”অর্থহীন বহমানতা”

সকাল ১ টা । ভুল নয় , এটা শুভ এর কাছে সকাল । ঘড়ি , প্রচলিত এ.এম /পি.এম এর হিসাব শুভ রাখে নাহ । ওর কাছে ”রাত এর অর্থহীন পথচলা কাব্য এর পরিসমাপ্তির পর দুচোখ মেলে নতুন সূর্যের ক্লান্তিকর রশ্মির অবলোকন এর নাম প্রভাত ”
আধো ঘুমের মাঝেই সিগারেট ধরাল শুভ । ধোয়ায় পরিপূর্ণতা আনছে স্বপ্নের কলকাকলিতে । স্বপ্ন!! নাহ শুভ স্বপ্ন চেনে নাহ , শুভ আলো চেনে অন্ধকারের সংজ্ঞার আতিশয্যে । উড়নচণ্ডী কথোপকথন এর আঙ্গিকে আত্মপ্রশ্রয়ে মুখর হয়ে সিগারেট এর ধোঁয়ার সাথে অস্ফুট ধ্বনিতে কথা বলতে থাকে ও । বক্তা-শ্রোতা এক ।

সকাল ১ টা । ভুল নয় , এটা শুভ এর কাছে সকাল । ঘড়ি , প্রচলিত এ.এম /পি.এম এর হিসাব শুভ রাখে নাহ । ওর কাছে ”রাত এর অর্থহীন পথচলা কাব্য এর পরিসমাপ্তির পর দুচোখ মেলে নতুন সূর্যের ক্লান্তিকর রশ্মির অবলোকন এর নাম প্রভাত ”
আধো ঘুমের মাঝেই সিগারেট ধরাল শুভ । ধোয়ায় পরিপূর্ণতা আনছে স্বপ্নের কলকাকলিতে । স্বপ্ন!! নাহ শুভ স্বপ্ন চেনে নাহ , শুভ আলো চেনে অন্ধকারের সংজ্ঞার আতিশয্যে । উড়নচণ্ডী কথোপকথন এর আঙ্গিকে আত্মপ্রশ্রয়ে মুখর হয়ে সিগারেট এর ধোঁয়ার সাথে অস্ফুট ধ্বনিতে কথা বলতে থাকে ও । বক্তা-শ্রোতা এক ।
পিঠে মৃদু ব্যাথা অনুভুত হচ্ছে । পার্কের বেঞ্চটা এর জন্য দায়ী । সহসা হিমু টাইপ হয়ে ওঠার কোন ইচ্ছা ছিল নাহ শুভর । হলুদ! নাহ এখনো এই রং টা অপছন্দ করে শুভ।
সকাল তো হল , কিছু একটা খেতে হবে । পকেট হাতড়ে সর্বমোট ২০ টাকা পেল । যথেষ্ট!!! শাক , ডাল , সাথে আলু ভরতা-চমৎকার খাওয়া হয়ে যাবে।
সিগারেট শেষ । বেঞ্চে উঠে বসে শোয়া অবস্থা থেকে । একটা ছোট্ট দীর্ঘশ্বাস নিয়ে চোখ মেলে শুভ । উন্মুক্ত পৃথিবী হাতছানি দিয়ে ডাকছে শত আবেগের নির্যাস ভরা অসাড়তা নিয়ে । হাঁটতে থাকে শুভ ,পদছাপ নিষ্প্রয়োজন , পথচলার বহমানতা একটু নীরব । শুভ হাঁটছে , গন্তব্য – নজরুল এর ভাত এর হোটেল ।

*****

মধ্যরাত । ভবঘুরে , দেবদাস টাইপ ছন্নছাড়া মানুষ আর কিছু নিশাচর পাপি বান্দা ছাড়া এই গভীর রাত এ পিচ ঢালা রাস্তার বুকে হাঁটতে খুব কম মানুষকে দেখা যায় । শুভ হাত এর ঘড়ির দিকে তাকায় , অনেক রাত হয়েছে। সহসা হিমু টাইপ হয়ে যাচ্ছে কিনা সেটা নিয়ে ভাবার অবকাশ শুভ পায় না । রাত জেগে কেন সে পথের শিহরে হাঁটছে!! ভাবতে গেলে সহসা জল আসে চোখ এ ।
আজ আকাশের চাঁদ এর মহিমা প্রকাশ্য ,সগৌরবে জ্যোৎস্না বিতরন করছে । শুভ আজ জ্যোৎস্না দেখবে ।
কাঁধে ঝোলানো চটের ব্যাগ থেকে পুতুল বের করল শুভ । রাস্তার হলদে আলোই কেমন যেন রহস্যময় লাগছে। এক মুহূর্ত তাকিয়ে থাকে শুভ অপলক দৃষ্টিতে হাতে ধরা পুতুলটির দিকে। একচিলতে হাসি -পরক্ষনে ক্রন্দনে রুপান্তরিত হয় ।
সামনে একটা ডাস্টবিন । হলদে আলোর অবয়বে শুভ অনুমানে ছুড়ে ফেলে হাত এর পুতুলটি । কোঁথায় পড়ল , দেখার অবকাশ নেই , পদছন্দ বেড়ে যায় সহসা , গতির ভারসাম্য দ্রুততর হয় ,
শুভ হাঁটছে । দৃষ্টি সম্মুখে প্রসারিত । গন্তব্য- জ্যোৎস্না !!!

*****

-পুষ্প !! এই পুষ্প কোথায় তুই মা?
-পুষ্প ছাদে বসে আছে । (গম্ভির স্বরে জবাব দেয় শুভ)
প্রত্যুত্তরে কিছু বলে নাহ তিথি । শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ছাদ গন্তব্য করে এগুতে থাকে । পদছন্দ অর্বাচীন । প্রতি ছন্দে বেদনার নাভিশ্বাস চূড়ান্ত ।
তিথির গন্তব্য পানে চেয়ে থাকে শুভ । নাহ ! আজ সে অফিসে যাবে নাহ । অনেকগুলা অগোছালো ভাবনা মস্তিষ্কের নিউরনগুলাকে উত্তেজিত করছে । তিথিকে নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তা ভিড় করছে ওর মাথায় ।
১০ বছর হতে চলল ওদের দাম্পত্য জীবন । অনেক হাসি , ছোট্ট কিছু খুনসুটি , কিছু গল্প , কিছু ভালবাসা , কিছু অপ্রকাশ্য অভিমান , ভাবতে খারাপ লাগে নাহ । কিন্তু সবকিছুর আড়ালে একটি ব্যাপার , যেটা কখনোয় শুভকে একমুহূর্তের প্রশান্তি দিতে পারে নাহ । নির্জলা কিছু বেদনা ধীরে ধীরে শেষ করে দিচ্ছে তিথিকে , সেটা মেনে নিতে পারছে নাহ শুভ । তিথির দিকে তাকালে শুভ সহসা কেদে দেই এখন , অথচ এই মুখের দিকে দৃষ্টি প্রসারিত করে একসময় শুভ স্বপ্ন দেখত -রঙিন অনুভুতির আচ্ছাদনে নব কল্পে নতুন উন্মাদনা পেত , তিথির প্রতি শুভর ভালবাসাটা ঠিক এমনি।

-এই দেখো দেখো , পুষ্প এর পা কেটে গেছে । ছাদে খেলতে যেয়ে এমন করেছে । বেখেয়ালি মেয়ে আমার !! (কপট রাগ এর প্রতিবিম্ব অনুচ্চারিত)
শুভ তাকিয়ে থাকে । চোখ ফেটে কান্না আসে , কিন্তু নাহ অশ্রু আসে নাহ । নীরবে কাদে শুভ , ভঙ্গি- নির্বিকার ।
-কি ব্যাপার তুমি বসে আছো কেন? দেখছ নাহ মেয়েটার পা দিয়ে রক্ত বেরুচ্ছে । স্যাভলন ক্রিম টা এগিয়ে দাও।
শুভ ক্রিম এগিয়ে দেই । আর সহ্য করতে পারে নাহ বেরিয়ে যায় বাড়ি থেকে ।
-পুষ্প মা , তুই কিন্তু খুব দুষ্টু হয়ে গেছিস , দেখেছিস তোর বাবা রাগ করে বের হয়ে গেল !! আর কোনো দুষ্টুমি নাহ ।
শুভ আর দাঁড়ায় নাহ । দ্রুত পদে বের হয়ে যায় ।

*****

-দেখুন মিঃ শুভ , আপনার ওয়াইফ এর প্রবলেম টা খুবই কম্পলিকেটেড !! বাট ইটস নট আনকমন । সহসা ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার শোক তিনি কাঁটিয়ে উঠতে পারে নি , মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটেছে এই জন্য ।
– আই নো । বাট ইজ দেয়ার এনি সল্যুশন টু গেট রিড অভ দিস প্রবলেম ? আই ক্যান্ট বিয়ার দিস এনিমোর। !!
– হুম । দেখুন আপনার অবস্থাটা আমি বুঝতে পারছি কিন্তু , ইউ হাভ টু বি পেইসেনট !
শুভ নির্বাক থাকে । মাথায় হাজারো চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে । ভাবনাগুলা মিইয়ে আসছে বেদনার আতিশয্যে ।
-আচ্ছা নেক্সট ডেটে আপনি আপনার ওয়াইফ কে আনুন । আমি তাকে দেখি আগে । আর আপাতত তার কোন কথার প্রতিবাদ করবেন নাহ , এবং তার সামনে সর্বদা হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করবেন ।
একটা শব্দ উচ্চারন করে শুধু শুভ – ওকে , বলে ডাক্তার এর চেম্বার থেকে বের হয়ে যায় সে। পদছন্দ রক্তিম আভাময় , কিছুটা স্লথ ।

*****
>” দুই বছর , নাহ বেশিদিন হয়নি । তিথি কেমন আছো তুমি? আমি জানি তুমি আমায় ছায়া হয়ে দেখছ? তোমার রেখে যাওয়া এক চিলতে বাতাস আজও মুহূর্তের আবেগে শিহরিত করে তোলে আমায়। পুষ্প কেমন আছে? ওর সাথে দেখা হয়েছে তোমার? তিথি মনে আছে আমি আর তুমি বিয়ের পর পর-ই ঠিক করেছিলাম আমাদের মেয়ে হবে । তুমি তখন-ই নাম ঠিক করে রেখেছিলে ।
তিথি মনে আছে – পুষ্প যেদিন জন্মায় সেদিন পুরা হসপিটাল আমি ফুল দিয়ে সাজিয়েছিলাম । সদ্যজাত সন্তান এর কপাল এ ঠোট এর ছোঁয়া দিয়ে আমি আর তুমি একসাথে সমস্বরে আশীর্বাদ করেছিলাম ।
অনেক সুন্দর ছিল আমাদের দিনগুলা । পুষ্প , তুমি আর আমি ।
আচ্ছা সেদিন কেন এমন ঘটেছিল , কি অন্নায় ছিল তোমার আর আমার !! পুষ্প চলে গেছিল আমাদের ছেড়ে ওপারে । তিথি জানো সেদিন আমি কাদি নি । কারন রক্তঝরা অশ্রু পতিত হয় নাহ , যেখানে কষ্টগুলা অনিঃশেষ হয় ।
তিথি জানো আমি আজ সেই পুতুল টা ছুড়ে ফেলেছি , যে পুতুলকে পুষ্প বলে দিন এর পর দিন তুমি আদর করেছো , বকা দিয়েছো । আমি কষ্ট পেতাম তোমার মুখের দিকে তাকাতে , তবুও তোমার
পাগলামি কেও আমি ভালবাসতাম । তবে কেন তুমিও ছেড়ে চলে গেলে আমায়!!!!!!!!!! । ”< পৃষ্ঠা ছেঁড়ার শব্দ । সমান্তরাল গাঁথুনিতে শুভ সেই ছেঁড়া পৃষ্ঠা দিয়ে হাত এর কারুকার্যে নৌকা বানালো । লেক এর জলে ছেড়ে দিল নৌকাটা । কাগজের নৌকা !!তিথি খুব পছন্দ করত । চাঁদ এর অবয়ব স্পষ্ট । নৌকা ভাসছে হালকা দুলুনি । বাতাস টা মৃদু । রাত বাড়ছে । শুভ বসে আছে একা , দৃষ্টি সম্মুখে প্রসারিত। অনুভুতিগুলা ভোঁতা !! কল্প নিরবিচ্ছিন্ন । অর্থহীন আবেগের বহমানতা!!!

২৯ thoughts on “”অর্থহীন বহমানতা”

  1. ভাই কেমনে লিখছেন এসব?! মাথাটা
    ভাই কেমনে লিখছেন এসব?! মাথাটা দুপুর থেকে ঝিম মেরে আছে । যদি কোন মেডিটেশনের ফল হয়ে থাকে তাহলে জানাবেন নাইলে শিবির হয়্যা যাব…স্লিপ প্যারালাইজড বাঙালী হবার মত জ্বালার আর কিছু নাই :মাথাঠুকি:

    1. বিচার এর রায় এর পর আমি নিজেও
      বিচার এর রায় এর পর আমি নিজেও প্যারালাইজড ছিলাম ফর এ কাপল অফ পিরিয়ড । বাট বাস্তবতা যতই নির্মম হউক । মেনে নিতে হবে । আমি নিয়েছি ।

  2. আমি জানি । বাট ইজ দেয়ার এনি
    আমি জানি । বাট ইজ দেয়ার এনি সল্যুশন টু গেট রিড অভ দিস
    প্রবলেম ? আই ক্যান্ট বিয়ার দিস এনিমোর। !!

    বাংলার সাথে ইং্রেজিটা বেশ অমিল ঠেকছে, আমার কাছে মনেহয় এতে ভাষা দূষণের পাশাপাশি গল্পের ভাবটাই দূষিত হচ্ছে, তাছাড়া আপ্নার বাংলায় দক্ষতাও তো ভাল!

    1. ধন্যবাদ । খেয়াল করি নি ঠিক
      ধন্যবাদ । খেয়াল করি নি ঠিক ধরেছেন । বাংলাটাও ইংরেজিতে দিলে ভাল হয় , এতে লাইন এর ভাবের ভারসাম্য বজায় থাকবে । ধন্যবাদ ঠিক করে দিচ্ছি ।

  3. একটা পোস্ট দেয়া নিয়ে ব্যস্ত
    একটা পোস্ট দেয়া নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম বলে এতক্ষণ এই চমৎকার গল্পটি পড়া হয় নাই!
    সুদীর্ঘ ১০ দিন অসুস্থ থাকার পর মোশফেক ভাইয়ের স্বরূপে ফিরে আশাটা ইস্টিশনের জন্যে বারতি পাওয়া…
    আর এসেই দারুণ ফর্মে… দুর্দান্ত লেগেছে গল্পটা!! :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. আমি ভাই গপ্প ভাল লিখি নাহ ।
      আমি ভাই গপ্প ভাল লিখি নাহ । আমি লেখালেখি থেকে সমালচনাতে সিদ্ধহস্ত । যাই হোক , ধন্যবাদ লিঙ্কন ভাই অনুপ্রেরনার জন্য / :ফুল:

    1. হুম । রায় শোনার পর ঘণ্টাখানেক
      হুম । রায় শোনার পর ঘণ্টাখানেক আমিও পুরা সাইলেন্ট হয়ে গেছিলাম ঘন্তাখানেক এর জন্য । আওয়ামীলীগ পুতুল বানিয়েছে আমাদের । পুতুল নিয়ে খেলেছে এখন সময় এসেছে নিজেদের আখের গুছাতে , তাই পুতুল এর ইচ্ছা , চেতনা , সপ্নকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে নরদমাতে ।

      যাই হোক , পরে পইড়েন তাইলে

  4. পুরো গল্পটা যতটা না মন কেড়েছে
    পুরো গল্পটা যতটা না মন কেড়েছে তার চাইতে বেশি মন কেড়েছে একটি বাক্য, “রক্তঝরা অশ্রুপতিত হয় নাহ , যেখানে কষ্টগুলা অনিঃশেষ হয়” ।

    ভাল লাগলো।

    1. হুম । এই গল্পটা কাহিনি নির্ভর
      হুম । এই গল্পটা কাহিনি নির্ভর নয় । এই গল্পে এমন অনেক উক্তি আছে যেগুলার অন্তর্নিহিত ভাব আমাদের প্রাত্তাহিক হাসি কান্না কে ছুঁয়ে জীবনের বহমানতা প্রকাশ করে । ধন্যবাদ শাহিন ভাই মন্তব্য এর জন্য । :ফুল:

    1. ধন্যবাদ আপনাকে । আসলে এটা
      ধন্যবাদ আপনাকে । আসলে এটা একটা বেক্তিগত জীবন ভিত্তিক অভিজ্ঞতা থেকে অনুভুতি গুলা সৃষ্ট । এর সাথে কিঞ্চিত কাহিনি ভিত্তিক একটা খেলা স্বল্প পরিসরে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *