নিজের অজান্তেই তিনি খুব ভালো একটা কাজ করেছেন– আই স্যালুট আল্লামা শফি

কোটা আর আল্লামা শফির তেতুল তত্ত্ব। পত্র পত্রিকা আর ব্লগ এখন সয়লাব। আওয়ামী লীগ হয়তো একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। পাঁচ সিটির পরাজয়ের পরে যে সমালোচনার ঝড় উঠবে মনে হয়েছিল, তা হল না। গোপনেই ভুল ভ্রান্তি শুধরানোর সুযোগ পেল। বিএনপি এই ইউফোরিয়া দিয়ে আন্দোলন চাঙ্গা করতে পারতো, তবে রমজান আসায় আপাততঃ আন্দোলনে যাওয়া সমীচীন বলে মনে করে নি।

কোটা আর আল্লামা শফির তেতুল তত্ত্ব। পত্র পত্রিকা আর ব্লগ এখন সয়লাব। আওয়ামী লীগ হয়তো একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। পাঁচ সিটির পরাজয়ের পরে যে সমালোচনার ঝড় উঠবে মনে হয়েছিল, তা হল না। গোপনেই ভুল ভ্রান্তি শুধরানোর সুযোগ পেল। বিএনপি এই ইউফোরিয়া দিয়ে আন্দোলন চাঙ্গা করতে পারতো, তবে রমজান আসায় আপাততঃ আন্দোলনে যাওয়া সমীচীন বলে মনে করে নি।
কোটা নিয়ে আন্দোলনে মনে হচ্ছে রাজনীতি প্রবেশ করে গেছে। ‘মুক্তিযোদ্ধা’ দের কটাক্ষ করা হয়েছে এমন রটনা (এখনও কোন ভিডিও প্রমাণ দেখা যায় নি, তাই রটনা বললাম) আন্দোলনে একটা বিচ্ছিরী পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ‘কোটা’ যৌক্তিক না অযৌক্তিক তাঁর চেয়েও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ব্যবস্থার পক্ষে কে আর বিপক্ষে কে। একদিকে আওয়ামী আর একদিকে বিএনপি আর জামায়াত এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করে ফেলা হয়েছে। ফলে আসল আলোচনা এখন আর হবে বলে মনে হয় না। শুরু হতে যাচ্ছে রাজনীতির খেলা।
তবে মজার পরিস্থিতি তৈরি করে দিয়েছেন শফি সাহেব। সবচেয়ে ঝামেলায় ফেলে দিয়েছেন তাঁদেরকে যারা দেশে যারা ইসলামী শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চান। তাঁরা না পারছেন এগিয়ে এসে সমর্থন দিতে না পারছেন সমালোচনা করতে। পর্দা প্রথার সমর্থনে তিনি বেশ অকাট্য এবং বৈজ্ঞানিক যুক্তি দেখিয়েছেন। যদিও ‘তেতুল’ এবং ‘লালা’ র উদাহরণটা অনেকটাই রূপক তবে মূল বক্তব্য কিন্তু বৈজ্ঞানিক। পুরুষ এবং নারীর মনোবিজ্ঞান ঘেঁটে যে তথ্য আবিষ্কৃত হয়েছে তা হচ্ছে, বয়ঃসন্ধিকাল কিংবা পিউবার্টি এলে পুরুষ এবং মহিলা র ভেতরে কিছু মানসিক পরিবর্তন হয়।
পুরুষ নারীদের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠে আর নারীরা পুরুষের চোখে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলতে চেষ্টা করে। পুরুষদের আগ্রহী হয়ে ওঠাকে ‘লালা’ ঝরা বললে পুরো ব্যাপারটা ‘শরীর’ ঘটিত কিংবা ‘যৌন আবেদন’ জাতীয় কিছু বোঝায়। অর্থাৎ নারীর ভেতর শরীর ছাড়া আর কিছু নেই। একটু (???) হয়তো বাড়িয়ে বলা হয়ে যায় তবে ‘আগ্রহী’ কিংবা ‘আকর্ষিত’ বোধ করা ব্যাপারটা স্বাভাবিক একটি ঘটনা। তা এক পলকের দেখা, গল্প গুজব, আড্ডা, স্বপ্ন দেখা এসবে থেমে থাকতে পারে কিংবা যৌনতা পর্যন্ত এগুতেও পারে। সবচেয়ে বড় কথা, এই উপসর্গ গুলো উপরওয়ালা (যে নামে তাঁকে ডাকতে চান) প্রদত্ত কিংবা হরমোন ঘটিত।
নিজের অজান্তেই মহামতি শফি সাহেব খুব ভালো একটা কাজ করেছেন। চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন, ‘আমাদের মানসিকতা’। আজ যারা হৈ হৈ করে উঠছেন, ‘অশালীন’ উক্তি বলে বক্তব্য দিচ্ছেন, তাঁরা কি আদৌ একবার ভেবে দেখেছেন, তাঁরা সত্যিকার অর্থে একজন নারীকে কি রূপে দেখেন? পত্র পত্রিকা কিংবা টেলিভিশানে যেসব বিজ্ঞাপন হয় সেখানে একজন নারীকে কিভাবে উপস্থাপন করা হয়। শফি সাহেব খুব ‘সৎ বাংলা’য় তাঁদের ভোগ্যপণ্য বলেছেন আর আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের কাজের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করছি তাঁরা ‘ভোগ্যপণ্য’।
পত্রিকায় যত বড় বড় বিজ্ঞাপন ছাপা হয়, সেগুলোর বেশীর ভাগে একজন নারী আপনাকে জানাচ্ছে কোন দুধ কিনতে হবে, কোন ঢেউটিন কিনতে হবে। কোন দোকানে সুলভে জিনিস পাওয়া যায় এই তথ্যটা আপনাকে জানানোর জন্য যে বিজ্ঞাপন সেখানেও অনাবশ্যক ভাবে একজন নারীর ছবি দেয়া থাকে। আর টেলিভিশান। সেখানে সবচেয়ে বেশী যিনি আমাদের উপদেশ দেন তিনি হচ্ছেন জনৈকা রূপসী। যিনি একটি বিশেষ ক্রিম ব্যবহার করে একাধারে ফর্সা হয়েছেন, রূপসী হয়েছেন এমনকি তাঁর দিকে এখন পুরুষরা লালায়িত ভাবে তাকাচ্ছেও। যে স্বামী আগে খুব ব্যস্ত থাকতো এখন সে অফিসে বাদ দিয়ে গৃহে লালা ঝরাচ্ছে।
সাবান, স্যাম্পু থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের বালতি কোনটা কিনতে হবে এই উপদেশ বাণী দেয়ার জন্য বরাদ্দ আছেন একজন ‘লালা’ ঝরা সুন্দরী। উদ্দেশ্য এই ‘তেতুল’ রমণীর অনুরোধে যেন বাড়ীর পুরুষটা লালা ঝরাতে ঝরাতে বাজারে যেয়ে সেই সাবান কেনে। পারফিউমের বিজ্ঞাপন তো আরও এক কাঠি সরেস। এই পারফিউম মাখলে দলে দলে রমণী আপনার জন্য লালা ঝরাবে। সবচেয়ে বড় কথা এই বিজ্ঞাপন গুলো দেখে, প্রসাধন গুলো বিক্রিও হচ্ছে। অর্থাৎ এই সাবান মেখে আমিও সেই সুন্দরী নায়িকা হতে পারি, এমন বিশ্বাস আমার মনে জন্মে গেছে।
শুধু বিজ্ঞাপন কেন, সিনেমা নাটকে কখনই দেখানো হয় না অফিসের বস একজন রমনী। কোন নারীর প্রাপ্তি বলতে সুন্দরী প্রতিযোগিতা জেতা। অফিসে প্রমোশান পেয়েছে এমন কোন দৃশ্য তো দেখাই যায় না। যা দেখা যায় তা হচ্ছে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট, আর তাতে আনন্দিত হতে দেখা যায় কেবল তাঁর পিতা, মাতা ভাই বোনকে। কখনই স্বামী কিংবা শ্বশুর বাড়ীর কাউকে না। নারী চরিত্র মানেই নায়কের মনোরঞ্জন করা কিংবা সংসার সামলানো একজন মা। নতুন শুরু হয়েছে শাশুড়ি ননদ আর বউ এর মাঝে কুট-কাচালি, অর্থাৎ ঘরের ভেতরে থাকা।
শফি সাহেব কি খুব ভুল বলেছেন? খুব সত্যি একটি কথা বলেছেন। তবে তাঁর সমর্থনে এখনও কাউকে আসতে দেখা যাচ্ছে না। এখানেও সেই ভণ্ডামি। হেফাজত কে নিয়ে রাজনীতি করতে কোন দলেরই আপত্তি নেই। তাঁদের ‘তের দফা বাস্তবায়ন করব’ এমন কথা কেউ বলতে রাজী না, তবে তাঁদের ভোট পেতে সবাই আগ্রহী। তাই মনে প্রাণে সবাই চাইছে তিনি এমন সব কথা বলুন, যা সমর্থন করলে অন্ততঃ তাঁদেরকে কেউ অশালীন বলবে না। তাঁদের প্রগতিশীল ছবিতে কোন কালি লাগবে না। আওয়ামীলীগ দোটানায় ছিল, হেফাজতি সাপোর্ট পাওয়ার চেষ্টা করবে কি না। চার সিটি র পরে গাজীপুরেও যখন হেফাজত মুখ ফিরিয়ে নিল তখন ‘লালা’ জাতীয় বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কড়া কথা বলতে মনস্থ করল, প্রধানমন্ত্রী মুখ খুললেন। তবে বিএনপি জামায়াত এখনও চুপ আছে।
আমি ব্যক্তিগত ভাবে তাঁকে স্যালুট জানাই। ভাবি। তিনি অন্ততঃ সততা দেখিয়েছেন। তিনি মনে যা ভাবেন, তাই বলেছেন। নিজের অজান্তেই তিনি মহৎ যে কাজটা করেছেন, তা হচ্ছে চোখে আঙ্গুল দিয়ে সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছেন, তোমরা যা ভাবো তা বলার সাহস রাখো না। তোমরা ভণ্ড। মুখে নারী স্বাধীনতা আর নারীর অধিকার নিয়ে যতই কথা বলো, মনে মনে তোমরা এখনও নারী কে ভোগ্যপণ্য ই ভাবো। কেবল মুখে স্বীকার কর না। মুক্তিযুদ্ধ, কোটা, নারী অধিকার নিয়ে তোমরা শুধু রাজনীতি করতে জান, সত্যি কথা বলতে জান না।

৩৬ thoughts on “নিজের অজান্তেই তিনি খুব ভালো একটা কাজ করেছেন– আই স্যালুট আল্লামা শফি

  1. আপনার লেখাটি চাতুর্যপূর্ণ
    আপনার লেখাটি চাতুর্যপূর্ণ বলবো কিনা ভাবছি । আল্লমা শফী একটা দর্শনে বিশ্বাস করেন । তার সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই আদর্শ সমর্থন করছে । এখানে অহেতুক বিজ্ঞাপনী নারীদের কেন টেনে আনলেন রে ভাই । নারী কে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং তাকে পণ্য দৃষ্টিতে সমাজে দেখা হয় সেটি বিবেকবান প্রতিটি সুস্থ মানুষ জানে ।
    আর হেফাজত বা অন্যান্য মৌলবাদী ভোট আওয়ামী বা বিএনপি র জন্য জরুরী সে কথাও কারো অজানা নয় । কিন্তু তাই বলে শফীর কথাবার্তা কে কীভাবে আপনি জাস্টইফাই করছেন ??

    1. শফি কে কি আমি জাস্টি ফাই
      শফি কে কি আমি জাস্টি ফাই করেছি? আমি তাঁর সততার প্রশংসা করেছি। সে যা মনে করে তা বলার সাহস রাখে। ভণ্ড নেতাদের চেয়ে তা অনেক ভালো কাজ। মনে নারীকে পন্য ভাববেন আর কেউ সে কথা বললে আঁতকে উঠবেন তা কেন? হয় নারীকে পন্য ভেবেন না আর নয়তো মেনে নিতে শিখুন আপনার মন নোংরা।

      1. এইখানে বোধহয় একটা ভুল করছি
        এইখানে বোধহয় একটা ভুল করছি আমরা!! আগে সর‍্যি বলে নিচ্ছি অযাচিত আসছি বলে! দেখুন দুনিয়ার তাবৎ শিল্পীই নারীর রুপে গুনে মুগ্ধ হয়ে তার শিল্প সৃষ্টি করেছে তা শিল্পীর গান-কবিতা-চলচ্চিত্র-নাচ-ভাস্কর্য-পেইন্টিংস-ফটোগ্রাফ বা অন্যসবরকমের… তার একমাত্র কারণ হতে পারে নারীই ও নারীর সৌন্দর্য মানুষকে সবচে বেশী আকর্ষণ করে! একটা উদাহরণ দেই একটা বাচ্চাকে আপনি বিয়ের অনুষ্ঠানে নিয়ে গেলে সে আগে বউ দেখতে চাই (ছেলে/মেয়ে উভয়ই)… তাই বিজ্ঞাপন বা অন্য সব শিল্পমাধ্যমে নারীর উপস্থিতি প্রত্যাশিত!! তবে বিজ্ঞাপনে মায়ের ভালোবাসা-দেশপ্রেম-বা কোন আবেগ ব্যবহার আমিও সমর্থন করি না। যে পন্যের বিপণন করবে একমাত্র তার সাথে প্রসঙ্গিক বিষয়ই বিজ্ঞাপনে উপস্থাপন কাম্য…
        ভাল থাকবেন!! দুজনকেই ধন্যবাদ… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

        1. একমত। নারীরাও পুরুষের চোখে
          একমত। নারীরাও পুরুষের চোখে আকর্ষণীয় হতে চায় না, এমনটাও তো না। সমস্যা এই সত্য কে স্বীকার করে নেয়া নিয়ে। সফি সাহেব খুব নোংরা ভাবে স্বীকার করেছেন, শিল্পীরা করেছেন শৈল্পিক ভাবে আর আমরা স্বীকার করেতে ভয় পাই।

      2. সাজ, আপনি শফীর কথা ধ্রুব সত্য
        সাজ, আপনি শফীর কথা ধ্রুব সত্য বলে ধরে আমাদের সাথে অযথা ফাইট করছেন ।

        সে যা মনে করে তা বলার সাহস রাখে

        — হুম, আর আপনিও তার কথা বাইবেলের বানীর মতো আউড়ে যাচ্ছেন । জেনে খুশি হলাম আল্লামা শফী আপনার পারফেকট নেতা !!!

        মনে নারীকে পন্য ভাববেন আর কেউ সে কথা বললে আঁতকে উঠবেন তা কেন? হয় নারীকে পন্য ভেবেন না আর নয়তো মেনে নিতে শিখুন আপনার মন নোংরা।

        — জনাব, আপনি কতোটুকু জানেন আমার সম্পর্কে ? আমার মন নোংরা কী ভালো সে ব্যাখ্যা আপনার মতো আকাট আবালের কাছে না দেওয়াই শ্রেয় । শুরুটা যেহেতু আপনি করেছেন । আগেই আক্ক্রমনে গিয়ে ফাউল খেলে বসলেন । আপনার লেখা যদি আমি বুঝে না থাকি সেটি আপনি বিনীত ভাবে বলতে পারতেন । অযথা ঝগড়া করতে এসেন না দয়া করে ।

          1. আতিক ভাই, উলটা পাল্টা
            আতিক ভাই, উলটা পাল্টা অ্যাঙ্গেল দিয়ে পোস্ট দেবে । সেই পোস্ট নিয়ে কিছু লিখলে সেখানে তিনি নোংরামি খুঁজে পাবেন । সে খুব কৌশলে শফীর বয়ান কে জাসটিফাই করতে এসেছে । একটু খেয়াল করে পড়ে দেখেন ।

        1. আপনার সবগুলো মতামতই পড়লাম। যা
          আপনার সবগুলো মতামতই পড়লাম। যা বুঝলাম পুরো আলোচনা আপনি ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। আপনি নারীকে কি চোখে দেখেন তা এখানে আলোচনার বিষয় না। বিষয় পুরো সমাজ কিভাবে দেখে। আর ‘আপনি’ বলে আমি পুরো সমাজ কে বোঝাতে চেয়েছি, যেখানে আপনার আমার সবার বসবাস।
          আমার মনে হয়েছে সমাজে এই মুহূর্তে দুটো গ্রুপ তৈরি হয়ে গেছে, একদিকে শফি টাইপ লোক যারা নারী সম্পর্কে ‘লালা’ জাতীয় মানসিকতা রাখে এবং তাঁরা তা স্বীকার ও করে। কারণ তাঁদের ধারণা তাঁরা যা করছে ধর্ম মতে তাঁরা সঠিক। এই গ্রুপ দিন দিন বাড়ছে। আমরা পছন্দ করি আর না করি।
          অন্য গ্রুপে আছি আমি ,আপনি, আমরা বা বলা যায় পুরো শিক্ষিত সমাজ। আমরা কি করছি? পত্রিকা, সিনেমা, নাটক, বিজ্ঞাপন সব জায়গায় আমরা নারীকে প্ন্য হিসেবেই উপস্থাপন করছি। সমাজের এই অংশ সেটা আবার স্বীকার করার সাহস রাখে না। মুখে বলছি নারী স্বাধীনতা, অধিকার কিন্তু মনের গভীরে আমরা খুব বেশী অগ্রসর এখনও হইনি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এখান থেকে এগব কিভাবে। আমার কাছে মনে হয়েছে, নিজের কদর্য চেহারা প্রথমে স্বীকার করতে হবে। তখেন নিজের ওপর আসবে ঘৃণা। এরপর যদি এই পরিস্থিতি পাল্টাতে মন চায়, তবেই পরিবর্তন আসবে।
          বাকী আরও যে কয়েকটা প্রশ্ন তুলেছেন, সেগুলো একটি পিউবারটি নিয়ে। এই বক্তব্য সঠিক। সম্ভব হলে ফরেনসিক মেডিসিনের কোন বই পরে দেখতে পারেন।

          আপনি, শহীদ ভাই, আর আতিক ভাই আরও যে বিষয়ে আপত্তি করেছেন তা হচ্ছে ‘আমাদের সবার লালা ঝরে না’ । বা নারী কে দেখেলি ‘যৌন উত্তেজনা’ আসে না। আলোচনার বিষয় তো তা না, আলোচনার বিষয় একদল লোক নারীকে কি হেসিবে দেখছে। তাঁরা নারীকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে দেখছে এবং সেটা স্বীকার করছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আপনার সামনে দুইজন মানুষ, দুইজনই নারীকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে দেখছে, একজন সেটা স্বীকার করছে অন্যজন্ করছেন না। এই অবস্থায় আর প্রতি আপনার সম্মান জাগবে? আমি সম্মান জানাবো যে স্বীকার করছে, এবং সম্মান টা তাঁর মানসিকতার জন্য না, সম্মানটা তাঁর সততার জন্য। নিজের মানসিকতা স্বীকার করার জন্য।
          যতটা পারলাম বোঝালাম, আপনার বাকী মতামত গুলোর উত্তর দেয়ার রুচি নাই। আর ঝগড়া করার মানসিকতা তো নাই ই।

  2. আপনি শফি লুইচ্ছার সততার কথা
    আপনি শফি লুইচ্ছার সততার কথা বলেছেন? বাহ!
    জনাব, শফি যখন খালেদার আচল তলে আশ্রয় নিছিল তখন কোথায় ছিল তার সততা? নাকি তখন সে সাময়িক নপুংসক হয়ে গিয়েছিল?
    যে জামাতকে ইসলামের শত্রু বলে ঘোষনা দিল সে জামাতের প্রার্থীর পেছনে যখন দৌড়াদৌড়ি করে তখন কোথায় থাকে তার সততা?

    প্রলাপ বকবেন না।গার্মেন্টসে আমার যে বোনটি কাজ করে সে কি বেশ্যা?পেটের দায়ে ঘরের বাইরে কাজ করলে জেনা করতে হয়? বেশ্যাগিরি করতে হয়?

    আফসুস এসব বেশ্যাদের(লুইচ্চা শফির ভাষায়) দান খয়রাতের টাকা খেয়ে সৎ শফিরা জীবন বাচায় ।

    1. সম্ভব হলে লেখাটা আপনি আরেকবার
      সম্ভব হলে লেখাটা আপনি আরেকবার পড়েন। আমি শফির সারাজিবনের কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলিনি। বলেছি নির্দিষ্ট একটা কথা নিয়ে। সেখানে তিনি নিজের মনের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। সেটা নোংরা হোক আর পরিষ্কার হোক। আর বাকীদের মনে নোংরা থাকলেও তা স্বীকার করার সাহস রাখে না। রাস্তা চলা একজন মেয়ের দিকে আমরা লালায়িত দৃষ্টিতে তাকাই আবার নারী স্বাধীনতার কথা বলি। এই হিপক্র্যাসি নিয়ে লিখেছি।

    2. সহমত । শাহিন ভাই, এইসব বিষয়ে
      সহমত । শাহিন ভাই, এইসব বিষয়ে প্রশ্ন তুইলেন না । সে ধ্বজভঙ্গ হয় নাই এই মর্মে সার্টিফিকেট চেয়ে বসতে পারে । একজন লম্পট কে সে মহামতি আখ্যা দেয় । তাকে সৎ হিসেবে চিহ্নিত করে । আর এসব বিষয়ে বললে ” আমাদের মন নোংরা ” এই অপবাদ শুনতে হয় ।

  3. লালায়িত কুকুরের এমন স্বীকার
    লালায়িত কুকুরের এমন স্বীকার উক্তিকে সততা না বলে হঠকারিতা বলা উচিৎ…
    তবে এইটা ঠিক কুকুরের কাজ কুকুর করেছে বলে আমরা আজ কুকুরকে চিনতে পেরেছি!
    তাই কুকুরকে ধন্যবাদ!! তবে এইটা কুকুররুপী মানুষ বলে হঠকারিতা বলছি না হয় সততা বলতাম

    1. আমার কাছে হতকারিতা মনে হয় নি।
      আমার কাছে হতকারিতা মনে হয় নি। অতি আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে। তাই মনের সব কথা উগ্রে দিয়েছেন। আমার ধারণা এই কথা তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন এবং তাঁর ছাত্রদেরও এই শিক্ষাই দেন।

      1. তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করে
        তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করে সে বিষয়ে কে দ্বিমত পোষণ করছে ? এবং তিনি তার মধ্যযুগীয় অন্ধকারে বসবাসরত ছাত্রদের এ বিষয়ে শিক্ষা দেন তা নিয়েও কারো দ্বিধা নেই । এবং আপনার কাছে যে হটকারিতা মনে হবে না তা নিয়েও আশ্চর্য হবার কিছু নেই । মহামতি লেনিনের পরে আরেক জন মহামতি’র সন্ধান দিলেন । আপনাকে লাল সালাম ব্রাদার !!!
        :শয়তান: :তুইরাজাকার: মহামতি কমরেড আল্লামা শফী :শয়তান: :তুইরাজাকার:

  4. মুক্তিযোদ্ধা’ দের কটাক্ষ করা

    মুক্তিযোদ্ধা’ দের কটাক্ষ করা হয়েছে এমন রটনা (এখনও কোন ভিডিও প্রমাণ দেখা যায় নি, তাই রটনা বললাম) আন্দোলনে একটা বিচ্ছিরী পরিস্থিতি তৈরি করেছে

    আপনি শুক্রবারের বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রত্রিকা টি পড়েন। সেখানে ছাত্রলীগ এর সংবাদ সম্মেলন এ তাদের প্রশ্ন করা হয় তারা আক্রমন করেছে কি না
    উত্তরে জানায় তারা দলীয় আক্রমন করে নি তবে মুক্তিযোদ্ধাদের কটাক্ষ করে স্লোগান দেয়ায় কিছু কিছু সদস্য ব্যক্তিগত ভাবে ক্ষীপ্ত হয় আক্রমন করতে পারে।

    আপনি বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকাটির শুক্রবারের সংস্করন পড়ুন আর ভাল করে লেখা আছে।

    1. আপনি যা লিখেছেন তা তো
      আপনি যা লিখেছেন তা তো মুক্তিযোদ্ধাদের কটাক্ষের প্রমাণ হল না। অপর পক্ষ ও তো জানিয়েছে তাঁরা এমন কিছু বলে নি। কোনটা বিশ্বাস করবো?

  5. আপনার আসাধারন পৰ্যবেক্ষন
    আপনার আসাধারন পৰ্যবেক্ষন ক্ষমতা ।

    নিজের অজান্তেই মহামতি শফি সাহেব খুব ভালো একটা কাজ করেছেন। চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন, ‘আমাদের মানসিকতা’।

    পর্দা প্রথার সমর্থনে তিনি বেশ অকাট্য এবং বৈজ্ঞানিক যুক্তি দেখিয়েছেন।

    শইপ্যা পাগলাকে আপনি দাৰ্শনিক শফি বানাইয়া ফেলছেন । :)) :)) :))

    1. হুম ওনার দার্শনিক গুরু
      হুম ওনার দার্শনিক গুরু :শয়তান: :তুইরাজাকার: মহামতি কমরেড আল্লামা শফী :শয়তান: :তুইরাজাকার: !

      1. (No subject)
        :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:
        :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট:
        :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:
        :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:
        :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি:

    2. একজন চোর যদি চুরি করে স্বীকার
      একজন চোর যদি চুরি করে স্বীকার করে– তবে তাঁকে চুরির জন্য কটাক্ষ করতে রাজী আছি তবে স্বীকার করার জন্য সৎ বলতেও আপত্তি করবো না। এই অংসেই আপনাদের অনেকের সঙ্গে আমার বিরোধ। আপনারা চোরকে চোর ব্লুন আমি চোরকে চোর এবং সৎ দুটিই বলব।

  6. নারী দেখলেই লালা ঝরে শফি
    নারী দেখলেই লালা ঝরে শফি হুজুরের এই কথা মানতে পারলাম না। এটা অসুস্থ্য মানসিকতা। উনি যদি বলতেন উনার নিজের এরকম হয় তাহলে ভিন্ন কথা। কিন্তু উনি তো জেনারালাইজ করে বলেছেন প্রতিটা পুরুষের এরকম হয়, না হইলে সেই পুরুষের সমস্যা আছে। একজন মানসিকভাবে অসুস্থ্য ব্যক্তি যদি মনে করে অন্য সবাইও তার মতো অসুস্থ্য সেটা বক্তব্যের মধ্যে এভাবে নোংরা ভাবে বলার মাঝে সততার কিছু খুঁজে পেলাম না।

    1. সহমত । জনাব সাজ রে কে বোঝাবে
      সহমত । জনাব সাজ রে কে বোঝাবে ? উনিতো ধরেই নিয়েছেন লালা ঝরবে । এরপর যদি বলে বসে লালা না ঝরলে আমরা ধ্বজভঙ্গ – ওনার মহামতি শফী পীরের বয়ানের মতো । তাইলে আর কি ওইটার সার্টিফিকেট যেহেতু দেখাতে পারবোনা । মেনে নেওয়াটাই আমার কাছে বুদ্ধিমানের কাজ বলে বিবেচিত হবে ।

      1. ডাঃ তো আছেই সার্টিফিকেট
        ডাঃ তো আছেই সার্টিফিকেট বানিয়ে নিন!
        সরি মজা করলাম মাইন্ড কইরেন না!! :নৃত্য: :ভালাপাইছি:

    2. একথা মানতে তো আপনাকে আমি বলিও
      একথা মানতে তো আপনাকে আমি বলিও নি। নারীকে দেখলে পুরুষদের কেমন লাগে সে সম্পর্কে উনার বক্তব্য বলেছেন। সেটা সঠিক তা তো আমি বলিনি। বলেছি, তিনি যা ভাবেন, তা বলার সাহস রাখেন। এটাকে আমার মানসিক অসুস্থতা মনে হয় নি, তাঁর সিক্ষার যা লেভেল, তাতে নারী কে অন্য কিছু ভাবতে তিনি শেখেন নি। এই মানসিকতার অনেকেই আছে, এবং তাঁর সাগরেদরা হয়তো তাই। আমার আলচনার বিষয় তো তা না, বিষয়, আমরা সবাই নারীকে যে চোখে দেখি তা স্বীকার করার সাহস রাখি কি না? উনি রাখেন, কারণ তিনি মনে করেন তিনি ঠিক। ার মনে যা আছে, তা নোংরা হোক ার পরিষ্কার হোক, স্বীকার করা কে সততা বলেছি।

  7. পর্দা প্রথার সমর্থনে তিনি বেশ

    পর্দা প্রথার সমর্থনে তিনি বেশ অকাট্য এবং বৈজ্ঞানিক যুক্তি দেখিয়েছেন। যদিও ‘তেতুল’ এবং ‘লালা’ র উদাহরণটা অনেকটাই রূপক তবে মূল বক্তব্য কিন্তু বৈজ্ঞানিক।

    — আপনার বিজ্ঞান সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা থাকলে এটাকে বৈজ্ঞানিক বলতে পারতেন না । আপনার কানে কানে শফী বলে গেছে ‘ তেঁতুল ‘ এবং ” লালা ” উদাহরণ তিনি রুপক অর্থে ব্যবহার করেছেন ? ভণ্ডামির সীমা থাকা উচিৎ ।

    পিউবার্টি এলে পুরুষ এবং মহিলা র ভেতরে কিছু মানসিক পরিবর্তন হয়।
    পুরুষ নারীদের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠে আর নারীরা পুরুষের চোখে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলতে চেষ্টা করে। পুরুষদের আগ্রহী হয়ে ওঠাকে ‘লালা’ ঝরা বললে পুরো ব্যাপারটা ‘শরীর’ ঘটিত কিংবা ‘যৌন আবেদন’ জাতীয় কিছু বোঝায়। অর্থাৎ নারীর ভেতর শরীর ছাড়া আর কিছু নেই। একটু (???) হয়তো বাড়িয়ে বলা হয়ে যায় তবে ‘আগ্রহী’ কিংবা ‘আকর্ষিত’ বোধ করা ব্যাপারটা স্বাভাবিক একটি ঘটনা।

    —- বাহ ! শফীর নিয়োজিত ব্যাখ্যাকার হিসেবে ভালোই ব্যাখ্যা দিলেন । আমি এর আগে কখনো শুনিনি পিউবার্টি এলে তরুণ তরুণীর লালা ঝরে । নারী – পুরুষের একে অন্যের প্রতি আকর্ষণ প্রাকৃতিক । কিন্তু লালা ঝরার ব্যাপারটা আপনার মতো কোন কোন নারী খেকোর বেলায় ঘটলেও ঘটতে পারে ।

    নিজের অজান্তেই মহামতি শফি সাহেব খুব ভালো একটা কাজ করেছেন। চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন, ‘আমাদের মানসিকতা’। আজ যারা হৈ হৈ করে উঠছেন, ‘অশালীন’ উক্তি বলে বক্তব্য দিচ্ছেন, তাঁরা কি আদৌ একবার ভেবে দেখেছেন, তাঁরা সত্যিকার অর্থে একজন নারীকে কি রূপে দেখেন? পত্র পত্রিকা কিংবা টেলিভিশানে যেসব বিজ্ঞাপন হয় সেখানে একজন নারীকে কিভাবে উপস্থাপন করা হয়। শফি সাহেব খুব ‘সৎ বাংলা’য় তাঁদের ভোগ্যপণ্য বলেছেন আর আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের কাজের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করছি তাঁরা ‘ভোগ্যপণ্য’।

    —- আরে বাপস!!! ” মহামতি শফী ” !!! এই প্রভুভক্তি প্রমাণ করে শফীর একনিষ্ঠ খেদমতকার হিসেবে এই পোস্ট দিয়েছেন । হু, এদেশের সর্বশেষ পীর হিসেবে তিনি আমাদের চোখে এবং গুহ দ্বারে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন আমাদের মানসিকতা কোন স্তরে আছে । আমরা নারী কে কিরুপে দেখি সেটা আপনি এবং আপনার পীর শফী বাবা একমাত্র জানেন, আর কেউ না, তাইতো ? আপনার পীর সৎ বাংলা বলেন ? তিনি এদেশের নারী এবং সেই সাথে বাংলা শব্দ ভাণ্ডার কে তার ওয়াজ এর মাধ্যমে রেপ করে ছাড়লেন আর আপনি সততার ছবক শুনাতে আসছেন ?

    আমি ব্যক্তিগত ভাবে তাঁকে স্যালুট জানাই। ভাবি। তিনি অন্ততঃ সততা দেখিয়েছেন। তিনি মনে যা ভাবেন, তাই বলেছেন। নিজের অজান্তেই তিনি মহৎ যে কাজটা করেছেন, তা হচ্ছে চোখে আঙ্গুল দিয়ে সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছেন, তোমরা যা ভাবো তা বলার সাহস রাখো না। তোমরা ভণ্ড। মুখে নারী স্বাধীনতা আর নারীর অধিকার নিয়ে যতই কথা বলো, মনে মনে তোমরা এখনও নারী কে ভোগ্যপণ্য ই ভাবো। কেবল মুখে স্বীকার কর না।

    —- আপনি তো স্যালুট জানাবেন । আপনি আর আপনার পীর কেবল মনে যা ভাবে তাই বলে আর আমরা মুখে আঠা লাগায়া বসে থাকি। আপনার ভণ্ডামি এবং চাতুর্য শেষ পর্যন্ত আড়াল করতে পারেন নাই ব্রাদার । মিশন এর শুরুতে তাল গোল পাকায় ফেলছেন । আসেন কতো ত্যানা পেচাইতে পারেন দেখি ।

  8. ভাই এইভাবে বললে তো ছেলেরা
    ভাই এইভাবে বললে তো ছেলেরা তেতুলের চেয়ে কম কিছুনা… একজন নারী এসে আপনাদের তেতুল বললে তাকেও আপনি সমর্থন দিবেন আশা করি। অত্যন্ত নিম্নমানের পোস্ট মনে হল আমার কাছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *