একজন সাহিত্যসম্রাট

একটি হলুদ পাঞ্জাবী
নয় একটি ভারী ফ্রেমের চশমা
অথবা একটি মোটা রহস্যলিপি ,
সবই আজ অন্ধকারের জগতে ঢাকা
কারণ নেই তুমি চরিত্র স্রষ্টা , নেই তুমি
আর খসখসে সাদা কাগজে কাটবে না আঁচড়
তোমার প্রিয় বলপয়েন্টের তীক্ষ্ণ ধারালো শীষ ,
চলে গেলে তুমি , সাথে নিয়ে গেলে সবই ।



একটি হলুদ পাঞ্জাবী
নয় একটি ভারী ফ্রেমের চশমা
অথবা একটি মোটা রহস্যলিপি ,
সবই আজ অন্ধকারের জগতে ঢাকা
কারণ নেই তুমি চরিত্র স্রষ্টা , নেই তুমি
আর খসখসে সাদা কাগজে কাটবে না আঁচড়
তোমার প্রিয় বলপয়েন্টের তীক্ষ্ণ ধারালো শীষ ,
চলে গেলে তুমি , সাথে নিয়ে গেলে সবই ।

আজ হিমু খালি পায়ে হাঁটতে গিয়ে হোঁচট খায়
মিসির আলি রহস্যলিপিতে নতুন কেস লিখে না ,
শুভ্র তার চশমা খুলে অজান্তেই ঘুরে বেড়ায়
রূপার নিজ জগৎ এখন তার কাছেই অজানা ,
আজ তোমার জন্য কল্পনাতে কোথাও কেউ নেই
রঙপেন্সিলে এখন আর ছড়ায় না রঙ
জোছনা ও জননীর গল্পের জনক আজ অনুপস্থিত ,
তাই পথভোলা রাবণের দেশে আমি এবং আমরা কজন ।

বাদশাহ নামদার নয় মুঘল সম্রাট নাসিরউদ্দিন
তুমিই ছিলে সে বাদশাহ আমাদের ভূবনে ,
আধ্যাত্মিক কুটু মিয়া অথবা গুন্ডা বাকের ভাই
ব্যাকুল হয়ে আছে তোমার আগমনের জন্যে
আগুনের পরশমণি ছুঁইয়ে দিয়ে সবার প্রাণে
চলে গেলে কেন শ্রাবণ মেঘের দিনে ?
চাঁদনী পশর রাতে চেয়েছিলে যেতে পরদুনিয়ায়
তবে কেন গেলে রেখে আমাদের ঘোর অমানিশায় ?

চিত্রার বিয়ে থমকে যাবে তোমার বিদায়ে
পারনি কি বুঝতে তুমি অন্তিম সময়ে ?
রুপালী দীপে এক তরুণ হাত ভিজিয়ে
‘আমার আছে জল’ বলতে চায় গভীর কষ্ট নিয়ে ।
শঙ্খনীল কারাগারে আজ তোমার জন্য হাহাকার
মেঘের ওপর বাড়ি গড়ে আজ সেথায় বাস তোমার ,
নন্দিত নরকে অথবা অসমাপ্ত দেয়ালে সেই তুমি
তোমার আমি ছেড়ে কোন সুদূরে হারিয়ে গেলে ?

হে সাহিত্যসম্রাট , হে প্রবাদপুরুষ
তোমার শূন্যতায় আজ কাঁদবে বইমেলা
কাঁদবে লাখো কোটি পাঠকের মন ,
তুমি হতে পারো মৃত , পারো হতে অশরীরী
আমরা রেখেছি মনে , ভুলব না তোমার পথচলা ।।

গত বছর এই দিনে আমাদের একা করে দিয়ে আমাদের সবার মনের মানুষ , প্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদ চলে গিয়েছিলেন না ফেরার দেশে । খুব অভিমান হয়েছিল তখন উনার ওপর । সেই অভিমান নিয়েই এ কবিতা লিখেছিলাম গত বছরই । আজ উনার প্রথম প্রয়াণ দিবসে সবার উদ্যেশ্যে এটি প্রকাশ করলাম ।
স্যার , আপনি আজীবন থাকবেন আমাদের মনে । যতদিন বাংলাদেশ আছে , ততদিন আপনি মিশে থাকবেন এ বাংলার প্রকৃতিতে এবং মানুষের জীবনে ।
যেখানেই থাকুন , ভালো থাকুন । খুব মিস করছি আপনাকে , সবসময় করব ।।

১৬ thoughts on “একজন সাহিত্যসম্রাট

    1. হুম । আবেগে আপ্লুত হয়ে
      হুম । আবেগে আপ্লুত হয়ে লিখেছিলাম , সাথে ছিল অভিমান ।
      স্যারকে সবসময় মিস করব ।
      আপনাকে ধন্যবাদ ।

  1. আজকে সারাদিন কারেন্ট ছিলোনা।
    আজকে সারাদিন কারেন্ট ছিলোনা। কারেন্ট না থাকাতে একটা ভালো কাজ হয়েছে, অনলাইনে বসা হয়নি। ঐ সময়ে দুটো বই পড়ে শেষ করে তিন নাম্বারটা ধরেছি। প্রথম দুইটা বই ছিল মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোট গল্পের বই। তৃতীয়টা ছিল হুমায়ূন আহমেদের মধ্যহ্ন। তিনটা বইই বেশ ভালো। তবে বলতে দ্বিধা নেই হুমায়ূন আহমেদের বই পাঠক ধরে রাখতে বেশী পারদর্শী। এটাই হুমায়ূন আহমেদের ম্যাজিক।

    1. ঠিক বলেছেন ।
      উনার বই চুম্বকের

      ঠিক বলেছেন ।
      উনার বই চুম্বকের মত আটকে রাখতে পারে , অনেকের বই যা পারে না । এখানেই উনার সার্থকতা ।

  2. এইটুকুন লিখা পড়লেই বুঝা যায়
    এইটুকুন লিখা পড়লেই বুঝা যায় এই একজন লোক তার কাজ দিয়ে কতটা প্রভাব বিস্তার করেছেন এই বাংলায়!! শরৎচন্দ্রের পর তিনিই প্রথম কথাসাহিত্যিক যার লিখা বাঙ্গালীকে আবার পড়তে শিখিয়েছে… :salute: :salute: :salute: :salute: হুমায়ুন আহমেদ স্যারকে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *