বিপ্লবের শেষ নেই

(নিম্নোক্ত কল্পগল্প এক উর্বর মস্তিস্কের কল্পনা মাত্র।ভবিষ্যতে কি ঘটতে পারে,তার একটি কল্পগল্প।সত্যি সত্যি তা ঘটবে কি না,লেখক তা নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে অপারগ!)
দৃশ্যপট ১:সাল ২০৫৫
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন,তাঁকে তার P.A. এসে বলে গেল,”স্যার,সব রেডি।”তিনি বললেন,”যাও,আমি আসছি।”তিনি নিজের দিকে একবার তাকালেন।মুখভর্তি দাড়ি,মাথায় একটা জিন্নাহ টুপি,কপালে কালো কালো দাগ,পরনে পাঞ্জাবি আর পায়জামা।তিনি তার রুম থেকে বের হলেন।সবাই তাঁকে একটা লম্বা সালাম দিল।তিনি তাঁর জন্য নির্ধারিত স্থানে বসলেন,পরিচালক বললেন,”স্যার,রেডি?”উনি বললেন,”হ্যাঁ,শুরু কর।”-“5,4,3,2,1 action!”



(নিম্নোক্ত কল্পগল্প এক উর্বর মস্তিস্কের কল্পনা মাত্র।ভবিষ্যতে কি ঘটতে পারে,তার একটি কল্পগল্প।সত্যি সত্যি তা ঘটবে কি না,লেখক তা নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে অপারগ!)
দৃশ্যপট ১:সাল ২০৫৫
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন,তাঁকে তার P.A. এসে বলে গেল,”স্যার,সব রেডি।”তিনি বললেন,”যাও,আমি আসছি।”তিনি নিজের দিকে একবার তাকালেন।মুখভর্তি দাড়ি,মাথায় একটা জিন্নাহ টুপি,কপালে কালো কালো দাগ,পরনে পাঞ্জাবি আর পায়জামা।তিনি তার রুম থেকে বের হলেন।সবাই তাঁকে একটা লম্বা সালাম দিল।তিনি তাঁর জন্য নির্ধারিত স্থানে বসলেন,পরিচালক বললেন,”স্যার,রেডি?”উনি বললেন,”হ্যাঁ,শুরু কর।”-“5,4,3,2,1 action!”
রাষ্ট্রপতিঃ“দেশবাসী,আসসালামু আলাইকুম!আজ আমাদের জাতির জন্য এক পরম আনন্দের দিন!”ইসলামী প্রজাতন্ত্র বাংলাদেশ” থেকে আমরা আজ সর্বশেষ নাস্তিক-মুরতাদকে দূর করতে পেরেছি!আপনারা জানেন,বহুবছর ধরে এই সরকার দেশ থেকে নাস্তিক নিধনের পবিত্র কাজ করে আসছে।ইসলামের হেফাজতে এই দেশ আজ সবার জন্য এক আদর্শ!বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ দেশদ্রোহী কাফের নাস্তিক আজ বেলা ১২টার দিকে আমার বাসভবনে আমার উপর হামলা করে।সে চেয়েছিল আমাকে হত্যা করে দেশকে নেতৃত্বহীন করতে!কিন্তু আমাদের সেনাবাহিনীর তুখোড় সদস্যরা তাঁকে ধরে ফেলে জবাই করে হত্যা করে!তার এই মৃত্যুর মাধ্যমে আমাদের জাতি আজ কলঙ্কমুক্ত!আপনারা জানেন,’৭১ সালে আমাদের দেশ থেকে ইসলাম বিরোধী যুদ্ধে এই নাস্তিকেরা জয়লাভ করেছিল,কিন্তু কতিপয় মহৎ রাজনীতিবিদের কারণে বাংলাদেশে আমরা আবারও ইসলামকে রক্ষা করতে যুদ্ধে নামি এবং সংগঠিত হই!এই নাস্তিকেরা বেশি বাড় বাড়তে শুরু করলে আমরা আমাদের ইমানী দায়িত্বমত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করি।ধীরে ধীরে তারা শক্তিহীন হয়ে পড়ে এবং সত্যের বিজয় শুরু হয়।আমরা রাষ্ট্রশাসন করার সুযোগ পাই!এরপর থেকে আমাদের প্রচেষ্টা আরও বেগবান হয়,তারই ফলশ্রুতিতে আজ আমরা এক নাস্তিকমুক্ত রাষ্ট্র!আজকের দিনে স্মরণ করতে চাই মহান নেতা মওদুদি,গোলাম আযম,আল্লামা শফি প্রমুখকে এবং ধন্যবাদ দিতে চাই আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রদের।আর তীব্র ঘৃণা জানাই সেসব নাস্তিকদের এবং তাদের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে,যিনি এই দেশকে ঠেলে দিতে চেয়েছিলেন অন্ধকারের দিকে!যিনি ছিলেন ভারতের এক নম্বর দালাল!আমাদের এখনও প্রস্তুত থাকতে হবে,সাবধান থাকতে হবে,না হলে এই নাস্তিক ভারতীয় দালালেরা আবারও ইসলামের বিরুদ্ধে মাথাচাড়া দিয়ে দাঁড়াবে!
সবাই ভালো থাকুন,নাস্তিকতা মুক্ত থাকুন!
ইসলামী প্রজাতন্ত্র জিন্দাবাদ!”
রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্য শেষ করলেন।এবার তিনি যাবেন “মওদুদি আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র”-এ,সেখানে আজ রাতভর পার্টি হবে!আজ তারা চূড়ান্ত বিজয় লাভ করেছেন,তাই সরকার সকল মন্ত্রী,দলের সকল উচ্চপদস্থ নেতা,দেশের সকল গণ্যমান্য ব্যক্তিত্য,ব্যবসায়ী,বিদেশী কূটনৈতিক সকলকে নিয়ে এই পার্টির আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে!রাষ্ট্রপতি গাড়িতে উঠে বসলেন আর ভাবা শুরু করলেন,“উফ!যে ভয় পাওয়া পেয়েছিলাম!ঐ বিচ্ছুটা হঠাৎ করে আমার সামনে বন্দুক নিয়ে দাঁড়ায় পড়ল!“জয় বাংলা” বলে যেই না গুলি চালাবে তখনই পিছন থেকে আমাদের সেনাবাহিনীর বিশেষ “হেফাজতে” বাহিনীর সদস্যরা ওকে খুব কৌশল করে ধরে ফেলে!ধরার পরই তাঁকে খতম করে দিল খুব সুনিপুণভাবে!আমার পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে গেল,কতবার সুনিপুণভাবে এমন কাজ করেছি!এই নাস্তিকটাকে ধরার চেষ্টা আমরা অনেকদিন ধরেই করছিলাম,কিন্তু পারছিলাম না!আজ নিজে থেকেই ধরা দিল!এতদিনের যুদ্ধ শেষ হল!একসময় এদের সে কি দাপট ছিল!পাকিস্তান ছিল আমাদের পেয়ারের রাষ্ট্র,ভারতের সাথে ষড়যন্ত্র করে তা ভেঙ্গে দিল!এত চেষ্টা করেও বীর রাজাকার বাহিনী বাঁচাতে পারল না পাকিস্তানকে!কিন্তু আমাদের কি আর হাল ছাড়লে হয়!মহান নেতা মওদুদির আদর্শ প্রতিষ্ঠিত করতে হবে না!কিছুদিন নেতারা গা ঢাকা দিলেন,কিন্তু পরিস্থিতি একটু অনুকূল হওয়া শুরু করলেই এদেশেরই কিছু মানুষের সহযোগিতায় আবার কাজ শুরু করলেন।তারপর সব ইতিহাস!দেশের সর্বস্তরে তারা ঢুকে পড়লেন!মাঝখানে বেশ ক’বার তাদের সংকটাপন্ন অবস্থায় পড়তে হয়েছিল।২০১৩ সালে অবস্থা এমন হয়েছিল,মনে হচ্ছিল,এবার আর রক্ষা নাই!সেই “জয় বাংলা”-র লোকগুলো ক্ষেপে উঠেছিল আমাদের বিরুদ্ধে!কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত কিছুই করতে পারে নাই!সরকার ছিল নিষ্ক্রিয়,জনগণের অনেক চেষ্টা ছিল,কিন্তু তারপরও তারা পারে নাই।আমরা তাদের বিভক্ত করেছি,তখন থেকেই “নাস্তিক” জিনিসটা আমরা খুব ভালোভাবে ব্যবহার করতে শিখি!কেউ নাস্তিক হোক বা না হোক,মুরতাদ হোক বা না হোক,আমাদের বিরুদ্ধে গেলেই সে নাস্তিক-মুরতাদ!এটা খুব কাজেও দিছে!এই দেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ,অনেকে ধর্মান্ধ!তাদেরকে ক্ষেপায় দিয়ে খুব সহজেই ভারতীয় দালালগুলোকে দমানো গেছে!আবার,অনেকেই ছিল শান্তিপ্রিয়।শান্তিপ্রিয়গুলাও খুব কাজে আসছে!তারা সবসময় শান্তি খুঁজছে!পুলিশ মরুক,সাধারণ মানুষ মরুক বা যেই মরুক,তারা শুধু শান্তিই চাইছে!সেটাও আমাদের খুব কাজে আসছে,এই শান্তিবাদীরা রাস্তায় কখনোই নামে না!তারা খালি শান্তি চায়!এরা যদি রাস্তায় নেমে যেত আর আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াত,তাহলে আমাদের কপালে দুঃখ ছিল!আবার কিছু ছিল সুবিধাবাদী।তারা সবসময় যেদিকে লাভ বেশি,সেদিকে যেত।আমরা টাকা দিলেই তারা খুশি হয়ে যেত!আর আমাদের পক্ষে কাজ করত!সেসময় আমার বয়স কতই বা হবে?১৩-১৪ বছর!তখন কি উৎকণ্ঠায়ই না দিন কাটাতাম!বাবা-মা সারাদিন চিন্তা করত!কিন্তু ঐ ২০১৩ সালে ব্যর্থ হবার পর তারা আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে নাই!আমরা আস্তে আস্তে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করছি,এরপর জেঁকে বসছি সেখানে আর নাস্তিক নিধন করছি!একটা লোক পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ুক বা রোযা রাখুক বা যত পুণ্যই করুক না কেন,আমাদের বিরুদ্ধে গেলেই সে নাস্তিক,সে মুরতাদ!মওদুদি সাহেব এ শিক্ষাই দেন!এরকম কত মানুষকে মেরেছি আমরা!নিজে হাতেই প্রায় ২০০০ এর মত নাস্তিক মেরেছিলাম!সেসব দিনগুলো!মনে করলেই শান্তি লাগে!এখন দেশে মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি,এদের মধ্যে সবাই আমাদের নিয়ন্ত্রণে।আগে অনেক বেশি ছিল,নাস্তিক মারতে মারতে কমে এ পর্যায়ে এসেছে!এদের মধ্যে দেড় কোটি আমাদের একনিষ্ঠ সমর্থক,বাকি দেড় কোটি শান্তিবাদী আর সুবিধাবাদী!এদের প্রত্যেকের মগজে একটা microchip ঢুকানো,এটার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি কারা কখন কি ভাবছে,কি করছে,কেন করছে এবং সবচেয়ে বড় কথা,আমাদের বিরুদ্ধে কোন চিন্তা করছে কি না!তারা বাংলা গান শুনছে কি না,তারা বাংলা বই পড়ছে কি না,তারা বাংলা সিনেমা দেখছে কি না,তারা নাস্তিকদের যুদ্ধ “মুক্তিযুদ্ধ” নিয়ে ভাবছে কি না,সবচেয়ে বড় কথা তারা বিপ্লবের চিন্তা করছে কি না!এগুলোর কোন একটা করলেই জবাই!এছাড়াও আরও অনেক বিষয় আছে,এগুলো শুধু কিছু উদাহরণ!আজকের ভাষণ তিন কোটি মানুষই শুনেছে।না হলে তাদের বিপদ আসন্ন!অবশ্য এগুলো না হলেও চলে,দেড় কোটি সমর্থক সবসময়ই আমাদের সমর্থন করবে আর বাকি দেড় কোটি তাদের নিজস্ব সুবিধা পেলেই খুশি!শান্তি পেলেই খুশি!তাই,আজ থেকে আর কোন ভয় নেই।কারণ,সর্বশেষ নাস্তিকও কতল হয়েছে!তবুও সাবধানের মার নেই!তাই সবাইকে শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখতেই এই ব্যবস্থা!”হঠাৎ করে তাকে কে যেন বলল,“মি প্রেসিডেন্ট!মি প্রেসিডেন্ট!”তিনি খেয়াল করে সামনে তাকিয়ে দেখলেন,তার গাড়ির ড্রাইভার তাকে ডাকছে।তিনি বিরক্ত হয়ে বললেন,“কি চাও,আহাম্মক?”ড্রাইভার বলল,“জয় বাংলা ফেরত চাই!”প্রেসিডেন্ট খুব অবাক হয়ে যেই না তার ড্রাইভারের দিকে তাকিয়ে তাকে ফাঁসিতে ঝোলানোর কথা ভাবছিলেন,তখনই তিনি খেয়াল করলেন যে এটা তার ড্রাইভার না এবং তিনি দেখলেন ছেলেটি তার গলায় একটি ইনজেকশন পুশ করছে।তারপর তিনি অজ্ঞান!
যখন তার জ্ঞান ফিরল তখন তিনি পার্টিতে,সবার সাথে তিনি কথা বলছেন,হাসি-ঠাট্টা করছেন,খাচ্ছেন কিন্তু মনে হচ্ছে নিজের ইচ্ছায় করছেন না।আর কি যেন একটা নেই নেই ভাব মনে হচ্ছিল তার,কিন্তু কি নেই সেটা ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না তিনি।–“কি,খুব অবাক লাগছে,মি প্রেসিডেন্ট?”তার মস্তিস্কের মাঝে একটা গলা বলে উঠল।প্রেসিডেন্ট কিছুই বুঝতে পারছিলেন না!এগুলো কি হচ্ছে?-“ভয় পাবেন না,মি প্রেসিডেন্ট।আপনার মাথার microchip-টার একটু পরিবর্তন ঘটেছে।এখন আমরা আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করছি।আর হ্যাঁ,এটা জেনে রাখা আপনার জন্য ভালো,আপনার শরীরের মধ্যে একটা আত্নঘাতী বোমা আছে।আর পাঁচ মিনিট পর সেটা বিস্ফোরিত হবে কিন্তু আপনি সেটা কাউকে বলতে পারবেন না!আমরা আপনাকে নাও বলতে পারতাম,কিন্তু এই পাঁচ মিনিট আপনার কেমন কাটে,সেটা দেখার জন্য আমরা আপনাকে বললাম।”-“তোমরা কারা?”-“যাদেরকে আপনারা নাস্তিক বলে খুন করেন,আমরা তারাই!এত বছর নামায-রোযা করে আল্লাহর কাছে এই দিনটার প্রার্থনা করেছি,হিন্দুরা তাদের ভগবানের কাছেও এই দিনের প্রার্থনা করেছে,খ্রিস্টান,বৌদ্ধ সবাই প্রার্থনা করেছে।নাস্তিকেরাও ছিল,তারা দেখেছে আমাদের একাগ্রতা আর শিখেছে ধর্মকে সম্মান করতে।তাদের আমরা বুঝিয়েছি আমাদের বিশ্বাস সম্বন্ধে।তারাও আমাদের বিশ্বাসকে সম্মান করে!তাদেরকে হত্যা করে সেই সম্মান অর্জন কখনোই সম্ভব নয়!আর অনেকেই ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস এনেছে আমাদের ব্যবহার আর কথা শুনে।আর আপনারা এই নাস্তিকতার দোহাই দিয়ে দেশকে আজ যেখানে নিয়ে এসেছেন,তার শাস্তি আপনারা পাবেন!আল্লাহ আপনাদের কি শাস্তি দেবেন,সেটা তিনিই ভালো জানেন!”-“সব নাস্তিকদের আমরা শেষ করে দিয়েছি!আর কেউ বেঁচে নেই!দেশের সব মানুষের মাথায়ই microchip আছে!আমার নিশ্চয়ই কোথাও ভুল হচ্ছে!বেশি খেয়ে ফেলেছি মনে হয়!ঘুম দিলে ঠিক হয়ে যাবে!”-“না,ঠিক হবে না!আপনাদের মৃত্যু খুব শীঘ্রই ঘটবে!এ রুমে এখন যত মানুষ আছে,তারা সকলেই কোন না কোন ভাবে নিরীহ বাঙালী জনতাকে হত্যা করার কাজে জড়িত!তাই আজ আমাদের গণআদালতে তাদের শাস্তি,মৃত্যুদণ্ড!”-“কিন্তু তোমরা বেঁচে আছো কিভাবে?তোমাদের microchip দেখে তোমাদের কেউ ধরতে পারেনি?”-“আমাদের মাথায় microchip নাই,তোমরা মনে করেছ যে সর্বশেষ বিদ্রোহীকে আজ তোমরা মেরেছ।কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে এই যে,আমরা সংখ্যায় অনেক!অনেকদিন ধরেই আত্মগোপন করে ছিলাম!প্রস্তুত হচ্ছিলাম!আজ আমাদের মহান নেতা নিজের প্রাণের বিনিময়ে আমাদের সংগ্রামকে অনেকটা এগিয়ে দিলেন!”-“মানে?কিভাবে?”-“উনি জানতেন,যতদিন না তোমরা মনে করবে যে আর শত্রু নেই,ততদিন তোমরা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখবে!তাই তিনি নিজের প্রাণ দিয়ে এই আন্দোলনকে সফল করতে চেয়েছেন।তিনি জানতেন,তিনি মারা গেলে তোমরা অবশ্যই উৎসব করবে।আর আমাদের জন্য সেই উৎসবটাই হবে তোমাদের উপর আঘাত হানার প্রথম সুযোগ!এখন প্রস্তুত হও!”-“তোমরা কত টাকা চাও?”-“টাকা দিয়ে আমাদের কেনা যায় না!”-“তাহলে কি পেলে আমাকে তোমরা ছেড়ে দেবে?”কেউ কোন কথা বলছিল না,এক আশ্চর্য রকম নীরবতা।–“তোমরা কিছু বলছ না কেন?”-“আহ,বিরক্ত কর না!আমরা এখন সব নিরপরাধ কর্মচারীদের সরিয়ে নিতে কাজ করছি।”-“মানে?”-“মানে হচ্ছে,আমরা নিরপরাধ কাউকে মারব না।এই সম্মেলন কেন্দ্রে যারা এখনও সত্যের পক্ষে,সেসকল কর্মীদের আমরা মারব না।আমরা সেসকল সাংবাদিকদের মারব না যারা এখনও সত্যের পক্ষে।তারা তাদের microchip-এর নির্দেশ অনুযায়ী ইতিমধ্যে এখান থেকে নিরাপদ দূরত্বে চলে গেছেন।”-“তাদের microchip কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করছ তোমরা!”-“আপনার microchip থেকে সিগনাল পাঠিয়ে তাদেরটা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে,বোমা বিস্ফোরণ হওয়ার পরই অবশ্য তাদের উপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলব!তবে তাতেই আমাদের হবে!”-“তোমরা বোমা বিস্ফোরণ ঘটাতে পারবে না!আমি এখনই আমার প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সাথে কথা বলব!”-“চেষ্টা করে দেখেন!”রাষ্ট্রপতি প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সামনে গিয়ে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বলার চেষ্টা করলেন বোমার কথা,কিন্তু তার মুখ দিয়ে কোন কথা বের হল না!প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইলেন,রাষ্ট্রপতি কথা না বলে কেমন কেমন যেন করছেন!রাষ্ট্রপতি প্রানপণে কথা বলার চেষ্টা করছিলেন,কিন্তু তার মধ্যেই বোমার বিস্ফোরণ ঘটল।মাটির সাথে মিশে গেল বহুতল স্মমেলন কেন্দ্র!

দাঁড়িয়ে আছে ছেলেটা পাহাড়ের উপরে,তাকিয়ে দেখছে প্রকৃতির রূপ।সেই ছেলেটা যেই ছেলেটা বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর শাসককে অজ্ঞান করেছে,তাঁর জীবনের শেষ পাঁচ মিনিটে বিভীষিকাময় যন্ত্রণা উপহার দিয়েছে এবং সবশেষে এক বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছে তার সহযোদ্ধাদের নিয়ে!তবে তারা জিতে গেছে মনে করলে ভুল হবে,সরকার ইতিমধ্যে এই ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে এবং দোষীদের শাস্তি দিতে উঠে পড়ে লেগেছে!নিজেদের সাম্রাজ্যে এরকম আঘাত তারা আশা করেনি।এখনও ধরতে পারেনি কিছু,তবে তারা খুবই ধুরন্ধর,সহজেই ধরে ফেলবে!তাই লড়াইটা সহজ হবে না,ছেলেটাও ভালমতই তা জানে।তাদের প্রস্তুত থাকতে হবে,৩০ বছর ধরেই গুরুর নেতৃত্তে তারা প্রস্তুত হচ্ছে এই পাহাড়ের পাদদেশে,সরকারের চোখে ধুলো দিয়ে!গুরু যাবার আগে তাদের সকলকে বলে গেছেন,“সত্যের জয় বিলম্বিত হতে পারে,কিন্তু সত্য কখনো হারে না!”এই কথাটা সবাইকে নতুন প্রেরণা দিচ্ছে!তারা জয় ছিনিয়ে আনবে,হোক না তা বিলম্বিত!ছেলেটার কাঁধে একটা হাত পড়ল,ছেলেটা দেখে তার বন্ধু।বন্ধু বলল,“৩০ লক্ষ বাঙালী তোমার অপেক্ষায়,বন্ধু!”-“চল!এবার তাদের নিয়ে জয় ছিনিয়ে আনবই!”

দৃশ্যপট ২-সাল ২০৫৫:
হোসেন সাহেব তার ঘরে বসে বসে তার “মাইন্ড প্যাড”-এ খবর পড়ছিলেন এবং মাঝেমধ্যে খবরাখবরের ভিডিও দেখছিলেন।এই মাইন্ড প্যাড এমন এক যন্ত্র যা মানুষের মনের কথা পড়তে পারে,মনের ইচ্ছে অনুযায়ী কাজ করে আর তথ্য বের করে।যন্ত্রটার আবিস্কার বাংলাদেশেরই বুয়েটের এক ছাত্রের,দেশে নিজে নিজে গবেষণা করে বানিয়েছে।ঢাকায় তার এক বিরাট গবেষণাগার আছে,তার কোম্পানিতে চাকরি করে প্রায় ৩০০০০ মানুষ।তারা সারাদিন কিভাবে প্রযুক্তিকে উন্নত করা যায়,সেই চিন্তা করে।সারা বিশ্বে তাদের প্রযুক্তির চাহিদা অপরিসীম।খবর পড়তে পড়তে তার মনে পড়ল,আমেরিকার কথা।আমেরিকাকে কি বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ দিয়েছে মঙ্গল গ্রহে বাসস্থান তৈরি করতে?
খবরে গিয়ে দেখলেন,না,বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক ঋণ দিতে রাজি হয়েছে,তবে অনেকগুলো শর্তসাপেক্ষে।আমেরিকা শর্তগুলো নিয়ে খুব বেশি খুশি নয়,কিন্তু কিইবা করবে?টাকা কি গাছে ধরে?বাংলাদেশ কবেই মঙ্গলে বাড়ি বানিয়ে ফেলেছে!এখন বাকিরাও যাচ্ছে!বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা কিভাবে মঙ্গলকে বসবাসযোগ্য করা যায়,সেই গবেষণা করে নোবেল পেয়েছেন!চোখটা কেমন জানি ব্যাথা ব্যাথা করছিল হোসেন সাহেবের।আজই একবার জব্বারের সাথে কথা বলতে হবে,দেশের সেরা ডাক্তার হলে কি হবে?হোসেন সাহেবের বন্ধু মানুষ!সব সময় তার কথা শোনার জন্য প্রস্তুত!কত মানুষের যে জীবন বাঁচিয়েছে ছেলেটা!সারা বিশ্ব থেকেই ওদের কাছে রোগী আসে,সিঙ্গাপুরে আর কেউ যায় না!যা হোক,আবার খবর দেখায় মনোনিবেশ করলেন হোসেন সাহেব।দেখলেন,বাংলাদেশ পঞ্চম বারের মত ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে!আজ জিতলেই পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া হয়ে যাবে!
আরও দেখলেন যে,বাংলাদেশ টানা ১১তম বারের মত অস্কার জিতেছে বিদেশি ভাষার ছবি বিভাগে!
অর্থনীতির খবরে দেখলেন,বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ ধনী দেশ।কোন অভুক্ত মানুষ নেই,সবাই সচ্ছল।সবার নিজস্ব থাকার জায়গা আছে,পর্যাপ্ত অর্থ আছে,দেশে ফসলের ফলন বাড়ন্ত,বিভিন্ন শিল্পে বাংলাদেশ অগ্রগামী।দেশের অবস্থা দেখলে যে কারো চোখে আনন্দাশ্রু আসতে বাধ্য!
এরপর দেশের রাজনীতির খবর দেখতে গিয়ে দেখলেন,আজ গণজাগরণ মঞ্চের ৪২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী!সেই মঞ্চ,যা কি না পাড়ি দিয়ে এসেছে সব বাধা বিপত্তি,বাংলাদেশে স্বাধীনতাবিরোধীদের কবর রচিত করেছে!উপহার দিয়েছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সোনার বাংলা!
এই খবর পড়তে পড়তেই হোসেন সাহেবের নাতি-নাতনি চলে আসলেন।–“দাদু,কি পড়?”-“গণজাগরণ মঞ্চের কথা পড়ি, দাদুভাই!”-“আমাদের গণজাগরণ মঞ্চের গল্প শোনাবে?”-“অবশ্যই শোনাব!সেই ২০১৩ সালের কথা!আমার বয়স তখন মাত্র ২০ বছর!বাংলাদেশের স্বাধীনতার যারা বিরোধিতা করেছিল,তারা এবং তাদের দল এদেশে রাজনীতি করত!”-“তুমি সবসময় খালি রসিকতা কর,দাদু!”-“আরে নারে,বাবা!সত্যি বলছি!”-“মিথ্যা বলবা না,দাদু!!!”-“আচ্ছা,এই ট্যাবলেট থেকেই দেখ তাহলে!”ট্যাবলেটের কথা বলার পর দুজন দাদুর কথা বিশ্বাস করল,কিন্তু কেমন যেন অবিশ্বাসের ছাপ তাদের চেহারায়।দাদু বলতে লাগলেন,“তারপর এক রাজাকারের ৩৪৪ টা খুনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও ফাঁসি না হয়ে যাবজ্জীবন হয়!”-“কি????”-“হ্যাঁ,সেই রাজাকার তারপর ভিক্টরি চিহ্ন দেখায় আর দেশের বিভিন্ন পত্রিকা সেটা প্রকাশও করে!”-“তখন?”-“যখন এই রায় হল,বাঙালী ক্ষোভে ফুঁসতে শুরু করল!তারা ঠিক করল,আর ঘরে বসে থাকা যায় না!তারা এই রায়ের প্রতিবাদে ৫ ফেব্রুয়ারী শাহবাগে অবস্থান নিল,মঞ্চের নাম হল গণজাগরণ মঞ্চ আর শাহবাগের নাম হল প্রজন্ম চত্বর ।আমিও যেতাম সময় পেলেই!আমরা সব রাজাকারদের ফাঁসি চাইলাম, যুদ্ধাপরাধীদের দল নিষিদ্ধ চাইলাম!”-“তারপর?-“তারপর সেই যে কত কাহিনী!একবার বদমাশগুলো করল কি…….”

_____________________

#আমার গল্প শেষ,হোসেন সাহেব কিভাবে তার গল্প শেষ করবেন,তা নির্ভর করে এই গণজাগরণ আন্দোলনের উপর,আমরা কি পারব সব দিক সামলে জামাত শিবির মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে?
#আমরা কি নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করতে পারব অনলাইনে?আমরা কি পারব মীর জাফরদের চিনতে?আমরা কি পারব মীর জাফরদের শিক্ষা দিতে?সর্বোপরি,আমরা কি পারব একতাবদ্ধ থাকতে?
#আমরা কি সরকারকে কঠিন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে পারব?
#আমরা কি জামাত-শিবিরকে আবার পরাজিত করতে পারব?তারা যেই রূপ ধরেই আসুক না কেন,আমরা কি তাদের রুখতে পারব?
#আমার মতে,আমাদের পদক্ষেপগুলোর উপরে নির্ভর করবে কোন পরিণতি বাংলাদেশের হবে আরও ৪২ বছর পর।হ্যাঁ,যেভাবে দেখিয়েছি,হুবহু এক হবে এমন কোন কথা নাই।আমার কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বাস্তব।আবার,একইভাবে,প্রথম পটভূমি কম ভয়ঙ্কর হতে পারে,দ্বিতীয় পটভূমি কম সাফল্যমণ্ডিত হতে পারে।একটা ব্যাপারে আমি নিশ্চিত,দৃশ্যপটগুলোর মূল যে ধারা,তা একই থাকবে।আমরা এদের পরাজিত করতে না পারলে প্রথম প্রেক্ষাপট আর পরাজিত করতে পারলে দ্বিতীয় প্রেক্ষাপট আমাদের সামনে আসবে।
#সরকারের কাছে অনুরোধ,এইবার আর মিথ্যা আশ্বাস দিয়েন না,সত্যি সত্যি এদের নিষিদ্ধ করেন।আর কোনদিন সুযোগ নাও পাইতে পারেন,এরপর দেখা যাবে,একদিন আপনাদেরই বিলীন করে দিছে তারা!সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন!
#যারা গণজাগরণ মঞ্চকে পছন্দ করেন না,তাদের বলি,এই মঞ্চ আমাদের সবার শত্রু জামাতের বিরুদ্ধে লড়ছে।আজ এরা গণজাগরণ মঞ্চকে নিশ্চিহ্ন করতে চায় দেখেই তাদের “নাস্তিক” বলে,গণজাগরণ মঞ্চ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলে একদিন দেখা যাবে আপনি তাদের স্বার্থে আঘাত হানলে আপনাকেও নাস্তিক বানিয়ে সরিয়ে দিবে।আর না হলে,সারাজীবন এদের গোলাম হয়ে কাটায় দিতে হবে শান্তিপূর্ণভাবে বাঁচতে চাইলে।তাই,আমাদের পাশে দাঁড়ান।আসেন,একসাথে এদের প্রতিরোধ করি!
#শান্তিকামী মানুষদের বলি,শান্তি এখনও বহুতদূর।তবে এবার জয় না আসলে সারাজীবনেও প্রকৃত শান্তি আসবে না।খালি ভয়ে সুখে থাকার ভান করতে হবে!
#মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ব্লগার ভাইরা,এক হন।নিজেদের মধ্যে বিভেদ ঘটায়েন না!একতাই বল!আপনাদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি সবচেয়ে বেশি খুশি করে জামাত-শিবিরকেই!যেই ব্লগাররা জামাতের ভিত নড়ায় দিছে,তাদের একতা ভাঙলে জামাতের খুশির কোন সীমা থাকবে না!
#গণজাগরণ মঞ্চ,কঠোর কর্মসূচি চাই!আপনাদের কর্মসূচি বেশ হতাশাজনক!আপনারা শহীদ রুমি স্কোয়াডের অনশন ভাঙাইলেন,কিন্তু নিজেরা তারপর কোন কঠোর কর্মসূচি দিলেন না!শুধু সভা করে কতদিন ভাই?
#সংবাদ মাধ্যমের কাছে আরও সাহসী ভুমিকা চাই।শহীদ সিরাজউদ্দিন,জহির রায়হান,শহিদুল্লাহ কায়সার প্রমুখের ছায়া আপনাদের মাঝে দেখতে চাই!আপনাদের চ্যানেল-পত্রিকায় জামাতি প্রতিষ্ঠানের অ্যাড দেখতে কোনভাবেই চাই না।জামাতের এজেন্দা বাস্তবায়ন করতেও আপনাদের দেখতে চাই না!
মনে রাখবেন,এই বাঙালী কিন্তু কিছুই ভুলবে না।পরে যেন পস্তাতে না হয় ভুল অবস্থানের জন্য।

#মাদ্রাসার ভাইদের জন্য কি লিখব?তাদের কাছে কোন লেখাই কখনো পৌঁছবে না!তাদের কাছে আমাদের পৌঁছাতে হবে যেন তাদের কেউ আর অন্ধকারে রাখতে না পারে!কেউ যাতে তাদের ভুল তথ্য দিয়ে বিপদে ফেলতে না পারে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *