ছাগু থেকে ম্যগু এবং একটি জামাতি মহাবিশ্বের স্বপ্ন (সাইন্স ফিকশন)

সময় ২১১৫ সাল।

পৃথিবী এখন ম্যগুদের বিজয়ী পদশব্দে প্রকম্পিত। এই ম্যগুরাই হল সেই ঐতিহাসিক ছাগুদের উন্নত সংস্করন। ছাগুরা ছিল অনেকটা মানুষেরই মত। পার্থক্য একটাই, মানুষের মাথায় বিদ্যমান মগজের বিপরীতে ছাগুদের ছিল ছাগলের বিষ্ঠা। ছাগবিষ্ঠা মাথায় নিয়ে তারা মগজ ধারণকারী মানুষের সাথে কোনোভাবেই যুদ্ধে পেরে উঠছিল না। তাই ২০১২ সালের শেষের দিকে আফগানিস্তানের তালেবান, পাকিস্তানি মৌলবাদী ও বাংলাদেশি জামাত ও হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ বিজ্ঞানীরা(!) মিলে ছাগবিষ্ঠা ও কপোট্রনের সম্মিলনে তৈরী করেন ম্যগুট্রন। যা ম্যগুদের বুদ্ধি নির্ধারন করে। উল্লেখ্য কপোট্রন হল রোবটের বুদ্ধি সরবরাহে ব্যবহৃত এক ধরনের তরল বস্তু।


সময় ২১১৫ সাল।

পৃথিবী এখন ম্যগুদের বিজয়ী পদশব্দে প্রকম্পিত। এই ম্যগুরাই হল সেই ঐতিহাসিক ছাগুদের উন্নত সংস্করন। ছাগুরা ছিল অনেকটা মানুষেরই মত। পার্থক্য একটাই, মানুষের মাথায় বিদ্যমান মগজের বিপরীতে ছাগুদের ছিল ছাগলের বিষ্ঠা। ছাগবিষ্ঠা মাথায় নিয়ে তারা মগজ ধারণকারী মানুষের সাথে কোনোভাবেই যুদ্ধে পেরে উঠছিল না। তাই ২০১২ সালের শেষের দিকে আফগানিস্তানের তালেবান, পাকিস্তানি মৌলবাদী ও বাংলাদেশি জামাত ও হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ বিজ্ঞানীরা(!) মিলে ছাগবিষ্ঠা ও কপোট্রনের সম্মিলনে তৈরী করেন ম্যগুট্রন। যা ম্যগুদের বুদ্ধি নির্ধারন করে। উল্লেখ্য কপোট্রন হল রোবটের বুদ্ধি সরবরাহে ব্যবহৃত এক ধরনের তরল বস্তু।

বর্তমানে পৃথিবীর সর্বত্রই ম্যগুদের সুশাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শীর্ষস্থানীয় ম্যগুরা বেছে বেছে খুব অল্পসংখ্যক পুরুষকে ম্যগুট্রন প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিবছর ম্যগুতে পরিনত করেন। এই ম্যগুদের আসাধারন নারীনীতি পৃথিবীর ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কোনো বিবাহিত কিংবা অবিবাহিত নারী যদি ম্যগুদের শারিরীক তৃপ্তি দেয়ার জন্য দেহদান করেন তবে সেটাকে “খেদমত” বলা হবে, কিন্তু তারা যদি কোনো সাধারন পরপুরুষকে দেহদান করেন তবে তা পরিপূর্ন “জেনা”। পুরুষ জেনাকারির শাস্তি মৃত্যুদন্ড, নারী জেনাকারির শাস্তি আমৃত্যু ম্যগুদের খেদমত করা।

এছাড়া ম্যগুরা ধর্ম নিয়ে বিদ্যমান সকল সংঘাতকেও নিরসন করেছেন। তারা বিশিষ্ট জামাতে ইসলামি ব্যক্তিত্ত মওদুদীর আবিস্কৃত “জামাতে ইসলাম” ধর্মকে বিশ্বধর্মে রুপ দিয়েছেন। বিশ্বের সংবিধান পরিচালিত হয় এই “জামাতে ইসলাম” ধর্ম দ্বারা। ম্যগুদের কথামত না চললেই নাস্তিক। পুরুষ নাস্তিকদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদন্ড, নারী হলে সেই “খেদমত”। যেহেতু সংবিধান অনুযায়ী বিশ্বধর্ম “জামাতে ইসলাম”, তাই বিশ্বে অন্য কোনো ধর্ম থাকার কোনো সুযোগ নেই। তারপরও লুকিয়ে লুকিয়ে অনেকে আলাদা ধর্ম(যেমনঃ ইসলাম) পালনের চেষ্টা করছেন।

২০৭০ সাল থেকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল শাখা শুধুমাত্র ম্যগুদের জন্যেই উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। ম্যগুরা অবশ্য পৃথিবীর সকল জনগোষ্ঠির জন্যেই জ্ঞান-বিজ্ঞান উন্মুক্ত রাখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু এক বেয়াদব ২০৬৫ সালে ‘টাইম মেশিন’ নামক আজব এক জিনিস আবিস্কার করেই ঝামেলা পাকিয়ে দেয়। ম্যগুদের সকল প্রজারা “জামাতে ইসলামিক” সুন্দর শাসনব্যবস্থা ছেড়ে তখন অতীতের স্বাধীন জীবন-যাপনে ফিরে যেতে চেয়েছিল। প্রশাসন ব্যবহার করে সেটা কোনোমতে ফেরানো গিয়েছিল, কিন্তু ঝামেলা বাঁধাল আল্লাহর ইসলামে বিশ্বাসী কিছু মানুষ। তারা বলল স্বাধীন জীবনে না হোক আমাদেরকে অন্তত টাইম মেশিনের মাধ্যমে ইসলামের স্বর্নযুগে যেতে দাও। যেহেতু ম্যগুরা মূলত ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে খায় এবং তারা দাবি করে ইসলামেরই আধুনিক সংস্করণ জামাতে ইসলাম, তাই এই যুক্তিতে তারা বেশ আটকে গেল। এবার তারা স্বয়ং মওদূদী সাহেবের লেখার দোহাই দিয়ে বললেন, “নবীগণ মা’ছুম নন। প্রত্যেক নবী গুনাহ করেছেন (নাঊযুবিল্লাহ) তাফহীমাত, ২য় খন্ড ৪৩ পৃষ্ঠা।” একারনে নবীগনের আদর্শে চলা স্বর্নযুগে ফিরে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, কারন মওদুদী সাহেবের কথা অনুযায়ী নবীরাই তো গুনাহগার। এছাড়া আরো বলা হয় স্বর্নযুগে ফিরে গেলে মওদূদী সাহেবের সংস্কার করা, উন্নত ইসলামিক চিন্তা-ভাবনা থেকে তারা তখন বঞ্চিত হবেন।

বর্তমানে পৃথিবীব্যপী ম্যগুসম্রাজ্যের প্রধান হিসেবে যে নারী আছেন তিনি ম্যগু জাতির জনক গোলাম আযমের ষষ্ঠপ্রজন্ম। যদিও নারীনেতৃত্ব ম্যগুরাজ্যে নিষদ্ধ, তবে ম্যগুদের পথপ্রদর্শক রাজাকারদের রক্ত যাদের শরীরে বিদ্যমান সে সকল নারীরা নেতৃত্বে আসতে পারবেন। এক্ষেত্রে তাদের যুক্তি হল তাদের পথপ্রদর্শকরা ক্ষমতায় যওয়ার জন্য একজন নারীর সাথে ১৮ দলীয় জোট করেছেন, তাই পথপ্রদর্শকদের রক্ত যাদের শরীরে রয়েছে তাদের জন্য ম্যগু আইন প্রযোয্য নয়।

আজ ২১১৫ সালে মানবতাকে ধ্বংস করে যে ম্যগুবতা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে সেটা মূলত সম্ভব হয়েছে প্রায় ১০০ বছর আগে হেফাজতে ইসলামের “বলগারবিরোধী বিপ্লবের” মাধ্যমে। ঐতিহাসিক বুদ্ধিজীবি হত্যা থেকে শিক্ষা নিয়েই হেফাজতে ইসলাম এই “বলগারবিরোধী বিপ্লব” ঘটিয়েছিল। বাংলাদেশ নামের একটি অসম্ভব সুন্দর দেশের অসম্ভব মেধাবী কিছু ছেলেদের হত্যার মধ্য দিয়ে এই বিপ্লব শুরু হয়েছিল। সেই ছেলেগুলো যে দেশের জন্য লড়ে যেত, সে দেশের মানুষেরাই তাদের হত্যার জন্য মেতে উঠেছিল। কারন, সাধারন মানুষদের বোঝানো হয়েছিল “বলগার” মানেই নাস্তিক। সেই “বলগারদের” হত্যার মধ্য দিয়ে তারা মেনে নিয়েছিল ছাগুদের বশ্যতা এবং আজ ২১১৫ সালেও তারা রয়ে গেছে পরাধীন।

১২ thoughts on “ছাগু থেকে ম্যগু এবং একটি জামাতি মহাবিশ্বের স্বপ্ন (সাইন্স ফিকশন)

  1. পার্ট ২ চাই কোন নাটকীয় ঘটনার
    পার্ট ২ চাই কোন নাটকীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে।এইটাকে ইস্টিশনীয় সায়েন্স ফিকশন উপন্যাস এ পরিনত করুন।

    1. মজার পাশাপাশি একটা মেসেজ দেয়া
      মজার পাশাপাশি একটা মেসেজ দেয়া এবং অন্ধকার ভবিষ্যৎ এর চিত্র ফোটানোর চেষ্টা করেছি। সেটা যদি একটুও পেরে থাকি তবে লেখা সার্থক মনে করব।

  2. শুরু যখন হয়েছে, শেষ দেখারও
    শুরু যখন হয়েছে, শেষ দেখারও প্রতীক্ষায় থাকব | দেখি মাগুরা বলগারদের জন্যে ভবিষ্যতে কি কি অপশন রাখতে পারে

  3. ২১১৫ সালে ওরকম পরিস্থিতি
    ২১১৫ সালে ওরকম পরিস্থিতি হবেনা বলেই আমার আশাবাদ । সভ্যতার নীতি হল সামনের দিকে যাওয়া, পেছনের দিকে ধাবিত হওয়া নয় । তবে মাঝে মাঝে সভ্যতার চাকা থমকে যায়, স্তব্ধ করে দেওয়ার চক্রান্ত চলে । কিন্তু তাতে লাভ হয়না । সভ্যতা- মানবতা বিরোধীরা পরাজিত হয় ।
    আপনার কল্পনার জগত আগামীতে যে চিত্র দেখছে তা আসলে বর্তমান হতাশা থেকে উদ্ভূত । সে যাই হোক । লেখার মান ভালো ।

    1. ধন্যবাদ, আমি হতাশ নই… তবে
      ধন্যবাদ, আমি হতাশ নই… তবে আমরা এখন যদি এ ব্যপার নিয়ে পদক্ষেপ না নিয়ে বসে থাকি তবে একদিন যে হতাশ হতে হবেনা তার নিশ্চয়তা কি… অতীতে সভ্যতা সব সময় এগিয়েছে বলে সামনে যে পিছিয়ে যাবেনা এর নিশ্চয়তা কি… আর আপনার আমার কাছে যেটা পিছিয়ে যাওয়া সেটাই ওই শ্রেনীর কাছে এগিয়ে যাওয়া… জিনিসগুলো কিন্তু খুব আপেক্ষিক… তাই ভেবে চিন্তে আমাদের সামনে আগানো উচিৎ…

      1. ভেবে চিন্তে আগান । আপনার কল্প
        ভেবে চিন্তে আগান । আপনার কল্প কাহিনী কিন্তু আগানোর নির্দেশ করছেনা সে আপনি এটাকে স্যাটায়ার বলেন আর যাই বলেন । যদি বুঝে থাকি ।

    1. আশা করি ৪১১৫ সালেও আপনার
      আশা করি ৪১১৫ সালেও আপনার অপেক্ষার অবসান হবে না… কারন আমরা এরকম বীভৎস ভবিষ্যৎ দেখতে চাই না…

Leave a Reply to নাজীব আলম Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *