রাজাকারের বাচ্চা . . .

অন্ধকারে দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে দাড়িয়ে আছে ইশতি । ভালো নাম আহমাদ ইশতিয়াক । আরো ভালো নাম খান ইশতিয়াক ইবনে আজগর আহমাদ । এই নামটা তার ঘরে বাধাই করে লাগানো আছে ।

অন্ধকারে দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে দাড়িয়ে আছে ইশতি । চৈতীকে দেখছে দাড়িয়ে দাড়িয়ে । এই মেয়েটাকে বেশ লাগে তার । হাত মুষ্টিবদ্ধ করে চোয়াল টানটান করে স্লোগান দিচ্ছে মেয়েটা । বেশ লাগছে দেখতে । চৈতীর পাশে সাব্বিরকে দেখা যাচ্ছে । ইশতি আর দাড়ালো না । সাব্বিরকে তার ভালো লাগে না ।


অন্ধকারে দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে দাড়িয়ে আছে ইশতি । ভালো নাম আহমাদ ইশতিয়াক । আরো ভালো নাম খান ইশতিয়াক ইবনে আজগর আহমাদ । এই নামটা তার ঘরে বাধাই করে লাগানো আছে ।

অন্ধকারে দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে দাড়িয়ে আছে ইশতি । চৈতীকে দেখছে দাড়িয়ে দাড়িয়ে । এই মেয়েটাকে বেশ লাগে তার । হাত মুষ্টিবদ্ধ করে চোয়াল টানটান করে স্লোগান দিচ্ছে মেয়েটা । বেশ লাগছে দেখতে । চৈতীর পাশে সাব্বিরকে দেখা যাচ্ছে । ইশতি আর দাড়ালো না । সাব্বিরকে তার ভালো লাগে না ।

হাটতে হাটতে যতই কাছাকাছি আসছে , স্লোগানের গর্জন ততই তীব্র হচ্ছে । মুক্তিযোদ্ধার বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই । শহীদের রক্ত পরাজয় মানে না । আরো কিসব আবোল তাবোল । ভিড় ঠেলে হাটতে কষ্ট হচ্ছে না । জনতার স্রোত ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে তাকে ।

লাকি আক্তারকে দেখা যাচ্ছে । দুপুর থেকে এই সন্ধ্যা পর্যন্ত একটানা স্লোগান দিচ্ছে মেয়েটা । ওর কন্ঠে কি যেনো একটা আছে । জনতার চিত্‍কার ক্রমেই প্রকটতর হচ্ছে । কি স্পৃহা একেকজনের । কি বলিষ্ঠ স্লোগান । এসব দেখতে ইশতির ভালো লাগে না । ভিড় ঠেলে আজিজ মার্কেটে পৌছলো কোনরকম ।

ফেব্রুয়ারী ৮ । ২০১৩
স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম গণবিষ্ফোরণ ।
রাত আটটার কিছু বেশি হবে ।
নিজের চোখে দেখে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেনি ইশতি । এখনো এটাকে একটা দুঃস্বপ্ন বলেই মনে হচ্ছে ওর । এই ছেলে মেয়ে গুলো করছে কি ! এও সম্ভব !

রাস্তায় মানুষের স্রোতের রংটা লাল সবুজ । পতাকার রং । এই রংটাকে খুব ভয় পায় ইশতি । ঘৃণা করে এই লাল সবুজ । গা ঘিন ঘিন করে উঠে তার ।

ভাই একটু ধরবেন ? চমকে পেছনে তাকায় ইশতি । কাঁচাপাকা চুলের এক বৃদ্ধ বসে আছে । ক্রাচটা চোখে পরতেও সময় লাগে না । ‘একা একা দাড়াতে পারি না , একটু ধরবেন ?’
লোকটাকে ধরে দাড় করিয়ে দিলো ইশতি । ক্রাচটা ধরিয়ে দিলো এক হাতে । তার কাঁধের ঝুলিটা থেকে অনেকগুলো পতাকা উঁকি দিচ্ছে ।

‘রাজাকারের বাচ্চা’ ! ‘রাজাকারের বাচ্চা’ ! কন্ঠগুলো এখনো মাঝরাতে ঘুম ভাঙ্গিয়ে দেয় ইশতির । এই বাইশ বছর বয়সে এসেও কিন্ডারগার্টেনের সময়কার কথাগুলো ভুলতে পারে না ও । কন্ঠগুলো যেনো ওর বাবার মতো ওকেও রাজাকার বানিয়ে দেয় । বিভীষিকাময় শৈশব ।

‘বেঁচে থাকো বাবা !’ বৃদ্ধের কন্ঠে ঘোড় ভাঙ্গে ইশতির । হঠাত্‍ জিজ্ঞেস করে , চাচা আপনি কি মুক্তিযোদ্ধা ? ম্লান একটা হাসি দিয়ে ইশতির মাথায় হাত বুলিয়ে চলে যায় বৃদ্ধ । এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ও বৃদ্ধের ছন্দময় চলার পথে ।

এক মুহুর্তের জন্যে থমকে যায় যেনো সবকিছু । কি যেনো হয়ে যায় ইশতির । ছুটে গিয়ে মিশে যায় জনসমুদ্রের সাথে । বজ্রমুষ্ঠি উচিয়ে সমস্ত শক্তি দিয়ে চিত্‍কার দিয়ে উঠে ‘জয়য়য় বাংলা’ !

১৬ thoughts on “রাজাকারের বাচ্চা . . .

  1. বজ্রমুষ্ঠি উচিয়ে সমস্ত শক্তি
    বজ্রমুষ্ঠি উচিয়ে সমস্ত শক্তি দিয়ে চিত্‍কার দিয়ে উঠে ‘জয়য়য় বাংলা’… ভাল লাগল!!
    কিন্তু এই অংশে কি বুঝাতে চেয়েছেন?
    নিজের চোখে দেখে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেনি ইশতি । এখনো এটাকে একটা দুঃস্বপ্ন বলেই মনে হচ্ছে ওর । এই ছেলে মেয়ে গুলো করছে কি ! এও সম্ভব !

      1. দুঃস্বপ্ন বলেছেন, কারন গল্পের
        দুঃস্বপ্ন বলেছেন, কারন গল্পের শুরুতে ইশতি একজন রাজাকারের বাচ্চার ভূমিকায় ছিল। তারুন্যের চেতনায় উদীপ্ত হয়ে তার মাঝে শেষে পরিবর্তন আসে। গল্প পড়ে আমি এটাই বুঝলাম।

        1. আসলে মনোযোগ দিয়ে পড়া হয়নি
          আসলে মনোযোগ দিয়ে পড়া হয়নি বোধহয়!! ধন্যবাদ আতিক ভাই… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  2. এইখানে পৃথু ভাইয়ার কথাটা
    এইখানে পৃথু ভাইয়ার কথাটা প্রযোজ্য,

    একজন পতিতাও যদি বলে, রাজাকারের ফাঁসি চাই,
    তার সাথে গলা মেলাতে আমার কোন বাঁধা নেই।
    আবার জেগে উঠুক শাহবাগ।”

  3. সেই দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে
    সেই দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিলেন। আবারও সেই দিনগুলোর আগমনের প্রত্যাশায়। জয় বাংলা

  4. আহ! সেই স্বর্নময় কয়েকটি
    আহ! সেই স্বর্নময় কয়েকটি দিন
    শেষ পর্যন্ত ইশতিয়াকের মত অন্যরাউ লাইনে আসবে এটাই আশা ., তাদের মনুষত্ব জাগ্রত হবে!

    জয় বাংলা .। জয় বাংলা।

    তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা

    ফাসি চাই ফাসি চাই রাজাকারের ফাসি চাই
    তুমি কে আমি কে? বাঙ্গালি বাঙ্গালি

    মনে পড়ে গেল আবার যে কবে সুযোগ হবে মুক্ত ভাবে দ্বীধা ., ভয় ভুলে প্রাণ খুলে স্লোগান গুলো দেবার

  5. বাঙালি জেগে উঠে, গর্জে
    বাঙালি জেগে উঠে, গর্জে উঠে…
    কিন্তু গর্জনটা এখন এমন ফিকে হয়ে গেলো কেন!
    আবার ঘুমিয়ে পড়লে যে আর জেগে উঠে সম্ভব না!

  6. ফেব্রুয়ারির ৫ কিম্বা ৮ ।
    ফেব্রুয়ারির ৫ কিম্বা ৮ । তারুণ্যের জেগে ওঠার জ্বলে ওঠার এক একটা দিন । প্রমাণ হয়ে গেছে তারুণ্য জেগে উঠে রাজপথে নেমে আসতে পারে বিরাজনীতিকরণের এই আকালে ।
    তারুণ্য আবার বারুদের মতো জ্বলে উঠবে – প্রয়োজন একটি প্রকৃত আহবান ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *