লং লিভ মাই কান্ট্রিম্যান, লং লিভ রেভ্যুলিউশন : কর্নেল তাহেরের শেষ কথা

১৯৭৬ সালের ১৭ই জুলাই শনিবার তিনটার সময় শহীদ কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তম এর মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হলে কর্নেল তাহেরের পক্ষের পঁচিশজন ব্যারিস্টারসহ সবাই নির্বাক হয়ে যান। হতভম্ব হয়ে যায় দেশবাসী। তবে মৃত্যুদণ্ডের রায় শুনে ‪‎তাহের‬ অট্টহাসিতে ফেটে পড়েছিলেন। অন্য সব বন্দীরাই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। তাহের সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললো-‘জীবন যদি এভাবে বিসর্জন না দেয়া যায়, সাধারণ মানুষের মুক্তি তাহলে আর কিভাবে আসবে’? আতাউর রহমান, জুলমাত আলীর মতো বিশিষ্ট ব্যারিস্টার, আলম আর অন্যান্যরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তাহের তখন ব্যারিস্টারদের বললো- ‘এই সেই সরকার যাকে আমি ক্ষমতায় বসিয়েছি, এদের কাছে আপনারা কিছুই চাইবেন না’।

১৯ তারিখ বিকালে জেইলে তাহেরের সাথে সাক্ষাৎ হয় মিসেস লুৎফা তাহেরসহ পরিবারের অন্যদের সাথে। সেদিন তিনি এতো উদ্দীপ্ত ছিলেন যে পরিবারের সবাই হাসি মুখে বের হয়ে এসেছিলেন, তাঁরা কেউই কি ধারনাও করতে পেরেছিলেন সেটাই হবে তাহেরের সাথে তাঁদের শেষ দেখা? লুৎফা তাহেরের ভাষায় – “সে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও উৎফুল্ল ছিল। রায় দেবার পর সে যা লিখেছিল আমায় তা পড়ে শোনায়। পরে আমাকে বলে-‘তোমার শোক করা সাজে না, ক্ষুদিরামের পর দক্ষিণ এশিয়ায় আমিই প্রথম ব্যাক্তি যে এভাবে মরতে যাচ্ছে’। আর সবাই আমাকে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলেছে সেকথা তাহেরকে বললে সে বললো-‘সে-কি জীবনের মায়া ফিরিয়ে আনার জন্য? আমার জীবনের দাম কি জিয়া অথবা সায়েমের জীবনের চেয়েও কম’?”

তাহেরের ডেথ ওয়ারেন্ট ইস্যু করার মাত্র ৩ দিনের মাথায় তাহেরের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। অথচ জেল কোড অনুযায়ী ডেথ ওয়ারেন্ট ইস্যুর ২১ দিন আগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান নাই! জেল কোডে স্পষ্ট বলা আছে, “The date of the execution not less than 21 days, or more than 28 days.” কিন্তু কিন্তু তাহেরকে বাঁচতে দেয়ার মতো সাহস কর্তৃপক্ষের ছিল না। এরা তাই তাহেরকে সময়ের সীমানা ছাড়িয়ে অসীমের সন্ধান দিয়েছে, তাকে অমরত্বের সুধা দিয়েছে।

বিশ তারিখ সন্ধ্যায় তাহেরকে জানিয়ে দেয়া হয় যে পরদিন ভোর চারটায় তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। সে শান্তভাব এই খবর গ্রহন করে ও যাদের উপর এই খবর দেয়ার দায়িত্ব পড়েছিল তাদের ধন্যবাদ জানায়। এরপর সে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় রাত্রির খাবার খেয়ে নেন। পরে একজন মেৌলভী এসে তার কৃত অপরাধের জন্য তাহেরকে ক্ষমা প্রার্থনা করতে অনুরোধ জানান। তিনি তখন বলে উঠেন- ”আপনাদের সমাজের কালিমা আমাকে কখনও স্পর্শ করতে পারেনি। কখনো না। আমি সম্পূর্ণ শুদ্ধ। আপনি এখন যান, আমি এখন ঘুমাবো”। এরপর শান্তভাবে ঘুমাতে যান। রাত তিনটার দিকে তাকে ডেকে ওঠানো হয়। কতক্ষণ সময় আছে জানার পর তাহের দাঁত মাজেন, সেভ ও গোসল করে নেন। উপস্থিত সবাই তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। তাহের তাঁদের নিবৃত করে বলেন ‘আমার নিষ্পাপ শরীরে তোমাদের স্পর্শ লাগুক আমি তা’ চাই না’।

গোসল করার পর তাহের তার জন্য চা করতে ও পরিবার থেকে দিয়ে আসা আম কেটে দিতে বলেন। নিজে নিজেই সে নকল পা, জুতো আর প্যান্ট পরে নেন। হাত ঘড়ি পরে, একটা ভালো শার্ট গায়ে দিয়ে তাহের তার চুলগুলো ভালভাবে আঁচরে নেন। এর পর তিনি আম আর চা খেয়ে নিয়ে সবার সাথে মিলে সিগারেট খেতে থাকেন। একজন মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত লোকের এরকম সাহস দেখে সবাই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। তাহের তখন সবাইকে সান্ত্বনা জানান-‘আপনারা হাসুন, সবাই এত বিষণ্ণ কেন। আমি দুর্দশাগ্রস্তদের মুখে হাসি উদ্ভাসিত করতে চেয়েছিলাম। মৃত্যু আমাকে পরাজিত করতে পারবে না’। তাহেরকে জিজ্ঞাসা করা হয় তার কোন শেষ ইচ্ছা আছে কি-না, জবাবে তাহের বলেন-‘আমার মৃত্যুর বিনিময়ে এ দেশের সাধারণ মানুষের জীবনের শান্তি’।

এরপর তাহের জানতে চান- ‘আর কোন সময় বাকি আছে কি-না’? অল্পকিছু সময় বাকি আছে জানার পর তাহের সবার সামনে একটি কবতিা আবৃত্তি করতে চান। তাহের এরপর তার কর্তব্য ও অনুভূতি নিয়ে তার স্বরচিত একটি কবিতা আবৃত্তি করেন। এরপর তাহের জানান-‘আমি এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তোমরা এখন তোমাদের কর্তব্য পালন করতে পারো’। তাহের ফাঁসী-কাঠের দিকে এগিয়ে যান। নিজেই ফাঁসীর দড়ি তুলে নেন। গলায় রশি পড়ে নেয়ার পর তাহের বলে ওঠেন – ‘লং লিভ মাই কান্ট্রিম্যান, লং লিভ রেভ্যুলিউশন’। মৃত্যুর ৩০ সেকেন্ড আগে এটাই ছিল তাহেরের শেষ কথা।

জেলখানা থেকে টেলিফোন কর্নেল তাহের পরিবারকে জেলখানা লাশ নেয়ার কথা জানানো হয়। তাহের পরিবার চেয়েছিল ঢাকায় দাফন করতে। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয় ঢাকায় নয়। তখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তাহেরের মাতা অনেক তর্ক বিতর্কের পরেও তারা জানিয়ে দিলো কিছুতেই ঢাকায় কবর দিতে দেবে না। অবশেষে সিদ্ধান্ত হলো তাহেরকে কাজলা গ্রামে দাফনের। লাশ নিয়ে যাওয়া হবে হেলিকপ্টারে করে। দুপুর আড়াইটার সময় কড়া নিরাপত্তা প্রহরার মধ্যে জেলের ভিতর একটা গাড়ি নিয়ে গিয়ে তার মৃতদেহ তুলে দেয়া হয়। সেখান থেকে হেলি প্যাড পর্যন্ত পাঁচটা ট্রাক-বাস ভর্তি নিরাপত্তা প্রহরীদের পাহারার মধ্যে মৃতদেহ একটা হেলিকপ্টারে তুলে দেয়া হয়।

সাথে থাকা মিসেস লুৎফা তাহেরের ভাষায়- “হেলিকপ্টারে উঠে এই প্রথম আমি তাহেরের লাশ দেখলাম। আমি চেয়ে চেয়ে দেখলাম, একজন শীর্ষস্থানীয় মুক্তিযোদ্ধার আজ এই পরিণতি! জেলখানার একটা ছেঁড়া চাদর দিয়ে তাঁর শরীর ঢাকা। তাঁর পা ও মাথা বের হয়ে আছে! তাহেরের মাথার চুল উড়ছে! তাহেরের মা চিৎকার করে বললেন, ‘আমার ছেলের জন্য একটা কফিনও হলো না’।…।”

কয়েক বছর আগে ‘ছুটির দিনে’ ম্যাগাজিনের কভার স্টোরি করা হয়েছিল ‘আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম’-কে নিয়ে। সেই প্রতিবেদনের একদম শুরুতেই একটা ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়। সময়টা স্বাধীনতা পূর্বকালীন সময়ের। লৌহমানব হিসেবে খ্যাত (কুখ্যাত) স্বঘোষিত ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান একবার তার সৈন্য-সামন্ত নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেসময় পেছনে পেছনে একটি বেসরকারী লাশ বাহী গাড়ি (ঘোড়ার গাড়ি, যা ছিল আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম’র) আসছিল কিন্তু আইয়ুব খানের গাড়িকে অতিক্রম করার সাহস পাচ্ছিল না। আইয়ুব খান বিষয়টি লক্ষ করলেন এবং খোঁজ নিয়ে যখন জানলেন এই গাড়িতে লাশ আছে, তখন তিনি নিজের গাড়ি থামালেন, লাশ বাহী গাড়িকে আগে যেতে বললেন এবং স্যালুট করলেন। লাশটা থেকে সেসময় মারাত্মক পচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল…। কিন্তু কর্নেল তাহের যিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা, যিনি নিজের একটা পা হারিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধে তাঁর জীবদ্দশাতে তো নয়ই, তাঁর মৃত্যুর পর তাহেরের লাশের প্রতিও চরম অসম্মান দেখানো হয়েছিল। কথায় বলে হিস্ট্রি রিপিট … । এবং ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করেনা। নব জীবন দানকারীর প্রতি যে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছেন জেনারেল জিয়া তাতে তিনিও স্বস্তিতে থাকতে পারেননি। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত কর্নেল তাহেরের অতৃপ্ত আত্মাই যেন তাড়িয়ে নিয়ে বেরিয়েছে জিয়াকে। ঐ সময়ে সেনাবাহিনীতে সংঘটিত হওয়া একের পর এক সামরিক ক্যু সে কথাই মনে করিয়ে দেয়। যা চূড়ান্ত রূপ নেয় ১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একটা ব্যর্থ ক্যুতেই জিয়ার নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে। জাতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তমকে ফাঁসীতে হত্যার পরে তাঁর লাশের প্রতি যে অসম্মান দেখানো হয়েছিল, জিয়ার মৃত্যুর পর তার থেকেও করুন পরিণতি হয় জেনারেল জিয়ার মৃতদেহের।

অবশেষে সন্ধ্যে সাড়ে সাতটার সময় কড়া নিরাপত্তা প্রহরার মধ্যে নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার কাজলা গ্রামের পারিবারিক গোরস্তানে তাহেরকে কবর দেয়া হয়। একজন মৃত কর্নেল তাহেরও যে কি পরিমাণ ভীত করেছিল ষড়যন্ত্রকারী খুনিদের, তার প্রমাণ পাওয়া যায় একটা বিশেষ ছাউনি তুলে সামরিক প্রহরীদের একুশ দিন পর্যন্ত তার কবর পাহাড়া দেয়ার ঘটনায়।

‘লং লিভ মাই কান্ট্রিম্যান, লং লিভ রেভ্যুলিউশন’ । এটাই ছিল তাহেরের শেষ কথা। এরপর তিনি আর কথা বলেননি, বলবেনও না। এই অগ্নিপুরুষকে ১৯৭৬ সালের ২১ জুলাই ভোরে যখন ফাঁসি দেয়া হয়, ফাঁসির মঞ্চে রশিতে ঝোলার ৩০ সেকেন্ড আগে ঠিক এই কথাটাই তাহের উচ্চারণ করে গিয়েছিলেন। তাহেরের গোপন বিচারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা নিয়ে রিট আবেদনে হাইকোর্টে তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার ফজলুল রহমান, যিনি তাহেরের ফাঁসির সময় উপস্থিত ছিলেন; তিনি এই তথ্যটি জানান।

তিনি আরও বলেন, “…ওই সময় তাহের একটি কবিতা এবং ২টি সিগারেট পাইপ আমার হাতে দিয়ে বলেন, তাঁর বড় ভাইয়ের কাছে পৌঁছে দিতে। তাহের আমাকে আরও বলেছিলেন, ‘দেখেন, (ফাঁসির) রশি ঠিক আছে কি না, ভ্যাসলিন দেওয়া হয়েছে কি না’। ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়ার সময় তাহের বললেন, ‘আমি মাস্ক পরব না’। (যে কালো কাপড়ে দিয়ে মুখ ঢেকে দেয়া হয়)
আমি বলি, ‘আইনে আছে মাস্ক পরে যেতে হয়’। …”

‘লং লিভ মাই কান্ট্রিম্যান’, মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও তাহের দেশ, দেশের মানুষের কথা ভোলেননি! এমন একজন মানুষের মুখোমুখি হয়ে মৃত্যু কী খানিকটা বিমর্ষ, কুণ্ঠিত-লজ্জিত হয়, কে জানে! কজন পারে মৃত্যুকে এভাবে আলিঙ্গন করতে? সশ্রদ্ধ অভিবাদন শহীদ কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তম।

তথ্যসুত্রঃ
কর্নেল তাহের ওয়েব সাইট, www,col-taher.com

(ইষ্টিশনে প্রথম পোস্ট দিলাম, তাও অনেক বড় হয়ে গেলো। ছবি এ্যাড করতে পারলাম না। আরও কিছু ভুল ভ্রান্তি থাকতে পারে, আশা করি সবাই লিবারাল দৃষ্টিতে দেখবেন।)

৩০ thoughts on “লং লিভ মাই কান্ট্রিম্যান, লং লিভ রেভ্যুলিউশন : কর্নেল তাহেরের শেষ কথা

  1. লেখাটা পড়ে শুধুই মন থেকে এমন
    লেখাটা পড়ে শুধুই মন থেকে এমন একজন বীরের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো, আর জিয়ার মতো অপশাসকের প্রতি ঘৃনা ছাড়া আর কিছুই নাই। চমৎকার লেখাটার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

  2. একজন বীর উত্তমের এই পরিণতি যে
    একজন বীর উত্তমের এই পরিণতি যে করেছে সেই খুনি জিয়ার দলকে মানুষ কীভাবে সমর্থন দেয়!!!!!!??????
    খুনি জিয়ার প্রতি আমৃত্যু ঘৃণা।
    কর্নেল তাহেরকে :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

    আর আপনাকে ধন্যবাদ এমন পোস্টের জন্য।
    আপনার প্রথম পোস্ট প্রিয়তে গেলো।

    1. খুনি জিয়ার প্রতি আমৃত্যু
      খুনি জিয়ার প্রতি আমৃত্যু ঘৃণা।— সহমত…
      আর আপনার প্রথম পোস্টেই আপনি জাত চিনিয়ে দিয়েছেন :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:
      ‘লং লিভ মাই কান্ট্রিম্যান, লং লিভ রেভ্যুলিউশন’
      কর্নেল তাহেরকে আমৃত্যু শ্রদ্ধা… :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

    2. তাহের হত্যাকাণ্ডের একমাত্র

      তাহের হত্যাকাণ্ডের একমাত্র পরিকল্পনাকারী হিসেবে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমানকে উল্লেখ করে রায়ে আদালত বলেন, “এটা ছিলো একটি ঠাণ্ডা মাথায় খুন। নিষ্ঠুর পরিহাস, একটি ভুয়া ট্রাইব্যুনাল গঠন করে প্রতারণামূলক ভাবে তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং তা কার্যকর করা হয়। এ খুনের একমাত্র পরিকল্পনাকারী জিয়াউর রহমান। দুর্ভাগ্যক্রমে খুনের অপরাধে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য তিনি এখন আর বেঁচে নেই। তবে তার সহযোগী (গোপন ট্রাইব্যুনালের বিচারক) আবদুল আলী এখনো বেঁচে আছেন।”

      তাই তাহেরকে হত্যার অভিযোগে আবদুল আলীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সামরিক আদালতে বিচারের ঘটনা এবং এর প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখার জন্য আদালত সরকারকে একটি তদন্ত কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছে ।

      কিন্তু এই নির্দেশের পরে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো বা আদৌ হয়েছে কি না, আমরা জানিনা। এব্যাপারে কর্নেল তাহেরের অনুসারীদেরকেও তেমন একটা সিরিয়ার মনে হয় না। ………… অবাস্তব স্বপ্নচারী @ ধন্যবাদ।

  3. তাহেরের বাঁ পায়ে গুলি লেগে
    তাহেরের বাঁ পায়ে গুলি লেগে গেল, রক্ত ঝরছে বিরামহীন। চেষ্টা করেও থামাননো যাচ্ছে না। তাঁকে উদ্ধার করতে ভারতীয় বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত হেলিকপ্টার নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছল।

    উদ্ধারকারি মিত্র বাহিনীর অফিসারকে তাহের হা হা করে হাসতে হাসতে বললেন: ‘এরা কী যুদ্ধ করবে, এরা আমার মাথায়ই গুলি লাগাতে পারেনি। বাংলাদেশ স্বাধীন হবেই, এরা আটকাতে পারবে না, এদের এই ক্ষমতাই নাই’।

    উনি যে কত বড় মাপের এক যোদ্ধা ছিলেন, তার প্রমান উনি দিয়ে গেছে সারাটা জীবন… যখন পাকিস্থান সেনাবাহিনির কমান্ডো ইউনিটে কমান্ডো ট্রেনিং দিতেন, তখন তিনি ছিলেন পুরো পাকিস্থানের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ, পারফেক্ট ও সেরা কমান্ডো… সুপুরুষও ছিলেন বটে… উনি এতটাই সুপুরুষ ছিলেন যে যখন তিনি কম্যান্ড গ্রাউনডে আসতেন… সবাই বলাবলি করত… ঐযে দেখ, পাকিস্থানের বীরপুরুষ আসছেন… এই কথাগুলো এক অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্থানি কর্নেলের… একজন পাকি একজন বাঙ্গালীর ব্যাপারে এই ধরনের কমপ্লিমেন্ট দিচ্ছে, এর থেকেই বোঝা যায় তিনি আসলে কি ছিলেন… একজন নিকৃষ্ট ডাবল এজেন্ট হিসাবে জিয়া যোগ্য কাজটিই করেছে… সে জানত একমাত্র তাহেরের পক্ষেই পাশার দান উল্টে দেয়া সম্ভব… কারন সেতো জিয়ার মত ধূর্ত নিকৃষ্ট শেয়াল না… একজন সত্যিকারের রয়েল বেঙ্গল টাইগার… ভালো থাকবেন ক্রাচের কর্নেল… আমরা আপনাকে না চেনার মাশুল দিয়ে যাচ্ছি আজও…

    লেখাটায় শুধুই মারহাবা … :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. শহীদ কর্নেল আবু তাহের বীর
      শহীদ কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তম ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় কাশ্মীর রণাঙ্গনে কৃতিত্বের পুরস্কার হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্রানে পড়ার সুযোগ পান। সেখানকার স্পেশাল অফিসার্স ট্রেনিং ইন্সটিউট থেকে সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন তিনি। তাঁর সনদে লেখা ছিল –

      “এই যোদ্ধা পৃথিবীর যে কোন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যে কোন অবস্থায় কাজ করতে সক্ষম।”

      অথচ এই ব্যক্তিকেই রাষ্ট্রদ্রোহী অভিযোগ মাথায় নিয়ে চলে যেতে হয়েছে। একই ঘটনার পুরানাবৃত্তি আমরা পরবর্তীতে দেখি শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ক্ষেত্রেও। বলাই বাহুল্য উভয় ক্ষেত্রেই দায়ীরা অভিন্ন। …………. ধন্যবাদ @ রহমান আজাদ ভাই।

      1. নামখান তো ভাই চেঞ্জ হয়া গেলো
        নামখান তো ভাই চেঞ্জ হয়া গেলো বাংলা ভাই… :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :ভাঙামন: :কানতেছি: :কানতেছি:

        1. রহমান রাআদ,
          উত্তর বাংলা ভাইর

          রহমান রাআদ,
          উত্তর বাংলা ভাইর নামের এক অংশ কইলে কিন্তু কেমুন কেমুন জ্যান লাগে !!! 😀 😀 😀 😀 😀 😀

          1. সেটা তো আমি প্রথম দিনেই আপনার
            সেটা তো আমি প্রথম দিনেই আপনার কমেন্টের পরে বলছিলাম। হায়রে কপাল। শেষ মেষ কি না বাংলা ভাই!!

      2. উত্তর বাংলা,
        “এই যোদ্ধা

        উত্তর বাংলা,

        “এই যোদ্ধা পৃথিবীর যে কোন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যে কোন অবস্থায় কাজ করতে সক্ষম।”

        —- দারুন একটা তথ্য জানলাম । ধন্যবাদ !

    2. একজন নিকৃষ্ট ডাবল এজেন্ট

      একজন নিকৃষ্ট ডাবল এজেন্ট হিসাবে জিয়া যোগ্য কাজটিই করেছে…

      (অমি রহমান পিয়ালের পোস্ট থেকে) —“ভোরে দৈনিক আমাদের সময় অনলাইন ভার্সনে (মূল পত্রিকা নাইমুল ইসলাম খানের আমাদের অর্থনীতি) জিয়াউর রহমানকে লেখা পাকিস্তানী কর্নেল বেগের একটা চিরকুট ছাপিয়েছে সৈয়দ বোরহানউদ্দিন কবিরের বরাতে। এটি নিয়ে আমার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ছিলো বিস্ময়বোধক। ভাই-বন্ধু অনেকেই এর সত্যতা কেমন হতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন করলেও এড়িয়ে গেছি নিশ্চিত হতে পারিনি বলে। তবে সংশয় জেগেছে। এতদিন আমরা জেনেছি জেনারেল জামশেদকে লেখা জিয়ার চিঠির কথা, যেখানে তিনি নাকি স্পষ্ট হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, আমার স্ত্রীকে যদি স্পর্শ করো তাহলে….। চিঠিটা দেখার সৌভাগ্য হয়নি আমার। এবং ঢাকা সেনানিবাসে বন্দী খালেদা জিয়াকে নিয়ে যেতে মেজর জেনারেল নূরুল ইসলাম শিশুর ছোটভাই মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান সানিকে আগরতলা থেকে পাঠিয়েছিলেন জিয়া। এটাও বেশ প্রচলিত গল্প। কিন্তু খালেদা যেতে অস্বীকৃতি জানান। ওরকম যুদ্ধাবস্থায় ঠিক কিভাবে খালেদাকে আগরতলা নিয়ে যাওয়া হতো সেটাও একটা রহস্য বটে। মানে কিছু ক্ষেত্রে আমরা উত্তেজনার বশে কমনসেন্সও হারিয়ে ফেলি।

      আমাদের সময়ের উল্লিখিত চিঠিকে লেখক জিয়া যে আইএসআইর চর ছিলেন তার অকাট্য প্রমাণ বলে বর্ণনা করেছেন। এবং এতদিন যা ছিলো নেহাতই অনুমান, তার প্রামাণ্য দলিল মিলেছে বলেও উল্লসিত কেউ কেউ। কিন্তু আমি সেই দলে যোগ দিতে পারছি না। কেনো সেটা পরে বলছি। তার আগে বলে নিচ্ছি জিয়ার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে সন্দেহ করার মতো ঘটনাবলী প্রচুর ছিলো, সন্দেহ বলতে এটা নয় যে তিনি পাকিস্তানীদের হয়ে চরের কাজ করছেন, বরং সন্দেহ ছিলো তিনি ঠিক মন লাগিয়ে বা অতটা আন্তরিকতার সঙ্গে লড়ছেন না। মোটামুটি ৭-৮ দিনের রাইফেল চালানোর ট্রেনিং নিয়ে স্রেফ আবেগকে সঙ্গী করে স্বাধীনতার লড়াইয়ে নামা যোদ্ধাদের কাছে এমনটা মনে হতেই পারে। কিন্তু ভুলে যাওয়া চলবে না জিয়া ছিলেন থরো প্রফেশনাল একটা সেনা অফিসার। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে জীবিতদের জন্য সর্বোচ্চ বীরত্বের পদ হিলাল ই জুরাত পেয়েছিলেন। তার যুদ্ধ কৌশল তাই গতানুগতিক হওয়ার কথা নয়।

      তারপরও প্রশ্ন তোলার মতো ঘটনা একেবারে কম নেই। যাকে মেরে জিয়ার বিদ্রোহ শুরু সেই লে. কর্নেল জানজুয়া কেনো রাতের পোষাকে ছিলেন (জিয়ার স্মৃতিকথা অনুসারে) সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। কারণ অপারেশন সার্চ লাইট শুরু হয়েছিলো গোটা দেশজুড়ে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রতিটি অফিসার ও সেপাই যখন ব্যাটল ড্রেসে, জানজুয়া কেনো নাইটড্রেসে ঘুমাবেন? এরপর চট্টগ্রামের প্রতিরোধে মেজর রফিককে সহায়তা না দিয়ে অষ্টম বেঙ্গল নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নামে পটিয়া চলে যাওয়া। ২৭ তারিখ সন্ধ্যায় কালুরঘাটে আসা এবং ক্যাপ্টেন অলিকে কমান্ড দিয়ে পরদিন আবার চলে যাওয়া একেবারে রামগড়। পথে হাফিজ জুটমিলের বিহারীদের হত্যা, নারীদের নিয়ে যাওয়া এবং ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা এরকম কিছু মানবতাবিরোধী ঘটনা তার দলের বিরুদ্ধে উঠেছিলো। মুজিবনগর সরকার যখন প্রথমবার ৮টা সেক্টর ভাগ করে যুদ্ধক্ষেত্র তখন জিয়াকে দেওয়া হয়েছিলো এক নম্বর সেক্টরের দায়িত্ব।

      কিন্তু এত কিছুর পরও এরকম একটা চিরকুট দিয়ে জিয়ার চরিত্রহানী মানতে পারছি না আমি। হু ইজ কর্নেল বেগ? পুরা নাম কি? কোথায় ছিলেন তিনি? আমি তো এনামে কাউকে পেলাম না। জিয়াকে চিরকুট যদি লিখবেনই সেটা লিখতে পারেন জেনারেল মিঠা, নট সাম কর্নেল। আর জিয়া আইএসআইর এজেন্ট নতুন করে হওয়ার নয়। আইএসআইর একজন অফিসার ছিলেন তিনি, যেমন ছিলেন খালেদ মোশাররফও। জিয়াকে চিরকুট পাঠালে একজন প্রফেশনাল এজেন্ট সেটা যত্ন করে রেখে দিবেন ডায়েরির ভাজে, যাতে ঘটনার বিয়াল্লিশ বছর পর বোরহান কবির সেটা খুজে পেয়ে পত্রিকায় তুলে দেবেন। জনগণ কি এতই ইডিয়ট?”

      1. জিয়া বরাবরই দ্বৈত নীতিতে
        জিয়া বরাবরই দ্বৈত নীতিতে চলেছেন। এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরের ঘটনাবলীর দিকে নজর দিলে দেখা যায় প্রতিটা ইস্যূতেই জিয়া শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা এবং ‘দেখি না কি হয়’ টাইপ অবস্থান বজায় রেখেছিলেন। লেখার সাথে দ্বিমত নেই। আমি নিজেও তেমনিই ভাবি। ধন্যবাদ।

  4. অসম সাহসী বীর কর্নেল তাহেরের
    অসম সাহসী বীর কর্নেল তাহেরের প্রতি লাল সালাম ! :salute: :salute: :salute: :salute:
    মুক্তিযুদ্ধের যে কোন ইতিহাস বই ( অবশ্য বিকৃত ইতিহাস বই নয় ) খুলে দেখলে দেখা যাবে ওনার বীরত্ব’ র ইতিকথা । উনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পছন্দ করতেন । এবং প্রায় সবগুলো যুদ্ধ উনি পাক শত্রুর বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়ে করেছেন । যা অন্যান্য নেতারা করতেন না । একজন আজীবন যোদ্ধা হিসেবে আমৃত্যু ছিলেন দৃঢ়চেতা । তার কিছু দুর্বলতা, ভুল চাল অথবা সীমাবদ্ধতা বাদ দিলে তিনি হয়ে ওঠেন মহা পুরুষ । সেটি না হতে পারলেও ক্ষতি নেই । তিনি তার আপন মহিমায় উজ্জ্বল – থাকবেন সবসময় ।

  5. কর্নেল তাহেরকে স্যালুট।তিনি
    কর্নেল তাহেরকে স্যালুট।তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী একজন মানুষ।আর ঐ সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সত্যিই হতাশাজনক।ঐ সময়টাতে আমরা একের পর এক সূর্যসন্তানকে হারিয়েছি।আর লেখাটি ভালো হয়েছে।এমন একটি পোস্টের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *