শক্ত করে রুমনের হাত ধরল সে।

“এসব কি হচ্ছে আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। আমার খুব ভয় করছে রুমন।“

“আমি সবকিছুই বুঝতে পারছি। আমাদের এখনই পালাতে হবে। এই মুহূর্তেই। নিজেদের প্রাণ ছাড়া আর কিছুই সাথে করে নিয়ে যেতে পারব না। একটু স্থির হয়ে তোমাকে সবকিছু ব্যাখা করব। শুধু এটুকুই জেনে রাখ, ভয়ংকর এক চক্রান্তের জালে আমাদের আটকানো হয়েছে। বেঁচে ফিরতে পারলে নিজেদেরকে সৌভাগ্যবান ভাবতে পারব।“

*****
অন্ধকার সিঁড়িগুলো পার হয়ে দুজনে নিচতলার চন্দ্রালোকিত করিডোরে বের হয়ে আসল। তাঁদের সামনে চাঁদের আলোয় উদ্ভাসিত উঠোন। এই উঠোন পার হয়ে সরাসরি জঙ্গলে ঢুঁকে যাবার সিদ্ধান্ত নিল রুমন। এর কারণ কেউ যদি তাঁদের পিছুও নেয় তাহলে জঙ্গলে লুকানো যাবে। খোলা জায়গায় সেটা সম্ভব নয়। আপাতত একটাই ভয়। কুকুরগুলোকে কিভাবে এড়ানো যায়?

উঠানে পা দিতেই ইদ্রিসের রক্তাক্ত দেহটা চোখে পড়ল। ইদ্রিসের পরিণতি নুসরাত আগেই দেখেছে কিন্তু রুমন এই প্রথম দেখল। বিকৃত দেহটা দেখামাত্রই গা গুলিয়ে উঠল রুমনের। সেই সাথে কুকুরগুলোর ব্যাপারে মনের ভিতর চেপে থাকা ভয়টাও আবার জেগে উঠল নতুন করে। কুকুরগুলো কোথায় কে জানে?

বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হল না। উঠোনের মাঝামাঝি আসতেই কুকুর তিনটাকে দেখা গেল। নিশ্চিন্তভাবে তাঁদের দিকে এগিয়ে আসছে কুকুরগুলো। কোন তাড়াহুড়া নেই, যেন জানে তাঁদেরকে কি করতে হবে। কুকুরগুলোর মুখে এখনও রক্ত লেগে আছে। ইদ্রিসকে খুব বেশি আগে কামড়ায় নি বোঝাই যাচ্ছে।

ধীরে ধীরে পিছু হটতে লাগলো দুজন। কুকুরগুলোও ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে হতে একসময় থেমে গেল। পাগুলোকে পিছনে নিয়ে শরীরটাকে টেনে লাফ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পকেট থেকে তুলিটা বের করে হাতে নিল রুমন। জানে এই জিনিস দিয়ে কোনভাবেই কুকুরগুলোকে প্রতিরোধ করা যাবে না। কিন্তু একটু সান্ত্বনা তো পাওয়া যাবে। জীবনের শেষ মুহূর্তে সেটাই বা কম কি?

নুসরাত অনেক ভয় পেয়েছে বোঝাই যাচ্ছে। রুমনের শরীরের সাথে একদম সেঁটে এসেছে সে। শেষ মুহূর্তেও রুমনের কেন জানি হাসি পেয়ে গেল। চাঁদের আলোয় গায়ের সাথে লেগে থাকা অপূর্ব সুন্দরী কোন তরুণীকে নিয়ে কতরকম রোম্যান্টিক কল্পনাই না করা যায়। আফসোস, মেয়েটাকে নিয়ে করা কল্পনাগুলোকে আর বাস্তবে রূপ দেওয়া গেল না।

হঠাত করেই কুকুরগুলোর আচরনে পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেল। কুকুর তিনটা জায়গাতেই বসে গেল। মুখ দিয়ে ক্যুই ক্যুই শব্দ বের হচ্ছে। কিছু একটা দেখে কুকুরগুলো ভয় পেয়েছে। পিছন ফিরে ভয়ের উৎসের দিকে তাকিয়ে রুমন চমকে গেল। আরে, এ তো সেই অ্যাংলো ইন্ডিয়ান মহিলা।

মহিলা ধীরে ধীরে কুকুরগুলোর সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। কুকুরগুলো এখন আর কোন শব্দ করছে না। প্রভুভক্ত কুকুরের মত লেজ নাড়ছে প্রবলবেগে। যেন কতদিন পর তাঁদের মালিককে খুঁজে পেয়েছে। মহিলা কিছু একটা ইশারা করলেন। সাথে সাথেই কুকুরগুলো তীব্রবেগে জঙ্গলের বিপরীত দিকে ছুটে নিমেষেই চোখের আড়ালে চলে গেল।

রুমন আর নুসরাতের দিকে ফিরে তাকালেন মহিলা।

“তোমরা দুজনেই পালাও। কুকুরগুলো আর তোমাদেরকে বিরক্ত করবে না।“

“আপনি একা একা থাকবেন কেন? আমাদের সাথে চলুন।“

নুসরাতের কথায় মহিলার মুখে বিষাদ ভর করল।

“আমাকে এখানেই থাকতে হবে। কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। আর নিজের বাড়ি ছেড়ে কেনই বা চলে যাব। তোমরা যাও। আর কখনও এদিকে আসবে না। কোনদিনও না।“

“আপনি কে সেটা কি বলবেন?”

মহিলা কোন জবাব না দিয়ে হাসলেন এবং হেঁটে হেঁটে জমিদারবাড়ির ভিতর অদৃশ্য হয়ে গেলেন।

“আমি জানি তিনি কে। আগে এখান থেকে বের হই তারপর সবকিছুই বলব তোমাকে।“

রুমনের ডাকে নুসরাত ফিরে তাকাল। হ্যাঁ, আগে তাঁদেরকে পালাতে হবে। বেঁচে থাকলে সবকিছুই জানা যাবে। সাহসে ভর করে জঙ্গলের দিকে পা বাড়াল দুজন।

*****
রুমন আর নুসরাত দুজনের কেউই জানে না যেই জঙ্গলে তাঁরা নিরাপদ থাকবে ভাবছে, সেই জঙ্গলেই তাঁদের জন্য মঞ্চ তৈরি করে বসে আছেন খন্দকার আজিজ। নাটকের শেষ অংশ সেখানেই মঞ্চায়িত হতে যাচ্ছে। (……পরের পর্বে সমাপ্ত)

আগের পর্বগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন

১০ thoughts on “উত্তরাধিকার # ৮ম পর্ব

    1. অফিসিয়াল ঝামেলায় বিশাল পেইনের
      অফিসিয়াল ঝামেলায় বিশাল পেইনের উপর ছিলাম। তাই গল্প লেখার মুড ছিল না। জোর করে তো আর লেখালেখি করা যায় না। :আমারকুনোদোষনাই:

  1. ভাই আপনি অবিচার করছেন। লাস্ট
    ভাই আপনি অবিচার করছেন। লাস্ট পর্ব কবে দিছেন মনে আছে??
    যা হোক, এই পর্বে বিশেষ কিছু ছিল না। পরের পর্বে আশা করি চমকপ্রদ কিছু থাকবে।

    1. ভেবেছিলাম এটাই লাস্ট পার্ট
      ভেবেছিলাম এটাই লাস্ট পার্ট হবে। কিন্তু অনেক বড় হয়ে যাবে তাই আরেকটা পর্বে শেষ করা ছাড়া উপায় নাই। আর কেন দেরী হয়েছে সেটা তো উপরের কমেন্টে বলেই দিলাম। :আমারকুনোদোষনাই:

    1. এটা ৮ম পর্ব রে ভাই। সামনের
      এটা ৮ম পর্ব রে ভাই। সামনের পর্বে গল্পটা শেষ হয়ে যাবে। এই পর্বের নিচে দেখুন আগের পর্বগুলোর লিঙ্ক দেওয়া আছে। সেখানে গিয়ে আগের পর্বগুলো আগে পড়ে নিন। পুরো কাহিনীটাই তাহলে আপনার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

  2. গ্যাপ হয়ে গেলে ধারাবাহিক
    গ্যাপ হয়ে গেলে ধারাবাহিক গল্পের মজা কেটে যায়। যাই হোক পেশাগত ব্যস্ততার উপরে কোন কথা নেই। আশা করি ফিনিসিংটায় চমকপ্রদ কিছু একটা হবে। :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

    1. ঠিক বলেছেন ভাই। অফিসিয়াল
      ঠিক বলেছেন ভাই। অফিসিয়াল ঝামেলায় ছিলাম সেটা তো জানেনই। কর্পোরেট ক্যাচাল আসলেও খুব বাজে জিনিস। :মনখারাপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *