[ “আল্লামা শফির বক্তব্য এবং আমার ধর্ম বিরোধীতা ” শিরোনামের ব্লগটির প্রত্যুত্তর… ] এবং আমার কিছু কথা ।

মানুষের বেঁচে থাকাটা অনেক সুন্দর । দোয়েলের মতো , ফড়িং এর মতো উচ্ছল উত্‍সাহ নিয়ে মানুষগুলো বেচে থাকে । ভালো থাকার ইচ্ছায় আর ভালো না থাকার ভয়ে মানুষ পরিবর্তনকে ভয় পায় । একবার স্থিতিশীল সাম্যাবস্থায় পৌছালে মানুষ সহজে সে ব্যবস্থা ছাড়তে চায় না ।
পরিবর্তনই যে সৌন্দর্যের সুন্দরতম উপায় এটা সবাই বুঝে না । অথবা বুঝতে চায় না ।


মানুষের বেঁচে থাকাটা অনেক সুন্দর । দোয়েলের মতো , ফড়িং এর মতো উচ্ছল উত্‍সাহ নিয়ে মানুষগুলো বেচে থাকে । ভালো থাকার ইচ্ছায় আর ভালো না থাকার ভয়ে মানুষ পরিবর্তনকে ভয় পায় । একবার স্থিতিশীল সাম্যাবস্থায় পৌছালে মানুষ সহজে সে ব্যবস্থা ছাড়তে চায় না ।
পরিবর্তনই যে সৌন্দর্যের সুন্দরতম উপায় এটা সবাই বুঝে না । অথবা বুঝতে চায় না ।

আমাদের ধর্মগুলোও এরকমই একেক সময়ে একেক সমাজের স্থিতিশীলতার প্রতীকমাত্র । তিন হাজার বছর পুরোনো ইহুদী ধর্মকে যদি এই দুই হাজার তেরোতে আগলে রাখতে চান , তাহলে আপনাকে বছরে একদিন হাত তুলে বসে থাকতে হবে স্বর্গ থেকে ঈশ্বর খাবার পাঠাবেন এই আশায় । একইভাবে আপনি চৌদ্দশ বছর পুরোনো ইসলামকে যদি অক্ষত রেখে এই সমাজে চলতে চান , তবে আপনাকে চলতে হবে দিগম্বর হয়ে । কারণ ইসলামে বিধর্মীদের সাথে বন্ধুত্ব করা মানা । যার উচ্চতা দুই ফুট , আকাশের চাঁদ ধরতে চাওয়ার বিলাসিতা তার পঙ্গুত্বই বলা চলে ।

গার্মেন্টসে তৈরী কাপড় পরে যখন কেউ গার্মেন্টসকর্মীদের বেশ্যা বলে তখন তার প্রতিবাদ করার ভাষাও খুজে পাই না ।
মাতৃগর্ভে পূর্ণতা লাভ করে , মায়ের আঁচল ধরে বড় হয়ে কেউ যখন মায়েদের , মেয়েদের তেতুলের সাথে তুলনা করে তখন সেই লোক যে মানসিকভাবে অসুস্থ তাতে কোনো সন্দেহ থাকে না ।

শামীমা মিতু আপু কয়েকদিন আগে একটা লেখা লিখেছিলেন , “আল্লামা শফির বক্তব্য এবং আমার ধর্ম বিরোধীতা” । এবং বাংলা ব্লগের ইতিহাসে যেটা সবসময়ই হয়েছে , সেটাই হলো । চলতি ভাষায় যেটাকে বলে ত্যানা প্যাচানি । তবে এবারে নতুনত্ব যা তা হলো সফিক এহসান নামক ব্লগার সরাসরি একখানা ব্লগপোস্ট প্রসব করেছেন ।
শামীমা মিতুর লেখাঃ http://istishon.blog/node/3391
সফিক এহসানের লেখাঃ http://www.istishon.com/node/3424

কোরআনের আয়াত আর হাদীসের বাণী সমৃদ্ধ লেখা দুটি পড়তে কষ্ট হয়েছে খুব । লেখার শেষে সফিক সাহেব একটা চ্যালেন্জ করেছেন , তাকে একটা বই লিখে দিতে যাতে কোন ধর্ম গ্রন্থের গোড়ামী থাকবে না , নারীবিদ্বেষ বা পুরুষবিদ্বেষ থাকবে না , ধনী গরিবের শ্রেণী বৈষম্য থাকবে না , সমাজের কোন কুসংস্কার ঠাঁই পাবে না, কোন অনাচার-অবিচার মাথা তুলতে পারবেনা, কেউ হবে না লাঞ্ছিত-শোষিত…
যে পুস্তক অনুসরন করলে প্রজন্মের পর প্রজন্মে বইবে সাম্য আর সুবিচারের নির্মল সুবাতাস… যেখানে পাওয়া যাবে সকল সমস্যার বৈজ্ঞানিক সমাধান… মিলবে আলোর দিশা, বইবে মনুষত্বের জোয়ার !!!

মজার ব্যাপার হচ্ছে সফিক সাহেব আপ্রাণ চেষ্টা করেও এক বইয়ে সবকিছু টাইপ মানসিকতা থেকে বের হতে পারেন নি । তিনি আজও বুঝতে পারেন নাই যে সময় ছুটে চলে তার নিজের গতিতে , আর সবকিছু নিয়ে । একটা বইএ মানবসমাজের ক্ষুদ্র জ্ঞানকে সীমাবদ্ধ করা চলে বটে , সামগ্রিকভাবে তা করতে চাও নিতান্তই গবেটের পরিচয় দেওয়া ছাড়া আর কিছু না ।

ধর্মকারীতে এমন হাজার হাজার পোস্ট আছে কোরআন হাদীসের ভূল নিয়ে । বাংলা ব্লগের জন্মলগ্ন থেকে ধর্ম নিয়ে যত লেখা আছে তা নিয়ে মহাগ্রন্থ হয়ে যাবে । হাদীস কোরআনের ব্যাখ্যায় তাই যাচ্ছি না ।

ইস্টিশনেই আমার দুটি লেখা আছে । প্রথমটা ইসলামী আইন সম্পর্কিত । অন্যটা একটা ইসলামিক দেশের সাথে একটা উদারপন্থী দেশের তুলনা ।
মুসলমানদের একটা প্রিয় মিথ্যা হল তারাই নারীদের যথাযোগ্য সম্মান দিয়েছে । হাস্যকর কথাটার যুক্তিখন্ডনঃ http://www.istishon.com/node/2222

তাদের আরেকটা প্রিয় যুক্তি হলো নারী স্বাধীনতার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি নিয়ত ধর্ষণ হচ্ছে । এর প্রেক্ষিতে http://www.istishon.com/node/2409

লেখা দুটো পড়লে একটা বিষয় নিশ্চয়ই পরিষ্কার হওয়ার কথা যে কোয়ান্টাম ফিজিক্সের যুগে ইসলাম বড়ই সেকেলে দর্শন ।

আমি প্রথমেই বলেছি ধর্মগুলো একেক সময়ে একেক সমাজের স্থিতিশীল রূপ ছাড়া আর কিছুই না । যে দর্শনের কারণে বর্বর আরবরা শক্তিশালী হয়ে উঠেছিলো , সেই দর্শন সারা পৃথিবীতে স্থান কাল পাত্র ভেদে একই থাকবে তা ভাবা মূর্খতার পরিচায়ক ।

মানুষের মানুষ হয়ে থাকতে ধর্মের প্রয়োজন হয়নি কখনোই । ধর্ম ছিলো ধর্ম আছে ধর্ম থাকবে । কিন্তু তা হচ্ছে মানবতার ধর্ম । হযরতের ইসলাম বা যিশুর খ্রিষ্টধর্ম , ঋষিদের সনাতন বা গৌতমের বৌদ্ধধর্ম – এসবই মানবধর্মের ভিন্ন ভিন্ন রূপ । এগুলোকে নিয়ে আমরা যখন বারাবারি করি , নিজেরটা সেরা মনে করি তখনই এটা মানবধর্ম থেকে চতুষ্পদ জন্তুর ধর্মে পরিণত হয় । যে ধর্ম অন্য ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক তা ধর্ম নয় অধর্ম ।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় একশ বছর আগেই লিখেছিলেন , ঈশ্বর থাকেন ভদ্রপল্লীতে । সুবিধাবাদীদের সুবিধাই হলো ধর্ম । আজ যে মানুষ ঈমানী জোশ নিয়ে তিরিশ পাড়ার একটা বই নিয়ে আস্ফালন করছে , পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই মানুষই তার কল্পিত ঈশ্বরকে গালি দেয় । নিজের দুর্ভাগ্যের জন্য দোষারপ করে । ধর্ম হলো তাদের যারা ধর্ম পালন করে উপকৃত হয় । সত্যিকথা বলতে কি , মানুষের জীবনে ” ক্ষুধাতৃষ্ণার দেবতা , হাসিকান্নার দেবতা , অন্ধকার আত্মার দেবতাদের পূজা সাঙ্গ হয় না কোনো দিনই । ”

মানুষ , তুমি মানুষ হবে কোনক্ষণে ?

১২ thoughts on “[ “আল্লামা শফির বক্তব্য এবং আমার ধর্ম বিরোধীতা ” শিরোনামের ব্লগটির প্রত্যুত্তর… ] এবং আমার কিছু কথা ।

  1. যে যুগে ইসলাম বা অন্য ধর্মের
    যে যুগে ইসলাম বা অন্য ধর্মের ধর্মগ্রন্থ সৃষ্টি হয়েছিলো, সেই যুগ এবং বর্তমান যুগ আকাশ পাতাল পার্থক্য। সেই যুগের গ্রন্থকে জীবন চলার পাথেয় বানালে অন্ধকারের পড়ে থাকতে হবে।
    বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির যুগে যদি মানুষ নিজেই ন্যায় অন্যায় নির্ধারণ না করে গ্রন্থের উপর নির্ভর করতে হয় তবে :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

    1. মানুষ নিজে ন্যয়-অন্যায়
      মানুষ নিজে ন্যয়-অন্যায় নির্ধারন করবে বুঝলাম। কিন্তু কোন মানুষ ন্যয় অন্যায় নির্ধারন করবে! সব মানুষের ন্যয় অন্যায় বোধ তো এক না। আপনি কারটা গ্রহন করবেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিও তো দিন দিন পরিবর্তন হচ্ছে। কাল যে পরমানু ছিল মৌলের একক আজ যে পরমানু ভেঙে ইলেক্ট্রন, প্রোটন হয়ে গেছে। তাহলে গতকালের পরমানু নিয়ে বলা কথাটা কি মিথ্যা হয়ে গেল না! তাহলে দুনিয়াতে ধ্রুবক সত্য, কিংবা ধ্রুবক সমাধান বলতে কিছু নাই। সবই আপেক্ষিক হয়ে যাচ্ছে। সময়ের তুলনায় আপেক্ষিক। আপনার কাছে যেমন বিজ্ঞান হল ধ্রুবক সত্য তেমনি আরেকজনের কাছে ইসলাম ধ্রুবক সত্য। এখন কারটা আসল সত্য সেটা কে নির্ধারন করবে! ভুল তো দুইটাতেই আছে!!! ইসলামিক উপায়ে এখানে কি কি ভুল আছে সেটা শুনতে চাই না। বৈজ্ঞানিক এপায়ে এর সমাধান কি সেটা বলেন।

      1. ” ইসলামিক উপায়ে এখানে কি কি
        ” ইসলামিক উপায়ে এখানে কি কি ভুল আছে সেটা শুনতে চাই না। বৈজ্ঞানিক এপায়ে এর সমাধান কি সেটা বলেন ”

        এটাই কথা । আপ্নারা এসব শুনতে চান না ।

        বিজ্ঞান ভূল করে এবং তার শুদ্ধ করে । প্রতিনিয়ত সত্যটা জানার চেষ্টা করে ।
        অপরপক্ষে ধর্ম ভুল করে এবং চামারের মতো তা কামড়ে ধরে থাকে । এটাই পার্থক্য

  2. “বাংলা ব্লগের জন্মলগ্ন থেকে
    “বাংলা ব্লগের জন্মলগ্ন থেকে ধর্ম নিয়ে যত লেখা আছে তা নিয়ে মহাগ্রন্থ হয়ে যাবে । ”
    একেকজন মতামত দিছে একেকভাবে। এখন কার কথা মেনে নেয়া হবে সেটা নির্ধারন করবে কে!!! আর যেকোন একজনের কথা মেনে নিলে তাকে তো আপনারা সবাই নবী বলে পচাবেন।

    “ধর্ম ছিলো ধর্ম আছে ধর্ম থাকবে । কিন্তু তা হচ্ছে মানবতার ধর্ম ।”
    এই মানবতার ধর্মটা কি বলেন তো। মনে করেন একজন খুনির শাস্তি হিসেবে আপনি মৃত্যু দাবী করেন। আপনি বলছেন যাকে ক্ষুন করা হয়েছে তার প্রতি হওয়া অমানবিকতার বিচার করতে ফাসি দেয়া প্রয়োজন। আপনি ক্ষুন হওয়া মানুষ্টার প্রতি দেখালেন মানবতা।
    আমি পশ্চিমাদের মত বললাম, না ক্ষুনি হলেও তার প্রতি দয়া দেখানো মানবতা। তাই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড হওয়া উচিৎ না।

    এখন এই বিষয়ে আপনার মতামত আমি জানতে চাই না। শুধু জানতে চাই ওপরোক্ত দুই ধরনের মানবতার মধ্যে কোনটা যে আসল মানবতা সেটা কে নির্ধারন করবে। সেটা নির্ধারনের জন্য কি আপনে আবার একজন বা একগুচ্ছ জ্ঞানী লোক ডাকবেন! সেই জ্ঞানী লোকেরা কি নবী হয়ে গেল না! তাইলে তো আপনার মানবতার ধর্মে আবার নবি ও উম্মতের বিভাজন এসে গেল। সমতা কই আনলেন! সোজা কথায় ধর্ম দিয়ে বের আর হইতে পারছেন না।

    যাই হোক, আমরা ইসলামের দোষ দেখতে দেখতে ক্লান্ত। এখন মানবতার ধর্মের গুন দেখতে চাই। ইসলামের সমস্যাগুলা ধরাইয়া যদি বলেন এটা খারাপ তাহলে তো হবেনা। ওটার চেয়ে ভাল কিছু সামনে এনে তারপরে ওটাকে খারাপ বলতে হবে।

  3. কোনটা সঠিক আর কোনটা বেঠিক তা
    কোনটা সঠিক আর কোনটা বেঠিক তা বোঝার সামর্থ্য তো আপনার আছেই তাই না ?

    আপনি মানুষ । আমি মানুষ । দুইজন মানুষের মাঝের মানবিক সম্পর্কটাই মানবতা ।
    অপরাধ করলে তার শাস্তি পেতে হবে । শাস্তি দেওয়াটাও ঐ মানবতার কাতারেই পরে ।

    আপনি গোলাম আজমের প্রতিও মানবতা দেখাতে পারেন । সেটা হল তার মৃতদেহটাকে ছিন্নভিন্ন না করা । তার ফাসি প্রাপ্য । ফাসি দেওয়াটা কর্তব্য ।

    আপনি ইসলামের দোষ দেখতে দেখতে ক্লান্ত । কিন্তু আদৌ আপনি দোষ দেখেন কি ?

  4. বাহ! সফিক এহসান এর সাথে আপনিও
    বাহ! সফিক এহসান এর সাথে আপনিও ব্লগপোষ্ট প্রসব করলেন। সাথে জুড়ে দিলেন দুইটা ল্যাঞ্জা…যার নাই কোন রেফারেন্স।যেখানে সবাই রেফারেন্স ছাড়া উল্রেখ করছে না , আর আপনি নিজের মনগড়া আলোচনা ডেলিভারী দিয়ে দিলেন! বাহ!

  5. কোনটার রেফারেন্স লাগবে জনাব
    কোনটার রেফারেন্স লাগবে জনাব ?
    এখন এমন অবস্থা যে আপনি নিজের মায়ের কাছেও রেফারেন্স চান নিজের বাবার বিষয়ে ।

Leave a Reply to খুনী অর্ফিয়াস Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *