মুক্তিযোদ্ধাদের অপরাধ কি?

একটা সহজ কথা, সিম্পল যুক্তি আমি আমার চেতনাধারী কিছু বন্ধুদের গিলাতে পারছি না। এবার আমি খুব সিম্পল একটা উদাহরণ দিয়ে বলি। যেসব চেতনাধারী বন্ধুরা যারা কৌটা বাতিলের পক্ষে তাদের উদ্দেশ্যে:


একটা সহজ কথা, সিম্পল যুক্তি আমি আমার চেতনাধারী কিছু বন্ধুদের গিলাতে পারছি না। এবার আমি খুব সিম্পল একটা উদাহরণ দিয়ে বলি। যেসব চেতনাধারী বন্ধুরা যারা কৌটা বাতিলের পক্ষে তাদের উদ্দেশ্যে:

আপনি আপনার মা-বাবার কাছে ঋনী। ঋনী সাময়িকের জন্য তো নয় বলবো আজীবন, আমৃত্যু পর্যন্ত। আপনার মা বাবা আপনাকে যদি সঠিক ভাবে সুন্দর ভাবে মানুষ করতে পারে তাহলে আপনার সন্তান তার দাদু-দীদার কাছে ঋনী থাকবে কারণ তারা একজন ভাল, সুন্দর মনের মা-বাবা পেয়েছে। তখন দায়িত্ব থাকবে আপনার, আপনার সন্তানকে আপনার মত করে বেড়ে তোলার। আপনি সফল হলে আপনার সন্তান আপনার কাছে ঋনী আবার পরোক্ষভাবে তার দাদু-দীদার কাছেও ঋনী। কারণ দাদু-দীদা আপনাকে সঠিকভাবে, সাবলীলভাবে এবং ভদ্র আদব কায়দায় মানুষ করেছে বলেই তারা আপনার মত একজন ভাল মা-বাবা পেয়েছে। এভাবে তাদের প্রজন্ম, তাদের আবার পরবর্তী প্রজন্ম (চলতে থাকবে) পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে আপনার মা-বাবার কাছে ঋনী থাকবে। কারণ গাছের গোড়া যখন ঠিক তখন আগাও ঠিক থাকতে বাধ্য। যদি না মাঝে কোন গন্ডগোল না বাধে।

ঠিক একই লজিক হল আমাদের দেশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে। মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছে। একজন নয়, দুই জন নয় ৩০ লাখ শহীদ. তাদের কাছে আমাদের মা-বাবা ঋনী, আমাদের দাদু-দীদা ঋনী, ঠিক তেমনি আমরাও ঋনী এবং আমাদের সামনের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মতরও ঋনী থাকতে বাধ্য। তাহলে তাদের কৌটা বাতিলের জন্য ফালাফালি করছেন কেন? আমাকে বলুন তো দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধারা কি পেয়েছে? তাদের বাড়ি করে দিয়েছে? গাড়ি দিয়েছে? ভরণ পোষণের ভাড় নিয়েছে? একটা কথা বলি ভাতের থালা পরিপূর্ণ করে ভাত দিয়েছেন আর তরকারি দিয়েছেন এক চা চামচ। এখন সেই চা চামচ পরিমাণ তরকারী যদি নিয়ে ফেলার দাবী করেন তাহলে ভাত খাব কি করে? কথাটা ঠিক তাই। মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান হিসেবে এক চুল পরিমাণ সহযোগিতা দিয়ে সেই পরিমাণ নিয়ে ফেলতে চাইছেন। এক কথায় বলুন মুক্তিযোদ্ধাদের গলা টিপে মেরে ফেলতে চাইছেন।

শুনেন আমিও একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। হ্যা, ভ্রু কুচকাবেন না। আমি কাউকে বলি না। ইচ্ছে করে না। যুদ্ধ যখন শুরু হয় তখন আমার বাবার বয়স ১৮, আমার বাবা নিজ হাতে বেশ কয়েকজন পাঞ্জাবীকে মেরেছে। যুদ্ধে আমাদের ঘর পুড়েছে। কিন্তু আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধার সনদ নেন নি। আজ আমার বাবা পথে পথে ঘুরে ব্যবসা করে। যাই হোক সেসব দিকে যাব না। শুধু দুঃখ এবং কষ্ট একটাই এ যুগের যোদ্ধারা তাদের পূর্ব পুরুষদের সম্মান দিতে এখনো শিখে নি দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪২ বছর পর ও।

৯ thoughts on “মুক্তিযোদ্ধাদের অপরাধ কি?


  1. আপনার বাবাকে আমার সহস্র

    :salute: :salute: :salute: …
    আপনার বাবাকে আমার সহস্র সালাম ।
    একজন মুক্তিযোদ্ধা একটা জাতির সম্পদ । দেশের সর্বচ্চ সম্মানের অধিকারী । কোটা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হতে পারে । এর সংস্কার ও হতে পারে । কিন্তু একজন বীরযোদ্ধা যেন অসম্মানিত না হন আন্দোলনকারী দের সেই দিকটিও খেয়াল রাখতে হবে । আবেগে যা ইচ্ছে তাই শ্লোগান যেন দেওয়া না হয় ।

  2. আঙ্কেলকে
    যারা কোটা

    আঙ্কেলকে :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:
    যারা কোটা পদ্ধতি বাতিলের পক্ষে তারা আসলে এই বাংলা মায়ের ইতিহাস হানাদার-রাজাকারদের কাছে শুনে বড় হয়েছে… এদের পিছনে কারা কলকাটি নারছে সরকারকে তা বের করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে!!

  3. একটা সময় ভাবতাম আমার বাবা ভুল
    একটা সময় ভাবতাম আমার বাবা ভুল করেছেন! আমার অনুযোগের মুখে বাবা সব সময় মাথা উচু করে বাচার কথা বলতেন, আমি তাকে লুজার ভেবে নিজে করতাম।
    তবে এখন আমি খুব খুশী। সামান্য কোটার জন্য তাকে তো কথা শুনতে হচ্ছেনা…
    তবে এটাও ঠিক দেশ ও দশের জন্যেও আর নিজেদের ঝুকিতে ফেলবেনা ব্রহ্মপুত্র পরিবার!

    1. তবে এখন আমি খুব খুশী। সামান্য

      তবে এখন আমি খুব খুশী। সামান্য কোটার জন্য তাকে তো কথা শুনতে হচ্ছেনা…

      — আপনার এই ডায়লগ জানার পর আপনাকেই লুজার মনে হচ্ছে । আপনার কথায় তাচ্ছিল্লের সুর স্পষ্ট । যদি হতাশা থেকে হয়, যদি অভিমান থেকে হয় আর যদি আপনি যা বলেছেন মন থেকে বলেন নি – তাহলে আমার কথা ফিরিয়ে নেবো ।

  4. আপনার বাবাকে প্রতি আমার পক্ষ
    আপনার বাবাকে প্রতি আমার পক্ষ থেকে সশ্রদ্ধ সালাম।মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের গর্ব আমাদের অহংকার ।তাদের বিনিময়ে একটি দেশ পেয়েছি, পতাকা পেয়েছি, স্বাধীনতা পেয়েছি, বিনিময়ে তাদের প্রাপ্য সম্মান দিতে যদি আপত্তি থাকে তো আমি বাঙালী হলাম কেন?

  5. বিষয়টা আজকে সেইদিকে নাইরে ভাই
    বিষয়টা আজকে সেইদিকে নাইরে ভাই ।আজকাল ৩০ কি ৪০ হাজার টাকায় ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা হওয়া যায় ।অথচ মুক্তিযোদ্ধা কি সেটা এই টাকায় হওয়া মুক্তিযোদ্ধারা বলতেই পারেনা ।ক্ষোভটা এইসব মুক্তিযোদ্ধাদেরকে আর তাদের মেধাহীন সন্তানরা যখন ভালো ভালো সরকারি চাকুরী করছে ।বিষয়টা বুজতে পারছেন

Leave a Reply to রাহাত মুস্তাফিজ Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *