জনসংখ্যা সমস্যা ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের করনীয় (২য় পর্ব)




পাঠক যারা এই সম্পর্কিত আমার পূর্বের পোস্টটি পড়েননি তারা আগে এই লিখাটা একটু পরে নিবেন, ইস্টিশনে আছে ‘জনসংখ্যা সমস্যা ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের করনীয়’ এই শিরোনামে। ঐ লিখাটি পোস্টিত হয়েছে ২৮ জুন ২০১৩ তে অর্থাৎ পক্ষকাল পূর্বে বা ১৫ দিন আগে যখন বিশ্বের জনসংখ্যা ছিল ৭১২ কোটি। আজকের লিখায় যাওয়ার আগে পৃথিবীর এই মুহূর্তের জনসংখ্যা কত একটু জেনে আসি। ওয়ার্ল্ড ও মিটারের মতে ঠিক এই মুহূর্তের জনসংখ্যা ৭১৬ কোটি ছাড়িয়ে ৭১৭ কোটি ছুই ছুই করছে অর্থাৎ ১৫ দিনে ৪ কোটি তাহলে ১ বছরে কত হবে? তাহলে কি বিশ্বের জনসংখ্যা ২০৫০ এ ১০০০ কোটিও ছাড়িয়ে যাবে, যে ধারনা ছিল ৯৫০ কোটির মত? একটু লক্ষ্য করুণ এইখানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা দেখাচ্ছে ১৫ কোটি ৬৬ লক্ষ যার অর্থ বিশ্বের জনসংখ্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। এইবার জনসংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বের সেরা বিশটি দেশের পারফর্মেন্স একটু দেখেনঃ

এই প্রসঙ্গে সমস্যার সমাধানে আমার প্রথম লিখায় আমি দেখিয়েছে গতানুগতিক পদক্ষেপের বাইরে নতুন করে সরকারের কি করনীয় আছে। আমার বক্তব্যের সাথে অনেককে বললে ভুল হবে প্রায় সবাইকেই সহমত বা একমত হতে দেখেছি। আজকের লিখায় আমার ছোট মাথার পর্যবেক্ষণে দেখাতে চাই বাংলাদেশে বিয়ের বৈধ বয়সের বয়সসীমা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কি কি সামাজিক বাধা সরকারকে বা আধুনিক সমাজচিন্তাকে পেতে হবে আর সেই সব বাধা পেরুনোরই বা কি কি পথ বিদ্যমান!
বিবাহের বৈধ বয়সসীমা বৃদ্ধির বাধা ও তার প্রতিকার সমূহঃ
১) আমাদের অশিক্ষিত বা স্বল্পশিক্ষিত জনগনই না বেশীরভাগ শিক্ষিত মানুষের ধারনাও তার বিবাহের বয়স বেশী হয়ে গেলে বা বেশী বয়সে সন্তান নিলে তার সন্তানের পূর্ণবয়স হতে হতেই সে মারা যাবে অথবা সে শয্যাগত হবে (অসুখ-বা শাররিক অসমর্থতায় বা অসুস্থতায়) আর তার পরম মমতার বংশধর আকুল পাথারে পরবে। এমন তর্কে আমি আমার বাবার সংসারের উদাহরণটাই দিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনায় যাব আমরা ৫ ভাই আমি সবার ছোট। আমার বাবার বিয়ে হয়েছে ২২-২৩ বছর বয়সে যখন তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ডিগ্রী পাশ করেন ১৯৬৮ সালে অর্থাৎ ১৯৪৬ এ জন্ম নেয়া বাবার বয়স এখন ৬৫-৬৬ বছর। তার ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্ত চাপ আছে, তিনি অবসরে গেছেন ২০০৭ সালে অর্থাৎ যখন তার কাগজের বয়স ৬০ বছর;কাকতালীয় যে আমিও পড়াশুনা (চাকুরী করার মত পড়াশুনা!) শেষ করেছি ২০০৭ এ আজ ৬ বছর ধরে চাকুরী করছি। তাহলে আমি যদি ২০১৪-১৫ তে ৩১-৩২ বছর বয়সে বিয়ে করি তবে দু সন্তানের পিতা হলে আমার বয়স যখন গড় আয়ুর সমান অর্থাৎ ৬৫ বছর তখন আমার ছোট সন্তানের বয়স হবে ২৩-২৫ বছর যার অর্থ বড় সন্তান ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা জানি বর্তমানে ২২/২৩ বছর বয়সেই শিক্ষিতরাই চাকুরী শুরু করতে পারে। এখন হয়ত কেউ কেউ বলতে শুরু করবেন যে যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে? সেক্ষেত্রে আমি বলব আপনি যে বিয়ের পর বউকে পোয়াতি করেই মরে যাবেন না তার নিশ্চয়তা কি? জীবন দুর্ঘটনার কথা চিন্তা করে চলে না নিজ গতিতে চলে।। সুতরাং এই চিন্তাই যারা ২১-২৩ বছর বয়সে বিয়ের করার পক্ষপাতী তাদের ধারনা ভুল। আর ৩১-৩২ বছর (পুরুষ) বয়সে বিয়ে করলে কি কি সুবিধা পাবেন বা কম বয়সে করলে কি কি সমস্যায় পড়বেন একটু দেখুনঃ

ক) আপনি মাত্র চাকুরী করে বিয়ে করবেন বলে আর্থিক চরম কষ্টে কাটবে নতুন সংসার। বউয়ের কাছে লাঞ্ছিত হবেন শ্বশুর বাড়ির কথা বাদই দিলাম। আর যদি বাবার টাকায় বিয়ে করতে চান তবে বলব আপনার আত্মসম্মানবোধের ঘাটতি আছে (বলতে বাধ্য হলাম)।
খ) তারুণ্যের ঘুরাঘুরি আর সব বাউন্ডলেপনা থেকে বঞ্চিত হবেন। জাদিপাই থেকে রাতারগুল বা সুন্দরবন থেকে সেন্টমারটিন এর লোভ নাইবা দেখালাম। আর এমন ভাবার কারণ নেই পরে আর ঘুরতে পারবেন না। পরে বিয়ে করলে আপনার স্বাধীন ও উচ্ছল জীবনও দীর্ঘায়িত হবে আবার আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়ে পরে সংসার নিয়েও সুখে থাকতে পারবেন।
গ) অল্প বয়সেই বুড়া হয়ে যাবেন। দেরীতে বিয়ে করলে আপনার মধ্যে স্বাস্থ্য ঠিক রাখার একটা ইচ্ছা থাকবে যা আপনাকে ফিসিক্যালি ফিট ও সুস্থ রাখবে। ২২-২৩ এ বিয়ে করলে আপনি ৩২-৩৫ এই বুড়া হয়ে যাবেন, আর ৩১-৩২ এ বিয়ে করলে আপনি ৪০ গিয়ে তারুণ্য হারানো শুরু করবেন। আর আমার নিজেরই অবাক বা অপমান লাগত যখন ২৫/২৬ বছর বয়সে কেউ আমাকে বাবা বলে ডাকত।
ঘ) অল্প বয়সে বিয়ে করলে ধরে রাখেন আপনি ২ এর অধিক সন্তানের গর্বিত মা অথবা বাবা হবেন। আশা করি এইটা কেউ চান না। আর আপনি ২৫ বছর বয়সে সন্তানের মা/বাবা হওয়ার অর্থ ১০০ বছরে ৫ম প্রজন্মকে পৃথিবীতে আনা। আর ৩২-৩৫ বছরে মা/বাবা হওয়ার অর্থ ১০০ বছরে ৪ টা প্রজন্মকে পৃথিবীরমুখ দেখানো। আগের পোস্ট দ্রষ্টব্য…
ঙ) কম বয়সে বিবাহ মানে কম বয়সে মা/বাবা হওয়া এর অর্থ আপনি আর্থিকভাবে সচ্চল না হতেই আপনার খরচের হাত বৃদ্ধি আর আপনার সন্তানের জন্যে খরচ করতে না পারাটা নিশ্চয় আপনাকে সুখী করবে না! আজ দুনিয়ার কোন মা-বাবাই (শিক্ষিত-সচেতন) সন্তানের চাহিদা পূরণ করতে পারেন না এইটা ভাবেন না।
চ) নারীর বিবাহের নুন্যতম বয়সসীমা ২৫ হলে আজ যেইসব মেয়ের পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যায় ২০/২১ বছরে তাদের পড়াশুনা শেষ হবে যা শুধু সুশিক্ষিত মা আর জাতি দিবে না সংসারের উপার্জনক্ষম একটা মানুষও দিবে। আর সমাজে লিঙ্গ বৈষম্য কমাবে। একমাত্র এই কাজ বা পদক্ষেপটিই হবে তেঁতুলবিদদের প্রতি সমাজের বা সরকারের পক্ষ থেকে সবচে বড় চপেটাঘাত।
ছ) এই সব বাস্তবায়ন করতে পারলে সমাজে সচেতনতা শুধু বৃদ্ধি পাবে না সাথে সাথে যেইসব কুকুর শ্রেণীর মানুষ নারীকে তেঁতুল বলে তাদের থেকে পরিত্রান পাওয়া যাবে। তাদের কাছে সবচে বড় ভয়ের বিষয় নারী ও নারীর ক্ষমতায়ন। এই একটা সমাধান অনেক সামাজিক সমস্যার সমাধান করবে। নারী আত্মবিশ্বাসী ও স্বনির্ভর হবে যা একটা আত্মবিশ্বাসী ও স্বনির্ভর জাতি উপহার দিবে। জন্মগতভাবেই নারী পুরুষের উপর নির্ভরশীল এমন ধারনার মূলোৎপাটন করবে।

২) আবারও সকল সাধারণেরই ভাবনা এমন যে অল্প বয়সে বিয়ে করে সন্তানাদি নিয়ে নিলে মায়ের স্বাস্থ্যের জন্যে ভাল। আংশিক সত্য, শুধু মা না মা-বাবা দুজনের জন্যেই ভাল এমন কি সন্তানের জন্যেও। মায়ের বয়স ৩০ এর ভিতরে ও বাবার বয়স যদি ৩৫ এর ভিতরে থাকে তবে কারোই কোন বড় ধরনের স্বাস্থ্যহানীর ঝুঁকি থাকে না (কোন ডাঃ পাঠক বুঝিয়ে দিবেন সবাইকে); ব্যাপারটা হচ্ছে এমন মা ৩০ ও বাবা ৩৫ ঊর্ধ্ব হলে সন্তানের কন্টিজেনিটাল ডিজিস হওয়ার সম্ভাবনা ১০,০০০ ভাগের এক ভাগ থেকে বেড়ে ১,০০০ ভাগের এক ভাগ হয়ে যায় অর্থাৎ ঝুঁকি ১০ গুন বৃদ্ধি পায়। আমরা সবাই অবশ্যই চাইব আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুস্থ সবল হোক। আমার প্রস্তাবিত বিবাহের বৈধ বয়স নারীর জন্যে ২৫ বছর ও পুরুষের ২৮ বছর কোনটাই এইসব ঝুঁকির মধ্যে কাউকে ফেলবে না।

৩) সবচে বড় বাধা যা তাহল নারী-পুরুষের জৈবিক চাহিদার ব্যাপারটা। এই প্রসঙ্গে আমি একটা পুরাতন বিষয়ের অবতারণা করব। তাহল বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক বা যৌন স্বাধীনতা। নতুন পাঠকদের এই বিষয়ে ইস্টিশনে আমার, পৃথু-দার ও ফাতিহুন নূর ভাইয়ের কয়েকটা লিখা পড়ে নিতে অনুরোধ করব।

ক) বিবাহ বহির্ভুত শারীরিক সম্পর্ক কেন জরুরি – পৃথু স্যন্যাল
খ) “বিবাহ বহির্ভুত শারিরীক সম্পর্ক ও একটি সমালোচনা” – গাজী ফাতিহুন নূর
গ) “বিবাহ বহির্ভুত শারিরীক সম্পর্ক নিয়ে “পৃথু স্যন্যাল” ও “গাজী ফাতিহুন নূর” অতঃপর যৌন স্বাধীনতা“- তারিক লিংকন।

হ্যাঁ। ঠিক ধরেছেন বর্তমান আলচনায় সবচে জোরাল শব্দটি হচ্ছে ‘যৌন স্বাধীনতা’; এর অনেক ধরনের ব্যাখ্যা থাকতে পারে। তবে সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা সমাজের অগ্রগতির সাথে সাথে পরিবর্তিত, পরিবর্ধিত, পরিমার্জিত এবং বিবর্তিত হবে অবধারিত ও প্রত্যাশিতভাবেই। ধারনাটি নিঃসন্দেহে আমাদের সমাজে নতুন তবে প্র্যাকটিসটা বেশ পুরাতন, বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে এই ব্যাপারটি সমাজে অনেকেই উপভোগ করেছে বিভিন্ন লেভাজে। এখন শুধু মাত্র বললেই আমরা পাগল বনে যায়। দেখেন একজন পুরুষ ৩০-৩২ বছর আর নারী ২৩-২৫ বছরে বিয়ে করলে তার আগে তার জৈবিক চাহিদা কীভাবে মিঠাবে? বর্তমান সমাজেও এমন অনেককেই পাওয়া যাবে যারা এমনটি করছেন করেছেন। আমরা আরেকটা বিষয় মিস করে যাচ্ছি বিবাহ বহির্ভূত যৌন বা শারীরিক সম্পর্কটাই যৌন স্বাধীনতা কি না? হতে পারে তবে এর উপযুক্ত আদর্শ ব্যাখ্যা ও সংজ্ঞাটি সমাজ বিজ্ঞানীরা দিবে। মন্তব্যে এই বিষয়ে আশা করি আমরা আরও ভাল আলোচনা করতে পারব। তাই একটু অন্যদিকে চোখ বুলিয়ে নিই।

মানুষের এমন জৈবিক চাহিদার কেন দরকার হয়? বৈজ্ঞানিক কারণ আমাদের বিনোদনের অনুভূতির পিছনে একটা হরমোন কাজ করে তাহল ডোপামিন (ডাঃ ভাইরা ব্যাখ্যা দিয়ে দিয়েন); একটু এই ব্যাপারে জানা দরকার একটু বেরসিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার অবতারণা করার জন্যে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। বিনোদনের অনুভূতির নিয়ন্ত্রক এই নিউরোট্রান্সমিটার ডোপামিন। একটা উদাহরণ দিয়ে আমার ব্যাখ্যাটি দেয়ার চেষ্টা করছি। গত সপ্তাহ ২ আগে এক ১৬-১৭ বছরের রিকশাচালকের রিকশাই উঠলাম; কথা প্রসঙ্গে তার বয়স জানতে চাইলাম সে বলল ১৬ বছর চলে এবং জিজ্ঞেস করলাম কইটা বিয়ে করেছ সে বলল ভাই কি বলেন একটা করেই কুলাতে পারছি না। আমি বলাম তোমারে কে বলেছে এই বয়সে বিয়ে করতে সে প্রতিউত্তরে যা বলল তা শুনে রীতিমত থতমত খেয়ে গেলাম। উত্তর টা ছিল ‘টাকা কামায় খাবে কে?’ এই উত্তরের পিছনে লুকিয়ে আছে ডোপামিন সাহেবের কারসাজি। সে দৈনিক কত কামায়? বর্তমানে ঢাকা শহরের রিকশাচালকেরা দৈনিক গড়ে ৫০০ টাকার উপরে উপার্জন করে। এখন সে এই টাকাই কি কি বিনোদন কিনতে পারবে ঢাকা শহরে? আপনি ভাবলেই বুঝতে পারবেন তার জন্যে সবচে সহজলভ্য স্থায়ী সমাধান হচ্ছে বিয়ে করা। তার কোন প্রকার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা লাগে না কিছুই লাগে না খালি বিয়ে করলেই হয়। এখন আমাদের সমাজ বা সরকার এদের হাত থেকে কীভাবে দেশকে বাঁচবে? এরা যখন বৈজ্ঞানিক নিয়মে ২/৩ বছরের মাঝে শারীরিক সম্পর্কে আগ্রহ হারাতে শুরু করবে তার আগেই বাচ্চা নিয়ে নিবে অতঃপর সঙ্গী পরিবর্তন। এইটাই বাস্তব, একটু দুচোখ খুলে চারপাশে তাকালেই এমন ভয়ংকর অবস্থা দেখতে পাই। তার সাথে তেঁতুলবিদদের মত করে বার্থকন্ট্রোল মহাপাপ এমন ধর্মীয় অনুভূতিতো আছেই।

শিক্ষিতরা যারা তার ডোপামিনের কারসাজী পাহাড়ে গুড়ে, সিনেমা দেখে, পার্টিতে খেয়ে বা আড্ডা দিয়ে মিঠান তা সবার পক্ষে সম্ভব না। তাই দরিদ্র অশিক্ষিত শ্রেণী এই দুষ্ট চক্রে পরে দেশটাকে জনসংখ্যার ভারে ডুবাচ্ছে! শুধু দেশের না গোটা দুনিয়ার সবচে জটিলতম সমস্যা নিয়ে আমি ছোট মাথায় আমার মত করে কিছু করার চেষ্টা করেছি। তবে দেশে যথার্থ ব্যক্তিবর্গ যদি এই বিষয়ে দ্রুত কোনপ্রকার পদক্ষেপ না নেই তবে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলাতে সফলভাবে ব্যর্থ হয়ে আমরা ইতিহাসের আবর্জনায় পরিণত হব। এইটুকুন দেশে এই বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠী মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে যদি আমরা এখনই জনসংখ্যা বৃদ্ধি বন্ধ করে কমানোর কথা না প্ল্যান করি। সবাইকে একটাই অনুরোধ করব নিজেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করুণ। একজন আপনি হয়ত সমাজের আরেকজনকে সচেতন করবেন।

১২ thoughts on “জনসংখ্যা সমস্যা ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের করনীয় (২য় পর্ব)

  1. ধন্যবাদ বন্ধু জনসংখ্যা নামক
    ধন্যবাদ বন্ধু জনসংখ্যা নামক ভয়াবহ ব্যাধি নিয়ে আবারো সুন্দর লেখা দেয়ার জন্য।

    তোর মত ছেলেরা দেশটা নিয়ে চিন্তা করে বলেই মাঝে মাঝে কিছুটা ভরসা পাই।

    লেখার ব্যাপারে আমার কিছু মন্তব্য আছেঃ

    ১) লেখাটা ইনফরমেটিভ হয়েছে। কিছু খুব বেশী deep observation নেই। I mean, এটা সবাই পড়বে, মন্তব্য করবে কিন্তু মানবে না।
    ২) “বিবাহ বহির্ভুত শারীরিক সম্পর্ক কেন জরুরি”==বিষয়টা নিয়ে তর্কে গেলাম না। আমি মনে করি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এটা একেবারেই বাস্তব সম্মত না। এই বিষয় নিয়ে বাক্য ব্যয় করে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়া যাবে, আর কিছুই হবে না।
    ৩) বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সরকারী কার্যক্রম কতদূর কি করছে সেটা আমাদের জানা প্রয়োজন। তার জন্য এমনকি আন্দোলন হওয়া জরুরি। অনেক ফালতু জিনিষ নিয়ে আমরা অহেতুক নাচানাচি করি। দেখবি এটা নিয়ে মাঠে নামলে আসে পাশে কেউ নাই। ব্যাপারটা পরীক্ষিত।
    এমন কিছু লেখ, যেটা পড়ে এই ভয়াবহ সমস্যাটা নিয়ে সবাই একটু হলেও উদ্বুদ্ধ হবে। ভাল লিখতে পারিস। মানুষকে সঠিক বিষয়টা বুঝাতে পারলে ঠিকই সাপোর্ট পাবি।

    :থাম্বসআপ:

    1. রায়ান শুরুতে এমন করে না বললেও
      রায়ান শুরুতে এমন করে না বললেও চলত! 😉 :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :ভালুবাশি:
      যাহোক পরের প্রসঙ্গে আসি!
      ১) ধূমপান বিষপান বলা উচিৎ ডাঃরা বলে, না মানা পাবলিকের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তাই এমন কারণ আমাকে আমার উদ্যোগ থেকে বিরত করবে না। বলতে বলতে একদিন সবাই মানবে, বুঝবে আমলে নিবে… আশায় থাকব ততদিন!!
      ২) সস্তা জনপ্রিয়তার জন্যে বলি নি এইটা আধুনিক সমাজবিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ। এখনও কিন্তু আমাদের শিক্ষিত সমাজে আর উন্নত বিশ্বে এইটার ভালই ব্যবহার আছে। আলোচনা করলেই খালি সবাই বিব্রতবোধ করে। আচ্ছা রায়ান আমাকে বলত দেশের এত এত পতিতালয়ে কারা যায়? আমিও না তুইও না তাহলে কারা এরা? ভেবে দেখিস!
      ৩)এই ব্যাপারে আমি আবার তোর সাথে ১০০% একমত। জনসংখ্যা ইস্যুতে আন্দোলন করে মাঠ গরম করা সম্ভব হবে না। জনগন এইসবকে পাত্তাই দিবে না। যখন সময় শেষ হবে তখন বুঝবে। আর সব সমস্যা কিন্তু জনগনের বুঝার দরকারও নাই। সরকার আর বুদ্ধিজীবী বা সমাজবিজ্ঞানীদের নিয়ে আলোচনায় বসেই একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারে। আমাদের বর্তমান অবশ্যকরনীয় কাজটি হবে; বিবাহের বৈধ বয়সসীমা পুনঃনির্ধারণ এবং সন্তানের সংখ্যা আইন করেই একজন ও সর্বোচ্চ দুইজন করে দিতে হবে। যেখানে প্রথম সন্তান উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত সকল পড়াশুনা বিনা বেতনে পড়বে আর ২য় জন পিতা-মাতার খরচে পড়বে।

      প্রেরণা দেয়ার জন্যে তুকে ধন্যবাদ… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

  2. বিভিন্ন লেখায় বারবার বলেছি
    বিভিন্ন লেখায় বারবার বলেছি জনসংখ্যা বাংলাদেশের মূল সমস্যা। অতিসত্ত্বর কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভয়াবহ বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। অল্প বয়সে বিয়ে করার জন্য পোলাপাইনের সামনে যেই মূলা ঝুলাইছেন, পুরাই একমত। 😀

    1. ধন্যবাদ… তবে আতিক ভাই আপনার
      :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:
      ধন্যবাদ… তবে আতিক ভাই আপনার কাছে ‘কন্টিজেনিটাল ডিজিস’ ও ‘ডোপামিন’ এর ভাল ব্যাখ্যা আশা করেছিলাম… সময় পেলে একটু দিয়ে দিয়েন!!

  3. তারিক ভাই,
    বিবাহ বহির্ভুত

    তারিক ভাই,

    বিবাহ বহির্ভুত শারীরিক সম্পর্ক কেন জরুরি

    অল্প বয়সে বিয়ে রোধে এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূৰ্ন , কিন্তু আমি মনেকরি না আমাদের মানসিকতা, সমাজব্যবস্থা ও ৰ্ধমীয় দৃষ্টিভঙ্গি এতটা উদার ।
    অল্প বয়সে বিয়ে রোধে আরেকটা বিষয় উল্লেখ করতে চাই, সেটা হল : পরিমিত মাত্রায় “হস্তমৈথুন” একটি স্বাভাবিক যৌনকর্ম এবং অনেক বিজ্ঞানীর মতে এটা সাস্থের জন্য ভাল, এই ধারনা টা আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে তৈরি করতে হবে।

    তারিক ভাই, এটা আমার ব্যাক্তিগত মতামত ব্যাপারটা অন্যভাবে নিয়েন না ।

    1. অন্যভাবে নেয়ার প্রশ্নই উঠে
      অন্যভাবে নেয়ার প্রশ্নই উঠে না। আমিতো কোন বিষয়ে রিজিড কিছু বলি নি। আমি স্পষ্টত পোস্টে বলতে চেয়েছি এর রূপরেখা সরকারের বা সমাজবিজ্ঞানীদের বিশেষজ্ঞদল তৈরি করতে হবে। তবে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এইটাই আমার ভাষ্য…
      ভাল থাকবেন… ধন্যবাদ :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: সুন্দর একটা প্রাসঙ্গিক বিষয় উপস্থাপন করবার জন্যে!

    1. গুরুত্বপূর্ণ বলেই কেউ পড়ে না!
      গুরুত্বপূর্ণ বলেই কেউ পড়ে না! ধন্যবাদ… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
      ডাঃ ভাইরাও এইখানে কিছু বলছেন না কেন বুঝতেছি না!! :মানেকি: :মানেকি:

      1. এটাই নিয়ম। তুই ফালতু কথা
        এটাই নিয়ম। তুই ফালতু কথা বার্তা ইভেন জোকস লেখ, সেটা পড়ার বা সেটা নিয়ে হইচই করার লোকের অভাব হবে না। কাজের কথার সমঝদার কাউকে পাবি না।
        বাঙ্গালী খুব ই ফালতু জাত।

        1. কেউ জোকস লিখে হাসাবে আমি তা
          কেউ জোকস লিখে হাসাবে আমি তা পারি না!
          তবে তোর কথা মত আমার সেরিয়াস লিখা দেখে অনেকে হাসতে পারে এমনটাই মনে হল, সেক্ষেত্রে জোকস হিসেবে এইসব মন্দ কি!!
          আর শেষে বললি না যে ‘বাঙ্গালী খুব ফালতু জাত’– এইটা মানতে পারলাম না!
          অতি সরলীকরণ হলেও আমি একমাত্র রাজাকার ও তাদের দোসরদের কাছেই এমন উদ্ধত আচরণ লক্ষ্য করেছি; তোর কাছে এমনটা আশা করি নাই…
          যেই জাতির জীবনে ১৯৫২ আছে ১৯৭১ আছে আবার ১৯৯১ বা ২০১৩ এর মত সময় এসেছে সেই জাতিকে আমি ফালতু জাতি বলতে নারাজ তবে বারবার যেইসব হায়েনা ১৯৫২-২০১৩ পর্যন্ত আমাদের অর্জনকে ব্যর্থ ও বিফলে পর্যবসিত করতে চাইছিল তাদের আমি ঘৃণা করি আর তারাই দেশের মূল শত্রু… তাদেরকে আমি মানুষের অদম মনে করি!! বাঙ্গালীর মধ্যে এমন অনেক গুন আছে যেইসব সারা দুনিয়ায় বিরল… আমি বাঙ্গালী হিসেবে গর্বিত তুই না হতে পারিস!!
          :দেখুমনা: :দেখুমনা: :দেখুমনা: :দেখুমনা: :দেখুমনা:

  4. প্রথমত , গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির
    প্রথমত , গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির ধারাবাহিক অবতারনার জন্য লিঙ্কন ভাই কে ধন্যবাদ । :গোলাপ: :গোলাপ:
    আর পোস্ট টি খুব ইনফরমেটিভ এবং পাশাপাশি এটা বিশ্লেষণ ধর্মী পোস্ট ।

    দ্বিতীয়ত ,

    আমাদের অশিক্ষিত বা স্বল্পশিক্ষিত জনগনই না বেশীরভাগ শিক্ষিত মানুষের ধারনাও তার বিবাহের বয়স বেশী হয়ে গেলে বা বেশী বয়সে সন্তান নিলে তার সন্তানের পূর্ণবয়স হতে হতেই সে মারা যাবে অথবা সে শয্যাগত হবে (অসুখ-বা শাররিক অসমর্থতায় বা অসুস্থতায়) আর তার পরম মমতার বংশধর আকুল পাথারে পরবে।

    এই ধরনের চিরায়ত ধ্যানধারণা / দৃষ্টিভঙ্গি সহজে পরিবর্তন করা যাবে নাহ । আসলে লিঙ্কন ভাই , আমি আগেও বলেছি আমাদের দেশে স্বশিক্ষিত মানুষের বড্ড অভাব । সুশিক্ষিত নয় স্বশিক্ষিত জাতি চাই ।

    তৃতীয়ত , বিবাহের বয়স সীমা ভিত্তিক নীতিমালা প্রনয়ন অত্যাবশ্যক । জনসংখ্যা সমস্যা রোধ এ এটা মুখ্য ভুমিকা রাখবে । ৩০/২৫ এই লেভেল টা বিবাহের জন্য পারফেক্ট ।

    চতুর্থত ,

    মায়ের বয়স ৩০ এর ভিতরে ও বাবার বয়স যদি ৩৫ এর ভিতরে থাকে তবে কারোই কোন বড় ধরনের স্বাস্থ্যহানীর ঝুঁকি থাকে না

    আমি নিজেও এটা নিয়ে পড়েছিলাম । খেয়াল করতে পারছি নাহ কোথায় । / ডাঃ. ভাই রা বুঝাতে পারবেন ভাল । তবে ব্যাখ্যা নাহ জানলেও বেক্তিগত ভাবে মনে করি এটা সঠিক ।

    পঞ্চমত, বিবাহ বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক বিষয় টা আমি সর্বদা অফটপিক এ রাখি । কেননা , কিছু ব্যাপার যেগুলা উচ্চারন এর প্রয়োজন হয় নাহ , সেটা মানুষ বুঝে নেই । আর পরিমিত হস্তমইথুন এর ব্যাপার টাও ঠিক এমনি । কারন এগুলা হচ্ছে , চলছে , এবং হবে । :চোখমারা:

    1. ১০০% সহমত!! আপনাকে পাশে পেয়ে
      ১০০% সহমত!! আপনাকে পাশে পেয়ে ধন্য… অফুরন্ত :ভালুবাশি: :ভালুবাশি: :ভালুবাশি:
      আগামী পর্বেই শেষ করে দিব!! তবে আমার পোস্টটি দেয়ার সময় নির্বাচন খুবই বাজে হয়েছে যার কারণে পুরাই ফ্লপ; অন্তত আপনার মন্তব্য দেখে তাই মনে হল! যেইখানে প্রথম পর্ব এক্সপ্রেস-এ ছিল! দেখি আর কত দিন লাগে শেষ করে দিতে!! ভাল থাকবেন… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *