ধর্ষণে সেঞ্চুরীয়ানদের কবি নির্মলেন্দু গুণ।

আমি কবিদের ভালোবাসি কারণ টুকটাক কবিতা লিখি। কবিদের নিয়ে কিছু বললে গায়ে লাগে তবে কষ্ট লাগেনা, যতটা কষ্ট লাগে হাতের কলম বিক্রি করতে দেখলে।
বলছিলাম কবি “নির্মলেন্দু গুণ” এর কথা। তিনি আজ বারবার দাবী করেন তিনি আওয়ামীলীগের কবি। জানিনা কবি আওয়ামীলীগের, বিএনপির, জামাতের হয় কি করে ? ব্যক্তি গুণ হয়তো কোন দল করতেই পারেন কিন্তু কবি গুণের সাইনবোর্ড ঝুলানো বেশ দুঃখজনক। কবিরা চাঁদ সূর্যের মত সবার উঠোনে আলো দেবে এই ছিলো প্রত্যাশা। রবীন্দ্রনাথ নজরুলরা যেমন হিন্দু মুসলমান দলে আটকে ছিলোনা, যেখানে অন্যায় সেখানে প্রতিবাদ ।

গুণ’দা বারবার দাবী করছেন তিনি আওয়ামিলীগের কবি। তিনি বলছেন তিনি ৭১ দেখেছেন। তিনি ৭১ দেখেছেন, আমরাও বর্তমান দেখছি। তিনি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, আমরা বঙ্গবন্ধুর মেয়ের সৈনিকদের দেখছি। মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে ধর্ষণে সেঞ্চুরী করাদের পাশে কবি নির্মলেন্দু গুণ। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলেন। মান্দাতার আমলের জন্য তাই বর্তমানের হিংস্রতার সাথে গলা মেলান। তাহলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ রইলো কই। ভারত ভাগ হবার পর মুসলিম লীগের মুজিব ও পাকিস্তানের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাঁটত। রাষ্ট্রভাষা, বাক স্বাধীনতা নিয়ে অন্যায় অত্যাচার বেড়ে গেলে মুজিব তাদের কাজ থেকে সরে যায়। কিন্তু নির্মলেন্দু গুণ অত্যাচারিদের সাথে ঘর করে বলেন মুজিব আদর্শ?

তিনি নেতাদের ধানকাটাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কিন্তু কাঁচা ধান কেটেছেন, গরীবের ধান নষ্ট করেছেন সেজন্য ভুলেও নিন্দা জানাননি। ৭১ দেখেছেন, বর্তমানের ধানের মাঠে নেতারা ধান কাটতে দেখেছেন, ধান নষ্ট করেছেন সেটা তিনি দেখেননি। নইলে যে আওয়ামী নিয়ে ওনার গর্ব, সে আওয়ামী ওনাকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে চৌদ্দ শিক ও দেখিয়ে দিতো। তিনি ৭১ দেখেছেন কিন্তু ভোট না দেয়ার দায়ে চার সন্তানের জননীকে আওয়ামীলীগের লোক গণধর্ষণ করেছে দেখেননি। তিনি ৭১ দেখেছেন কিন্তু আওয়ামীলীগের নেতারা বিশ্বজিৎ কে কুপিয়ে হত্যা করেছে দেখেননি। তিনি ৭১ দেখেছেন কিন্তু বাক স্বাধীনতার অপরাধে আবরারকে হত্যা দেখেননি। তিনি ৭১ দেখেছেন কিন্তু ছাত্রলীগ সে সংগঠন যাদের ধর্ষণে সেঞ্চুরী আছে জানেননা। তিনি জয় বাংলা স্লোগানে ৭১ দেখেছেন কিন্তু জয় বাংলা স্লোগানে নারীর বুকে হাত, পা কেটে মিছিল দেখেননি। তিনি ৭১ দেখেছেন কিন্তু আওয়ামির নেতা কর্তৃক সংখ্যালঘুর গ্রাম ঘর পোড়াতে দেখেননি। তিনি ৭১ দেখেছেন কিন্তু ত্রাণ চোর, ত্রাণ নিতে গিয়ে ধর্ষণ যৌন হয়রানি হয় জানেননা। তিনি একাত্তর দেখেছেন কিন্তু কেউ নির্যাতিত হয়ে মামলা করতে গেলে তাদের নেতারা যে মা মেয়েকে একসাথে ধর্ষণ করে, কারো হাত কেটে নেয় দেখেননি। আর যারা এতকিছু দেখেও দেখেনা তারা ৭১ এর পর মুজিব বাহিনীও দেখেনি বলে আমার বিশ্বাস। তিনি এসব জানলে দেখলে নিরব থাকতেন না। নাকি বয়সে মেয়াদ উর্ত্তীণ হওয়ায় এই হাল ?

কবির আচরণ এমন হবার কথা নয়। যুগে যুগে যারা অন্যায় করবে তাদের বিরুদ্ধে কন্ঠ তোলার কথা। সুবোধরা পালিয়ে এমনি যাচ্ছে না। রবীন্দ্রনাথদের পায়ে রাজনীতিবিদরা এসে ধন্না দিত, আর আজ রাজনীতিবিদদের পদতলে কবির স্থান! হায়রে ভালোবাসার কবি।

“আমি কবিতা প্রিয় তাই
তোমাকে ভালোবাসা অপরাধ ছিলো না,
আজ যতটা কষ্ট পাই।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *