এখানে রাজাকারদের শাস্তি মুক্তিযুদ্ধাদের পুরস্কারের চেয়েও উন্নতমানের !

আমরা একাত্তরে শহীদ হওয়া মুক্তিযুদ্ধা, বীরঙ্গনা, ধর্ষিতা মা-বোনদের সবসময় শ্রদ্ধা জানাই, শ্রদ্ধা জানাতে লোক দেখানো যা করার তা তা করি। অথছ যারা বেঁচে আছে তাদে হাড়ির খবর নাইবা রাখলাম, তারা যে ঘর-বাড়ি-সম্মান হাড়িয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়ায় সেই খবরটা রাখার সময় আমাদের নাই। কারো কাছে হাত পাতলে দুর দুর করে তাড়িয়ে দেই। আর সেই আমরাই স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এলে কে আগে ফুল দিবে তা নিয়ে মারামারি করি।


আমরা একাত্তরে শহীদ হওয়া মুক্তিযুদ্ধা, বীরঙ্গনা, ধর্ষিতা মা-বোনদের সবসময় শ্রদ্ধা জানাই, শ্রদ্ধা জানাতে লোক দেখানো যা করার তা তা করি। অথছ যারা বেঁচে আছে তাদে হাড়ির খবর নাইবা রাখলাম, তারা যে ঘর-বাড়ি-সম্মান হাড়িয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়ায় সেই খবরটা রাখার সময় আমাদের নাই। কারো কাছে হাত পাতলে দুর দুর করে তাড়িয়ে দেই। আর সেই আমরাই স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এলে কে আগে ফুল দিবে তা নিয়ে মারামারি করি।

তেমনি একজন চট্টগ্রামের বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী, যিনি এখনো জীবিত আছেন। বই বিক্রি করে অন্নের জোগান করেন। জানিনা আমরা কোনদিন এই তাদের ত্যাগের মূল্যায়ন করতে পেরেছি কিনা, পারব কিনা এ জন্মে। যদি সত্যিই তাদের ত্যাগের মূল্য দিতে পাড়তাম, তবে গো আযমের ফাঁসির রায়ই শোনার কথা ছিল, নব্বই বছরের রাজকীয় কারাদণ্ড নয়। মানবতার কারণে তাকে ফাঁসি দেয়া হল না, অথচ গো আযমের মতো লোকরাই মানবতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আমাদের লক্ষ লক্ষ মা বোনদের ধর্ষণ করেছে। লক্ষ লক্ষ বাঙালীকে নির্বিচারে হত্যা করেছে। আফসোস হয়, স্বাধীনতার ৪২ বছর পরেও আমরা রমা চৌধুরীদের সম্মানটা ফিরিয়ে দিতে পাড়লাম না। কোন কালে আর পারার সম্ভবনাও নাই।

এখানে রাজাকারদের শাস্তি মুক্তিযুদ্ধাদের পুরস্কারের চেয়েও উন্নতমানের। এখানে বীরঙ্গনারা, শহীদ জননীরা বিয়াল্লিশ বছর পর আজও পথে পথে ঘুরে দু’মুঠো খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার তাগিদে। এখানে বীরসেনাদের বংশধরেরা রাস্তার পাশে বসে জীবিকা নির্বাহ করে। যেখানে রাজাকার গুলোর শাস্তির পরও এয়ারকন্ডিশনারওয়ালা রুমে রাত্রি যাপন করে। আর এটাই আমাদের শহীদদের রক্তে, বীরঙ্গনাদের ত্যাগে, শহীদ জননীদের চোখের জলে, মা-বোনদের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ।

গত কয়েকদিন যাবৎ ফেসবুকের প্রচারনায় রমা চৌধুরীর কে আমরা সকলেই জেনেছি। তিনি একাত্তরের বীরাঙ্গনা। মুক্তিযুদ্ধের ঝাপটায় ঘরবাড়ি, নিজের সৃষ্টি সর্বোপরি দু’সন্তান হারানো বিপর্যস্ত জীবনসংগ্রামী। সকল লাঞ্ছনা গঞ্জনা সহ্য করে শেষ বয়সে এসে বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরে পথে পথে বই বিক্রি করে বেড়ান তিনি। মধ্যাহ্নের কাঠফাটা রোদ, তীব্র, ভ্যাপসা গরম। চট্টগ্রাম শহরের যে কোন রাস্তায় পথ চলতে গিয়ে হঠাৎ করে চোখে পড়ে যেতে পারে কাঁধে বইয়ের ঝোলা নিয়ে খালি পায়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক আপাতবৃদ্ধা। আগুনের মত তপ্ত পিচ ঢালা রাজপথে তার খালি পায়ে হেঁটে যাওয়া দেখে থমকে যেতে হয় পথিককে। তবু কোন বিত্তবান অথবা সদয় মন নিয়ে কেউ পাশে দাড়ালে হয়তো তার শেষ বয়সে একটু শান্তি এনে দিতে পারতো। এজন্য আমি চট্টগ্রামের বিবেকবান ব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

৬ thoughts on “এখানে রাজাকারদের শাস্তি মুক্তিযুদ্ধাদের পুরস্কারের চেয়েও উন্নতমানের !

  1. খুব জানতে ইচ্ছে করে রমা’দির
    খুব জানতে ইচ্ছে করে রমা’দির পোষা বিড়াল ‘রা এখন কেমন আছে ? ছোট খাট শীর্ণকায় মানুষটি গতগুলো বছর শোকের পাহাড় বুকে চেপে বেঁচে আছেন ! শুনেছি ওনার শরীরটা ভালো না । দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন এই কামনা ।

    আর হাঁ, ”র ” এবং ” ড় ” এর ব্যবহার একেবারে ভালো হয়নি । ‘ড়’ ও ‘র ‘ এর ভুল ব্যবহারে আহত শব্দ’ গুলোর কষ্ট বুকে দারুণ বেজেছে ।

  2. আমরা আমাদের বীর
    আমরা আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভিখিরির জীবন যাপন দেখেও নিস্পৃহ থাকি, রাজাকারের গাড়িতে জাতীয় পতাকা দেখেও নিঃস্পৃহ থাকি। আমরা আসলেই বেশ নিরপেক্ষ জাতি। :ক্লান্তকাছিম:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *