সংযম লৈ চুদুর বুদুর চৈলত ন

আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ” বা “আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল থেকে রমজান শুরু” খুব সম্ভবত এই শিরোনামটা ‘খবর’ হিসেবে আমি সব চেয়ে বেশি বার পড়ছি/দেখছি বা সংবাদ পাঠক মারফত শুনছি….. এ এক এভার গ্রীন “শিরোনাম”, যা কখনো মরা ঘাঁসের মত সাদাটে হয়ে যায় না” ,চিরকালই চির সবুজ থাকে …..


আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ” বা “আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল থেকে রমজান শুরু” খুব সম্ভবত এই শিরোনামটা ‘খবর’ হিসেবে আমি সব চেয়ে বেশি বার পড়ছি/দেখছি বা সংবাদ পাঠক মারফত শুনছি….. এ এক এভার গ্রীন “শিরোনাম”, যা কখনো মরা ঘাঁসের মত সাদাটে হয়ে যায় না” ,চিরকালই চির সবুজ থাকে …..

যাই হোক আজ ভোর রাতে সেহেরী খাওয়ার মধ্য দিয়ে মহা সমারোহে ‘১ মাস ব্যাপি “সংযম” বা সিয়াম সাধনার শুভ উদ্ভোধন ঘটছে….. বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দেশ ব্যাপি রমজান কে বরণ করা হচ্ছে…. যার অংশ হিসেবে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি , হাফ প্যান্ট পার্টি, পকেটমার পার্টি জুতা চোর পার্টি ইত্যাদি নানান জাতের পার্টি অলরেডি তাদের ফুল ফ্লেজড অপারেশন শুরু করে দিছে, পুলিশেরা ও বাড়তি দুটো পয়সা উপার্জনের লক্ষ্যে’ ওভার টাইম ডিউটি মারা শুরু করছে……… আর মার্কেট ওয়ালারা তো এই মৌসুমে “পুরাই পাঙ্খা”, মার্কেটে মার্কেটে মেগা লাইটিং এর আয়োজন আছে এবং ৪ দিন আগে থেকেই তাদের এইসব কাজ কারবার চলতেছে, বিদ্যুৎ অপচয়ের এ এক অনন্য নজির ! এমন কি “রমজান উপলক্ষ্যে নির্দিষ্ট পরিমান পন্য কিনে কুপন সংগ্রহ” করার জোর আহবান ও চলতেছে আরো সপ্তাহ খানেক আগে থেকেই …!! আবহাওয়াবিদ স্টাইলে পরিস্থিতি বর্ণনা করলে বলতে হয় “এ সময় দেশে বেশ উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করবে এবং পাবলিকের পেটে সার্বক্ষনিক হালকা/ মাঝারি বা তীব্র বেগে ক্ষিদা প্রবাহিত হবে”…… !!

নিয়মিত খাবারের সংস্থান করতে না পারা দরিদ্রদের কষ্ট অনুধাবনের জন্য মাহে রমযানের অবতারনা, অথচ হিসাব.করলে দেখা যাবে , অন্য ১১ মাসের তুলনায় এই রমজান মাসে খানা-পিনার পেছনে আরো ৩ গুন বেশি অর্থ, শ্রম, মেধা এবং সময় খরচ হয় এবং সেই সাথে পেটের আয়তন এ ৩ গুন বৃদ্ধি পায়।

দুঃখজনক ভাবে, এই সংযমের মাসেই আমাদের সকল প্রকার সংযমের বাধ ভেঙ্গে যায় !! কত বড় ট্র্যাজিক কমেডি !!
কেন জানি রমজান এলে বেশির ভাগ পাবলিকই স্বয়ংক্রীয় ভাবে ব্যাপক অপচয়ের মাধ্যমে নিজের অজান্তেই শয়তানের ভ্রাতা বা ভগ্নীর দায়িত্ব সুচারু রুপে সম্পাদনে মশগুল থাকে…..

শুধু মাত্র খাদ্য দ্রব্যই না, প্রতিটা ক্ষেত্রেই অসংযমের প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়, যেমন সরকারী অফিসাররা রমজান উপলক্ষ্যে তাদের ঘুষের রেট নুন্যতম ৫০% বাড়িয়ে দেয় , দোকানদার জামা কাপড়ের ব্যাবসায়ীরা সকল প্রকার বস্ত্রের দাম ক্ষেত্র বিশেষে ৩০০/৪০০% পরযন্ত দাম বাড়িয়ে দেয়, পরিবহন ব্যাবসায়ীরা (ইনক্লুডিং নৌ পরিবহন) তো মাশাল্লাহ ভাড়া দ্বিগুন করে ফেলেন এই মহান সংযমের মাসে, ট্রেনের টিকেটের কালোবাজারি রা রীতিমত অকশনের এন্তেজাম করে ফেলে , ১০০ টাকার টিকিট উম্মক্ত নিলামের মাধ্যমে ৫০০/৬০০ টাকায় ও বিক্রী হয় …….!! সবজি বিক্রেতারা এই সময়ে আপামর আম জনতারে “ভানু মতির খেইল দেখাইতে দেখাইতে’ পুরাই বিদিক , ছোট খাট উদাহরণ হিসাবে কাচা মরিচের কথা বলা যায়, দাম হপায় ১৪০ টাকা পর্যন্ত উঠছে !! লঙ্কার ঝাঝ এবার একটু বেশিই , হয়ত তার চেয়ে ও বেশি ঝাঝ থাকবে ধইন্যা পাতা কিংবা বেগুনের দামে …..

এমন কি পাবলিকের আচার ব্যাবহারে ও সংযমের বদলে অসংযত ভাব নগ্ন ভাবে প্রকাশ পায় …… এই যদি হয় সংযমের নমুনা , তাইলে অসংযম টা কি জিনিস!!!

বঙ্গের লক্ষকোটি পাবলিকের মত আমিও চাই সংযমের নামে এসব চুদুর বুদুর বন্ধ হোক , ইনশাল্লাহ নিশ্চই একদিন পবিত্র রমযানের সংযমের প্রকৃত মহিমা বুঝবে সবাই………… আমরা সেহেরী বা ইফতারির সময়ে কত কিছুর এন্তেজাম করি ,কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান সমুহ ল্কখ কোটি টাকা স্রেফ অপচয় করে ইফতারের নামে, তবু পেট ভরে না …… অথচ দেশের বেশির ভাগ মানুষই স্রেফ ১ গ্লাস পানি খেয়ে রোজা রাখতে বাধ্য হয় ……… অথচ তারা বোঝে না, রোজা রাখা যেমন অনেক সোয়াবের কাজ, তেমনি বিপন্ন মানুষের জন্য ইফতারের বন্দোবস্ত করা ও কম সোয়াবের কাজ নয় …..

মহান আল্লাহর কাছে শুধু একটাই চাওয়া ” আমাদের জ্ঞান দাও প্রভু, আমাদের ক্ষমা কর……….

১২ thoughts on “সংযম লৈ চুদুর বুদুর চৈলত ন

  1. সারাবছর চললেও বিশেষ করে রমজান
    সারাবছর চললেও বিশেষ করে রমজান মাসে চুদুরবুদুর চলাটা উচিৎ নয়।তাই চুদুরবুদুর চৈলতো না ।

    1. হাহাহা ধন্যবাদ শহীদ ভাই
      হাহাহা ধন্যবাদ শহীদ ভাই মন্তব্যের জন্য …. একমত আপনার সাথে। সারা বছর চুদুর ভুদুর চললেও এই সংযমের মাসে অন্তত ঠিক ঠাক থাকা উচিত সবার….:)

  2. নিয়মিত খাবারের সংস্থান করতে

    নিয়মিত খাবারের সংস্থান করতে না পারা দরিদ্রদের কষ্ট অনুধাবনের জন্য মাহে রমযানের অবতারনা, অথচ হিসাব.করলে দেখা যাবে , অন্য ১১ মাসের তুলনায় এই রমজান মাসে খানা-পিনার পেছনে আরো ৩ গুন বেশি অর্থ, শ্রম, মেধা এবং সময় খরচ হয় এবং সেই সাথে পেটের আয়তন এ ৩ গুন বৃদ্ধি পায়।
    দুঃখজনক ভাবে, এই সংযমের মাসেই আমাদের সকল প্রকার সংযমের বাধ ভেঙ্গে যায় !! কত বড় ট্র্যাজিক কমেডি !!

    —- ভালো বলেছেন । আপনার পুরা লেখার সাথে দ্বিমত করার মতো কোন উপাদান খুঁজে পেলাম না । আপনার লেখায় একধরনের রসের আস্বাদ পাওয়া যায় ।

  3. চুদুর বুদুর আঞ্চলিক শব্দ হলেও
    চুদুর বুদুর আঞ্চলিক শব্দ হলেও এটা খারাপ শোনায় ।তাই এই রমজান মাসে আমাদের মুখের রোজা ও জরুরী ।।ধন্যবাদ

Leave a Reply to যুবায়ের তনিম Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *