“আল্লামা শফির বক্তব্য এবং আমার ধর্ম বিরোধীতা” শিরোনামের ব্লগটির প্রত্যুত্তর…

বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখি করি বেশ কিছুদিন ধরেই। এর মধ্যে ইস্টিশন ব্লগটা বিশেষ ভাবে ভালো লাগে কারণ এখানে সত্যিকার অর্থেই কিছু ভদ্র-মার্জিত ব্যক্তির সান্নিধ্য পাওয়া যায়। ভিন্ন মত থাকে, সেটা আছে বলেই না ব্লগে আসা! নানা মতের আলোতে আলোকিত হবো তবেই না ব্লগের মজা। কিন্তু ধাক্কা খেলাম শ্রদ্ধেয় সহব্লগার “শামীমা মিতু” আপুর “সময়: শনি, 13/07/2013 – 8:29অপরাহ্ন”তে লেখা “আল্লামা শফির বক্তব্য এবং আমার ধর্ম বিরোধীতা” শিরোনামের ব্লগটিতে। না, “”আল্লামা শফির বক্তব্য” ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে ওনার কথার সাথে আমিও একমত। কিন্তু যখন উনি এই বক্তব্যের সাথে স্বয়ং আল-কোরাআন এর সাদৃশ্য তুলনা করে ধর্মকে গালাগাল ও অপবাদ দেয়া শুরু করলেন, তখন একটা মুসলিম পরিবারে জন্ম নেয়ার কারণে সেটা হজম করা কঠিন হয়ে গেল…
ওনার পক্ষে অনেকগুলো কমেন্টও ছিল! তাই, খুব বিনয়ের সাথে কমেন্ট করে শুধু বলতে চেয়েছিলাম- কোন ভন্ডামীর সমালোচনার মাঝে ধর্ম টেনে না আনলে কি চলতো না? সেই সাথে কোরআনের ২ইটা লাইনও তুলে দিয়ে ওনার ব্যাখ্যা চাইলাম।
কিন্তু প্রত্যুত্তরে উনি কোন যৌক্তিক আলোচনার ধার না ধরে ব্যক্তিগত আক্রমণ ধরে নিয়ে আমার দেয়া ঐ ২টি লাইনের ব্যাখ্যা তো দিলেনই না, বরং এমন ভাবে রিএক্ট করলেন যে আমার কিছু বলার ছিল না…
ইস্টিশন-এ কারো কাছ থেকে এরকম অশালীন মন্তব্য পেয়ে ভেবেছিলাম এটা নিয়ে আর কোন আলোচনায় যাব না। কিন্তু বাঙ্গালী নিরবতাকে দুর্বলতা ভাবে! অন্তত, তারিক লিংকন ও গোলাম সারোয়ার-এর মন্তব্যে তেমনই মনে হলো! তাই এই প্রতি পোস্টটি দিতে বাধ্য হচ্ছি…
মূল্যায়নের সুবিধার্থে মূল পোস্টটির লিঙ্কটাও নিচে দিয়ে দিলাম…

কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে হলে আগে জানতে হবে

স্বভাবতই এই লেখাটি অনেক বড় হবে। কারণ, মূল পোস্টের উদ্ধৃতি কোট করে সেটার আলোকে কথা বলতে হবে। সুতরাং…
সেই সাথে একটু ভুমিকা দেয়াও জরুরী! তবে শুরুতেই বলে নিচ্ছি আমি কোন ইসলাম বিশারদ নই। জন্মগত ভাবে মুসলমান তাই পারিবারিক শিক্ষার কারণে “ইসলাম” ভালোবাসি… আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে কোরআনের আয়াত ব্যাখ্যা করার দুঃসাহস কারো চোখে ধৃষ্টতা মনে হলে ক্ষমা করে দেবেন…
ব্যক্তিগত ভাবে আমি কোন ধর্মকে আক্রমণ করে কথা বলা পছন্দ করি না। অনেকেই ব্যক্তি স্বার্থে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের এক-দুইটা বিশেষ লাইন কোট করেন। এটা একটা ভয়াবহ রকমের চালাকি! কারণ, স্থান-কাল-পাত্র বিচার করা খুব খুব খুবই জরুরী! প্রেক্ষাপট বর্ণনা না করে আগে-পাছের কথা বাদ দিয়ে মাঝখান থেকে একটা লাইন অনেক সময়ই সম্পূর্ণ উলটো একটা অর্থ বহন করে। এজন্য আমি সবাইকে সবসময় কোন আয়াত কোট করা হলে তার আগের ও পরের মিনিমাম ৩/৪টা আয়াত পড়ার অনুরোধ করব। খুব ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই- ইসলাম গ্রহণের প্রথম শর্ত কালেমা। এই কালেমার (তায়্যেবা) এর বাংলা অর্থঃ
“আমি সাক্ষ দিচ্ছি- আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ্‌ নাই এবং মোহাম্মদ (সঃ) তাঁর রাসুল”
এই কথাটার একটা ছোট্ট অংশ হচ্ছে- “কোন ইলাহ্‌ নাই” ইংরেজিতে “There are no God!” কালেমার অংশ বিশেষ হওয়া সত্যেও কি ভয়ঙ্কর স্ববিরোধী কথা এই শব্দ কয়েকটাতে! রিতিমত নাস্তিকতা! এইভাবে কোট করাটাকে আপনি কী বলবেন?

শ্রদ্ধেয় শামীমা মিতু আপুও তেমনিভাবে কিছু কোরআনের আয়াত তুলে দিয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছেন- ইসলাম ধর্ম প্রচন্ড নারীবিদ্বেষী! এবং সব শেষে উনি “বোখারী শরীফ, ভলুম -২, বই-১৮, হাদিস নং-১৬১”-এর রেফারেন্স দিয়েছেন! [এখন আমি হাদিস শরীফ কই পাই? অনেক খুঁজে-টুঁজে একটা বোখারী শরীফ খুঁজে বের করেছি। সেখানে ওনার দেয়া রেফারেন্স অর্থাৎ ভলুম-২ এ কোন ১৮নং বই-ই নেই! ১৬১ নং হাদিসও এটা না! আমার পাওয়া বোখারী শরীফটির (১০খণ্ড একত্রে) ২য় খণ্ডের বিস্তৃতি ৯৫ থেকে ২৪৩ পেজ! এই বিশাল পেজে ডিউরশনে পাওয়া গেল ৩৩৬নং থেকে ১৩০৫নং হাদিস! ৯৬৯টি হাদিসের মধ্যে কোনটার কথা উনি বলেছেন আমি তা অনেক চেষ্টা করেও খুঁজে পাইনি! তাছাড়া হাদিসের ব্যাপারে স্বভাবতঃই সবার (বিশেষতঃ আমার) জ্ঞান একটু কম! তারচেয়েও বড় কথা হাদিস ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে “শানে নজূল” ও প্রেক্ষাপট খুবই গুরুত্বপূর্ণ! আমি নিতান্তই নাদান, তাই না পড়ে একটা ব্যাখ্যা করতে পারছি না… সরি!] ওনার দেয়া হাদিসের বক্তব্য ছিলঃ
“আমি দোজখও দেখলাম আর এমন ভয়ংকর দৃশ্য আমি আর দেখি নি। আমি দেখলাম অধিকাংশ দোজখবাসী হলো নারী। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হুজুর, কেন তা ? উত্তরে আল্লাহর হাবিব বললেন- তাদের অকৃতজ্ঞতার জন্য। আবার নবীকে জিজ্ঞেস করা হলো- নারীরা কি আল্লাহর প্রতি অকৃতজ্ঞ কি না। উত্তরে তিনি বললেন- নারীরা হলো তাদের স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ। তোমরা তাদের প্রতি সারা জীবন প্রীতিপূর্ন হলেও যদি একবার কোন কাজ কর যা তোমাদের স্ত্রীদের আশানুরূপ নয়, তাহলে তারা বলবে সারা জীবনেও তোমাদের কাছ থেকে ভাল কিছু পায়নি।”

এই হাদিস নিয়ে আমি তর্কে যাব না তার কারণটাও আগেই বলেছি। শুধু একটা জিনিস মনে মনে বলতে চাই- পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর আচরনের নাম “Gratitude”, “কৃতজ্ঞতাবোধ”; সেটা প্রত্যেকেরই থাকা আবশ্যক- একজন মুসলিম (সে নারীই হোক বা পুরুষ) এর তো বটেই। আর স্বাভাবিক ভাবেই “অকৃতজ্ঞতা” একটি ঘৃণিত অপরাধ! এই হাদিসটায় যদিও নারীকেই উদাহরণ দেয়া হয়েছে কিন্তু সহজ বাস্তবতা হচ্ছে নারী-পুরুষ যেই হোক না কেন, অকৃতজ্ঞ ব্যক্তি অবশ্যই শাস্তি প্রাপ্ত হবে। আর এখানে “স্ত্রীদের” যে আচরণের ঈঙ্গিত দেয়া হয়েছে তা এখনও প্রত্যেকটা স্ত্রীর মধ্যেই যে বিদ্যামান তা কোন নারী বুকে হাত দিয়ে অস্বীকার করতে পারবে? আমার অবাক লাগছে যে, এই হাদিসটাতেই যদি নারী না হয়ে এমন হতো যে- “কোন পুরুষ তার স্ত্রীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য দোজখবাসী হয়েছে” তাহলে কি উনি এই হাদিসটা রেফারেন্স করতেন কোনদিন? অথচ এমন হাদিসও কিন্তু খুঁজলে পাওয়া যাবে!

যাহোক, কোরআন থেকে দেয়া ওনার উদ্ধৃতিগুলোর ব্যাখ্যা নিচে আলোচনা করা হলোঃ

প্রথমতঃ উনি কোট করেছেন- “তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র, সুতরাং তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যে প্রকারে ইচ্ছা অবতীর্ন হও। সূরা-২: বাক্কারাহ,
আয়াত:২২৩”
-এটা ২২৩নং আয়াতের প্রথমাংশ। এর পরেও আরো তিনটি লাইন ছিলো! যাহোক, এই আয়াতের আগের আয়াতটা পড়লেই এই আয়াত সম্পর্কে স্পষ্ট একটা ধারনা পাওয়া যেতে পারে…
“২২২. আর আপনার কাছে জিজ্ঞেস করে হায়েয (মাসিক/ঋতু) সম্পর্কে। বলে দিন, এটা অশুচি। কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন উত্তম রূপে পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে, তখন গমন কর তাদের কাছে, যেভাবে আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তওবাকারী এবং অপিবত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন।
২২৩. তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর। আর নিজেদের জন্য আগামী দিনের ব্যবস্থা কর এবং আল্লাহ্‌কে ভয় করতে থাক। আর নিশ্চিতভাবে জেনে রাখ যে, আল্লাহ্‌র সাথে তোমাদেরকে সাক্ষাত করতেই হবে। আর যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সুসংবাদ জানিয়ে দাও।”

-২২২ নং আয়াত ব্যাখ্যার প্রয়োজন দেখিনা কারণ মেডিক্যাল সায়েন্সও এর পক্ষেই কথা বলে! তাছাড়া ওটা মিতু আপু কোটও করেন নি। তবে ২২৩নং ব্যাখ্যার দাবী রাখে। বলাই বাহুল্য, এখানে “শস্যক্ষেত্র” বলতে পুরুষের ‘সম্পত্তি’ নয় বরং ‘সম্পদ’ বা “প্রিয় বস্তু” (প্রিয়তমা!) অর্থে বোঝানো হয়েছে। কথা হলো “প্রিয়তমা”র উপমা হিসেবে “শস্যক্ষেত্র” কেন ব্যবহার করা হলো? “হিরা-চুনি-পান্না” এই জাতীয় কিছু বলতে পারতো!
কিন্তু খেয়াল করুন- ততকালীন সাধারণ আরবীয়দের কাছে হিরা-জহরতের চেয়েও “খেজুরের বাগান” বা “শস্য ক্ষেত্র” অনেক বেশী আকর্ষনীয় ছিল। তাছাড়া সন্তানকে যদি ফসলের সাথে তুলনা করা হয় স্ত্রীকে শস্যক্ষেত্রের সাথে তুলনাটাই বেশী যুক্তিযুক্ত! তবুও যদি বলে “শস্যক্ষেত্র” উপমাটাই আপত্তিকর তাহলে বলতে হয় কোরআনে নারী ও পুরুষকে একে অপরের “ভূষণ” অর্থাৎ, পোষাকের সাথেও তো তুলনা করেছে! সেটাও নিশ্চয়ই আপত্তিকর! এভাবে বিচার করলে ১৪শ’ বছর আগের প্রেক্ষাপটই আপত্তিকর!
আর “যে প্রকারে ইচ্ছা অবতীর্ন হও” কথাটা দিয়ে যৌন মিলনের বিভিন্ন (বৈধ) আসনের কথা বোঝানো হয়েছে। [কোরাআন-এর আলোকে যৌনমিলনের বিভিন্ন বৈধ আসন ও অন্যান্য নিয়ামাবলী নিয়ে আরো অনেক আয়াত বা হাদিসের ব্যাখ্যা টানা যেতো, সময়ের অভাবে সেদিকে যাচ্ছি না।]
এর মানে কিন্তু এই না যে কোরাআনে স্ত্রীকে একচেটিয়া ভোগের অধিকার দেয়া হয়েছে! বরং অপর এক আয়াত (২২৮) এর শেষাংশে বলা হয়েছে- “আর পুরুষদের যেমন স্ত্রীদের উপর অধিকার রয়েছে, তেমনি ভাবে স্ত্রীদেরও অধিকার রয়েছে পুরুষদের উপর নিয়ম অনুযায়ী।”
তাহলে নারীকে কিভাবে অসম্মানিত করা হয়েছে- একটু বলবেন কি?

দ্বিতীয়তঃ উনি কোট করেছেন-“তোমাদের আপন পুরুষ লোকের মধ্য হইতে দুইজন সাক্ষী রাখ। যদি দুইজন পুরুষ না পাওয়া যায়, তাহা হইলে একজন পুরুষ ও দুইজন স্ত্রীলোক। সূরা-২: বাক্কারাহ, আয়াত:২৮২”
-এটাও ২৮২নং আয়াতের মাঝখান থেকে তুলে দেয়া। পুরো আয়াতটা অনেক বড় বিধায় আর তুলে দিলাম না। মূলতঃ আয়াতটা ছিল লেন-দেন বিষয়ক এবং তার সারমর্ম হচ্ছে- কেউ যদি কারো কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করে তবে যেন তা লিখিত (অর্থাৎ, দলিল) রাখে। আর এব্যাপারেই প্রসঙ্গত দুইজন পুরুষ সাক্ষী রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে যদি দুইজন সাক্ষী না পাওয়া যায় তবে একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষী… এর কারণও ব্যাখ্যা করা হয়েছে এভাবে- একজন ভুলে গেলে অন্যজন তাকে স্মরণ করিয়ে দেবে। আয়াতের মধ্যেই সব বলা আছে! আমি আর কী বলব?

এছাড়াও উনি কোট করেছেন সূরা-৪: নিসা, আয়াত:১৫-১৭ নং আয়াতগুলো। [সেগুলো আবার একসাথে মিলিয়ে লেখা! পড়ার সুবিদার্থে আমি আয়াতগুলো আলাদা করে লিখলামঃ]
“১৫. তোমাদের মধ্যে যে সকল নারী ব্যাভিচার করিবে, তোমরা তাহাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্যেকার চারজনকে সাক্ষী রাখ, যদি তাহারা সাক্ষ্য দেয়, তবে তোমরা তাহাদিগকে (সংশ্লিষ্টদেরকে) সেই সময় পর্যন্ত গৃহে আবদ্ধ করিয়া রাখিবে যে পর্যন্ত না মৃত্যু তাহাদের সমাপ্তি ঘটায় কিংবা আল্লাহ তাহাদের জন্য কোন পৃথক পথ বাহির করেন।
১৬. তোমাদের মধ্যেকার যে দুইজন ব্যাভিচার করিবে, তোমরা সেই দুইজনকে শাস্তি দিও। অত:পর যদি তাহারা(উভয়ে) তওবা করে এবং (নিজেদের) সংশোধন করে তবে তাহাদের নিন্দাবাদ হইতে বিরত রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল দয়ালু।
১৭. নিশ্চয়ই যারা অজ্ঞতাবশত: দোষের কাজ করিয়া বসে, অতঃপর অল্পকাল মধ্যে তওবা করে, তাহাদের তওবা কবুল করা আল্লাহর দায়িত্ব, আল্লাহ তাহাদের প্রতি সুদৃষ্টি করিয়া থাকেন, আল্লাহ মহাজ্ঞানী ও মহাবিজ্ঞানী। ”

[বিঃদ্রঃ () এর ভেতরের গুলো আমার বাংলা কোরআনে ছিল যা উনি লিখেননি বা ওনার রেফারেন্স কোরআনটিতে ছিল না]
– তো এই তিনটি আয়াতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে ব্যভিচারী নারী ও পুরুষ (সাক্ষী প্রাপ্তি সাপেক্ষে) “উভয়”কেই একই শাস্তির বিধান দেয়া হয়েছে। (নইলে “দুইজন” শব্দটা আসে কোথা থেকে?) তাহলে নারীর প্রতি অবিচার করা হলো কিভাবে? নাকি ১৫নং আয়াতটার শুরু হয়েছে “নারী” শব্দটা দিয়ে এটাই দোষের কারণ? বরং ১৭নং আয়াতে অনুতপ্ত ও ক্ষমাপ্রার্থীদের প্রতি সদয় হবারও ঈঙ্গিত দেয়া হয়েছে যা মানবতারই নিদর্শন প্রকাশ করে!

উনি উদ্ধৃতি দিয়েছেন সূরা-৪:নিসা, আয়াত:৩৪ “পুরুষগণ নারীদিগের উপর কর্তৃত্বশীল, এই কারনে যে, আল্লাহ উহাদের কাহাকেও কাহারও উপর মর্যাদা প্রদান করিয়াছেন, এবং পুরুষেরা স্বীয় মাল হইতে তাহাদের অর্থ ব্যয় করিয়াছে, ফলে পূন্যবান রমনীগন অনুগত থাকে, অজ্ঞাতেও তত্ত্বাবধান করে, আল্লাহর তত্ত্বাবধানের মধ্যে এবং যাহাদের অবাধ্যতার সম্ভাবনা দেখিতে পাও, তাহাদিগকে উপদেশ দাও, এবং তাহাদের সহিত শয্যা বন্ধ কর এবং তাহাদিগকে সংযতভাবে প্রহার কর, তারপর যদি তোমাদের নির্দেশ অনুযায়ী চলিতে থাকে, তাহা হইলে তাহাদের উপর নির্যাতনের পন্থা অবলম্বন করিও না, নিশ্চয়ই আল্লাহ সুউচ্চ মর্যাদাশীল মহান।”

– এই আয়াতেও আমি নারী বিদ্বেষী কিছু খুঁজে পাইনি। তবে জানি ওনার খটকা লেগেছে কোন জায়গাগুলোতে। আমি সেগুলো ব্যাখ্যা দেবার চেষ্টা করছি-
প্রথম লাইনে বলা হয়েছে নারীদের ওপর পুরুষের কর্তৃত্ব দেয়া হয়েছে কারণ নারীর জন্য (পিছনে) পুরুষের অর্থ ব্যয় হয়। আমি প্রথমেই বলে নিয়েছি কোন জিনিসকে বিচার করতে গেলে স্থান-কাল-পাত্রটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ! এই লাইনটাতেও তার ব্যতিক্রম নয়। কারণ আজকের দিনে যদি এমন দেখা যায় যে, কোন পরিবারের স্ত্রী রোজগার করে আর স্বামী ঘরে বসে বসে খায় এবং সেক্ষেত্রেও স্বামী স্ত্রীর ওপর কর্তৃত্ব করছে, তাহলে ওপরের লাইনটা হয়তো প্রযোজ্য হয় না। কিন্তু স্থানটা ছিল আরব, কালটা ছিল আজ থেকে ১৪শ’ বছর আগের মধ্যযুগ আর পাত্র/পাত্রিরা ছিল ততকালীন আরববাসী! সে সময় পুরুষরাই নারীদের ভরন পোষণ করতো। আর এটাই বোধহয় খুব স্বাভাবিক যে, একটা পরিবারের যিনি কর্তা (যেমনঃ বাবা) তিনিই ঐ পরিবারের মা-ছেলে-মেয়ে এমনকি কাজের লোক সহ সবার গার্ডিয়ান! কাজেই এক্ষেত্রে স্বামীকে (গার্ডিয়ান হিসেবে) কর্তৃত্ব দেয়াটা দোষের কিছু দেখি না! তবে কর্তৃত্ব মানেই কিন্তু স্বেচ্ছাচারী নয়! বরং তাদেরকে দায়ীত্ব দেয়া হয়েছে “পোষ্যদের” দেখভাল করতে… যেটা পরের লাইনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে “এবং যাহাদের অবাধ্যতার সম্ভাবনা দেখিতে পাও, তাহাদিগকে উপদেশ দাও”, উপদেশে কাজ না হলে শয্যা ত্যাগ ও “সংযতভাবে” প্রহার (অর্থাৎ, শাস্তি) দেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে এবং সাথে সাথে আবার সতর্কও করে দেয়া হয়েছে যখন তারা সঠিক পথে চলবে তখন যেন “তাহাদের উপর নির্যাতনের পন্থা অবলম্বন করিও না”!
প্রসঙ্গত একটা কথা বলে রাখি ছোটবেলায় দুষ্টুমী বা অকাজ করে বসলে বাবার অনুপস্থিতিতে মা আমাদের এরূপ শাষণ করেছে যা সব বাবা-মাই সন্তানদের করে। এমন কী এখনও আমার মা আমার বিভিন্ন বিষয়ে কর্তৃত্ব ফলায়! আমি কী তাহলে বলব এখানে একজন নারী (আমার মা) একজন পুরুষ (আমার ওপর)-এর ওপর কর্তৃত্ব ফলাচ্ছে! -নিশ্চয়ই না। আসলে সঠিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে একজন অভিবাবক তার পোষ্যকে শাষণের অধিকার রাখেন। কোরআনেও এর ব্যতিক্রম কিছু বলা হয়নি। একজন পুরুষকে অভিবাবক হিসেবেই (পোষ্য) নারীর ওপর অধিকার এবং দায়িত্ব দেয়া হয়েছে… আবার অন্য আরেক জায়গায় আবার “মায়ের পায়র নিচে সন্তানের বেহেস্ত” বা “আল্লাহর পর কাউকে বড় বলে মানতে হলে ৩বার মা, ৪র্থ বার বাবার কথা” বলা হয়েছে! নারী কি সম্মানিত হয়নি এখানে?

বিবাহের ব্যাপারে উনি কোট করেছেন সূরা-৪: নিসা, আয়াত:৩- “নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী দুই-দুই, তিন-তিন ও চার-চার রমনীকে বিবাহ কর, কিন্তু তোমরা যদি আশংকা কর যে, সমতা রক্ষা করতে পারিবে না, তদবস্থায় একই স্ত্রী কিংবা তোমাদের অধীনস্ত দাসী; ইহা অবিচার না হওয়ারই অতি নিকটতর।”
-এই জায়গাটায় রিতিমত “ইয়োলো জার্নালিজম” হয়েছে! উপরের গুলো যা হোক একটা আয়াতের অংশ বিশেষ ছিল, কিন্তু এটা রিতিমত একটা লাইনেরও অংশ বিশেষ যার মূল অর্থ পুরোই বিনিষ্ট হয়েছে! (এরূপ মিথ্যাচারের কারণ কি? -মিতু আপুর কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চাই!) বাক্য ব্যয় না করে আমি মূল আয়াতটি এর আগের আয়াত সহ তুলে দিচ্ছি-
“২. এতীমদেরকে তাদের সম্পদ বুঝিয়ে দাও। খারাপ মালামালের সাথে ভালো মালামালের অদল-বদল করো না। আর তাদের ধন-সম্পদ নিজেদের ধন-সম্পদের সাথে সংমিশ্রিত করো না। নিশ্চয়ই এটা বড়ই মন্দ কাজ।
৩. আর যদি তোমরা ভয় কর যে, এতীম মেয়েদের হক যথাথভাবে পুরণ করতে পারবে না, তবে সেসব মেয়েদের মধ্যে থেকে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায় সংগত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে, একটিই অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদেরকে; এতেই
পক্ষপাতিত্বে জড়িত না হওয়ার অধিকতর সম্ভাবনা।”

-বুঝতেই পারছেন কোরআনে ইচ্ছামত বিয়ে করার কথা নয় বরং “ন্যায় সংগত আচরন” করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জানি খটকাটা কোথায়। খটকা হচ্ছে চার বিয়ের অনুমতি কেন? এই বিষয়ে ধর্মীয় ও বিজ্ঞানী মতবাদ দিলে হাজার পাতা লেখা যাবে! অতো সময় কই? জাস্ট ২/১টা হিন্টস দেই।
একাধিক বিয়ের অনুমতি ইসলাম শুধু পুরুষকেই নয় বরং নারীকেও দিয়েছে। তবে হ্যাঁ, পুরুষকে যেমন একই সাথে চার বিবি (শর্ত স্বাপেক্ষে) রাখার অনুমতি দিয়েছে তেমনটা নারীকে দেয়া হয়নি। এর কারণ, খুব সহজ! সেটা হলো- পুরুষকে চার বিয়ের অনুমতি “ফুর্তি” করার জন্য দেয়া হয়নি বরং সন্তান ধারন বা অন্য কোন সমস্যার জন্য প্রথম স্ত্রী অক্ষম হলে বা অন্য কোন বৈষয়িক স্বার্থে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি এবং “ন্যায় সংগত আচরন” করার গ্যারান্টি দিতে পারলেই কেবল ২য় বা ৩য়… (বানিয়ে বলছি না! কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে এব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে… সেই সাথে আরেকটা বিষয় মাথায় রাখা দরকার- তৎকালিন সময়ে নারীরা ছিল শুধুই ভোগ্য পণ্য! মেয়ে শিশুদের জ্যান্ত মাটিতে পুতে ফেলা হতো অথবা বাজারে গরু-ছাগলের মত বিক্রি করে দেয়া হতো। অনেক রাজা বাদশারা যখন হাজার হাজার নারী দিয়ে “হারেম” বানিয়ে আমোদ-ফুর্তি করতো, অনেক বৃত্তশালীরা একাধিক দাসী রেখে নির্বিচারে ভোগ করতো সেই সময়ে ইসলাম এবং কেবল মাত্র ইসলামই নারীকে দাসী নয় বরং যথাযথ দেনমোহর দিয়ে স্ত্রীর মর্যাদা দান করতে নির্দেশ দিয়েছে! ইতিহাসে অনেক রাজা বাদশার রঙ্গলীলার হাজারও রসালো গল্প আছে। আপনি ইতিহাস ঘেটে রাসুল (সঃ) বা তার কোন অনুসারীর এরকম “হারেমখানা”র নজির দেখাতে পারবেন কি? আরব-এর বাদশা তো ওনারাও ছিলেন!)
হাজার হাজার দাসীর একজন হবার চেয়ে ৪জন যথাযথ “সম্মানপ্রাপ্ত স্ত্রী”র একজন হওয়া কি ততকালীন আরব্য নারীদের জন্য সম্মানতর ছিল না?
অপরদিকে ইসলামে, স্বামী অক্ষম হলে স্ত্রীও তাকে তালাক দেবার ক্ষমতা রাখে! এখন কথা হলো নারী কেন একই সাথে ৪ স্বামী রাখতে পারবে না? এখানে বৈজ্ঞানিক ভাবেই বলা যায়- একজন নারী একাধিক স্বামীর সাথে বসবাস করলে সন্তানের পিতৃত্বজনিত সমস্যার সমাধান দেয়া যায় না। একজন পুরুষ একই বছরে একাধিক নারীকে সন্তান দিতে পারলেও একজন নারী একই বছরে একাধিক পুরুষকে সন্তান উপহার দিতে পারে না… এসব হাবিজাবি যুক্তি তো আছেই! তাছাড়া প্রাকৃতিক নিয়মেই নারীদের একাধিক “পুরুষ সহবাসে” কোন প্রজননগত সুবিধা তৈরী হয় না! এবিষয়ে আরো জানতে চাইলে আপনারা “অভিজিৎ রায়”-এর মনোজীববৈজ্ঞানিক গবেষণা মূলক “ভালোবাসা কারে কয়” বইটি পড়তে পারেন। নাম শুনেই বুঝতে পারছেন আমি কোন “কাঠ মোল্লা”র বইয়ের রেফারেন্স দিচ্ছি না। যারা “অভিজিৎ রায়”কে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না বা ওনার নাম শুনেন নি তাদের জন্য বলছি- উনি অত্যন্ত বিজ্ঞান মনষ্ক, কঠোর যুক্তিবাদি এবং ভয়াবহ রকমের নাস্তিক একজন মানুষ! এছাড়াও উনি “মুক্তমনা” [http://mukto-mona.com/] ব্লগের এডমিন। বই সংক্রান্ত তথ্য ছাড়াও নিখাদ “মুক্তমন চর্চা”র জন্য হলেও ব্লগটিতে ঘুরে আসার অনুরোধ রইলো…

ওনার দেয়া কোরআন-এর শেষ রেফারেন্সটা হলো সূরা-৪:নিসা, আয়াত:১২৯-১৩০।
“তোমরা কখনো ভার্যাগনের মধ্যে সমতা রক্ষা করতে পারবে না যদিও লালায়িত হও, তবে সামগ্রিকভাবে ঝুকিয়া পড়িও না যে অপর স্ত্রীকে ঝুলানবৎ করিয়া রাখিবে এবং যদি সংশোধন কর এবং উভয়ে যদি পৃথক হইয়া যায়, তবে আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাকারী দয়ালু। যদি উভয়ে পৃথক হইয়া যায় তবে আল্লাহ আপন উদারতায় প্রত্যেককে অমুখাপেক্ষী করিয়া দিবেন।”
– এই আয়াত ২টা উনি যেভাবে লিখেছেন তার অর্থ আমি নিজেই ভালো বুঝি নাই! (মনে হলো ‘গুগল ট্রান্সলেট’ এর অনুবাদ পড়তেছি!) তাই আমি আমার রেফারেন্স কোরআন থেকে হুবহু তুলে দিলাম। আশা করি সবাই ক্লীয়ার বুঝবেন। (সেই সাথে অনুরোধ করবো সূরা-৪:নিসা, আয়াত:১২৪,১২৮ ও অন্যান্য আয়াতগুলোও একটু পড়ে দেখবেন সেখানে কি চমৎকার ভাবে সাম্যের ও ইনসাফ-এর গান গাওয়া হয়েছে! জায়গার অভাবে সেগুলো আর দিলাম না…)
“১২৯. তোমরা কখনও কখনও স্ত্রীদের মধ্যে সমতা রক্ষা করতে পারবে না, যদিও এর আকাঙ্খী হও। অতএব, তোমরা একজনের প্রতি সম্পূর্ণ ঝুকেও পড়ো না এবং অপরজনেক ফেলেও রেখো না দোদুল্যমান অবস্থায়। যদি সংশোধন কর এবং খোদাভীরু হও, তবে আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, করুণাময়।
১৩০. যদি উভয়েই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে আল্লাহ্ স্বীয় প্রশস্ততা দ্বারা প্রত্যেককে অমুখাপেক্ষী করে দিবেন। আল্লাহ্ সুপ্রশস্ত, প্রজ্ঞাময়।”

– আমার স্বল্প আইকিউ এই দুই আয়াতে নারীবিদ্বেষীতা নয় বরং অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে (দুই সতিন) নারীর প্রতি ইনসাফ-এর নজির দেখেছে! আপনারা কেউ ভিন্ন কিছু দেখে থাকলে আমাকে একটু চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেবেন প্লীজ…

শামীমা মিতু আপু! হ্যাঁ আপনাকেই বলছি- আপনার উত্থাপিত আয়াতের ব্যাখ্যা তো আমি দিলাম। মার্জিত ভাষায় এবার আপনার কথার ও আচরনের ব্যাখ্যা তো দিন!

আরো অনেক কথা বলার ছিল! কিন্তু যারা এখনও চলে না গিয়ে এতো কষ্ট করে এতো বড় লেখা পড়েছেন তাদের আর বিরক্তির কারণ হতে চাই না…
একটা চ্যালেঞ্জ দেবার ইচ্ছা ছিল (যা ঐ পোস্টের কমেন্টে ঈঙ্গিত করেছিলাম)।
[পরবর্তী অংশটি শুধুমাত্র অতি ধৈর্যশীলদের জন্য]

“চ্যালেঞ্জ”টা সেই সব স্বঘোষিত নাস্তিকদের জন্য যারা কথায় কথায় কোরআন-হাদিস এর মৌলিকতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন…
আপনি আল্লাহ্‌ তো দূরে থাক কোন ঈশ্বরেই বিশ্বাস করেন না। প্রশ্ন ওঠে তাহলে কোরআন কার লেখা? নিশ্চয়ই বলবেন- মুহাম্মদ-এর!
ওকে ফাইন। আপনাদের ভাষ্য মতেই বলি- আজ থেকে ১৪শ’ বছর আগে এক অন্ধকারের যুগে আরবের এক অক্ষর জ্ঞানহীন অবৈজ্ঞানিক লোক ত্রিশ পারার একটা বিশাল গ্রন্থ লিখে ফেলল যার কিছু তথ্য কাকতালীয়(!) ভাবে আজও অনেক বৈজ্ঞানিক গবেষনার সাথে মিলে যায়! যেটাকে আজও সারা পৃথিবীর এক-চতুর্মাংশ লোক একটি পূর্ণাংগ “জীবন আদর্শ” হিসাবে মানে! এই একবিংশ শতাব্দিতেও প্রতিদিন আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত বিশ্বের হাজার হাজার মানুষ নতুন করে এই পুস্তকের আলোকে জীবন গঠণের সিদ্ধান্ত নেয়!

কি আছে এই পুস্তকটায়? এই প্রশ্নের উত্তর আপনার কাছে চাচ্ছি না। কারণ, আপনার চোখে- এসব ভন্ডামী, সব ভুলে ভরা…

আপনি শুধু আমার একটা চ্যালেঞ্জ নিন-
আপনি তো আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত, সম্পূর্ণ বোধজ্ঞান সম্পন্ন, বিজ্ঞান মনস্ক, যুক্তিবাদী, মুক্ত বুদ্ধির একজন সক্ষম ও পূর্ণাংগ মানুষ! আপনি এবং আপনার মত সকল জ্ঞানী-গুণিদের নিয়ে সব্বাই মিলে আমাকে একটা “জীবন আদর্শ” বা “জীবন দর্শন” বা “নীতি শ্রাস্ত্র” বা… লিখে দিন, যাতে কোন ধর্ম গ্রন্থের গোড়ামী থাকবে না, নারীবিদ্বেষ বা পুরুষবিদ্বেষ থাকবে না, ধনী গরিবের শ্রেণী বৈষম্য থাকবে না, সমাজের কোন কুসংস্কার ঠাঁই পাবে না, কোন অনাচার-অবিচার মাথা তুলতে পারবে না, কেউ হবে না লাঞ্ছিত-শোষিত…
যে পুস্তক অনুসরন করলে প্রজন্মের পর প্রজন্মে বইবে সাম্য আর সুবিচারের নির্মল সুবাতাস… যেখানে পাওয়া যাবে সকল সমস্যার বৈজ্ঞানিক সমাধান… মিলবে আলোর দিশা, বইবে মনুষত্বের জোয়ার!!!
…দিন না আমায় তেমন একটা কিছু, যা ফলো করলে সমাজ হয়ে উঠবে স্নিগ্ধ সুনির্মল… ঠিক আপনার প্রত্যাশার মত!
আমি কথা দিচ্ছি- ১৪শ’ বছর অপেক্ষা করবো না, আপনার থিওরী যদি মাত্র তিনটা প্রজন্মকে কন্ট্রোল করতে পারে- আমি নির্দিধায় কোরআনকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে আপনার পিছু হাঁটবো…
চ্যালেঞ্জটা তোলা রইলো- প্রয়োজনে স্ক্রীণ শট নিয়ে রাখেন, নয়তো পরে যদি অস্বীকার করি!

– সফিক এহসান
১৪/৭/২০১৩
(রাত ৯:০০ ঘটিকা)

৬৩ thoughts on ““আল্লামা শফির বক্তব্য এবং আমার ধর্ম বিরোধীতা” শিরোনামের ব্লগটির প্রত্যুত্তর…

  1. আরজ আলী মাতব্বরের প্রশ্নের
    আরজ আলী মাতব্বরের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে শামায়েল নামে একজন বিদেশী একটা বই লিখেছেন ।আমি পড়ে দেখেছি উনি বৈজ্ঞানিকভাবে সব প্রশ্ন গুলির জবাব দিতে না পারলেও চেষ্টা করেছেন এবং কিছুটা দিয়েছেন ও।আপনিও জবাব দিছেন বা চেষ্টা করেছেন সে জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।তবে নাস্তিক্যবাদীদের প্রশ্নের জবাব দিতে গেলে কোরান ও বিজ্ঞান উভয় বিষয়ে ব্যাপক ধারনা থাকা আবশ্যক ।

    “অনেকেই ব্যক্তি স্বার্থে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের এক-দুইটা বিশেষ লাইন কোট করেন। এটা একটা ভয়াবহ রকমের চালাকি! কারণ, স্থান-কাল-পাত্র বিচার করা খুব খুব খুবই জরুরী! প্রেক্ষাপট বর্ণনা না করে আগে-পাছের কথা বাদ দিয়ে মাঝখান থেকে একটা লাইন অনেক সময়ই সম্পূর্ণ উলটো একটা অর্থ বহন করে”।
    — সহমত
    আমিও ধর্ম বিশেষজ্ঞ নই এরপর ও বলছি, আল কোরআনেই নারীকে সর্বচ্চো সম্মান দেয়া হয়েছে ।

  2. অনেকেই ব্যক্তি স্বার্থে

    অনেকেই ব্যক্তি স্বার্থে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের এক-দুইটা বিশেষ লাইন কোট করেন। এটা একটা ভয়াবহ রকমের চালাকি! কারণ, স্থান-কাল-পাত্র বিচার করা খুব খুব খুবই জরুরী! প্রেক্ষাপট বর্ণনা না করে আগে-পাছের কথা বাদ দিয়ে মাঝখান থেকে একটা লাইন অনেক সময়ই সম্পূর্ণ উলটো একটা অর্থ বহন করে

    পূর্ণ সহমত ভাই, আর অসাধারন হইছে :রকঅন: :রকঅন:

  3. এই মন্তব্য আমি মূল লেখার
    এই মন্তব্য আমি মূল লেখার লেখিকা শামীমা মিতুকে উদ্দেশ্য করে দিছি… তার মূল লেখাতেও এই মন্তব্য দিছি, এখানেও আবার দিলাম… যেখান থেকে তিনি দেখেন আর কি…

    আরে বাপরে, উদ্ধৃতিগুলো দেখে তো মনে হচ্ছে ইসলাম নারীদের দমনেই সৃষ্টি হইছে। এখন একটা জিনিস বুঝতে পারছি না, ইসলাম যদি নারীদের ব্যপারে ভুল করে থাকে তবে তার সমাধান কে দিবে! নারীদের জন্য সমাজ কি কি করবে, কোন কোন ক্ষেত্রে তার পরিবর্তন করতে হবে সেটা কে নির্ধারন করে দিবে! অনেক ভেবে দেখলাম, দুইভাবেই নির্ধারন করা যায়।

    পদ্ধতি ১. একজন নিনিষ স্কেলে ৮-১০ পাওয়া বুদ্ধিমান মুক্তমনা নাস্তিক এটা নির্ধারন করবে। ধরলাম শামীমা মিতুই সেই বহু কাংখিত নির্ধারক। কিন্তু শামীমা মিতুই যদি এটা নির্ধারন করে দেন তবে তিনি আবার সেই ধর্মীয় ষ্টাইলে নবী হয়ে গেলেন না! অর্থাৎ তিনি একটা পথ বাতলে দিলেন আর সব মুক্তমনারা তাকে অনুসরন করা শুরু করল। দেখা গেল অন্য একজন মুক্তমনা শামীমা মিতুর সাথে একমত না হয়েও তার দেয়া ফতোয়া মেনে নিতে বাধ্য হলেন। অর্থাৎ শামীমা মিতু তখন একজন মৌলবাদি নাস্তিক। যিনি অন্য আরেকজন নাস্তিকের ওপর ফতোয়া দিয়ে তার স্বিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন। এখন ইসলামের ১৪ গুষ্ঠি উদ্ধার কইরা যদি আবার কতগুলা মৌলবাদি ফতোয়াবাজ নাস্তিক সমাজে ফিরে আসে তাহলে আর লাভটা হল কি! এই পদ্ধতিতে ধর্মের মতই আবার বিভিন্ন নীতি নির্ধারনের জন্য নবী, পুরোহিত, কাঠমোল্লারা ফিরে আসবে, তবে পার্থক্য হল আগে তাদের ধর্ম ছিল ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রীষ্টান। এখন ধর্ম হবে নাস্তিকতা। তাইলে এই পুরান মদ নতুন বোতলে খাইয়া লাভ কি!

    পদ্ধতি ২. দ্বিতীয় পদ্ধতি হল সমাজের সবাই যার যার নিজের বিবেক বুদ্ধি অনুযায়ী চলবে। নবী পদ্ধতি আনা যাবে না। সমাজে নারী পুরুষ সবাই স্বাধীন। একজন গায়ের জোড়ে নারীকে ধর্ষন করতে থাকবে, কিংবা একজন সমকামী তার থেকে দুর্বল একটু মেয়েলী চেহারার এক ছেলেকে ধরে ধর্ষন করবে। এখন আপনি যদি তাকে গিয়ে বলেন কাজটা ঠিক না তখন সে বলবে কাজটা ঠিক। এখন আপনি তার কথার প্রতিবাদ করতে চাইলে কিভাবে বুঝাবেন যে ধর্ষন একটা অপরাধ। ধার্মিকরা ধর্মগ্রন্থ টাইনা আইনা সেখান থেকে লেখা বাইর কইরা বলতে পারে যে সেইখানে লেখা আছে এইটা অপরাধ, কিন্তু যার ধর্মগ্রন্থ নেই সে কিসের ভিত্তিতে বিচার করবেন যে ধর্ষন কিংবা চুরি একটা খারাপ কাজ। ও আচ্ছা, আপনি বিবেককে প্রশ্ন করতে বলবেন! কিন্তু ধর্ষক যদি বলে সেও তার নিজের বিবেকরে প্রশ্ন করে বুঝতে পারছে ধর্ষন একটা ভালো কাজ। তাইলে আপনি কি বলবেন! কে সঠিক আর কে ভুল এটা নির্ধারন করে দিবে কে!!! রাষ্ট্র দিবে! তাইলে তখন আপনে রাষ্ট্রধর্মের আওতায় পরে গেলেন। রাষ্ট্রের নিয়ম কানুন গুলা যারা নির্ধারন করবে তারা তখন আবার নবি হয়ে গেল। সোজা কথায় আপনি ধর্ম দিয়ে বের হইতে পারতেছেন না। বের হওয়ার কোন পথ থাকলে বলেন।

    ফাইনাল্লি বুঝলাম, ইসলাম নারীদের খুবই অবহেলিত করে রেখেছিল। আপনি যেহেতু খুব বুদ্ধিমতি তাই আপনি সেইটা বুঝতে পারছেন। কিন্তু আপনার এত বুদ্ধির মধ্যেও এইটা বুদ্ধি কইরা বাইর করতে পারছেন না যে ইসলামের থেকে ভালভাবে কিভাবে নারীকে অধিকার দেয়া যায়। তাই আপনার সব বুদ্ধি ইসলামকে দোষ দেয়া পর্যন্ত থেমে থাকছে। সেটা থেকে বের হয়ে ভাল কিছু বের করতে পারছে না। তাইলে বুঝলাম, ইসলাম খুবই নারীবিদ্দেসী একটা ধর্ম যা অন্ততপক্ষ নারী ও পুরুষদের চলাফেরা নিয়ে কিছু খারাপ নিয়মকানুন দিছে। কিন্তু আপনারা যেহেতু সেই খারাপ নিয়ম কানুন গুলার চেয়ে ভাল কোন পথ বের করতে পারেন নাই তাই বর্তমানে বাজারে এইটাই সেরা। যদি অসংলগ্নভাবে এইরকম ধর্মের সমালোচনা না কইরা পরিপূর্নভাবে ধর্মীয় পদ্ধতির বাইরে গিয়ে কোন সমাধান দিতে পারেন তাইলে বড় কথা বইলেন। সমাধান দিতে না পারলে ভুল ধইরা লাভটা কি। যত্তসব বালছাল পোষ্ট। ইসলাম ভালনা এইটা বইলাই খালাস, তাইলে ভাল কোনটা সেইটা তো দেখাইয়া দিবেন। আবার যদি দেখাইয়া দেন তাইলে কিন্তু আপনে নবি হইয়া যাইবেন, কারন আপনে তখন একটা নতুন পথের ঠিকানা দিছেন। ধর্ম দিয়া বের হইতে পারলেন না। যদি আমার নিজের বুদ্ধিতে চলতে বলেন, তাইলে কিন্তু আমি ধর্ষন করা শুরু করমু, তখন যদি বলেন কাজটা ভাল না তাইলে আমি জানতে চামু কাজটা ভাল না খারাপ তা নির্ধারনটা করবে কে। সবাই তো নিজের বিবেক অনুযায়ী চলবে। আমিও একজন মুক্তমনা, আমার মন বলছে ধর্ষন একটা মহৎ কাজ। আপনে কিভাবে প্রমান করবেন ধর্ষন একটা খারাপ কাজ। আপনে বিশ্বাস করেন ধর্ষন খারাপ, তাই বলে সেটা তো খারাপ নাও হতে পারে। আপনার কাছে একজন বিচার দিছে তার ওপরে কেউ হামলা করে যৌন নির্যাতন করছে, আবার আমি বলতেছি তাকে দেখে আমার এমন মনে হইছিল যে আমি নির্যাতন না করে থাকতে পারিনি, তাই আমার সামনে আসাটাই তার ভুল হইছে। এখন দুইজনের মধ্যে কার কথার মূল্য আপনি দিবেন!!! ওয়েল কোনটার মূল্য দিবেন সেটা নির্ধারনের জন্য আপনে একটা বই লিখবেন যেখানে সব প্রশ্নের উত্তর থাকবে। সেইটা কি তাইলে আবার ধর্মগ্রন্থের মত হয়ে গেল না! কোনভাবেই তো ধর্মের বাইরের কিছু আপনারা দিতে পারছেন না। তাইলে ধর্মের সমালোচনা কইরা এইসব বালছাল লেখার মানে কি!

    আমার আউল ফাউল কথা শুইনা জামাতী, ছাগু, বিম্পি, লীগ, বাম যে ট্যগ মন চায় দেন। আপনার ট্যগের চিন্তা কইরা আমি চলিনা। তবে আমার নিম্নমানের প্রশ্নগুলার উচ্চমানের কিছু উত্তর দিয়া আমার মুখটা বন্ধ কইরা দিবেন বলে আশা করছি।

  4. আপনার বিশ্লেষণধর্মী পোস্টটির
    আপনার বিশ্লেষণধর্মী পোস্টটির জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
    তবে এখানে কিছু অংশ নিয়ে আমার দ্বিমত আছে। প্রথমেই বলি আপনি কোরআনের বিভিন্ন অংশ ব্যাখ্যায় বলেছেন স্থান, কাল, পাত্র বিবেচনা করে নেওয়া উচিত। এরসাথে আপনি আরবের ততকালীন অবস্থার উদাহরণ টেনে শষ্যক্ষেত্র ও দাসী গ্রহনের স্বপক্ষে বিস্তৃত বর্নণা দিলেন। আপনি নিশ্চই জানেন কোরআনকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ ধরা হয়। এখন কোরআনের কিছু অংশ যদি ততকালীন প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে বলা হয়ে থাকে তবে তা তো বর্তমান সময়ে অন্ধভাবে অনুসরণের প্রশ্ন আসে না। ‘শষ্যক্ষেত্র’ শব্দটির ক্ষেত্রেই ধরা যাক। সাধারণ মানুষ কি শষ্যক্ষেত্র শব্দটির এই অন্তর্নিহিত অর্থ ধরত্তে পারবে? তারা যখন এই অর্থ ধরতে পারে না তখন সাধারণ মেয়েদের কি এই কোরআনের দোহাই দিয়ে শষ্যক্কেত্রের মত সম্পত্তি মনে করে ভোগ করা হয় না? এই প্রসঙ্গে আপনি হয়ত বলে থাকবেন এটা কোরআনের অর্থ বোঝার ভুল, কোরআনের ভুল তো নয়। কিন্তু কোরআন ততকালীন প্রেক্ষাপটে এই শব্দ ব্যবহার করে থাকলে আজকের প্রেক্ষাপট থেকে তো এর পরিবর্তিত শব্দ ব্যবহার করা উচিত। এক্ষেত্রে আপনার দেওয়া যুক্তি অবশ্যই সর্বকালের কিতাবের উপমা থেকে কোরআনকে সরিয়ে দেয়।
    এরপরের প্রসঙ্গঅ দাসী গ্রহন। এখানেও আপনি যথেশট ভাল যুক্তি দেখিয়েছেন। কিন্তু আমার প্রশ্ন যদি আরবের তখনকার অবস্থার সাপেক্ষে এটি বলা হয়ে থাকে তবে আজকের দিনে কি এই অংশ ( কেবল দাসী গ্রহনের অংশ ) বাদ দিয়ে কোরআন অনুসরণ করা উচিত নয়?
    আমি আপনার মত ধৈর্যশীল নই বলে বিস্তৃত ব্যাখ্যায় না গিয়ে সংক্ষেপে একটি সারপ্রশ্ন করি- আপনি কোরআনের অনেক অংশের অন্তর্নিহিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু আপনার কি একবারও মনে হয় নি কোরআনের এরকম উক্তিগুলো নারীবিদ্বাষী না হলেও নারী অবমাননায় যথেষ্ট সহায়ক? কারণ আপনি শিক্ষিত-সুশীল এর একটি উন্নত অর্থ বের করছেন আবার সফির মত আল্লামা-হুজুরেরা এর আরেক অর্থ বের করছেন। কোরআনের এই অস্পষ্টতার সুযোগ ধরে কোরআনকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা যায় যেটা অবশ্যই নারী স্বাধীনতার পরিপন্থি।
    এখানে অতিরিক্ত কিছু কথা বলি। ব্যক্তিগতভাবে আমি ধর্মেবিশ্বাসী হলেও নারী স্বাধীনতায় অধিক্ক বিশ্বাসী। ধর্ম যদি নারী শোষনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবার সুযোগ রাখে তবে আমার মতে ধর্মের সেই অংশকে আলাদা রাখাই ভাল। ধর্মগ্রন্থের স্পষ্ট ভাল দিকগুলো আমরা অবশ্যই গ্রহন করব, কিন্তু গোঁড়ামী করে অন্ধ অনুকরণ আশা করি না।

    1. ইয়েস স্যর, আপনার কথা অনুযায়ী
      ইয়েস স্যর, আপনার কথা অনুযায়ী কোরআন খুবই ভুলে ভরা একটা গ্রন্থ। তাহলে এখন শুদ্ধ করে একটা গ্রন্থ বের করা দরকার। সেই গ্রন্থ আবার আরেকটা ধর্মের উদ্ভব ঘটাবে। অর্থাৎ সমাধানের জন্য আরেকটা ধর্মই আনতে হবে। তাহলে আসল পোষ্ট দিয়েছেন যেই শামীমা মিতু তিনি যে কোন ধর্মই পালন করেন না, সেটা যে কোন সমাধান না এটা কি স্বীকার করেন?

      1. তর্কের স্বার্থে তর্ক করেন না।
        তর্কের স্বার্থে তর্ক করেন না। আমি কোরআনকে ভুলে ভরা গ্রন্থ একবারও বলিনি। খামোখা ২ হাত বেশি বুঝে উলটো পালটা অপবাদ দেওয়হা বন্ধ করে যুক্তি দিলে ভাল হয়।

    2. মশিয়াত আপু, আপনার যৌক্তিক
      মশিয়াত আপু, আপনার যৌক্তিক মন্তব্য বরাবরই মুগ্ধ করে। তবে মাঝে মাঝে মতনৈক্য দেখা দেয়… সেক্ষেত্রে তর্কে জড়িয়ে পড়াটা অস্বাভাবিক নয়! আশা করি সেটা আপনি বরাবরের মতই সহজ ও ভালো ভাবেই নেবেন…

      আপনি বলেছেন- “এখন কোরআনের কিছু অংশ যদি ততকালীন প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে বলা হয়ে থাকে তবে তা তো বর্তমান সময়ে অন্ধভাবে অনুসরণের প্রশ্ন আসে না।”
      আমি একমত। সেটা যারা মানে না তারা “শফি”র মতই গোঁড়া… তাদেরকে কোন সচেতন মুসলিমই ভালো চোখে দেখে না!
      কিন্তু “শস্যক্ষেত্র” শব্দটা সম্পর্কে যেটা বললেনঃ “…কোরআন ততকালীন প্রেক্ষাপটে এই শব্দ ব্যবহার করে থাকলে আজকের প্রেক্ষাপট থেকে তো এর পরিবর্তিত শব্দ ব্যবহার করা উচিত।” আমি তা মনে করি না। কোরআনের কথাগুলো পরিবর্তন জরুরী না, (সম্ভবতঃ উচিৎও না! কারণ সেক্ষেত্রে ‘বাইবেল’-এর মত এরও গ্রহণযোগ্যতা হারাবে…) যেটা জরুরী তা হচ্ছে বোঝার মানুষিকতা। সাধারণ মানুষ না বোঝার সম্ভাবনা আছে বলেই (মিতু আপুর পোস্টেও) মন্তব্য করার আগে গভির ভাবে চিন্তা করতে বলেছিলাম! কারণ কোরাআনে তো বলাই আছে- “আল্লাহ্‌ কোরআন নাজিল করেছেন চিন্তাশীলদের জন্য!”
      আর দাসীর ব্যাপারে বলব- আমার জানা মতে ইসলামের শাষনামলেই দাসী প্রথা উঠিয়ে দেয়া হয়েছে! এমন আরো অনেক কিছুই ছিল যা ইসলামের শুরুর দিকে তেমন জোড়ালো বাধা দেয়া না হলেও পরবর্তিতে কঠোরভাবে নিষেধ করে দেয়া হয়েছে (যেমনঃ মদ্যপান…)
      আপনি জানতে চেয়েছেন- “…কোরআনের এরকম উক্তিগুলো নারীবিদ্বাষী না হলেও নারী অবমাননায় যথেষ্ট সহায়ক” কিনা? আমি এর ব্যাখ্যাটা আমার পোস্টেই দিয়েছি। ততকালীন সময়ের নারীদের অবস্থা একটু চিন্তা করুন… রাতারাতি দেড় হাজার বছর পরের প্রেক্ষাপটে নারীকে সম্মান দেয়া কি সম্ভব ছিল? দিলেও ততকালীন আরবীয়রা (নারীরাও) সেটা হজম করতে পারতো কি? যেটা দেয়া হয়েছে সেটাই যথেষ্ট এবং যুগোপযোগি ছিল! আজকের দিনে হয়তো আমাদের কাছে পর্দা প্রথাকে “অসম্মানের” মনে হলেও যে সমাজে নারীদের উলঙ্গ করে কাবা প্রদিক্ষণ করানো হতো সেই সমাজের জন্য সেটা নিঃসন্দেহে সম্মানের ছিল- আপনার কী মনে হয়? শুধু বানী নয়, ইনটেনশনটাও দেখা উচিৎ…
      (আপনি আমার ব্যক্তিগত অভিমত জানতে চেয়েছিলেন। এগুলো আমার একান্তই ব্যক্তিগত অভিমত, গবেষনা ফল নয়। এবার আমি আপনাকে একটা প্রশ্ন করি- ইসলামে “মায়ের পায়র নিচে সন্তানের বেহেস্ত” বা “আল্লাহর পর কাউকে বড় বলে মানতে হলে ৩ বার মা, ৪র্থ বার বাবার কথা” বলা হয়েছে! নারী কি সম্মানিত হয়নি এখানে? আপনার কী অভিমত?)

      সর্বপরি কোরআনে আসলে অস্পষ্টতা নেই। সমস্যা হচ্ছে আমাদের ধর্ম ব্যবসায়ীদের নিয়ে। আর এটা জগতের সকল ক্ষেত্রেই দেখা যায়- ক্ষমতাসীনরা আইনকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে! সেটা ধর্মের আইনই হোক আর সংবিধানই হোক! “র‍্যাব”কে যখন “প্রয়োজনে” গুলি করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে অনেকেই কি তখন সেই আইনের অপব্যবহার করেনি? আইনের অপব্যবহার কি করে না পুলিশ-ডাক্তার-উকিল-সরকারী কর্মকর্তা বা সমাজের ভি,আই,পিরা?
      সেটা কি সংবিধানের দুর্বলতা, অস্পষ্টতা নাকি অদূরদর্শীতা?

      আপনার শেষ লাইনটি দারুন হয়েছে- “ধর্মগ্রন্থের স্পষ্ট ভাল দিকগুলো আমরা অবশ্যই গ্রহন করব, কিন্তু গোঁড়ামী করে অন্ধ অনুকরণ আশা করি না।”
      ১০০% একমত এ ব্যাপারে। আমরাও চাই মানুষ অস্পষ্টতা দূর করে সবাই আলোকিত হোক শ্বাশত জ্ঞানের আলোয়… মন্তব্যের জন্য অশেষ ধন্যবাদ… :গোলাপ:

      1. আমি তো বললাম ততকালীন সময়ের
        আমি তো বললাম ততকালীন সময়ের জন্য ছিল। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিশ্চই নয়। বাইবেলের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে তা এখানে ঘটবে কিনা তা আমি নিশ্চিত না। কারণ বাইবেলের চেয়ে কোরআনের ব্যাখ্যা স্পষ্ট। কিন্তু শষ্যক্ষেত্রের ব্যাপারটি এড়িয়ে যাওয়াই আমার কাছে ভাল মনে হয়। কারণ ঐ ধারণা নারীকে অবমাননার একটি প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। আমি ঐ বিষয়েই কিন্তু বলেছিলাম যেটা ততকালীন প্রেক্ষাপটের জন্য হয়েছে সেটা বর্তমান প্রেক্ষাপটে ধরে রাখাটা আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয় না। আর মায়ের ব্যাপারে যেটা বললেন তার একটা উত্তর আছে। এটা একান্তই মায়ের ক্ষেত্রে। স্ত্রীর ক্ষেত্রে কীরকম দৃষ্টিভঙ্গি দেওয়া হয়েছে তাও আপনার জানার কথা। আরেকটা ব্যাপার অনেকেই অনেক মতবাদ টেনেছেন। কেউ হাদীস টেনেছে, কেউ পুরোপুরি তুচ্ছ করেছে। আমার ক্ষেত্রে আমি আপনার মন্তব্যের পালটা উক্তি দিয়েছি। হাদীসে অবমাননার আরো অনেক দিক উল্লেখ আছে যেগুলো আমি টানতে চাই না কারণ তাতে এই প্রমাণ হবে আমি হাদীস টেনে কোরআন বিষয়ে আমার ব্যররথতা ঢাকতে চাচ্ছি। আমি ব্যাখ্যা করে এখন তেমন কিছু বলছি না। আসলে গোলাম আযমের রায় নিয়ে এখন যে ঝড় উঠছে তার প্রেক্ষিতে এর বিস্তারিত উত্তর চিন্তা করার সুযোগ পাচ্ছি না।
        আপনাকেও ধন্যবাদ

        1. আপনার প্রতি সেজন্য আমি
          আপনার প্রতি সেজন্য আমি কৃতজ্ঞ। কারণ, বলতে আপত্তি নেই- কেবল মাত্র আপনিই আমার পোস্টের প্রেক্ষিতে আলোচনা করেছেন। বাকিরা বেশীর ভাগই আলোচনা করেছে ব্যক্তি “সফিক”-এর মানসিকতা ও মূল্যবোধ নিয়ে!
          অথচ, ব্যক্তিগত ভাবে তারা কেউই “সফিক”কে চেনেই না! ব্যক্তি “সফিক”-এর মানসিকতা বা মূল্যবোধ সম্পর্কে তারা নিজেদের মত করে একটা ধারনা তৈরী করে নিয়েছে আর আলোচনা করেছে সেই ধারনার ওপর বদ্ধমূল বিশ্বাস নিয়ে…
          এটা সত্যি আমাকে হতাস করেছে।

          তবে আপু, একটা কথা কি- আমি সত্যি মনে করি কোন কিতাবেরই আসলে দোষ নেই। দোষ হচ্ছে কিতাব যিনি পড়ছে তার মানষিকতায়!
          যে কিতাব “আল্লামা শফি” পড়ে তেতুল তত্ত্ব দিয়েছেন, সেই একই কিতাব আমি পড়ে নারীর প্রতি আমার শ্রদ্ধা আরো বেড়েছে! কী ব্যাখ্যা দেবেন এর?

          ফুলের মাঝে মধু যেমন থাকে, তেমনি বিষও থাকে। মৌমাছি সেখান থেকে মধু নিয়ে যায় আর ভ্রমর পোকা নেয় বিষ। ফুল কিন্তু ফুলই থেকে যায়…
          ফুল থেকে কে কী নেবে সেটা ফুলের ওপর নির্ভর করে না। নির্ভর করে আমি মৌমাছি না ভ্রমর তার ওপর।

          গোলাম আযমের রায় নিয়ে আমি নিজেও মন কষ্টে আছি। জানি না এই নাটকের শেষ কোথায়। যুদ্ধাপরাধীর বিচার আদৌ হবে কিনা বাংলার মাটিতে…

          যাহোক, ভালো থাকবেন। সবার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক…

          1. আমিও বলছি না কিতাবের দোষ।
            আমিও বলছি না কিতাবের দোষ। কিন্তু এখানে আমি আপনার ঐগল্পের উদাহরণ দেই। আপনার গল্পের কিন্তু দোষ নেই। গল্প পড়ে যেকোন কেউ গল্পের অনুশরণ করতে পারে। কিন্তু ঘটনা হল গল্পের উপস্থাপ্ন তাকে সেভাবে নিতে নিয়ামন। এখন আপনার গল্প যে ওভাবে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ভাল অর্থ বের করবে তার জন্য ভাল যে খারাপ অর্থ বের করবে তার জন্য খারাপ। কিন্তু অধিকাংশ কিভাবে নিচ্ছে তার উপর নির্ভর করে। যদি তার খারাপ অর্থটাই অধিকাংশ গ্রহন করে তবে গল্পের ঐ অংশ এড়িয়ে যাওয়া উচিত বলেই আমি মনে করি।
            আওনাকেও অনেক ধন্যবাদ। বিচার কার্যকর হবার অপেক্ষায় আছি। তা নাহলে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে বিচার কি উলটো জেল থেকে বের হয়ে বুক ফুলিয়ে ঘুরবে।
            আপনিও ভাল থাকেন

  5. আমি এক রকম পন ই করেছিলাম যে
    আমি এক রকম পন ই করেছিলাম যে অন্তত খুব সহসা আমি ধর্ম বিষয়ক কোনও লেখালেখি করব না। মন্তব্য ও করব না। কিন্তু খানিকটা অভ্যাস বশত লেখক শামিমা মিতুর লেখা টি তে কমেন্ট করে বসলাম, ঠিক তাঁকে সমর্থনের জন্যে নয়, বরং আমার কাছে কিছু মন্তব্য অযৌক্তিক মনে হয়েছিল, তার সম্পরকে বলতে চেয়েছিলাম। যাক, গল্পকার এবং ব্লগার সফিক এহসান, মিতুর লেখার বিপরীতে একটা বিশাল লেখা (কিম্বা কৈফিয়ত ধরনের) পোস্ট করেছেন । এটা দুইটা কারনে ভালো হয়েছে – প্রথমত, লেখার বিপরীতে লেখাই হওয়া উচিত অন্য কিছু নয়, দ্বিতীয়ত আমরা জনাব এহসান ভাইয়ের মনজগত সম্পরকে আর একটু বিস্তারিত জানলাম। সফিক ভাইয়ের প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা জানিয়ে বলছি, তার লেখাটির যে যুক্তির কাঠামো ও ভাবনার স্তর, তাতে, এই ধরনের লেখা নিয়ে কোনও বিস্তারিত তর্ক – বিতর্ক আমি সাধারনত করি না । সমস্যা হচ্ছে, সফিক ভাইয়া, শুধু মিতুর লেখাটির ব্যাখ্যা (হয়ত ‘অপ’) করেই শান্ত হননি, তিনি কিছু চ্যালেঞ্জ ও ছুড়ে দিয়েছেন। তাই ভাবলাম মিতু অর সফিক সাহেবের লেখার মাঝে একটু ”Devils Advocate” হয়ে দেখি কেমন হয় !

    যুক্তির কাঠামো

    সফিক ভাইয়ের, যুক্তি কাঠামোর প্রথম পিলার হচ্ছে আংশিক কোটেশন এবং দ্বিতীয় পিলার টি হচ্ছে “স্থান-কাল-পাত্র” না বোঝা টা আর তৃতীয় পিলার টি হচ্ছে ওপেন চ্যালেঞ্জ ।
    প্রথম পিলার ঃ সফিক ভাই শুরু করেছেন এভাবে –
    “আমি সাক্ষ দিচ্ছি- আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ্‌ নাই এবং মোহাম্মদ (সঃ) তাঁর রাসুল”
    এই কথাটার একটা ছোট্ট অংশ হচ্ছে- “কোন ইলাহ্‌ নাই” ইংরেজিতে “There are no God!”কালেমার অংশ বিশেষ হওয়া সত্যেও কি ভয়ঙ্কর স্ববিরোধী কথা এই শব্দ কয়েকটাতে! রিতিমত নাস্তিকতা! এইভাবে কোট করাটাকে আপনি কী বলবেন?

    মিতুর লেখা টি যারা পড়েছেন, তাঁরা কি একমত হবেন, যে মিতু ঠিক এই ভাবেই কোটেশন গুলো তুলে দিয়েছেন ? মানে একটি বাক্যের ভেতর থেকে কয়েকটি শব্দ ? আমি লেখাটি দুইবার পড়েছি এবং আরেকবার পরীক্ষা করলাম, ভাই আমি তো ঠিক পেলাম না যে তিনি পুরো বাক্য কোট না করে মাঝ খান থেকে মাত্র ২ – ৩ টি শব্দ তুলে দিয়েছেন ! কি জানি আমার চশমা টা হয়ত বদলাতে হবে, দেখি কি করা যায় !

    আপনার এই কৌশল টি নিয়ে আমি কোনও বাজে শব্দ ব্যবহার করব না, তবে, দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আপনি শুরুতেই আপনার লেখাটির সততার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন !

    যাই হোক, আপনার যুক্তির কাঠামো টা নিয়ে আরে টু কথা বলি । যেহেতু এই যুক্তি কাঠামো টিই আপনার প্রধান সম্বল, কারন আপনি বলেছেন, কিছু কিছু মানুষ, স্থান-কাল-পাত্র না ভেবেই, কুরআন – হাদিসের আংশিক উদ্ধৃতি করেন ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করার জন্যে (যদিও আমি জানি না ইস্তিশন ব্লগ এ এই মন্তব্য করে আমার কি ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল হবে, ইস্তিশন কি pay kore ? ডলার বা ইউর তে ? – বাদ দিন ! ) আমি এই দীর্ঘ মন্তব্য টি তে চেষ্টা করব আংশিক উদ্ধৃতি না করার । আসুন একটি হাদিস পুরটাই পড়ি –

    “আহমাদ ইবনে সালিহ (র) … জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা) বলেছেন ঃ যে ব্যক্তি রসুন কিম্বা পেয়াজ কাঁচা খায়, সে ব্যক্তি যেন আমাদের থেকে কিম্বা আমাদের মসজিদ থেকে পৃথক থাকে । আর সে যেন তার ঘরে বসে থাকে । এর পরে তার খেদ্মতে একটি পাত্র আনা হোল । বর্ণনাকারী ইবন অয়াহাব (রা) বলেন, অর্থাৎ শাক সব্জির একটা বড়ো পাত্র । রাসুলুল্লাহ (সা) সেই পাত্রে এক প্রকার গন্ধ অনুভব করলে সে সম্পরকে জিজ্ঞাসা করলেন । তাঁকে পাত্রের মদ্দকার শাক সবজি সম্পরকে অবগত করা হোল । তিনি টা জনইক সাহাবিকে খেতে দিতে বললেন যিনি তার সাথে উপস্থিত রয়েছেন। এরপর তিনি যখন অনুভব করলেন, সে টা খেতে অপছন্দ করছে তখন তিনি বললেন – খাও । কারন আমি যার সাথে গপনে কথপকথন করি, তুমি তার সাথে করনা ।“

    এই হাদিসটির প্রথম দুইটি বাক্য কি একটি stand alone অর্থ বহন করে ? এই হাদিসটি থেকে অন্তত এটা তো পরিষ্কার যে কাঁচা পেয়াজ বা রসুন খাওয়া টা হুজুরে পাক (সা) পছন্দ করতেন না এবং সেটা একধরনের নিষেধ ? কেউ যদি প্রথম দুই লাইন উদ্ধৃত করে সে কথা বলেন, তাহলে কি খুব অন্যায় হয়ে যাবে ? (কাঁচা পেয়াজ বর্জন করতে হলে – শাহবাগে, আজিজে বা ছবির হাট এ কতগুলো মজার খাবার আমাদের কে বর্জন করতে হবে – সে প্রসঙ্গ তুলে রাখলাম আজকের মতো) সুতরাং আংশিক উদ্ধৃতি সব সময়েই অসৎ উদ্দেশ্য তাড়িত নাও হতে পারে । আংশিক উদ্ধৃতির কারন সময় বাচান হতে পারে বা core কথা টি কে সহজে বলাও হতে পারে ।

    দ্বিতীয় পিলার ঃ স্থান – কাল – পাত্র

    এইটা একটা খুব খাঁটি কথা বলেছেন । শুধু কুরআন কে নয়, সকল কিছুকেই আসলে দেখা দরকার স্থান-কাল-পাত্র বা relevant context অনুযায়ী ।
    অর্থাৎ কুরআন ও হাদিস এর কোনও আয়াত বা বানী কে বুঝতে হবে সেই সময়ের (আজ থেকে ১৪০০ বছর আগের) প্রেক্ষিত দিয়ে ! খুব ই ভালো কথা । সে ক্ষেত্রে, কুরআন ও হাদিস এর যে সমস্ত বানী ১৪০০ বছর আগের জন্যে অনেক অগ্রসর ও যৌক্তিক ছিল তার সব ই কি এখনও যৌক্তিক ? সমান ভাবে কার্যকর ? ইসলামি বুদ্ধিজীবীরা অবশ্য প্রশ্ন টা শুনেই আমাকে পাগল ঠাওরাবেন, তাঁরা বলবেন অবশ্যই সমান ভাবে কার্যকর, কোনও সন্দেহ নাই । আসুন একটা হাদিস পড়ি –

    “ খালিদ ইবন মাখলাদ (র) … ইবন উমর (র) সুত্রে নবী (সা) থেকে বর্ণিত । তিনি বলছেন পাঁচ টি বিষয় সম্পরকে আল্লাহ ছাড়া কেউই জানে না… । ১/ মাতৃ জথরে কি গুপ্ত আছে টা জানেন একমাত্র আল্লাহ । ২/ আগামিকাল কি সংঘটিত হবে টাও জানেন একমাত্র আল্লাহ ৩/ ব্রিস্তিপাত কখন হবে টাও একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউই জানে না । ৪/ কে কোন ভুমিতে মারা যাবে টা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউই জানে না ৫/ আল্লাহ ছাড়া আর কেউই জানে না, কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে। “ (বুখারি শরিফ, খণ্ড ১০, হাদিস ৬৮৭৫, পৃষ্ঠা ৫৩৭)

    যদি ধরেই নেই, এই হাদিস টি ১৪০০ বছর আগে প্রাসঙ্গিক ছিল, এখন কি আছে ? একমাত্র ৫ নাম্বার টি ছাড়া বাকি সব গুলোই কি এখন আমরা জানতে পারি না ? শুধু কাল কে নয়, আগামি এক বছরে কবে বৃষ্টি হবে এবং কবে হবে না, সেটাও আমরা জানতে পারি । এই রকমের হাদিস গুলো ডিলিট করার দায়িত্ব টা কি আপনি নেবেন ? at least স্বীকার করবেন ?

    “মুয়াল্লা ইবন আসাদ (র) … আবু হুরায়রা (র) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, আল্লাহর নবী সুলায়মানের সুলায়মানের ষাট জন স্ত্রী ছিল। একদা সুলায়মান (আ) বললেন, আজ রাতে আমার সব স্ত্রীর কাছে যাব । যার ফলে স্ত্রিরা সবাই গরভবতি হয়ে এক একজন সন্তান প্রসব করবে, যারা অশ্বারোহী অবস্থায় আল্লাহর পথে জিহাদ করবে । অতএব সুলায়মান (আ) তার সব স্ত্রীর কাছে গেলেন, তবে তাঁদের থেকে একজন ছাড়া আর কেউই গর্ভবতী হলনা । সেও প্রসব করলো একটি অপূর্ণাঙ্গ সন্তান । নবী (সা) বললেন, যদি সুলায়মান (আ) ইনশাল্লাহ বলতেন, তাহলে স্ত্রীরা সবাই গর্ভবতী হয়ে যেত । এবং প্রসব করত এমন সন্তান যারা অশ্বারোহী অবস্থায় আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করত । (বুখারি শরিফ, খণ্ড ১০, হাদিস নং – ৬৯৬১, পৃষ্ঠা ৫৮৭)”

    এই হাদিস টি কে কি স্থান-কাল-পাত্র দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে ? সুতরাং কুরআন হাদিস এ এমন অনেক আয়াত বা বানী আছে তার হয়ত কিছু প্রাসঙ্গিকতা ছিল ১৪০০ বছর আগে, এখন সেসব প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য । আর সেই প্রশ্ন গুলো তুললেই – খোলা তলোয়ার হাতে ঝাপিয়ে পড়বে সবাই প্রশ্ন কারির উপরে (আপনাকে ধন্যবাদ, আপনি তা করেন নি)।

    আপনি মিতুর লেখা থেকে কোটেশন গুলো কে যেভাবে justify করার চেষ্টা করেছেন, তা নিয়ে বিশদ আলোচনা করব না । একটা ইন্টারেস্টিং তথ্য দেই আপনাকে – যে আয়াত টি তে “শস্যক্ষেত্র” নিয়ে আপনি একটি মহান রোম্যান্টিক ব্যাখ্যা দিলেন, আমার কাছে কুরআন শরীফের যে অনুবাদ টি আছে, সেখানে কিন্তু “শস্যক্ষেত্র” সব্দ টি ব্যাবহার করা হয়নি । বলা হয়েছে
    “নারী রা হচ্ছে তোমাদের জন্যে ক্ষেত্র স্বরূপ …… “
    শস্যক্ষেত্র কে যত তা রোম্যান্টিক ভাবে আপনি ব্যাখ্যা করলেন, “ক্ষেত্র” শব্দ টিকেও কি একই ভাবে ব্যাখ্যা করবেন ?

    “শস্যক্ষেত্র” মানে যদি হয় প্রিয়তম, আমার বলার কিছু নেই, তাহলে একই রকমের একটা আয়াত কি উদ্ধৃত করবেন যেখানে বলা হচ্ছে পুরুষ রা হচ্ছে নারীর “শস্যক্ষেত্র” (আপনার ভাষায় প্রিয়তম), তোমরা (নারী রা) তাতে ইচ্ছে মতো গমন কর … !

    শামিমা মিতুর তুলে দেয়া, উদ্ধৃতি গুলো নিয়ে আমি একদম ই আলোচনা করলাম না, ছুয়ে যাই একটু ঃ
    আপনার কাছে নারীর শস্যক্ষেত্র হয়ে ওঠা টা যদি প্রেমময় উপমা হয়, তাহলে বলতেই হচ্ছে, আমার বাঙলা খুব ই দরিদ্র । সুতরাং, আলোচনায় না যাওয়াই ভালো ।

    শুধুমাত্র প্রজনন সুবিধা লাভ যদি হয় বহু বিবাহের কারন তাহলে কুরআন কেন নবিজির ৮ বা ৯ জন বিধবা স্ত্রী কে বিবাহের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিলেন ? তাঁদের কি আর প্রজনন জনিত জীবনের দরকার ছিল না ? তখন কি আল্লাহর পথে জিহাদের সৈনিক বাড়ানোর দরকার শেষ হয়ে গিয়েছিল ?

    দজখে যে নারী বেশী থাকবে এবং কেন বেশী থাকবে এটা একাধিক সুরা ও হাদিস এ আছে । আপনি বলেছেন যে এখানে নারী না হয়ে পুরুষ বলা হয়েছে এমন হাদিস খুজলে হয়ত পাওয়া যাবে, কিন্তু দিলেন না কেন ? এত কিছু খুজে পেলেন আর সেই হাদিস টা খুজে পেলেন না ?
    আরে ভাই, ইসলামে নারী যে পুরুষের খেদমত ও ভোগের বস্তু ছাড়া আর কিছুই নয় এর আরও অসংখ্য বয়ান আছে, লেখক মিতু খুব হালকা গুলোই তুলে ধরেছেন। আপনার কাছে যেহেতু কুরআন ও বুখারি শরিফ আছে একটু পড়ে নেবেন । আপনার লেখার শেষ অংশের কারনে আপনার বোধের উপরে এখনও আস্থা রাখছি ।

    তৃতীয় পিলার : ওপেন চ্যালেঞ্জ
    কি আছে এই পুস্তকটায়? এই প্রশ্নের উত্তর আপনার কাছে চাচ্ছি না। কারণ, আপনার চোখে- এসব ভন্ডামী, সব ভুলে ভরা..

    মোটামুটি ৪ ধরনের গল্প বা বয়ান আছে এই মহান গ্রন্থ টি তে।

    ১/ আল্লাহ তায়ালার প্রশংশা ও তার ক্ষমতার বর্ণনা, তিনি কি করেছেন অতীতে, কি করতে পারেন
    ২/ আল্লাহর নবী ও রাসুলদের প্রশংশা
    ৩/ আল্লাহর ভক্তদের জন্যে পুরস্কারের লোভ ও অমান্য কারীদের জন্যে শাশ্তির বর্ণনা
    ৪/ কিছু জীবন বিধান, যেমন কিভাবে জমি জমা ভাগাভাগি করা যেতে পারে ইত্যাদি (যার বেশির ভাগ ই outdated)

    কে লিখেছেন এই গ্রন্থ, এবং এ রকমের একটি গ্রন্থ লিখতে আদৌ কোনও পাণ্ডিত্য লাগে কিনা সে বিতর্কে আজ আর গেলাম না । শুধু আপনার ছুড়ে দেয়া চ্যালেঞ্জ টা আমাকে অপার বিনোদন দিয়েছে আর । আমি সত্যিই অত টা ধৈর্যশীল নই, তবুও পড়েছি শেষ পর্যন্ত ।
    আপনার লেখা এই শেষ অংশটুকু হচ্ছে দর্শনের একটি ইন্টারেস্টিং ধারনা – বা Analogy, যা প্রথম বারত্রান্দ রাসেল ব্যাখ্যা করেছিলেন এই বলে – ’Russels Teapot’ (http://en.wikipedia.org/wiki/Russels_Teapot ) আমি অন্যদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেব না, সংক্ষেপে বলি – রাসেলের কেতলি তত্ত্ব হচ্ছে, যখন কোনও মানুষ কোনও কিছু প্রমানে তার নিজের দায়িত্ব টা অন্যদের ঘাড়ে চাপিয়ে বা সরিয়ে দিতে চান । লিংক দিয়ে দিলাম, যারা আগ্রহি পড়ে নেবেন।

    আবারও বলি, আপনাকে ধন্যবাদ, কারন আপনি যুক্তির কঠিন পথ টিকে বেছে নিয়েছেন।
    ভালো থাকবেন।

    পুনসচঃ আমার ইসলামিক ফাউন্দেশন এর প্রকাশিত দশ খণ্ড বুখারি শরিফ আছে ও দুই টি ভিন্ন বাঙলা কুরআন শরিফ আছে (pdf), যদি দরকার হয় আমরা আদান প্রদান করতে পারি।

    1. বাপরে! আপনি দেখি আরেক বিশাল
      🙂
      বাপরে! আপনি দেখি আরেক বিশাল কমেন্ট করে বসে আছেন! সমস্যা নেই, আপনার কমেন্টের প্রতিটি লাইন ধরে ধরে আলোচনা করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য আমার আছে….
      তবে টাইপ করতে একটু সময় লাগবে-এই যা!
      কিন্তু ভাই পোস্টে আমার ও তো কিছু প্রশ্ন ছিল, সেগুলোর উত্তর বা জবাবদিহিতা সুকৌশলে এড়িয়ে গিয়ে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন কেন?
      চালাকি নাকি কেবল আমিই করি! তা সেগুর উত্তর দেন।
      সম্ভব হলে চ্যালেঞ্জটাও গ্রহণ করেন!
      নাকি উত্তর দেয়ার দায়ীত্বটা একচেটিয়া আমারই???

    2. গোলাম সারওয়ার ভাই, শুরু করলেন
      গোলাম সারওয়ার ভাই, শুরু করলেন এমন একটা লাইন দিয়ে… “লেখাটির যে যুক্তির কাঠামো ও ভাবনার স্তর, তাতে, এই ধরনের লেখা নিয়ে কোনও বিস্তারিত তর্ক – বিতর্ক আমি সাধারনত করি না ।” আমার পোস্টটিকে ‘অপ’ব্যাখ্যারও ঈঙ্গিত দিলেন। ভাই, তর্ক না করলে আমার যুক্তি ও ভাবনার ‘স্তর’ উন্নত হবে কিভাবে? অগ্রজ হিসেবে আমার প্রতি আপনার একটা দায়িত্ব আছে না? সেই দায়িত্ববোধ থেকেই শেষ পর্যন্ত বিশাল একটা আলোচনা করেছেন- এজন্য ধন্যবাদ… 🙂

      যাহোক, আপনি আমার পোস্টের প্রথম যে ভুলটা ধরেছেন তা হলো “মিতু আপু কোথায় আংশিক বাক্য কোট করেছেন” তা আপনি ‘দুইবার’ পড়ে ও অনেকবার পরীক্ষা করেও খুঁজে পাননি! হ্যাঁ ২-৩টি শব্দ কোট করেননি বটে (আর এটা আমি বলিও নি! উদাহরনকে হুবহু খুঁজলে তো বিপদ!) কিন্তু আংশিক লাইন যে দিয়েছেন সেটা কিন্তু আমি প্রমান সহ দিয়েছিলাম! (হুম… চশমাটা বোধহয় আসলেই…!) খুঁজে পাননি? দেখুন তো এখন খুঁজে পান কিনা- “সূরা-৪: নিসা, আয়াত:৩… এই জায়গাটায় রিতিমত “ইয়োলো জার্নালিজম” হয়েছে! উপরের গুলো যা হোক একটা আয়াতের অংশ বিশেষ ছিল, কিন্তু এটা রিতিমত একটা লাইনেরও অংশ বিশেষ যার মূল অর্থ পুরোই বিনিষ্ট হয়েছে!” এখনো না পেলে চশমাটা বদলে নিয়ে আরেকবার চেষ্টা করবেন… 😛 (সেই সাথে আশা করি আমার সততার ব্যাপারে আপনার করা মন্তব্যটাও ‘উইথ ড্র’ করবেন।)
      স্বার্থের ব্যাপারে এতো হাস্যকর একটা কথা বলবেন আশা করিনি! স্বার্থ কি শুধুই “ডলার” বা টাকা রিলেটেড! হাসালেন!

      একটা হাদিসের উদ্ধৃতি দিলেন। (এই পোস্টে এমনিতেই মিতু আপুর অনেক ইস্যু নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে, আপনি আরো একটা বাড়ালেন! যাগ্‌গে, দিয়েই যখন ফেলেছেন তখন বলেই ফেলি) প্রথম কথা, আপনার দেয়া হাদিসের প্রথম দুই লাইন আলাদা অর্থ বহন করে না বটে, কিন্তু সকল ক্ষেত্রেই কি তাই? (উদাহরন তো আগেই দিয়েই দিলাম!) দ্বিতীয়তঃ হাদিস আর কোরআন এক জিনিষ নয়, একটা সরাসরি (আপনি মানেন আর না মানেন) আল্লাহ্‌র বানী, আরেকটা রাসুল (সঃ)-এর কোন একটা ঘটনা বা বাক্যালাপ যা তৃতীয় একজন ব্যক্তি ব্যাখ্যা করেছেন! কিসের সাথে কি তুলনা দিলেন ভাই?
      আর তৃতীয়তঃ কাঁচা পেয়াজ বর্জন করতে বলা হয়নি বরং ওটা খেয়ে (কুলি বা ওজু না করে) কারো সামনে যেতে নিষেধ করা হয়েছে যা আজকের এই আধুনিক যুগেও একটা সাধারন ‘সিভিক সেন্স’! শাহবাগে, আজিজে বা ছবির হাট এ কতগুলো মজার খাবার আমাদের কে বর্জন করতে কেউ বলেনি, কিন্তু আমি যদি কাঁচা পেয়াজ খেয়ে আপনার সাথে কথা বলি- আমার মুখের গন্ধ আপনার জন্য সুখকর মনে হবে কি? আপনার কমন সেন্স কী বলে?

      দ্বিতীয়তঃ আপনি বলতে চেয়েছেন ১৪শ’ বছরের পুরোনো কথা এখনকার যুগে প্রযোজ্য নয়। প্রমান হিসেবে আবার হাদিস! (আচ্ছা- আপনি বারবার হাদিসের রেফেরেন্স কেন দেন বলেন তো? আগেই বলেছি হাদিসের ব্যাপারে একেবারেই কম জানি! কোরানের রেফারেন্স দিলে ভালো হয় না? সহজে খুঁজে পাওয়া যায়…)

      সেখানে আপনার বক্তব্য- “একমাত্র ৫ নাম্বার টি ছাড়া বাকি সব গুলোই এখন আমরা জানতে পারি”! তাই বুঝি? বেশ!!!
      আপনার আধুনিক বিজ্ঞানকে জিজ্ঞেস করুন- (১নং) মায়ের পেটের বাচ্চা ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্দিষ্ট সময় (সম্ভবতঃ ৫ মাস) না হওয়া পর্যন্ত কেউ বলতে পারবে কিনা? আরে ভাই- মায়ের নিজেরই তো টের পেতে ২/৩ মাস লেগে যায়! এখানে বোঝানো হয়েছে সঙ্গমের পর মুহূর্তেই যিনি জানেন তিনি একমাত্র আল্লাহ! দ্বিমত থাকলে বলুন…
      (২নং) আগামীকাল কি হতে যাচ্ছে ভাইয়া? আপনার জানা থাকলে পত্রিকা অফিসে খবর দিন! কারণ আপনারটাই হবে তাহলে সবচেয়ে হট নিউজ যা আপনি ঘটার আগেই বলে ফেলেছেন! জ্যোতিষ হিসেবে বেশ সুনামও অর্জন করতে পারবেন নিশ্চয়ই…! ভাইরে- হিন্দি “কৃশ” বা টম ক্রুজের ইংলিশ ছবির থিম এখনও কল্পনাতেই রয়ে গেছে। মানুষের বিজ্ঞান এখনও হুবহু ভবিষ্যত বলে দেয়া তো দূরে থাক আজ অবধি ভুমিকম্পের মত সামান্য একটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ-এর পূর্বাভাস দেবার ক্ষমতা রাখে না। যেদিন রাখবে সেদিন এই কথা বলবেন, মেনে নেব।
      (৩নং) বৃষ্টিপাতের ব্যাপারে আবহাওয়া রিপোর্টের কথা বলবেন? হা হা হা… আবহাওয়া রিপোর্ট নিয়ে কতো জোক্স আছে দুনিয়ায় জানেন? একটু খেয়াল করে দেখবেন- রিপোর্টগুলোতে কী বলে! “সম্ভাবনা রয়েছে”, “হতে পারে”… এক বছর দূরে থাক কখনো বলতে শুনেছেন- “কাল বৃষ্টি হবেই”? কাজেই যা বলবেন বুঝে শুনে বলবেন…
      (৪নং) একটা জোক্স মনে পড়লো!
      এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে বলেছিল- জানিস আমার মামা মারা যাবার এক সপ্তাহ আগেই জানতেন তিনি কবে কোথায় কিভাবে মারা যাবেন!
      – তাই নাকি! কিভাবে? কোন জ্যোতিষ বলে দিয়েছিল নাকি?
      – না! জর্জ সাহেব বলেছিলেন- কিভাবে মরবেন; আর জেলার বলেছিলেন- কখন, কোথায়। ওনার ফাঁসির আদেশ হয়েছিল তো! 😀

      যেখানে একজন মুমূর্ষু রোগিকেও ডাক্তার বলে দিতে পারে না যে সে ঠিক কখন মারা যাবে সেখানে আপনার ৪নং পয়েন্টটা এই জোক্সকেই মনে করিয়ে দেয়!
      আচ্ছা গোলাম সারওয়ার ভাই, আপনিই বলুন তো- আপনি কবে কোথায় মারা যাবেন? (আবার মাইন্ড করবেন না যেন… প্লীজ!)
      এখন আপনিই বিবেচনা করুন- কোন হাদিসগুলো ডিলিট করা দরকার!

      শেষে এসে আবার “শস্যক্ষেত্র” প্রসংগ টানলেন এবং আমাকে সত্যি ভাবতে বাধ্য করলেন যে আপনি আদৌ আমার পোস্ট মন দিয়ে পড়েছেন নাকি সমালোচনা করার জন্য মোক্ষম কথাগুলো সাজাতে এতো ব্যস্ত ছিলেন যে ভালো করে দেখার বা ভাবারও সময় পাননি!
      আমি স্পষ্ট করেই বলেছি “শস্যক্ষেত্র” এর ব্যাখ্যা। নারী সন্তান (ফসল) ধারন করে, পুরুষ নয়! কাজেই পুরুষ যদি চাষী হয়, নারী হবে শস্যক্ষেত্র! এর উল্টা উপমা দেয়া সম্ভব নয় কারণ সেটা অবাস্তব হবে। আর শব্দটা “ক্ষেত্র” হোক বা “শস্যক্ষেত্র” এখানে “যাচ্ছে-তাই” ভাবে ব্যবহারের ঈঙ্গিত দেয়া হয়নি মোটেও!
      (এক জিনিস বার বার ব্যাখ্যা দেয়া বিরক্তিকর ও সময় স্বাপেক্ষ! আপনি আমার পোস্ট আরেকবার পড়েন প্লীজ… ) তর্ক করতে চাইলে অন্য যে কোন কিছুর সাথে তুলনা করলেও এই একই কথা বলা যায়! সবই ব্যাখ্যা করেছি এবং পরে আরেকটি আয়াত (২২৮) দিয়ে দেখিয়েও দিয়েছি ইসলামে নারী-পুরুষকে সম অধিকার দেবার নজির; তবু যদি আপনি তর্ক করতেই থাকেন তাহলে আর কিছু বলার নাই।

      নবীজির স্ত্রীদের বিয়ের ব্যাপারে যা বললেন তার উত্তর খুব সহজ- বেশীর ভাগই অনেক বয়স্কা ছিলেন। প্রজননোক্ষম যে ২/১জন ছিলেন তাদেরকেও যথাযথ মর্যাদা দেবার মত ততকালীন সময়ে কেউ ছিল না। (কারণ, রাসুল-এর স্ত্রীকে তারা মায়ের মত সম্মান করতেন!)
      বললেন- নারীদের বেশী দোজখবাসী হবার কথা। সেটা কি এজন্যে যে তারা “নারী”? নাকি এজন্য যে বেশীর ভাগ (অন্তত ততকালীন)নারীর স্বভাব-চরিত্র “দোজখবাসী” হবার অনুকুলে? কারণ কিন্তু কোরআন-হাদিসে ব্যাখ্যাও করা হয়েছে! এমন তো কোথাও বলেনি যে যেহুতু তারা নারী, তাই তারা দোজখে যাবে! বরং এগুলো বলে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে যেন তারা অভ্যাস বশত যে গুনাহগুলো করে সেগুলোর ব্যাপারে সচেতন থাকে! নারীবাদীরা যতই আমাকে গালাগাল দেন, বুকে হাত দিয়ে বলতে পারেন (যদিও ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে, তবুও) পরচর্চা করার প্রবণতাটা প্রাকৃতিক ভাবেই ছেলেদের চেয়ে মেয়েদেরই বেশি! এটা কি পাপ নয়? এরকম আরো উদাহরন দেয়া যাবে…
      সর্বপরি কথা হলো- আপনি যদি নিয়তই করে রাখেন যে ভুল ধরবেন, তাহলে আর কিছু করার থাকবে না। কোরআনে যতই ভালো কথা লেখা থাকুক আপনি ঠিকই তার মাঝ থেকে “খারাপ” বা “নারী বিদ্বেষ” খুঁজে বের করবেন! সমালোচক নয়, বরং নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে আপনি কোরআন পড়ুন। দেখবেন সবকিছুর মধ্যেই ভালো কিছু খুঁজে পাবেন…

      সবশেষে আমার দেয়া চ্যালেঞ্জ-এর ব্যাপারে যা বললেন তাতে আমার তেমন কিছু বলার নেই। আপনি পাশ কাটিয়ে চলে গেলে আমি আর কীইবা করতে পারি?
      কিন্তু Bertrand Russel এর দর্শন দিয়ে যা বোঝালেন তাতে মনে হচ্ছে- আমাকে কোরআনের পক্ষে সকল যুক্তি প্রমানের জন্য লীজ দেয়া হয়েছে! আমি সেই দায়িত্ব অন্যের কাধে চাপিয়ে দিয়ে ফাঁকি মারার ধান্দা করছি! ভাই, এখানে কেউ কারো যুক্তি খন্ডনে বাধ্য নই। তবে একজন সহ ব্লগার হিসেবে আমি যদি আপনার একটা যুক্তি খন্ডন করে দিই তাহলে এটুকু দাবি করতেই পারি যে, আমার একটা যুক্তি বা চ্যালেঞ্জ আপনি প্রমান করুন! সেটাকে ’Russels Teapot’ অ্যাখ্যা দিলে আর কি করা?
      বলব না বলব না বলে অনেক কিছুই বললেন অথচ নিজের গায়ে মাখালেন না কিছুই! দায়িত্বও নিলেন না আমার ভুল ধরিয়ে দেবার… এই যা দুঃখ! আশা করি আমার কমেন্টে আপনার প্রতি করা প্রশ্নগুলোর জবাব দিবেন অন্তত…
      সেই সাথে অনেক দীর্ঘ ও সুচিন্তিত মন্তব্যের জন্য আবারও কৃতজ্ঞতা। গোলাম সারোয়ার ভাই, আপনাকে ধন্যবাদ… :গোলাপ:

      [বিঃদ্রঃ আরি! আমারওতো ২ইটা ভিন্ন বাংলা কোরআন (pdf) আর একটা বোখারি শরীফ (১০ খন্ড একত্রে) আছে! কী মিল!!! 🙂 ]

      1. ভাই সফিক এহসান, বেঁচে থাকুন
        ভাই সফিক এহসান, বেঁচে থাকুন ভাই আপনি, বঙ্গ দেশের জাকির নায়েক হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা আপনার মাঝে দেখা যাচ্ছে । একটু brand management পড়ে নিতে পারেন, উপকার হবে । বাংলাদেশে এখন ধর্ম ব্যবসা তো ভালো লাভ জনক ! সরি, বিনয়ের সাথে বলি – আপনার মতো চাপাবাজ দের জন্যে আমার করুনা হয় – রাস্তার চাপাবাজ কবিরাজি ঔষধ বিক্রেতা রাও আপনার চেয়ে বেশী পড়াশুনা করে, তার একটা নমুনা দেই – জনাবা খাদিজা ছাড়া বাকি মহিলা যাদের কে মুহাম্মাদ বিয়ে করেছিলেন তার জীবনের শেষ ৭ – ১০ বছরে তাঁদের বয়স ছিল এরকম (তালিকা টি আসলে আরও দীর্ঘ) –

        সাওদা – ৪৬ বছর
        আইশা – ০৯ বছর (০৬ বছরে বিয়ে, ০৯ বছরে সঙ্গম)
        হাফসা – ২৪ বছর (মতান্তরে ১৯ বছর)
        জায়হাব – অজানা
        ঊম্ম সালাম – ২৮
        রাইনাহ – ১৫ বছর
        জাইনাব – ২৮ বছর
        জিওায়রিয়া – ২০ বছর
        রাম্লাহ বিন্তে সুফিয়ান – ৩৩ বছর
        সাফিয়াহ – ১৯ বছর (মতান্তরে ১৬ বছর)
        বাররা – ৩৬ বছর (মতান্তরে ৩৭ বছর)
        মারিয়া (দাসী) ি)অজানা

        নবিজির বিবাহের Ghent chart টাও দিয়ে দিলাম

        এখন বলেন তো বিবি সাওদা ছাড়া, আর কে কে ছিল অতীব বয়স্ক ?

        http://wiki.answers.com/Q/How_many_wives_did_Prophet_Mohammed_have_and_what_were_their_names

        অসততার একটা সীমা থাকা উচিত, যেটা আপনার মতো মছল্মানেরা জানে না !
        মার্ক টোয়াইনের সেই অমর বানী টি দিয়ে শেষ করি – “Never argue with stupid people, they will drag you down to their level and then beat you with experience.”

        it was really a mistake to comment in your write up !

        আমি ভেবেছিলাম বাংলাদেশের গল্পকার রা এখনও কায়েস আহমেদ, ইলিয়াস, হাসান আজিজ, মামুন হুসাইন বা শাহাদুজ্জামান দের লেভেল টা ধারন করে ! আমি ভুল ! সংশোধন করে নেব, অসুবিধা নেই !

        আপনার পেশা নিয়ে আমার কোনও ধারনা নেই, কিন্তু আমার বিশ্বাস আপনি মাইক্রো ক্রেডিট – বা broker বা MLM ধরনের পেশায় ভালো করবেন, সাথে ইসলামি হজমি মিক্স তো আছেই !

        CHEERS !

        1. বাহ! “রাসেল’স টীপট” থিওরী তো
          বাহ! “রাসেল’স টীপট” থিওরী তো দারুন কাজে লেগে গেল! আপনি এখনও আমার মন্তব্যগুলোর ভুল ধরায় ব্যস্ত! তা দাদা, আমার প্রশ্নগুলোর জবাব কি দেবেন আদৌ?

        2. গোলাম সারওয়ার ভাই… আমি আসলে
          গোলাম সারওয়ার ভাই… আমি আসলে যে তাল গাছটির অস্তিত্বই নাই সে তাল গাছটির ডাল আছে কিনা? পাতা চেপ্তা কিনা? তাল ধরে কিনা? নাকি ঐ তাল গাছের মাঝে পাখির বাসাটি অনেক শৈল্পিক? নাকি তাল গাছে নারিকেল ধরে এইসব নিয়ে তর্ক করতে চাই না!!
          বেহুদা সময় নষ্ট না করে নিজের কাজে সময় দিন, কাজে আসবে…

          1. হুম… তর্ক এড়ানোর এটা একটা
            হুম… তর্ক এড়ানোর এটা একটা ভালো পন্থা বটে!

            তবে তারিক ভাই, একটা কথা কী- সমস্যা এড়িয়ে যাওয়াটা কোন সমাধান নয়। সমস্যার সমাধান চাইলে সেটাকে মোকাবেলা করতে হয়। আপনার মত অতীতেও অনেক প্রগতিশীলেরা এভাবে এড়িয়ে গিয়েছিলো বলেই তাদের জায়গাগুলো দখল করে নিয়েছে গোঁড়া মৌলবাদিরা। আজ একারণেই “শফি”দের ওয়াজে লাখ মানুষের ঢল নামে… অথচ আপনার কথা শোনার কেউ নেই!

            এতো অলস বা অধৈর্য বা বিরক্ত হলে চলে না! সাধারণ মানুষকে যদি আপনার কাতারে নিতে চান তো আগে আপনাকেই কষ্ট করে সাধারণের কাতারে নেমে আসতে হবে। তাদের কাছে যেতে হবে, আপন করতে হবে…
            তবেই না তারা আপনার কথা শুনবে, জানবে আর মানবে…
            নয় কি?
            :কনফিউজড:

  6. যাকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন তার
    যাকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন তার মন্তব্য কাম্য।
    আর একটি কথা সফিক ভাই, মিতু আপু আপনাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন নি। উনি উপমা দিয়েছিলো। উনার মন্তব্য দেখলেই বুঝা যায়। উনার সাথে আপনার কোন ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নেই যে আক্রমণ করবে।
    আপনি ঠাণ্ডা মাথায় পড়ে দেখেন উনি উপমা দিয়েছিলো, আক্রমণ নয়।

    1. উপমা! কি জানি- সুশীলরা
      উপমা! কি জানি- সুশীলরা মাদার*দ বললেও সুন্দর উপমা হয়ে যায়। আর কোরআন-এর “শস্য ক্ষেত্র” শব্দটা ভীষণ আপত্তিকর! উপমা হিসেবে সেটা রিতিমত অশালীন এবং তিব্র নারী বিদ্বেষী!

      আমি সুশীল নই, তাই আপনাদের এসব ব্যাপার স্যাপার সত্যি আমার মাথায় ঢুকে না…

      আপনার সাথে আমিও একমত- “যাকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন তার মন্তব্য কাম্য।”
      অপেক্ষায় আছি…

      1. না সফিক ভাই, বুঝছেন না। উনি
        না সফিক ভাই, বুঝছেন না। উনি আপনাকে গাল দেওয়ার জন্য এটা লিখে নাই। বুঝাতে চেয়েছে যে আপনাকে প্রথমে মাদা** বলল, পরে আবার প্রশংসা করলো, তখন আপনার কেমন লাগবে।
        ব্যাপারটা হচ্ছে এমনি। অন্যকিছু নয়।

        1. কোরআনে কি নারীদের এভাবে “জুতা
          কোরআনে কি নারীদের এভাবে “জুতা মেরে গরু দান” করা হয়েছে কোথাও? এতো বড় একটা পোস্ট লিখলাম… তবুও একথা বললেন!
          আমি হতাশ…

          1. সেকি! আপনার একটা পোস্ট আর
            সেকি! আপনার একটা পোস্ট আর কমেন্টের প্রেক্ষিতে এতো কিছু হয়ে গেল… আর আপনি দাঁত (জিহ্বা) বের করে হাসতেছেন!!! :মাথাঠুকি:
            কি আজিব! :খাইছে:
            আপনার প্রতি অনেক অভিমান জমে আছে… :ক্ষেপছি: শীঘ্রই আমার পোস্টের ওপর কমেন্ট করেন। নইলে কিন্তু খেলুম না! :কথাইবলমুনা:

  7. সফিক ভাইয়া, take your time !
    সফিক ভাইয়া, take your time ! আমার কোনও তাড়া নেই আপনার উত্তর শোনার ! দিনের শেষে আপ্নিও বেঁচে থাকুন আমিও বেঁচে থাকি, সস্তি তে শান্তি তে, এটাই আমি চাই। আপনার সামর্থ্য বিষয়ে আমি তো কোনও কথা বলিনি, আপনি যদি “শস্যক্ষেত্র” কে পরম প্রেমময় phenomenon বানিয়ে দিতে পারেন, আপনি আমার মন্তব্যের উপর আরও ৫০ পাতা লিখতে পারেন, সে আমি জানি । আপনার প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জবাব দিহিতা আমার নেই দুইটি কারনে

    ১/ মূল লেখাটি আমার নয়, আপনি প্রশ্নগুলো মূল লেখক কে করেছেন, আমাকে নয়
    ২/ আমি যেহেতু কোনও ধরমগ্রন্থ বিশ্বাস করিনা, সুতরাং আমার কোনও claim নেই, কে বৃষ্টি দেয় আর কে সাত আসমান কে control করে, আমি সায়েন্স এর ব্যাখ্যা কেই আমার ব্যাখ্যা মনে করি । কিন্তু আপনি – আপনারা তো claim করেন, জগতের সকল ভালো বিষয়ক, কুরআন কে বলেন “the complete code of life”, তাই আপনাদের claim গুলো কে আপনাদের কেই ব্যাখ্যা করতে হবে, সেজন্যেই তো রাসেল এর কেতলি তত্ত্ব টার কথা বললাম (পড়েছেন নিশ্চয়ই ? ইন্টারেস্টিং নাহ ?)

    আর হ্যাঁ, আপনি কিন্তু আমার আদি প্রশ্নটির উত্তর দেন নি (দেন নি, কারন আপনার প্রতিউত্তর লেখাটি ছিল আসলে লেখক মিতুর জন্যে) – আবারও বলছি, কেন কুরআন আরবি তে নাজেল হয়েছিল ? কেন বাঙলা বা হিব্রু বা চিনা ভাষায় নয় ?

    আপনার – আপনাদের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে বলি, ভাইয়া, আসুন দৃষ্টি টাকে একটু প্রসারিত করি – পৃথিবী তে অনেক রাষ্ট্র ধর্ম গ্রন্থ ছাড়াই চলছে – সেখান কার মানবাধিকার পরিস্থিতি, সমাজিক মূল্যবোধ, উন্নয়ন, সম্পদের সুষমতা এগুলি নিয়ে কথা বলি আসেন । চীন, জাপান,স্কান্দিনেভিয়া র দেশগুলো কি ইরান,পাকিস্তান বা বাংলাদেশের চাইতে খারাপ আছে ?

    ভালো থাকবেন, অন্তত, আমাকে উত্তর দেয়ার জন্যে আপনার দৈনন্দিন কাজ ফেলে পরিশ্রম করার দরকার নেই । সময় করে বাহাস করা যাবে ! CHEERS !

    1. উত্তর দিতে না পারলেও প্রশ্ন
      উত্তর দিতে না পারলেও প্রশ্ন তো আরেকজনকে নিয়ে করা পোষ্টে ঠিকই করে ফেলেছেন। তো উত্তর দিলে সমস্যা কি!

    2. কিছু উত্তর আশা করি পেয়ে গেছেন
      কিছু উত্তর আশা করি পেয়ে গেছেন ইতি মধ্যে। একটা বাকি ছিল- কোরআন কেন অন্য ভাষায়…

      সেটা কোরআনেই খুব সুন্দর করে বলা আছে- “আমি কোরআনকে আপনার ভাষায় নাজিল করেছি, যাতে তারা সহজে বুঝতে পারে।”
      (কোন সূরার কোন আয়াত তা রেফারেন্স দিতে পারলাম না। আমি তো আর জাকির নায়েক না! 😛 )

      এখানে রাষ্ট্র ধর্মের কথা কেন আসছে? কথা হলো ঐ (চীন, জাপান,স্কান্দিনেভিয়া) দেশগুলোর লোকেদের কি কোন নিজস্ব ধর্ম বা ধর্মগ্রন্থ নেই? তারা কি শুধু সংবিধানই মানে নাকি ধর্ম-কর্মও করে? সুশৃঙ্খল সমাজে সংবিধানের বাইরেও কি নৈতিকতা বা কোন একটা নীতিশাস্ত্রের দরকার হয় না? সেই নীতিশাস্ত্রটাকেই আমি “ধর্মগ্রন্থ” বলি।

      যদি বলেন সংবিধানই যথেষ্ট তাহলে বলব- পরচর্চা, গীবত বা বাবা-মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করার জন্য সংবিধানে তো কোন আইন নেই! কিংবা দৈনন্দিক জীবনের ছোট-খাট মিথ্যা বলা, প্রতারনা করার জন্য নিশ্চয়ই পুলিশ আমাকে এরেস্ট করবে না! কিন্তু স্পষ্টতই এগুলো খারাপ গুণ! এমন আরো অনেক খারাপ গুণ আছে যেমন- হতাসা, আলস্য… যার জন্য কোন রাষ্ট্রীয় শাস্তি বিধান নেই! আপনি কোন নীতিশাস্ত্র ব্যতিত এগুলো নিয়ন্ত্রণ করবেন কিভাবে?

      [জবাব না দিলে কিন্তু কষ্ট পাব!]

      1. এই অংশও টুকু ও প্রমান করে
        এই অংশও টুকু ও প্রমান করে আপনি কি পরিমান কুয়োর ব্যাঙ ! Scandinavian প্রত্যেক টি দেশের ডকুমেন্টেশন হচ্ছে সব চাইতে সুলভ ও স্বচ্ছ ! এদের human development index গুলো নিয়ে একটু জানুন ! পড়ুন এবং পড়ুন ! ব্লগ এ লেখা ফ্রি বলেই এর কোনও মানে নেই যে আপনাকে সকাল বিকাল লিখতে হবে ……… অনেক বেশী পড়ে সামান্য কিছু লিখুন, সেটা সবার জন্যে কাজের হবে ! আপাতত মন টাকে একটু রিফ্রেশ করুন এই লিংক গুলো দিয়ে !

        http://en.wikipedia.org/wiki/Importance_of_religion_by_country

        http://www.salon.com/2012/08/29/eight_of_the_best_countries_to_be_an_atheist/

        http://www.theblaze.com/stories/2012/08/09/these-are-the-10-most-atheistic-and-religious-countries/

        http://www.usnews.com/opinion/articles/2009/02/11/5-least-religious-countries-in-the-world

        আর এসবের পরেও যদি আরও deep dive করতে চান, তাহলে, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এর কান্ট্রি রিপোর্ট গুলো পড়ে দেখতে পারেন ।

        1. লিঙ্ক নয়, উত্তর
          লিঙ্ক নয়, উত্তর চেয়েছিলাম!
          এরকম হাজার খানেক লিঙ্ক আমিও দিতে পারি। ইন্টারনেট-এ এরকম লিঙ্ক সার্চ দিলেই পাওয়া যায়!

          ধর্মের গুরুত্ব রাষ্ট্রের কাছে আছে কিনা সে প্রশ্ন আমি তুলিনি। আমার একটা সুস্পষ্ট বক্তব্য ছিল- সেটা পড়ুন এবং উত্তর দিন।

          [আপনার দেয়া লিঙ্কগুলোর মধ্যে ১মটা হচ্ছে উইকিপিডিয়ার একটা জরিপ রিপোর্ট। আপনি পড়ে দেখেছেন কি সেখানে বাংলাদেশের ১০০% জনগণ বলেছে ধর্মের প্রয়োজন আছে! অপর দিকে এমন কোন দেশ পাওয়া যায়নি যে দেশের নূন্যতম ১৬.৫% লোকও ধর্মের পক্ষে ভোট দেয়নি! এমনকি খোদ USA-65%, Mexico-78%, Canada-42%, Switzerland-41.5%, Russia-33%, UK-26.5%, Japan-23.5%, Germany-40.5%, France-29.5%,এর মত উন্নত দেশগুলোর সমীক্ষা দেখুন! আপনার দৃষ্টিতে এর চেয়ে উন্নত দেশ কোনগুলো? এমন কোন উন্নত দেশতো পাওয়া গেলনা যাদের জনগন ধর্মের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করেছে! আপনার বক্তব্য তো রিতিমত স্ববিরোধী হয়ে গেল ভাই!]

    1. এই যে মি: ব্রক্ষ্ম পুত্র!
      এই যে মি: ব্রক্ষ্ম পুত্র! ব্লগে লিখতে কি আপনার কালি খরচ হয় নাকি?
      বরাবরই খুদে কমেন্ট করে রিতিমত বাচাল যাত্রী নং 1 হয়ে যাচ্ছেন! কিছু তো বলুন…
      🙂

  8. আমি আসলে ঠিক বুঝতে পারছি না
    আমি আসলে ঠিক বুঝতে পারছি না সফিক ভাই আমার নামটা কেন জুড়ে দিলেন! তবে আমার এই বিষয়ে কিছুই বলার নেই যখন দেখি তিনি নারীকে বর্গা নেয়া জমি মত করে চাষ করে গেছেন যখন যেভাবে খুশি? দেখেন বর্তমানে একজন কনট্রাক্টরের সাথে চুক্তি করলেও আমরা তার মতামত নেই। এর থেকে বেশী কিছু বলতে চাই না। একজন সুস্থ সবল মানুষ পুরাটা পড়তে পারে আমি বিশ্বাস করি না। আমি পারি নি… ভাবতেই অবাক লাগে আমার মা-কে জিজ্ঞেস না করে তার চলাফিরা পছন্দ সবকিছুই কি সুন্দর করে নির্দিষ্ট করে দিয়েছি… এইসব নিয়ে এত কথা বলার কিছু নাই। হুদাই সময় নষ্ট।

    যুগে যুগে নারী আসলেই পুরুষের হাটে জিম্মি হয়ে আছে! আর পুরুষদের সবচে বড় অস্ত্রই হচ্ছে ধর্ম। এই অবরোধবাসিনীদের একজন কি বলে দেখিঃ
    “শিশুকে মাতা বলপূর্বক ঘুম পাড়াইতে বসিলে, ঘুম না পাওয়ায় শিশু যখন মাথা তুলিয়া ইতস্ততঃ দেখে তখনই মাতা বলেন, ঘুমা শিগগির ঘুমা! ঐ দেখ জুজু! ঘুম না পাইলেও শিশু অন্তত চোখ বুজিয়া পড়িয়া থাকে। সেই রুপ আমরা যখন উন্নত মস্তকে অতীত ও বর্তমানের প্রতি দৃষ্টিপাত করি, অমনই সমাজ বলে, ঘুমাও ঘুমাও ঐ দেখ নরক! মনে বিশ্বাস না হইলেও অন্তত আমরা মুখে কিছু না বলিয়া নীরব থাকি।”— বেগম রোকেয়া!

    1. ভালো বলেছেন । আমিও মাঝে মাঝে
      ভালো বলেছেন । আমিও মাঝে মাঝে ভাবি, ধুর ! সময় নষ্ট ! মাঝে মাঝেই মার্ক টোয়াইনের সেই বিখ্যাত উক্তি টি মনে পড়ে……… তর্ক বিতর্ক বিষয়ক ! আপাতত মন খুব ই ই খারাপ …… ! আচ্ছা একটা sincere প্রশ্ন, বেগম রকেয়া কি নাস্তিক ছিলেন ?

      1. কি ছিলেন আমি জানি না তবে
        কি ছিলেন আমি জানি না তবে সুস্থ মানুষ ছিলেন এইটা নিশ্চিত;
        আর মনে রাখবেন ‘ধর্মীয় মৌলবাদ একটি নিরাময়যোগ্য মানসিক ব্যাধি
        এইটা ভাই আমার sincere উত্তর…

        নারী আজ দাসপ্রথা থেকেও জটিল প্রথায় বন্ধী কারণ দাস প্রথায় দাসেরা প্রথার বিরোধিতা করত কিন্তু এইটা এমন প্রথা যার সম্মোহনে নারীরাই সম্মোহিত, আর তাই মুক্তি আজও সুদূরপরাহত…

    2. আপনি কি নিশ্চিত- যে নারীকে
      আপনি কি নিশ্চিত- যে নারীকে “জিজ্ঞেস না করে তার চলাফিরা পছন্দ সবকিছুই কি সুন্দর করে নির্দিষ্ট করে” দেয়া হয়েছে?

      আপনি যখন আমার পুরো লেখাটি পড়েনই নি তখন আর কী বলব?
      আপনার জন্য আমার চ্যালেঞ্জটার একটা মিনি ভার্শন- আপনি একটা সমাজ ব্যাবস্থা বাতলে দিনতো যেখানে “সবার অধিকার অক্ষুন্ন রেখে এবং প্রকৃতিকে কোনভাবে বাধাগ্রস্থ না করে, অর্থাৎ, সভ্যতা বিকাশে সম্পূর্ণ অনুকুল পরিবেশ রেখে নারীকে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দেয়া যায়।”
      দেখি বিষয়টা কী দাঁড়ায় এবং কয়টা প্রজন্ম সেটাকে স্বস্তির সাথে পালন করতে পারে!
      আমিও সত্যি হাপিয়ে উঠেছি। আমি নারীদের কাছেই শুনতে চাই- কী পেলে জগতের সবাইকে প্রাপ্য অধিকার দিয়েও নারীর সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি অর্জিত হবে?

  9. বাংলার আকাশে জোকার নায়েকের
    বাংলার আকাশে জোকার নায়েকের ঘনঘটা :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:
    যাইহোক সফিক এহসান আপনাকে যতটা বলদ ভেবেছিলাম এখন দেখছি আপনি তার চেয়ে বেশি। আপনি আমাকে নিয়ে পোষ্ট লিখেছেন দেখে কৃতার্থ হলাম এবং ভাবলাম আমি ঠিকই বলিয়াছি। আপনার পোষ্টে যে আবালীয় ব্যাখা দিয়েছেন তাতে মন্তব্য দেয়ার আগ্রহ পাচ্ছিলাম না। তারপরও আপনি এতো বড় একখান পোষ্ট প্রসব করেছেন বলে কথা।
    আপনি যে আলোচনা শুরু করেছেন তার প্রথমেই কত বড় অপমান করা হয়েছে নারীকে খেয়াল করেন

    “২২২. আর আপনার কাছে জিজ্ঞেস করে হায়েয (মাসিক/ঋতু) সম্পর্কে। বলে দিন, এটা অশুচি। কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন উত্তম রূপে পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে, তখন গমন কর তাদের কাছে, যেভাবে আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তওবাকারী এবং অপিবত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন।

    আর আপনার কাছে জিজ্ঞেস করে হায়েয (মাসিক/ঋতু) সম্পর্কে। বলে দিন, এটা অশুচি। এইটা অসুচি সে ব্যাপারে আপনি একমত পোষন করেছেন। আবার বলেছেন ডাক্তারি ভাবে এটা প্রমানিত। সভ্যাতার ইতিহাস সম্পর্কে আপনার জ্ঞান যে বিন্দুমাত্র নেই সেটা আগেই শিউর ছিলাম। ইসলাম আসার আগে থেকে নারীকে সর্বচ্চ সম্মান দেয়া হত তাদের সন্তান ধারন ক্ষমতার কারনে। এবং ঋতুকালীন সময়টাকে মনে করা হতো নারীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন এবং সম্মানের।
    এমন বহু জায়গা দেখাতে পারবো, কিন্তু কষ্ট করে লিখে আপনার মতো আবালের উত্তর দেয়ার এনার্জি নাই আমার।
    বিঃদ্রঃ আমারে উত্তর দিবেন আমার পোষ্টে, নাম উল্লেখ করে ব্লগে এইসব আবাল পোষ্ট প্রসব করা থেকে বিরত থাকলে খুশি হবো। সামু বা মোল্লাগো জিহাদি বা নুরে ইসলাম টাইপের ব্লগে এইসব পোষ্ট প্রসব করেন, বাহবা পাবেন। বুইছুইন
    আরো একটা কথা- এই পোষ্ট দিয়েছেন দুপুরে। সব পাব্লিক রাস্তায় নেমেছে গোলাম আযমের ফাঁসির দাবিতে, তখন আপনি বসে বসে ধর্মা চর্চা করছেন। লক্ষন কিন্তু ভালো না। তা রাজাকারের ফাঁসি চান তো?

    1. আপু আমার আগের মন্তব্যটি পড়লে
      আপু আমার আগের মন্তব্যটি পড়লে বুঝতে পারবেন। ঠিক এই কারণেই আমি পোস্টটির ২৫% পড়ে পড়ার রুচি হারায় ফেললাম। তার কারণ উপরে বলেছি আবারও বলছিঃ
      আমার এই বিষয়ে কিছুই বলার নেই যখন দেখি তিনি নারীকে বর্গা নেয়া জমি মত করে চাষ করে গেছেন যখন যেভাবে খুশি? দেখেন বর্তমানে একজন কনট্রাক্টরের সাথে চুক্তি করলেও আমরা তার মতামত নেই। এর থেকে বেশী কিছু বলতে চাই না। একজন সুস্থ সবল মানুষ পুরাটা পড়তে পারে আমি বিশ্বাস করি না। আমি পারি নি… ভাবতেই অবাক লাগে আমার মা-কে জিজ্ঞেস না করে তার চলাফিরা পছন্দ সবকিছুই কি সুন্দর করে নির্দিষ্ট করে দিয়েছি… এইসব নিয়ে এত কথা বলার কিছু নাই। হুদাই সময় নষ্ট।
      যুগে যুগে নারী আসলেই পুরুষের হাটে জিম্মি হয়ে আছে! আর পুরুষদের সবচে বড় অস্ত্রই হচ্ছে ধর্ম। এই অবরোধবাসিনীদের একজন কি বলে দেখিঃ
      “শিশুকে মাতা বলপূর্বক ঘুম পাড়াইতে বসিলে, ঘুম না পাওয়ায় শিশু যখন মাথা তুলিয়া ইতস্ততঃ দেখে তখনই মাতা বলেন, ঘুমা শিগগির ঘুমা! ঐ দেখ জুজু! ঘুম না পাইলেও শিশু অন্তত চোখ বুজিয়া পড়িয়া থাকে। সেই রুপ আমরা যখন উন্নত মস্তকে অতীত ও বর্তমানের প্রতি দৃষ্টিপাত করি, অমনই সমাজ বলে, ঘুমাও ঘুমাও ঐ দেখ নরক! মনে বিশ্বাস না হইলেও অন্তত আমরা মুখে কিছু না বলিয়া নীরব থাকি।”— বেগম রোকেয়া!

      1. দাদা, এতো রাগলে চলে? সমাজের
        দাদা, এতো রাগলে চলে? সমাজের সবাই যদি আপনার মতো সমমনা হতো তাহলে তো আর কলম ধরারই দরকার ছিল না, দরকার ছিলো না এই ব্লগেরও! সমাজের কিছু লোক আমার মত বেকুব, ছাগু, আ*াল থাকবে, তারা ভুল ভাল কমেন্ট করবে… আপনারা জ্ঞানীরা সেসব ঠাণ্ডা মাথায় ধরিয়ে দেবেন- নইলে আর আপনারা আছেন কেন? 😀

        ২৫% পোস্টও পড়েননি, যদি পড়তেন তাহলে দেখতেন আপনার উত্থাপিত বিষয়টার একটা ব্যাখ্যা সেখানে ছিল। যাক, আপনি যেহেতু সুস্থ মানুষ- আপনি না হয় না-ই পড়লেন। বাকিরা অসুস্থ ছিল, তারা তাই পুরোটাই পড়েছে… :মনখারাপ:

        একটা কথা জানার ছিল। আপনি বললেন- “একজন কনট্রাক্টরের সাথে চুক্তি করলেও আমরা তার মতামত নেই।”
        আমরা বলতে কি বোঝালেন? আপনিও আছেন নাকি ঐ দলে! :খাইছে:

        যাগগে, অনেক বাজে কথা বলে ফেললাম। এই উদ্ধত আচরনের প্রতিবাদে কটাক্ষ করে কী জবাব দেয়া যায় সেটা ভাবতে থাকুন…
        কী আর করা যাবে বলুন? এটা তো আর ফেসবুক নয়- যে দিলেন ব্লক মেরে! ব্লগে ব্লক মারা যায় না! তাই হয়তো আবারও অন্য কোন পোস্টে এই একই ভাবে “আ*ল মার্কা” কমেন্ট নিয়ে হাজির হবো! যতদিন ধৈর্য ধরে বুঝিয়ে শুনিয়ে জবাব দিয়ে আমার জ্ঞান চক্ষু না খোলাতে পারছেন ততদিন এই অত্যাচার তো সহ্য করতেই হবে… কি আর করা!

        তবে আমার পোস্টে আপনাদের (বিশেষ করে মিতু আপুকে) কিছু প্রশ্ন করেছিলাম। সেগুলোর ব্যাখ্যার ধার ধারলো কেউই! এটাই শুধু আপসুস… :মনখারাপ:

        1. হুম!! পুরকৌশলের প্রকৌশলী
          হুম!! পুরকৌশলের প্রকৌশলী হিসেবে আমি কন্ট্রাক্টরের সাথে চুক্তি করি বটে তবে
          নারীকে তেঁতুল বানিয়ে নিষ্পেষিত করার দলে আমি নাই…
          তবুও অতি হাস্যকর একটা মন্তব্যের প্রতি মন্তব্য করালাম…

          1. “নারীকে তেঁতুল বানিয়ে
            “নারীকে তেঁতুল বানিয়ে নিষ্পেষিত করার দলে আমি নাই…”
            আমিও তো নই! তাহলে বিরোধটা বাধছে কেন? এই প্রশ্নটার উত্তর খোজার জন্যই আমি আলোচনায় আগ্রহী… অথচ আপনি বরাবরই আমাকে প্রত্যাখ্যান করে দূরে ঠেলে দিচ্ছেন!
            যদি কাছে টেনে নিতেন, তাহলে বুঝতেন- আমি আপনাদেরই লোক!
            আপনারা যেটা এককথায় “খারাপ” ট্যাগ দেন, আমি সেই “খারাপ”টা নিয়ে গবেষণা করি- কেন এটা খারাপ? খারাপই যদি হবে তবে লোকে খায় কেন?

            আপনারা বলেন- খারাপটা খেয়ে মূর্খ লোকগুলো গোল্লায় যাক। ধ্বংস হয়ে যাক এই পঙ্কিল সমাজ…
            আমি বলতে চাই- একটু চেষ্টা করে দেখিই না, এই লোকের খাদ্যাভ্যাস না বদলে খারাপটার মাঝেই ভালো ঢুকিয়ে দেয়া যায় কিনা! ধ্বংস হতে না দিয়ে ধীরে ধীরে আরোগ্য করা যায় কিনা…

            এটাই বোধহয় তফাৎ… আমার অন্তত তাই মনে হয়েছে। একবার আমার সম্পর্কে আপনার মাথায় সেট হয়ে থাকা ধারনাটা পাল্টে ফেলে আমাকে আপন করে নিয়ে দেখুন- আপনার আন্দোলনের পথে আমিও যে সহযোদ্ধা হবার অপেক্ষায় আছি!

            :ফুল: ভালো থাকুন সব সময়… চির কল্যানেষু…

      2. পোস্টটির ২৫% পড়ে পড়ার রুচি

        পোস্টটির ২৫% পড়ে পড়ার রুচি হারায় ফেললাম।

        তারিক লিংকন ভাই । আপনি এই কথাটা বললেন । তো আপনি নারীদের সম্মান করেন শ্রদ্ধা করেন বা আরও কিছু করেন এই জন্য আপনি আর পড়তে পারেন নি ।
        এইবার একটু চিন্তা করেন তো । কেউ যখন কোন ধর্মকে বর্গা নেয়া জমি মত করে চাষ করে যখন যেভাবে খুশি তখন যারা ধর্মকে মানে , ভালোবাসে তাদের কেমন লাগতে পারে ?
        উত্তরটা দিবেন আসা করি ।

    2. বাহ! কি চমৎকার বিশ্লেষণ! আমি
      বাহ! কি চমৎকার বিশ্লেষণ! আমি সত্যি মুগ্ধ!
      আচ্ছা অসুচির সজ্ঞা কী? আমি যদি বলি- ১৪শ’ বছর আগে যেটাকে “অসুচি” বলে অশিক্ষিত আরবদের একটা সহজ “বুঝ” দেয়া হতো, আজকের আধুনিক মেডিক্যাল সায়েন্স সেটাকেই “ইনফেকশন” বা তদ্রূপ ভারি ভারি বৈজ্ঞানীক ব্যাখ্যা দিয়ে বোঝায়!

      জানি, আমার যুক্তি ফালতু মনে হবে। কারণ, আপনি ইতিমধ্যেই আমাকে একটা মানদন্ডে ফেলে দিয়েছেন। যেটাকে বলে “Under estimate” করা! আমার সকল যুক্তিই এখন বা*-ছা* মনে হবে…

      তবে আপনার একটা কথায় অবাক না হয়ে পারলাম না- “ইসলাম আসার আগে থেকে নারীকে সর্বচ্চ সম্মান দেয়া হত তাদের সন্তান ধারন ক্ষমতার কারনে”
      যাক, ইসলাম আসার আগে তাহলে নারী সম্মানিতও হতো! কেউ একজন তবু বলল যে কোন না কোন কালে নারীকে সম্মান দেয়া হতো!

      আমাকে “আ*ল” বলেছেন, কোন দুঃখ নেই। নারীকে সম্মান দেয়া তো অনেক পরে, আগে মানুষকে তো সম্মান দেয়া শিখুন।
      বিঃদ্রঃ তে আমাকে দুপুরে পোস্ট দিতে দেখে খুব সহজে আন্দাজ করে ফেললেন আমি রাজপথে নাই! রাজ পথে তো আজ জামাত-শিবিরও ছিল! অফিস ও জীবিকার তাগিদের অন্য কাজগুলো ফেলে রাস্তায় থাকলেই কি আপনি আমাকে “শাহাবাগ আছি” বলে ট্যাগ দিতেন? আমার মনে হয় না!
      আপনি শুধু কটাক্ষ করতে শিখেছেন- সম্মান করতে নয়…
      সমাজের নোংরা বিষয়গুলো আপনার চোখে পড়ে, ভালোগুলো না!
      যাক, কাঁদা ছুড়া-ছুড়ি করবো না। তাছাড়া আপনার মত গালাগালের ওপর বিশেষ ভাষা দক্ষতাও আবার নেই।
      একজন নারী হিসেবে আমার মাকে যেমন শ্রদ্ধা করি, আপনাকে আমি শ্রদ্ধা করি!
      আপনি নাহয় আমাকে সমাজে ” আল্লামা শফি”র মত যেসব পুরুষ আছে তাদের প্রতি যে ঘৃণাটুকু আছে, সেটুকুই করলেন…

  10. লোভ, ভয় এসবই হলো ধর্মের মূল
    লোভ, ভয় এসবই হলো ধর্মের মূল ভিত্তি। কবরের আজাবের ভয় দেখানো হয়। বেহেস্তে হুরপরির লোভ দেখানো হয়। পৃথিবীতে মদ ও নারী নিষিদ্ধ করেছে ইসলাম অথচ কি হাস্যকর বেহেস্তে এই দুইটার লোভই দিয়ে রেখেছে মুমিনসদের জন্য। আবার ইসলামে বলা হয়েছে লোভ করা পাপ। কি হাস্যকর!

    1. সত্যি খুব হাস্যকর। তা আপনার
      সত্যি খুব হাস্যকর। তা আপনার দেয়া “নীতিশাস্ত্র”টা আমি কবে পাচ্ছি?
      এই গাঁজাখুড়ি বা*-ছা* দিয়ে ভরা ধর্মগ্রন্থগুলো পড়তে পড়তে অসহ্য হয়ে গেলাম। দিন না আমায় একটু আলোর দিশা! যাতে আমিও পেতে পারি একটা মুক্ত-স্বাধীন আলোকিত জীবনের স্বাদ…

      1. নীতিশাস্ত্র পড়ে লাভ নেই ।
        নীতিশাস্ত্র পড়ে লাভ নেই । দরশন পড়ুন,বিশ্ব ইতিহাস পড়ুন, আপনি হয়ত পড়েছেন অনেক, আরও পড়ুন, বিশ্ব রাজনীতি পড়ুন, সাম্প্রতিক সময়ে সে সমস্ত জাতি গত একশ বছরে পই পই করে উঠে গেছে তাঁদের ইতিহাস পড়ুন। আপনি চাইলে আপনাকে দর্শনের ও রাজনিতির কিছু বই এর নাম পাঠাতে পারি যা পড়ে উঠতে আপনার ১০ – ১২ বছর লাগবে এবং আপনি এক অন্য নিজেকে আবিস্কার করবেন, রাজি আছেন ? আপনি এখনও অনেক তরুন, সময় করে পড়ে উঠুন ! চাইলে বিনে পয়সায় pdf কপি ও পাঠাতে পারি ! যে গুলো already আপনি পড়েছেন, তার বাইরের কপি গুলো পাঠাতে পারি ! অন্তত কিছু major school এর পাঠ্য তালিকা পাঠাতে পারি ! sincere offer to you !

        আর হ্যাঁ, ওই গ্রন্থ গুলোর যে অইসব আবরজনাতে ভরা, আমি একমত আপনার সাথে

        1. পড়ার প্রতি কোন অনিহা নেই,
          পড়ার প্রতি কোন অনিহা নেই, নিঃসন্দেহে পাঠাতে পারেন। কিন্তু আমার প্রশ্নের উত্তরগুলো যে আমার ইন্সট্যান্ট দরকার। উত্তর না দিয়ে বই ধরিয়ে দেয়াটা পাশ কাটিয়ে যাওয়ারই শামীল।
          আপনি যেহুতু বই পড়েছেন- আপনার জ্ঞান থেকেই নাহয় আমাকে একটু আলোকিত করুন আপাতত…

      2. সফিক এহসান, আপনি তোঁ ধরেই
        সফিক এহসান, আপনি তোঁ ধরেই নিছেন মুক্ত স্বাধীন জীবনের স্বাদ ধর্মের কাছে মিলবে। তা আমার নীতিশাস্ত্রের দরকার পড়ে না। আমার বিবেক ও মানবতাবোধ আমাকে বলে দেয় কেমন কি করা উচিত আর না করা উচিত। আর যাদের এইদুইটাতে ঘাটতি আছে তাদের টর্চলাইট জালাই খুজতে হয় আলোর দিশা।
        আর ওভার স্মার্ট সাজার চেষ্টা করে আমার কাছে কোনো কাম হবে না ভাইজান, ইনিয়ে বিনিয়ে যাই বলার চেষ্টা করেন না কেন গন্ধটা সেই পুরোনো 😀

        1. নারে আপু, আমারও এতোদিন এরকমই
          নারে আপু, আমারও এতোদিন এরকমই ধারনা ছিল যে ধর্মই আলোর দিশা।
          আপনার ও “আপনাদের” কথায় আমার জ্ঞান চক্ষু খুলে গেছে! আমি এখন আপনাদের পথে হাটতে চাই। আমার বিবেক আর মানবতাবোধ তো আপনার লেভেলে না- তাই যদি কোন ডিরেকশন (বা নীতিশাস্ত্র) দিতেন, যা অনুসরন করলে আমিও আপনার মত চিন্তা করতে পারতাম…
          সারওয়ার ভাইয়ের মত কোন বইয়ের লিঙ্ক নয়। অন্যের রেফারেন্স আর কতো?
          আমি আপনার দেয়া একটা “পথ নির্দেশ” চাই যেটা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হলে সত্যি সত্যি কাংখিত সমাজ প্রতিষ্ঠা হবে…

          প্লীজ- হেল্প মি!

  11. আপনার লেখা পুরোটা পড়ার জন্যই
    আপনার লেখা পুরোটা পড়ার জন্যই শুরু করেছিলাম,কিন্তু যেই মুহূর্তে শয়তানের শয়তান, ভন্ডের ভন্ড জাকির নায়েকের একটি খোঁড়া যুক্তি ব্যাবহার করতে দেখলাম, সেই মুহূর্তে পুরোটা পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। অত্যন্ত দুঃখিত। জাকির নায়েকের ভন্ডামি এবং মিথ্যাচারের প্রমান বহু আগে প্রকাশ হয়ে গেছে। ইউটিউবে ভিডিও পাবেন। তাই জাকির নায়েকের যুক্তি সম্বলিত এবং সমভাবাপন্ন যুক্তি পাওয়ার আশায় পোস্ট টি স্কিপ করছি।

        1. মিতু আপু! আপনি কেন মাথা
          মিতু আপু! আপনি কেন মাথা ঠুকছেন বলুন তো! আসেন নাচি! জীবনে কোনদিন এই ইমোটা ব্যবহার করিনি। আজ আপনার সাথে শুরু হোক…

          :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

    1. খুব ভালো কাজ করেছেন… আপনাকে
      খুব ভালো কাজ করেছেন… আপনাকে অভিনন্দন!
      আপনার জন্য আমার একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস উৎসর্গ করলাম…
      https://www.facebook.com/sofiq.ahsan/posts/691059140909809?notif_t=like

      ভালো থাকুন… অনেক ভালো। পৃথিবীর তাবৎ শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক আপনার ওপর- এটাই আমার আন্তরিক কামনা… :ফুল: :ফুল: :ফুল:

  12. প্রথমেই সফিক এহসান ভাইকে তার
    প্রথমেই সফিক এহসান ভাইকে তার যৌক্তিক লেখাটির জন্য ধন্যবাদ জানাই।স্যালুট পাবেন কমেন্টের নো চান্স টাইপ উইনের জন্য।আর শস্যক্ষেত্র শব্দটি দিয়ে কিন্তু স্ত্রী দের ইন্ডিকেট করেছে কুরআন।বলেনি যে নারীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র।অর্থাৎ মূলত সন্তান উৎপাদনের জন্য স্ত্রী তেই সীমাবদ্ধ ইসলাম।বিবাহ বহির্ভূত কাউকে শস্যক্ষেত্র বানাতে বলা হয়নি।কারণ নারী পুরুষের যৌনমিলনের সাথেই সন্তান উৎপাদনের বিষটি সম্পৃক্ত।আর সন্তান মানুষ করতে কিন্তু একটা ফ্যামিলি লাইফ দরকার।কাবিননামায় আবদ্ধ ও ভালবাসা পূর্ণ সম্পর্ক বিশিষ্ট দম্পপতির পরিবারের একজন সন্তান আশাকরি সবাই হতে চান। আর যার মিতু আপুও হয়ত চাইবেন এমন কেউ তাকে শস্যক্ষেত্র বানাক যে তাকে ও তার সন্তানের ভরন পোষণ আশ্রয় বা যাবতিয় মৌলিক চাহিদা পূরণে বাউন্ড থাকবে এবং তারে ছাড়া লাঙ্গলের খায়েশ মিটাতে মাগীপাড়া বা তার কোন লুচ্চা বান্ধবীর বেডে যাবেনা।তো এ চাওয়া গুলো ইসলাম বাউন্ড করে দিয়েছে মানে পুরুষ কে মাইক্যা চিপায় রাখসে।”সুরা বাকারার ২৩৩ নং আয়াতের আংশিক অনুবাদঃ সন্তান ও জননীর ভরণপোষণের যাবতিয় দায়িত্ব পিতার উপর।”কি বাশ কি বাশ দিয়েছে ইসলাম পুরুষদের।মেয়েদের কোন চিন্তাই নাই।খালি লিষ্ট ধরায়া ঝাড়ি মারব।
    আরেক আয়াতে,সূরা নিসা আয়াত ২৪ এর আংশিক অনুবাদঃ “তোমরা তাদের মোহরানার বিনিময়ে কামনা করবে এবং আপন চরিত্র সুরক্ষিত রাখবে ও অবাধ যৌনতা থেকে বিরত থাকবে।”
    কি মিতু আপু পছন্দ হয়……
    আর কোন কামশীতল অথর্ব পুরুষকেও মনে হয় মিতু আপু বেডে চাইবেননা।অর্থাৎ যার লাঙ্গল দাড়ায় না :শয়তান: এবং শস্যক্ষেত্র চাশও করতে পারেনা।
    বাপ মার ঠিকানা নাই এমন দুঃখী দূর্ভাগা পোলাপাইন ইসলাম চায়না।
    সূরা নাহল আয়াত ৮০ আল্লাহ বলছেন,”আল্লাহ্ তোমাদের জন্য ঘরকে শান্তির আশ্রম বানিয়েছেন।”
    সন্তান কিন্তু মার পেটেই উদ্ভব হয়।যেমন ফসল ক্ষেতে উৎপন্ন হয়।লাঙ্গলের ফলায় না।
    আরও আরও অনেক কিছু লিখা যায়।আরেকটা ব্লগ হয়ে যাবে তাই চেপে গেলাম।

    1. একটু বেশি কড়া (ইনফ্যাক্ট
      একটু বেশি কড়া (ইনফ্যাক্ট অশালীন) হয়ে গেল না কথাগুলো! যাকগে, মন্তব্য ও রেফারেন্সগুলোর জন্য ধন্যবাদ…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *