এক ফোটা অশ্রুর দাম কত?

আজ থেকে যদি ৪৫-৫০ বছর আগের কথা চিন্তা করি তাহলে দেখবো যে, ঐ সময়ের সমাজ আমরা নিয়ন্ত্রন করতে পারি না, আমাদের স্বাধীন বলতে কোন কিছুই ছিল না। আমরা যা চাইতাম তা পেতাম না। অর্থাৎ সব কিছু ছিল আমাদের বিপরীতে। এই পরিস্থিতিতে সবাই মুক্ত হতে চাইলো, এবং সবাই মুক্ত হল শুধু পাকিস্তানি শাসন থেকে। কিন্তু এমনি এমনি না, ৩০ লাখ শহীদ ২ লাখ নারীর সম্ভ্রম হারানোর বিনিময়ে আমরা পেলাম একটা পতাকা, একটা স্বাধীনদেশ। আমাদের প্রত্যাশা ছিল পাকিস্তানিদের মত এতো অত্যাচার আর সহ্য করতে হবে না, সমাজে মানুষ কে মানুষ ভাবা হবে, মানুষের মৌলিক অধিকার পিরিয়ে পাবে। আজ ৪২ বছর পর একটু হিসাব যদি মিলাই তাহলে কি দেখবো,দুই জন প্রেসিডেন্ট খুন, দুই বার স্বৈরশাসক, কয়েক হাজার রাজনৈতিক কর্মী হত্যা, কয়েক বার জরুরী আইন। আবার অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন,ধর্ষন, ঘুম, খুন, অপহরণ, মিথ্যা মামলা, দুর্নিতি, ঘুষ…ইত্যাদি ইত্যাদি এসবের পরিমান কি বেড়েছে না কমেছে??
আজ মনে পরছে ২০১১ সালের ২৩ মার্চের কথিত র‍্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে পা হারানো ঝালকাঠির ছেলে লিমনের কথা। ঐ সময়ে সারা দেশে এই নিয়ে অনেক আলোচনা-সমলোচনা হয়েছিলো, অনেকে তাকে দেখতে গিয়েছিলো অনেক বড় বড় নেতাও গিয়েছিলো। লিমন কে দেখে অনেকে চোখের জ্বল পেলেছিলো, মানবাদিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ডঃ মিজান সেখানে গিয়ে চোখের পানি পেলেছিলো তা সবাই দেখেছে। সারা দেশে শোকের ছায়া বইছিল, অনেকে তার পাশে থাকার কথাও বলেছে, সাথে থেকে সাহসও দিয়েছে।তখন লিমনের মা র‍্যাবের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। এইকাজ টা হয়তো দরিদ্র লিমন পরিবারের জন্য দুঃসাহস এর মত হয়েছিল, তাই সরকারী সন্ত্রাসি বাহিনীও থেমে থাকল না, তাঁরা লিমনে বিরুদ্ধে সরকারী কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা দিলো। চিন্তা করুন একবার এই ব্যাপারটি শুধু মাত্র অন্যায় করে থেমে থাকে নি!আবারও হয়রানি করার জন্য চেষ্টা অব্যাহত থাকলো। কেন র‍্যাবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে লিমনের নামে মামলা করা হল? লিমন কে? লিমন কি খুব বিখ্যাত? বিরুধী দলীয় বড় নেতা? নাকি বড় মাস্তান, চাঁদাবাজ? জানিনা কি কারনে লিমনের উপর এতো অত্যাচার নির্যাতন? আমরা যদি একটু ভেবে দেখি তাহলে দেখবো যে, লিমনের পরিবারে হয়তো বড় কোন লীগের নেতা নেই, বড় কোন ক্যাডার নেই? লিমনের পরিবার একটি সাধারন দরিদ্র পরিবার, যে পরিবার এভাবেই চলতে অনেক কষ্ট হয়!
লিমন কে দেখে যারা কেঁদেছিল, তাদের হয়তো এখন চোখের জ্বল শেষ হয়েগেছে! যাদের মাথা নিছু হয়েগিয়েচিল তাঁরা হয়তো আবার সোজা হয়ে দারিয়েছে। কিন্তু লিমন ও লিমনের মার কি কান্না শেষ হয়েছে?
মাননীয় আদালত আগামী ২০ আগস্ট লিমনের বিচার শুরু হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। চিন্তা করুন একবার কতবড়ো হৃদয় বিদারক ব্যাপার। যেই দেশে খুনি, সন্ত্রাস, গণহত্যাকারীদের বিচার হয় না, সেই দেশে গরীব অসহায় ছেলেটির উপর এতো নির্যাতন। লিমনের বিচার কি খুব জরুরী? লিমনের বিচার কি করতেই হবে? লিমন কি লীগের কাছে এতোই গুরুত্বপুর্ন? এতোই ভয়ঙ্কর? তার বিচার যেভাবেই হোক করতেই হবে, যেমনটি করেছিলো জিয়া কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দিয়ে মেরেছিল। লিমনও কি তাহের নাকি? নাকি চে গুয়েভেরা? নাকি রাশিয়ার লেনিন? চীনের মাও? কিওবার ফিদেল? যে, তার বিচার না করলে দেশে যে কোন সময় একটা কিছু ঘটে যেতে পারে। লিমনের মা আদালতের দরজার সামনে আঝরে কাঁদছে, রাষ্ট্রের কাছে তার হয়তো এই টুকুই পাওনা ছিল তাই তিলে তিলে আক্রান্ত হচ্ছে। লিমন, লিমনের মা আজ কার জন্য কাঁদছে? কি কারনে কাঁদছে? এই দায় কার? কেন লিমন আজ এক পায়ে প্রিজন ভেনে করে আদালতের দরজার সামনে এসে কাঁদতে হচ্ছে? আজ তো লিমনের এখানে আসার কথা না? আজ তো কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়য়ের বারান্দায় থাকার কথা।
লিমন কাঁদছে না, লিমনের মা কাঁদছে না! কাঁদছে জাতীর ভিবেক কাঁদছে সচেতন মানুষের হৃদয়। লিমন আর কত দিন আদালতে যেতে হবে,আদালতে গিয়ে বলতে হবে আমি নির্দোষ আমাকে ক্ষমা করে দেন। লিমন হয়তো আজ মনে মনে বলে এই দেশ আমার না! এই দেশে জন্মে ভুল করেছি! এই দেশে থাকার আমার কোন অধিকার নাই! এই দেশ বড় বড় মাস্তানদের সন্ত্রাসীদের খুনিদের।
আসলে কি এই দেশ আমার আপনার লিমনের না? তাহলে কার জন্য ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হল? কেন এক জীবন দিয়ে আরেক জীবনের শান্তি এনে দিতে ছেয়েছিল? তাদেরকে কি প্রতিদান দিলাম আমরা ? তাদের সাথে কি আমরা বেইমানী করি নাই? এই জাতী আজ অপরাধী, এই সমাজ আজ অপরাধী। সমাজ খারাপ লোকদের দ্বারা ধ্বংস হয়না, ধ্বংস হয় সচেতন লোকের নীরবতায়।
আজ লিমনের পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য কেননা আমি লিমন আপনি লিমন আমরা সবাই লিমন, লিমনের মত আমার আপনারও এই অবস্থা হতে পারে তাই আমরা লিমনের পাশে দাড়াই, রাষ্ট্রের নির্লজ্জ মিথ্যাচারের জবাব দেই।
আমার শেষ প্রশ্ন লিমন ও লিমনের মা গত দুই বছর তিলে তিলে ভিতর টা পুরে চাই হয়ে গেছে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসীদের ভয়ে। তাদের এইসব মোকাবেলা করার জন্য কিছুই নেই তাদের একমাত্র ভরসা চোখের পানি! তাদের চোখের জ্বলে মাটি ভিজে যায় কান্না শেষ হয় না এই কান্নার শেষ কোথায়?তাদের এক ফোটা অশ্রুর দাম কত??

১১ thoughts on “এক ফোটা অশ্রুর দাম কত?

  1. সমাজ খারাপ লোকদের দ্বারা

    সমাজ খারাপ লোকদের দ্বারা ধ্বংস হয়না, ধ্বংস হয় সচেতন লোকের নীরবতায়।

    — সঠিক কথা বলেছেন ।
    — আপনার সম্পূর্ণ লেখাটা মনোযোগ দিয়ে পড়লাম । অনেক আবেগ নিয়ে লিখেছেন বুঝতে পারছি । একটা অনুরোধ করবো, বানানের দিকে একটু যত্নবান হবেন । দু’একটা বানান ভুল হতে পারে কিন্তু এতো বানান ভুল খুবই দৃষ্টিকটু এবং এতে লেখার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠে যায় । আমাদের কেবল একটি ৭১ আছে তা নয় । আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ৫২’ ও আছে – প্রিয় মাতৃভাষার অধিকার আদায়ের । সেই মায়ের ভাষা’ টা সুন্দর করে, নির্ভুলভাবে বলতে, লিখতে ও পড়তে পারা আমাদের প্রথম ও প্রধান কর্তব্য । আপনাকে জ্ঞান দেওয়ার উদ্দেশ্যে এতো কথা বলছি – ভাববেন না । ভালো থাকবেন ।

    1. বানানের যে কথাটা বলেছেন সেটার
      বানানের যে কথাটা বলেছেন সেটার সাথে সম্পূর্ণ একমত। বানান ভুল হলে অনেক ভাল লেখাও দৃষ্টি কটু লাগে। শুভকামনা রইলো :ফুল: :ফুল:

    2. ভাই এভেবে বলেন কেন? ব্লগে
      ভাই এভেবে বলেন কেন? ব্লগে আলোচনা সমলোচনা যুক্তি পরামর্শ তো থাকবে, মনে করার কিছু নাই, নিজেকে শুধরে নেবো।
      ধন্যবাদ।।

  2. লিমনের মামলা প্রত্যাহার করে
    লিমনের মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে শুনলাম গতকাল। কিছু কিছু আকাজে আওয়ামী লীগের জুড়ি নেই। লিমন ইস্যু ঠিক তেমনই একটা ইস্যু। প্রথমেই যদি র‍্যাব ভুল স্বীকার করে নিত তাহলে কি র‍্যাবের সম্মান কমত? নাকি এতো জল ঘোলা করে সম্মান বাড়ল? আমাদের সেনা বাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর মধ্যে পাকিস্থানি সেনা বাহিনীর মতো অকারন এবং উজবুকের মতো ঘাউরামি করার একটা প্রবণতা আছে। এই জিনিস ঝেঁটিয়ে তাদের মাথা থেকে নামানো উচিৎ।

    আর লেখায় বানানের ব্যাপারে অলরেডি রাহাত ভাই বলে দিয়েছেন। ঐদিকে একটু লক্ষ্য রাখবেন।

  3. দেশ স্বাধীন হয়ে ছিল মানুষের
    দেশ স্বাধীন হয়ে ছিল মানুষের জন্য। কিন্তু এই স্বাধীনতার সুযোগ নিচ্ছে কিছু নরপিশাচ। মূল্য দিচ্ছে লিমন বিশ্বজিতের মত অসহায় মানুষ। যাদের হাহাকার কানে যায় না ওই ক্ষমতাধারীদের।
    মামলা প্রত্যাহার করেছে , শুনে ভালো লাগলো। এখন সরকারেরই দায়িত্ব লিমনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *