খালেদা জিয়া’র নতুনধারা সরকারের রূপরেখা

বিএনপি চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় গেলে নতুন ধারার সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। নতুন ধারার সরকার কেমন হবে সে সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি। তবে মানুষের অতীত, বর্তমান বিবেচনাতেই ভবিষ্যত সম্পর্কে ধারনা করা যায়। সেই বিচারে হাল আমলে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনে নতুন সংযোজন ঐতিহাসিক তেঁতুল তত্ত্বের জনক ও প্রাণীকূলের লালা ঝরা বিষয়ক গবেষক হাট হাজারির আহমদ শফির সুরুচির(!) সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। হেফাজতিদের প্রিয় নেত্রী হিসেবে বেগম জিয়ার স্বপ্নের নতুন ধারা সরকারে আহমদ শফির সম্মানে তার কুখ্যাত তেতুল তত্ত্ব প্রচারের জন্য মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় বন্ধ করে দিয়ে তার পরিবর্তে ‘তেতুল তত্ত্ব উন্নয়ন’ মন্ত্রণালয় নামে একটি মন্ত্রণালয় খোলা হতে। বয়স বিবেচনায় জুনায়েদ বাবুনগরী কিংবা এ এজাতীয় হেফাজতি নেতাকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এই মন্ত্রণালয়ের উদ্যেগে দেশের প্রধান-অপ্রধান সড়কের পাশে বাধ্যতামূলকভাবে তেতুল গাছ লাগানো হতে পারে এবং বছরে একটি জাতীয় তেতুল সম্মেলন করে হেফাজত কর্মীদের মধ্যে লালা ঝরানো প্রতিযোগিতার আয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি সংসদে শুধু নয়, অশ্লীল ভাষা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য অশ্লীল ভাষা উন্নয়ন নামে আরও একটি মন্ত্রণালয় হতে পারে। এ মন্ত্রণালয়ের নাম ‘চুদুরবুদুর’ মন্ত্রণালয়ও হতে পারে। এর দায়িত্ব সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রেহানা আক্তার রানু কিংবা শাম্মী আখতার কে দেওয়া যেতে পারে। তেতুল তত্ত্ব মন্ত্রণালয় আয়োজিত জাতীয় তেতুল সম্মেলন ও হেফাজত কর্মীদের লালা ঝরানো প্রতিযোগিতায় ‘অশ্লীল ভাষা উন্নয়ন মন্ত্রণালয়’ কিংবা ‘চুদুরবুদুর মন্ত্রণালয়’ বিশেষ সহায়তা দিত পারে।
যুদ্ধাপরাধী জামায়তিদের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপি’র দীর্ঘদিনের সখ্যতা। আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের রায়ে পরমাত্মীয় যুদ্ধা্পরাধীদের কঠোর শাস্তির রায় মেনে নিতে পারছেন না খালেদা জিয়া।যাবজ্জীবন, ৯০ বছরের জেল তবু সমালানো যায়, কিন্তু ফাঁসীর রায়ের যন্ত্রণা সামলানো বেশ কঠিন। এ কারনে বেগম খালেদা জিয়া বুকে আট-দশ মন ওজনের পাথর বেঁধে নিভৃতে বসে চোখের পানি ফেলছেন, রায়ের ব্যাপারে নিজেও নিশ্চুপ রয়েছেন, দলের নেতা-কর্মীদেরও চুপ থাকতে বলেছেন। চোখের জল, নাকের জল একাকার করে এই আপোষহীন নেত্রী ভাবছেন কিভাবে তার আত্মার আত্মীয় একাত্তরের এই কুখ্যাত ঘাতক, ধর্ষক, পাষন্ডদের দন্ড থেকে রক্ষা করা যায়! সেই ভাবনার প্রতিফলন হিসেবে বেগম জিয়া তার নতুন ধারার সরকারে ‘যুদ্ধাপরাধী পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়’ গঠন করে দন্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি এবং তাদের আবারও একাত্তরের কায়দায় হত্যা, খুন, ধর্ষণ, সংখ্যালঘু নির্যাতনের জন্য বিশেষ লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতে পারে। প্রতিটি রায়ের পর জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা যে তান্ডব চালিয়েছেন, তার জন্য সন্ত্রাসের মাত্রা বিবেচনায় জাতীয় পুরস্কারেরও ব্যবস্থা করতে পারে এই মন্ত্রণালয়। শিবিরের সন্ত্রাসকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সারা দেশে জেলা-উপজেলা পর্য়ায়ে সন্ত্রাস প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলাও হতে পারে। জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারদের মধ্যে সন্ত্রাস ও বর্বরতায় পারদর্শীতার বিবেচনায় এসব কেন্দ্রের প্রশিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। এভাবে যুদ্ধাপরাধীদের রায়ের পর বিএনপি’র নিশ্চুপ থাকার জবাব তখন কাজের মাধ্যমেই দিতে পারে নবগঠিত মন্ত্রণালয়। আর এই মনন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বেগম জিয়া নিজের হাতেই রােখতে পারেন, কারন আত্মীয়-স্বজন পুনর্বাসনের দায়িত্ব যার তার হাতে দেওয়া যায় না।
ষড়যন্ত্র, মিথ্যাচার, ভন্ডামির জন্য মাহমুদুর রহমান ‘মাস্টার মাইন্ড’ হয়ে গেছেন। এই কুলাঙ্গারকে বিশেষভাবে সম্মানিত করার জন্য ‘ষড়যন্ত্র এবং অপপ্রচার বিষয়ক মন্ত্রলয়’ খোলা হতে পারে খালেদা জিয়ার নতৃুন ধারার সরকারে। মাহমুদুর রহমানের দায়িত্বে এই মন্ত্রণালয় থেকে ষড়যন্ত্র, ভন্ডামি, মিথ্যাচারের জন্য সারাদেশে প্রশিক্ষণ খোলা হতে পারে। এর জন্য পাঠক্রম তৈরি করে দিতে পারেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক হিসেবে ফরহাদ মজহার, পিয়াস করিম, আসিফ নজরুলকে রাখা যেতে পারে। মাহমুদুর রহমানের কুলাঙ্গার পরিচয় কে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ‘মাহমুদুর রহমান জাতীয় কুলাঙ্গার’ পুরস্কারও চালু করতে পারে এই মন্ত্রণালয়।
বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে দেশে জঙ্গীবাদ বেশ সম্প্রসারিত হয়েছিল। জঙ্গী সংগঠন জেএমবি, এর নেতা শায়খ রহমান, বাংলা ভাই এর উত্থানে বোমা, গ্রেনেড হামলা প্রায় নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছিল। খালেদা জিয়া ক্ষমতা ছাড়ার পর সেই জঙ্গী নেতা শায়খ আব্দুর রহমান, বাংলা ভাই এর ফাঁসী হয়েছে। খালেদা জিয়া হয়ত এখনও নিরবে চোখের পানি ফেলেন, স্বজন হারানোর বেদনা কি সহজে ভোলা যায়! এ কারনে নতুন খালেদা জিয়ার নতুন সরকারে জঙ্গী নেতা শায়খ রহমান-বাংলা ভাই এর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ‘জঙ্গীবাদ উন্নয়ন’ মন্ত্রণারয় নামে একটি মন্ত্রণালয় খুলতে পারেন। এর মাধ্যমে দেশে জাতীয় জঙ্গীবাদ চাষ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রতিটি জেলায় এর শাখা থাকবে। প্রয়োজনে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যবহার করে দূরশীক্ষণ পদ্বধতিতেও জঙ্গীবাদ প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণে বিশেষ উদ্যেগ নেওয়া যেতে পারে। প্রতি বছর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে জঙ্গীবাদ চর্চায় প্রথম থেকে দশম স্থান অর্জনকারীদের ‘জঙ্গীগুরু শায়খ রহমান-বাংলা ভাই’ স্মৃতি পুরস্কার দেওয়া যেতে পারে। আর এই স্পর্শকাতর মন্ত্রণালয় সামলানো খুব কঠিন। একটু এদিক-সেদিক হলে বড় ধরনের ধরা খাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারনে এর দায়িত্ব জঙ্গীবাদ লালনে বিশেষ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তরুন প্রজন্মের তুর্কী তারেক রহমান ছাড়া আর কাউকে দেওয়ার কথা খালেদা জিয়া হয়ত চিন্তাই করবেন না……. .বেগম খালেদা জিয়ার নতুন ধারার সরকার এর চেয়ে ভাল কিছু হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি……….?
রাশেদ মেহেদী, সাংবাদিক

৮ thoughts on “খালেদা জিয়া’র নতুনধারা সরকারের রূপরেখা

  1. আছে! আপনি আরো কয়েকটি
    আছে! আপনি আরো কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও কমিটির কথা বলতে ভুলে গেছেন রাশেদ ভাই
    যেমনঃ
    ১) বোমা হামলা মন্ত্রণালয়
    ২) পাকিস্থান রক্ষা মন্ত্রানালয়
    ৩) সর্বস্তরের জন্য বিদ্যুৎ তথা খাম্বা মন্ত্রণালয়
    ৪) বাংলা ভাই রক্ষা কমিটি
    ৫) মুক্তিযুদ্ধা নির্মূল কমিটি
    ৬) মঙ্গা রক্ষা কমিটি (মঙ্গা জাতির ঐতিহ্য…)
    ৭) সামরিক সংবিধান রক্ষার জন্য সংসদীয় কমিটি…
    এমন নানান কমিটি ও মন্ত্রণালয়ে দেখা যাবে হাতি নয় এইবার ডাইনোসর আকারের মন্ত্রণালয় প্রসব করবে গোলাবি… পাকিস্থান হাতছানি দিয়ে ডাকছে!! সবাই প্রস্তুত হউন…
    ভাল লিখেছেন… জনগন না বুঝলে চড়া মুল্য দিবে পরবর্তী ৫ বছর!!

  2. আপনার পরিকল্পনামত হলে খুব ভাল
    আপনার পরিকল্পনামত হলে খুব ভাল পদ্ধতির সরকার।সমর্থন দিলাম!

    সমর্থন করলাম এই কারনে যে, আমাদের ও কিছু শিক্ষা হওয়া দরকার।কথায় কথায় লীগ বিরুধীতার সুফল পেতে হবে না?

  3. তারিক লিংকন ও দুরন্ত জয়কে
    তারিক লিংকন ও দুরন্ত জয়কে ধন্যবাদ আরও কিছু মন্ত্রণালয় এবং কমিটি খালেদা জিয়ার নতুন ধারার সরকারে সংযোজন করার জন্য। সৈয়দ গোলাম শহিদ.কেও ধন্যবাদ। তবে আবু আলীর একই মন্তব্য তিনবার করার অর্থ বুঝতে পারলাম না…আপনি আর একটু পরিস্কার করে মন্তব্য করলে খুশী হব….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *