এসএসসি ফলাফল পরবর্তী ভর্তি সংকট : সংকটে ভর্তি

২০১৩ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার রেকর্ড ফল সবাইকে আশ্বস্ত করলেও একটি আশঙ্কা ক্রমশ দানা বাঁধছে। আর তা হলো, পরীক্ষায় ভালো করা শিক্ষার্থীরা ভর্তি হবে কোথায় ? আমরা জানি প্রতি বছর পরীক্ষার ফল ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন। শতভাগ পাস করা স্কুলগুলোর কথা ফলাও করে প্রচারিত হয় গণমাধ্যমে। কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ছবি ও সাক্ষাৎকারও প্রকাশিত হয়। কিন্তু এই উচ্ছ্বাসের সঙ্গে এক ধরনের দুর্ভাবনায়ও তারা আক্রান্ত হয়। এসএসসি পরীক্ষায় কৃতকার্য হলে বা ভালো ফল করলেই শেষ হয়ে যায় না শিক্ষাজীবন। পরের পর্বে অর্থাৎ উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি হতে হলে প্রবল প্রতিযোগিতামূলক একটি পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাদের। এ বছর যত সংখ্যক শিক্ষার্থী মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় পাস করল; দেশের উচ্চ মাধ্যমিকের আসন সংখ্যার চেয়ে তা কম। ফলে কাগজে-কলমে আসন সংকট না থাকলেও, বাস্তবে আসন সংকট খুব তীব্র। কেননা কলেজগুলোতে আসন থাকলেও ভালো ও সেরা এবং সরকারি কলেজের সংখ্যা খুবই কম। বোধগম্য কারণে ভালো ফল করা শিক্ষার্থীরা ভালো কলেজই বেছে নিতে চাইবে। আর এ কারণে ভালো কলেজে ভর্তির জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা থাকলেও মানহীন কলেজগুলোতে অধিকাংশ আসন ফাঁকাই থেকে যায়। এ সংকট প্রতি বছরের। এ অভিজ্ঞতা থেকে দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষাবিদরা ভালো কলেজের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, পরীক্ষায় কৃতকার্যের হার বাড়ছে, ভালো ফল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বাড়ছে ব্যাপকহারে।কিন্তু ভালো-সেরা ও সরকারি কলেজের সংখ্যা মোটেও বাড়ছে না। এ অবস্থায় বহু শিক্ষার্থীর সুন্দর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কেননা হাতেগোনা ভালো মানের কলেজগুলোতে ভর্তি হতে না পারলে অনেক শিক্ষার্থীই পরের পরীক্ষাগুলোতে প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে পারে না। ফলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সুযোগের অভাবে তারা সঠিকভাবে জীবনের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারে না। এ অবস্থায় উন্নতমানের কলেজের সংখ্যা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য বিদ্যমান কলেজগুলোর সংস্কার, শিক্ষা সুবিধা নিশ্চিত করা, ভর্তি সংকট নিরসনে আসন সংখ্যা ও নতুন নতুন কলেজের সংখ্যা বাড়ানো যেমন দরকার ; তেমনি সরকারি ব্যবস্থাপনায় মানসম্মত কলেজের সংখ্যা বাড়ানোর দরকার। উত্তীর্ণ প্রত্যেক শিক্ষার্থী যাতে ভালো কলেজে ভর্তি হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে করতে হবে। এ ব্যাপারে সময় নষ্ট না করে সরকারিভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।

এবার দেখা যাক পরীক্ষার পরিসংখ্যানের হালচাল।
এবছর ৮ টি শিক্ষা বোর্ডে মোট এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল ৯,৯২,৩১৩ জন। যার মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ৮,৮৫,৮৯১ জন। ৮টি বোর্ডে ৭৭ হাজার ৩৮১ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যে জানা যায়, সারাদেশে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে মানসম্মত কলেজের সংখ্যা মাত্র ১৬৬ টি। তবে মানসম্মত,সেরা, ভালো ও সরকারি কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে ‘ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই, ছোট সে তরী’র মতো অবস্থা।

••ঢাকা : রাজধানীর সেরা কলেজ হিসেবে পরিচিত নটর ডেম কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হলিক্রস কলেজ, ঢাকা কমার্স কলেজ, ঢাকা সিটি কলেজ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিজ্ঞান কলেজ,সরঃ বিজ্ঞান কলেজ, বিএএফ শাহীন কলেজ, মতিঝিল মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাইফেলস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লালমাটিয়া গার্লস কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজসহ ভালো মানের প্রায় ১৫টি কলেজে তাতে আসন আছে মাত্র ১২ হাজার। অথচ ঢাকা বোর্ডেই জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬ হাজার ৩০৯ জন।

••চট্টগ্রাম : এবার চট্টগ্রাম বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ হাজার ৩৫৮ জন। জিপিএ-৫ প্রাপ্ত অর্ধেক শিক্ষার্থী সরকারি কলেজে পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। নগরীর চট্টগ্রাম কলেজ, মহসীন কলেজ, সিটি কলেজ, সরঃ মহিলা কলেজ ও কমার্স কলেজে আসন আছে ৫০৯৫ টি।

••রাজশাহী : রাজশাহীতে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১২,২০৩ জন শিক্ষার্থী। এখানের ৮ টি জেলায় নামকরা কলেজ আছে মাত্র ৫/৭ টি। রাজশাহী কলেজ, নিউগভঃ ডিগ্রী কলেজ, সিটি কলেজ ও সরঃ মহিলা কলেজ ভর্তি হতে পারবে যথাক্রমে ৬০০, ১২০০, ১২০০ ও ৯০০ শিক্ষার্থী।

••কুমিল্লা : কুমিল্লা বোর্ড : জিপিএ ৫ পেয়েছে ৭,৮৫৫ জন। অথচ ৩টি সরকারি কলেজ ভিক্টোরিয়া কলেজ, কুমিল্লা সরঃ কলেজ ও সরঃ মহিলা কলেজে ভর্তি হতে পারবে মাত্র ২১০০ শিক্ষার্থী।

••যশোর : এ বোর্ডে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৯,০৮৬ জন। আসন : সরঃ এমএম কলেজে ৫২৫, সিটি কলেজে ৫৫০, সরঃ মহিলা কলেজে ৫৫০, যশোর কলেজে ৪৫০ টি।
অন্যদিকে এ বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত খুলনার – সরঃ মজিদ সিটি কলেজ, সুন্দরবন কলেজ, সরঃ মহিলা কলেজ ও পাওনিয়ার কলেজে আসন যথাক্রমে ১২০০, ৯০০, ৪৫০, ৯০০।

••সিলেট : সিলেটের ভালো কলেজগুলোতে আসন সংখ্যা প্রায় ১৫শ। এমসি কলেজে ৩০০, তাও শুধু বিজ্ঞান বিভাগ চালু। সরঃ মহিলা কলেজে আসন ৮৫০ টি। এ বোর্ডে জিপিএ ৫ পেছনে ২,৭৮৯ জন।

••বরিশাল : বরিশাল নগরীর ৪টি সরকারি কলেজ আসনসংখ্যা – সরঃ বরিশাল কলেজে ৪৫০, হাতেম আলী কলেজে ৭৫০, সরঃ মহিলা কলেজে ৯০০, অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়ের ৯০০। এর বিপরীতে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩৫১৪ জন পরীক্ষার্থী।

••দিনাজপুর : এ বোর্ডের রংপুরের রংপুর সরঃ কলেজ ও সরঃ বেগম রোকেয়া কলেজে আসন আছে মাত্র ৬০০ ও ৪৫০ টি করে। এছাড়া অন্য ৪টি মানসম্মত কলেজে আসন আছে ১৬৭৫ টি। শুধু রংপুরে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৫৬৮০ জন, আর পুরো বোর্ডে ৮১৮৬ জন।

||লেখাটি ১৪ জুন প্রস্তুত করা হয়েছে

১২ thoughts on “এসএসসি ফলাফল পরবর্তী ভর্তি সংকট : সংকটে ভর্তি

  1. ভাল কলেজ বলছেন কিন্তু সেগুলো
    ভাল কলেজ বলছেন কিন্তু সেগুলো কতটুকু ভাল জানেন কি? আপনার লেখায় সব নামকরা কলেজগুলো উঠে এসেছে। কিন্তু বলে রাখা ভাল এর বাইরে অনেক কলেজ আছে যেগুলোর আসন সংখ্যা কম জন্য কম শিক্ষার্থী নেয় তাই র‌্যাঙ্কে আসতে আরে নাঃ আবার সেগুলোর পড়ানোর মান আইডিয়াল ভিকারুন্নেসার চেয়ে বেশি। আমিও আপনার তথাকথিত ভাল কলেজে পড়েছি কিন্তু আফসোস! আমার কলেজের চেয়ে কিছু অখ্যাত কলেজ বেশি ভাল পড়াত। তবে হ্যাঁ, সেগুলোর সংখ্যাও কম। তার চেয়ে বড় কথা গিপিএ ৫ পেলে শিক্ষার্থীরা আর সেগুলোর দিকে নজর দেয় না। তথাপি আপনি যেরকম হতাশা প্রকাশ করলেন ততটা হতাশ হবার মত আসন সংকট হয়নি এখনো।

  2. এটা অস্বীকার করা যাবে না –
    এটা অস্বীকার করা যাবে না – অনেকেই পছন্দসই কলেজে ভর্তি হতে পারেনি। জিপিএ ৫ এর নিচের গ্রেড পয়েন্টধারীদের কথা তো বাদই দিলাম। যেখানে মানসম্মত ও শিক্ষার্থীদের পছন্দের কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির যোগ্যতা জিপিএ ৫ থাকতে হবে সেখানে অন্যদের অবস্থা কি দাঁড়াবে। অনেকেই তো নিজেদের পছন্দমত কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়নি। তাদের পছন্দের কলেজটি নিশ্চয়ই তাদের নিজেদের মতে মানসম্মত ছিল; যদিও অনেকে সেরকম পছন্দসই কলেজে ভর্তি হতে পারেনি।

    1. গিপিএ গ্রেডধারীদের পছন্দ
      গিপিএ গ্রেডধারীদের পছন্দ থাকতেই পারে। তাই বলে সেখানে ভর্তি হতে না পারা নিয়ে আসন সংকটের অভিযোগ কি অমূলক না? তার চেয়ে বড় কথা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ক্ষেত্রেও তো পছন্দ থাকে সেখানেও আসন সংকট থাকে। এখন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানোর মত করে যদি আপনি কলেজ বাড়ানোর কথা বলে থাকেন তবে কিছু বলার নেই। কারণ, সেরকম কলেজ অনেকই আছে। দুঃখিত আমি আপনার পয়েন্ট ধরতে পারলাম না। ভর্তির সুযোগ পায় না বলতে কি বুঝালেন বুঝলাম না। এখন সরকার ভর্তি প্রক্রিয়াটা নিজের হাতে তুলে নিয়েছে। ভাল কলেজ বলতে যেসব কলেজ বোঝাচ্ছেন সেখানে গোল্ডেন চাওয়া হয়। গোল্ডেনের সংখ্যা অনেক হলে মার্ক দেখা হয়। কিন্তু সেই মার্ক ছাত্রের হাতে থাকেনা। ছাত্র যখন মার্ক জানতে পারছে না তখন সে তার মানসম্মত- এটা কি করে নিশ্চিত হচ্ছে বুঝলাম না।

      1. আর পছন্দের কলেজ এবং ভাল
        আর পছন্দের কলেজ এবং ভাল কলেজের মধ্যে পার্থক্য আছে। প্রত্যেক কলেজের পড়ানোর মান বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত। ভাল কলেজ নামে কিছু সংখ্যক কলেজের মান বৃদ্ধি পাবে এরকম দাবি না জানানোই ভাল মনে হয়

        1. দাবি তুলেছি এভাবে –
          ‘এ জন্য

          দাবি তুলেছি এভাবে –
          ‘এ জন্য বিদ্যমান কলেজগুলোর সংস্কার, শিক্ষা সুবিধা নিশ্চিত করা, ভর্তি সংকট নিরসনে আসন সংখ্যা ও নতুন নতুন কলেজের সংখ্যা বাড়ানো যেমন দরকার ; তেমনি সরকারি ব্যবস্থাপনায় মানসম্মত কলেজের সংখ্যা বাড়ানোর দরকার।’

      2. ভূমিকা খেয়াল করলে বোঝা যায়
        ভূমিকা খেয়াল করলে বোঝা যায় :
        ‘ কিন্তু এই উচ্ছ্বাসের সঙ্গে এক ধরনের দুর্ভাবনায়ও তারা আক্রান্ত হয়। এসএসসি পরীক্ষায় কৃতকার্য হলে বা ভালো ফল করলেই শেষ হয়ে যায় না শিক্ষাজীবন। পরের পর্বে অর্থাৎ উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি হতে হলে প্রবল প্রতিযোগিতামূলক একটি পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাদের। এ বছর যত সংখ্যক শিক্ষার্থী মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় পাস করল; দেশের উচ্চ মাধ্যমিকের আসন সংখ্যার চেয়ে তা কম। ফলে কাগজে-কলমে আসন সংকট না থাকলেও, বাস্তবে আসন সংকট খুব তীব্র। কেননা কলেজগুলোতে আসন থাকলেও ভালো ও সেরা এবং সরকারি কলেজের সংখ্যা খুবই কম। বোধগম্য কারণে ভালো ফল করা শিক্ষার্থীরা ভালো কলেজই বেছে নিতে চাইবে। ‘

  3. ভাল কলেজের মানদণ্ড কি?
    ভাল

    ভাল কলেজের মানদণ্ড কি?
    ভাল ছাত্ররা পড়ে বলেই তো তা ভাল কলেজ বা ভাল রেজাল্ট হয় বলে!!
    এখন এইসব বিখ্যাত কলেজের বাইরেও ভাল (এ+ পাওয়া ছাত্র!) ছাত্র গেলে তারা আশা করি ওইখানে গিয়েও ভাল রেজাল্ট করবে না হয় তাদের নিয়ে যে দুর্নাম আর বাজারি এ+ -এর কুখ্যাতি তা থেকে নিজেকে ও অখ্যাত কলেজটিকে সাহায্য করবে…
    ভাল ছাত্ররা অখ্যাত কলেজে গেলে যেমন ঐ কলেজের মমাণ ভাল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে তেমনি পরিবেশের অভাবে ওইসব এ+ পাওয়া ছাত্ররা ভাল থেকে এভারেজ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে তাই নিজের ও কলেজের ভালর জন্যে আশা করি সবাই ভালভাবে সামনের জন্যে প্রস্তুতি নিবে! খুবই সময় উপযোগী একটা পোস্ট…

  4. এই তথাকথিত ভালো কলেজের ধারণা
    এই তথাকথিত ভালো কলেজের ধারণা থেকে বের হতেই হবে আমাদের। এটা আমাদের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে পঙ্গু এবং বানিজ্যিকিকরনের দিকে ধাবিত করছে। প্রতিটি জেলা শহরে কিছু কিছু বড় কলেজ আছেই। এখন নিজেদের স্বার্থেই উচিৎ সেইসব কলেজের পড়ালেখার মানোন্নয়নে কাজ করা। সবাই যদি ঢাকা মুখী হয় তাহলে কিভাবে হবে? আবার যদি পড়ালেখার মান এলাকার কলেজে ভালো না হয়, তাহলে এই ঢাকা মুখী প্রবণতা ঠেকানো যাবে না।
    আপনি আপনার লেখায় যা তুলে ধরেছেন সেটা হচ্ছে বাস্তবতা, আর আমি যেটা বলতে চাইছি সেটা হচ্ছে একটা ধারণা, যেই ধারণা বাস্তবায়নে আগ্রহী না হলে জাতি হিসেবে আমরা পিছাতেই থাকব।

Leave a Reply to বি অনিত্য অনিরুদ্ধ Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *