অসাধারন একটি লেখা- সবাইকে পড়বার অনুরোধ জানাচ্ছি।

# প্রিয় বন্ধুরা, আজকের এই স্ট্যাটাসটা সেইসব
বন্ধুদের উদ্দেশ্যে তোমরা যারা ৮০ দশকের
শেষে জন্মেছ কিংবা ৯০ এর দশকে। এই সময়ের
বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলবার অনেক কারন রয়েছে। এর
মধ্যে সবগুলো কারন না বলি, শুধু একটি বলি।
সেটি হচ্ছে, তোমারা যারা এই দেশের
মুক্তিযুদ্ধকে ভেতরে লালন করতে শিখেছ, সেই
তোমাদের উপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যায়।



# প্রিয় বন্ধুরা, আজকের এই স্ট্যাটাসটা সেইসব
বন্ধুদের উদ্দেশ্যে তোমরা যারা ৮০ দশকের
শেষে জন্মেছ কিংবা ৯০ এর দশকে। এই সময়ের
বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলবার অনেক কারন রয়েছে। এর
মধ্যে সবগুলো কারন না বলি, শুধু একটি বলি।
সেটি হচ্ছে, তোমারা যারা এই দেশের
মুক্তিযুদ্ধকে ভেতরে লালন করতে শিখেছ, সেই
তোমাদের উপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যায়।
তোমরা সবাই মোটামুটি এমন
একটা বয়সে আছো যে আজকের আমার এই
কথাগুলো তোমরা হয়ত বুঝবে। তোমরা এও
বুঝবে কতটা ক্রান্তিকাল পার
করছি বলে আজকে এইভাবে বলতে হচ্ছে। তোমাদের
হাতে যদি কিছু সময় থাকে, আমি অনুরোধ
করি আমাকে ১০টা মিনিট সময় দাও। লেখাটা পড়।
তোমরা হয়ত জেনে থাকবে যে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু্র
সরকার একাত্তরের ঘাতক দালালদের বিচার করবার
জন্য কোলাবরেশন আইন-১৯৭২ বানিয়েছিলেন।
বিচারও শুরু হয়েছিলো। অনেকেই প্রশ্ন
করতে পারো বঙ্গবন্ধুর এত ক্ষমতা ছিলো, এত সমর্থন
ছিলো, সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত একটি দেশ, কিন্ত
বিচারটি পুরোপুরি শেষ করা যায়নি কেন?
কিংবা তোমরা ভাবতে পারো- যেই ১৯৫ জন
পাকিস্তানী আর্মিকে বিচারের জন্য
কারাগারে রাখা হয়েছিলো, তাদের বিচার
হয়নি কেন? তোমরা হয়ত চোখ মুখ বন্ধ
করে বঙ্গবন্ধুকে দোষ দাও।
আমি পুরো ব্যাপারটিতে তোমাদের ভুল দেখিনা।
কেননা, একটা সময় বঙ্গবন্ধুর সরকারের
প্রতি আমারো এমন প্রশ্ন ছিলো, আমিও
মানতে পারিনি। কিন্তু তার পর একটা সময়
আমি দিনের পর দিন এই বিচার নিয়ে তথ্য সংগ্রহ
করেছি, সে সময়ের মানুষদের সাথে কথা বলেছি, বই,
পত্রিকা, জার্নাল, রিসার্চ পেপার, পড়েছি। এই
বিচারের রায়গুলো খুব মন দিয়ে পড়েছি।
পুরো ব্যাপারটিকে আমি ঠান্ডা মাথায়
যুক্তি দিয়ে বিচার করেছি।
একে একে আমি প্রত্যেকটি প্রশ্নের জবাব পেয়েছি।
আজ হয়ত তোমাদের সব কথা বলা সম্ভব নয়। একদিন
বলব সব। কিন্তু এটা জেনে রেখ, বঙ্গবন্ধুর
পক্ষে আসলে অনেক কিছুই সম্ভব ছিলোনা সে সময়।
তোমরা যারা তাঁকে অনেক প্রভাবশালী ভাবো,
নিজের আপন জগতে তিনিও অনেক চাপে ছিলেন।
একটা যুদ্ধ বিদ্ধস্ত দেশে সিরাজ শিকদারের
বাহিনীর একটার পর একটা গোপন হামলা, জাসদের
সারাটা দিন-রাত ঘ্যান ঘ্যান, এই দাবী, সেই
দাবী, এইখানে বোম মারো তো ওইখানে মানুষ মারো।
বঙ্গবন্ধুর পাশে ঘিরে থাকা কিছু
স্বার্থান্বেসী মহল, সেনাবাহিনীর ভেতর
রাজনীতি, কোন্দল, অবিশ্বাস, মাওলানা ভাসানীর
একটার পর একটা আল্টিমেটাম, আমেরিকার চাপ,
মুসলিম দেশগুলোর চাপ,
পাকিস্তানী বন্দী আর্মি অফিসারদের পরিবারের
লোকদের ৩২ নাম্বারের সামনে এসে অনশন তাদের
ফিরিয়ে আনবার জন্য, ব্যাংকে নেই টাকা,
দেশে নেই খাদ্য, পাকিস্তানীদের
তান্ডবে তখনো দেশটা পুড়ছে। অনেক অনেক গল্প।
একটা সময় বঙ্গবন্ধু ১৯৫ জন পাকিস্তানী আর্মিদের
বিচার করতে পারলেন না। যদিও তাঁর বিচারের
ইন্টেনশনের সব প্রমাণ আমরা আজও দেখি। আইন
হয়েছে, আইনজীবি নির্বাচনও
হয়ে গিয়েছিলো প্রায়, বিচার কোথায়
হবে সেটি নিয়ে কথা চলছিলো। মোট কথা সব কিছু
ছিলো চূড়ান্ত। এইদিকে দেশীয় দালালদের বিচার
তো চলছিলোই। কিন্তু ইতিহাসের সবচাইতে কষ্টের
আর ঘৃণ্য অধ্যায় রচিত হয় ১৯৭৫ সালের ১৫-ই আগস্ট।
এই দিনটি সম্পর্কে তোমাদের নতুন করে কিছু বলবার
নেই। বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে নিহত হবার পর মূলত এই
বিচারের যে সূতো,
সেটি ধীরে ধীরে মুছে যেতে থাকে। ১৯৭৫ সালের
৩১শে ডিসেম্বর জিয়ার ছত্র ছায়ায়,
প্রভাবে একটা সময় দালাল আইন বাতিল হয়,
রাজাকার আর আলবদর যায় ক্ষমতায়।
সে ধারা চলতে থাকে এরশাদ এবং নব্বুই এ বি এন
পির আমলে।
৯০ এর দশকের গোড়ার দিকে আমাদের
জননী জাহানারা ইমাম যে আন্দোলনের সূচনা করেন
ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির
নেতৃত্বে সেটি একটা সময় পরিণত হয় মহা সমূদ্রের
মত উত্তাল হয়ে। সে আন্দোলোনেও অনেক
সমস্যা ছিলো ইন্টার্নাল। জাহানারা ইমামকে পেইন
দিয়েছে, তাঁকে বিভ্রান্ত করবারও মানুষের অভাব
ছিলোনা তাঁরই আশে পাশের। তারপরেও তিনি ছিলেন
এক প্রচন্ড ক্যারিশমাটিক মানুষ। তিনি এমন একজন
মানুষ ছিলেন যাকে মানুষ শ্রদ্ধা করতেন,
ভালোবাসতেন। তিনি এই ঘাতকদের বিচার
চাইতে এসে সে সময়ে গড়ে তুলেছিলেন এক উত্তাল
জোয়ার। ৯২ এর গণ আদালতের কথা আমার মনে আছে।
রাস্তায় রাস্তায়, গলিতে, সড়কে, এভিনিউতে শুধু
ঘাতকদের বিচারের দাবী। কিছু সংখ্যক মানুষ
বাদে সকলেই হাজির হয়েছিলেন এই দাবীতে। এক
সাথে, এক হয়ে।
কিন্ত তখন ক্ষমতায় ছিলো জামাত ব্যাকড বি এন পি।
তারা শহীদ জননী সহ মোট ২৪ জনের
বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দিলো,
জেলে পুরলো অসংখ্য নেতা কর্মীদের, পেটালো,
অপমান করলো। আর সেই বি এন পি-ই রাজাকার
সম্রাট গোলাম আজমকে দিল বাংলাদেশের
নাগরিকত্ব। সে এক অপমানের গল্প, খুব গ্লানি হয়
বলতে।
যাই হোক, বি এন পির আমল শেষে ১৯৯৬
সালে আওয়ামীলীগ এলো। অনেক প্রতিক্ষার বঙ্গবন্ধুর
হত্যার বিচার শুরু হোলো। সে সময় আমাদের
মনে ক্ষীন আশা ছিলো যে ওই সময়েই হয়ত একাত্তরের
ঘাতকদের বিচার হবে, কিন্তু হয়নি। সেটি নিয়েও
আমি আক্ষেপ করিনা। কেননা, একটা সরকার এক
সাথে এতগুলো বড় বড় বিচার করতে গেলে হয়ত খেই
হারিয়েই ফেলত। যাই হোক এই আমলেও বঙ্গবন্ধুর
বিচার পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। এপিলেট
ডিভিশনে গিয়ে মামলা আটকে রইলো।
২০০১ সালে এলো বি এন পি। বাংলাদেশের
ইতিহাসে এক কলংকময় অধ্যায়। এসময়ে রাজাকারদের
গাড়িতে উড়লো পতাকা, স্বীকৃত খুনীরা হোলো মন্ত্রী।
পুরো বাংলাদেশী জনতার উপর এর থেকে বড় চড় আর
কেউ দিতে পারেনি কখনো, যেটি বি এন
পি দিয়েছে রাজাকার আর আলবদরদের সাথে নিয়ে।
জনতা ভেতরে ভেতরে ফুঁসে উঠেছিলো। তারা সেই
ভেতরের জমানো আগুন উগড়ে দিলো ২০০৮ সালের
নির্বাচনে। একাত্তরের ঘাতকদের বিচার করবার
জন্য তারা নির্বাচিত করলো আওয়ামীলীগকে।
২০০৮ সালের নির্বাচনের পর আমরা সবাই
ভেবেছিলাম দুই এক মাসের মধ্যে বিচার শুরু হবে।
বিচার শুরু হয়নি আদতে। দীর্ঘ ১৬ মাস পর বিচার
শুর হোলো ২০১০ সালের ২৫ শে মার্চ। অবশ্য
এটি অবশ্যই বলতে হয় যে এমন একটা বড় বিচার শুরু
করবার জন্য যে প্রস্তুতি প্রয়োজন হয় সেটির জন্যেও
সময় লাগে। তবে সেক্ষেত্রে এতটা সময়
আশা করিনি কখনো। যাই হোক, বিচার শুর হোলো।
একে একে ধরা হোলো নাটের গুরুদের।
এই বিচারের শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জামাত
কি পরিমাণ টাকা ঢেলেছে এটা আসলে তোমাদের
ধারনার কয়েক মাইল বাইরে। আমরা যারা এই
বিচার প্রক্রিয়া শুরু থেকেই মনিটর
করেছি কিংবা বিচারের কাছাকাছি যাবার
চেষ্টা করেছি তারা জানি যে প্রতিটি ইঞ্চিতে ইঞ্চ
তাদের চেষ্টা চালিয়েছে। এমন কোনো দরজা নেই,
এমন কোনো অপশন
তারা বাকী রাখেনি যেটা তারা করেনি।
এমনকি তারা কারাগারে কয়েকজন
অভিযুক্তকে মেরে ফেলবার প্ল্যান করেও বাকীদের
উদ্ধার করবার মত ছক কষে রেখেছিলো। পৃথিবীর বড়
বড় শিক্ষাবিদদের দিয়ে তারা জার্নাল,
ম্যাগাজিন, পত্রিকায় লিখিয়েছে, সেমিনার করেছে,
সভা করেছে, মিছিল করেছে, বড় বড় লবিস্ট
র্গানাইজেশন তারা নিয়োগ দিয়েছে, পৃথিবীর বড়
বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা সভা করেছে,
শর্মিলা বোসকে দিয়ে তারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
নিয়ে মিথ্যে ইতিহাস লিখিয়েছে, আন্তর্জাতিক
ভাবে চাপ দিয়েছে, তারা তুরষ্ক, ইংল্যান্ড,
আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সুইডেন,
মধ্যপ্রাচ্যে কোটি কোটি ডলার ভাতের মত ঢেলেছে।
তাদের এক একজন আইনজীবির পার ঘন্টার খরচ ৪
লাখ-৫ লাখ টাকা। তারা সেসব অর্থেও
একটা সেকেন্ড কার্পণ্য করেনি। আর জামাতের
নেতা কর্মীরা ২৪ ঘন্টা অনলাইনে দেশ
নিয়ে অপঃপ্রচার তো চালিয়ে যাচ্ছেই নিরন্তর,
ক্লান্তিহীন…
সত্যি কথা বলতে জামাতের যেমন এই বিচার
নিয়ে এত টাকার ছড়াছড়ি ছিলো, সেই
হিসেবে সরকার ছিলো অনেকটা দরিদ্র এক
বেতনভোগী কর্মচারীর মতন। যদিও এটা খুবই সঠিক
যে সরকারের একটি অংশ চরম ভাবে এই বিচার
সম্পাদনের জন্য রাত দিন খেটেছেন, কাজ করেছেন।
কিন্তু ঐ যে বঙ্গবন্ধুর আমলের মতনই শেখ
হাসিনাকে ঘিরে রয়েছে কিছু চামচা আর চ্যালাদের
দল, সেই সাথে শেখ হাসিনা নিজেও বোঝেন বেশী।
সব মিলিয়ে জামাত যতটা চাতুর্যের সাথে এই
বিচারের বিরুদ্ধে সব উজাড় করে দিয়েছিলো সেরকম
ভাবে সরকার পারেনি।
আইনজীবি নিয়োগে সমস্যা ছিলো, লজিস্টিক, অর্থবল,
লোকবল, প্ল্যানিং সব কিছুতেই সমস্যা ছিলো। কিন্ত
একটি ব্যাপারে এই ট্রাইবুনাল ছিলো ভয়াবহ
শক্তিশালী। সেটি হচ্ছে দেশ প্রেম। বুকের ভেতর
থেকে আইনজীবিদের বেশীর ভাগ কাজ করেছেন
দেশের জন্য। নানান লজিস্টিকের
অপ্রতূলতা নিয়ে তাঁরা ভাবেন নি। কাজ করে গেছেন
৩০ লক্ষ শহীদের কথা বুকের ভেতরে রেখে।
এইদিকে জামাতীরা ট্রাইবুনালের বিচারপতিদের
বিরুদ্ধে শুরু করলো ষড়যন্ত্র। তারা ছক
কষে কষে হ্যাক করলো বিচারপতির কম্পিউটার। আর
কুখ্যাত আমার দেশ পত্রিকা জামাতের প্রচার মাধ্যম
হয়ে এই পুরো বিচার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধেই একেরপর
এক ষড়যন্ত্র চালিয়ে গেলো।
এইভাবে চলতে চলতে একটা পর্যায়ে শেষ পর্যন্ত
৪টা রায় হোলো। কাদের মোল্লার রায়
জনতা মেনে নিতে পারেনি বলে বাংলাদেশের
প্রতিটি ঘরের আনাচে কানাচে থেকে তরুন প্রজন্ম
নেমে এলো রাস্তায়। এক এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। লক্ষ লক্ষ
জনতা একাত্তরের ঘাতকদের বিচার চায়। এই
স্মৃতি গড়েছ তোমরাই। আজ আমি সেই তোমাদেরকেই
লিখছি।
একজন আইনের ছাত্র হিসেবে বলতে পারি এই ধরনের
বিচারের ক্ষেত্রে সাধারণত এত বেশী তথ্য-প্রমাণ,
সাক্ষী সাবুদের প্রয়োজন হয় যে একটা সরকার তার ৫
বছরের শাষনামলে ১০-১২ জনের বিচার
করবে এটা মনে করাটাই পাগলামী। বড় জোড় ৬-৭
জনের বিচার হয়ে গেলে সেটিকেই সত্যকার
অর্থে বড় প্রাপ্তি হিসেবেই দেখা উচিৎ সবার।
পৃথিবীর ইতিহাসে এই জাতীয় বিচার করতে বছরের
পর বছর সময় নিয়েছে আন্তর্জাতিক অনান্য আদালত। এ
ছাড়াও, এই বিচার নিয়ে এমন একটা অবস্থায়
আমরা চলে গেছি যেখানে পুরো পৃথিবী এই বিচার
দেখছে। নজর রাখছে সব প্রভাবশালী দেশের
মিডিয়া। এই বিচার তাই “ধর তক্তা মার পেরেক”
থিওরী খাটাতে গেলে এটি একটি দেশের আইন
ব্যাবস্থার জন্য হয়ত বিপদই ডেকে আনবে।
সে কারনে এই বিচারের স্বচ্ছতা আর
গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সরকার ব্যাস্ত
থেকেছে এবং তারা ১০০% সফলও এই ব্যাপারে।
এই বিচারের পাশা পাশি সরকার যখন দেশ
চালাচ্ছিলো তখন সরকারের অভ্যন্তরীন ক্ষেত্রে কিছু
ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছে। যেমন সাগর-রুনীর
হত্যার বিচার করতে পারেনি, শেয়ার বাজার, হল
মার্ক, ডেস্টিনি, পদ্মা সেতু, এম পি শাওনের
গাড়িতে খুন, সুরঞ্জিতের চুরি ইস্যু, বিশ্বজিৎ
হত্যা ইত্যাদি। তোমরা হয়ত শেষ পর্যন্ত এই ইস্যু
গুলোকে সামনে রেখে আওয়ামীলীগকে বিচার করছ।
একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে হয়ত এমন
করে ভাবাই স্বাভাবিক। ইনফ্যাক্ট আমিও ভেবেছি।
জেনে রেখো, আমি ব্যাক্তিগত ভাবে আওয়ামীলীগের
ফ্যান নই। বঙ্গবন্ধু আমার প্রিয় মানুষদের একজন।
সে কারনে হয়ত একটু হলেও দলটির প্রতি আমার সফট
কর্ণার রয়েছে। কিন্তু সমালোচনার সময় একটা বিন্দু
ছাড় দিতে আমি রাজী নই। দেইনি কখনো।
সাম্প্রতিক কালে সিটি নির্বাচনেও আওয়ামীলীগের
প্রার্থী সবগুলো সিটি নির্বাচনেই হেরেছে।
অনেকেই ভাবছ ভালো হয়েছে। উচিৎ শিক্ষা হয়েছে।
আমিও হয়ত এমন করেই ভাবতে পারতাম, কিন্তু
আসলে পারিনি। তোমরা হয়ত অনেকেই জানো এই
অনলাইনেই আমাকে আওয়ামীলীগের কিছু উঠতি আর
পাতি চ্যালারা ফ্রিডম পার্টি ট্যাগ দিয়েছে,
জামা্তী এজেন্ট ট্যাগ দিয়েছে। যুদ্ধাপরাধ
ইস্যুতে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত নিজের
অবস্থান থেকে কাজ করেও, মিছিলে, স্লোগানে,
রাস্তায় যুদ্ধ করেও এসব ভয়াবহ পুরষ্কার
আমাকে পেতে হয়েছে। ক্যারিয়ার বলো, নিজের জীবন
বিপন্ন করা বলো, সবই আমি নিপুন নিষ্ঠায় করেছি।
কত রকমের ইন্টারনাল রাজনীতি যে হয়, এসব
না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। এসব দেখে একজন
মানুষের আওয়ামীলীগ থেকে রুচী না উঠে হয়ত
পারেই না, কিন্তু তারপরেও আমি চাইনা এই
দেশে অন্তত সামনের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ
ছাড়া অন্য কেউ আসুক। কেন জানো?
শোনো তোমাদের বলি, আমার মোটামুটি সৌভাগ্য বল
কিংবা দূর্ভাগ্য বলো, আমার বি এন পি-
আওয়ামীলীগের নানান বড় সব নেতা নেত্রীদের কাছ
থেকে দেখবার সুযোগ হয়েছে। আর ওদের দুই দলের
শাষন আমলও আমরা দেখেছি গত দুই দশক ধরে।
আওয়ামীলীগ আর বি এন পি, এই দুইটা দলের ভেতর
যদি তুমি রাজনীতির সব উপাদান দিয়ে খোঁজ কর,
কিংবা পররাষ্ট্র, অর্থনীতি, সমাজনীতি ইত্যাদি,
তাহলে পার্থক্য খুবই কম। অনেকটা উনিশ বিশের
মতন। শধু একটা যায়গায়
তুমি আওয়ামীলীগকে আলাদা করে ফেলতে পারবে বি এ
পি থেকে, সেটি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ আর তার চেতনার
যায়গাটিতে। আমি জানি তোমরা অনেকেই এই
কথাটি শুনে ভুরু কুঁচকাবে কিংবা আমার সাথে একমত
হবে না। আমি তোমাদের এই অনুভূতিকেও সম্মান
দেখিয়ে, শুধু একটা কথা জিজ্ঞেস করতে চাই।
আজকে যেসব রাজাকার-আলবদরদের কাঠগড়ায় এই
সরকার দাঁড় করিয়েছে, বি এন পি-জামাত ক্ষমতায়
আসলে তারা ছাড়া পাবে, এই কথাটা তোমরা বিশ্বাস
কর কিনা? তোমরা কি মনে করতে পার, গত ৪ টা বছর
এই ঘাতকদের ছেড়ে দেবার জন্য কি করেছে বি এন
পি? ব্যারিস্টার মোওদুদ, খন্দকার মাহবুব,
ব্যারিস্টার জমিরুদ্দিন্দের মত বি এন পির
আইনজীবিরা লড়েছে সাঈদী, গোলাম আজম, নিজামীর
জন্য। প্রকাশ্যে, সকলের সামনে।
সেক্ষেত্রে কি হবে বি এন পি ক্ষমতায় এলে?
আমি বলি- ইয়েস, এরা ছাড়া পাবে। শুধু ছাড়াই
পাবে না, বি এন পি সরকার আদালতকে প্রভাবিত
করে দেখাবে যে এরা সবাই নির্দোষ, খামাখাই
এদের ধরে এনেছে। টেকনিকালী তখন আর
কখনি আমি কিংবা তুমি এদের আর কিছু করতে পারব
না। গত বছর খালেদা জিয়া লালদীঘির এক
ভাষনে এদের ছেড়ে দেবার জন্য স্পষ্ট
হুমকি দিয়েছিলো সরকারকে। সুতরাং বুঝতেই পারছ
কি হতে যাচ্ছে। তুমি আজকে যে পদ্মা সেতুর
কথা বলছ কিংবা যে সেতু নিয়ে আক্ষেপ করছ সে সেতু
বাংলাদেশে কয়েক বছরের মধ্যেই হবে। যে খুন
ছাত্রলীগের
ছেলেরা করেছে কিংবা যে টেন্ডারবাজী ছাত্রলীগে
ছেলেরা করছে সেটি ঠিক একইভাবে ছাত্রদলের
ছেলেরা করবে, জামাত করবে। ধরে ধরে রগ কাটবে।
যে শেয়ার মার্কেটের কথা বলছ সে শেয়ার মার্কেট
বি এন পি এলে হীরে দিয়ে ভরে যাবেনা,
যে ডেস্টিনির কথা বলছ সেই ডেস্টিনির
মালিকেরা টাকা দিয়ে বি এন পি আমলেও
ব্যাবসা করবে, যে হলমার্কের কথা বলছ সেই
হলমার্কের তানভীর বি এন পি আমলেও
ব্যাবসা করেছে, লীগের আমলেও করেছে, সামনেও
করবে। এই দেশে টাকা থাকলে আওয়ামীলীগ- বি এন
পি সব সমান। রাতের জলযাত্রায় সব ভাই ভাই।
এদের বিয়ে শাদীও হয় এদের নিজেদের মধ্যে।
বি এনপির নেতার মেয়ের সাথে আওয়ামীলীগের
নেতার ছেলের বিয়ে হয়। এমন শতাধিক সম্পর্কের
কথা আমি তোমাদের বলতে পারব।
কিন্তু,যে ইস্যুর জন্য আজকে আওয়ামীলীগকে ভোট
দিবেনা বলে চিন্তা করছ, ভেবে দেখ,
যে পরিবর্তনের কথা তোমরা ভাবছ সে পরিবর্তন
আওয়ামীলীগকে ভোট না দিয়ে আসবে না। আবার
দিলেও যে আসবে তা নয়। সত্যকারের পরিবর্তনের
জন্য আমাদের খুঁজতে হবে বিকল্প শক্তি। তরুন
নেতাদের রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসা, একটা সত্যাকারের
বিপ্লব। এই পরিবর্তন যতদিন না আসবে ততদিন লীগ
আর বি এন পি ইন্টার চেঞ্জ করে শধু লাউ আর কদুই
পাবে তোমরা। সুতরাং যতদিন বিকল্প না আসছে,
না পাওয়া যাচ্ছে, ততদিন আমাদের ভাবতে হবে খুব
স্ট্রেইট।
আজকে আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় না আনতে পারলে,
এদের রাষ্ট্র ক্ষমতায় পরের
টার্মে না আনতে পারলে সারাটা জীবনের
একটা মাত্র চাওয়া একাত্তরের ঘাতকদের বিচারের
পুরো স্বপ্নই সিম্পলী ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। একটা বার
চোখটা বন্ধ করে ভাবো। ৩০ লক্ষ
স্বজনকে এরা মেরে ফেলেছে। এই বিচার
ভুলে গিয়ে তুমি হয়ত পদ্মা সেতুতে একদিন
হেঁটে যাবে মনের আনন্দে, কোনো না কোনো সরকার
এই সেতু বানাবেই, হয়ত শেয়ার বাজারে তুমি দু লাখ
টাকা আয় করে ঘরেই ফিরবে। তোমার এই পাওয়াগুলোর
কাছে একটা বড় স্বপ্ন ভেঙ্গেচুরে খান খান
হয়ে যাচ্ছে, তুমি হয়ত টেরও পাওনি।
যে বিশ্বজিতের
কথা ভেবে লীগকে দূরে সরিয়ে দিলে, বি এন
পি আমলে এমন অসংখ্য বিশ্বজিৎকেই
কোপাবে জামাতের রগ কাটা বাহিনী, হেফাজত
এদেশের অলিতে গলিতে বোরকা পরাবে, হয়ত
রাস্তা দিয়ে আসবার সময় হেফাজতের
ছেলেরা তোমার
বান্ধবী কিংবা স্ত্রীকে বোরকা পরাওনি বলে কান
ধরিয়ে রাখবে, পেটাবে। এসব তো হেফাজতের ১৩
দফা দেখেই আমরা বুঝতে পারি। আবার এই বি এন
পির উপর ত্যাক্ত বিরক্ত হয়ে, মিস্টার টেন
পার্সেন্টের খুনে রাজনীতিতে বিরক্ত হয়ে ৫ বছর
পর তোমরা হয়ত লীগকেই আবার ভোট দিয়ে আনবে।
কিন্তু এরি মধ্যে অনেক বড় ভুল হয়ে যাবে প্রিয়
বন্ধুরা। যা হারাবার তা হয়ত হারিয়েই ফেলবে সেই
সময়ের মধ্যে।
সেজন্যই বলি শুধু সামনের ৫টা বছর আওয়ামীলীগের
প্রতি আস্থা রাখো তোমরা। শধু একটা সুযোগ দাও
এদেরকে। এই ঘাতকদের প্রত্যেকটা ঝুলুক, এই
ঘাতকদের প্রত্যকটাকে ফাঁসী দিয়েই না হয়
আমরা আওয়ামীলীগ আর বি এন
পি ছাড়া বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখব একদিন। একদিন
বিরাট বিপ্লবে আমরা তরুনেরা দেশ চালাব। একদিন
আমরাই এই দেশের মুখে হাসি ফোটাবো কিন্তু এখন
আমাদের নিজেদের জন্যই আওয়ামীলীগকে প্রয়োজন।
খুব প্রয়োজন। শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করবার এই
শেষ সুযোগ হেলায় হারাবার কোনো মানে নেই।
প্রিয় বন্ধুরা একটাবার ঠান্ডা মাথায় এখন থেকেই
ভাবো, সিদ্ধান্ত সব তোমার হাতে।
Nijhoom Majumder

২৯ thoughts on “অসাধারন একটি লেখা- সবাইকে পড়বার অনুরোধ জানাচ্ছি।

  1. লেখাটা পড়ার আগ্রহ হারিয়ে
    লেখাটা পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেললাম। কারন একজন ভণ্ড মানুষের মুখে নীতিবাক্য শুনতে আগ্রহী না। :ঘুমপাইতেছে:

      1. ভাই এখন তো আপনাদের বিগত কয়েক
        ভাই এখন তো আপনাদের বিগত কয়েক বছরের ব্লগিয় ইতিহাস বলে বলে বুঝানো আমার পক্ষে সম্ভব না। যারা নিঝুমকে জানে তারা সবাই ব্যাপারটা জানে। বিগত কয়েকমাস নিঝুম কেন অনলাইন থেকে পালিয়ে ছিল সেটা জানার চেষ্টা কইরেন তাহলেই উত্তর মিলে যাবে।

  2. অতি বাস্তব কথা… অনেকে বুঝেও
    অতি বাস্তব কথা… অনেকে বুঝেও উত্তরাধিকারে পাওয়া ঘৃণার জন্যে এড়িয়ে যাবে!
    কি আর হবে? ভুল করলে আগামী ৫ বছর রক্তের বন্যে বইবে এই বাংলায় আরেকবার…
    একটি স্বপ্নের পথচারী আপনাকে ধন্যবাদ… আর
    Nijhoom Majumder-কে :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

    1. নিঝুম মজুমদারকে স্যালুট দেওয়া
      নিঝুম মজুমদারকে স্যালুট দেওয়া দেখে কিছুক্ষন হাসলাম। গোলাম আজমও যদি এরকম একটা লেখা ল্যাখে তাকেও আপনি স্যালুট দেবেন কিনা সেটা জানার খুব আগ্রহ হচ্ছে। :চোখমারা:

      1. আপনার হাসির কথা শুনে ঘাবড়ায়
        আপনার হাসির কথা শুনে ঘাবড়ায় গেলাম! নিঝুম মজুমদারের কাহিনী কি? আমি পরিষ্কার জানি না তবে এইকটা জিনিস দেখুন ইস্টিশনে গুনীযাত্রী’র কথাঃ

        “আমি অহর্নিশ একজন প্রজন্মযোদ্ধা। একজন পতিতাও যদি বলে, রাজাকারের ফাঁসি চাই, তার সাথে গলা মেলাতে আমার কোন বাঁধা নেই।
        আবার জেগে উঠুক শাহবাগ।” -পৃথু স্যন্যাল


        ঐ নিঝুম কতটা পতিত আমি জানি না; তবে লিখেছেন জটিল… ব্যাস!! :কেউরেকইসনা: :কেউরেকইসনা:

        1. একজন পতিতা ভণ্ড নন। কিন্তু
          একজন পতিতা ভণ্ড নন। কিন্তু নিঝুম একজন প্রমাণিত ভণ্ড। আর কিছু বলতে চাই না। বেহুদা তর্ক চালাতে আমি আর মোটেও আগ্রহী না।

          1. পতিতারা যা করে তা শুধু মনের
            পতিতারা যা করে তা শুধু মনের মানুষের সাথে করার কথা টাকা উপার্জনের জন্যে এই কাজ নিজের বিবেকের সাথে আর ভালবাসাবোধের সাথে ভণ্ডামি…
            আপনি কি বলেন? আমি কিন্তু বলেছি ঐ নিঝুম এর ব্যাপার আমি জানি না; আবার সে কতটা পতিত তাও আমি জানি না তবে লিখাটা চমৎকার…

          2. নিজের বিবেকের সাথে আর
            নিজের বিবেকের সাথে আর ভালোবাসাবোধের সাথে ভণ্ডামি করা, আর দেশপ্রেম নিয়ে ভণ্ডামি করা এক জিনিস না। নিঝুম সম্পর্কে খুব ভালো করে জানি দেখেই এতো জোর দিয়ে কথাগুলো বলেছি। মানা, না মানা আপনার ব্যাপার। স্যালুট খুব সম্মানের একটা বিষয়। যত্রতত্র এর ব্যবহারে আমার অনীহা আছে।

  3. থ্যাঙ্কস ভাই @ তারিক লিংকন
    থ্যাঙ্কস ভাই @ তারিক লিংকন .
    @ ডাঃ আতিক ভাই: উনাকে ভণ্ড বলছেন কেন ভাই?? আর উনি যেমন ই হোন না কেন, লেখাটার বাস্তব বাদিতাকে তো অস্বীকার করতে পারবেন না?

    1. উনাকে কেন ভণ্ড বলছি সেটা উনার
      উনাকে কেন ভণ্ড বলছি সেটা উনার অতীত ঘাঁটলেই জেনে যাবেন। একজন মানুষের অতীত খুব গুরত্বপুর্ন। শুধু একটা উদাহরণ দেই, যেই ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নিয়ে নিঝুম এতো সুন্দর সুন্দর কথা বলেছেন সেই কমিটিকেই বিতর্কিত করতে হেন কোন নোংরামি নেই যা উনি করেননি। বাকী ইতিহাস একটু কষ্ট করে জেনে নিয়েন। একটা ফালতু মানুষ সম্পর্কে সময় ব্যয় করতে আগ্রহী না। সবাইকে শুধু একটা প্রশ্নই রাখছি- গোলাম আজম না নিজামিও যদি এরকম কথা একসময় যদি বলা শুরু করে তাদেরকেও এরকম মাথায় তুলে নাচবেন কিনা?

      1. সালম্যান রুশদি ইসলাম নিয়ে ভাল
        সালম্যান রুশদি ইসলাম নিয়ে ভাল কিছু লিখবে কিনা এইটা যেমন অবান্তর প্রশ্ন তেমনি আপনার প্রশ্নটাও!! প্রশ্নটা প্রথমে আমাকে করেছিলেন তাই উত্তরটা আমিই প্রথম দিলাম… ধন্যবাদ আতিক ভাই!! :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

        1. সালমান রুশদি ইসলাম নিয়ে ভালো
          সালমান রুশদি ইসলাম নিয়ে ভালো কথা কখনও লিখবে না সেটা আমিও জানি, কিন্তু একজন ভণ্ড দেশপ্রেমিক দেশপ্রেমকে পুঁজি করেই ফায়দা নিয়ে চায়। তাই দেশ নিয়ে ভালো ভালো কথা তাকে যে লিখতেই হয়। আপনাকেও ধন্যবাদ। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

          1. গোলাম আজম না নিজামিও যদি এরকম
            গোলাম আজম না নিজামিও যদি এরকম কথা একসময় যদি বলা শুরু করবে না এইটা আপনি জানেন না জেনে কেমন জানি লাগল…
            আর কিছুই বলার নাই… ত্যানা পেঁচাইতে শুরু কইরেন না!
            বরং অফ যায় আমরা…

          2. আমি উদাহরণ দিলাম, সেইটা নিয়ে
            আমি উদাহরণ দিলাম, সেইটা নিয়ে ত্যানা প্যাঁচানো তো আপনিই শুরু করলেন। একটা কথা মনে রাখবেন, উদার হওয়া ভালো, কিন্তু অন্ধের মতো অতিউদার হওয়া ঠিক তার চেয়েও বেশী খারাপ। কারন আপনার সেই উদারতার সুযোগ নিয়েই একজন ভণ্ড আপনার পিঠেই কখন ছুড়ি চালাবে বুঝতেও পারবেন না। বাংলায় একটা প্রবাদ আছে জানেন তো- দুষ্টু লোকের মিষ্টি কথা। ভালো থাকবেন। এই লেখায় আমি আপাতত আপনার সাথে আর তর্ক করতে আগ্রহী না।

  4. জামাত-শিবির আর হেফাজত ভণ্ডের
    জামাত-শিবির আর হেফাজত ভণ্ডের দল যতি আবার এই দেশের রাজনীতিতে আসে তাইলে দেশের ১২টা বাজাবে।আফগানিস্তান বানায় ছারবে দেশরে।আর বি,এন,পি হইলো গাধা একটা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ও স্বাধীনতার পক্ষের দলের কাছ থেকে আমি কনদিন এরকম কাজ কার বার আশা করি নাই।স্বাধীনতা বিরোধিতের সাথে হাত মিলানো।আর আওয়ামিলিগ এ ভোরা বেকুব মানুষ একজন দুই জন নেতা ছাড়া…

  5. হাসি পাইলো নিঝুমের ভন্ডামী

    হাসি পাইলো নিঝুমের ভন্ডামী দেখে। এই কিছুদিন আগেও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সাংবাদিক সম্মেলনকে পন্ড করার জন্য যে সুদর ল্‌ডন থেকে বাংলাদেশে এসেছিল জামায়াতী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য আইসিএসএফ তথা স্কাইপি কেলেংকারীর হোতা জিয়াউদ্দিনের পক্ষ হয়ে, তার মুখে ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির কথা শুনে হাসি পাইলো। ঘাতক-দালাল নির্মুল কমিটির বর্তমান সভাপতিকে এই নিঝুম মজুমদার তিন/চার মাস আগে একাত্তরের মুরগী চোর বলেছিল, তার কথার সুত্র ধরে জামায়াতী পেইজগুলোতে শাহারিয়ার কবিরকে নিয়ে নোংরামী করেছে, সেই নিঝুম মজুমদার এখন শাহরিয়ার কবিরকে স্যার ডাকে! ভন্ড আর কাকে বলে???? কিছুদিন আগে বঙ্গবন্ধুর খুনী রাজনৈতিক দল ফ্রিডম পার্টির সাথে এবং এই পার্টির নেতাদের সাথে পারিবারিক ঘনিষ্ঠতার দায়ে সে অনলাইন থেকে নিজেই বিদায় নিয়েছিল, তার মুখে নীতিকথা কৌতুককর মনে হয়। যে নিঝুমের কারণে অনলাইনে চরম ভাঙন তৈরী হয়ে স্বাধীনভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলার জন্য এই ইস্টিশন ব্লগের জন্ম, সেই ব্লগে নিঝুমের নীতিকথার ভন্ডামী সম্মলিত স্ট্যাটাস শেয়ার হওয়া দেখে খিলখিল করে হাসি আসে।

    বাহ নিঝুম মজুমদার বাহ। কি দারুন তোমার চরিত্র!

  6. আরে! এ তো সেই নিঝুম যে আইজুর
    আরে! এ তো সেই নিঝুম যে আইজুর সাথে বিবাদে জড়িয়ে মাঝখানে অনলাইনছাড়া হয়েছিল।সে বলেছিল,আইজুর বোনকে নাকি একটা জামাতি বিয়ে করেছে এবং আইজু জামাতের দালালি করতেছে!পরে শুনলাম সেই বড় দালাল।নেট ঘেটে বের হয়ে আসে আরো অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্যও।সে ফ্রিডম পার্টি করে এবং ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির বিরুধীতাকারী সহ অনেক কিছু ।

    যাইহোক, এই ভন্ড থেকে দুরে থাকাই ভাল ।

    1. নিঝুমের আরও অনেক সুকীর্তি(?)
      নিঝুমের আরও অনেক সুকীর্তি(?) আছে। যারা না জেনেই একটা লেখা পড়েই স্যালুট দেওয়া শুরু করেছেন তাদের এই কথা বলতেই নানান যুক্তি দেখানো শুরু করলেন। না জেনে কথা বলাটা নিশ্চয়ই মুক্তবুদ্ধির চর্চা বলে না? নাকি এখানেও আমি ভুল করছি?

      1. আতিক ভাই!! আমি আসলেই জানি না
        আতিক ভাই!! আমি আসলেই জানি না নিঝুম মজুমদারের কাহিনী তা আপনাকে প্রথমেই বলেছিঃ “আপনার হাসির কথা শুনে ঘাবড়ায় গেলাম! নিঝুম মজুমদারের কাহিনী কি?”…
        আর আমাকে এইভাবে আক্রমণের চেষ্টা না করলেও হয় স্যালুট শুধু আমি একাই দিয়েছি… ব্লগিং ও অনলাইন সংস্কৃতির নোংরা পার্ট আমি সবসময় এড়িয়ে গেছি!
        নিঝুম মজুমদারকে আমার মনে হয় গু আজম-নিজামীর থেকে বড় পাপীভাবার কারণ নাই কেননা সে এখন এই সুরে কথা বলেছে কিন্তু ঐ হায়েনারা কখনই বলবে না…
        এইটা শুধু আত্মপক্ষ সমর্থন না বাস্তব উপলব্ধি (আপনার চোখে হয়ত ভুল)…
        মুক্তমনা বা অতিমুক্তমনার দোহায় দিয়ে বলছি না, আমি কেন সবারই এমন বলার কথা যেই সব মিসগাইডেড রাজাকার ৭১-এ ভুলের জন্যে কোনপ্রকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকার কারণে ক্ষমা পেয়েছে কিন্তু তারপর সে অনুতপ্ত হয়ে দেশের জন্যে অকাতরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় কাজ করেছে তাদের স্যালুট দিতে সমস্যা কোথায়?

        নিঝুম মজুমদার যদি অতি অমার্জনীয় অপরাধ করার পর আপনার কথা মতে কয়েক মাস নিশ্চুপ থেকে এখন অনুতপ্ত হয়ে সঠিক পথে ফিরে এসে এমন লিখা (লিখাটি পড়ে দেখবেন প্লিজ…) লিখতে পারে তবে তাকে ক্ষমা করে বাহবা দেয়ায় যায়…
        আমি জানতাম না বলে স্যালুট দিয়েছিঃ মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায় নাই!!
        আপনি উপরোক্ত মন্তব্যে স্পষ্টত আমার চরিত্র হননের চেষ্টা করেছেন, আমি অভিযোগটি করতে বাধ্য হলাম… ভাল থাকবেন…

  7. ব্যাক্তিগত ভাবে আমার ভাবনা
    ব্যাক্তিগত ভাবে আমার ভাবনা বলি। নিঝুম মজুমদার কে আমি খুব বেশি চিনিনা। তার সাথে যতদিন আমার কথা হয়েছে, শুধু তার চোখে একটিই ভাষাই পড়তে পেরেছি, বাংলা ভাষা। কিন্তু অনেকের চোখের ভাষায় স্বার্থ ছিলো তাদের নাম বলবোনা। আমার ভাবনা কতটুকু সত্য তা সময়ই বলে দেবে।

  8. লেখাটি ফেসবুকেই পড়েছিলাম।
    লেখাটি ফেসবুকেই পড়েছিলাম। উনার অতীত ইতিহাস জানি না। তবে লেখাটা খুব ভালো লেগেছে।

  9. মতের মিল না হলেই দেখছি এখন
    মতের মিল না হলেই দেখছি এখন একে অপরকে “মুক্তমনা” নিয়ে কটাক্ষ করা হচ্ছে। নিজুম মজুমদার সম্পর্কে অনেকেই জানে না। এমন কোন আহামরি মানুষ না যে সবাইইইইই তার সম্পর্কে জানবে। হতে পারে উনি ভণ্ড । কিন্তু যে জানে না সে যদি তার প্রশংসা করে তবে এর মানে এই না যে সে মুক্তচিন্তাকারী না।
    কারো ভুল হলে বলেন যে আপনি ভুল করছেন। কিন্তু যে জানেই না তাকে আক্রমণ করা হীনমন্যতার কাজ।
    কথায় কথায় এভাবে অহেতুক একে অপরকে আক্রমণ করা বড্ড ছেলেমানুষি!

    1. এই হচ্ছে আমাদের মানসিকতা…
      এই হচ্ছে আমাদের মানসিকতা… কিছুই করার নাই দায় মাথা পেতে নিলাম!
      আপনাকে আমার মনের কথা বলার জন্যে ধন্যবাদ।। আসলে আমাদের সাধারন মানুষরাও রাজনীতিকদের মত যখন যাদের অপছন্দ তাদের চরত্রহননে ব্যস্ত।।

    2. আক্রমণ একতরফা হয় না। মতের মিল
      আক্রমণ একতরফা হয় না। মতের মিল না হলে এখানে যারা নাকিকান্না কাঁদছেন তাঁরাও কি কি আচরণ করতে পারেন, কতোটা আগ্রাসি ভাষায় মন্তব্য করতে পারেন সেটার অভিজ্ঞতাও আছে। সো সাধু সাজার কিছু নাই। আর তারিক লিংকন, আপনি আমার শত্রু নন যে আপনার চরিত্র হননের প্রয়োজন হবে আমার। আশ্চর্য সব কথাবার্তা বলেন মাঝে মাঝে। বিরক্ত লাগে।

  10. ভাল একটা দিনে ভাল একটা পোস্ট
    ভাল একটা দিনে ভাল একটা পোস্ট পাইলাম। অনলাইনে ধূর্ত লোকেদের সিরিয়াল করা হলে নিঝুম মজুমদার প্রথম সারিতেই থাকবে। অনেককেই দেখলাম আবার উনার ভক্তিতে নুয়ে পড়ছে। এদিকে আজকেই নাকি তাকে আইসিএসএফ থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়ার খবরটা নিশ্চিত করেছে। :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

    1. হায়, হায়! কি বলেন? যে
      হায়, হায়! কি বলেন? যে আইসিএসএফ’র জন্য নিঝুম অনলাইনকে নোংরা করে দিল, সেই আইসিএসএফ তাকে বের করে দিল? একেই বলে যেমন কর্ম,তেমন ফল! স্বার্থবাজরা কোথাও জায়গা পায় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *