আওয়ামীরোষে গণজাগরণ

গণজাগরণ মঞ্চের উপর আওয়ামী ভূত আছর করছিল বইলাই এই জাগরণ নিছক সার্কাস শো’তে পরিণত হইছিল। এইটা মোটামুটি জানা কথা। সে যাই হোক- ঘটনা এইবার ভিন্নরূপ পাইতেছে। গণজাগরণ মঞ্চ থেকে আওয়ামী বিরোধী শ্লোগান আসতে শুরু করেছে এবং সেই সাথে অনলাইনের আওয়ামী অতিমানবদের চোখের রং-ও পাল্টাইতে শুরু করেছে। এতদিন শুধুমাত্র বিএনপি-জামাত ও কিছু অতিবুদ্ধির ধুরন্দর ধাপ্পাবাজরা গণজাগরণের বিরোধীতা করে আসছিল। এখন তাদের সাথে নতুন অক্ষশক্তি যুক্ত হয়েছে। এই অক্ষশক্তি আবার মহাপরাক্রমশালী মুক্তিযুদ্ধ চেতনার ধারক ও বাহক; অতিসংক্ষেপে মুক্তিযুদ্ধ নামক চেতনা ব্যাবসার সোল এজেন্ট কিংবা ডিলার। গণজাগরণ সত্যিকার অর্থেই কাদের মোল্লার রায় পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় উদ্ভূত গণজোয়ার এবং মুক্তিযুদ্ধের সোল এজেন্টদের সাথে জামাতের আঁতাতের সম্ভাবনাকে অনুমেয় ধরেই এই স্বতঃস্ফুর্ত গণ-অংশগ্রহণ। আওয়ামী কুশীলবেরা কৌশলে গণজাগরণকে কুক্ষিত করার মাধ্যমেই গণজাগরণের সমূহ সম্ভাবনাকে কলুষিত করতে পেরেছিল। আশার বিষয় হল- গণজাগরণ তার সম্ভাবনাকে আবার ফিরে পেতে যাচ্ছে। গণজাগরণ যতই আওয়ামী রোষানলে পড়বে এর সম্ভাবনা ততই বৃদ্ধি পাবে। এই প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। অনলাইনের কিছু শক্তিমান আওয়ামী অতিমানব গণজাগরণের কিছু আর্থিক হিসেব-নিকেশ নিয়ে ইতোমধ্যেই আমাদের মাঝে হাজির হয়েছেন। আমরা আরো দেখার অপেক্ষায় আছি এবং আশা করি খুব শীঘ্রই তা আমাদের সামনে হাজির করা হবে। আমরা সেইসব হিসেবনিকেশ-কে সত্য ধরেই প্রশ্ন করতে পারি- ‘যদি এইসব সত্যই হয় তবে এই সত্য এতদিন লুকিয়ে রাখা হয়েছিল কেন? যদি লুকিয়ে রাখার মাঝে কোন স্বার্থ এতদিন ছিল তবে এখন নেই কেন? এই স্বার্থ নিতান্তই আওয়ামী স্বার্থ নয়কি? আমরা কি আওয়ামী স্বার্থ হাসিলের জন্যই রাজপথে নেমেছিলাম?’ মোটেও না। তারমানে আওয়ামী অতিমানব ও চেতনা ব্যাসায়ীদের স্বার্থ হাসিল কখনোই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না। অতএব মুক্তিযুদ্ধের স্বঘোষিত সোল এজেন্টদের প্রকাশিত বর্তমান সত্যে আমাদের কিছু যায় আসে না। এই সত্য প্রকাশের অভিপ্রায় একটাই এবং তা হোল- গণজাগরণের সাথে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কলহ তৈরী করা ও এর পরিপূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করা। গোলাম আজমের রায়ে চেতনা ব্যাবসায়ীদের সন্তোষ এবং গণ-মানুষের অসন্তোষ-ই গণজাগরণের প্রতি চেতনার ডিলারদের আপাত রোষের কারণ। গণ-মানুষের অসন্তোষের সাথে মুক্তিযুদ্ধের ডিলারদের কৃত সম্ভাব্য আঁতাতকে ও অস্বীকার করার সুযোগ নাই।

গণআদালতের কর্মীদের নামে বিএনপি সরকার দেশদ্রোহীতার মামলা দিয়েছিল এইটা সবার জানা এবং বিএনপি নামক দলটি এই অভিযোগে সর্বমহলে নিন্দিত। আওয়ামীলীগ গণজাগরণের কর্মীদের নামে দেশদ্রোহীতার মামলা দেয় নাই ঠিক-ই তবে আসিফ, পারভেজ, বিপ্লব ও শুভ’র পরিণতি আমাদের ভুলে যাওয়ার কথা না। এবং গণজাগরণের কর্মীরাও দেশদ্রোহীতার মামলা খাওয়ার কাছাকাছি আছে বলেই আমার ধারণা, হয়ত সময়ের পরিবর্তনের কারণে এবং মুক্তিযুদ্ধের সোল এজেন্ট হওয়ার খাতিরে সেই মামলার নাম দেশদ্রোহীতার মামলা হবে না, তবে অন্য নামে যে আসবে না সেইটা আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি না।

গণজাগরণ নামে আওয়ামী সার্কাস শো কাম্য হতে পারেনা। তাই গণজাগরণ আওয়ামী চেতনা মুক্ত হোক এবং সরকারের তীব্র রোষানলে পড়ে সিদ্ধ হোক এ-ই কামনা।

৪ thoughts on “আওয়ামীরোষে গণজাগরণ

  1. কামড়া কামড়িতে আমরা পারঙ্গম
    কামড়া কামড়িতে আমরা পারঙ্গম এবং দেশের এ অবস্হায়ও আমরা কামড়ানোতে ব্যস্ত!
    ভালো তো, ভালো না?

  2. কামড়া কামড়িতে আমরা পারঙ্গম
    কামড়া কামড়িতে আমরা পারঙ্গম এবং দেশের এ অবস্হায়ও আমরা কামড়ানোতে ব্যস্ত!
    ভালো তো, ভালো না?

  3. কামড়া কামড়িতে আমরা পারঙ্গম
    কামড়া কামড়িতে আমরা পারঙ্গম এবং দেশের এ অবস্হায়ও আমরা কামড়ানোতে ব্যস্ত!
    ভালো তো, ভালো না?

  4. ভাই দয়া করে ভেতরের পাতাটা আর
    ভাই দয়া করে ভেতরের পাতাটা আর উল্টাবেন না ।যেমন আছে তেমন থাকতে দিন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *