আমার ঈশ্বরে অবিশ্বাসের কারন(পর্ব-১)

আমার এখন ঠিক ঠাক মনে পড়েনা কিভাবে কি করে জন্মের পর ঈশ্বর চরিত্র সম্পর্কে আমার ধারনা জন্মে, তবে যতদূর মনে পড়ে ছোটবেলা মা আমাদের তিন ভাইকে নিয়ে সন্ধ্যে বেলা প্রায়ই কীর্তন করতেন, অনেক গুলো গান সুরের ধার না ধেরে রসকসহীন ভাবে গানগুলো একের পর এক গাওয়া হতো,ওনাদের ভক্তির অভাব না থাকলেও আমাদের জন্য তা ছিলো অবুঝের বোঝা। কিছু না বুঝেই কাউকে উদ্দেশ্য না করেই বাধ্য হয়ে আমিও গাইতাম “হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে”।


আমার এখন ঠিক ঠাক মনে পড়েনা কিভাবে কি করে জন্মের পর ঈশ্বর চরিত্র সম্পর্কে আমার ধারনা জন্মে, তবে যতদূর মনে পড়ে ছোটবেলা মা আমাদের তিন ভাইকে নিয়ে সন্ধ্যে বেলা প্রায়ই কীর্তন করতেন, অনেক গুলো গান সুরের ধার না ধেরে রসকসহীন ভাবে গানগুলো একের পর এক গাওয়া হতো,ওনাদের ভক্তির অভাব না থাকলেও আমাদের জন্য তা ছিলো অবুঝের বোঝা। কিছু না বুঝেই কাউকে উদ্দেশ্য না করেই বাধ্য হয়ে আমিও গাইতাম “হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে”।

বলা যায় পারিবারিক এই নিয়মের অধীনে থাকার মাধ্যমে আমি প্রথম ‘কৃষ্ণ’ তথা ‘ঈশ্বর’ শব্দের সাথে পরিচিত হই এবং আশপাশের মানুষগুলোরও এই শব্দের প্রতি ব্যাপক ভক্তি এবং ভয় দেখে আস্তে আস্তে ধারনা জন্মে এই কৃষ্ণ আমাদের ধর্মের ঈশ্বর এবং আমি হচ্ছি এই সমাজের হিন্দু ধর্মের শূদ্রবর্ণের একজন নীচুজাতের মানুষ।হিন্দু ধর্মের নানান দেব দেবীদের গল্প আমার ঠাকুমার কাছে শুনে শুনেই মূলত আমার অলৌকিকতার সাথে পরিচয়।

এভাবেই আমি ধীরে ধীরে একজন অবুঝ মনুষ্য শিশু সন্তান থেকে হয়ে উঠি একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী শূদ্রবর্ণের অর্থাৎ নীচুজাতের ধার্মিক যে এটা বুঝতে শিখেছে ঈশ্বরের কাছে একাগ্র মনে আবদার করলে সব পাওয়া যায় আবার এও জানতে পারে পাপ করলে আমাকে নরকে যেতে হবে,শাস্তি ভোগ করতে হবে এবং পরের জন্মে শুয়োর কুকুর হয়ে জন্মাতে হবে!!

ক্রিকেট কিংবা ফুটবল খেলার সময় বাড়ির পাশের ময়লা ভর্তি খালে বল পড়ে গেলে সেখান থেকে বল আনলে স্নান না করা অবধি তার ঘরে ঢুকা নিষেধ কারন তা না হলে সারাঘর অপবিত্র হয়ে যায়,ঠাকুর ঘরে স্নান না করে ঢুকা নিষেধ,সন্ধ্যার সময় ঠাকুর ঘরে প্রনাম করতে হবে,মঙ্গলবার আশ্রমে গিয়ে ভক্তি দিয়ে প্রসাদ খেতে হবে তা সে যতই অপরিচ্ছন্ন হোক না কেনো!! এই ধরনের নিয়মের অধীনেই শিশুকাল যায় আমার।

পাঠশালায় যাওয়া শুরু হলে বুঝতে পারি আমার আশে পাশের সকল সহপাঠিরা,শিক্ষকরাও একই মানসিকতা ধারন করে এবং আমি এটাকেই চিরন্তন সত্য বলে মনে করা শুরু করি,আমি মানা শুরু করি ঈশ্বর একজন অলৌকিক অদ্বিতীয় সত্ত্বা যার আর কোনও প্রতিযোগী নেই,যার শক্তি অপরিসীম,তিনিই আমাদের সৃষ্টি করেছেন,তিনি চাইলেই আমাদের মেরে ফেলতে সক্ষম যেকোনও সময়!

হিন্দু ধর্মের অসংখ্য উপাখ্যান আর পৌরাণিক কাহিনীগুলো পড়তে বেশ মজাদার,বেশ এডভেঞ্চার আর রোমাঞ্চকর অলৌকিক কাহিনীতে ভর্তি এবং এও ভাবতে বেশ রোমাঞ্চ লাগতো যে এরকম অলৌকিক শক্তি আমার থাকলে বেশ হতো।মানুষের তথাকথিত শ্রেষ্ঠ হয়ে উঠা আর রহস্যের প্রতি ভালোবাসা আমাকেও আঁকড়ে ধরে এবং আমি এই কাহিনীগুলোকেই সত্য ভাবা শুরু করি।

পাপের ভয়ে প্রায়ই স্নান করেই ভক্তি করতাম,নানা কিছু চাইতাম ঈশ্বরের কাছে,এই দাও সেই দাও,পরীক্ষায় ফার্স্ট প্লেস পাইয়ে দাও(যদিও ক্লাশ টু তে আমি বারতম হই এবং ক্লাশ ফাইভ পর্যন্ত আমি ফার্স্ট প্লেস দখল করতে ব্যর্থ হয়েছিলাম বার বারই)।আবার মাঝে মাঝে কিছু কিছু জিনিস পেয়েও যেতাম(এই কথাটাকে তখনকার জন্য সত্য মনে হলেও মূলত এই পাওয়াগুলোর সাথে কোন অলৌকিক সত্ত্বার দান খয়রাত জড়িত নয়,কারন সম্ভাব্যতার সূত্রে অনেক কিছুই আমাদের মন মতো মিলে যাওয়া সম্ভব এবং এও সম্ভব যদি কোনও কাজ আমরা সঠিকভাবে করে থাকি তবে তার প্রত্যাশিত ফল আসাই হবে সংগত,এর জন্য কোনও অপার্থিব কারো দান খয়রাতের প্রয়োজন নেই।),যা আমাকে এই বিশ্বাস আরো গভীরভাবে জড়িয়ে ধরে যে ঈশ্বর বলতে নিশ্চয়ই কেউ আছেন,যিনি আমার এই ইচ্ছা পূরণ করছেন!

কৈশোরের প্রাক্কালে এইসব বাধ্যবাধকতা আর মানা সম্ভব নয় বলে মনে হতে থাকে,এত কিছু মেনে চলা কখনই সম্ভব নয়,খাল থেকে বল তুলে আনলে স্নান করার কারন স্নান না করলে পবিত্রতা রক্ষিত হবে না এই ধরনের হাস্যকর কিছুতে বিশ্বাস রাখার কোনও মানে নেই বলেই মনে হতে থাকে আবার এই প্রশ্নও মনে দানা বাঁধে যে, সবাই বলে ঈশ্বর সব জায়গাতে আছেন আমাদের সবার মধ্যেও আছেন!তাহলে আমাকে এই উচ্ছিষ্ট জায়গায় নামলে কেনো স্নান করে পবিত্র হয়ে ঘরে ঢুকতে হবে?পবিত্রতার সঙ্গা কি?বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই তারা যে পবিত্রতা রক্ষার কথা বলে তা আসলে পরিচ্ছন্নতাকে নির্দেশ করে,ঈশ্বর কি তাহলে সব জায়গাতে থাকেন না?আমার ভিতরেও যদি উনি থাকেন তাহলে আমিও অপবিত্র হওয়ার কোনও কারন তো নেই!

এরকম নানা প্রশ্ন দানা বাঁধলেও ঈশ্বরের উপরে তখনো আমার মনে প্রশ্ন জেগে উঠে নি,বেশ ভক্তি আর ভয় নিয়েই ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস ছিলো।স্কুলের ধর্মশিক্ষা ক্লাশে ধর্ম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঁকি দিত তখন,মোটামুটি হাস্যকর প্রশ্ন,উদাহরণস্বরূপ-ঈশ্বর বলে থাকেন প্রাণ হত্যা করলে তাকে নরকে যেতে হবে,কিন্তু আমরা চলার সময় অজস্র পোকা,পিপড়া আমাদের পায়ের নীচে পিষে প্রাণ হারায় তাহলে তারাও তো প্রাণ!তাদের মৃত্যুর জন্যে আমার শাস্তি হবে অবশ্যই?
এই প্রশ্নের জবাবে তেমন সঠিক উত্তর কেউ দিতে না পারলেও বলা হত ঈশ্বর মহান,কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবশ্যই ক্ষমা করবেন তিনি।যাই হোক এটা হচ্ছে আমার আশপাশের রীতিনীতি নিয়ে সদ্য বেড়ে উঠা কিশোরের মনে প্রশ্ন উঁকি দেয়ার সময়কাল।

তবে একটা ব্যাপার এতক্ষনে বুঝা যায়,আমরা কেউই জন্মের আগে থেকে ঈশ্বর এবং ধর্ম সম্পর্কে অবহিত থাকি না,আমাদের বেড়ে উঠার সাথে সাথে আমাদের চারপাশ,আমাদের পরিবারের থেকেই আমরা ধর্ম পাই,ঈশ্বর পাই।আমি একজন হিন্দুর ঘরে না জন্মে একজন মুসলিমের ঘরে জন্মালে আমার ঈশ্বর ভিন্ন হতো,আমার আশপাশের চিন্তাভাবনা ভিন্ন হতো।কিন্তু এই সবকিছু থেকেই যদি একটি নবজাতক সম্পূর্ণ অজ্ঞাত থাকে তবে তার কোনও ঈশ্বর থাকবে না,তার প্রচলিত কোনও ধর্মের দরকার পড়বে না এবং এ কারনে তার বেড়ে উঠাও থমকে যাবে না।সে বেড়ে উঠবে নিজের মতো করে,বেড়ে উঠবে একজন মানুষ হিসেবে যে চিনবে না হিন্দু মুসলিম,কেবল মানুষ চিনবে,মানুষের মাঝেই সব সেটা বুঝতে শিখবে, যেরকম করে প্রথম প্রাণেরও কোনও ধর্ম ছিলো না,প্রথম প্রাণের কোনও ঈশ্বর ছিলো না।

২১ thoughts on “আমার ঈশ্বরে অবিশ্বাসের কারন(পর্ব-১)

  1. এইটা ঠিক মানব শিশু কোন ধর্ম
    এইটা ঠিক মানব শিশু কোন ধর্ম নিয়ে দুনিয়াতে আসে না। সে কেবলই একজন মনব সন্তান হয়ে জন্ম নেয়; তারপর তার সমাজ-পরিবার তাকে ধর্মে দীক্ষিত করে, আর যথারীতি তা হয় উত্তরাধিকারের ধর্ম চর্চা! কোন আদর্শগত ধ্যান বা চিন্তা থেকে কেউ ধর্ম গ্রহণ করে না, সবাই মায়ের দুধের ন্যায় মা-বাবার ধর্মটিকেও পরম আদরে ও শ্রদ্ধায় শেষ ও সঠিক বলে বিবেচনা করে…
    আপনার লিখা আগ্রহের সঞ্চার করল অপেক্ষায় রইলাম পরবর্তী পর্বের জন্যে…
    শেষ প্যারাটা জটিল হইছেঃ
    “এই সবকিছু থেকেই যদি একটি নবজাতক সম্পূর্ণ অজ্ঞাত থাকে তবে তার কোনও ঈশ্বর থাকবে না,তার প্রচলিত কোনও ধর্মের দরকার পড়বে না এবং এ কারনে তার বেড়ে উঠাও থমকে যাবে না।সে বেড়ে উঠবে নিজের মতো করে,বেড়ে উঠবে একজন মানুষ হিসেবে যে চিনবে না হিন্দু মুসলিম,কেবল মানুষ চিনবে,মানুষের মাঝেই সব সেটা বুঝতে শিখবে, যেরকম করে প্রথম প্রাণেরও কোনও ধর্ম ছিলো না,প্রথম প্রাণের কোনও ঈশ্বর ছিলো না।”

    1. ধন্যবাদ তারিক লিংকন মন্তব্যের
      ধন্যবাদ তারিক লিংকন মন্তব্যের জন্য।পরবর্তী পর্ব লিখব আশা করি,নতুন কিছু লিখার ইচ্ছে ছিলো,এই লিখাটা তাই পর্ব আকারে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম যাতে অন্য লেখাতে হাত দিতে পারি। :খুশি: :ফুল:

  2. আমার এক বন্ধু তার ছোট বেলায়
    আমার এক বন্ধু তার ছোট বেলায় সাদা দাড়ি ওয়ালা লোক দেখলেই তাকে আল্লা মনে করতো।
    আসলেই, প্রতিটা মানুষেরই ধর্ম ও ঈশ্বর চেতনা এভাবেই গড়ে ওঠে, আর কত হাস্যকর ভাবেই না গড়ে ওঠে। আগামী পর্বের প্রতিক্ষায় রইলাম।

    1. ধন্যবাদ তানভীর পিয়াল।
      ঈশ্বর

      ধন্যবাদ তানভীর পিয়াল। :ফুল:

      ঈশ্বর আর ধর্ম এই দুইটি জিনিস আসলে আমাদের মানব মস্তিষ্কের জটিলতার একটি উদাহরন বলা যায়।একজন সিজোফ্রেনিক যেভাবে বাস্তব কে ভুলে যায়,বেঁচে থাকে তার নিজের তৈরি ইলিউশনে সেভাবেই কোন এক কালের সিজোফ্রেনিকের তৈরী বংশপরম্পরায় আজ আমাদের এই সময়ের মানুষগুলো সকলেই সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত বলা যায়।

    2. আমার এক বন্ধু তার ছোট বেলায়
      আমার এক বন্ধু তার ছোট বেলায় সাদা দাড়ি ওয়ালা লোক দেখলেই তাকে আল্লা মনে করতো।
      — যেমন ঈশ্বর বা আল্লার ধারণা মাথায় আসলে ঈশ্বর কে বা আল্লাকে পুরুষ বলে মনে হয় ।

  3. খুভ ভাল লাগছে, একদম
    খুভ ভাল লাগছে, একদম ধারাবাহিকভাবে শিশুকাল,কৈশোর জিজ্ঞাসাগুলু ফুটিয়ে তুলেছেন!পরবর্তীতে কিভাবে মুক্ত হলেন তা জানার আগ্রহে অপেক্ষায় আছি….

  4. যথার্থই বলেছেন।
    ঈশ্বর বা ধর্ম

    যথার্থই বলেছেন।
    ঈশ্বর বা ধর্ম সম্পর্কে ধারণা আমাদের মনে পরিবার থেকেই প্রবেশ করে।
    জন্ম থেকে কেউ কোন ধর্মের অন্তর্ভুক্ত হয়ে জন্মায় না বা কোন ঈশরে বিশ্বাসী হয়ে জন্মায় না।
    আজ যে ইসলাম নিয়ে বড়াই করে সেও যদি হিন্দু বা খ্রিস্টান ঘরে জন্ম নিতো ভগবান বা যীশুকেই ঈশ্বর মনে করতো।
    শাশ্বত বলে কিছু নেই। থাকলে জন্ম থেকেই মানুষ ঈশরে বিশ্বাসী হয়ে জন্মাত।

    1. শাশ্বত বলে কিছু নেই। থাকলে
      শাশ্বত বলে কিছু নেই। থাকলে জন্ম থেকেই মানুষ ঈশরে বিশ্বাসী হয়ে জন্মাত।

      সত্য বলেছেন।

  5. ধর্মের অস্থিত্বকে প্রশ্নের
    ধর্মের অস্থিত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে যে বিষয়টি চরম ভুমিকা পালন করে সেটা হল কুসংস্কার ।আমি মনে করি কুসংস্কার বাদ দিলে জগতের সব ধর্মই বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি পেয়ে যেত ।

    1. আমি মনে করি কুসংস্কার বাদ
      আমি মনে করি কুসংস্কার বাদ দিলে জগতের সব ধর্মই বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি পেয়ে যেত ।

      ধর্মের অস্তিত্ব প্রশ্নের মুখে পড়ার কারন তার লিখিত ধর্মগ্রন্থগুলো এবং সেগুলোর অমানবিক মধ্যযুগীয় চিন্তাভাবনা ধর্মকে প্রশ্নের সুম্মুখীন করতে বাধ্য।
      আর কেবল কুসংস্কার দূর হয়ে গেলে সব ধর্ম বৈজ্ঞানিক হয়ে গেলো?কিভাবে?ধর্ম বিজ্ঞানের কোন শাখা জানাবেন তো,আগ্রহ বোধ করছি। :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :হাহাপগে:

          1. (No subject)
            :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য:
            :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি:

  6. এই ব্যাপারে লিখতে ইচ্ছে করছে
    এই ব্যাপারে লিখতে ইচ্ছে করছে । আসলে ধর্ম প্রতিষ্ঠানটির প্রভাব এতো ব্যাপক ও বিস্তৃত যে এর থেকে মুক্ত হতে পারাটা একটা সংগ্রাম । এবং এই সংগ্রাম আজীবনের । ঈশ্বর বা আল্লাহ তে বিশ্বাস স্থাপন করার কোন যৌক্তিক কারণ আমি খুঁজে পাই না । তবে যারা ওনাদের প্রতি বিশ্বাস রেখে ভাল আছেন এবং ভাল থাকবেন বলে মনে করেন – তারা তাই থাকুন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *