চিঠি

প্রিয়তম ,

জানি তোমার অনেক কষ্ট হচ্ছে। তুমি চিৎকার দিয়ে কাঁদতে চাইছো । কিন্তু পারছো না । নিজেকে সামলে নেয়ার আপ্রান চেষ্টা করছো । আমার কাছ থেকে হয়তো চোখের জল তুমি লুকিয়ে রাখছো , কিন্তু তোমার কান্না আমি ঠিকই শুনতে পাই ।

জীবন আমাকে দুই হাত ভরে দিয়েছে । জীবনে যাই চেয়েছি, পেয়েছি । আমি জানি না কেন জীবন আমার প্রতি এতো প্রসন্ন কিন্তু জীবনের কল্যাণময় বাহু আমাকে রক্ষা করেছে সব সময় । তোমাকে পাওয়াটা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার । এই উপহারটুকু তুমি কেড়ে নিও না । বারবার তোমাকে কষ্ট দিয়ে ফেলি । তোমার ভালোবাসা দিয়ে আমার ভুলটুকু ঢেকে দিও ।


প্রিয়তম ,

জানি তোমার অনেক কষ্ট হচ্ছে। তুমি চিৎকার দিয়ে কাঁদতে চাইছো । কিন্তু পারছো না । নিজেকে সামলে নেয়ার আপ্রান চেষ্টা করছো । আমার কাছ থেকে হয়তো চোখের জল তুমি লুকিয়ে রাখছো , কিন্তু তোমার কান্না আমি ঠিকই শুনতে পাই ।

জীবন আমাকে দুই হাত ভরে দিয়েছে । জীবনে যাই চেয়েছি, পেয়েছি । আমি জানি না কেন জীবন আমার প্রতি এতো প্রসন্ন কিন্তু জীবনের কল্যাণময় বাহু আমাকে রক্ষা করেছে সব সময় । তোমাকে পাওয়াটা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার । এই উপহারটুকু তুমি কেড়ে নিও না । বারবার তোমাকে কষ্ট দিয়ে ফেলি । তোমার ভালোবাসা দিয়ে আমার ভুলটুকু ঢেকে দিও ।

তুমি যখন এই চিঠিটা পড়ছো, তখন আমি অনেক দূরে । আমার গন্ধ মাখিয়ে দিলাম এই নিস্প্রান কাগজে । দেখো তো , কেমন চেনা মনে হচ্ছে না গন্ধটা ?

মানুষ কিন্তু খুব সুন্দর করে বেঁচে থাকে । যত দুঃখ কষ্ট থাকুক , যত কান্না থাকুক, যত না পাওয়ার হাহাকার থাকুক , দিনের শেষে প্রতিটি মানুষই সুখী । যত বিরক্তি নিয়েই সে ঘুমুতে যাক , একজন ঘুমন্ত মানুষের চেহারায় কখনো বিরক্তি ফুটে উঠে না । আমি তোমার সাথে যত রাগারাগিই করি , ভালোবাসার প্রতিযোগিতায় আমার সাথে পাল্লা দেওয়া সহজ হবে না ।

আমি অবাক হয়ে দেখি, একজন মানুষ একটু একটু করে আমার জীবনটাকে পূর্ণতা দিচ্ছে । আমার এলোমেলো চুলগুলু আঁচড়ে দিচ্ছে । আমি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছি , তুমি আমার জীবনটাকে আঁকছো নিজের জীবনের রং দিয়ে । বাচ্চারা যেভাবে পুতুলের সংসার সাজায় , একইভাবে তুমি সাজিয়ে দিচ্ছো আমার মুহূর্তগুলো ।

একবার তুমি আমাকে কাঁদিয়েছিলে মনে আছে ? তোমার গলায় মুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম গানটা । তারপর হু হু করে কেঁদে ফেলেছিলাম । এই গানটা শুধু তোমার কথা মনে করিয়ে দেয় । বন্ধু হওয়ার আনন্দ আর বন্ধু থেকে দূরে থাকার কষ্টটুকু তুমি না থাকলে হয়তো বুঝতাম না । একা একা একটা মাঠে আমি হাটছি আর হাটছি। সঙ্গী ছাড়া এতটা পথ আমি একা একা পাড়ি দিতে পারবো না ।

কাছে আসা আর দূরে যাওয়া নিয়েই তো জীবনটা । জীবন নদীর এক ঘাটে আমরা মিলিত হয়েছি । গন্তব্যের আগে যেন আলাদা না হয়ে যাই । আমার সমস্ত অস্তিত্বটুকু তোমাকে দিয়ে কেবল শরীরটা নিয়ে যাচ্ছি । ফিরে এসে তোমার গান শুনবো আবার । হেটে বেড়াবো রাস্তায় । সোডিয়াম আলোয় তোমার হাত ধরে বলবো , আমাকে ছেড়ে যাবে না তো ?

তুমি রাগ করে বলবে , এটা কেমন কথা হোলো ? আমি হাসবো । তুমিও হাসবে । আমাদের হাসির শব্দে চমকে উঠবে সবকিছু । এই ছেলেমেয়ে দুইটা এমন কেন ! ভাববে সবাই। তুমি আবার মন খারাপ করা সুরে গাইবে ,
বন্ধু আমার বুকের মাঝে
বিসর্জনের ব্যাথা
বন্ধু তুমি অমন করে
যেও না আর একা……

চোখ মুছো প্রিয়তম । তোমার কান্না দেখতে আমার ভালো লাগে না ।

ইতি
তোমার অর্ফি

৯ thoughts on “চিঠি

    1. ১০০% একমত! এমন একখান চিঠি পড়ে
      ১০০% একমত! এমন একখান চিঠি পড়ে কার সাধ্য দূরে থাকে…
      ভিন্ন ধরনের একখানা লিখা পড়ে আরাম পাইলাম!! ধন্যবাদ :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  1. পোস্ট অফিসের কথা ভুলেই
    পোস্ট অফিসের কথা ভুলেই গিয়েছিলাম ।আপনার পোস্টটি পড়ে আরেকবার মনে পড়ল ।
    ধন্যবাদ

  2. বন্ধু আমার বুকের

    বন্ধু আমার বুকের মাঝে
    বিসর্জনের ব্যাথা
    বন্ধু তুমি অমন করে
    যেও না আর একা……

    — গানটা দারুণ ! আহারে সেই চিঠি লেখার কাল । কতদিন লিখিনা !!!

  3. আহা রে… আমার উনি এমন একটি
    :কানতেছি: :কানতেছি: :কানতেছি: :কানতেছি: :কানতেছি: :কানতেছি: আহা রে… আমার উনি এমন একটি চিঠি লিখত আমাকে…।।
    আজীবন জড়িয়ে ধরে রাখতাম…।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *