দাদা আমাকে স্বামী সন্তান নিয়ে একটু বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিন , আমি আর পারছি না !

দাদা আমাকে স্বামী সন্তান নিয়ে একটু বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিন , আমি আর পারছি না !

পাওনাদারদের চাপে স্বামী সন্তান নিয়ে আত্মহত্যা করা ছাড়া আমার আর কোন পথ নেই।



দাদা আমাকে স্বামী সন্তান নিয়ে একটু বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিন , আমি আর পারছি না !

পাওনাদারদের চাপে স্বামী সন্তান নিয়ে আত্মহত্যা করা ছাড়া আমার আর কোন পথ নেই। লেখাপড়ার খরচ যোগাতে না পারায় ইতোমধ্যে বড়ছেলে না ফেরার দেশে চলে গেছে। দুই সন্তানকে নিয়ে নিয়ে হাইমাউ কওে কেঁদে ফেলেন রুনু রানী দাস । স্বামী সমর চন্দ্র দাস আর তিন ছেলেকে নিয়ে সুখের সংসার ছিল রুনু রানী দাসের। কিন্তু সেই সুখ যেন কপালে সইলো না। সব আশা আশাই থেকে গেল তার। অভাবের সংসারে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে সুজয় কুমার দাসকে খরচ দিতে না পারায় বাবা-মাকে সেই দায় থেকে মুক্তি দিতে গত বছরের ২ ডিসেম্বর সে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে। মৃত্যুর আগে ছোট্ট একটি চিরকুটে লিখে গিয়েছিল, তোমরা ভাল থেকো, ভাই বোনদের ভালভাবে লেখাপড়ার সুযোগ করে দিও। পাওনাদারদের চাপে স্বামী সমর চন্দ্র দাস আত্মগোপন করায় তিন সন্তান নিয়ে চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন এই নারী। মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর বাজারে স্বামীর ভাড়া করা মিষ্টির সেই দোকানটায় দুই হাজার টাকা পুঁজি সম্বল করে মেঝ ছেলে নবম শ্রেণীর ছাত্র বিজয়কে সঙ্গে নিয়ে ডাল ভাতের দোকান করেন রুনু রানী দাস। সেখান থেকে সামান্য যা রোজগার হয় তা দিয়ে আর দু’বেলা সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে পারছেন না তিনি। প্রতি সন্ধ্যায় পাওনাদার এসে হাজির হন দোকানে। লোকজনদের সামনে তাদের অকথা-কুকথা নীরবে হজম করতে হয় তাকে। আর সেই দোকানেই কোনভাবে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। ভাড়া দিতে না পারায় ৫/৬ মাস আগে বাসা ছেড়ে দিয়ে ওই দোকানেই সন্তানদের নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। সারাদিন দোকান আর রাতে ওই দোকানের মেঝেতে বিছানা পেতে শোবার ব্যবস্থা। রুনু রানী দাসের ২৩ বছরের সংসারে ৩ ছেলে সন্তান। বড় ছেলে সুজয় রাজশাহীতে বিবিএ পড়তো। তাকে নিয়ে স্বপ্ন অঙ্কুরিত হচ্ছিল সমর-রুনুর সংসারে। ছেলেদের লেখাপড়া খরচ যোগাতে দেনায় ডুবে যান সমর চন্দ্র দাস। কয়েকটি এনজিও ও দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে উচ্চ সুদে প্রায় ২ লাখ টাকা ঋণ গ্রহন করেন। এতে ছোট্ট মিষ্টির দোকানের পুঁজিতে টান পড়ে। পরপর ২ সেমিষ্টারের টাকা দিতে না পারায় বড় ছেলে সুজয় আত্মহত্যা করে। আমার ওই ছেলেটি ছিল খুব কোমল স্বভাবের। আমরা যেখানে থাকতাম তার পাশের গরীব এক মুসলিম পরিবারে এক কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। বারবার মেয়ে জন্ম নেয়ায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চলছিল বিবাধ। সুজয় ১ দিন বয়সের ওই মুসলিম মেয়ে শিশুটিকে বাড়ি নিয়ে আসে। বলে মা আমি লেখা পড়া শেষ করে চাকুরি করে ওর সব খরচ চালাবো। আমাদের তো কোন বোন নেই ৩ ভাই আমরা। আমার বড় ছেলের নাম সুজয়, মেঝ ছেলে বিজয়, ছোট ছেলে জয়। আর মেয়েটির নাম মিলিয়ে রেখেছি জয়া। জয়া এখন ৫ বছরের মেয়ে। ছেলে সুজয়ের মৃত্যুর আগে কালিকাপুর মৌজায় ১ কাঠা জমি ৮০ হাজার টাকা দাম মিটিয়ে ৩২ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়েছিলেন সমর চন্দ্র দাস জমির মালিককে।
আর মাত্র ২ মাস পরে সেই জমি ও টাকা দুটোই হাতছাড়া হয়ে যাবে। বাঁকি টাকা যোগার করা তাদের পক্ষে আর সম্ভব নয়। মেঝ ছেলে বিজয় উপজেলার কয়াপাড়া কামারকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে আগামিতে এসএসসি পরীক্ষা দিবে। আলাদা জায়গা না থাকায় দোকানে বসে খদ্দের খাওয়ানোর ফাঁক ফাঁকে পড়ালেখা করে সে। রুনু রানী দাস দেশের প্রধানমন্ত্রীসহ সকল হৃদয়বান মানুষের কাছে শেষ আবেদন জানিয়ে বলেন, আমার সন্তানদের বেঁচে থাকার একটি সুযোগ করে দেন আপনারা। লেখাপড়ার খরচ যোগাতে না পারায় ইতোমধ্যে বড় ছেলে হারিয়েছি। এখন ৩ সন্তানকে নিয়ে আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া সামনে আর কোন পথ খোলা নেই।

৭ thoughts on “দাদা আমাকে স্বামী সন্তান নিয়ে একটু বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিন , আমি আর পারছি না !

  1. দুঃখজনক । ভার্সিটি পড়ুয়া
    দুঃখজনক । ভার্সিটি পড়ুয়া ছেলেটির প্রতি কেন জানিনা আমার রাগ হচ্ছে । মানতে পারছিনা ওর এই প্রস্থান ।
    ওদের স্বপ্ন গুলো বেঁচে থাক ।

  2. ভাইজানরা শুধু দুঃখজনক বলে কি
    ভাইজানরা শুধু দুঃখজনক বলে কি হ্বপ্ন……… দাড়াই কিছু একটা করি ওদের জন্য ………আমরা তো আর মন্ত্রী না যে টাঁকা জোগার করে দিলে সেই টাঁকা মাইর হাওয়ার চান্স থাকবে ………একটা ফান্ড করেন কিছু টাঁকা জমা করেন দেখবেন আমরাও পারবো কারো মুখে হাসি ফুটাতে………তাহলেই তো বেচে থাকবে স্বপ্ন………

  3. জীবনযুদ্ধে পরাজিত মানুষের
    জীবনযুদ্ধে পরাজিত মানুষের সংখ্যা যত বাড়বে ততই মানবতার অবক্ষয় হবে…
    এইসব কিছুর সাথে জনসংখ্যার আধিক্য জড়িত! সরকার এখনই যদি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কোন সুস্পষ্ট পদক্ষেপ না নেই তবে একদিন বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় মানবিক বিপর্যয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।

    ঐ পরিবারটির জন্যে সমবেদনা।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *