অনুগল্প – যৌনাবেগ – গোসলখানা

হায়দার সাহেবের বয়স হয়েছে । দীর্ঘদিন যাবত ডায়বেটিকসের সমস্যা ভুগছেন ইদানীং নতুন সমস্যা হিসেবে যোগ হয়েছে চোখের ছানি । ভালোমতো দেখতে পারেন না । বড় ছেলে মাহবুব তার এক ডাক্তার বন্ধুর কাছে নিয়ে গিয়েছিল ।
হেনতেন পরীক্ষা করে বলে — “ চাচাজান চোখের এ কি হাল করে রেখেছেন ! বিশ্রী অবস্থা ।


হায়দার সাহেবের বয়স হয়েছে । দীর্ঘদিন যাবত ডায়বেটিকসের সমস্যা ভুগছেন ইদানীং নতুন সমস্যা হিসেবে যোগ হয়েছে চোখের ছানি । ভালোমতো দেখতে পারেন না । বড় ছেলে মাহবুব তার এক ডাক্তার বন্ধুর কাছে নিয়ে গিয়েছিল ।
হেনতেন পরীক্ষা করে বলে — “ চাচাজান চোখের এ কি হাল করে রেখেছেন ! বিশ্রী অবস্থা ।

হায়দার সাহেব বেশ ভয় খেয়ে গেলেন ‘ বিশ্রি অবস্থা ‘ মানে কি ? তিনি কি আর দেখতে পারবেন না ! হায়দার সাহেবের বুক ধড়ফড় করতে শুরু করলো । শেষ সময়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে মানুষের মূল্য কমে যায় , সেই মূল্য কমা মানুষ যদি হয় অন্ধ তাইলে তো খেইল খতম । তাছাড়া সকাল সাতটা থেকে সাড়ে সাতটার মধ্যে তার একটা বিশেষ জিনিস দেখতে হয় । সেই জিনিস না দেখলে হায়দার সাহেবের সারাটাদিন মাটি মাটি লাগে । মাটির নীচে ডুকার আগে তিনি জীবনের একটা দিনও মাটি মাটি বানাতে রাজি নন ।

তিনি মিনমিনে গলায় জিজ্ঞাস করেন – ‘ বাবাজি দেখতে পারবো তো ? এই শেষ বয়সে নাতি নাতনীর মুখ যদি প্রতিদিন আর নাই দেখতে পারি তাইলে লাভ কি ‘

তরুন ডাক্তার রিপোর্ট নিয়ে ব্যস্ত ছিল । রিপোর্টের দিকে তাকিয়েই বললেন – ‘ হু দেখতে পারবেন না কেন ! চোখের ছানি অপারেশন এখন কোন বিষয়ই না । অপারেশনের একদিনের ভিতরেই বাসায় চলে যেতে পারবেন ।

ভয় কেটে গিয়ে বিপত্নীক হায়দার সাহবের মেজাজ এখন তিরিক্ষি হয়ে গেল । বদের হাড্ডি ডাক্তার । অপারেশন কোন বিষয় ই না তাইলে কইলি কেন ‘“ চাচাজান চোখের এ কি হাল করে রেখেছেন ! বিশ্রী অবস্থা । ‘ আরেকটু হইলেই তো চোখের বদলে হার্ট অপারেশন করতে হইত । দেখতে না পারা যে কি পরিমান কষ্ট সেটা তিনি কিছুটা ফিল করতে পারেন । চোখের ছানির জন্য তিনি ইদানীং সব কিছু ঝাপসা দেখছেন । ফলে তার সকালের ঐ বিশেষ জিনিসও তিনি পরিস্কার দেখতে পারছিলেন না । এই অসুবিধা থেকেই তো তিনি তার ছেলের কাছে গিয়ে জানিয়েছিলেন – মাহবুব , চোখে দেখি না, ডাক্তারের কাছে নিয়া চল “ ।

চমৎকার সকাল । তিন তলার ফ্ল্যাট বাড়ির বারান্দায় মিষ্টি রোদ হায়দার সাহেব পায়ে লুটোপুটি খাচ্ছে । তিনি চেয়ার পেতে বসে আছেন । হাতে চায়ের কাপ । সামনে আজকের জাতীয় দৈনিক । গত পরশু তার চোখের ছানি অপারেশন হয়ে গেছে । এখন তিনি সব কিছু পরিষ্কার দেখতে পারছেন । একটু আগে তার ছোট নাতনী তার হাতে পত্রিকা দিয়ে গেছে । তিনি পত্রিকা চোখের সামনে মেলে ধরলেন । এই তো কি সুন্দর লালকালির হেডিং — “ নির্বাচন নিয়ে দুই দল হার্ডলাইনে , ছাড় দিতে রাজি নয় কেউ “

এক্সক্লুসিভ নিউজ । লাল হেডিং এর নীচে কালো কালির অক্ষরগুলো একদম জলজ্যান্ত হয়ে ফুটে আছে হায়দার সাহেবের চোখের সামনে । কিন্তু হায়দার সাহেবের মনোযোগ সে দিকে নেই। তিনি পত্রিকা আর হাতের ফাঁক দিয়ে গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন সেই বিশেষ জিনিসের । তার স্বচ্ছ দৃষ্টি এখন সামনের বস্তির দিকে । এই বস্তি গার্মেন্টসের মেয়েদের । অল্প বয়স্ক মেয়েরা এইখানে একসাথে থাকে । সকাল সকাল কাজে বের হয়ে যায় ফিরে সেই সন্ধ্যায় । তিনি যেখানে বসে আছেন সেখান থেকে স্পষ্ট দেখা যায় বস্তি পরিবারের গোসলখানা । গোসলখানার উপরে চাল নেই । ঘড়িতে সকাল সাতটা । কিছুক্ষণের মধ্যেই মেয়েদের গোসলের লাইন লাগবে ।

তিনি এইসব কচি মেয়েদের গোসল দেখতে ভালবাসেন ।

——————————————————————-
যৌনাবেগ – ০১

১৫ thoughts on “অনুগল্প – যৌনাবেগ – গোসলখানা

  1. শুরুটাতো চমকপ্রদ ছিল শেষেরটাও
    :মানেকি: :মানেকি: :মানেকি:
    শুরুটাতো চমকপ্রদ ছিল শেষেরটাও তবে অপ্রত্যাশিত… দেখি আগামী পর্বে কি আসে!
    সাহিত্য জীবনের মত আপত্তিকর! ভাল কিছু হলেও হতে পারে… :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

  2. এই হায়দার সাহেবের সাথে কেন
    এই হায়দার সাহেবের সাথে কেন যেন আল্লামা শফী ‘র সাদৃশ্য খুঁজে পাচ্ছি । একটু লালা যুক্ত করে দিতে পারতেন । গল্প মোটামুটি হয়েছে । আরও ভালো অনুগল্প পাবো আশা রাখি ।

    1. হতে পারে আবার নাও হতে পারে
      হতে পারে আবার নাও হতে পারে

      সামনে আরও কিছু হয়তো আসবে সেই আশা আমিও রাখি
      ধন্যবাদ রাহাত মুস্তাফিজ 🙂

  3. গল্প ভালোই লিখছেন, কিন্তু একই
    গল্প ভালোই লিখছেন, কিন্তু একই থিম নিয়ে আগেও অনেক গল্প লেখা হয়েছে বলে পাঠকের মনে চমক সৃষ্টি করতে পারেনি। আমার কাছে ভাল্লাগছে। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  4. এই সিরিজে কি নাক গলান
    এই সিরিজে কি নাক গলান যাবে?পাপী মন।কত প্লট ঘুরে মাথার মধ্যে।তাই জানতে চাচ্ছিলাম আর কি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *