শূন্য দোলনা দোল খায়।

মর্শীকে আমি জানি ছোট বেলা থেকে।কোন ছুতো পেলে অমনি নাক ফোলানোর অভ্যাস ওর।আমাকে যদি কোন মেয়ের সাথে কথা বলতে দেখে।তবে তো নেই আমি পৃথিবীতে নেই,চলে যাব খাটের তলায়।হঠাৎ সব কিছু ওলট পালট হয়ে গেল।একটা তপ্ত হাওয়া সব কিছু বিলুপ্ত করে দিল।মিথ্যে বলব না হাওয়াটা বইয়ে দিতে আমি বেশি উৎসাহী ছিলাম।প্রথম যে দিন ও বলেছিল খাওয়া দাওয়া কম কর হাওয়া আসছে।সে দিন আমার আনন্দ দেখে কে ইচ্ছে করছিল দোতালার বারান্দায় পাতানো দোলনায় ওকে নিয়ে দোল খাই।কিন্তু মর্শীর অসুবিধা হতে পারে এই ভেবে দোল খাওয়ার ইচ্ছেটা দমন করেছিলাম।কত হাসি হাসতে হাসতে হাওয়া আসার সময় হয়ে এল।যথা সময়ে অসম্ভব উৎকন্ঠা,উদ্বেগ,আবেগ আর কান্নায় মর্শীর কোল রাঙ্গিয়ে হাওয়া এল।মর্শী যতটা না খুশি হয়েছিল আমি তার কম হইনি।কিন্তু মর্শীর খুশি সব কিছুকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল।সারা দিন হাওয়াকে নিয়ে মেতে থাকত।আমাকেও পালা করে রাত জাগতে হত।কি সুন্দর জোছনা।ইচ্ছে হত এক দৌড়ে ছাদে যেয়ে মর্শীকে নিয়ে,জোছনায় ভিজে আসি।ইচ্ছেটা চাপা পড়ে যেত যখন ভাবতাম আমি এখন বাবা হয়েছি ছেলে মানুষী আমাকে আর মানায় না।মনে মনে খুব গালি দিতাম এই ছেলে মানুষ ও বুড়ো মানুষ শব্দের আবিষ্কারক কে।আমার অবুঝ মন সব সময় বলত জোছনা ছেলে-বুড়ো সবার জন্যে।বুঝতে চাইতাম বিছানার ওপাশে মর্শী কি ভাবছে।শেষের দিকে দেখতাম সে খুব নীরব হয়ে যাচ্ছে,হারিয়ে যাচ্ছে তার উদ্দাম উচ্ছলতা।সব কিছুতেই কেমন যেন নির্লিপ্ততা।আমার কিংবা হাওয়ার সবার ব্যাপারেই ওর উদাসীনতা লক্ষ্যনীয়।বুঝতে পারছিলাম ওকে হারিয়ে পেলছি,ভাবতেই ঠিক মাথাটা ঝিম মেরে আসত,বুকের মাঝে কেমন যেন একটা চাপ অনুভব করতাম।ভয়ে ওকে বেশি জ্বালাতাম না।এখন বুঝতে পারছি এই না জ্বালানোর কারনেই আমার হাওয়াকে হারাতে হয়েছে।এক দিন বাইরের থেকে এসে দেখি।মর্শী দরজা খুলে বারান্দায় দাঁড়িয়ে,আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।হাওয়ার ঘর থেকে কোন শব্দ আসছে না।ওতো সারাক্ষন কান্নাকাটি করে এখন চুপ কেন।তবে কি?আসার পথে ডাক্তার বন্ধুকে মর্শীর বর্তমান অবস্থা জানিয়ে এসেছি।ও বলেছিল এ সময় মায়েরা মানষিক রোগে ভোগে।দ্রুত হাওয়ার ঘরে গেলাম কিন্তু হাওয়ার বিছানা খালি,বুকটা না চাইতে মোচড় দিয়ে উঠল।মর্শী মর্শী হাওয়া নেই।আছে ফ্রিজে ঢুকিয়ে রেখেছি,একদম ফ্রেশ থাকবে তাই না।আমার আর কিছু মনে নেই হাওয়াকে পাইনি।তবে দীর্ঘ চিকিৎসার পর মর্শীকে ফিরে পেয়েছি।
বি:দ্র: গর্ভাবস্থায় যেমন প্রসুতী মায়ের যত্ন নিতে হয় গর্ভ পরবর্তী সময়েও যত্ন নিতে হয়।
উৎসর্গ: সকল সম্ভাব্য মা ও বাবাদের।

৭ thoughts on “শূন্য দোলনা দোল খায়।

  1. কী ভয়ংকর সত্য !!!
    হরর ছবির

    কী ভয়ংকর সত্য !!!
    হরর ছবির দৃশের মতো ।
    তবে এটাই বাস্তবতা ।
    এটা কি সত্য ঘটনা ?
    আপনারা ভালো থাকুন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *