৪২ বছরের আক্ষেপ

গোলাম আযম এর এই রায় আমাদের চৌদ্দ কোটি বাঙালীর অপমান, এই অপমান আমাদের বাংলাভাষার অপমান, এই অপমান আমাদের বাংলার কষ্ট সহিষ্ণু মা-বোনদের। অপমান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। সর্বোপরি এই অপমান আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশের।


গোলাম আযম এর এই রায় আমাদের চৌদ্দ কোটি বাঙালীর অপমান, এই অপমান আমাদের বাংলাভাষার অপমান, এই অপমান আমাদের বাংলার কষ্ট সহিষ্ণু মা-বোনদের। অপমান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। সর্বোপরি এই অপমান আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশের।

১৯৭১ সালে যেই লোক সারা বাঙালি জাতির সাথে বেইমানী করে পাকিস্তানীদের সাথে হাত মিলিয়েছিল, যার মাস্টার মাইন্ডের কারণে ৩০ লক্ষ বাঙালীর রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল এই মাটি, তার জন্য কেবল ৯০ বছরের কারাদণ্ড? এতো বছর এই পাকিস্তানী জারজ সন্তান বাংলার হাওয়া পানি খেয়ে, পাকিস্তানের গুন গান গেয়ে, সরকারি গাড়ি বাড়ীতে থেকে আমাদের যে নির্মম পরিহাসের পাত্র করে তুলেছিল, তাকে আমরা মাত্র ৯০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছি? মা বোনদের সম্ভ্রম হানি করে আমাদের যারা গত ৪২ বছর অপরাধী করে রেখেছিল, তাদের আমরা জামাই আদর ভোগ করতে দিচ্ছি? আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের কাছে আমার প্রশ্ন, আপনারা তো অনেক জ্ঞানী। আপনারাও তো কোন মায়ের সন্তান। আজ যদি কোন অপরাধী আপনার মায়ের, বোনের সম্ভ্রমহানি করত বা আপনার চোখের সামনে আপনার বাবা বা ভাইকে গুলি করে হত্যা করত, তখন কি করতেন আপনারা? মুখে লজেন্স নিয়ে আইনের বাল ফেলতেন? নাকি প্রতিহিংসার আগুনে ছুটে যেতেন?

আমরা ৪২ বছর অপেক্ষা করেছি আমাদের মাতৃভূমির অভিশাপ ঘোচানের। আর আপনারা আমাদের কি দিলেন? বাঙালি জাতি কষ্ট সহিষ্ণু। এই দেশের লোক অধিকাংশ লোক দিন এনে দিন খায়। রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে পরিবারের জন্য আয় উপার্জন করে। অসুস্থ থাকলেও নিস্তার নেই। কাজে বের হতেই হবে। অনেক বৃদ্ধ লোক এখনও দুই পায়ের উপর ভর করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। কই একবারও তো মহামান্য বিচারক রা বলেন না যে, বয়স হয়েছে, ঘরে বসে খাও বা অসুস্থ হলে সুস্থ হয়ে কর্মস্থলে আসো। তাহলে কেন এই কুখ্যাত রাজাকারের পক্ষপাতী আপনারা? আমার অনেক জানতে ইচ্ছে হয়।

মহামান্য বিচারকেরা, আমার দাদুকে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে এই রাজাকারের দলের সহায়তায় পাকিস্তানী আর্মি ধরে নিয়ে যায়। আজ পর্যন্ত তার লাশ আমরা খুঁজে পাই নাই। কারো কাছেই বিচারের আশায়ও যাই নাই। স্বাধীনতার ৪২ বছর পর্যন্ত আপনাদের ভরসায় ছিলাম। কিন্তু আপনারা আমাকে এই বিচার দিলেন?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আপনাকে আমরা জানতাম বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে। আপনি আমাদের কথা দিয়েছিলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবেন। আপনি আপনার কথা হয়তবা রেখেছেন।কিন্তু তা রেখেছেন বাঙালীর মুখের সামনে মূলা ঝুলিয়ে। আপনি হয়তবা এই ধর্মান্ধ খাসীর দেশে আর ক্ষমতায় নাও আসতে পারতেন। কিন্তু যারা আপনাকে ভালবাসে, যারা বাংলাদেশকে ভালবাসে, যারা স্বাধীনতাকে ভালবাসে তারা আপনাকে চিরদিন মনে রাখত। কিন্তু আপনি হয়তবা ক্ষমতার লোভে আঁতাত করলেন ওই নরপশুদের সাথে যারা আপনার পিতার সোনার বাংলাকে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল। আপনিই জানেন আপনার মতে বিচার কতোটুকু।

আমার সহযোদ্ধা ব্লগার এবং স্বাধীনতাকামী ভাই ও বোনদের উদ্দেশে বলতে চাই, যুদ্ধ এখনি শুরু করুন। এই দেশের সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে বয়কট করুন। গর্জে উঠুন তারুণ্যের চেতনায়। অসহযোগ আন্দোলন শুরু করুন। প্রত্যাখ্যান করুন এই আপোষের রায়কে। কোন আপীল নয়। এখনি বিচারের রায় চাই। এবং সেই রায় হবে ফাঁসি। যতদিন আমরা এই রায় না পাব, ততদিন আমাদের বজ্রকন্ঠ থামবে না। আন্দোলন চলতেই থাকবে।

রক্ত আমরা প্রতিদিনই দিচ্ছি। আরও রক্ত দেব। অহিংস আন্দোলনের পথ শেষ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।

৫ thoughts on “৪২ বছরের আক্ষেপ

  1. রক্ত আমরা প্রতিদিনই দিচ্ছি।

    রক্ত আমরা প্রতিদিনই দিচ্ছি। আরও রক্ত দেব। অহিংস আন্দোলনের পথ শেষ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।

    আমার ও একই কথা আর সাথে আরেকটু যুক্ত শুধু রায় দিলেই চলবে না তা কার্যকর করতে হবে

  2. আমার সহযোদ্ধা ব্লগার এবং

    আমার সহযোদ্ধা ব্লগার এবং স্বাধীনতাকামী ভাই ও বোনদের উদ্দেশে বলতে চাই, যুদ্ধ এখনি শুরু করুন। এই দেশের সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে বয়কট করুন। গর্জে উঠুন তারুণ্যের চেতনায়। অসহযোগ আন্দোলন শুরু করুন। প্রত্যাখ্যান করুন এই আপোষের রায়কে। কোন আপীল নয়। এখনি বিচারের রায় চাই। এবং সেই রায় হবে ফাঁসি। যতদিন আমরা এই রায় না পাব, ততদিন আমাদের বজ্রকন্ঠ থামবে না। আন্দোলন চলতেই থাকবে।

    —- সহমত ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *