অদ্ভুত গল্প

এক অদ্ভুত ছেলের কথা বলবো আজ। তবে সে জোছনায় অজানা পথে চলে তার ভালবাসা কে খুঁজে না। সে হারাও না কোন অজানা গন্তব্যের উদ্দেশে। তারপরও সে এক অদ্ভুত ছেলে,বড়ই অদ্ভুত।

এক অদ্ভুত ছেলের কথা বলবো আজ। তবে সে জোছনায় অজানা পথে চলে তার ভালবাসা কে খুঁজে না। সে হারাও না কোন অজানা গন্তব্যের উদ্দেশে। তারপরও সে এক অদ্ভুত ছেলে,বড়ই অদ্ভুত।
সে অগোছালো এক ছেলে। চুল তবে উশকো-খুশকো নয়, আবার পরিপাটিও নয়। কেউ কেউ তার চুল দেখে বলে তারকাটা, অতি উৎসাহী কেউ বলে উঠে, “স্পাইক করেছে চুলে”। সে আসলে কিছুই করে না। এদিকে যে তার খেয়ালই থাকে না। সে শুধু কল্পনাতে থাকে,অনেক কল্পনাবিলাসী সে। কল্পনায় সে সব সমস্যার সমাধান করে। অনেক সুন্দর সুন্দর ছবিও আকে হয়ত।নিজেকে অনেক সফল হিসেবে চিন্তা করে। তবে বৃষ্টির দিনের কথা আলাদা। এই রকম দিনে সে গান শুনতে শুনতে তাকিয়ে থাকে আকাশের দিকে। সেখানে হয়তো কারো ছবি আকে। কিন্তু কে সে? কেউ জানে না তার কথা। এমনকি ছেলেটিও জানে না সে আসলে কার ছবি একে যায়। সে শুধু আঁকতেই জানে কল্পনাতে।
মাঝে মাঝে ছন্দময় কিছু লিখতে চায়। ঠিক কবিতা বলা যায় না, তবে ঐ রকমই কিছু একটা। তার বন্ধুরা তাকে বাহবা দেয়,সে আনন্দে ফুলতে থাকে। মাঝে মাঝে গল্প লেখার ঝোঁক উথে,তখন সে নিত্যনতুন গল্প লিখতে থাকে। সমাজের গল্প, দেশের গল্প, ভালবাসার গল্প, মানসিক দ্বন্দ্ব তার গল্পে মুখ্য হয়ে দারায় কখনও কখনও। কিন্তু সে শেষ করতে পারে না। অনেক বিক্ষিপ্ত মন নিয়ে থাকে। এখন এটা করছে, তো তখন সেটা। কোন নিয়মের বালাই নেই।তবুও সে কিন্তু বেশ ভালো কিছু লেখার চেষ্টা করে মাঝে মাঝে।
সে স্বপ্ন খুবই কম দেখে। বলতে গেলে ঘুমের মাঝে তার চোখ জুড়ে স্বপ্ন এসে হাজির হয় না। এটা নিয়ে তার নিজস্ব একটা মত আছে। সে বলে, যেহেতু আমি সারাদিনই স্বপ্ন আকি,তাই রাতের বেলা ঘটা করে স্বপ্ন দেখার মানে হয় না।
সে কাউকে ভালবাসে না হয়তো। বলা যায়, ভালবাসা ব্যাপারটাকে সে আসলে ঠিক বুঝে উঠতে পারে না।
.
.
.
.
.
.

-এটা কি লিখে এনেছেন?
-কেন স্যার?
-আপনাকে কি বলা হয়েছিল?
-কিশোরদের জন্য কিছু লিখে আনতে
-আর আপনি কি করেছেন
-আমি তো স্যার তাই করলাম।
-কই করেছেন? গল্পের মাঝে টিনেজ ভালবাসার কিছু থাকবে, হাল আমলের ফেসবুক থাকবে। আর আপনি কি সব আজাইরা জিনিস লেখে আনছেন।
-সরি স্যার
-ওসব সরি-টরি তে কাজ হবে না। এই লেখা ছাপানো হবে না। আপনি বরং ঐ ডেস্কের কাজ করেন গিয়ে। আপনাকে দিয়ে এই সাহিত্য হবে না। এই নিন আপনার গল্প।

আমি গল্পের কাগজটা ডাস্টবিনে ফেলে দিলাম। সেখান থেকে অদ্ভুত ছেলেটি বলছে, “এই শুনে যাও। আমার কথা তো শেষ হয়ে যায় নি”
আমি এসব শুনেও না শুনার ভান করি। পিয়ন কে ডাক দেই চা দেওয়ার জন্য।

১৪ thoughts on “অদ্ভুত গল্প

  1. শ্রদ্ধেয় হুমায়ূন আহমেদ স্যার
    শ্রদ্ধেয় হুমায়ূন আহমেদ স্যার যখন প্রথম লিখতে শুরু করেছেন তখন তিনি তার একটা উপন্যাসের পান্ডুলিপি তখনকার এক বিখ্যাত প্রকাশনীতে জমা দিয়েছিলেন। সেই প্রকাশনীতে তখন বড় বড় জ্ঞানীগুণী মানুষ নিয়ে রিভিউ কমিটি ছিলো।পান্ডুলিপি পড়ে রিভিউ কমিটি সুপারিশ করলেই শুধু বইটি ছাপা হতো। হুমায়ূন আহমেদ স্যারের উপন্যাসটি পড়ে রিভিউ কমিটি সেটাকে ছাপানোর অযোগ্য বলে বাতিল করে দিলো। প্রকাশনীটি তাই সেই পান্ডুলিপি না ছাপিয়ে হুমায়ূন আহমেদ স্যারকে ফিরিয়ে দিয়েছিল! এর পরের ইতিহাসতো আমাদের সবার জানা।

  2. ভালো লিখেছেন।
    এমনি হয়, আম জাম

    ভালো লিখেছেন।
    এমনি হয়, আম জাম কাঁঠাল লিচু ছাপা হয়, মানুষ গিলে গ্রোগ্রাসে, আর চাপা পড়ে যায় কিছু সুন্দর কল্পনা…

  3. যেহেতু আমি সারাদিনই স্বপ্ন

    যেহেতু আমি সারাদিনই স্বপ্ন আকি,তাই রাতের বেলা ঘটা করে স্বপ্ন দেখার মানে হয় না।

    — এই লাইন টা ভালো লেগেছে ।
    — আপনার গল্প অন্য সবাই ফিরিয়ে দিলেও ইষ্টিশন ফেরাবে না । ফেরায় নি যে তাতো দেখতেই পাচ্ছেন !

  4. [অদ্ভুত ছেলেটি বলছে, “এই শুনে
    [অদ্ভুত ছেলেটি বলছে, “এই শুনে যাও। আমার কথা তো শেষ হয়ে যায় নি”]

    ছেলেটি শেষ কথাটায় কি বলতে চেয়েছিল জানতে মন চায়??

  5. কিন্তু সে শেষ করতে পারে না।

    কিন্তু সে শেষ করতে পারে না। অনেক বিক্ষিপ্ত মন নিয়ে থাকে। এখন এটা করছে, তো তখন সেটা। কোন নিয়মের বালাই নেই।

    এইই ভালো। এতো নিয়ম দিয়ে কি হবে?

Leave a Reply to সাইকোটিক পোলা Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *