প্রসঙ্গ : কুকুর

[মুখবন্ধ : মুল পোস্টে যাবার আগে প্রথমে দুটি কথা বলে নিচ্ছি…
১/কাঁচা হাতে কি আর লিখতে পারি?তবুও যে বিষয়ে লিখার আগ্রহ জন্মায়,ভেবে দেখি সে বিষয়ে লিখা আসলেই আমার জন্য উচিৎ হবে না।কেননা আমাদের দেশে মুক্তচিন্তা এখনও বিকাশ লাভ করেনি।তাই অনাগ্রহী হয়েও আপাতত বিষয় হিসেবে কুকুরকেই বেছে নিলাম।
২/আমার এই লিখাটি কেউ কেউ পরিবেশের উপর হুমকি মনে করতে পারেন।কিন্তু পজিটিভ চিন্তা করলে বিষয়টি আদৌ তা মনে হবার কথা নয়।এরপর ও আপনার মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়ে থাকলে উক্ত লিখাটি কেবলমাত্র আমার একটি অভিমত বা প্রস্তাবনা হিসেবে বিবেচনার অনুরোধ থাকল।]


[মুখবন্ধ : মুল পোস্টে যাবার আগে প্রথমে দুটি কথা বলে নিচ্ছি…
১/কাঁচা হাতে কি আর লিখতে পারি?তবুও যে বিষয়ে লিখার আগ্রহ জন্মায়,ভেবে দেখি সে বিষয়ে লিখা আসলেই আমার জন্য উচিৎ হবে না।কেননা আমাদের দেশে মুক্তচিন্তা এখনও বিকাশ লাভ করেনি।তাই অনাগ্রহী হয়েও আপাতত বিষয় হিসেবে কুকুরকেই বেছে নিলাম।
২/আমার এই লিখাটি কেউ কেউ পরিবেশের উপর হুমকি মনে করতে পারেন।কিন্তু পজিটিভ চিন্তা করলে বিষয়টি আদৌ তা মনে হবার কথা নয়।এরপর ও আপনার মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়ে থাকলে উক্ত লিখাটি কেবলমাত্র আমার একটি অভিমত বা প্রস্তাবনা হিসেবে বিবেচনার অনুরোধ থাকল।]

দেশ থেকে বিদেশে কত কিছুই তো রপ্তানি হয়।মাছ, মাংশ, তরিতরকারি, চামড়া, হিমায়িত চিংড়ি, চা, কাঁচা পাট, জাহাজ, ঔষধ, চামড়া জাত পন্য, প্লাস্টিক, তৈরী পোশাক, কাঁকড়া ইত্যাদি ছাড়াও শ্রম হিসেবে মানুষ পর্যন্ত রপ্তানি হয়ে থাকে।২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে দুই হাজার ৭০২ কোটি ডলারের বিভিন্ন পণ্য বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়েছে, আগের বছরে যার পরিমাণ ছিলো দুই হাজার ৪৩০ কোটি ডলার।বিভিন্ন অর্থনৈতিক সমীক্ষা থেকে জানা যায়, দেশে উপার্জিত মোট বৈদেশিক মুদ্রার প্রায় ৩৫ শতাংশ আসে শ্রম থেকে। জিডিপিতে জনশক্তি খাতের অবদান ১২ শতাংশ যা গার্মেন্টস শিল্প থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার নীট আয়ের চেয়ে জনশক্তি রপ্তানি খাতে আয় দ্বিগুণ। দাতা সংস্থা থেকে প্রাপ্ত এর ৭ গুণ। ঋউও-এর প্রায় ১১ গুণ।

যাইহোক, আমার আলোচনার বিষয় কিন্তু জিডিপি নয়, আমার আলোচ্য বিষয় হচ্ছে কুকুর! কুকুর রপ্তানি!

দেশের প্রতিটি শহরে পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে এবং গ্রামাঞ্চলের কিছু কিছু যায়গায় উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বেওয়ারিশ কুকুর নিধন অভিযান চালানো হয়ে থাকে।সম্প্রতি সুন্দরবনে একশ্রেনীর কালো কেশরযুক্ত হিংস্র কুকুরের প্রাদুভার্ব ঘটে।এদের উৎপাতে নিঝুম দ্বীপ, ঢালার চর,জগলার সহ বনের বেশ কয়েকটি এলাকায় হরিণের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়ে।পরে সরকারি উদ্যেগে ঢাকা ইউনিভার্সিটির শিক্ষক জনাব আনোয়ার উল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল কুকুর উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করে কুকুর নিধনের জন্য বনবিভাগকে পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দেন।তাদের পরামর্শে কিছু কুকুর নিধন করা হলেও বনবিভাগের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারিদের কারনে পুরোপুরিভাবে সম্ভব হয়নি।তাছাড়া সুন্দরবনে কুকুরের সংখ্যা এত বেড়ে গেছে যে, পুরোপুরি ভাবে কুকুর নিধন করতে গেলে আলাদাভাবে বাজেট বরাদ্ধের প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, প্রতি বছর কুকুর নিধন অভিযানে বিপুল পরিমান অর্থ খরচ হয়।একেকটি কুকুর নিধনে লাগে অন্তত দেড়’শ থেকে দু’শো টাকা। কিন্তু এই অর্থ সাশ্রয় করে উপরন্তু কুকুর রপ্তানী করে প্রতিবছর আয় করা সম্ভব কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মূদ্রা।
কোরিয়া সহ প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কুকুরের মাংস অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার।কোরিয়াতে ১০কেজি ওজন বিশিষ্ট একটি কুকুরের দাম অন্তত ১০ হাজার টাকা।
শুধু কি কোরিয়া? থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম সহ বিশ্বের অনেক দেশেই কুকুরের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
যে কুকুরটি থাইল্যান্ডে মাত্র ১০ মার্কিন ডলার, ভিয়েতনামে তার দাম ৬০ মার্কিন ডলার।ভিয়েতনামে প্রতি বছর মাংশের চাহিদা মেটাতে প্রয়োজন ১০ লাখের বেশি কুকুর।শীতকালে সেখানে কুকুরের চাহিদা আরো বেড়ে যায়।ভিয়েতনামে এটি ‘গরম খাবার’ হিসেবে জনপ্রিয়।ভিয়েতনামের কুকুরের চাহিদার বহুলাংশের যোগান দেয়া হয় থাইল্যান্ড থেকেই।ইচ্ছা করলে সহজেই বাংলাদেশ থাইল্যান্ডের স্থলাভিষিক্ত বা অংশিদার হতে পারে।

বর্তমানে শুধুমাত্র কক্সবাজার শহরে অন্তত ২ হাজার এবং কক্সবাজার জেলা ব্যাপী লক্ষাধিক বেওয়ারিশ কুকুর রয়েছে।অন্যান্য জেলাগুলি ও সুন্দরবন মিলিয়ে সারাদেশে কমবেশি ১.৫ কোটি রপ্তানীযোগ্য বেওয়ারিশ কুকুর রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের ধারণা।
তাদের মতে, কক্সবাজার শহরের বেওয়ারিশ কুকুর রপ্তানী করে বছরে ২ কোটি টাকা, কক্সবাজার জেলা থেকে ১শ কোটি টাকা এবং সারাদেশ থেকে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা আয় করা যেতে পারে।

এছাড়াও চিড়িয়াখানা কিংবা সাফারী পার্কের প্রাণীদের খাদ্য হতে পারে কুকুর। প্রতিদিন একটি বাঘ ১০ কেজি, একটি সিংহ ১০ কেজি এবং চিতাবাঘ ৩ কেজি করে মাংস খেয়ে থাকে। প্রতিবছর একটি বাঘ কিংবা সিংহের খাদ্যের পেছনে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়। সাধারণ চিড়িয়াখানা বা সাফারী পার্কের বাঘ, সিংহ কিংবা চিতাবাঘের খাদ্য হিসাবে ছাগল ও গরুর মাংস দেওয়া হয়। যা মানুষের খাদ্যও বটে।অথচ ছাগল কিংবা গরুর মাংসের পরিবর্তে কুকুরের মাংস ব্যবহার করা হলে দেশের রাজস্বেরও কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

অতএব বর্তমানে কুকুর নিধন বা মেরে না ফেলে কুকুরের বহুল ব্যবহার নিশ্চিত করে রাজস্ব সাশ্রয়ের পাশাপাশি রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করা যেতে পারে।আমি মনে করি, বিদেশে কুকুর রপ্তানি বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে একটি সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।বানিজ্যিক উদ্যোগে কুকুর প্রজনন এবং রপ্তানি করা সম্ভব হলে বছরে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।

সবকিছুর শেষেও যে জিনিসটি গুরুত্ব সহকারে খিয়াল রাখতে হবে তা হল আমাদের পরিবেশ।কুকুর রপ্তানি করতে গেলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবার সম্ভাবনা থেকে যায়।তাই পদক্ষেপ নেবার আগে পরিবেশ বিজ্ঞানীদের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।

২৫ thoughts on “প্রসঙ্গ : কুকুর

  1. আপাত দৃষ্টিতে আপনার
    আপাত দৃষ্টিতে আপনার প্রস্তাবনা হাস্যকর এবং নিষ্ঠুর মনে হলেও আমি কোন আপত্তি দেখিনা। ভারত থেকে আমরা গরু আমদানি করতে পারলে কোরিয়ায় কুকুর রপ্তানিতে আপত্তির কিছু দেখিনা। বরং দেশের প্রতিটি পৌর এলাকায় যেভাবে নিষ্ঠুর পন্থায় কুকুর হত্যা করা হয় সেটা নিয়েই আপত্তি ওঠানো উচিৎ। একটা লোহার আংটা দিয়ে কেচকি দিয়ে ধরে কুকুর মেরে ফেলার এই পন্থা খুবই নিষ্ঠুর লাগে। তবে আপনার পোস্টের শেষ কথাগুলোও বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

    1. একেবারে শতভাগ ঠিক কথাই বলেছেন
      একেবারে শতভাগ ঠিক কথাই বলেছেন ।শিবিরের কুত্তাগুলারে পাঠালে দাম ও দিগুন পাওয়া যাবে ।তাছাড়া তুরস্ক, মিশর, পাকিস্থান, আফগানিস্থানে ও শিবির কুত্তাদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে ।

  2. চমৎকার আইডিয়া । সরকার এই
    চমৎকার আইডিয়া । সরকার এই দিকটা ভেবে দেখতে পারে । আতক ভাইর পোস্ট এর পর আরেকটা অন্যরকম লেখা পড়লাম । ধন্যবাদ শাহিন ভাই ।

    1. ব্যাতিক্রমি পোস্ট হিসেবে ভাল
      ব্যাতিক্রমি পোস্ট হিসেবে ভাল লেগেছে জেনে খুশি হলাম ।কৃতজ্ঞতা ।

  3. এখন আফসুস হচ্ছে জামাত শিবির ও
    এখন আফসুস হচ্ছে জামাত শিবির ও হেফাজতি কুত্তাদের বৈদেশিক চাহিদা সম্পর্কে পোস্টে কিছু লিখলাম না কেন! :মাথাঠুকি:

  4. নিঃসন্দেহে চমৎকার ও সময়োপযুগি
    নিঃসন্দেহে চমৎকার ও সময়োপযুগি একটি প্রস্তাব! :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
    তবে এক শ্রেণীর কুকুরের কথা আপনি সচেতনভাবে এড়িয়ে গেছেন যাদের রপ্তানি আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা আয় না সাথে সাথে রেমিটেন্সও বাড়াবে আবার সেই শ্রেণীর কুকুরের উপদ্রুপই সবচে বেশী! হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন আমি তেঁতুলে লালায়িত কুকুরদের কথা বলছি! এই প্রস্তাবের সংযুক্তি আপনার লিখার মাণ ও গ্রহণযোগ্যতা সর্বাংশে বৃদ্ধি করত!!

    1. বিষয়টা অনুধাবন করে মন্তব্যে
      বিষয়টা অনুধাবন করে মন্তব্যে আফসুস প্রকাশ করেছি ।ভবিষ্যতে কোন পোস্টে ঐ শ্রেনীর কুকুর রপ্তানির বিষয়ে লিখার চেষ্টা করব ।

  5. কিছু কিছু পোস্ট থাকে যার
    কিছু কিছু পোস্ট থাকে যার প্রতিটি লাইন পড়ে হ্যা সুচক মাথা দোলাতে হয়,এটি ওরকম একটি ব্লগ!!
    সমালোচনার কোন পয়েন্ট দেখছিনা

    1. সমালোচনা করলে আমি আরো বেশি
      সমালোচনা করলে আমি আরো বেশি খুশি হই ।কেননা সমালোচনা তারাই করে যারা আসলেই শোভাকাঙ্খি ।
      ধন্যবাদ

  6. চরম, একেবারেই ইউনিক আইডিয়া
    চরম, একেবারেই ইউনিক আইডিয়া ………… একটা ইন্ডিয়ান এড এর কথা মনে পড়ল , “এক আইডিয়া ক্যান চেঞ্জ ইউর লাইফ “… কথা সত্য

  7. আসলে আমরা মানে বাংলাদেশ হল
    আসলে আমরা মানে বাংলাদেশ হল বৈদেশিক মুদ্রার ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতির একটি দেশ ।এখানে অযথা টাকা খরচ করে কুকুর হত্যার চেয়ে বিদেশে রপ্তানি করে দুটো পয়সা আয় করলে মন্দ কি?
    একদিকে খরচ বাচলো আরেকদিকে আয় ও হল ।তবে সমস্যা হল, আমাদের দেশ থেকে বিদেশে যে পরিমান দ্রব্য রপ্তানি হয় তার চাইতে বেশি পন্য হয়ে যায় পাচার!
    তাই পাচার রোধ করে রপ্তানি পন্যের তালিকায় কুকুরের সংযুক্তি ঘটলে অবশ্যই মন্দ হবে না।

  8. নিজ অভিজ্ঞতা থেকে বলছি আসলেই
    নিজ অভিজ্ঞতা থেকে বলছি আসলেই খুবই নির্মমভাবে সিটিকর্পোরেশনের লোকজন কুকুর নিধন করে যা মর্মান্তিক,
    এর চেয়ে আপনার কথা অনুযায়ী কুকুরগুলোর যথাযথ ব্যবহার করার ব্যাপারটা প্রশাসন ভেবে দেখতে পারে. কিছু কিছু ভন্ড ব্যবসায়ী দেখলাম শিয়ালের মাংসের নামে রাস্তার কুকুরের মাংস বিক্রি করে!! মজার ব্যাপার হচ্ছে কোরিয়ানদের কুকুর মাংস প্রীতি গতবছরই দেখেছিলাম যখন আমাদের কুকুরকে কিছু কোরিয়ান গাড়িতে তুলে তাঁদের বাসায় নিতে উদ্যত হয়েছিল! কুকুর নিয়ে লেখার জন্য ধন্যবাদ

  9. আমার জানা মতে সেন্ট মারটিন
    আমার জানা মতে সেন্ট মারটিন থেকে কুকুর রপ্তানির কাজ শুরু করেছে সরকার ।। সরকারি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় কুকুর রপ্তানি করে ভালো বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ আছে……… প্রস্তাব মন্দ না ………

  10. তথ্যটা সত্য হলে সরকারকে
    তথ্যটা সত্য হলে সরকারকে সাধুবাদ জানাই ।তবে রপ্তানির নামে পাচার করা হলে তা আমাদের জন্য দুঃখজনক হবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *