জন্মদিনের উপহার


বিভা আর অপেক্ষা করতে পারছে না। আজ ওর ১১ তম জন্মদিন। সে বসে আছে তার বাবার জন্যে। কারন প্রতি জন্মদিনে বাবা তাকে সব চাইতে সুন্দর জিনিসটা গিফট করেন। আর বাবা কিভাবে কিভাবে যেন বুঝে যায় কোন গিফট টা পেলে বিভা সব চাইতে বেশি খুশি হবে।




বিভা আর অপেক্ষা করতে পারছে না। আজ ওর ১১ তম জন্মদিন। সে বসে আছে তার বাবার জন্যে। কারন প্রতি জন্মদিনে বাবা তাকে সব চাইতে সুন্দর জিনিসটা গিফট করেন। আর বাবা কিভাবে কিভাবে যেন বুঝে যায় কোন গিফট টা পেলে বিভা সব চাইতে বেশি খুশি হবে। বিভা মনে মনে যেই গিফট টার কথা ভাবে বাবা ঠিক সেইটাই নিয়ে আসেন। গতবার বিভা চেয়েছিল কেউ তাকে একটা ডরেমন গিফট করুক। শেষ মেশ দেখা গেল বাবাই ডরেমনটা নিয়ে এসেছে।

বিভা এবার খুব করে একটা টিয়া পাখি চাচ্ছে। একটা জ্যান্ত টিয়া পাখি। সে নিজের হাতে পাখিটাকে খাওয়াবে, কথা বলা শেখাবে, গান গাওয়া শেখাবে, পাখিটার সাথে খেলবে আরও অনেক কিছু করবে। বিভা পাখিটার একটা নামও ঠিক করে ফেলেছে। চুমকি। চুমকি নামে ডাকবে। এত নাম থাকতে চুমকি কেন বিভা তা জানে না, শুধু এই টুকু জানে পাখিটাকে সে চুমকি বলে ডাকবে।

গত ঈদে বিভারা যখন সোবাহান আঙ্কেলের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিল তখন একটা সুন্দর টিয়া পাখি দেখেছিল, রুমনের। কি যে সুন্দর দেখতে। সেই টিয়া পাখিটা কথাও বলতে পারে। পাখিটার সামনে যেতেই বিভাকে চমকে দিয়ে বলতে শুরু করলো টিয়া পাখিটা “ কেমন আছেন, কেমন আছেন”। টিয়া পাখি যে এভাবে কথা বলতে পারে তা নিজের চোখে না দেখলে বিভা কোনদিনও বিশ্বাস করত না। আর রুমন কি একটা নাম দিয়েছে। টিয়া পাখিটাকে ও ময়না বলে ডাকে। এটা কোন নাম হল। টিয়াকে ময়না বলে ডাকবে কেন। সারাদিন বিভা টিয়াটার চারপাশে ঘুরঘুর করলো। অনেক লজ্জা লাগা সত্ত্বেও বিভা একবার রুমনকে বলেছিল তার টিয়া পাখিটা কিছু দিনের জন্যে ধার হিসেবে দিতে। কথাটা বলার সাথে সাথেই রুমন বিভাকে অনেক জোরে চিমটি কেটেছে। বিভা কাওকে কিছু বলেনি। আম্মুকে বললে আম্মু আরও বিভাকেই বকে দিবে। আর আব্বুকে বলে নি লজ্জায়। এখন বিভার শুধু একটাই চাওয়া, টিয়া পাখি।


আজ টিয়া পাখিটা দেখে তার মেয়ে কি পরিমান খুশি হবে এটা ভাবতেই রহমান সাহেবের চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। অনেক কষ্টের সংসার তার। একজনের বেতনে এই ঢাকা শহরে বেচে থাকাটাই অনেক কষ্টকর হয়ে যায়। মাস শেষে হাত পাততে হয় আত্মীয় স্বজনদের কাছে। আগের কিছু দেনা থাকা সত্ত্বেও এক কলিগের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নিয়েই ফেললেন। অফিস শেষে সরাসরি চলে গেলেন কাঁটাবন। সেখান থেকে একটা টিয়া পাখি কিনে এখন বাসায় ফিরছেন।

তিনি ঈদ এর পর থেকেই লক্ষ্য করছেন তার মেয়ে টিয়া পাখি দেখলেই কেমন করে যেন তাকিয়ে থাকে। টিভিতে টিয়া দেখলে তার মুখে একটা অন্য রকম উজ্জলতা দেখা যায়। রহমান সাহেব বুঝতে পারেন বিভা তাকে কিছু একটা বলতে চায়। হয়তো লজ্জায় বলতে পারে না। মেয়েটা ছোট হলেও অনেক বুদ্ধিমতি। তাদের সংসারে যে শখ করে কোন কিছু চাইতে নেই এটা সে এখনই বুঝে গেছে। বিভা তাদের অনেক আদরের মেয়ে। এই একটা মাত্র মেয়েটাকে যদি তার জন্মদিনে কিছু দিতে না পারেন তো তার এই হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমের মুল্য কি রইল।


রকিরা আজ একটা মাইক্রো ভাড়া করেছে। তারা সারাদিন এই মাইক্রোতে ঘুরছে। একটার পর একটা বিয়ার খেয়ে যাচ্ছে । নেশায় তাল রাখতে পারছে না কেউই। নেশায় মাতাল রকি মজা করার জন্যে তার পাশ দিয়ে যাওয়া বাসের ড্রাইভার এর মুখে বিয়ার ক্যান দিয়ে ঢিল ছুড়ল। ড্রাইভার চমকে গিয়ে তাল রাখতে না পেরে গাড়ি পাশে থাকা ল্যাম্পপোস্টের সাথে লাগিয়ে দিল। সেই বাসে কারো কোন ক্ষতি না হলেও এক টিয়া পাখি ওয়ালা মাথায় প্রচন্ড আঘাত পায়। লোকটার মাথা ফেটে প্রচুর রক্ত পড়ছে। সবাই ধরাধরি করে হাঁসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে তাকে।

হাঁসপাতালে নেয়ার আগেই সেই টিয়া ওয়ালা এমন এক দেশে চলে গেলেন যেই দেশ থেকে শত চেষ্টা করলেও তিনি আর টিয়া কিনে দিয়ে তার মেয়ের হাসি মাখা মুখটা দেখতে পারবেন না।

৭ thoughts on “জন্মদিনের উপহার

  1. চারদিকে শুধু মন খারাপ করা
    চারদিকে শুধু মন খারাপ করা ব্যাপার স্যাপার। গল্প পড়েও মন খারাপ হইলে ক্যামনে কি? :মনখারাপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *