আমি কেন কোটা পদ্ধতির পক্ষে !!!

আমি কেন কোটা পদ্ধতির পক্ষে !!!
( কোটা নিয়ে একজন ব্লগারের লেখার প্রতি উত্তর হিসেবে এই লেখা )

আপনার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা । আমার সশ্রদ্ধ সালাম তাঁর প্রতি !!!

আপনার লেখার সাথে প্রায় সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করে আমার বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করছি, যদিও আমার বাবা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেননি –

আপনি লিখেছেন, ‘‘ এই কোটা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে শুরু হয়েছে কামড়া-কামড়ি। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে ব্যাপারটা আমার জন্য লজ্জাজনক। ’’


আমি কেন কোটা পদ্ধতির পক্ষে !!!
( কোটা নিয়ে একজন ব্লগারের লেখার প্রতি উত্তর হিসেবে এই লেখা )

আপনার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা । আমার সশ্রদ্ধ সালাম তাঁর প্রতি !!!

আপনার লেখার সাথে প্রায় সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করে আমার বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করছি, যদিও আমার বাবা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেননি –

আপনি লিখেছেন, ‘‘ এই কোটা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে শুরু হয়েছে কামড়া-কামড়ি। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে ব্যাপারটা আমার জন্য লজ্জাজনক। ’’

— ব্যাপারটা আপনার জন্য লজ্জাজনক কেন হবে ? আপনার তো গর্ব অনুভব করার কথা । আপনি লজ্জ্বার ভেতরে ডুবে আছেন কারণ আপনি বিশ্বাস করেন এই কোটা প্রথা অন্যায় । মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের মাথায় ব্রেইন নাই তাই এদের কোটার দরকার হয় । এসব কথা যারা বলে তারা কারা আমরা চিনি । এরা তখনো বলেছে ,
এখনো বলছে, ভবিষ্যতেও বলবে । তাই এদের কথায় আমি অন্তত বিচলিত বোধ করিনা ।

আপনি আরও লিখেছেন, ‘‘ ভোটের রাজনীতিতে সুবিধা পাওয়ার জন্য যারা এই বিতর্কিত কোটা পদ্ধতি প্রণয়ন করেছে তাদের মুখে আমি জুতা মারি। ’’

— আপনাকে কে বলেছে রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্য এই কোটা পদ্ধতি প্রনয়ন করা হয়েছে ? জুতা মারামারি করার আগে একটু চিন্তা ভাবনা করে নিলে কি ভালো হতোনা ভাই ?

আপনি লিখেছেন, ‘‘ একটা জিনিস বুঝলাম না কোটার মত একটা বিতর্কিত পদ্ধতি কে সাপোর্টকারীদের কিসের এত অহমিকা ???!!! ’’

— এটা অহমিকার বিষয় না । বিষয়টা ন্যায্যতার । আর এটা মোটেই বিতর্কিত পদ্ধতি না । চিন্তার দীনতার জন্য এরকম কারো কারো মনে হতে পারে ।

আপনি লিখেছেন, ‘‘ মুক্তিযদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা ভক্তি সবসময়-ই আমার আছে। যিনি মুক্তিযোদ্ধা তাকে দেশের সর্বোচ্চ ফ্যাসিলিটি দেয়া হউক। উনার সন্তানকে পড়াশুনা শেষ করা পর্যন্ত যতটুকু সুযোগ সুবিধা দরকার ততটুকু সরকার বহন করুক…। ’’

— এই বক্তব্যর মাধ্যমে উপরের কথার সাথে স্ববিরোধীতা করলেন । রাষ্ট্র তাই করার অঙ্গীকার করেছে । হাঁ, এটার প্রয়োগে স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতির ব্যাপার ঘটতে পারে । তা ঘটেছেও ।

আপনি আরও লিখেছেন, ‘‘ আপনারা কেন কোটার মত একটা সস্তা জিনিষকে পুজি করে অপবাদ নিয়ে সারা জীবন কাটিয়ে দিবেন ??? ’’

— এই কথা বলে আপনি মিস গাইড করছেন । আর এটা বাজারে পচে গলে যাওয়া উচ্ছিষ্ট আলু পটল না বা সস্তা কোন বিষয় না যে একে পুঁজি করে সারাজীবন কাটিয়ে দিতে হবে ।

আপনি শেষে বলেছেন, ‘‘ কোটা তাদের জন্যই প্রযোজ্য যাদের সমাজে চলার মত শক্তি থাকে না, স্কুল কলেজ এরা গ্রেইস পেয়ে পাস করা স্টুদেন্টদের মত। আপনারা হলেন দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ বাবার সন্তান। আপনাদের সাথে এই কোটার মত সস্তা বস্তাপচা জিনিস যায় না। ’’

— চরম অজ্ঞতার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে এই ধরণের কথা কেউ বলতে পারে । আপনাকে তেমন অজ্ঞ আমার মনে হয়নি । আসলে চলতি স্রোতে গা ভাসালে যা হয় । দোষ আপনার ও না । বিকৃত বা ভুল তথ্য, ইতিহাস এর বলি আপনি, আমি আমরা সবাই ।

এবার আমার কিছু মতামত স্বল্প পরিসরে তুলে ধরার চেষ্টা করবো । প্রথমত আমাদের কতোগুলো শব্দ এবং তার অর্থ নতুন করে একটু খোঁজার প্রয়াস নিতে হবে । আসুন তবে – ” সমতা ” , ” ন্যায্যতা ” , ” সাম্য ” , ” বৈষম্য ” এই শব্দগুলোর মানে খুঁজি । তার আগে চলুন একটু সংবিধান ঘুরে আসি ।

বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ এ বলা হয়েছে ‘‘ সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী । ’’ এবং

অনুচ্ছেদ ২৯ (৩)(ক) ” নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশ যাহাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করিতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে তাঁহাদের অনুকূলে বিশেষ বিধান-প্রণয়ন করা হইতে, রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না। ”

কী, দুটো অনুচ্ছেদ স্ববিরোধী মনে হচ্ছে ? এখানেই আমরা সমতা ও ন্যায্যতার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারবো । উদাহরণ দিচ্ছি – একজন ৫ বছরের শিশু এবং একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ কে সমানভাবে দুপুরের খাবার ভাগ করে দেওয়া হল । মানে শিশুটি কে যে পরিমান খাবার দেওয়া হল প্রাপ্ত বয়স্ক’কেও সেই একই পরিমান খাবার দেওয়া হল – এখানে সমতা বা সাম্য বিধান করা হল । কিন্তু আপনি বলেন ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা হল কি ? দুজন এর খাবারের চাহিদা নিশ্চয় সমান নয় ?

একারনেই অনুচ্ছেদ ২৯ (৩)(ক)’র দরকার হয়েছে ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্য । এ প্রসঙ্গে কার্ল মার্ক্স এর সমাজতন্ত্রের সেই মর্ম বানীর কথা মনে পড়ে গেলো , ” প্রত্যেক মানুষ তার সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রহণ করবে ” ।

বৈষম্য আমরা বলতে পারি তখনি যখন সমাজের সুবিধাভোগী শ্রেণী তথা ক্যাপিটালিসট’ রা অন্যায়ভাবে সমাজের অসহায়, গরীব, নিরন্ন মানুষ’কে শোষণ করে তাদের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত । আর সাম্য অবস্থা তখনি হবে যখন সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাজ তার নাগরিক এর সুযোগ – সুবিধা বা দাবী – দাওয়ার প্রয়োজন মেটাবে ।

সংবিধানে ওই কোটা পদ্ধতির বিধানটি প্রকারন্তরে একারনেই প্রনয়ন করতে বলেছে যাতে এদেশকে যারা নিজের প্রাণ বিপন্ন জেনেও দেশ – মাতৃকা কে হায়েনার কবল থেকে মুক্ত করার জন্য মরণপণ যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল, যারা শহীদ হয়েছে, যারা ঘর – বাড়ি – সম্পদ হারিয়ে পথে বসে গিয়েছিলো, যাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি যুদ্ধে প্রাণ উৎসর্গ করছিল – এরকম হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং তাদের প্রজন্মকে অর্থাৎ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মেইন ইষ্টট্রিমে তুলে আনার জন্য এই ব্যবস্থা । কারণ এই মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের ক্ষতির পরিমান অপিরমেয় । এই পিছিয়ে পড়া জন গোষ্ঠীকে অতিরিক্ত প্রণোদনা দিয়ে তুলে না আনতে পারলে বরং বৈষম্য করা হবে এবং ন্যায্যতা লংঘন করা হবে । আর এটা তো সত্য একজন মুক্তিযোদ্ধার প্রকৃত সন্তান হিসেবে সে তার পিতার গৌরবোজ্জ্বল উত্তরাধিকার বহন করে এবং সরকারের নীতি নির্ধারণে সে নিশ্চয়ই গোলাম আজম বা মোযাহিদীর ছেলের চেয়ে সত্যিকারের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে ।

আর একটা কথা, একটা রাষ্ট্র যে কিনা ৩০ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীন হল সেই রাষ্ট্রে এমন বিধানই তো স্বাভাবিক । তারমানে এই না এই ব্যবস্থা অনন্তকাল ধরে চলবে । এটি একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা । কোনএক বিখ্যাত রাজনীতিবিদকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, আপনি রাজনীতি কেন করেন ? তিনি উত্তরে বলেছিলেন, একারনেই যাতে রাজনীতি আর করতে না হয় ।

আপনার এবং আপনার মতো অসংখ্য দেশ প্রেমিক তরুণ তরুণী এবং যারা শাহাবাগে কোটা পদ্ধতির বিলোপের জন্য রাজপথে নেমেছেন সবার আবেগের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি – যে দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ঘুষ ইত্যাদি বাসা বেঁধেছে সেই দেশে অনেক ভালো কিছুও আমাদের ক্ষোভ বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ায় । ব্যক্তিগত লাভ – ক্ষতির হিসেবটা তখন বড্ড প্রিয় হয়ে পড়ে । আমরা ভুলে যাই আমাদের ইতিহাস । আমাদের শেকড় ।

——————————————————————————– ১১ জুলাই’ ১৩

২০ thoughts on “আমি কেন কোটা পদ্ধতির পক্ষে !!!

  1. খুবই যুক্তিযুক্ত কথাই বলেছেন
    খুবই যুক্তিযুক্ত কথাই বলেছেন ।আমি বা আমরা কোটা পদ্ধতির পুরোপুরি বিলোপ চাইনা ।এই কোটা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকা উচিৎ।এবং এর শতকরা ভাগ ৩০% থেকে কমিয়ে ৫/৭% করা প্রয়োজন ।

    1. মুক্তিযোদ্ধা কোটা শতকরা কতভাগ
      মুক্তিযোদ্ধা কোটা শতকরা কতভাগ থাকবে এবং আর কতবছর থাকবে এই নিয়ে আলোচনা অবশ্যই হতে পারে কিন্তু এখনই কোটা বিলোপ করে দিতে হবে এর পক্ষে আমি নই ।

  2. ভাল কথাই লিখেছেন।কিন্তু সাহিন
    ভাল কথাই লিখেছেন।কিন্তু সাহিন ভাইয়ের মত বলব কোটার পরিমান ৩০%থেকে কমিয়ে ১০% করা হোক।কারন ৭১এ অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা করতে পারেন নি।তাই বলে কি তাদের সন্তান ৮০পারসেন্ট নাম্বার পেয়েও চান্স পাবেনা?

    1. কোটা কতো শতাংশ থাকবে এই নিয়ে
      কোটা কতো শতাংশ থাকবে এই নিয়ে আলোচনা হতে পারে এবং প্রয়োজনে শতাংশ কমানো বা বাড়ানো যেতে পারে ।

  3. আমার লেখার পেছনে অনেক খানি
    আমার লেখার পেছনে অনেক খানি সময় ব্যয় করেছেন বলে আমি কৃতজ্ঞ।
    রাহাত ভাই, আমার দুঃখটা কি জানেন? বাঙ্গালী সব কিছুতেই গু মাখায় ফেলে। আমি জানি কোটা পদ্ধতির ভাল দিক যেমন আছে, খারাপ দিকও তেমনি আছে। কিভাবে খারাপ দিকগুলো দূর করা যায় সেটা না ভেবে আমরা মুক্তিযোদ্ধা আর তাদের পরিবারকে অসম্মান করা শুরু করেছি। এটা তো ভাই ঠিক না। আপনি করেন নি, কিন্তু কেউ না কেউ তো করেছে!
    আর কেবল মুক্তিযোদ্ধা বলে নয় আমার বাবার জন্য আমি গর্ব অনুভব করি কারণ এই বয়সেও তিনি একজন খাঁটি দেশ প্রেমিক। তাকে নিয়ে আমার সামনে কেউ কিছু বললে নির্ঘাত খারাপ কিছু হয়ে যেতে পারে। ওই সব ধানাই পানাই বোঝানোর মধ্যে আমি নাই।
    আপনার দীর্ঘ লেখায় আপনি আমার লেখার বা আমার চিন্তা ভাবনার কিছু খুঁত তুলে ধরেছেন। আপনাকে সেজন্য ধন্যবাদ।
    এটা নিশ্চিত যে আমাদের দেখতে হবে মুক্তিযোদ্ধা কোটা আসলে যাদের জন্য প্রযোজ্য তারা সুবিধাটা পাচ্ছে কিনা।
    তবে মুক্তিযোদ্ধা কোটা কিভাবে আরো গ্রহণযোগ্য আর জনকল্যাণমুখী করে তোলা যায় সে ব্যাপারে কিছু লিখলে খুশী হতাম।

    1. নাভিদ কায়সার রায়ান ভাই ,
      নাভিদ কায়সার রায়ান ভাই , কোটা কখনো কারও জন্য এমনকি সরকারের জন্য ও আনন্দের ব্যাপার না । এবং কোটা কখনো স্থায়ী বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা হতে পারেনা, হওয়া উচিৎ ও না । কোটা কে কীভাবে গ্রহণ যোগ্য করা সে ব্যাপারে লেখার ইচ্ছে রইলো ।

      এটা নিশ্চিত যে আমাদের দেখতে হবে মুক্তিযোদ্ধা কোটা আসলে যাদের জন্য প্রযোজ্য তারা সুবিধাটা পাচ্ছে কিনা।

      — আপনার এই কথার সাথে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করি । আর আপনি ঠিকই বলেছেন শুধু মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এই কারণেই আজীবন কেউ শ্রদ্ধার আসনে থাকবেন এটা বলতে পারিনা । কারণ, অনেক প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা পরবর্তীতে চরম সাম্প্রদায়িক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন । একজন বীর উত্তম কাদের সিদ্দীকি ( বঙ্গবীর বলতে ইচ্ছে করলো না ) তার জ্বলন্ত উদাহরণ ।
      — আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই একারণে যে, আপনার লেখাটা আমার পড়া না হলে আমারও হয়তো এ বিষয়ে লেখা হতোনা ।

  4. আমি মুক্তিযোদ্ধাদের এবং
    আমি মুক্তিযোদ্ধাদের এবং তাঁদের সন্তানদের কোটার বিরোধিতা করছি না। কিন্তু বর্তমানে যা হচ্ছে সেটা মেনে নেওয়া যায় না। এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের একটা বিরাট অংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। যেই মুক্তিযোদ্ধা এখন বড় রাজনীতিবিদ, যেই মুক্তিযোদ্ধা এখন বড় ব্যবসায়ী, যেই মুক্তিযোদ্ধা এখন বড় চাকরী করে অবসরে গিয়েছেন এবং উনাদের সন্তারেরা দেশের বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করেছেন তাদের জন্য কোটার কি খুব প্রয়োজন আছে? উনারা কি সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশ? উনারা কি দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা। যদি কোটা দিয়েই দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের কষ্ট দূর করে সম্মানিত করা যেতো তাহলে আজ একজন মুক্তিযোদ্ধাকে জীবন যুদ্ধে পরাজিত হয়ে আত্মহত্যা করতে হতোনা। হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের সন্তানদের রিক্সা চালিয়ে কিংবা ভিক্ষাবৃত্তি করে মানবেতর জীবন যাপন করতে হতো না। কোটা যদি রাখতেই হয় সেখানে নিশ্চিত করতে হবে যিনি ঐ কোটার জন্য এপ্লাই করছেন তিনি আসলেই দুঃস্থ পরিবারের সন্তান কিনা? সেটা তার পিতার চাকুরী বা ব্যবসার বা পেশার ধরন এবং পারিবারিক আয় এবং কোথায় পড়ালেখা করেছেন এইসব তথ্য থেকেই বের করা সম্ভব। এভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানানো হয় না। বরং রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা যায়। আর যারা প্রকৃতই দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা তাদের অবস্থার কোন পরিবর্তন হয় না। আবেগের সাথে কিছুটা বাস্তবতা না মেলালে আমরা বরং ভুলই করব।
    অনেককেই দেখছি শাহবাগে আন্দোলনকারীদের সম্পর্কে নানান কথা ছড়াচ্ছেন। আপনাকে তো শাহবাগে যেতে কেউ বাঁধা দিচ্ছে না। গিয়ে নিজে দেখে আসুন আসলেই সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বাজে কোন স্লোগান দিচ্ছে কিনা। দিলে চড় দিয়ে দাঁত ফেলে দিয়ে আসুন যদি আসলেই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আপনার মন থেকে সম্মান থাকে। রাহাত ভাই, আমরা খুব সহজেই অন্যদের কথায় প্রভাবিত হই। ফলে বিভক্তিই বাড়ছে। লক্ষ লক্ষ তরুণের মাঝে অযথা ক্ষোভ জন্ম দিয়ে আপনি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে নিতে পারবেন না। অন্ধ আওয়ামী সাপোর্টারদের মতো সবখানে সন্দেহের ধোঁয়া দেখা শুরু করলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই হবে বেশী। একবার ভেবে দেখুন তো, জামাত-শিবির যখন শাহবাগের আন্দোলনকে নাস্তিকদের আন্দোলন বলে প্রোপাগান্ডা চালানো শুরু করে এর মূল স্পিরিটকে নষ্ট করা শুরু করেছিলো তখন আমাদের কেমন লেগেছিল। ঠিক একই কাজ করছে কিছু অন্ধ আওয়ামী ভক্ত। তারা আজকের শাহবাগের এই আন্দোলনকে ছাগুদের আন্দোলন বলে চালানোর চেষ্টা করছেন। আমি অস্বীকার করিনা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু ছাগু সেখানে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করবেই। তাদের জন্য আপনি পুরো আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারেন না (যদিও আপনি সেটা করেননি, কিন্তু অনেকেই করছেন দেখে এই কথাগুলো বললাম)। এভাবে বিভক্তিই বাড়ে। কোটা ব্যবস্থার সংস্কার এখন সময়ের দাবী। কারন এর মাধ্যমে সুবিধাবাদীরাই মূলত সুবিধা নিচ্ছে, নিক তাতেও আমার আপত্তি নাই। কিন্তু একই সাথে তরুণ প্রজন্মের একটা বিরাট অংশের মধ্যে ক্ষোভ জন্মাচ্ছে যখন সে দেখছে সে ৮০% নাম্বার পেয়েও চাকরী পাচ্ছে না, অথচ সামাজিক বা অর্থনৈতিক ভাবে একই পরিবেশে বেড়ে ওঠা তার চেয়েও কম মেধাসম্পন্ন কেউ ৬০% নাম্বার পেয়েও চাকরী পেয়ে যাচ্ছে। আবার উপজাতি কোটা নিয়েও কথা আছে। উপজাতিদের অনেকেই চাকরী বা পেশার সূত্রে ঢাকা চিটাগং এর মতো বড় বড় শহরে থাকছেন, তাদের সন্তারেরা ঢাকা চিতাগং এর ভালো ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ে বিসিএস পরীক্ষায় বসছে। তাহলে তার জন্য কেন কোটা? যেই ছেলেটা বা মেয়েটা আসলেই উপজাতিয় এলাকায় থেকে অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে শিক্ষা জীবন পার করেছে তাদের জন্যই কি কোটা জাস্টিফায়েড না? অথচ গড়ে সবাই এর সুবিধা কেন নেবে? এইসব প্রশ্ন উঠত না যদি দেশে পর্যাপ্ত চাকরী প্রাপ্তির সুবিধা থাকত। কিন্তু চাকরীর এই আকালের যুগে এইসব সুবিধাবাদিতা বঞ্চিতদের মনে ক্ষোভ তৈরি করবেই। নারী কোটার ক্ষেত্রেও আমার একই কথা। যেইসব মেয়েরা একেবারে গ্রাম থেকে পড়ালেখা করে উঠে এসেছে নারী কোটা শুধু তাদের জন্যই সংরক্ষিত রাখা উচিৎ। আরেকটা বিষয়, ২৭,২৮,২৯,৩০তম বিসিএসএ কোটা পূরণ না হওয়ায়, অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান না পাওয়ায় পদ শুন্য রাখা হয়েছে। এটাও কিন্তু ঠিক না। কারন অনেকেরই চাকরীর আবেদনের বয়স পার হয়ে যায়। যোগ্য প্রার্থী কোটা পূরণ করতে না পারলে, সেখানে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে সমস্যা কোথায়? এইসব ব্যাপারগুলো মাথায় রেখেই এই সমস্যার উত্তরণ করতে হবে। শুধুমাত্র আবেগ দিয়ে সবকিছুর বিচার করলে ভুল হয়ে যাবে। আমাকে প্লীজ মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধ পক্ষের কেউ ভাববেন না। তাহলে কষ্ট পাওয়া ছাড়া কিছুই করার থাকবে না। একটা উদাহরণ দেই, গত সপ্তাহেই আমার কাছে একজন মুক্তিযোদ্ধা এসেছিলেন তার মেয়ের বিভিন্ন সার্টিফিকেট সত্যায়িত করানোর জন্য। এলাকার মানুষের মতোই তিনিও আমাকে স্যার সম্বোধন করছিলেন। আমি উঠে গিয়ে উনার পায়ে সালাম করে বললাম- আপনি জাতির সেরা সন্তানদের একজন। আপনি প্রাণ হাতে নিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন বলেই আজ আমি এই চেয়ারে বসতে পেরেছি। তাই আমাকে স্যার বলে লজ্জা দেবেন না। আমাকে আপনার আরেকজন সন্তান ভাবলেই আমি গর্বিত বোধ করব। এটা শুনে উনি আমায় বুকে জড়িয়ে ধরে অনেক দোয়া করলেন। এটাও বললেন অনেক অনেক হতাশা আর ক্ষোভের মাঝে এইরকম সম্মান পাই বলেই আজও বেঁচে থাকার প্রেরণা পাই। স্যরি, ধান ভানতে শিবের গীত শুরু করলাম। শুধু একটাই আব্দার- সবকিছুকে আবেগ দিয়ে বিচার করতে গেলে আমরা ভুল করব।

    1. যেই মুক্তিযোদ্ধা এখন বড়

      যেই মুক্তিযোদ্ধা এখন বড় রাজনীতিবিদ, যেই মুক্তিযোদ্ধা এখন বড় ব্যবসায়ী, যেই মুক্তিযোদ্ধা এখন বড় চাকরী করে অবসরে গিয়েছেন এবং উনাদের সন্তারেরা দেশের বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করেছেন তাদের জন্য কোটার কি খুব প্রয়োজন আছে?

      — একদম প্রয়োজন নেই । সহমত ।

      কোটা যদি রাখতেই হয় সেখানে নিশ্চিত করতে হবে যিনি ঐ কোটার জন্য এপ্লাই করছেন তিনি আসলেই দুঃস্থ পরিবারের সন্তান কিনা? সেটা তার পিতার চাকুরী বা ব্যবসার বা পেশার ধরন এবং পারিবারিক আয় এবং কোথায় পড়ালেখা করেছেন এইসব তথ্য থেকেই বের করা সম্ভব।

      — এবং সেই সাথে পিছিয়ে পড়াদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত মেধা সম্পন্ন তাদের কে বেছে নিতে হবে ।

      রাহাত ভাই, আমরা খুব সহজেই অন্যদের কথায় প্রভাবিত হই। ফলে বিভক্তিই বাড়ছে। লক্ষ লক্ষ তরুণের মাঝে অযথা ক্ষোভ জন্ম দিয়ে আপনি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে নিতে পারবেন না। অন্ধ আওয়ামী সাপোর্টারদের মতো সবখানে সন্দেহের ধোঁয়া দেখা শুরু করলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই হবে বেশী।

      — আমি তাদের ক্ষোভের বিষয়টা বিলক্ষণ বুঝতে পারছি । তবে আবারো বলছি ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য কোটার মহান তাৎপর্য সম্পর্কে ভুলে বসলে চলবে না । আমার দুঃখের মূল জায়গাটা হল কোটা কেন রাষ্ট্রের প্রয়োজন ছিল এবং কেন আজো প্রয়োজনীয়তা থাকতে পারে এই উপলব্ধি সেই লক্ষ লক্ষ তরুণ – তরুণীর হারিয়ে গেছে বা হারিয়ে ফেলেছে । আত্মকেন্দ্রিকতা এবং স্বার্থপরতা আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে । আমি কোন কালেই আওয়ামীলীগ এর সাপোর্ট টার ছিলাম না । সেই সম্ভাবনাও দেখছিনা ।

      কোটা ব্যবস্থার সংস্কার এখন সময়ের দাবী। কারন এর মাধ্যমে সুবিধাবাদীরাই মূলত সুবিধা নিচ্ছে, নিক তাতেও আমার আপত্তি নাই। কিন্তু একই সাথে তরুণ প্রজন্মের একটা বিরাট অংশের মধ্যে ক্ষোভ জন্মাচ্ছে যখন সে দেখছে সে ৮০% নাম্বার পেয়েও চাকরী পাচ্ছে না, অথচ সামাজিক বা অর্থনৈতিক ভাবে একই পরিবেশে বেড়ে ওঠা তার চেয়েও কম মেধাসম্পন্ন কেউ ৬০% নাম্বার পেয়েও চাকরী পেয়ে যাচ্ছে।

      — আমিও সংস্কারের পক্ষে । কারণ সময়ের সাথে সাথে যৌক্তিক পরিবর্তন হওয়াটাই সাভাবিক । আমার লেখায় আমি শুধু বলতে চেয়েছি কেন কোটা পদ্ধতি রাখা হয়েছিল এবং কেন এটা রাখা যুক্তিসংগত । আমি কোথাও বলিনি যেভাবে ছিল সেভাবেই রাখতে হবে । মেধা সম্পর্কে কিছু বলতে চাইনা কারণ মেধা নির্ণয়ের মানদণ্ড এ দেশে চরম মেধাহীন । তবে যে ছেলেটি বা মেয়েটি প্রিলি এবং রিটেনে একটা যুক্তিসংগত মার্কস পেল সেইসব পিছিয়ে পড়াদের অবশ্যই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনায় আনতে হবে । আতিক ভাই, আমরা একটা কথা ভুলে যাই, এই পিছিয়ে পড়ারা কিন্তু তাদের দোষে পিছিয়ে থাকছে না । এবং তাদের শুরুটাই হয় অনেক কদম পেছনে থেকে, তো এরা তো সর্বচ্চ স্তরে গিয়েও পিছিয়েই থাকবে । এটাই তো লজিক্যাল – নাকি ভুল বললাম । ব্যাপারটা অনেকটা হাত – পা বেধে সাঁতার কাটতে দেওয়ার মতো । আর তাই, এই পিছিয়ে পড়াদের প্রতিযোগিতা হতে হবে অন্যান্য পিছিয়ে পড়াদের সাথে । তবে হাঁ, সরকারের নীতি নির্ধারনী পজিশনে যেহেতু সে যাবে প্রথম তার নুন্নতম ( অভ্রর কারণে বানান টা ঠিক ভাবে লিখতে পারলাম না ) মেধা যাচাই করে পরবর্তীতে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে তাকে তৈরি করে নিতে হবে । আর নাম্বার এর ব্যাপারে বলব কীভাবে আপনি মেজার করছেন কম নাম্বার পেয়েছে একারনে সে কম মেধাবী ? গরপরতা সবাই এই সুবিধা ভোগ করুক এটা কোনোভাবেই হতে পারেনা । কারণ, কোটা কোন যাকাতের বা রিলিফের কাপড় না যে বিলানো হবে ।

      আমি শেষ করার আগে আবারো বলছি, কেবলমাত্র সুবিধাবঞ্চিত , অসহায়, দরিদ্র কিন্তু মেধাবী মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের জন্যই রাখা হোক এই কোটা পদ্ধতি । তবে অবশ্যই তা হবে ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিসংগত । আর সংখ্যাগুরুদের (আমরা যারা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান না ) উপলব্ধি করতে হবে সংখ্যা লঘু ( মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ) দেরকে সামনে এগিয়ে নিয়ে আসার দায়িত্ব আমাদের । এই দাবী আপনাদের মানে সংখ্যা গুরুদের চেতনার কাছে ।

  5. আমরা অদ্ভুত জাতি। বাহ! বেশ তো
    আমরা অদ্ভুত জাতি। বাহ! বেশ তো চলছে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি যে বাংলাদেশের ভর্তি ব্যাবস্থায় প্রতিবন্দী কোটা ছাড়া আর কোন কোটা থাকা উচিত বলে মনে করিনা। দ্যাটস ইট।

    1. আপনার মত প্রকাশের স্বাধীনতায়
      আপনার মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি । কিন্তু আপনার উপরের মতের সাথে একমত হতে পারলাম না । দুঃখিত !

  6. মুক্তিযোদ্ধা কোটা আর
    মুক্তিযোদ্ধা কোটা আর প্রতিবন্ধী কোটা বহাল থাকুক, অন্য কোটা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে দেখা যায়।

    1. হুম – চিন্তা ভাবনার বড্ড অভাব
      হুম – চিন্তা ভাবনার বড্ড অভাব এ দেশে । যতোটুকু বা চিন্তা করা হয় বলে শুনি তাও আসলে অচিন্তা , কুচিন্তা বা দুশ্চিন্তা । শুচিন্তা করার লোকের বড্ড আকাল এ দেশে ।

  7. ১) মুক্তিযুদ্ধা কোটা
    ১) মুক্তিযুদ্ধা কোটা ২০২০-২০২৫ পর্যন্ত থাকতে পারে অথবা স্বীকৃত কোন মুক্তিযুদ্ধার শেষ সন্তান পর্যন্ত। তা কোন অবস্থাতেই মুক্তিযুদ্ধার সন্তান ব্যতিরিকে অন্য কেউ পাওয়া উচিৎ না, বলতে চাচ্ছি সন্তানের পরবর্তী প্রজন্মের কেউ!
    ২) যতদিন দেশে উপজাতিদের ও পার্বত্য চট্টগ্রামে আমরা সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থা ও সুবিধা দিতে পারব না ততদিন কোটা সিস্টেম থাকতে হবে বা রাখতে হবে…
    ৩) আর প্রতিবন্ধী কোটাতো সবসময় থাকতে হবে…
    ৪) বরং আরও কিছুদিন দেশে নারী কোটাও রাখা যেতে পারে তাদেরকে তেতুল (সমাজের একাংশের মনভাবের) থেকে মানুষ করার জন্যে…

    মুস্তাফিজ ভাই চমৎকার বলেছেন আপনার সাথে একমত পোষণ করছি… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. হুম – চমৎকার ব্রেক ডাউন করে
      হুম – চমৎকার ব্রেক ডাউন করে দেখালেন তারিক ভাই । পরের প্রজন্মের এই অধিকার পাওয়া উচিৎ কিনা এ নিয়ে আমি কিছুটা দ্বিধা – দ্বন্দ্ব’র মাঝে আছি । আরও চিন্তা – ভাবনা করার অবকাশ আছে এই পয়েন্ট এ । আপনার সুন্দর আলোচনার জন্য ধন্যবাদ !

      আর হাঁ, আমার নামের প্রথম অংশটা শুনতে আমার বেশি ভালো লাগে । পরের অংশটা ( মুস্তাফিজ ) অলংকার । সার্টিফিকেট এর বাইরে এই নামটি আমি নিজে রেখেছি ৯৯ সালে । নিক নেম এবং সার্টিফিকেট নেম সমন্বয় করে । 😀

  8. এই টপিকে আমি নিরপেক্ষ কারণ
    এই টপিকে আমি নিরপেক্ষ কারণ যারা বাতিলের পক্ষে তাদের ও যুক্তি ঠিক ., আবার যারা রাখার পক্ষে তাদের ও যুক্তি ঠিক .।

    কিছু কথা বলতে চাই .,

    এখন আমাদের যে একটা পরিস্থিতি এখন যদি এই মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল হয় তা অনেকটা মুক্তিযোদ্ধাদের হার বলে হয়ত বিবেচিত হবে .।
    আমাদের দেশের অনেকেই এর সুযোগ নিবেন .।

    আবার এই কোটা রাখার মাধ্যমে তরুন প্রজন্মের মধ্য মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হবে .। তা ও আমাদের হার !

    তাহলে করব টা কি? এটাই প্রশ্ন .।

    1. দুরন্ত জয় , যুক্তিতেই মুক্তি
      দুরন্ত জয় , যুক্তিতেই মুক্তি । তবে আল্লামা শফী ‘রাও যুক্তি দেয় । সেগুলোকে আমরা বলি কুযুক্তি । আপনার কমেন্ট পড়ে মনে হল আপনি এর পক্ষে আছেন এই কারণে যে, এটি না থাকলে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তির হার হবে এই বিবেচনায় । আপনি বিশ্বাস ই করেন না মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি । কিছু বলার নেই । এই নিয়ে উপরে যথেষ্ট আলোচনা ইতোমধ্যে হয়ে গেছে ।

      তরুণ প্রজন্ম’ কে দোষ দেইনা । এই প্রজন্ম তো মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছে । আমিও সেই পরিবারের একজন । তাই মধ্যবিত্তের টানাপোড়ন কিছুটা আমিও জানি । আমিও ইতিহাসের মিথ্যে, বিকৃতি ছেনে এসেছি । আমাকে বলা হয়েছে সত্য ও মিথ্যে, ভালো এবং মন্দ হল এই । আমি বিশ্বাস স্থাপন করেছি । কিন্তু হাঁয়, সত্য ছিল দেখা – নাদেখা, অস্তিত্ব – অনস্তিত্বর সীমানার বাইরে । আমাদের আরাম প্রিয় আপাত সন্তুষ্ট দৃষ্টি তাতেই খুশি হয়েছে । তাতে সত্য মিথ্যে হয়ে যায়নি ।

  9. আর আপনার সম্পূর্ন পোস্ট টা
    আর আপনার সম্পূর্ন পোস্ট টা আরেক জনের পোস্টের প্রতি উত্তর এবং আপনার মন্তব্য (যা আপনি উল্ল্যেখ করেছেন )
    এটা ঐ পোস্টের মন্তব্য হতে পারত .। আলাদা পোস্ট লেখার প্রয়োজন হয়ত ছিল না!

    1. আলাদা পোস্ট লেখার প্রয়োজন হয়ত

      আলাদা পোস্ট লেখার প্রয়োজন হয়ত ছিল না!

      — আপনাকে ধন্যবাদ । হাঁ, আমিও প্রথমে ভেবেছি । ভেবে এই সিদ্ধান্ত পৌঁছেছি যে, এই পোস্ট টি অবশ্যই আলাদাভাবে করা উচিৎ । এটা আরেক বন্ধুর পোস্ট এর মন্তব্য হিসেবে লেখা হলেও লেখাটি আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে সমসাময়িকতার কারণে । এবং আমি চেয়েছি এই বিষয়ে যে আমার অবস্থান সঙ্গত কারণে পক্ষে সেটা আরও বেশি মানুষ জানুক এবং তারা তাদের মতামত শেয়ার করুক ।

      আমি আনন্দের সাথে জানাতে চাই আমার উদ্দেশ্য এখন পর্যন্ত সফল । এই লেখাটি ব্লগে এবং আমার ফেইস বুকে অনেকেই পড়েছে। এবং অনেকে সরল ও তির্যক বাণে আমাকে বিদ্ধ করেছে । আশা রাখি আপনার মাধ্যমে অন্যদের কেও বিষয়টা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *