আজি হতে শতবর্ষ পরে

(গল্পে উল্লিখিত সমস্ত চরিত্র ও ঘটনা কল্পনাপ্রসুত। কারো নাম বা কৃতকর্মের সাথে এর সাদৃশ্য পাওয়া গেলে তা অনভিপ্রেত কাকতাল মাত্র। এর জন্য আমি দায়ী নই)

অধ্যাপক গোলাম আযম পিজি হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে পান চিবাচ্ছেন।


(গল্পে উল্লিখিত সমস্ত চরিত্র ও ঘটনা কল্পনাপ্রসুত। কারো নাম বা কৃতকর্মের সাথে এর সাদৃশ্য পাওয়া গেলে তা অনভিপ্রেত কাকতাল মাত্র। এর জন্য আমি দায়ী নই)

অধ্যাপক গোলাম আযম পিজি হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে পান চিবাচ্ছেন।

আজ তাঁর মন অতি প্রফুল্ল। কানের পাশ দিয়ে গুলি চলে গেছে। তিনি ভেবেছিলেন আজ তাঁর ফাঁসির আদেশ দেওয়া হবে। কোন এক পুন্যফলের কারণে ফাঁসি হয়নি। অধ্যাপক আযম কী পুন্য করেছেন ভাবার চেষ্টা করলেন। অনেক খুঁজে টুজেও সারাজীবনে একটা ভালো কাজও পাওয়া গেল না। গোলাম আযম হাল ছেড়ে দিলেন। খুশির দিনে এইসব পুন্য টুন্য খোঁজা কোন কাজের কথা না। বরং একটু মৌজ মাস্তি করা গেলে ভালো হত। হাতের কাছে নাতনীটাকে পেলে একটু কচলানো যেত। তাকেও ধারে কাছে দেখা যাচ্ছে না। অধ্যাপক গোলাম আযম পিজি হাসপাতালে ভর্তি হবার পর একজন অল্পবয়সী নার্সকে নাতনী ডাকা শুরু করেছেন। মাঝে মাঝে সুযোগ বুঝে নাতনীর পিঠে টিঠে হাত বুলিয়ে আদর করার চেষ্টা করেন। বদ মেয়েটি তাঁর মতলব বুঝে ফেলার পর থেকে আর কাছে আসতে চায় না। নির্বোধ কন্যা, আদর সোহাগের মর্ম বুঝে না। অধ্যাপক সাহেব দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

গোলাম আযম তাঁর অধ্যাপক উপাধির উৎস নিজেও জানেন না। একদিন তাঁর চাপরাশি মতি মিয়া (ভালো নাম মতিউর রহমান নিজামী) ধুপ করে পায়ের কাছে এসে পড়ে গেল। তাঁকে ক্রেন দিয়েও টেনে তোলা যায় না এমন অবস্থা। অনেক জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা গেল মতি মিয়া ‘প্রবেসর’ সাবের পায়ে ঠাই চায়। প্রবেসর সাব তাঁকে ঠাই দিলেন। এক পর্যায়ে মতি মিয়াই গলাবাজি করে অধ্যাপক ব্যাপারটি স্থায়ী করে ফেলল। গোলাম আযমও কিছু বললেন না। মানুষের মুখে জয়, মুখেই ক্ষয়। তবে অধ্যাপক হবার পর মাঝে মাঝে মেয়েদের কলেজে অধ্যাপনার একটা ক্ষুদ্র ইচ্ছা তাঁর মধ্যে কাজ করত।

হাসপাতালের নিচে ক্যামেরা ট্যামেরা নিয়ে গাদা খানেক সাংবাদিক হৈচৈ করছে। গোলাম আযমের ইচ্ছে করছে ফকিন্নির পুতগুলাকে মধ্যাঙ্গুলি দেখিয়ে দিতে। কাজটা ভুলেও করা যাবে না। তাঁর বিশ্বস্ত চামচা ও পার্সোনাল কসাই, কাদের মোল্যা ভি চিহ্ন দেখিয়ে প্রায় সর্বনাশ ঘটিয়ে ফেলেছিল। কাদের হারামজাদার ছাগলামিতে শাহবাগের মোড়ে একদল উচ্ছৃঙ্খল ছেলেমেয়ে যা তা করেছে। বাঙালি জাতিটাই মুর্খ। এরা চিহ্নের মর্যাদা বোঝে না। বড়ই বুরবাক জাতি। এদের প্রত্যেকেকে পাছায় লাথি দিয়ে ইন্ডিয়া পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। বদের হাড্ডি এক এক খানা।

অধ্যাপক গোলাম আযম কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। নব্বই বছরের কারাদন্ড বিরাট শাস্তি। তবে এই শাস্তি তাঁর কাছে বড়ই আনন্দদায়ক মনে হচ্ছে। হারামির বাচ্চা বাংলাদেশিরা নব্বই বছর ধুয়ে ধুয়ে পানি খাক। তিনি থু করে পানের পিক ফেললেন। তাঁর মনে হল সমগ্র বাংলাদেশকে তিনি থুথু দিয়ে ভিজিয়ে ফেললেন।

পরিশিষ্টঃ

২১১৩ সাল।
পিপিসিএস (পুর্ব পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস) পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেলোয়ার আযম। সে এই মুহুর্তে ইতিহাস পড়ছে। পুর্ব পাকিস্তানের পুনরুদ্ধার পর্বে অশেষ ত্যাগ তিতিক্ষার জন্য গোলাম আযমকে জাতির পিতা ঘোষণা করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী। এই বিশ্বনেতাকেও তৎকালীন দেশদ্রোহী জনতার দাবীর মুখে ফাঁসির আদেশ শুনতে হয়েছিল। দেলোয়ারের বুকটা হু হু করে ওঠে। দেশের জন্য কী ত্যাগই না স্বীকার করেছেন তাঁরা। বাবা মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা বোধ করে সে, এই দুই মহামানবের নামে তার নাম রাখার জন্য।

৭ thoughts on “আজি হতে শতবর্ষ পরে

  1. একদিন তাঁর চাপরাশি মতি মিয়া

    একদিন তাঁর চাপরাশি মতি মিয়া (ভালো নাম মতিউর রহমান নিজামী) ধুপ করে পায়ের কাছে এসে পড়ে গেল। তাঁকে ক্রেন দিয়েও টেনে তোলা যায় না এমন অবস্থা।

    — ভালো কইছেন । মজা পাইছি ।
    — খুব চমৎকার বিদ্রূপাত্মক লেখা ।

  2. এইটা কি হইল?
    এইটা কি হইল? :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি:
    :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *