প্রসঙ্গঃ মুক্তিযোদ্ধা কোটা

এই সব আঁতেল মার্কা সাবজেক্ট নিয়ে কথা বলতে আমার কখনোই ভাল লাগে না। কারণ দুই-এক লাইন লিখলেই সবাই আমার বিদ্যার দৌড় বুঝে যায়। বুদ্ধিজীবীরা তখন আমার প্যান্ট ধরে টানাটানি শুরু করে। নানা রকম প্রশ্ন ছুটে আসে চারপাশ থেকে। যেসব প্রশ্নের বেশিরভাগেরই উত্তর আমার জানা নেই। তাছাড়া আন্দাজের উপরে কথা বলাটাও আমার অভ্যাস না। কিন্তু কি করবো, আড্ডাবাজী আমার রক্তে মিশে আছে। হোক সেটা ব্লগে বা চায়ের টেবিলে। আমি নাহয় প্রসঙ্গটা ধরিয়ে দিলাম। খারাপ কি?

এই সব আঁতেল মার্কা সাবজেক্ট নিয়ে কথা বলতে আমার কখনোই ভাল লাগে না। কারণ দুই-এক লাইন লিখলেই সবাই আমার বিদ্যার দৌড় বুঝে যায়। বুদ্ধিজীবীরা তখন আমার প্যান্ট ধরে টানাটানি শুরু করে। নানা রকম প্রশ্ন ছুটে আসে চারপাশ থেকে। যেসব প্রশ্নের বেশিরভাগেরই উত্তর আমার জানা নেই। তাছাড়া আন্দাজের উপরে কথা বলাটাও আমার অভ্যাস না। কিন্তু কি করবো, আড্ডাবাজী আমার রক্তে মিশে আছে। হোক সেটা ব্লগে বা চায়ের টেবিলে। আমি নাহয় প্রসঙ্গটা ধরিয়ে দিলাম। খারাপ কি?
এ দেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। গরীব দেশের এই বীর সন্তানেরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার সময় তাদের জীবনের বিনিময়ে শুধু চেয়েছিলেন একটি নতুন পতাকা। কোন খেতাব বা আর্থিক সুবিধা পাওয়ার আশা তাদের ছিল না। কারণ দেশের অবস্থাই তখন বেহাল। টাকা নাই, পয়সা নাই, চারদিকে হাহাকার।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অনেক কিছু বদলেছে। আমরা জাতি হিসেবে চেষ্টা করেছি এই বীর সন্তানদের প্রাপ্য সম্মানটা দিতে। (যদিও আমার মনে হয়না সেক্ষেত্রে আমরা বিন্দু মাত্র সফল হয়েছি!কেন? সেটা নিয়ে আরেকদিন আলাপ করবো।) খেতাবের ব্যবস্থা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের জাতীয় ভাবে সম্মানিত করার জন্য নানান আয়োজন করা হয়েছে। এমনিতেই আমরা গরীব। তারপরও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভাতার পরিমাণ খুবই সামান্য। প্রতিমাসে পাঁচ শত টাকা মাত্র। তাও আবার সবার জন্য না। যাদের বার্ষিক আয় ১২০০০ টাকার উপর তাদের জন্য। এই লেখার শেষে কিছু তথ্য পাবেন।
যে তথ্যটা এখানে পাবেন না সেটা হল, চুরি-বাটপারি-দুই নাম্বারি এখানেও চালু আছে।
পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা বা তাদের সন্তানদের জন্য বিশেষ সুবিধা হিসেবে “কোটা” পদ্ধতি চালু হয়েছে। জীবনে যারা বেকারত্বের অভিশাপে পড়েছে একমাত্র তারাই জানে চাকরী কি জিনিষ। আর সেখানে সরকারি চাকরী? এখন যে অবস্থা, বেকারদের জন্য সরকারি চাকরী ঠিক সোনার হরিণের পর্যায়ে নেই। এটা এখন প্লাটিনামের হরিণ হয়ে গেছে। সেই প্লাটিনামের হরিণ নিয়ে শুরু হয়েছে ছিনিমিনি খেলা।
এই কোটা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে শুরু হয়েছে কামড়া-কামড়ি। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে ব্যাপারটা আমার জন্য লজ্জাজনক। কারণ অনেকে তাচ্ছিল্যের স্বরে বলে বসছে, “ শালা তো, মুক্তিযোদ্ধার কোটাধারী। মাথায় ব্রেইন বলে কিছু নাই। হুদাই সরকারি সুবিধা পায়।” অন্যদিকে যারা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, তারা নিজের সম্মান বাঁচাতে গর্জে উঠে বলছে “যুদ্ধের সময় চোরের মত পালিয়ে গিয়েছিল আর এখন মুখে বড় বড় কথা!”
যারা আমার মত বেকুব তারা এই দুই দলের কথাতেই অকাট্য যুক্তি খুঁজে পাই। কি করব, না করব ঠিক বুঝে উঠতে পারি না।
নিজের মেধা সম্পর্কে আমার কোন সন্দেহ নেই। আর লোকজনের ফালতু কথায় কান দেয়ার সময় আমার নেই। তারপরও তাচ্ছিল্যের সুরে বলা কথাগুলো শুনে গা টা জ্বলতে থাকে।
মনে পড়ল পড়ালেখা শেষ করার পর একটা সরকারী চাকরীর পাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। প্রশ্ন সহজ ছিল। সামান্য প্রিপারেশনেই রিটেনে টিকে গেলাম। ভাইভা দেয়ার মাস খানেক পর জানতে পারলাম, আমার Department থেকে যে দুজন টিকেছে তাদের মধ্যে আমি একজন। আব্বা-আম্মা খুব খুশী। আমিও চান্সে কয়দিন খুব ভাব নিয়ে ঘুরলাম।
কিন্তু আমি শেষ পর্যন্ত আর সেখানে জয়েন করিনি। কারণ সহকারী প্রকৌশলী পোস্টে বেতন খুব কম। এতো ফকিন্নি মার্কা বেতনে আমার চলবে না। আর ঘুষ টুষ খাওয়া আমাকে দিয়ে হবে না। তাছাড়া পোস্টিং ও নাকি হবে ঢাকার বাইরে। মাত্র ইউনিভার্সিটি থেকে বেরিয়েছি। গায়ে তখন জোসই আলাদা। ঢাকায় এতো ফুর্তি রেখে আমি যাবো ঢাকার বাইরে? অসম্ভব! অতএব, সরকারী চাকরী করা আমার হল না।
বিলিভ মি ওর নট, আমি তখনও জানতাম না আব্বার মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট আছে। জেনেছি অনেক পরে। সেটা ব্যাবহার করার আর কোন প্রয়োজন পড়েনি।
কিন্তু কোটা প্রসঙ্গে কেউ যদি বলে “মুক্তিযোদ্ধাদের এতো সুবিধা দেয়ার কি আছে?”
তখন সত্যিই আমার গায়ে খুব লাগে। মনে হয় আমার বোকাসোকা বাপটা কি এসব শোনার জন্য যুদ্ধে গিয়েছিল? কি দিয়েছে এই দেশ তাকে?
ভোটের রাজনীতিতে সুবিধা পাওয়ার জন্য যারা এই বিতর্কিত কোটা পদ্ধতি প্রণয়ন করেছে তাদের মুখে আমি জুতা মারি।
যে কোন সরকারী চাকরিতে নিয়োগ হোক মেধার ভিত্তিতে এই দাবি করি।

আমার এক ছোট ভাই আরেফিন অল্প কথায় খুব সুন্দর করে একই প্রসঙ্গে কিছু কথা লিখেছে। আপনাদের সাথে সেটা শেয়ার করলাম-

আমরা এমন একটা জাতীয় সংসদ দেখতে চাই যেখানে ৫৫% সংসদ সদস্য কোটা থেকে আসবে আর জাতীয় নিরবাচনে ৪৫%সংসদ সদস্য হবে।

একটা জিনিস বুঝলাম না কোটার মত একটা বিতর্কিত পদ্ধতি কে সাপোর্টকারীদের কিসের এত অহমিকা ???!!!

মুক্তিযদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা ভক্তি সবসময়-ই আমার আছে। যিনি মুক্তিযোদ্ধা তাকে দেশের সর্বোচ্চ ফ্যাসিলিটি দেয়া হউক। উনার সন্তানকে পড়াশুনা শেষ করা পর্যন্ত যতটুকু সুযোগ সুবিধা দরকার ততটুকু সরকার বহন করুক…।

… মুক্তিযোদ্ধা আর মুক্তিযোদ্ধা কোটা- দুইটা কখনই এক হতে পারে না। আপনারা যারা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা নাতিনাতনি আপনাদের নিজেদের সম্মানার্থেই এই কোটাকে বর্জন করা উচিত। আপনাদের বাপ দাদারা ছিলেন সাহসী ও দেশপ্রেমিক। উনারা নিজের জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। আপনারা কেন কোটার মত একটা সস্তা জিনিষকে পুজি করে অপবাদ নিয়ে সারা জীবন কাটিয়ে দিবেন ??? কোটা তাদের জন্যই প্রযোজ্য যাদের সমাজে চলার মত শক্তি থাকে না, স্কুল কলেজ এর গ্রেইস পেয়ে পাস করা স্টুদেন্টদের মত। আপনারা হলেন দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ বাবার সন্তান। আপনাদের সাথে এই কোটার মত সস্তা বস্তাপচা জিনিস যায় না।

আর দেশে যদি কোটা পাওয়ার দাবিদার হয় তাহলে একমাত্র উপজাতিরা পেতে পারে। কারন তারা দেশের অনেক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্ছিত ও তা ১-২% হলেই যথেষ্ট।

যোগ্যতার মাপকাঠি হউক মেধা। কোটার মত কোন ভিক্ষার ঝুলি নয়।
নিজেকে সম্মান করতে শিখুন, তাহলে অন্যকে ও সম্মান দিতে পারবেন।
যোগ্যকে মূল্যায়ন করুন। দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যান।

নেট ঘেটে যা পেলামঃ
জাতীয় ই-তথ্যকোষ

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত তথ্য

১৬ thoughts on “প্রসঙ্গঃ মুক্তিযোদ্ধা কোটা

  1. আপনার লেখাটা ভালো লাগল। আপনার
    আপনার লেখাটা ভালো লাগল। আপনার স্পিরিটকেও স্যালুট জানাচ্ছি এবং লেখার বক্তব্যের সাথেও একমত। মুক্তিযোদ্ধা কোটা প্রবর্তন কেন করা হয়েছিলো সেটা আমরা সবাই কম বেশী ধারণা করতে পারি। কিন্তু বাস্তব সত্য হচ্ছে অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের কয়জন তাঁদের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার সামর্থ্য রাখেন? তাহলে কোটা সুবিধা কারা ভোগ করছেন প্রকৃতপক্ষে? এছাড়া ভুয়া সার্টিফিকেটের ব্যাপার স্যাপার তো ওপেন সিক্রেট। আমি আপনার লেখার এই অংশটার সাথে প্রবলভাবে সহমত পোষণ করছি। যদি বিশেষ সুবিধা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দেখাতেই হয় তাহলে যারা প্রকৃতই অসহায় তাঁদের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত পড়ালেখার সুবিধা করে দেওয়া উচিৎ। এরপর বাকিটা সে তার মেধার জোরেই উৎরে যাবে। কিন্তু এসব কথা বলতে গেলেও বিপদ। ফেসবুকে অনেকেই দেখি যারা এই কোটা ব্যবস্থার বিরোধিতা করছেন তাদেরকেই জামাতি ছাগু ট্যাগ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
    প্রথম লেখাতেই আপনার প্রতি একটা আকাঙ্ক্ষা তৈরি করে দিলেন, আশা করি ভালো ভালো লেখা পোস্ট করবেন। 😀

    1. জামাতি, ছাগু, পাগল ছাগল যাই
      জামাতি, ছাগু, পাগল ছাগল যাই ট্যাগ দিক না কেন; সত্য, সত্যই। সেটা বলতে বলতে সবার মাথা খারাপ করে ফেলতে হবে।

  2. আর দেশে যদি কোটা পাওয়ার
    আর দেশে যদি কোটা পাওয়ার দাবিদার হয় তাহলে একমাত্র
    উপজাতিরা পেতে পারে। কারন তারা দেশের অনেক সুযোগ
    সুবিধা থেকে বঞ্ছিত ও তা ১-২% হলেই যথেষ্ট।

    ভাল লাগল! আপ্নার পিতা কে স্যালুট!

  3. মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে ব্যাপক
    মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে ব্যাপক হইচই দেখে কিছু বলতে ইচ্ছা করছে…
    প্রথমে কয়েকটা প্রশ্ন করে নিই, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনকারি সম্মানিত যোদ্ধারা সবাই কি শিক্ষিত ছিলেন? সবার সন্তান কি শিক্ষিত ছিল? নিঃসন্তান কেউ কি যুদ্ধে অংশ নেয় নাই? সব মুক্তিযোদ্ধারা কি তালিকাভুক্ত আছেন, কেউ কি বাদ পড়ে নাই?ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা কি শুন্যের কোটায়?

    মুক্তিযোদ্ধাদের তাদের অবদান স্বরুপ যথাযত সম্মান প্রদর্শনে রাষ্ট্র যে কোন পদক্ষেপ নিক এতে আপত্তি নাই, থাকার কথাও নয়।মুক্তিযোদ্ধাদের অতিরিক্ত সুযোগদানে কেবলমাত্র তাদের সন্তানদের স্বল্প ভাগে(৫ভাগ) কোটা সুবিধা প্রদানটাও মেনে নেয়া যায়। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা কোটার নামে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম, পোষ্য, এই কোটা সেই কোটার নামে নাতিপুতিদের সুযোগ দিয়ে মেধাবীদের পেছনে ফেলা ঠিক নয়।

    আমার মত অনেকের বাবাবা দাদারা অস্র হাতে যুদ্ধ করেননি ঠিক কিন্তু তাদের অবস্থান স্বাধীনতার পক্ষেই ছিল কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সহায়তা প্রদান করেছেন।সরাসরি যুদ্ধ যেহেতু করেননি তাই স্বাভাবিকভাবেই মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম ও লিখাননি। প্রশ্ন হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর সাধারন ক্ষমার আওতাধীনদের বা গোলাম আজমের ছেলের অধিকারের সাথে আমাদের অধিকারের কি কোন পার্থক্য রাষ্ট্র রেখেছে?

  4. “আর দেশে যদি কোটা পাওয়ার
    “আর দেশে যদি কোটা পাওয়ার দাবিদার হয় তাহলে একমাত্র উপজাতিরা পেতে পারে। কারন তারা দেশের অনেক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্ছিত ও তা ১-২% হলেই যথেষ্ট।”
    যদি এইটা কোন যুক্তির কথা হয় তবে অতি অবশ্যই যেইসব ত্যাগী মুক্তিযুদ্ধা নিজে আজ পঙ্গু আর তার সন্তানেরা যত্নের অভাবে উপজাতিদের মত নিগৃহীত তবে তাদের কি হবে?
    এইসব মানুষ নিজেদের পরিবার পড়াশুনা ভিটে-বাড়ি সব ছেড়ে জীবন দিয়ে যুদ্ধ করেছে! তাদের জন্যে কি তাদের রক্তে কিনা এই বাংলাদেশ কিছুই করবে না?
    যতদিন মানুষ নিজের বিবেকের তাড়নায় সৎ হবে না ততদিনই সকল ভাল উদ্যোগে দুর্নীতি আর খারাপ দিক ফুটে উঠবে (বৃহৎ অর্থে বুঝানো হয়েছে…)!
    তাই আমার মতে যতদিন আমাদের সমাজ বা সরকার তাদের জন্যে অন্যকোন ধরনের রাষ্ট্রীয় সুবিধা দিতে পারছে না ততদিন কিছু একটা করা উচিৎ তার মধ্যে কোটা সিস্টেম একটা ভাল দিক হতে পারে! এখন প্রশ্ন হচ্ছে তা কতটুকু হবে, এইটা বিতর্কের বিষয়; মাথা ব্যথার জন্যে মাথা কাটতে বলার মত শুনাচ্ছে…
    একটা ছোট উদাহরণ দেইঃ বিডিআর ইনসিডেন্টে বা মিশনে শহীদ অফিসার বা এমন সৈনিক-কের পরিবারদের সরকার কোটা ভিত্তিকভাবে যায়গা বরাদ্ধ, প্লাট দেয়া সহ অনেক সুবিধা দিয়েছে। তাহলে যারা রক্তের বিনিময়ে এই দেশটা এনে দিয়েছে তাদের জন্যে তাদের পরিবারের জন্যে এই দেশের মানুষের কি করা উচিৎ?
    তাই অসততা আর জাল মুক্তিযুদ্ধা সার্টিফিকেটধারিদের আইনের আওতায় আনায় লক্ষ্য হওয়া উচিৎ, কোটা সিস্টেম বাতিল না। কেননা যেইসব মুক্তিযুদ্ধা ৭১ এ ১৪-২০ বছর বয়সি ছিল আর ১৯৮০-৮৫ তে বিয়ে করেছে এবং ১৯৯০-৯৫ এর মধ্যে শেষ সন্তানের পিতা-মাতা হয়েছেন তাদের সন্তানদের জন্যে ২০২০ সাল পর্যন্ত কোটা সিস্টেম চালু থাকতে পারে তবে টা করতে হবে স্বচ্ছ ও নৈতিকভাবে বাকি সব খাতের মত… ধন্যবাদ!!

  5. আপনার বাবা একজন বীর

    আপনার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা । আমার সস্রদ্ধ সালাম তাঁর প্রতি !!!

    @ আপনার লেখার সাথে প্রায় সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করে আমার বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করছি, যদিও আমার বাবা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেন নি –

    এই কোটা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে শুরু হয়েছে কামড়া-কামড়ি। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে ব্যাপারটা আমার জন্য লজ্জাজনক।

    — ব্যাপারটা আপনার জন্য লজ্জাজনক কেন হবে । আপনার তো গর্ব অনুভব করার কথা । আপনি লজ্জার ভেতরে ডুবে আছেন কারণ আপনি বিশ্বাস করেন এই কোটা প্রথা অন্যায় । মুক্তি যোদ্ধার সন্তানের মাথায় ব্রেইন নাই যারা বলে তারা কারা আমরা চিনি । এরা তখনো বলেছে , এখনো বলছে, ভবিষ্যতেও বলবে । তাই এদের কথায় আমি অন্তত বিচলিত বোধ করিনা ।

    ভোটের রাজনীতিতে সুবিধা পাওয়ার জন্য যারা এই বিতর্কিত কোটা পদ্ধতি প্রণয়ন করেছে তাদের মুখে আমি জুতা মারি।

    — আপনাকে কে বলেছে রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্য এই কোটা পদ্ধতি প্রনয়ন করা হয়েছে ? জুতা মারামারি করার আগে একটু চিন্তা ভাবনা করে নিলে কি ভালো হতোনা ভাই?
    একটা জিনিস বুঝলাম না কোটার মত একটা বিতর্কিত পদ্ধতি কে সাপোর্টকারীদের কিসের এত অহমিকা ???!!!
    — এটা অহমিকার বিষয় না । বিষয়টা ন্যায্যতার । আর এটা মোটেই বিতর্কিত পদ্ধতি না । চিন্তার দীনতার জন্য এরকম কারো কারো মনে হতে পারে ।
    মুক্তিযদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা ভক্তি সবসময়-ই আমার আছে। যিনি মুক্তিযোদ্ধা তাকে দেশের সর্বোচ্চ ফ্যাসিলিটি দেয়া হউক। উনার সন্তানকে পড়াশুনা শেষ করা পর্যন্ত যতটুকু সুযোগ সুবিধা দরকার ততটুকু সরকার বহন করুক…।
    — এই বক্তব্যর মাধ্যমে উপরের কথার সাথে স্ববিরোধীতা করলেন । রাষ্ট্র তাই করার অঙ্গীকার করেছে । হাঁ, এটার প্রয়োগে স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতির ব্যাপার ঘটতে পারে । তা ঘটেছেও ।
    আপনারা কেন কোটার মত একটা সস্তা জিনিষকে পুজি করে অপবাদ নিয়ে সারা জীবন কাটিয়ে দিবেন ???
    — এই কথা বলে আপনি মিস গাইড করছেন । আর এটা বাজারে পচে গলে যাওয়া উচ্ছিষ্ট আলু পটল না বা সস্তা কোন বিষয় না ।
    কোটা তাদের জন্যই প্রযোজ্য যাদের সমাজে চলার মত শক্তি থাকে না, স্কুল কলেজ এর গ্রেইস পেয়ে পাস করা স্টুদেন্টদের মত। আপনারা হলেন দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ বাবার সন্তান। আপনাদের সাথে এই কোটার মত সস্তা বস্তাপচা জিনিস যায় না।
    — চরম অজ্ঞতার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে এই ধরণের কথা কেউ বলতে পারে । আপনাকে তেমন অজ্ঞ আমার মনে হয়নি । আসলে চলতি স্রোতে গা ভাসালে যা হয় । দোষ আপনার ও না । বিকৃত তথ্য, ইতিহাস এর বলি আপনি, আমি আমরা সবাই ।

    এবার আমার কিছু মতামত স্বল্প পরিসরে তুলে ধরার চেষ্টা করবো । প্রথমত আমাদের কতোগুলো শব্দ এবং তার অর্থ নতুন করে একটু খোঁজার প্রয়াস নিতে হবে । আসুন তবে – ” সমতা ” , ” ন্যায্যতা ” , ” সাম্য ” , ” বৈষম্য ” এই শব্দ গুলোর মানে খুঁজি । তার আগে চলুন একটু সংবিধান ঘুরে আসি ।
    বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ এ বলা হয়েছে প্রত্যেক নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান ও সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী হবে ।
    অনুচ্ছেদ ২৯ (৩)(ক) ” নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশ যাহাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করিতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে তাঁহাদের অনুকূলে বিশেষ বিধান-প্রণয়ন করা হইতে, রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না। ”
    কী দুটো অনুচ্ছেদ স্ববিরোধী মনে হচ্ছে ? এখানেই আমরা সমতা ও ন্যায্যতার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারবো । উদাহরণ দিচ্ছি – একজন ৫ বছরের শিশু এবং একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ কে সমান ভাবে দুপুরের খাবার ভাগ করে দেওয়া হল । মানে শিশুটি কে যে পরিমান খাবার দেওয়া হল প্রাপ্ত বয়স্ক কেও সেই একি পরিমান খাবার দেওয়া হল – এখানে সমতা বা সাম্য বিধান করা হল । কিন্তু আপনি বলেন ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা হল কি ? দুজন এর খাবারের চাহিদা নিশ্চয় সমান নয় ?

    একারনেই অনুচ্ছেদ ২৯ (৩)(ক)’র দরকার হয়েছে ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্য । এ প্রসঙ্গে কার্ল মার্ক্স এর সমাজতন্ত্রের সেই মর্ম বানীর কথা মনে পড়ে গেলো , ” প্রত্যেক মানুষ তার সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রহণ করবে ” ।

    বৈষম্য আমরা বলতে পারি তখনি যখন সমাজের সুবিধাভোগী শ্রেণী তথা ক্যাপিটালিসট রা অন্যায়ভাবে সমাজের অসহায়, গরীব, নিরন্ন মানুষ কে শোষণ করে তাদের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত । আর সাম্য অবস্থা তখনি হবে যখন সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাজ তার নাগরিক এর সুযোগ – সুবিধা বা দাবী – দাওয়ার প্রয়োজন মেটাবে ।

    সংবিধানে ওই কোটা পদ্ধতির বিধানটি প্রকারন্তরে একারনেই প্রনয়ন করতে বলেছে যাতে এদেশ কে যারা নিজের প্রাণ বিপন্ন জেনেও দেশ – মাতৃকা কে হায়েনার কবল থেকে মুক্ত করার জন্য মরণপণ যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল, যারা শহীদ হয়েছে, যারা ঘর – বাড়ি – সম্পদ হারিয়ে পথে বসে গিয়েছিলো, যাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি যুদ্ধে প্রাণ উৎসর্গ করছিল – এরকম হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং তাদের প্রজন্ম কে উন্নয়নের মেইন ইষ্টট্রিম তুলে আনার জন্য এই ব্যবস্থা । কারণ এই মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের ক্ষতির পরিমান অপিরমেয় । এই পিছিয়ে পড়া জন গোষ্ঠীকে অতিরিক্ত প্রণোদনা দিয়ে তুলে না আনতে পারলে বরং বৈষম্য করা হবে এবং ন্যায্যতা লংঘন করা হবে । আর এটা তো সত্য একজন মুক্তিযোদ্ধার প্রকৃত সন্তান হেসেবে সে তার পিতার গৌরবোজ্জ্বল উত্তরাধিকার বহন করে এবং সরকারের নীতি নির্ধারণে সে নিশ্চয়ই গোলাম আজম বা মোজাহিদীর ছেলের চেয়ে সত্যিকারের দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে । আর একটা কথা একটা রাষ্ট্র যে কিনা ৩০ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীন হল সেই রাষ্ট্রে এমন বিধানই তো স্বাভাবিক । তারমানে এই না এই ব্যবস্থা অনন্ত কাল ধরে চলবে । এটি একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা । কোন এক বিখ্যাত রাজনীতিবিদ কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, আপনি রাজনীতি কেন করেন ? তিনি উত্তরে বলেছিলেন, একারনেই যাতে রাজনীতি আর করতে না হয় ।

    আপনার এবং আপনার মতো অসংখ্য দেশ প্রেমিক তরুণ তরুণী এবং যারা শাহাবাগে কোটা পদ্ধতির বিলোপের জন্য রাজপথে নেমেছেন সবার আবেগের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি – যে দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ঘুষ ইত্যাদি বাসা বেঁধেছে সেই দেশে অনেক ভালো কিছুও আমাদের খোব বিক্ষবের কেন্দ্র বিন্দু হয়ে দাঁড়ায় । ব্যক্তিগত লাভ – ক্ষতির হিসেবটা তখন বড্ড প্রিয় হয়ে দাঁড়ায় । আমরা ভুলে যাই আমাদের ইতিহাস । আমাদের শেকড় ।

    1. রাহাত ভাইয়ের সুন্দর মন্তব্য
      রাহাত ভাইয়ের সুন্দর মন্তব্য দেখে ব্যাপারটা নিয়ে নতুন করে ভাবার খোরাক পেলাম।

      তারমানে এই না এই ব্যবস্থা অনন্ত কাল ধরে চলবে । এটি একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা ।

      কিন্তু সরকার তো শুনেছি এই ব্যবস্থা নাতী-পুতি পর্যন্ত টেনে নিচ্ছে। এটা কি খুব যৌক্তিক? এখানেই চলে আসে সুবিধাভোগীদের প্রশ্ন। মুক্তিযোদ্ধাদের যেই অংশ প্রকৃতই অসহায় আছে/ছিলো সেই অংশের কতজনের সন্তান উচ্চশিক্ষিত হতে পারছেন সেটাই প্রশ্ন, তারপর না তার বিসিএস পরীক্ষায় বসার সুযোগ মিলবে। কোটা পদ্ধতি পুরোপুরি বিলোপের পক্ষে নই। কিন্তু দেশের সরকারী চাকরীর সর্বোচ্চ পরীক্ষায় মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ পায় মাত্র ৪৪%, এটাও কিন্তু খুব যৌক্তিক মনে হয় না। বিসিএস চাকরীতে এখন জেলা কোটা, নারী কোটা এরকম বিবিধ কোটা রাখার কোন অর্থ খুঁজে পাই না। ব্যাপারটা আসলেই তর্কের দাবী রাখে। আপনি একটা রাষ্ট্রের নাগরিকের একটা বড় অংশকে আজীবন অনগ্রসর রেখে কোটা সুবিধা দিয়ে যাবেন, নাকি তাদের অনগ্রসরতা ঘোচাতে কাজ করবেন। আমাদের অবস্থা তো মনে হয় আমরা তাদের চিরকাল অনগ্রসর রেখে কোটা দিয়ে শান্ত রাখতেই বেশী আগ্রহী। এ তো গরু মেরে জুতো দানের মতো হয়ে গেলো।

    2. আমার লেখার পেছনে অনেক খানি
      আমার লেখার পেছনে অনেক খানি সময় ব্যয় করেছেন বলে আমি কৃতজ্ঞ।
      রাহাত ভাই, আমার দুঃখটা কি জানেন? বাঙ্গালী সব কিছুতেই গু মাখায় ফেলে। আমি জানি কোটা পদ্ধতির ভাল দিক যেমন আছে, খারাপ দিকও তেমনি আছে। কিভাবে খারাপ দিকগুলো দূর করা যায় সেটা না ভেবে আমরা মুক্তিযোদ্ধা আর তাদের পরিবারকে অসম্মান করা শুরু করেছি। এটা তো ভাই ঠিক না। আপনি করেন নি, কিন্তু কেউ না কেউ তো করেছে!
      আর কেবল মুক্তিযোদ্ধা বলে নয় আমার বাবার জন্য আমি গর্ব অনুভব করি কারণ এই বয়সেও তিনি একজন খাঁটি দেশ প্রেমিক। তাকে নিয়ে আমার সামনে কেউ কিছু বললে নির্ঘাত খারাপ কিছু হয়ে যেতে পারে। ওই সব ধানাই পানাই বোঝানোর মধ্যে আমি নাই।
      আপনার দীর্ঘ লেখায় আপনি আমার লেখার বা আমার চিন্তা ভাবনার কিছু খুঁত তুলে ধরেছেন। আপনাকে সেজন্য ধন্যবাদ।
      এটা নিশ্চিত যে আমাদের দেখতে হবে মুক্তিযোদ্ধা কোটা আসলে যাদের জন্য প্রযোজ্য তারা সুবিধাটা পাচ্ছে কিনা।

      তবে মুক্তিযোদ্ধা কোটা কিভাবে আরো গ্রহণযোগ্য আর জনকল্যাণমুখী করে তোলা যায় সে ব্যাপারে কিছু লিখলে খুশী হতাম।

  6. কৌটা প্রথারর বিরুদ্ধে কেউ
    কৌটা প্রথারর বিরুদ্ধে কেউ বলছে না। কিন্তু কৌটার পদ্ধতিটা কি ঠিক ছিল? আগেও কি কৌটা ছিল না। পিলিতে কৌটার দোহাই দিয়ে মেধাবীদের ঝরিয়ে দেওয়ার মধ্যে অবশ্যই আম্বালীগের অসৎ উদ্দেশ্য ছিল। সব কিছুতে যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার বানচালের গন্ধ পাওয়া আম্বালীগের স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকে একাত্তর টিভিতে এক সাক্ষাতকারে উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম পরীক্ষা পদ্ধতির বিরুদ্ধে শাহবাগে আন্দোলন করা পরীক্ষার্থীদের বিশেষ একটা সংগঠনের কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা নাকি তিনি জানতে পেরেছেন। তাহলে পরীক্ষা বাতিল করল কেন সরকার? আগের কৌটা পদ্ধতিতে কি সমস্যা ছিল? আম্বালীগের মন্ত্রী-উপদেষ্টারা দায়িতত্ব-জ্ঞানহীন বক্তব্য দিতে দিতে দলটার জনপ্রিয়তা তলানীতে নিয়ে এসেছে।

  7. এইসব কোটার কেয়ার করিনি কখনো।
    এইসব কোটার কেয়ার করিনি কখনো। কখনো করবো না। যুদ্ধ করেছে আমার বাবা, দেশ স্বাধীন করেছে আমার বাবা, সেই বাবা হুইল চেয়ারে বসে দেখবে তার ছেলে যোগ্যতার বলে নয়, তার পঙ্গুত্তের বলে চান্স পেয়ে যাচ্ছে???? একজন মুক্তিযোদ্ধার কাছে বিষয় কেমন লাগবে?মুক্তিযোদ্ধারা কোটা পাবার জন্য কিংবা ভাতা পাবার লোভে যুদ্ধ করেননি। কসম করে বলছি, এদেশে অনেক রিকশাওয়ালা পেয়েছি, ভিক্ষুক পেয়েছি, দিনমজুর পেয়েছি যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন…কিন্তূ দেশ তাদের কি দিচ্ছে? কয়েকশ টাকার একটা রিসিট ধরিয়ে দিচ্ছে হাতে, তাও আবার সবাই পাচ্ছেনা। যাদের একটু ধরাধরি করার লোকজন আছে পরিচিত তারাই পাচ্ছে। আর বাকিরা তো এভাবেই কাটাচ্ছে অনাহারে দিন। বেশ ভালই চলছে দেশ!!!! আমার লজ্জা হয় যখন রিকশাওয়ালা পিছন দিকে ফিরে বলে-“বাবাজি, আমি মুক্তিযুদ্ধ করসিলাম” ভীষণ বিব্রত কর পরিস্থিতিতে পড়ে যাই। ৪২ বছরের এইসব বীরদের জন্য কেউ কিছুই করতে পারেনি, কিন্তু ফালতু কোটা সিস্টেমের নামে একটা সিস্টেম করেছে। যেটার কোনো যৌক্তিকতা নেই…আমরা শেইমলেস রয়ে গেলাম এখনো। আরো উদ্ভট কিছু কোটা আছে…শুনলেও হাসি পায়।

    বিঃদ্রঃ আমার বাবা মুক্তিযুদ্ধের সময় ছোট ছিলেন। তাই যুদ্ধ করতে পারেননি। কথার উপমার জন্য বাবা শব্দটা এনেছি। আমার দাদু এবং চাচা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।

    1. জনাব অমিত লাবণ্য আপনার কাছে
      জনাব অমিত লাবণ্য আপনার কাছে কোটার গুরুত্ব না থাকতে পারে বা আপনার প্রয়োজন না থাকতে পারে । কিন্তু দেশের পিছিয়ে পড়া, অসহায় মুক্তিযোদ্ধার কাছে বা তার সন্তানের কাছে এর গুরুত্ব কিছুটা বেশি হবার কথা । এবং এই বীর মুক্তিযোদ্ধারদের জন্য কোটা পদ্ধতি তাদের স্বীকৃতি ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় কর্তব্য । এটা সরকারি কোন অনুকম্পা নয় । কোটা কে বরং আমরা মানে তথাকথিত শিক্ষিত দাম্ভিক ও রুচিশীল নাগরিকরা সরকারি ভিক্ষার মতো মনে করছি । এই পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের কে মূল স্রোতে নিয়ে আসতে হবে । কারণ তারা পিছিয়ে পড়েছে, সুবিধা বঞ্চিত হয়েছে তাদের নিজের বা বাপ দাদার দোষে না । পরিস্থিতির কারণে ।

  8. সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য যে
    সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য যে পার্সেন্টিজ রাখা হয়েছে তা সত্যি অনেক কম। এটাকে আরও বাড়ান উচিত।
    তবে আমি মুক্তিযোদ্ধা কোটা আর প্রতিবন্ধী কোটা বহাল রাখার পক্ষে।

  9. সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য যে

    সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য যে পার্সেন্টিজ রাখা হয়েছে তা সত্যি অনেক কম। এটাকে আরও বাড়ান উচিত।

    “সাধারণ শিক্ষার্থী” নামক কোটা চালু করা হোক তাহলে। আসুন আমরা দেশটাকে কোটার জোয়ারে ভাসিয়ে নিয়ে যাই।
    :ভাবতেছি:

  10. আমার মতে মুক্তিযোদ্ধারা যদি
    আমার মতে মুক্তিযোদ্ধারা যদি নিজেরা চান এই কোটা প্রথা বাতিল হোক তবেই তা বাতিল করা যুক্তিযুক্ত। তারা সবাই একত্রিত হ​য়ে এটি বললে তখন দেখা যেতে পারে। কিন্তু কতগুলা পোলাপান এসে নিজেরাই নিজেদের মেধাবী উপাধি দিবে, মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করতে বলবে আবার ভাস্কর্য পোড়াবে এই আবালগুলার কথা শুনলেই তো গা জ্বলবে তা স্বাভাবিক। রাজাকার আইসা যদি বলে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার চাই তাহলে তো আমরা দুর দুর করেই তাড়ায়ে দেব তাই ন​য় কি? যে মেধাবীরা মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বাজে কমেন্টস করে তাদের কে তো সুযোগ ই দেয়া উচিত না বিসিএস এ। আর মুক্তিযোদ্ধা কোটার একটা জিনিস বটে, ৩০% যুক্তিযুক্ত না। বরং ১০% এ নামিয়ে আনলে ভাল হত​।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *