তেঁতুল তত্ব নিয়ে মূখ খুললেন তসলিমা নাসরিন

আল্লামা আহমেদ শফির সাম্প্রতিক সময়ে প্রচারিত ভিডিও টেপ নিয়ে লিখেছেন নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিন। শফির তেঁতুলাচার নিয়ে পড়ার মত একটা লেখা।
————————————————————

বাংলাদেশ থেকে খুব কমই ফোন আসে। বছরে একটি কিংবা দুটি। মাঝে মাঝে নিজেই আঁতকে উঠি। জন্মেছি, ও দেশেই কাটিয়েছি শৈশব কৈশোর যৌবন। ও দেশেই আছে আত্মীয় স্বজন, খেলার সাথী, ও দেশেই আছে একসময়ের সহপাঠীরা, সহকর্মীরা, লেখক-বন্ধুরা, অনুরাগী পাঠকেরা। দিব্যি ভুলে গেছে সবাই! তা যাক, আমিও ও নিয়ে দুঃখ করতেও অনেকদিন ভুলে গেছি। আজ কিন্তু ফোন আসা বা না আসা নিয়ে লিখতে বসিনি। লিখছি, কারণ বিকেলে একজন ফোন করেছিল দেশ থেকে। মৌলবাদ বিরোধী আন্দোলনে জড়িত। শাহবাগেও ছিল।



আল্লামা আহমেদ শফির সাম্প্রতিক সময়ে প্রচারিত ভিডিও টেপ নিয়ে লিখেছেন নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিন। শফির তেঁতুলাচার নিয়ে পড়ার মত একটা লেখা।
————————————————————

বাংলাদেশ থেকে খুব কমই ফোন আসে। বছরে একটি কিংবা দুটি। মাঝে মাঝে নিজেই আঁতকে উঠি। জন্মেছি, ও দেশেই কাটিয়েছি শৈশব কৈশোর যৌবন। ও দেশেই আছে আত্মীয় স্বজন, খেলার সাথী, ও দেশেই আছে একসময়ের সহপাঠীরা, সহকর্মীরা, লেখক-বন্ধুরা, অনুরাগী পাঠকেরা। দিব্যি ভুলে গেছে সবাই! তা যাক, আমিও ও নিয়ে দুঃখ করতেও অনেকদিন ভুলে গেছি। আজ কিন্তু ফোন আসা বা না আসা নিয়ে লিখতে বসিনি। লিখছি, কারণ বিকেলে একজন ফোন করেছিল দেশ থেকে। মৌলবাদ বিরোধী আন্দোলনে জড়িত। শাহবাগেও ছিল। আমার নিষ্ঠ পাঠক। বন্ধু। বললো, ‘আপনি কিছু লিখছেন না কেন, এই যে মেয়েদের তেতুঁলের সঙ্গে তুলনা করলো আল্লামা শফী’। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘আল্লামা শফীটাকে, শুনি?’ কথোপকথনটা তারপর এভাবে এগোলো।
— হিফাজতে ইসলামের আমীর।
–হিফাজতে ইসলামটা কী?
–একটা মৌলবাদী দল। কয়েক লক্ষ লোকের মিছিল নামিয়েছিল ঢাকায়। এখন প্রচুর প্রতিবাদ হচ্ছে তার বক্তব্য নিয়ে। আপনার লেখা মিস করছি। লিখুন।
–কেন প্রতিবাদ হচ্ছে? কী বলেছে সে?
–জনসভায় বলেছে, ‘আপনারা মেয়েদের স্কুল, কলেজ, ভার্সিটিতে লেখাপড়া করাইতেছেন। কেন করাইতেছেন? তাদের ক্লাস ফোর-ফাইভ পর্যন্ত পড়াইবেন যাতে বিবাহ শাদী দিলে স্বামীর টাকা-পয়সার হিসাব রাখতে পারে। আপনার মেয়েকে স্কুল-কলেজ, ভার্সিটিতে পড়াইতেছেন, লাখ লাখ টাকা খরচ করতেছেন। কিছুদিন পর আপনার মেয়ে, নিজে নিজে একটা স্বামী জোগাড় কইরা লাভ ম্যারেজ, কোর্ট ম্যারেজ কইরা চইলা যাবে। আপনার কথা স্মরণ করবে না। মহিলাদের ক্লাসে সামনের দিকে বসানো হয়, পুরুষরা কী লেখাপড়া করবে?’ আরও জঘন্য কথা বলেছে।
–যেমন?
–বলেছে, ‘আপনার মেয়েকে কেন দিচ্ছেন গার্মেন্টসে কাজ করার জন্য? চাকরি তো অনেকে করতেছেন। আপনি নিজে করতেছেন, আপনার বউ করতেছে, মেয়েরা করতেছে। কিন্তু তারপরওতো পারতেছেন না। খালি অভাব আর অভাব। আগের যুগে শুধু স্বামী রোজগার করত আর সবাই মিইলা খাইত। এখন বরকত নেই। সবাই মিল্লা এত টাকা কামাইয়াও তো কুলাইতে পারতেছেন না।

গার্মেন্টসে কেন দিচ্ছেন আপনার মেয়েকে? সকাল ৭-৮টায় যায়, রাত ১০-১২টায়ও আসে না। কোন পুরুষের সঙ্গে ঘোরাফেরা করে, তুমি তো জান না। কতজনের সঙ্গে আপনার মেয়ে চলছে তা তো জানেন না। জেনা কইরা টাকা কামাই করতেছে, বরকত থাকবে কেমনে। মেয়েদের কাজ ঘরের ভেতর। নারীদের ঘরে থাকতে বলেছে ইসলাম। তোমরা জাহিলিয়াতের সময়ের মতো বেপর্দায় ঘর থেকে বাইর হইও না, উলঙ্গ অবস্থায় মাঠে-ঘাটে-হাটে আপনারা মহিলারা মার্কেট করতে যাবে না। স্বামী আছে সন্তান আছে তাদের যাইতে বলবেন। আপনি কেন যাবেন? আপনি স্বামীর ঘরের মধ্যে থাইকা উনার আসবাবপত্র এগুলার হেফাজত করবেন। ছেলে-সন্তান লালন-পালন করবেন। এগুলা আপনার কাজ। আপনি বাইরে কেন যাবেন?’
–তাই নাকি?
–বলেছে, ‘জন্মনিয়ণ্ত্রণ কেন করেন? বার্থ কণ্ট্রোল কেন করেন? বার্থ কন্ট্রোল হলো পুরুষদের মরদা থাইকা খাসি কইরা ফেলা। মহিলাদের জন্মদানী সেলাই কইরা দেয়া। এরই নাম বার্থ কন্ট্রোল। বার্থ কন্ট্রোল করলেও ডেথ তো কন্ট্রোল করতে পারবা না। রিজিকের মালিক হচ্ছে আল্লাহ। খাওয়াইব তো উনি। তুমি কেন বার্থ কন্ট্রোল করবা? বড় গুনাহের কাজ এইটা। পারলে চাইরটা পর্যন্ত বিবাহ করবা। খাওয়াইব তো আল্লাহ। বার্থ কন্ট্রোল করবা না। এইটা বড় গুনাহের কাজ’।

— দেশে এত গরিব। আল্লাহ তো ঠিকমতো খাওয়ায় না ওদের। খাওয়ালেও ভালো পুষ্টিকর খাবার, মাছ মাংস এসব তো খাওয়াতে পারে না। ওরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে তবে খাবার যোগাড় করে। আর তা না হলে না খেয়ে মরে। ওদিকে আল্লাহ আবার ধনীদের পাতে খুব সুস্বাদু খাবার ঢেলে দিচ্ছেন। আর কী বলেছে? তেঁতুল টেতুল কী যেন তখন বলছিলে!

— বলেছে, ‘মেয়েরা হচ্ছে তেঁতুলের মতো। ছোট্ট একটা ছেলে তেঁতুল খাইতেছে, তা দেখলে আপনার মুখ দিয়া লালা ঝরবে। তেঁতুল গাছের নিচ দিয়া আপনি হাঁইটা যান তাইলেও আপনার লালা ঝরবে। দোকানে তেঁতুল বিক্রি হইতে দেখলেও আপনার লালা ঝরবে। ঠিক তেমনি মহিলাদের দেখলে দিলের মাঝে লালা ঝরে। বিবাহ করতে মন চায়। লাভ ম্যারেজ কোর্ট ম্যারেজ করতে মন চায়। দিনরাত মেয়েদের সঙ্গে পড়ালেখা করতেছেন, আপনারা দিল ঠিক রাখতে পারবেন না। রাস্তাঘাটে মেয়েদের সঙ্গে চলাফেরা করতেছেন, আপনার দিল ঠিক রাখতে পারবেন না। যতই বুজুর্গ হন আপনার মনের মাঝে কু খেয়াল আইসা যাবে। এইটা মনের জেনা, দিলের জেনা। এইটা এক সময় আসল জেনায় পরিণত হবে’। আপনার রিয়েকশান?
— তেতুঁল আমি খুব পছন্দ করতাম ছোটবেলায়। এখনও জিভে জল চলে আসে তেঁতুল দেখলেই। এত ফল থাকতে আল্লামা লোকটা তেঁতুল বেছে নিয়েছে কেন? ছেলেরা তো অত তেঁতুল পছন্দ করে না। মেয়েরা পছন্দ করে। সে ক্ষেত্রে বরং কোনও ছেলেকে দেখলে মেয়েদের মনে হতে পারে ছেলেটা তেঁতুলের মতো। স্মার্ট হ্যাণ্ডসাম ছেলে দেখলে বরং মেয়েদের লালা আসাটা স্বাভাবিক। ছেলেদের, ধরা যাক, কোনও কারণে লালা এলো। লালা এলে লালা ঝরতে দেওয়াই ভালো। বিয়ে করতে মন চাইলে করবে। এতে আপত্তিটা উঠছে কেন। সেক্স, বিয়ে, এসব তো অন্যায় কোনও কাজ নয়। অন্যায় কাজ হল, অন্যের আপত্তি সত্ত্বেও গায়ের জোরে সেক্স করা বা গায়ের জোরে বিয়ে করা।
–উফ। আল্লামা শফীর কথার প্রতিবাদ করুন, সিরিয়াসলি করুন।
–একটা অশিক্ষিত মিসোজিনিস্ট কী বললো না বললো, তা নিয়ে অত ভাবছো কেন? ওই ব্যাটাকে এত মূল্য দেওয়ার কী আছে?
–কী বলছেন, এত সব বাজে কথা বলে পার পেয়ে যাবে? আপনি প্লিজ প্রতিবাদ করুন।
–পার তো পেয়েই যাবে। প্রতিবাদ করলেও পাবে, না করলেও পাবে। লোকটা শুধু বলেছে। যা বলেছে, সেই মতো কাজ করে লক্ষ লক্ষ লোক প্রতিদিন পার পেয়ে যাচ্ছে। কাউকে তো দোষ দিচ্ছ না। বেচারা আল্লামাকে দোষ দিচ্ছ কেন খামোকা? প্রতিদিন মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করে জোর করে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে, মেয়েদের চাকরি করতে দেওয়া হচ্ছে না, বার্থ কন্ট্রোল করতে দেওয়া হচ্ছে না, মেয়েদের দিয়ে পুরুষের ঘর সংসার সন্তান সামলোনার কাজ করানো হচ্ছে। প্রতিদিন ঘরে বাইরে মেয়েরা যৌনবস্তু হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। লোকটা এসব কথা না বললেও এভাবেই চলছিল সমাজ। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার কারণেই তো চলছিল। লোকটা, আমার মনে হচ্ছে, খুব সৎ লোক। পলিটিক্যালি কারেক্ট হওয়ার কায়দাটা এখনও শেখেনি। ধুরন্দররা ওসব শিখে নেয় আগেভাগে। তারপর তলে তলে সমাজটাকে নষ্ট করে। আল্লামা কিন্তু নতুন কোনও কথা বলেনি। সবার জানা কথাগুলোই বলেছে।
–একটা মৌলবাদীকে সৎ লোক বলছেন?
–বলছি কারণ লোকটা যা বিশ্বাস করে, তা অকপটে বলে দিয়েছে। সমাজের ভদ্রলোকেরা মনের কথাটা বলে না। লুকিয়ে রাখে। লুকিয়ে রেখে ওপরে আধুনিক হওয়ার ভাব দেখায়। ভাব দেখায় তারা মেয়েদের স্বাধীনতায় আর অধিকারে বিশ্বাস করে। টোকা মেরে দেখ কিছুই আসলে বিশ্বাস করে না। আসলে সবাই প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে ওই আল্লামা শফীর আদর্শেই বিশ্বাস করে। আল্লামার আদর্শ তো আসলে আল্লাহ পাকের আদর্শ, হযরতের আদর্শ। কোরানে আছে, শত শত হাদিসেও লেখা আছে এসব কথা। চারটে বিয়ের কথা কি আল্লামা প্রথম বললো? ও তো স্বয়ং আল্লাহ পাকই বলে দিয়েছেন। তার পর ধরো, মেয়েদের ঘরের বাইরে না যাওয়ার কথা, পর পুরুষের সামনে না যাওয়ার কথা। এসব তো হাদিসের কথা। ঘরের বার না হলে, পর পুরুষের সামনে না গেলে তুমি ইস্কুল কলেজে যাবে কী করে শুনি, চাকরি বাকরি করবে কী করে! ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করবে, আবার নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাস করবে, তা তো হয় না! দুটো পরস্পরবিরোধী জিনিস।
–দেশের মানুষ তো আল্লামার মতো এত ছোটলোক নয়।
–মানুষ আবার দল বেঁধে বড় লোক কখন হলো? হয়তো কেউ কেউ ছোটলোক নয়। তবে আল্লামা যা বলেছে, তা বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষের মনের কথা। হয়তো মেয়েদের ঠিক ক্লাস ফোর পর্যন্ত পড়ানোর বদলে কেউ কেউ ক্লাস এলেভন টুয়েলভ অবধি পড়াতে চায়, কেউ এম এ. বি এ বা তারও বেশি পড়াতে চায়, কেউ কেউ মেয়েরা চাকরি করুক তাও চায়, তারাও দেখ গিয়ে মেয়েদের তেঁতুলের মতোই মনে করছে।
–আপনি বলছেন অন্য লোকও মেয়েদের তেঁতুলের মতো মনে করছে। শুধু আল্লামা নয়?
–তা তো নয়ই। অধিকাংশ লোকই মেয়েদের তেঁতুলই ভাবে। কেন, কত পুরুষ-কবি মেয়েদের কত ফুল-ফলের সঙ্গে তুলনা করেছে, পড়োনি? কমলা, ডালিম, আপেল, পেয়ারা, আনারস, গোলাপ, বেলি আরও কত কিছু বলে ডেকেছে মেয়েদের শরীরের নানা অংশকে। কেবল তেঁতুল বললেই রাগ হয়? তেঁতুল খুব সস্তা ফল বলে? দামী ফলের সঙ্গে তুলনা করলে হয়তো এত রাগ হতো না। শুধু ফুল ফল! সবজিও তো আনা হয়েছে তুলনায়। পটলচেরা চোখ! শোনো, নারী-পুরুষের যৌন আকর্ষণ থাকাটা অতি স্বাভাবিক। কিন্তু নারীকে নিতান্তই বস্তু ভাবাটা, যৌন-বস্তু ভাবাটা ঠিক নয়। যেন গোটা মানুষটা একটা ভ্যাজাইনা, গোটা মানুষটা একজোড়া স্তন, গোটা মানুষটা ত্বক, নাক চোখ, চুল; আর কিছু নয়। যেন মেয়েদের জ্ঞান বুদ্ধি, চিন্তা ভাবনা, ইচ্ছে অনিচ্ছে, নিজস্বতা, স্বকীয়তা, সম্মান, ব্যক্তিত্ব এসব নেই, বা এসব থাকলেও এসবের কোনও মূল্য নেই। মেয়েরা যেন নিজের জন্য জন্মায়নি, জন্মেছে পুরুষের জন্য, পুরুষের যৌন তৃষ্ঞা মেটানোর জন্য। তেঁতুলের প্রসঙ্গ তো এলো সে কারণে। ওই লোক কিন্তু পুরুষকে তেঁতুল বলেনি। মেয়েদেরও তো যৌন তৃষ্ঞা আছে বাবা! যদি পুরুষের চোখে মেয়েরা তেঁতুলের মতো, মেয়েদের চোখে পুরুষও তো তেঁতুলের মতো। কিন্তু এরা মেয়েদের যৌনতাকে কোনওদিন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে তো করেই না, বরং অস্বীকার করে, ওটি থাকলে মেয়েদের বেশ্যা বলে গালাগাল করে। এদের চোখে, পুরুষ হচ্ছে ফুলফ্লেজেড হিউম্যান, আর মেয়েরা হচ্ছে সেক্স-অবজেক্টস কাম স্লেভস। পুরুষকে যৌনতৃপ্তি দেওয়ার, পুরুষের সন্তান জন্ম দেওয়ার, সেই সন্তানকে লালন পালন করার, ঘর সংসারের সব কাজকর্ম করার, রান্নাবান্না করার, পরিবেশন করার কাজ ছাড়া তাদের আর কোনও কাজ নেই। পু্রুষের মা, স্ত্রী, বোন, কন্যা– এসবই হচ্ছে মেয়েদের পরিচয়। আর কোনও পরিচয় সমাজের ক’টা লোক মানে, বলো! পুরুষতন্ত্র হচ্ছে মেয়েদের বন্দি করে রাখার জন্য বোরখার মতো একটা বন্ধ কারাগার।
–কেউ তো আল্লামা শফীর মতো এমন আজগুবি কথা আগে বলেনি!
–সবাই বলছে। আল্লামা রাখঢাক না করে, একটু অসভ্য ভাষায় বলেছে, এই যা। সভ্য ভাষায় সভ্য লোকেরা যখন বলে, ওটা তোমাদের শুনতে অত মন্দ লাগে না। কোরান হাদিসও ভালো করে পড়ে দেখ, এসব কথাই লেখা আছে। কোরান হাদিস হচ্ছে কট্টর পুরুষতন্ত্র। ঠিক আল্লামার ভাষায় কথা বলে, চৌদ্দশ বছর আগে একজন লোক আল্লাহর পেয়ারা বান্দা, বন্ধু, মেসেঞ্জার, রসুল ইত্যাদি বনে গিয়েছিল। সেই রসুলকে তোমরা মন প্রাণ ঢেলে শ্রদ্ধা করছো, তাকে বিশ্বাস করছো, আর ঠিক একই ধরণের কথা বললেও আজ আল্লামা শফীকে বিশ্বাস করছো না, তাকে বরং তোমরা ঘৃণা করছো। রীতিমত কন্ট্রাডিকটরি। কেন আল্লামাকে নিন্দা মন্দ করছো, সে তো তোমাদের রসুলে করিমের বিশ্বাসের উল্টো কোনও কথা বলেনি! রসুলের কথাগুলোই ইনোসেন্টলি যুগোপযুগী করে রিপিট করেছে আল্লামা।
–কী বলছেন?
–হ্যাঁ। যা বলছি ঠিকই বলছি। কী চাও? বৈষম্য নাকি সমতা, বর্বরতা নাকি মানবতা- একটাকে তোমাদের বেছে নিতে হবে। ধর্মে, সোজা কথা সাফ কথা- সমানাধিকার নেই, সত্যিকার মানবতাও নেই। আগেই বলেছি, ধর্ম আগাগোড়াই, মানে টপ টু বটম পুরুষতন্ত্র। যদি ইসলামে কারও অবিশ্বাস থাকে তাকে কুপিয়ে মেরে ফেলার কথা লেখা আছে। এর চেয়ে মানবতা বিরোধী কাজ আর কী হতে পারে! অ্যাডাল্টারি করলে পাথর ছুড়ে মেরে ফেলতে হবে মেয়েদের। মেয়েদের আপাদমস্তক ঢেকে রাখতে হবে। কারণ তাদের দেখলে পুরুষের যৌন-ইচ্ছে জাগতে পারে। পুরুষের যৌন ইচ্ছে জাগতেই পারে, জাগুক। মেয়েদের যদি একই সঙ্গে সেই ইচ্ছেটা না জাগে, তবে পুরুষকে কণ্ট্রোল করতে হবে। একই রকম মেয়েদের বেলাতেও।
–পুরুষরা তো কন্ট্রোল করতে জানে না।
–কে বলেছে জানেনা? ঠেকায় পড়লে ঠিকই জানে। কিন্তু ঠেকা নেই তো এখন। পুরুষরা এই সমাজের মাতব্বর। মাতব্বরেরা বলে দিয়েছে, যৌনআকাংক্ষা সংযত করার কোনও দরকার নেই। তারা যা খুশি করতে পারো। যার ওপর ইচ্ছে তার ওপরই ঝাঁপিয়ে পড়ার, ধর্ষণ করার অধিকার তাদের আছে। তাদের পেশিতে শক্তি আছে, মেয়েদের ওপর পেশির শক্তি তারা খাটাবে। এই শক্তি আল্লাহর দেওয়া। জগতটা তাদের। তাদের স্ফূর্তির জন্য। কিন্তু তা তো আসলে নয়। জগতটা নারী পুরুষ উভয়ের।পরস্পরের প্রতি সম্মান না থাকলে জগতটাতো চলবে না। আমরা যত সভ্য হচ্ছি, তত সমাজ পাল্টাচ্ছি। আমরা বলে কয়ে নিয়েছি যে আমরা পেশি দিয়ে বা পুরুষাঙ্গ দিয়ে জগত, রাষ্ট্র বা সমাজ চালাবো না। বুদ্ধি দিয়ে চালাবো। সুবুদ্ধি দিয়ে। সুবিবেচনা দিয়ে।
–অবশ্য সব পুরুষ এক নয়। সব পুরুষই ধর্ষণ করে না।
–অবশ্যই সব পুরুষ এক নয়। অনেক পুরুষই নারীর সমানাধিকারে বিশ্বাস করে। কিন্তু তাদের সংখ্যাটা নিতান্তই কম। এই সংখ্যাটা দ্রুত বাড়া উচিত। শুধু পুরুষ নয়, নারীর সমানাধিকারে বিশ্বাস করা নারীর সংখ্যাও খুব বেশি নয়। ওই সংখ্যাটাও বাড়াতে হবে।
–আর আল্লামার কী হবে? ওর অনুসারীর সংখ্যা তো অনেক বেশি।
–সে ওর কৃতিত্ব। তোমরা পিতৃতন্ত্রকে দূর করতে পারোনি বলেই এমন হচ্ছে। মানুষকে বিজ্ঞান শিক্ষায় যথেষ্ট শিক্ষিত করতে পারোনি বলে মানুষ আজ অন্ধত্ব, কুসংস্কার, গোঁড়ামির মধ্যে বড় হচ্ছে। সমতা সমানাধিকার ইত্যাদি বিষয়ে মানুষকে শিক্ষিত করোনি বলে নারীবিরোধিতা, নারী ঘৃণা, পুরুষপ্রাইড ইত্যাদি নিয়ে বেড়ে উঠেছে। বেড়ে উঠেছে বলেই সহজেই আল্লামা শফীর কথাগুলো তাদের মনোপুত হয়। শফীর প্রতিবাদ করে যত না কাজ হবে, তার চেয়ে বেশি কাজ হবে যদি প্রচার মাধ্যমকে ব্যবহার করো মেয়েদের অধিকার সম্পর্কে, মানবাধিকার সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জ্ঞান দিতে। ইস্কুলে বিজ্ঞান শিক্ষা কম্পোলসারি করো। ধর্ম শিক্ষা উঠিয়ে দাও ইস্কুলের সিলেবাস থেকে। ধর্ম শেখার জিনিস নয়। ধর্ম বিশ্বাস করার জিনিস। হাবিজাবি আজগুবি গপ্প চোখ কান বুজে বিশ্বাস করার জিনিস। ও ঘরে বসে যত পারো বিশ্বাস করো। তবে বিজ্ঞানটা ভালো ভাবে অন্তস্থ করলে ধর্ম থেকে বিশ্বাস উঠবেই। এবং এতেই হবে পুরুষতন্ত্রের, ধর্মের, আল্লামা শফীর আর আল্লাহর নবীর আদর্শকে চ্যালেঞ্জ করা। শহরের মোড়ে দাঁড়িয়ে, প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে চিল্লিয়ে, দু’চারটে কলাম লিখে সমাজটাকে খুব বেশি বদলানো যায় না। সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছোতে হবে তোমাদের। মুশকিল হল, বছরগুলোকে গড়িয়ে যেতে দিয়েছো, আর এই ফাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে আল্লামারা। তাই ডাক দিলে পিঁপড়ের মতো লোক বেরিয়ে আসে রাস্তায়। চোখের সামনে কী দ্রুত তৈরি হয়ে গেল একটা গণ্ডমূর্খের সমাজ। বড় দুঃখ হয়।
………তসলিমা নাসরিন

২৮ thoughts on “তেঁতুল তত্ব নিয়ে মূখ খুললেন তসলিমা নাসরিন

  1. তসলিমা নাসরিন, আমার প্রণতি
    তসলিমা নাসরিন, আমার প্রণতি গ্রহণ করুন । ওনার মতো দেশের প্রতিটি বিবেকবান মানুষ ক্ষুব্ধ । ভাল লেখা । ইস্তিশনে পোস্ট দেওয়ার জন্য ব্রহ্ম পুত্র কে ধন্যবাদ ।

    1. এই কথাগুলোই যখন আমি বলেছিলাম,
      এই কথাগুলোই যখন আমি বলেছিলাম, বিশাল গালিগালাজ শুরু করে দিয়েছিলেন। মনে আছে? এখন আবার এই লেখাকে সমর্থন করছেন কেন? শফি কোন সমস্যা না, সমস্যা আমরা, এই সমাজ। আমরাই মেয়েদেরকে এখনও তেতুল মনে করি শুধু স্বীকার করি না। উনি মনে করেন এবং স্বীকার ও করেন। যদি এই অবস্থা পাল্টাতে হয়, আমাদের নিজেদেরকেই আগে পাল্টাতে হবে।

      1. সাজ ভাইকে বলছিঃ-
        আপনার লিখার

        সাজ ভাইকে বলছিঃ-
        আপনার লিখার সমালোচনা আমি করেছিলাম এইভাবেঃ
        “লালায়িত কুকুরের এমন স্বীকার উক্তিকে সততা না বলে হঠকারিতা বলা উচিৎ…
        তবে এইটা ঠিক কুকুরের কাজ কুকুর করেছে বলে আমরা আজ কুকুরকে চিনতে পেরেছি!তাই কুকুরকে ধন্যবাদ!! তবে এইটা কুকুররুপী মানুষ বলে হঠকারিতা বলছি না হয় সততা বলতাম”— পাপী শফির মত কুকুরা যা বলেছে করেছে তা মানবতার সাথে হঠকারিতা;এইটা আপনি মানেন নি।
        আপনি বলেছেন আত্মবিশ্বাসী! এইভাবেঃ
        “আমার কাছে হতকারিতা মনে হয় নি। অতি আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে। তাই মনের সব কথা উগ্রে দিয়েছেন। আমার ধারণা এই কথা তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন এবং তাঁর ছাত্রদেরও এই শিক্ষাই দেন।”
        আপনি খেয়াল করলেই তসলিমার উপস্থাপনার ভঙ্গি আর আপনার বলার ভঙ্গির মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পাবেন।
        একজন স্যাডিস্টকে আপনি স্যালুট দিতে পারেন তার মৌলবাদী মানসিক ব্যাধিকে আপনি আত্মবিশ্বাসী আচরণ বলতে পারেন, তবে আমার কাছে তাকে আপাদমস্তক অসুস্থ আর হঠকারী মনে হয়েছে। বয়সের ভারে যিনি জ্ঞানে ও ধি-শক্তিতে নত থাকার কথা তার এমন উদ্ধত আচরণ প্রগালাপই বটে…

        1. লিঙ্ক দিলাম– লেখাটা পড়ুন উনি
          লিঙ্ক দিলাম– লেখাটা পড়ুন উনি কি বলেছেন
          http://www.amadershomoy1.com/content/2013/07/16/middle0257.htm
          উনিও আমার মত উনাকে সৎ বলেছেন। এবং এটাও বলেছেন, উনার কথা আমারদের সবার মনের কথা, কেবল স্বীকার করি না।
          আর আমি স্যাডিস্ত কে স্যালুট করি নি সেই স্যাডিস্ট এর স্বীকার করার সাহস কে স্যালুট করেছি। দুটো আলাদা কথা।

          1. আপনার শিরোনাম টা ছিলঃ
            নিজের

            আপনার শিরোনাম টা ছিলঃ
            নিজের অজান্তেই তিনি খুব ভালো একটা কাজ করেছেন– আই স্যালুট আল্লামা শফি…
            আবার মন্তব্যেও বলেছেনঃ
            “আমার কাছে হতকারিতা মনে হয় নি। অতি আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে। তাই মনের সব কথা উগ্রে দিয়েছেন। আমার ধারণা এই কথা তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন এবং তাঁর ছাত্রদেরও এই শিক্ষাই দেন।”

            অর্থাৎ আপনি তাকেই স্যালুট দিয়েছেন আর তাকেই কনফিডেন্ট বলেছেন! আরও অনেক আছে… তসলিমা তাঁর আক্ষেপ থেকে গোটা পুরুষতন্ত্রের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্দার করেছেন এইভাবেঃ
            “কী চাও? বৈষম্য নাকি সমতা, বর্বরতা নাকি মানবতা- একটাকে তোমাদের বেছে নিতে হবে। ধর্মে, সোজা কথা সাফ কথা- সমানাধিকার নেই, সত্যিকার মানবতাও নেই। আগেই বলেছি, ধর্ম আগাগোড়াই, মানে টপ টু বটম পুরুষতন্ত্র। যদি ইসলামে কারও অবিশ্বাস থাকে তাকে কুপিয়ে মেরে ফেলার কথা লেখা আছে। এর চেয়ে মানবতা বিরোধী কাজ আর কী হতে পারে! অ্যাডাল্টারি করলে পাথর ছুড়ে মেরে ফেলতে হবে মেয়েদের। মেয়েদের আপাদমস্তক ঢেকে রাখতে হবে। কারণ তাদের দেখলে পুরুষের যৌন-ইচ্ছে জাগতে পারে। পুরুষের যৌন ইচ্ছে জাগতেই পারে, জাগুক। মেয়েদের যদি একই সঙ্গে সেই ইচ্ছেটা না জাগে, তবে পুরুষকে কণ্ট্রোল করতে হবে। একই রকম মেয়েদের বেলাতেও।”

            আসলে হয়েছে কি সাজ ভাই আমি আপনার স্পিরিট বুঝেছি বা বুঝতে পেরেছি। কিন্তু অতি রাগান্বিত হয়েও আমি শয়তানকে বাহাবা দেয়াটা পছন্দ করি না…
            কষ্ট পেলে ক্ষমা করবেন। আমি সর্বদাই শয়তানকে শয়তান বলতে চাই!!
            ভাল থাকবেন…

          2. ‘নিজের অজান্তে তিনি একটা খুব
            ‘নিজের অজান্তে তিনি একটা খুব ভালো কাজ করেছেন’ এর মানে হচ্ছে তিনি এই সমাজের একটা কদর্য সত্য কে স্বীকার করেছেন। আপনার সামনে দুইজন চোর আছে– একজন চুরি করেছে কিন্তু স্বীকার করে নি, অন্যজন করেছে এবং স্বীকার করেছে– আমি পরের জনের সততাকে সম্মান করেছি– তাঁর চুরিকে না। জানিনা বোঝাতে পারলাম কি না। তস্লিমা ও সফিকে সৎ বলেছেন। এবং তখন এই আপনারাই সেই লেখা কে খুব ভালো বলছেন। এই কথাতাই বলতে চেয়েছি।

          3. আমি আপনার লিখাকে খারাপ কখন
            আমি আপনার লিখাকে খারাপ কখন বললাম?
            আমি বুঝতে পেরেছি; কিন্তু আপনি বুঝতে ভুল করলেন আমাকে…
            আপনার আগের পোস্টে আমার মন্তব্যগুলো পড়ুন! ধন্যবাদ :ধইন্যাপাতা:

          4. তস্লিমা সফিকে সৎ বলেছেন, আমিও
            তস্লিমা সফিকে সৎ বলেছেন, আমিও বলেছি। তিনি সফির মন্তব্যকে এই সমাজের বেশীর ভাগের মনের কথা বলেছেন, আমিও সেই কথা বলেছি– সমস্যা হচ্ছে– উনার বলাতে সবাই একমত হয়েছেন, আমার বলাতে না। আর আপনি যে কাজকে হঠকারি বলছেন, তা আমি বলিনি– কারন যে কথা তিনি বলেছেন তিনি তা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন, এবং নারীদের প্রতি তাঁর পুরো মানসিকতা সেই অয়াজে তিনি বর্ণনা করেছেন– এটা হঠকারী না– ঠাণ্ডা মাথার বক্তব্য। আমি তাঁর মানসিকতার অ্যানালাইসিস করেছি আর নিজেকে সৎ ভাবে নিজেকে উপস্থাপন করার জন্য স্যালুট দিয়েছি।

          5. আপনি তাহলে স্যালুটের মর্মার্থ
            আপনি তাহলে স্যালুটের মর্মার্থ বুঝেন না অথবা আপনার-আমার মা সহ দুনিয়ার তাবৎ মা-বোনকে অপমান করা একটা আপাদমস্তক ভণ্ড, অসভ্য, নারী বিদ্বেষী এক চরম ধর্মীয় মৌলবাদে আক্রান্ত অসুস্থ মানসিকতার বুড়ো ধামড়াকেও তার সরল স্বীকারোক্তি মূলক উদ্ধত,দাম্ভিক, অসভ্য আচারনেও মায়ের অবদান ও সম্মানের কথা ভুলে গেছেন…

            আর তসলিমা নাসরিন যা বলেছেন তা হল একজন অসম্ভব সংক্ষুব্ধ, বিরক্ত ও নিষ্পেষিত নারীর পুরুষতন্ত্রের উপর চরম অবজ্ঞা এবং অভক্তিমূলক ব্যাখ্যা… দুইটার মধ্যে তফাৎ আপনি না বুঝলেও আমার বুঝতে মোটেও কষ্ট হচ্ছে না…

            দুঃখিত… আপনার সাথে মিটমাট করতে পারলাম না! আপনি বারবার একই কথা বলে গেছেন তাই শেষে কঠোর ভাষায় কিছু বলতে হল… ভাল থাকবেন!!

      2. আপনার লিখা আর তসলিমার লিখা এক
        আপনার লিখা আর তসলিমার লিখা এক না।
        আপনি শফিকে ডিফেন্ড করতে চেয়েছেন আর তসলিমা ঘুনে ধরা সমাজে শফির মত বিদ্যমান অন্যদের অস্তিত্ব প্রকাশ করেছেন।
        ইত্যাদি ইত্যাদি

        1. আমি ব্রহ্মপুত্রের সাথে
          আমি ব্রহ্মপুত্রের সাথে সর্বাংশে একমত…
          সাজ-ভাইকে বলছি আপনি ভুলে যান ঐ লিখাটি আপনার তারপর দুইটা লিখা পরে দেখেন! তাহলেই বুঝতে পারবেন পার্থক্য কোথায়…
          এই প্রথম ব্রহ্মপুত্রকে এক্সপ্রেশন না দিয়ে মতামত দিতে দেখলাম :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

          1. তারিক এবং ব্রহ্মপুত্র ‘র সাথে
            তারিক এবং ব্রহ্মপুত্র ‘র সাথে সহমত পোষণ করা ছাড়া আর কিছু করতে ইচ্ছে করছে না আপাতত । যে যুক্তির ধারে কাছে হাটে না তার সাথে কথা বলা অহেতুক । কেউ তেঁতুল বাবা’য় ইহকাল – পরকালের সুখ – শান্তি খুঁজে পেলে কী করার আছে ? যে মানুষ স্পষ্টত একজন বাজে রুচিহীন মানুষের কথার সাফাই দিচ্ছেন – তার চিন্তা, চেতনা নিয়ে আমার মনে বড় ধরণের প্রশ্ন আছে ? তিনি যদি মুক্তমনা ই হবেন তাহলে আমাদের সাথে তো তার এতো বিরোধ হবার কথা না । আরে বাবা, কে অস্বীকার করছে যে আমাদের মধ্যেও অনেক বর্ণচোরা আমেরা নাই । মুখে নারী অধিকার, মানবাধিকার এর বুলি কপচায় কিন্তু ঘরে ফিরে বউ পেটায় এরকম ভণ্ড তথাকথিত মুক্তমনারাও আছে ।
            পরিশেষে বলি, বিচার মানি তয় তালগাছ টা কিন্তু আমার । এই তালগাছের বেহুদা দাবী ছাড়তে না পারলে আসলে বেশ কিছু মৌলিক প্রশ্নের সমাধান এমনিতে হয়ে যায় ।

  2. তসলিমার লিখা আমার ও খুব ভাল
    তসলিমার লিখা আমার ও খুব ভাল লাগে।সে যা বলে তা না পেচিয়ে সরাসরিই বলে দেয় ।আজাদ স্যার ও তসলিমা একই ক্যাটাগরির লেখক বটে ।

    1. এইতো দিলেন কেরপা
      এইতো দিলেন কেরপা লাগাইয়া…
      কোথায় কি? হুমায়ূন আজাদ হচ্ছে একজন বহুমাত্রিক প্রথাবিরোধী লিখক!
      আর তসলিমা একমাত্রিক তাঁর লিখার শুরু থেকে নারীধিকার ও ধর্মীয় প্রথার বিরুদ্ধে! আপনি বরং বলতে পারেন যে তসলিমা হচ্ছে এইকালের বেগম রোকেয়া!
      হুমায়ূন আজাদ স্যারের মত ভাষাবিজ্ঞানী ও ক্রিটিক্স বাংলা সাহিত্যে জন্মেনি আজও…
      দুজন শিল্পীর মধ্যে তুলনা করার আগে তাদের দুজন সম্পর্কে সমান জ্ঞান রাখা আবশ্যক।

  3. তসলিমা’র সাথে আমি কিছু
    তসলিমা’র সাথে আমি কিছু ব্যাপারে একমত। তবে একটা কথা আমি কখনই মেনে নিতে পারি না যে “ধর্মগ্রন্থ গুলো কেবলই ভুলে ভরা”!
    হ্যাঁ ধর্ম গ্রন্থের এমন কিছু জিনিস থাকতেই পারে যা হয়তো সময়োপযোগী নয়। তাই বলে পুরো গ্রন্থটাকেই ছুড়ে ফেলে দেবার আগে আরেকটা সময়োপযোগী নীতিমালা চাই! সেটা যতদিন না পাওয়া যাচ্ছে ততদিন বর্তমান গ্রন্থের অবিতর্কিত অংশটুকু মেনে চলতে কোন বাধা দেখি না। বরং সে অধিকার বোধকরি সবারই আছে…

  4. ব্রহ্মপুত্র-ভাই আপনাকে
    ব্রহ্মপুত্র-ভাই আপনাকে ধন্যবাদ এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট দেয়ার জন্যে।।
    আর আপনি লিখাটি কোথায় পেয়েছেন তার রেফারেন্স দেন নাই।
    আপনার হয়ে আমি তিনটা লিঙ্ক দিচ্ছি পাঠকদের জন্যে…
    ১)পুরুষের যৌন ইচ্ছে জাগতেই পারে, জাগুক : তসলিমা নাসরিন
    ২)পুরুষের যৌন ইচ্ছে জাগতেই পারে, জাগুক
    ৩)তেঁতুলতত্ব নিয়ে মুখ খুললেন তসলিমা নাসরিন
    আর তসলিমা নাসরিনকে :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow:
    :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:
    তাঁরমত ব্যক্তিই পারেন এমন কঠোরতম ভাষায় পুরুষতন্ত্রের সমালোচনা করতে।

    “কী চাও? বৈষম্য নাকি সমতা, বর্বরতা নাকি মানবতা- একটাকে তোমাদের বেছে নিতে হবে। ধর্মে, সোজা কথা সাফ কথা- সমানাধিকার নেই, সত্যিকার মানবতাও নেই। আগেই বলেছি, ধর্ম আগাগোড়াই, মানে টপ টু বটম পুরুষতন্ত্র। যদি ইসলামে কারও অবিশ্বাস থাকে তাকে কুপিয়ে মেরে ফেলার কথা লেখা আছে। এর চেয়ে মানবতা বিরোধী কাজ আর কী হতে পারে! অ্যাডাল্টারি করলে পাথর ছুড়ে মেরে ফেলতে হবে মেয়েদের। মেয়েদের আপাদমস্তক ঢেকে রাখতে হবে। কারণ তাদের দেখলে পুরুষের যৌন-ইচ্ছে জাগতে পারে। পুরুষের যৌন ইচ্ছে জাগতেই পারে, জাগুক। মেয়েদের যদি একই সঙ্গে সেই ইচ্ছেটা না জাগে, তবে পুরুষকে কণ্ট্রোল করতে হবে। একই রকম মেয়েদের বেলাতেও।”

    — এই অংশটা অনবদ্য…

  5. অর্ধেক পইরা ধইর্য
    অর্ধেক পইরা ধইর্য হারাইলাম!হেতির কথার মূল কথা হইল নারীর মুক্তির জন্য নারী শাসিত সমাজ দরকার!
    যত ফালাফালি করেন নারী এখনো সেই নারীই আছে এবং থাকবে|

    ইসলাম নারী নিয়ে কি বলছে তা উল্লেখ করতে গেলে লম্বা কথা|হেতি(তইছলিমা) যেভাবে বলছে ঐ ভাবে দেশ ঢাইলা সাজাইলে দেশ হইয়া যাইবা পতিতাবৃত্তি র পাঠশালা!

    তারা নারী স্বাধীনতা বলতে বুঝে বিকিনি পড়ে পিছ ঢালা রাস্তায় ঘোরার অধিকার|

    নারীর জন্য এখনো ভালবাসা আমাদের আছে,আছে বলেই শফির বক্তব্য নিয়ে এত চুলকানি নারী তার এই বেশভূষা পাল্টালে তারা হয়ে পড়বে সত্যিকারের পণ্য……

    1. অসহনী বাবু PhD ,
      আপনার

      অসহনী বাবু PhD ,
      আপনার কমেন্টটা সত্যি অসহনীয় ।
      মগজের চিকিৎসা কই করায় জানেন ?
      আপনার চিকিৎসার দরকার আছে বলে মনে হচ্ছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *