রায় কি আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে???

আচ্ছা যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসী চাওয়া নাকি আমাদের আবেগ ছিল।। একজনের কাছে শুনলাম রায়গুলো নাকি আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে।। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যুদ্ধাপরাধীদের নাকি ফাঁসী থেকে যাবৎজীবন কারাদন্ডে বেশি দন্ডিত করা হয়েছে।। চলুন দেখে আসি বিভিন্ন দেশের যুদ্ধাপরাধীদের নাম ও শাস্তি।।


আচ্ছা যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসী চাওয়া নাকি আমাদের আবেগ ছিল।। একজনের কাছে শুনলাম রায়গুলো নাকি আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে।। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যুদ্ধাপরাধীদের নাকি ফাঁসী থেকে যাবৎজীবন কারাদন্ডে বেশি দন্ডিত করা হয়েছে।। চলুন দেখে আসি বিভিন্ন দেশের যুদ্ধাপরাধীদের নাম ও শাস্তি।।

The Nuremberg Trials (নুরেমবার্গ বিচার): ১৯৪৫-৪৬ সালে জার্মানির ন্যুর্নবের্গ বা নুরেমবার্গ শহরে অনুষ্ঠিত কিছু বিচার প্রক্রিয়ার নাম। তখন ইন্টারন্যাশনাল মিলিটারি ট্রাইব্যুনাল নাৎসি বাহিনীর নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ গঠন করে এবং তাদের বিচার করে। তাদের বিরুদ্ধে গঠিত অভিযোগগুলো ছিল মূলত চার ধরণের: এক, শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ, যেমন, আন্তর্জাতিক চুক্তি লংঘন করে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের পরিকল্পনা, যুদ্ধের জোগাড় এবং যুদ্ধ শুরু করা; দুই, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, যেমন, মানুষকে সমূলে বিনাশ, বাসস্থান থেকে বিতারণ এবং গণহত্যা; তিন, যুদ্ধাপরাধ তথা যুদ্ধের আইনসমূহ লংঘন এবং চার, এই তিনটি অপরাধ করার সাধারণ পরিকল্পনা বা ষড়যন্ত্র করা।

  • >Martin Bormann: দোষী; ফাঁসীর রায় হয়; কিন্তু আত্মহত্যা করেন।।
  • >Karl Dönitz: দোষী; দশ (১০) বছরের জেল হয়।।
  • >Hans Frank: দোষী; ফাঁসীর রায় হয়।।
  • >Wilhelm Frick: দোষী; ফাঁসীর রায় হয়।।
  • >Hans Fritzsche: নির্দোষ; পরে পশ্চিম জার্মানীর আদালত কতৃক নয় (৯) বছরের জেল হয়।।
  • >Walther Funk: দোষী; যাবৎজীবন কারাদন্ড দেয়া হয়।।
  • >Hermann Göring: দোষী; ফাঁসীর রায় হয়; ফাঁসীর পূর্বে আত্মহত্যা করেন।।
  • >Rudolf Hess: দোষী; যাবৎজীবন কারাদন্ড দেয়া হয়।।
  • >Alfred Jodl: দোষী; ফাঁসীর রায় হয়।।
  • >Ernst Kaltenbrunner: দোষী; ফাঁসীর রায় হয়।।
  • >Wilhelm Keitel: দোষী; ফাঁসীর রায় হয়।।
  • >Robert Ley: বিচার শুরুর পূর্বেই আত্মহত্যা করেন।।
  • >Konstantin von Neurath: দোষী; পনেরো (১৫) বছরের জেল হয়।।
  • >Erich Raeder: দোষী; যাবৎজীবন কারাদন্ড দেয়া হয়।।
  • >Joachim von Ribbentrop: দোষী; ফাঁসীর রায় হয়।।
  • >Alfred Rosenberg: দোষী; ফাঁসীর রায় হয়।।
  • >Fritz Sauckel: দোষী; ফাঁসীর রায় হয়।।
  • >Baldur von Schirach: দোষী; বিশ (২০) বছরের জেল হয়।।
  • >Arthur Seyss-Inquart: দোষী; ফাঁসীর রায় হয়।।
  • >Albert Speer: দোষী; বিশ (২০) বছরের জেল হয়।।
  • >Julius Streicher: দোষী; ফাঁসীর রায় হয়।।
  • >Gustav Krupp von Bohlen und Halbach: স্বাস্থ্যগত দিক থেকে বিচারের জন্য অনুপযুক্ত।।
  • >Franz von Papen: নির্দোষ; পরে পশ্চিম জার্মানীর আদালত কতৃক আট (৮) বছরের জেল হয়।।
  • >Hjalmar Schacht: নির্দোষ।।

উপরে উল্লেখ্যিত ২৪ জন ব্যাক্তির পরিসংখ্যানঃ
ফাঁসীর রায় হয়ঃ ১২ জন।।
যাবৎজীবন কারাদন্ড হয়ঃ ৩ জন।।
বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড হয়ঃ ৪ জন।।
নির্দোষ প্রমাণিত হয়ঃ ৩ জন।।
বিচারের অনুপযুক্তঃ ২ জন।।

The Doctor’s Trial (ডাক্তারদের বিচার): দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানীর ডাক্তারদের বিরুদ্ধে সংঘটিত বিচার প্রক্রিয়ার নাম।।

  • >Hermann Becker-Freyseng: দোষী; বিশ (২০) বছরের জেল হয়।।
  • >Wilhelm Beiglböck: দোষী; পনেরো (১৫) বছরের জেল হয়।।
  • >Kurt Blome: নির্দোষ।।
  • >Viktor Brack: দোষী; ফাঁসীর রায় হয়।।
  • >Karl Brandt: দোষী; ফাঁসীর রায় হয়।।
  • >Rudolf Brandt: দোষী; ফাঁসীর রায় হয়।।
  • >Fritz Fischer: দোষী; যাবৎজীবন কারাদন্ড দেয়া হয়।।
  • >Karl Gebhardt: দোষী; ফাঁসীর রায় হয়।।
  • >Karl Genzken: দোষী; যাবৎজীবন কারাদন্ড দেয়া হয়।।
  • >Siegfried Handloser: দোষী; যাবৎজীবন কারাদন্ড দেয়া হয়।।
  • >Waldemar Hoven: দোষী; ফাঁসীর রায় হয়।।
  • >Joachim Mrugowsky: দোষী; ফাঁসীর রায় হয়।।
  • >Herta Oberheuser: দোষী; বিশ (২০) বছরের জেল হয়।।
  • >Adolf Pokorny: নির্দোষ।।
  • >Helmut Poppendick: দোষী; পনেরো (১৫) বছরের জেল হয়।।
  • >Hans-Wolfgang Romberg: নির্দোষ।।
  • >Gerhard Rose: দোষী; যাবৎজীবন কারাদন্ড দেয়া হয়।।
  • >Paul Rostock: নির্দোষ।।
  • >Siegfried Ruff: নির্দোষ।।
  • >Konrad Schäfer: নির্দোষ।।
  • >Oskar Schröder: দোষী; যাবৎজীবন কারাদন্ড দেয়া হয়।।
  • >Wolfram Sievers: দোষী; ফাঁসীর রায় হয়।।
  • >Georg August Weltz: নির্দোষ।।

উপরে উল্লেখ্যিত ২৩ জন ব্যাক্তির পরিসংখ্যানঃ
ফাঁসীর রায় হয়ঃ ৭ জন।।
যাবৎজীবন কারাদন্ড হয়ঃ ৫ জন।।
বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড হয়ঃ ৪ জন।।
নির্দোষ প্রমাণিত হয়ঃ ৭ জন।।

উপরে উল্লেখ্যিত দুইটি বিচারের ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে যে, দোষী ব্যাক্তিদের মধ্যে অধিকাংশদেরই ফাঁসীর রায় হয়েছে।। তেমনি The Milch Trial, The Judges’ Trial, The Pohl Trial, The Flick Trial, The IG Farben Trial, The Hostages Trial, The RuSHA Trial, The Einsatzgruppen Trial, The Krupp Trial, The Ministries Trial, The High Command Trial, The Auschwitz Trial, The Frankfurt Auschwitz Trials, The Dachau Trial, Buchenwald Trial, Mauthausen-Gusen Camp Trial, Flossenberg Trial, Mühldorf Trial, Dora-Nordhaussen Trial, The Belsen Trial, The Neuengamme Trials, War-responsibility trials in Finland, Bucharest People’s Tribunal, International Military Tribunal for the Far East, Khabarovsk War Crime Trials এই বিচারগুলোতেও অধিকাংশ দোষীদের ফাঁসীর রায় হয়েছে।। এসব বিচারকার্যে যারা যারা যুদ্ধাপরাধের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে তাদের প্রত্যেকের ফাঁসীর রায় দেয়া হয়েছে।। এসব ক্ষেত্রে বয়স বা পদবী বা সামাজিক মর্যাদা দেখা হয়নি।। তাহলে কেন গোলাম আযমের মত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় যুদ্ধাপরাধীকে ফাঁসীর রায় দেয়া হল না??? যদি বয়সের কথা বিবেচনা করে রায় দেয়া হয়ে থাকে তবে আদালত বার বার তার নীতি পরিবর্তন করবে কেন??? দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিচারের সময় তো ৭১ সালের দেইল্যা রাজাকারের বিচার করা হয়েছিল তাহলে গোলাম আযমের ক্ষেত্রে কেন বর্তমান ৯১ বছর বয়স্ক গোলাম আযমের বিচার করা হবে??? বিচার আন্তর্জাতিক মানের করতে হলে একটা স্ট্যান্ডার্ড রাখতে হয়।। কিন্তু এই বিচারের কোন স্ট্যান্ডার্ডই ছিল না।। এটা পুরোটাই একটা প্রহসন।। বিভিন্ন দেশে যুদ্ধাপরাধীদের যাবৎজীবন বা ১০০/১৩০ বছরের সাঁজা দেয়া হয়েছে খুব অল্প ক্ষেত্রেই।। যাদের এরকম সাঁজা দেয়া হয়েছে তাদেরকে বয়স এবং অসুস্থতার কারণে এমন সাঁজা দেয়া হয়েছে।। কিন্তু একজনের সাঁজার মধ্যে বয়স বিবেচনা আর অন্যজনের সাঁজার মধ্যে বয়স বিবেচনা না করাটা কি ডাবল স্ট্যান্ডার্ড হয়ে গেলো না??? আন্তর্জাতিক মানের রায় দিতে হলে সবকিছুই আন্তর্জাতিক রাখতে হয়।। শুধু কিছু জিনিস রেখে বাকি সব ফেলে দিয়ে আন্তর্জাতিক মান করা যায় না।। যেমন খুশি তেমন স্ট্যান্ডার্ড গ্রহণ করে আর যাই হোক আন্তর্জাতিক মানের বিচার করা সম্ভব নয়।।

এখন দেখার বিষয় আপিল নিয়ে কি হয়।। কাদের মোল্লার রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের মত ঘটনা ঘটলে বিষয়টা কি ভালো হবে??? ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যেসব রাজাকার, আল-বদর, আল-শামসরা নিরীহ মানুষদের মেরেছে, ধর্ষণ করেছে, লুতটরাজ করেছে তাদের শাস্তি একটাই হওয়া উচিত এবং তা হল ফাঁসী।।

৭ thoughts on “রায় কি আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে???

  1. আরে বাংলাদেশের বিচার পতি
    আরে বাংলাদেশের বিচার পতি গিনিজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকড এ নাম লিখাইছে
    পৃথিবীতে কোন বিচার প্রতি ৯০ বছরের জেল দিয়েছে বলে আমার জানা নেই!!!!!

    আর বই মুখস্ত করে বাংলাদেশে বিচার পতি হওয়া যায় তাই ভুল কইরা অন্য অপরাধের শাস্তি দিয়ে দিছে

    1. বিচারপতিরই বা কি দোষ বলেন???
      বিচারপতিরই বা কি দোষ বলেন??? বাংলাদেশের বিচার বিভাগ স্বাধীন শুধু কথাতেই সম্ভব বাস্তবে তার কোন অস্তিত্ব নেই।। যদি আপনি আপনার লোকদের বিচারকের আসনে বসান এবং বিচার কেমন হবে সবকিছুই বলে দেন তাহলে আর যাই হোক স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা হবে না।।

  2. বিচার বিভাগ কেন তৃতীয় শীর্ষ
    বিচার বিভাগ কেন তৃতীয় শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত খাত এইবার বুঝা যাচ্ছে,আকাশের মেঘ পরিষ্কার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *