সকল চরিত্র কাল্পনিক


শুক্রবার দিনটা গোলাম আযম সাহেবের খুব প্রিয়। এদিনটা জুম্মাবার। জুম্মার দিন ভালো কাজ করার মজাই আলাদা। আর মালাউন ধরতে পারলে তো কথাই নাই। এদের রক্তে হাত রাঙাতে পারলে তো কঠিন সওয়াব। তাই বিসমিল্লাহ বলে গোলাম আযম সাহেব তার টুপিটা মাথায় দিলেন।

বাসা থেকে বের হবার পরপরই তার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। বজ্জাত ড্রাইভারটা গাড়ি রেডি করতে পারে নাই।
– যাহ বেতমিজ, আমার ফোনটা নিয়ে আয়।
দৌড় দিয়ে তার টি এন টি ফোনটা নিয়ে …এল ড্রাইভার।
– সালাম কমান্ডার সাহাব।


শুক্রবার দিনটা গোলাম আযম সাহেবের খুব প্রিয়। এদিনটা জুম্মাবার। জুম্মার দিন ভালো কাজ করার মজাই আলাদা। আর মালাউন ধরতে পারলে তো কথাই নাই। এদের রক্তে হাত রাঙাতে পারলে তো কঠিন সওয়াব। তাই বিসমিল্লাহ বলে গোলাম আযম সাহেব তার টুপিটা মাথায় দিলেন।

বাসা থেকে বের হবার পরপরই তার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। বজ্জাত ড্রাইভারটা গাড়ি রেডি করতে পারে নাই।
– যাহ বেতমিজ, আমার ফোনটা নিয়ে আয়।
দৌড় দিয়ে তার টি এন টি ফোনটা নিয়ে …এল ড্রাইভার।
– সালাম কমান্ডার সাহাব।
– অয়ালাইকুমুস সালাম, তবিয়ত কেয়া হ্যায় আযম সাহাব?
– তবিয়ত আচ্ছে হেয়, ফির মেরি গাড়ি খারাব হ্যায় জনাব। থোড়ি দের লাগেগা।
– ফিকারকি বাত নেহি হ্যায়। এক মুক্তি মিল গেয়া। উসকো আন্দার কার লে রাহা হু। আপ আ যাইয়ে।
– বহুত শুকরিয়া। বহুত শুকরিয়া। উসকো থোড়ি পেশাব পিলাদো।
– হাহা জরুর জরুর। উসকা ঘার আপকা পাস হেয়। যাও অর দেখলো।
– হুই না বাত।

গোলাম আযম মুক্তির ঠিকানা নিলেন। এরপর নুরুল আমিনকে ফোন করে কয়েকজনকে ডেকে নিলেন। এক ঘন্টা পর দেখা গেল ওই বাড়ির গেট ভেঙ্গে ভেতরে ঢোকা হচ্ছে। ভিতরে দুজন মহিলা। মা আর মেয়ে। মুক্তিযোদ্ধার নাম আবুল। তাঁর স্ত্রী ফাতেমা আর কন্যা নুরনাহার।
স্ত্রী যুবতী। তাকে দেখে গোলাম আযমের বুকে প্রেম জেগে উঠল।ফাতেমা কাঁদছে। তাকে জিজ্ঞেস করা হল,
– কালেমা পাড়তা হায়?
– জী।
– কাহো।
– লাইলাহা ইল্লালা।
গ্রামের মেয়ে, এরচেয়ে বেশি জানে না। তাঁর আগেই তাকে বিয়ে করে ঢাকায় এনেছে আবুল।
– না, এ কালেমা জানে না, মালাউন।
ফাতেমাকে বিবস্ত্র করা হচ্ছে। নূরনাহারের সামনেই। গলা ফাটিয়ে খোদাকে ডাকছে ফাতেমা।
“খোদা তুমি রহম কর, ইয়া আল্লাহ তুমি রহম কর”

ও মালাউনকি মুখসে খোদা নেহি নিকাল, এই বলে হাতের ছড়িটা দিয়ে বাড়ি মারতে থাকল আযম সাহেব। মালাউনগুলো বড় বেড়েছে। এই দেখে কান্না শুরু করে নুরনাহার। তাঁর দিকে কঠিন চোখে তাকায় আযম সাহেব। পাঁচ বছরের পুচকে মেয়ে। এতো গলার জোর!

তার আদেশে ফাতেমার সামনে নুরনাহারকে পালাক্রমে কোলে নেয় পাঁচজন। শিশ্ন দ্বারা খতবিক্ষত করে তাঁর যোনিপথ। হতভম্ব হয়ে যায় ফাতেমা। সন্তানকে বাঁচাতে বার বার ছুটে যায়। কিন্ত দুইজন ধরে রাখে তাকে। এরপর গোলাম আযম ফিতা খোলেন পায়জামার। মালাউনের পেটে পবিত্র বীর্য ঢুকাতে সুখ। দেশ পাকস্তানী পাক সন্তান দ্বারা ভরে যাক।

কাজ সারার পর ওই বাসা থেকে তিনি ফোন দিলেন কমান্ডারকে।
– অর কোই মুশকিল নেহি হ্যায় জনাব। মুক্তিকো বিবি বাচ্চা পাক হো গায়া।
– বহুত আচ্ছা। বহুত আচ্ছা। আপ জেয়সা রেজাকারকো হামারা সেলুট হ্যায়।

হাসছেন গোলাম আযম সাহেব। একটু পর জুম্মায় যাবেন। আজ অনেক সওয়াব হোল। দেশকে পাক করতে শান্তি কমিটির তুলনা নেই। নিজেকে নিজেই একটা সেলুট দিলেন মনে মনে। এরপর বের হবার সময় ছোট আওরাতটাকে গুলি করে দিলেন। এর পেট থেকে বাচ্চা আসতো না। দরকার কি বাঁচিয়ে ! এবার নামাজের আজান দিল। সব সময়মতই হোল। আলহামদুলিল্লাহ!

১১ thoughts on “সকল চরিত্র কাল্পনিক

  1. ভাষা নেই মুখে কিছু বলার মত ।
    ভাষা নেই মুখে কিছু বলার মত । ছোট্ট একটা দীর্ঘশ্বাস বের হল – সেটা অনেক পুরাতন ।

  2. হাসছেন গোলাম আযম সাহেব। একটু

    হাসছেন গোলাম আযম সাহেব। একটু পর জুম্মায় যাবেন। আজ অনেক সওয়াব হোল। দেশকে পাক করতে শান্তি কমিটির তুলনা নেই। নিজেকে নিজেই একটা সেলুট দিলেন মনে মনে। এরপর বের হবার সময় ছোট আওরাতটাকে গুলি করে দিলেন। এর পেট থেকে বাচ্চা আসতো না। দরকার কি বাঁচিয়ে ! এবার নামাজের আজান দিল। সব সময়মতই হোল। আলহামদুলিল্লাহ!

    ফিনিশিংটা এক কথায় অনবদ্য… লিখতে থাকুন!আপনার লিখনিও জটিল… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  3. আসলে অনেক আগের থেকেই আমাদের
    আসলে অনেক আগের থেকেই আমাদের পূর্বপুরুষরা আশাহত হয়েই বেঁচে ছিলো ।আমাদেরও ঠিক তাই শিখতে হবে

  4. জানি , ক্ষমা চাইবার মুখ নেই।
    জানি , ক্ষমা চাইবার মুখ নেই। তারপর পারলে ক্ষমা করে দিও মা… আমরা তোমার দুর্জয় সন্তানেরা তোমার অপমানের প্রতিশোধ নিতে পারলাম না… পারলাম না ওর শিশ্নটাকে কুকুরের খাদ্যে পরিনত করতে… ক্ষমা করে দিও মা…

    যদিও কষ্টটা বহু পুরনো, কিন্তু আবার তাজা হয়ে গেলো আপনার লেখা পড়ে, চালিয়ে যান…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *